ছাগলনাইয়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ছাগলনাইয়া
পূর্বনাম :সাগরনাইয়া
পৌরশহর
ছাগলনাইয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ছাগলনাইয়া
ছাগলনাইয়া
বাংলাদেশে ছাগলনাইয়া শহরের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°০২′১০″ উত্তর ৯১°৩১′১০″ পূর্ব / ২৩.০৩৬১° উত্তর ৯১.৫১৯৪° পূর্ব / 23.0361; 91.5194স্থানাঙ্ক: ২৩°০২′১০″ উত্তর ৯১°৩১′১০″ পূর্ব / ২৩.০৩৬১° উত্তর ৯১.৫১৯৪° পূর্ব / 23.0361; 91.5194
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগচট্টগ্রাম বিভাগ
জেলাফেনী জেলা
উপজেলাছাগলনাইয়া উপজেলা
উপজেলা শহর১লা অক্টোবর ১৯৮৩
পৌরশহর৩রা জুন ২০০২
সরকার
 • ধরনপৌরসভা
 • শাসকছাগলনাইয়া পৌরসভা
 • পৌর মেয়রমোহাম্মদ মোস্তফা [২]
আয়তন
 • মোট২৭.০৪ কিমি (১০.৪৪ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট৪৮,২৪৩[১]
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৩৯১০
কলিং কোড+৮৮০

ছাগলনাইয়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত ফেনী জেলায় অবস্থিত একটি শহর। এই শহরটি ছাগলনাইয়া উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং প্রধান শহর।

নামকরণ[সম্পাদনা]

ছাগলনাইয়া শহরের নাম পূর্বে সাগরনাইয়া ছিল যেহেতু এ অঞ্চলের মানুষ নাইয়া বা বড় নৌকা নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি জমাতো। বর্তমান ছাগলনাইয়া নাম সম্পর্কে জনপ্রিয় একটি লোকশ্রুতি প্রচলিত আছে যে মহাত্মা গান্ধী একবার নোয়াখালী অঞ্চলে এসে তাঁর ভ্রমণসঙ্গী একটি ছাগলকে হারিয়ে ফেলেন। এই ছাগল হারিয়ে ফেলার ঘটনা লোকমুখে ছাগল নাই বলে প্রচারিত হতে থাকে। এভাবে একসময় এ অঞ্চলের নাম হয়ে যায় ছাগলনাইয়া। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বাস করা হয় যে ব্রিটিশ আমলের শুরুতে সাগর (Sagor) শব্দটি ভুল ক্রমে সাগল (Sagol) নামে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। তাই ছাগল নাইয়া শব্দটি প্রচলিত হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য ব্রিটিশ আমলের পূর্বে কোন পুঁথি পত্রে ছাগনানাইয়া নামের কোন স্থানের নাম পাওয়া যায় নি।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বর্তমান ছাগলনাইয়া কোন এক সময়ে হয়তো বৌদ্ধ সভ্যতার অন্তর্গত ছিল। পরে উত্তরের পাহাড়ী স্রোতে, প্রাকৃতিক কারণে বা নদী ভাঙ্গনে সাগরে লীন হয়ে কালের বিবর্তনে আবার ধীরে ধীরে এ ভূমি খন্ড খন্ড রুপে জেগে উঠে। ছাগলনাইয়ার ভেঙ্গে জেগে ওঠা ভূমির কারনেই এখানে, নোয়াখালী বা চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলের মতো প্রাচীন কোনো স্থাপনার নিদর্শন নেই, যেমন আছে কুমিল্লার বা ত্রিপুরার। এই মাত্র কয়েকশ বছর আগেও পুরান রাণীর হাট (আসলে ঘাট) থেকে পশ্চিম ছাগলনাইয়া পর্যন্ত প্রায় ১৪/১৫ মাইল ব্যাপী নদীর প্রশস্ততা ছিল এবং এ অংশ পার হতে হত খেয়া নৌকা দিয়ে। ছাগলনাইয়া অনেক অংশ অনেক পূর্বেই জেগে উঠে বনজঙ্গলে ভরে যায়। পাহাড়ের নিকট খন্ড স্থান বলে তখন এলাকার নাম হয় খন্ডল। ছাগলনাইয়া নামকরণ হয় অনেক পরে ব্রিটিশ আমলের প্রথম দিকে। বগুড়ার রামচন্দ্র চৌধুরী নবাব সরকারের কার্য উপলক্ষে বঙ্গীয় একাদশ শতাব্দীর (খ্রিষ্ঠীয় পঞ্চদশ শতাব্দী) প্রথম ভাগে ভুলুয়ায় (বর্তমানে নোয়াখালী) এসে বদল কোন নামক স্থানে বাস করতে থাকেন। তিনি পরে ত্রিপুরা মহারাজের উচ্চ রাজ কর্মচারী নিযুক্ত হন। কোনো এক সময়ে তাকে নিয়ে মহারাজ চন্দ্রনাথ তীর্থে যান। পথিমধ্যে খন্ডলের জঙ্গলপূর্ণ সমতল ভূমি দেখে মহারাজ তা আবাদ করে প্রজাপত্তনের জন্য রামচন্দ্রকে নির্দেশ দেন। তিনি অনেক জায়গার বনজঙ্গল পরিষ্কার করে বিভিন্ন স্থান বিশেষ করে ভুলুয়া থেকে উল্লেখযোগ্য সংখক ব্রাক্ষ্মণ ও কায়স্থ সহ বহুলোক এনে বসতি পত্তন করেন। পরে তিনি আরো অনেক জায়গা আবাদ করেন। তাঁর তিনপুত্র গজেন্দ্র নারায়ন, প্রেম নারায়ন ও শুভেন্দ্র নারায়ন ও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে প্রায় পুরো খন্ডলে বসতি গড়ে তোলেন ও অনেক স্থানে ব্রাক্ষণ, কায়স্থ ও ভদ্র লোক উপবিষ্ট করান। এভাবে রামচন্দ্র ও তাঁর পুত্রাদি কর্তৃক খন্ডলের অনেক জায়গা প্রজাপত্তন ও আবাদি হলে ত্রিপুরা মহারাজ তাঁদেরকে খন্ডলের ইজারাদার নিযুক্ত করেন। এভাবে খন্ডল তথা বর্তমান ছাগলনাইয়ায় মনুষ্য বসতি ও আবাদ শুরু হয়। শমসের গাজীর আবির্ভাবে এসব জমিদার ইজারাদারদের অবস্থান সস্কুচিত হয় ও ক্ষমতা হ্রাস পায়। ঠিক কোন সময় থেকে কি কারণে এ খন্ডল অঞ্চলে মুসলমানের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে সে সম্পর্কে ইতিহাস নীরব। দেখা যায়, এখনকার চাঁদগাজী মসজিদ প্রাচীন ১৭১২-১৩ সালের। অথচ মুর্শিদাবাদের মুর্শিদকুলী খাঁ ১৭১৭ সালে বাংলার নবাব নিক্তুক্ত হন। সেই থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত বাংলার নবাবী আমল। খুব সম্ভব, এ সময়েই এখানে মুসলমানদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। নোয়াখালীর অন্যান্য এলাকার মতো কয়েক শ’ বছর আগেই খন্ডলও মুসলিম প্রধান এলাকায় পরিণত হয়। ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন কালে পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, ত্রিপুরা বা চট্টগ্রামের মতো খন্ডল তথা ছাগলনইয়াও (তখন ত্রিপুরার অন্তর্গত) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী লোকের বসবাস ছিল। প্রধানতঃ শিলূয়ার শিলের আবিস্কার এই ধারণা প্রতিষ্ঠার প্রধান যুক্তি হিসেবে দাঁড় করানো হয়। 'নোয়াখালীর ইতিহাসে' লেখা হয়েছে, ‘খন্ডল পরগনার অন্তর্গত চম্পকনগর গ্রামে অতি প্রাচীন কালে মগ জাতি বা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজার আবাসস্থিল ছিল এরূপ প্রবাদ। এই অঞ্চলের মটুয়া, মোটবী, শিলুয়া, মোট বাদীয়া, মঘুয়া, রাজনগর প্রভূতি গ্রামে প্রাচীন বৌদ্ধ কীর্তির ভগ্নাবশেষ দেখিলে বৌদ্ধ প্রভাবের পরিচয় প্রাপ্ত হওয়া যায়।’ ধারণা করা হয় পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, মিরসরাই, সীতাকুন্ড এলাকা প্রাচীন কাল অন্তত দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত বৌদ্ব ধর্মাবলম্বীদের অধীনে ছিল। ১১০০-১২০০ সালের দিকে বৌদ্ধ রাজারা দুর্বল হয়ে পড়লে ভুলুয়া (বর্তমান নোয়াখালী) ও ত্রিপুরার হিন্দু রাজারা মাথা তুলে দাঁড়ান ও হিন্দু রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পান এবং পরবর্তী কালে মুসলমানরা আধিপত্য বিস্তার করে। [৪] ছাগলনাইয়া থানাকে ১৯৮৩ সালে উপজেলায় রূপান্তর করা হলে ছাগলনাইয়া শহর উপজেলা শহরে পরিণত হয়। ২০০২ সালে ছাগলনাইয়া পৌরসভা গঠিত হলে এটি পৌরশহরের মর্যাদা লাভ করে।[৫]

ভৌগোলিক উপাত্ত[সম্পাদনা]

শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৩°০২′১০″ উত্তর ৯১°৩১′১০″ পূর্ব / ২৩.০৩৬১° উত্তর ৯১.৫১৯৪° পূর্ব / 23.0361; 91.5194। সমূদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ৮ মিটার

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ আদমশুমারী ২০১১ অনুসারে ছাগলনাইয়া শহরের জনসংখ্যা ৪৮,২৪৩ জন যার মধ্যে ২৩,৮৫৭ জন পুরুষ এবং ২৪,৩৮৬ জন নারী রয়েছেন। এ শহরের লিঙ্গ অনুপাত ১০০ঃ৯৮।[১]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

এ শহরটি ছাগলনাইয়া পৌরসভা নামক একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা(পৌরসভা) দ্বারা পরিচালিত হয় যা ৯টি ওয়ার্ড এ বিভক্ত। ২৭.০৪ বর্গ কি.মি. আয়তনের ছাগলনাইয়া শহরের ২৫.২৫ বর্গ কি.মি. ছাগলনাইয়া পৌরসভার দ্বারা শাসিত হয়। এ পৌর এলাকার নাগরিকদের পৌরসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাই এ সংস্থার কাজ। এছাড়া এ শহরের প্রশাসনিক কর্মকান্ড ছাগলনাইয়া থানার অধীনে পরিচালিত।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ছাগলনাইয়া শহরের স্বাক্ষরতার হার হল শতকরা ৬২.৭ ভাগ।এ শহরের উল্লেখযোগ্য কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হল:

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ছাগলনাইয়া শহরের জনসংখ্যা ও আয়তন"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১২ 
  2. "ছাগলনাইয়া শহরের পৌরসভার মেয়র"। News24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০৯-১৩ 
  3. জমির আহমেদ। ফেনীর ইতিহাসচট্টগ্রাম: সমতট প্রকাশনী। পৃষ্ঠা ১৩। 
  4. "ছাগলনাইয়ার পটভূমি, প্রাচীন ইতিহাস"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৫ 
  5. "ছাগলনাইয়ার শহরের উন্নীতকরণ"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-০৫