লোকমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

লোকমান ছিলেন একজন জ্ঞানী ব্যক্তি , যার নামে কুরআনের ৩১ নম্বর সুরাটির (সুরা লোকমান) নামকরণ করা হয়েছে ।

হাদিসে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত মুহাম্মদ বিন ইসহাকের রেওয়ায়েতে  বলা হয়েছে যে, হযরত লোকমান হাকিম নবী ছিলেন। কিন্তু কোরআনের বর্ণনাশৈলীতে তেমন কিছু বোঝা যায় না।

কোরআনে সূরা লোকমানে [১] [২] তাঁর কতগুলো জ্ঞানগর্ভ উপদেশ হিসাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু একটি বাক্যের মাঝেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যা তাঁর নবুয়াত প্রাপ্তিকে প্রমাণিত করে।

জমহুর উলামায়ে কেরামের অভিমত এই যে, লোকমান হাকিম নবী ছিলেন না। স্বয়ং হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত অন্য একটি রেওয়ায়েতে তার বিপরীত কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও আল্লামা ইমাদুদ্দিন বিন কাসির তাঁর ইতিহাসগ্রন্থে নবী না হওয়ারই মত বর্ণনা করেছেন।

জমহুর উলামায়ে কেরামের প্রসিদ্ধ অভিমত এই যে, লোকমান ছিলেন প্রজ্ঞাবান ও আল্লাহর ওলি। তিনি নবী ছিলেন না। আল্লাহ তা’আলা কোরআনে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন।

লোকমানের কাছে তাঁর পুত্রই সবচেয়ে প্রিয় মানুষ ছিলেন। তাই তাঁর পুত্রই প্রথম ব্যক্তি যাকে লোকমান উপদেশ দিয়ে ছিলেন এই বলে, ‘হে বৎস, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক করো না। নিশ্চয় শিরক ভয়াবহ জুলুম।’(সূরা লুকমান: আয়াত ১৩)

কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর আমি লোকমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম।’[২]

কাতাদা রা. বলেন, অর্থাৎ, ফিহক ও ইসলাম (এর জ্ঞান) দান করেছিলেন। তিনি নবী ছিলেন না; তাঁর প্রতি ওহি প্রেরণ করা হয় নি।

একই রকম অভিমত প্রমাণিত হয়েছে প্রাচীনকালের একাধিক আলেম থেকে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুজাহিদ রহ., সাঈদ বিন মুসাইয়িব রা. ও আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. প্রমুখ। সূত্র: কাসাসুল কোরআন, তাফসিরে ইবনে কাসির

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ibn Kathir, Hafiz, Tafsir Ibn Kathir, Dar-us-Salam Publications, 2000 (original ~1370)(ইংরেজি)
  2. Al-Halawi, Ali Sayed, Stories of the Qur'an by Ibn Kathir, Dar Al-Manarah(ইংরেজি)