ইসলামে জোনাহ
ইউনুস | |
|---|---|
يُوْنُس যোনা | |
ইসলামী ক্যালিগ্রাফিতে নবী ইউনুসের নাম | |
| ইসলামের নবী | |
| পূর্বসূরী | আল ইয়াসা |
| উত্তরসূরী | ইরমিয়া |
| অন্য নাম | যুন-নূন |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ইউনুস ইবনে মত্তা |
| মৃত্যু | নিনেভে, মেসোপটেমিয়া |
| সমাধিস্থল | আন-নবি ইউনুস মসজিদ |
| ধর্ম | ইসলাম |
| পিতামাতা |
|
| অঞ্চল | মেসোপটেমিয়া |
ইউনুস ইবনে মত্তা (আরবি: يُوْنُس ٱبْن مَتّىٰ) ছিলেন ইসলামে আল্লাহর নবী। তিনি হিব্রু বাইবেলে উল্লিখিত আমিত্তাই-এর পুত্র যোনা-এর সমতুল্য।[১][২] হিব্রু বাইবেলের বারোজন ছোট নবীর মধ্যে তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যার নাম কোরআনে উল্লেখ আছে।[৩] কোরআনের দশম সূরা, সূরা ইউনুস, তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে।[৪]
কোরআনে ইউনুসকে বহুবার নাম উল্লেখ করে ডাকা হয়েছে। তাঁকে আল্লাহর রাসূল এবং যুন-নূন (আরবি: ذُو ٱلنُّوْن) উপাধি দেওয়া হয়েছে।[৫][৬]
কোরআনে উল্লেখ
[সম্পাদনা]ইসলামের একটি সিরিজের অংশ ইসলামের নবিগণ |
|---|
|
|
কোরআনের আল-আম্বিয়া ২১:৮৭[৭] এবং আল-কলম ৬৮:৪৮-এ ইউনুসকে যুন-নূন বলা হয়েছে।[৫] আবার আন-নিসা ৪:১৬৩ এবং আল-আন'আম ৬:৮৬-এ তাঁকে “আল্লাহর রাসূল” বলা হয়েছে।[৫] সুরা আস সাফ্ফাত ৩৭:১৩৯–১৪৮-এ তাঁর কাহিনি বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।[৫] কোরআনে ইউনুসের বংশ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।[৫] তবে ইসলামী ঐতিহ্যে বলা হয়, তিনি বেনিয়ামিন গোত্রভুক্ত ছিলেন।[৩]
হাদিসে উল্লেখ
[সম্পাদনা]ইউনুসের নাম মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায় বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গে এসেছে। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কেউ যেন আমাকে ইউনুসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ না বলে।”[৮][৯][১০][১১] এছাড়া তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ আছে, ইউনুস মাছের পেটে থাকাকালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন। এর ফলেই তিনি অল্প কয়েকদিনের মধ্যে মুক্তি পান।[১১]
তদুপরি, প্রখ্যাত ইতিহাসকার আত-তাবারি লিখেছেন যে মাছের পেটে থাকা সত্ত্বেও ইউনুসের শরীরের কোনো অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।[১১] আল্লাহ মাছের দেহ স্বচ্ছ করে দেন, ফলে ইউনুস সমুদ্রের গভীরতার বিস্ময় দেখতে পান এবং মাছদের আল্লাহর প্রশংসা করতে শুনতে পান।[১২]
সমাধিস্থল
[সম্পাদনা]
বর্তমান নিনেভে অঞ্চলে খননকৃত প্রাচীর, দরজা ও টিলা রয়েছে, যার একটি নবি ইউনুস পাহাড় নামে পরিচিত। সেখানে একসময় ইউনুসের সমাধি সম্বলিত আন-নবি ইউনুস মসজিদ ছিল, যা মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয়ের কাছেই সম্মানিত স্থান ছিল।[১৩] ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই আইএসআইএল মসজিদটি ধ্বংস করে।[১৪][১৫]
২০১৭ সালে মসুল আইএসআইএল মুক্ত হওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে এসারহাদ্দন কর্তৃক নির্মিত আসিরীয় প্রাসাদ আবিষ্কৃত হয়।[১৫][১৬]
অন্যান্য সমাধি
[সম্পাদনা]ইউনুসের সমাধির অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি আরব গ্রাম মাশহাদ (প্রাচীন গাথ-হেফের), ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হালহুল শহর, লেবাননের সারেপ্তা নগরীর নিকটবর্তী একটি স্থান, এবং আশদোদের উত্তরে “গিভআত যোনাহ” নামক পাহাড়। এছাড়া তুরস্কের দিয়ারবাকির শহরের ফাতিহ পাশা মসজিদেও একটি সমাধি দেখানো হয়।[১৭] ভ্রমণকারী এভলিয়া চেলেবি তাঁর সেয়াহাতনামাতে ইউনুসের সমাধি দর্শনের উল্লেখ করেছেন।[১৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ says, Quran Academy। "5 Lessons from the Story of Prophet Yunus"। Quran Academy। ১২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "An account of Yunus ibn Matta and his respected father"। Al-Islam.org (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭। ১২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২১।
- 1 2 Encyclopedia of Islam, Yunus, pg. 348
- ↑ Johns 2003, পৃ. 66।
- 1 2 3 4 5 Vicchio 2008, পৃ. 67।
- ↑ Tier, Dr SHAZIA SIDDIQI Islamic Society of Southern (২৩ এপ্রিল ২০২০)। "The power of repentance"। Olean Times Herald (ইংরেজি ভাষায়)। ১২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২১।
- ↑ ২১:৮৭
- ↑ সহীহ বুখারী, ৪:৫৫:৬০৮ (ইংরেজি)
- ↑ Wheeler 2002, পৃ. 172।
- ↑ Graham 1977, পৃ. 167।
- 1 2 3 Vicchio 2008, পৃ. 73।
- ↑ Vicchio 2008, পৃ. 74।
- ↑ "ISIS destroys 'Jonah's tomb' in Mosul"। Al Arabiya। ২৫ জুলাই ২০১৪। ২৭ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুলাই ২০১৪।
- ↑ Ford ও Tawfeeq 2014।
- 1 2 Farhan, Lawandow এবং Samuel 2017।
- ↑ Ensor 2017।
- ↑ Talha Ugurluel, Dünyaya Hükmeden Sultan Kanuni: Gerçeklerin Anlatıldığı Bir Tarih Kitabı, Timas, 2013.
- ↑ "EVLİYA ÇELEBİ'NİN SEYAHATNAME'SİNDE DİYARBAKIR"। ১২ আগস্ট ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ আগস্ট ২০২১।