হুপু
| হুপু | |
|---|---|
| ইউরেশীয় হুপু মাদ্রিদ, স্পেন | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) |
| পর্ব: | কর্ডাটা (Chordata) |
| শ্রেণি: | এভিস (Aves) |
| বর্গ: | Bucerotiformes |
| পরিবার: | Upupidae লিচ, ১৮১৯[১][২] |
| গণ: | Upupa লিনিয়াস, ১৭৫৮ |
| আদর্শ প্রজাতি | |
| Upupa epops (ইউরেশীয় হুপু) লিনিয়াস, ১৭৫৮ | |
| প্রজাতি | |
হুপু বা হুদহুদ (/ˈhuːpuː,
কিছু বিশেষজ্ঞ আফ্রিকান ও ইউরেশীয় হুপুকে একসঙ্গে রাখলেও, মাদাগাস্কারের হুপুকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে গণ্য করেন। ইউরেশীয় হুপু তাদের বিস্তৃত পরিব্যাপ্তি ও বৃহৎ জনসংখ্যার জন্য আইইউসিএন রেড লিস্টে "Least Concern" হিসেবে তালিকাভুক্ত। যদিও পশ্চিম ইউরোপে এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।[৩]
অন্যদিকে, দক্ষিণ সিনাইয়ের শার্ম এল-শেইখ অঞ্চলে হুপুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেখানে ডজনখানেক বাসা গঠনকারী জোড়া পাখি রয়েছে, যারা সারা বছর স্থায়ীভাবে অবস্থান করে।
শ্রেণিবিন্যাস
[সম্পাদনা]Upupa গণের পরিচয় ১৭৫৮ সালে সুইডিশ প্রকৃতিবিদ কার্ল লিনিয়াস তাঁর Systema Naturae গ্রন্থের দশম সংস্করণে প্রদান করেন।[৪] এই গণের টাইপ প্রজাতি হলো ইউরেশীয় হুপু (Upupa epops)।[৫] Upupa এবং ἔποψ (epops) যথাক্রমে লাতিন ও প্রাচীন গ্রিক ভাষায় হুপু পাখির নাম, যেগুলো অনুকরণধ্বনিমূলক এবং পাখির ডাকার শব্দ অনুকরণ করে তৈরি।
হুপুকে একসময় Coraciiformes শ্রেণিতে রাখা হতো, যেখানে মাছরাঙা, মৌচাকখাদক এবং রোলার পাখিরাও অন্তর্ভুক্ত।[৬] হুপু ও উড হুপুদের শ্রবণ অস্থি স্ট্যাপিস-এর অনন্য গঠন থেকেও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়।[৭]
Sibley-Ahlquist শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, হুপুকে Coraciiformes থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র বর্গে রাখা হয়, যার নাম Upupiformes। কিছু বিশেষজ্ঞ উড হুপুকেও এই বর্গে অন্তর্ভুক্ত করেন।[৮] বর্তমানে অধিকাংশ মত হলো, হুপু এবং উড হুপু উভয়ই Bucerotiformes বর্গের সদস্য, যেটিতে হর্ণবিল পাখিরাও অন্তর্ভুক্ত।[৯]
হুপুর জীবাশ্ম রেকর্ড খুবই অসম্পূর্ণ। সর্বপ্রথম জীবাশ্ম পাওয়া গেছে Quaternary যুগ থেকে।[১০] তবে তাদের আত্মীয়দের জীবাশ্ম রেকর্ড তুলনামূলকভাবে প্রাচীন; উড হুপুদের জীবাশ্ম মায়োসিন যুগের এবং Messelirrisoridae নামক বিলুপ্ত পরিবারের জীবাশ্ম ইওসিন যুগের।[৮]
প্রজাতি
[সম্পাদনা]পূর্বে হুপুকে একক প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরে একে দুটি স্বতন্ত্র প্রজাতিতে ভাগ করা হয়েছে: ইউরেশীয় হুপু ও মাদাগাস্কারের হুপু। আরও একটি স্বীকৃত স্বতন্ত্র প্রজাতি হলো সেন্ট হেলেনা হুপু, যা সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বাস করত এবং ১৬শ শতকে বিলুপ্ত হয়ে যায়, সম্ভবত বহিরাগত প্রাণীদের আগমনের ফলে।[১০]
Upupa গণটি লিনিয়াস কর্তৃক ১৭৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় এই গণে আরও তিনটি লম্বা বাঁকা ঠোঁটযুক্ত প্রজাতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল:[৪]
- U. eremita (বর্তমানে Geronticus eremita) – উত্তর বল্ড আইবিস
- U. pyrrhocorax (বর্তমানে Pyrrhocorax pyrrhocorax) – লালঠোঁটা চাফ
- U. paradisea
এক সময় গ্রেটার হুপু-লার্ক (Alaemon alaudipes)-কেও এই গণের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো (Upupa alaudipes হিসেবে)।[১১]
জীবিত প্রজাতি
[সম্পাদনা]বর্তমানে দুটি জীবিত প্রজাতিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে:[৯]
| চিত্র | বৈজ্ঞানিক নাম | প্রচলিত নাম | বিস্তৃতি |
|---|---|---|---|
| Upupa epops | ইউরেশীয় হুপু | ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর ও উপ-সাহারান আফ্রিকা | |
| Upupa marginata | মাদাগাস্কারের হুপু | মাদাগাস্কার | |
বিস্তৃতি ও আবাসস্থল
[সম্পাদনা]
আফ্রিকান হুপু
ইউরেশীয় হুপু (প্রজননকালীন)
ইউরেশীয় হুপু (অবস্থায়ী)
ইউরেশীয় হুপু (শীতকালীন)
মাদাগাস্কারের হুপু

হুপু ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, উপ-সাহারান আফ্রিকা এবং মাদাগাস্কারে বিস্তৃত।[১২] ইউরোপ এবং উত্তর এশিয়ার বেশিরভাগ হুপু শীতকালে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অভিবাসন করে।[১৩] বিপরীতে, আফ্রিকান হুপুরা সারা বছর স্থায়ীভাবে বসবাস করে।
হুপু একবার আলাস্কাতে ভ্রান্ত পরিযায়ী (vagrant) হিসেবে দেখা গিয়েছিল।[১৪] ১৯৭৫ সালে U. e. saturata Yukon Delta অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়েছিল।[১৫] ইউরোপের সীমার উত্তরেও হুপুর প্রজননের নজির রয়েছে।[১৬] উষ্ণ, শুষ্ক গ্রীষ্মে দক্ষিণ ইংল্যান্ডে এদের দেখা যায়, যেখানে ঘাসফড়িং ও অনুরূপ পোকামাকড় প্রচুর পাওয়া যায়।[১৭] তবে ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে উত্তর ইউরোপে হুপুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছিল, সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে।[১৬]
হুপুর আবাসস্থলের জন্য দুটি প্রধান প্রয়োজনীয়তা রয়েছে: খোলা বা অল্প গুল্মযুক্ত জমি যেখানে তারা খাবার সংগ্রহ করতে পারে এবং গর্তযুক্ত উল্লম্ব পৃষ্ঠ যেমন গাছ, পাহাড়ি দেওয়াল, পুরনো দেয়াল, বাসাবাক্স, খড়ের স্তূপ বা পরিত্যক্ত গর্ত যেখানে তারা বাসা বাঁধতে পারে। এই শর্তাবলি বিভিন্ন পরিবেশে পাওয়া যায়, তাই হুপু নানা ধরণের আবাসস্থলে বাস করে — যেমন হিথল্যান্ড, অরণ্য প্রান্তর, সাভান্না, তৃণভূমি এবং বনভূমির খোলা অঞ্চল। মাদাগাস্কারের হুপু ঘন প্রাথমিক বনেও দেখা যায়।
মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশকে কৃষিকাজের জন্য পরিবর্তন করায় হুপু এখন জলপাই বাগান, ফলের বাগান, দ্রাক্ষাক্ষেত্র, পার্ক এবং কৃষিজমিতে সাধারণ হয়ে উঠেছে। তবে তীব্র কৃষিকাজ করা এলাকায় তারা কম দেখা যায় এবং সংখ্যায় হ্রাস পাচ্ছে।[১২] দক্ষিণ ইউরোপ ও এশিয়ায় হুপু শিকার একটি উদ্বেগের বিষয়।[১৫]
কিছু অঞ্চলে, যেমন শ্রীলংকা ও পশ্চিম ঘাট, হুপু বৃষ্টির সাথে সাময়িক স্থান পরিবর্তন করে থাকে।[১৮] হিমালয় পর্বত পাড়ি দেওয়ার সময় অভিবাসী হুপুকে উচ্চ উচ্চতায়ও দেখা গেছে। এমনকি মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের সময় প্রায় ৬,৪০০ মি (২১,০০০ ফু) উচ্চতায় একটি হুপুর রেকর্ড আছে।[১৯]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Leach, William Elford (১৮১৯)। "Eleventh Room"। Synopsis of the Contents of the British Museum (15th সংস্করণ)। London: British Museum। পৃ. ৬৩–৬৮ [৬৫]। যদিও নথিতে লেখকের নাম নির্দিষ্ট করা হয়নি, তৎকালীন সময়ে লিচ ছিলেন জুলজির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
- ↑ Bock, Walter J. (১৯৯৪)। History and Nomenclature of Avian Family-Group Names। Bulletin of the American Museum of Natural History। খণ্ড ২২২। New York: American Museum of Natural History। পৃ. ১৪৬, ২৪৫। এইচডিএল:2246/830।
- ↑ "Hoopoe Bird (Upupa epops) - Fun Facts with Pictures - Birds Fact" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
- 1 2 Linnaeus, Carl (১৭৫৮)। Systema Naturae per regna tria naturae, secundum classes, ordines, genera, species, cum characteribus, differentiis, synonymis, locis (Latin ভাষায়)। খণ্ড ১ (10th সংস্করণ)। Holmiae (Stockholm): Laurentii Salvii। পৃ. xxx।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Peters, James Lee, সম্পাদক (১৯৪৫)। Check-List of Birds of the World। খণ্ড ৫। Cambridge, Massachusetts: Harvard University Press। পৃ. ২৪৭।
- ↑ Hackett, Shannon J.; এবং অন্যান্য (২০০৮)। "A Phylogenomic Study of Birds Reveals Their Evolutionary History"। Science। ৩২০ (1763): ১৭৬৩–১৭৬৮। বিবকোড:2008Sci...320.1763H। ডিওআই:10.1126/science.1157704। পিএমআইডি 18583609। এস২সিআইডি 6472805।
- ↑ Feduccia, Alan (১৯৭৫)। "The Bony Stapes in the Upupidae and Phoeniculidae: Evidence for Common Ancestry" (পিডিএফ)। The Wilson Bulletin। ৮৭ (3): ৪১৬–৪১৭।
- 1 2 Mayr, Gerald (২০০০)। "Tiny Hoopoe-like birds from the Middle Eocene of Messel (Germany)"। Auk। ১১৭ (4): ৯৬৪–৯৭০। ডিওআই:10.1642/0004-8038(2000)117[0964:THLBFT]2.0.CO;2।
- 1 2 Gill, Frank; Donsker, David; Rasmussen, Pamela, সম্পাদকগণ (ফেব্রুয়ারি ২০২৫)। "Mousebirds, Cuckoo Roller, trogons, hoopoes, hornbills"। IOC World Bird List Version 15.1। International Ornithologists' Union। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৫।
- 1 2 Olson, Storrs (১৯৭৫)। Paleornithology of St Helena Island, south Atlantic Ocean (পিডিএফ)। Smithsonian Contributions to Paleobiology। খণ্ড ২৩।
- ↑ "Alaemon alaudipes"। Avibase। সংগ্রহের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০১৬।
- 1 2 Kristin, A (২০০১)। "Family Upupidae (Hoopoes)"। Josep, del Hoyo; Andrew, Elliott; Sargatal, Jordi (সম্পাদকগণ)। Handbook of the Birds of the World. Volume 6, Mousebirds to Hornbills। Barcelona: Lynx Edicions। পৃ. ৩৯৬–৪১১। আইএসবিএন ৮৪-৮৭৩৩৪-৩০-X।
- ↑ Reichlin, Thomas; Michael Schaub; Myles H. M. Menz; Murielle Mermod; Patricia Portner; Raphaël Arlettaz; Lukas Jenni (২০০৮)। "Migration patterns of Hoopoe Upupa epops and Wryneck Jynx torquilla: an analysis of European ring recoveries" (পিডিএফ)। Journal of Ornithology। ১৫০ (2): ৩৯৩। ডিওআই:10.1007/s10336-008-0361-3। এস২সিআইডি 43360238। ২৭ মে ২০১৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
- ↑ Dau, Christian; Paniyak, Jack (১৯৭৭)। "Hoopoe, A First Record for North America" (পিডিএফ)। Auk। ৯৪ (3): ৬০১।
- 1 2 Heindel, Matthew T. (২০০৬)। Jonathan Alderfer (সম্পাদক)। Complete Birds of North America। National Geographic Society। পৃ. ৩৬০। আইএসবিএন ০-৭৯২২-৪১৭৫-৪।
- 1 2 Pforr, Manfred; Alfred Limbrunner (১৯৮২)। The Breeding Birds of Europe 2: A Photographic Handbook। London: Croom and Helm। পৃ. ৮২। আইএসবিএন ০-৭০৯৯-২০২০-২।
- ↑ Soper, Tony (১৯৮২)। Birdwatch। Exeter, England: Webb & Bower। পৃ. ১৪১। আইএসবিএন ০-৯০৬৬৭১-৫৫-৮।
- ↑ Champion-Jones, RN (১৯৩৭)। "The Ceylon Hoopoe (Upupa epops ceylonensis Reichb.)"। J. Bombay Nat. Hist. Soc.। ৩৯ (2): ৪১৮।
- ↑ Ali, Sálim; Ripley, Sidney Dillon; Dick, John Henry (১৯৮৭)। Compact Handbook of the Birds of India and Pakistan: Together with Those of Bangladesh, Nepal, Bhutan and Sri Lanka। খণ্ড ৪ (2nd সংস্করণ)। Oxford University Press। পৃ. ১২৪–১২৯। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫৬২০৬৩-৪।