বিষয়বস্তুতে চলুন

তালুত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
তালুত
طالوت‎

তালুত নামের আরবি বা ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি
জন্মআনুমানিক ১০৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
মৃত্যুআনুমানিক ১০১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
অন্যান্য নামশৌল (মুসলিম ঐতিহ্যানুসারে)
পরিচিতির কারণকোরআনে বর্ণিত ইসরায়েলিদের প্রথম রাজা
উপাধিইসরায়েলের রাজা
পূর্বসূরীসামুঈল
উত্তরসূরীদাঊদ
রাজা তালুত
মালিক বানী ইস্রাঈল
(আক্ষ. অনু.ইসরায়েলিদের রাজা)
ইসরায়েলের রাজা
রাজত্ব১০৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ – ১০১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
পূর্বসূরিপদের সূচনা
উত্তরসূরিদাঊদ
ধর্মইসলাম

তালুত (আরবি: طالوت) ছিলেন একজন আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত রাজা, যাঁর উল্লেখ কোরআনে আছে। মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে তাঁকে ইসরায়েলিদের রাজা শাউলের সঙ্গে চিহ্নিত করা হয়।[] কোরআনে তাঁকে মালিক (আরবি: مَـلِـك) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর নাম ‘তালুত’-এর অর্থ ও উৎপত্তি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। হিব্রু বাইবেলকোরআনে যে সকল চরিত্র উভয় গ্রন্থেই আছে, তালুত তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম। তাঁর আরবি নামটি হিব্রু নাম (হিব্রু ভাষায়: שָׁאוּל)-এর সঙ্গে মেলে না। মুসলিম তাফসিরকারীদের মতে, ‘তালুত’ শব্দের অর্থ “লম্বা” বা “দৈহিকভাবে বিশাল”, যা বাইবেলের বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।[] ১১শ শতকের তাফসিরকারক আবু ইসহাক আল-থালাবির মতে, তখন ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাজাকে তাঁর উচ্চতার ভিত্তিতে শনাক্ত করা হতো। শামউইল একটি মাপকাঠি স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু ইসরায়েলে কেবল সাউলই তা অতিক্রম করতে সক্ষম হন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] কোরআনে উল্লেখিত জালুত (আরবি: جالوت) নামটির সঙ্গেও এর সাদৃশ্য রয়েছে।

কোরআনে বর্ণিত কাহিনি

[সম্পাদনা]

হজরত মূসার সময়ের পর ইসরায়েলিরা তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন রাজা দাবি করে। তখন আল্লাহর নির্দেশে নবী শামউইল তালুতকে রাজা হিসেবে মনোনীত করেন এবং তা জাতিকে জানিয়ে দেন। তবে ইসরায়েলিরা তালুতের সম্পদের অভাব দেখে তাঁকে মেনে নিতে চায়নি। নবী জানান, তালুত জ্ঞান ও দেহগত গঠন অনুযায়ী সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহ তাঁকে বেছে নিয়েছেন। তাঁর রাজা হওয়ার একটি নিদর্শন ছিল এই যে, আল্লাহ মর্যাদাপূর্ণ সিন্দুকটি ইসরায়েলিদের কাছে ফিরিয়ে দেন।

যুদ্ধের আগে তালুত একটি নদীতে পরীক্ষা নেন—যারা পানি পান করবে, তারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে না; কেবল যারা এক মুঠো পানি নেবে, তারা তাঁর সঙ্গী হবে। অধিকাংশই পান করেছিল, কেবল কিছু বিশ্বস্ত অনুসারী তাঁকে অনুসরণ করে। এরপর তালুত ইসরায়েলিদের নিয়ে জালুদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন। যুদ্ধে দাঊদ জালুতকে হত্যা করেন। তালুতকে নবী (আরবি: نَـبِي) হিসেবে নয়, বরং একজন আল্লাহ মনোনীত রাজা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[]

হাদিস

[সম্পাদনা]

তালুতের উল্লেখ একটি হাদিসেও আছে: “আল-বারা বলেন: বদরে অংশগ্রহণকারী সাহাবিরা আমাকে বলেছিলেন যে, তাঁরা ছিলেন তালুতের সঙ্গীদের সমান সংখ্যক—যাঁরা নদী অতিক্রম করেছিলেন। তাঁদের সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক। আল্লাহর কসম, কেবল একজন মুমিনই তাঁর সঙ্গে নদী পার হয়েছিল।”[]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. M. A. S. Abdel Haleem: The Qur'an, a new translation, note to 2:247.
  2. Leaman, Oliver, The Quran, An Encyclopedia, 2006, p.638.
  3. কুরআন ২:২৪৬-২৫২
  4. বুখারি: বই ৫, খণ্ড ৫৯, হাদিস ২৯৩: নবী কর্তৃক পরিচালিত সামরিক অভিযান (আল-মাগাজি)।