ভারত
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারত (সরকারি নাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্র, ভারতের অন্যান্য সরকারি ভাষায় নাম) দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র। অন্যদিকে জনসংখ্যার বিচারে এই দেশ বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল এবং বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান[৭], উত্তর-পূর্বে চীন, নেপাল ও ভূটান এবং পূর্বে বাংলাদেশ, মায়ানমার ও মালয়েশিয়া অবস্থিত। এছাড়া ভারত মহাসাগরে অবস্থিত শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়া ভারতের অত্যন্ত নিকটস্থ কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র। দক্ষিণে ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত ভারতের তটরেখার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ৭,৫১৭ কিলোমিটার (৪,৬৭১ মাইল)।[৮]
সুপ্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা, নানা ইতিহাস-প্রসিদ্ধ বাণিজ্যপথ ও সর্বোপরি নানা যুগে নানা বিশাল বিশাল সাম্রাজ্যের অধিষ্ঠান ভারতীয় উপমহাদেশ প্রাচীন কাল থেকেই অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির জন্য সুপরিচিত।[৯] হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ – এই চারটি বিশ্বধর্মের উত্স ভারত। আবার জরথুষ্ট্রীয় ধর্ম (পার্সী), ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দের আগেই ভারতে প্রবেশ করে ও ভারতীয় সভ্যতার বৈচিত্রায়ণ ঘটায়। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে ধীরে ধীরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিভারতীয় ভূখণ্ডের অধিকাংশ অঞ্চল অধিকার করে নেয়। মধ্য-উনবিংশ শতাব্দী নাগাদ এই দেশ পুরোদস্তুর একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয়। অতঃপর সূদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত এক আধুনিক রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিরাট অংশ ছিল অহিংস আন্দোলন- যার অন্য উদাহরণ বিরল।
বর্তমানে ভারত ২৮টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বিশিষ্ট এক সংসদীয় সাধারণতন্ত্র। ভারতীয় অর্থব্যবস্থা বাজারি বিনিময় হারের বিচারে বিশ্বে দ্বাদশ ও ক্রয়ক্ষমতা সমতার বিচারে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম। ১৯৯১ সালে ভারত সরকার গৃহীত আর্থিক সংস্কার নীতির ফলস্রুতিতে আজ আর্থিক বৃদ্ধিহারের বিচারে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে দ্বিতীয়।[১০] তবে অতিমাত্রায় দারিদ্র্য[১১], নিরক্ষরতা ও অপুষ্টি এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা। ভারত একটি বহুধর্মীয়, বহুভাষিক ও বহুজাতিক রাষ্ট্র। আবার বহু বিচিত্র বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ এই দেশে পরিলক্ষিত হয়।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] ব্যুৎপত্তি
- আরও দেখুন : ভারতের নামসমূহ
ভারত নামটির উৎপত্তি হিন্দু পৌরাণিক রাজা ভরতের নামানুসারে। কথিত আছে এই অঞ্চল বা বর্ষ রাজা ভরতকে দান করা হয়েছিল বলে এর নাম ভারতবর্ষ। ইংরেজিতে ইন্ডিয়া (India) কথাটি এসেছে সিন্ধু নদের আদি ফারসি নাম হিন্দু থেকে।[১২] প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের বলত ইন্দোই (Ινδοί), অর্থাৎ, ইন্দাস (সিন্ধু) নদী অববাহিকার অধিবাসী।[১৩] স্বাধীনতার পর ভারতের সংবিধানে ও লোকমুখে ভারত নামটিই প্রচলিত হয়।[১৪] এছাড়া মধ্যযুগে উত্তর ভারত অর্থে ফারসি হিন্দুস্তান (বা হিন্দুস্থান, যার অর্থ ‘হিন্দুদের দেশ’) শব্দটিও ব্যবহৃত হত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই শব্দটি সমগ্র ভারত অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।[১৫]
[সম্পাদনা] ইতিহাস
- মূল নিবন্ধ : ভারতের ইতিহাস এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস
ভারতে মানব জনবসতির প্রাচীনতম নিদর্শনটি হল অধুনা মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভীমবেটকা অঞ্চলের চিত্রিত প্রস্তর ক্ষেত্রটি।১০০,০০০ বছর আগেও এখানে মানুষের বসবাস ছিল[১৬][১৭]। প্রায় ৯০০০ বছর আগে এদেশে স্থায়ী মনুষ্যবসতি গড়ে উঠে; যা কালক্রমে পশ্চিম ভারতে ইতিহাস-প্রসিদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার রূপ ধারণ করে।[১৮] এই সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল ৩৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। এরপর ভারতে বৈদিক যুগের সূত্রপাত হয়। এই যুগেই হিন্দুধর্ম তথা প্রাচীন ভারতীয় সমাজের অপরাপর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলির আবির্ভাব ঘটে। বৈদিক যুগের সমাপ্তিকাল আনুমানিক ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। আনুমানিক ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় মহাজনপদ নামে অনেকগুলি স্বাধীন রাজ্য ও গণরাজ্য।[১৯]
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রতিষ্ঠিত ও মহামতি অশোকের শাসনঋদ্ধ মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে দক্ষিণ এশিয়ার সিংহভাগ অঞ্চল একত্রিত হয়।[২০] খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে গুপ্ত সম্রাটদের শাসনকাল প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ নামে আখ্যাত হয়।[২১][২২] এছাড়া পূর্ব ভারতে পাল এবং দাক্ষিণাত্যে চালুক্য, চোল ও বিজয়নগর প্রভৃতি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। এই সকল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা, সাহিত্য, জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন সমৃদ্ধি লাভ করে।
খ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে ইসলামের অনুপ্রবেশ ঘটে। এই অনুপ্রবেশের ফলে সমগ্র উত্তর ভারত প্রথমে দিল্লি সুলতানি ও পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। মহামতি আকবরের রাজত্বকালে দেশে একাধারে যেমন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনা হয়, তেমনই প্রতিষ্ঠিত হয় ধর্মীয় সম্প্রীতি।[২৩][২৪] ক্রমে ক্রমে মুঘল সম্রাটগণ উপমহাদেশের এক বৃহৎ অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হন। যদিও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রাধান্যকারী অসমের অহোম রাজশক্তি এবং আরও কয়েকটি রাজ্য মুঘল আগ্রাসন সফলভাবে প্রতিহত করে।
ষোড়শ শতাব্দী থেকে পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলি ভারতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করতে শুরু করে। পরবর্তীকালে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগের সুযোগ নিয়ে তারা ভারতে উপনিবেশ স্থাপন করতেও সক্ষম হয়। ১৮৫৬ সাল নাগাদ ভারতের অধিকাংশ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়েছিল।[২৫] এর এক বছর পরেই ঘটে ভারতীয় সিপাহি ও দেশীয় রাজ্যগুলির সম্মিলিত এক জাতীয় গণ-অভ্যত্থান। ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সিপাহি বিদ্রোহ নামে পরিচিত। এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও তা দেশে কোম্পানির শাসনের ভিত টলিয়ে দেয়। ফলে ভারতকে আনা হয় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ শাসনে।
বিংশ শতকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি দেশজুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ভারতীয় নেতা মহাত্মা গান্ধী লক্ষাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অহিংস গণ-আইন অমান্য জাতীয় আন্দোলন শুরু করেন।[২৬] স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষলগ্নে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রাম ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৫ অগস্ট, ১৯৪৭ তারিখে, ভারত ব্রিটিশ শাসনজাল থেকে মুক্তিলাভ করে। একই সঙ্গে দেশের মুসলমান-অধ্যুষিত অঞ্চলগুলি বিভক্ত হয়ে গঠন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র।[২৭] ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি নতুন সংবিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারতে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়।[২৮]
স্বাধীনতার পরে ধর্মীয় হিংসা, জাতপাত, নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভুত্থান দেশে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ১৯৯০-এর দশক থেকে ভারতের শহরাঞ্চলগুলি এই হানাহানির শিকার হতে থাকে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের ফলে চীনের সঙ্গে এবং ১৯৪৭, ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালে ভারত-পাক যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়। ভারত রাষ্ট্রসংঘ (ব্রিটিশ ভারত হিসাবে) ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ১৯৭৪ সালে ভারত একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষণ [২৯] ও ১৯৯৮ সালে আরও পাঁচটি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে নিজেকে এক পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করে।[২৯] ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে[৩০] বর্তমানে পৃথিবীর এক অতিদ্রুত-বর্ধনশীল এক অর্থব্যবস্থা হিসাবে ভারত সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেও সক্ষম হয়েছে।[১০]
[সম্পাদনা] সরকার
- মূল নিবন্ধ : ভারত সরকার
২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে প্রবর্তিত ভারতের সংবিধান পৃথিবীর স্বাধীন রাষ্ট্রগুলির সংবিধানের মধ্যে বৃহত্তম ও সর্বাধিক সুবিস্তারিত।[৩১] সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশে ভারত একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে বর্ণিত হয়েছে।[৩২] ভারতে প্রচলিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ওয়েস্টমিনিস্টার-ধাঁচের একটি সংসদ ব্যবস্থা। এদেশের সরকার ব্যবস্থা প্রথাগতভাবে ‘আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয়’ সরকার ব্যবস্থা হিসাবে বর্ণিত হয়, যার বৈশিষ্ট্য হল একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকারের ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল একাধিক রাজ্য সরকারের সহাবস্থান।[৩৩] যদিও ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক সংস্কার ও পরিবর্তনের ফলে রাজ্য সরকারগুলির ক্ষমতার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি দেশকে চালিত করছে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দিকে।[৩৪]
| পতাকা | তিরঙ্গা |
| প্রতীক | অশোক স্তম্ভ |
| সংগীত | জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে |
| স্তোত্র | বন্দে মাতরম |
| পশু | বাংলার বাঘ |
| পাখি | ভারতীয় ময়ূর |
| জলচর প্রাণী | ডলফিন |
| ফুল | পদ্ম |
| গাছ | বট |
| ফল | আম |
| খেলা | হকি |
| সন | শকাব্দ |
| নদী | গঙ্গা [৩৬] |
ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি।[৩৭] তিনি পরোক্ষভাবে একটি নির্বাচক মণ্ডলী কর্তৃক পাঁচ বছরের সময়কালের ব্যবধানে[৩৮][৩৯] নির্বাচিত হন।[৪০] ভারতের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিকাংশ শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে তাঁর হাতেই।[৩৭] রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত[৪১] প্রধানমন্ত্রীকে প্রথাগতভাবে সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ট আসনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল বা জোট কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়[৩৭]। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ (যার কার্যনির্বাহী সমিতি হল ক্যাবিনেট) – এই নিয়ে গঠিত ভারতের শাসনবিভাগ। দপ্তরযুক্ত মন্ত্রীদের সকলকেই সংসদের কোনও না কোনও কক্ষের সদস্য হতে হয়। ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসনবিভাগ আইনবিভাগের অধস্তন। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রী পরিষদকে সংসদের নিম্নকক্ষের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়।[৪২]
ভারতের আইনবিভাগ হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ। এটি গঠিত হয়েছে রাজ্যসভা নামক একটি উচ্চকক্ষ ও লোকসভা নামক একটি নিম্নকক্ষ নিয়ে।[৪৩] রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা ২৪৫; এঁদের দপ্তরকাল ছয় বছর।[৪৪] এঁদের অধিকাংশই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভা থেকে রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন।[৪৪] অন্যদিকে লোকসভার ৫৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ৫৪৩ জন পাঁচ বছরের মেয়াদে নিজ নিজ নির্বাচন ক্ষেত্র থেকে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।[৪৪] রাষ্ট্রপতি যদি বিবেচনা করেন যে সংসদে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের যথেষ্ট প্রতিনিধি নেই, তবে তিনি দুই জন সদস্যকে উক্ত সম্প্রদায় থেকে সাংসদ মনোনীত করতে পারেন।[৪৪]
ভারতে এককেন্দ্রিক ত্রি-স্তর বিচারব্যবস্থা প্রচলিত। এই বিচারব্যবস্থা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট, ২১টি হাইকোর্ট ও বহুসংখ্যক বিচারবিভাগীয় আদালতের সমন্বয়ে গঠিত।[৪৫] মৌলিক অধিকার, কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে বিবাদ ও হাইকোর্টের আপিল বিচার এলাকা সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের মূল বিচার এলাকার অন্তর্গত।[৪৬] এই বিচারব্যবস্থা স্বতন্ত্র[৪৫] এবং আইন ঘোষণা ও সংবিধান-বিরোধী কেন্দ্র বা রাজ্য আইন প্রতিহত করার ক্ষমতাযুক্ত।[৪৭] সংবিধানের অভিভাবকত্ব ও ব্যাখ্যাদান সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অন্তর্গত।[৪৮]
[সম্পাদনা] রাজনীতি
- মূল নিবন্ধ : ভারতের রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রীয় স্তরে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।[৪৯][৫০]স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময়ই ভারতের শাসনকর্তৃত্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কুক্ষিগত ছিল।[৫১] অন্যদিকে রাজ্যগুলির রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) (সিপিআই(এম)) প্রভৃতি জাতীয় দল ও একাধিক আঞ্চলিক পার্টি। দুটি সংক্ষিপ্ত সময়কালকে বাদ দিলে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল অবধি জাতীয় কংগ্রেস সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা ভোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষিত জরুরি অবস্থার কারণে জন-অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ মধ্যবর্তী সময়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনতা পার্টি সরকার গঠন করে। ১৯৮৯ সালে জনতা দলের নেতৃত্বে জাতীয় ফ্রন্ট বামফ্রন্টের সহযোগিতায় নির্বাচনে জয়লাভ করে দু-বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে।[৫২] ১৯৯১ সালে কোনও পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ না করতে পারায় কংগ্রেস পি ভি নরসিমা রাওয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে। এই সরকার অবশ্য পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয়। [৫৩]
১৯৯৬-১৯৯৮ সালটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের অস্থিরতার যুগ। এই সময় একাধিক স্বল্পসময়ের জোট কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালে সংক্ষিপ্ত সময়কালের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করে। তারপর কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে বিজেপির নেতৃত্বে ন্যাশানাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ক্ষমতা দখল করে। এই সরকারই ভারতের প্রথম পূর্ণ সময়কালের অকংগ্রেসি সরকার।[৫৪]২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) লোকসভায় বিপুল সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে এবং বিজেপি-বিরোধী বাম সাংসদদের সহায়তায় সরকার গঠন করে। ইউপিএ ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় আসে। অবশ্য, জোটের মধ্যে বামপন্থী পার্টির প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণভাবে কমেছে।[৫৫]
[সম্পাদনা] বৈদেশিক সম্পর্ক ও সামরিক বাহিনী
- মূল নিবন্ধ : ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক ও ভারতের সামরিক বাহিনী
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই অধিকাংশ রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক। ১৯৫০-এর দশকে ভারত আফ্রিকা ও এশিয়ার ইউরোপীয় উপনিবেশগুলির স্বাধীনতার স্বপক্ষে সওয়াল করেছিল।[৫৬] শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ ও মালদ্বীপে অপারেশন ক্যাকটাস – এই দুই ক্ষেত্রে ভারত কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সামরিক মধ্যস্থতায় অংশ নেয়। কমনওয়েলথের এক সদস্য ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।[৫৭] ভারত-চীন যুদ্ধ ও ১৯৬৫ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক হয়ে ওঠে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়। ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত সেই সম্পর্ক একই রকম থাকে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের তিনটি যুদ্ধ হয়। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হয়।[৫৮] এছাড়াও ১৯৮৪ সালে সিয়াচেন হিমবাহ ও ১৯৯৯ সালে কার্গিলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
বর্তমানকালে, ভারত যে সকল প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে সেগুলি হল অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) [৫৯], সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওন্যাল কো-অপারেশন (সার্ক) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) [৬০] ভারত চারটি মহাদেশে রাষ্ট্রসংঘের ৩৫টি শান্তিরক্ষা অভিযানে প্রায় ৫৫,০০০ সেনা ও পুলিশ প্রেরণ করেছে।[৬] ব্যাপক সমালোচনা ও সামরিক অনুমোদন সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচির উপর সার্বভৌমত্ব রক্ষার খাতিরে ভারত কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ার-টেস্ট-ব্যান ট্রিটি (সিটিবিটি) ও নিউক্লিয়ার নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি (এনপিটি)-তে সই করতে উপর্যুপরি অস্বীকার করছে। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়াও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গেও ভারত বজায় রেখেছে সুসম্পর্ক।
স্থলসেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনা নিয়ে গঠিত ভারতের সামরিক বাহিনী বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম।[২৮] একাধিক সহকারী বাহিনী যথা আধাসামরিক বাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী ও স্ট্রাটেজিক ফোর্সেস কম্যান্ড এই সামরিক বাহিনীর সমান্তরালে কাজ করে। ভারতের রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। রাশিয়া, ফ্রান্স ও ইসরায়েল ভারতের প্রধান অস্ত্রসরবরাহকারী রাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহকারী দেশ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গ্যানাইজেশন বা ডিআরডিও) ব্যালিস্টিক মিশাইল, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধট্যাঙ্ক সহ দেশজ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কাজ তত্ত্ববধান করে যাতে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতকে অধিক মাত্রায় বিদেশি আমদানির উপর নির্ভর করতে না হয়। ১৯৭৪ সালে স্মাইলিং বুদ্ধ ও ১৯৯৮ সালে পোখরান-২ নামে মোট ছয়টি প্রাথমিক পরমাণু পরীক্ষণের মাধ্যমে ভারত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। যদিও ভারতের ঘোষিত পরমাণু নীতি হল “প্রথম প্রয়োগ নয়”।[৬২] ১০ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি সাক্ষরিত হয়। তার পূর্বেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ারস গ্রুপ ভারতের উপর থেকে পরমাণু প্রযুক্তি ক্রয়বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ফলে ভারত কার্যত পরিণত হয় বিশ্বের ষষ্ঠ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে।[৬৩]
[সম্পাদনা] রাজনৈতিক বিভাগ
- মূল নিবন্ধ : ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল
ভারত ২৮টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বিশিষ্ট একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সাধারণতন্ত্র। প্রত্যেক রাজ্য এবং পুদুচেরি ও দিল্লি – এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচিত রাজ্য সরকার রয়েছে। অপর পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসক দ্বারা শাসিত ও রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ শাসনের অধীনস্থ। ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন বলে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগুলি স্থাপিত হয়।[৬৪] তদাবধি এই কাঠামোটি মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে। তৃণমূল স্তরে শাসন ও প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ৬১০টি জেলায় বিভক্ত।[৬৫] জেলাগুলি আবার মহকুমা বা তহসিলে এবং গ্রামে বিভক্ত।
রাজ্য:
|
১ অন্ধ্রপ্রদেশ |
১৫ মহারাষ্ট্র
১৬ মণিপুর ১৭ মেঘালয় ১৮ মিজোরাম ১৯ নাগাল্যান্ড ২০ ওড়িশা ২১ পাঞ্জাব ২২ রাজস্থান ২৩ সিকিম ২৪ তামিলনাড়ু ২৫ ত্রিপুরা ২৬ উত্তরাখণ্ড ২৭ উত্তরপ্রদেশ ২৮ পশ্চিমবঙ্গ |
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল:
খ চন্ডীগড়
গ দাদরা ও নগর হাভেলি
ঘ দমন ও দিউ
ঙ লাক্ষাদ্বীপ
চ পন্ডিচেরী
ছ দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল
[সম্পাদনা] ভূগোল
- মূল নিবন্ধ : ভারতের ভূগোল
- আরও দেখুন: ভারতের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস ও ভারতের জলবায়ু
ভারতীয় উপমহাদেশের সিংহভাগ নিয়ে গঠিত ভারতীয় ভূখণ্ডটি ভারতীয় টেকটোনিক পাত ও ইন্দো-অস্ট্রেলীয় পাতের মধ্যে স্থিত একটি গৌণ পাতের উপর অবস্থিত।[৬৬] এই ভূখণ্ড গঠনের প্রধান ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি শুরু হয় আজ থেকে ৭৫,০০,০০,০০০ বছর আগে, যখন দক্ষিণের অতিমহাদেশ গন্ডোয়ানার অংশ হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশ উত্তর-পূর্ব দিকে সরতে শুরু করে। তৎকালীন অসংগঠিত ভারত মহাসাগরব্যাপী এই সরণ স্থায়ী হয় ৫০,০০,০০,০০০ বছর।[৬৬] এর পরে উপমহাদেশটির সঙ্গে ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষ ঘটে এবং উপমহাদেশের পাতটি ইউরেশীয় পাতের তলায় অবনমিত হয়ে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত হিমালয়ের উত্থান ঘটায়। এই পর্বত বর্তমানে ভারতের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক বেষ্টন করে আছে।[৬৬] উত্থানশীল হিমালয়ের দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত সমুদ্রে পাতসঞ্চরণের ফলে একটি বৃহৎ খাত সৃষ্টি হয়। কালক্রমে নদীর পলি জমে[৬৭] এই খাতটি গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে পরিণত হয়।[৬৮] এই সমভূমির পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বতশ্রেণী কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করছে থর মরুভূমি।[৬৯] মূল ভারতীয় পাতটি আজ ভারতীয় উপদ্বীপ রূপে অবস্থান করছে। এটিই ভারতের প্রাচীনতম ও ভৌগোলিকভাবে সর্বাপেক্ষা দৃঢ় অংশ। উত্তরদিকে মধ্য ভারতে অবস্থিত সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্যন্ত এই উপদ্বীপ বিস্তৃত। এই সমান্তরাল পর্বতমালাদুটি পশ্চিমে গুজরাটের আরব সাগর উপকূল থেকে পূর্বে ঝাড়খণ্ডের কয়লা-সমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি পর্যন্ত ব্যাপ্ত।[৭০] দক্ষিণে উপদ্বীপীয় ভূখণ্ডে দাক্ষিণাত্য মালভূমি বামে ও ডানে যথাক্রমে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালাদ্বয় দ্বারা উপকূলীয় সমভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন।[৭১] এই মালভূমিতেই ভারতের প্রাচীনতম প্রস্তরগঠনটি পরিলক্ষিত হয়; যার কিয়দংশের বয়স ১,০০,০০,০০,০০০ বছরেরও বেশি। এইভাবে ভারত বিষুবরেখার উত্তরে ৬°৪৪' ও ৩৫°৩০' উত্তর অক্ষাংশ[৭২] ও ৬৮°৭' ও ৯৭°২৫' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।[৭৩]
ভারতীয় তটরেখা ৭,৫১৭ কিলোমিটার (৪,৬৭১ মাইল) দীর্ঘ। এর মধ্যে ৫,৪২৩ কিলোমিটার (৩,৩৭০ মাইল) ভারতীয় উপদ্বীপের এবং ২,০৯৪ কিলোমিটার (১,৩০১ মাইল) আন্দামান, নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপের অন্তর্গত।[৮] ভারতীয় নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অনুসারে মূল অঞ্চলের তটভূমি ৪৩% বালুকাময় সৈকত, ১১% পাথুরে তটভূমি ও ভৃগু (উঁচু খাড়া পাড় বা ক্লিফ), ৪৬% জলাজমিপূর্ণ তটভূমি দ্বারা গঠিত।[৮]
হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদনদীগুলির মধ্যে প্রধান গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র। উভয়েই বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।[৭৪] গঙ্গার প্রধান উপনদীগুলি হল যমুনা ও কোশী নদী। কোশী নদীতে নাব্যতা অত্যন্ত কম থাকায় প্রতি বছর ভয়াল বন্যা দেখা দেয়। উপদ্বীপের প্রধান নদীগুলি হল গোদাবরী, মহানদী, কৃষ্ণা, ও কাবেরী। এই নদীগুলির খাত অত্যন্ত নাব্য হওয়ায় বন্যা কম হয়ে থাকে। এই নদীগুলিও বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।[৭৫] অন্যদিকে নর্মদা ও তাপ্তি পতিত হয়েছে আরব সাগরে।[৭৬] ভারতীয় তটভূমির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল পশ্চিম ভারতে কচ্ছের রাণ ও পূর্বভারতে সুন্দরবনের পলিগঠিত বদ্বীপ অঞ্চল, যা ভারত ও বাংলাদেশে বিস্তৃত।[৭৭] ভারতে দুটি দ্বীপপুঞ্জ দেখা যায়: ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম তটরেখার নিকটে প্রবালদ্বীপ লাক্ষাদ্বীপ এবং আন্দামান সাগরের আগ্নেয় দ্বীপমালা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।[৭৮]
ভারতের জলবায়ু হিমালয় পর্বতমালা ও থর মরুভূমি – উভয়ের দ্বারাই ভীষণভাবে প্রভাবিত হয়। উভয়েই ভারতে মৌসুমি বায়ু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।[৭৯] হিমালয় মধ্য এশিয়ার শীতল ক্যাটাবেটিক বায়ুপ্রবাহকে প্রতিরোধ করে ভারতীয় উপমহাদেশকে সম অক্ষরেখায় অবস্থিত অনেক অঞ্চলের তুলনায় উষ্ণতর রাখতে সাহায্য করে।[৮০][৮১] থর মরুভূমি গ্রীষ্মকালীন আর্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুকে আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে আগত এই বায়ুপ্রবাহই ভারতে বর্ষার মূল কারণ।[৭৯] ভারতের চারটি প্রধান ঋতু হল গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ও শীত।
[সম্পাদনা] জৈব বৈচিত্র্য
- মূল নিবন্ধ : ভারতের উদ্ভিদ ও ভারতের প্রাণী
ইন্দোমালয় পরিবেশক্ষেত্রে অবস্থিত ভারত জৈববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ১৮টি মহাবৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের একটি এই দেশ পৃথিবীর ৭.৬% স্তন্যপায়ী, ১২.৬% পাখি, ৬.২% সরীসৃপ, ৪.৪% উভচর, ১১.৭% মাছ ও ৬.০% সপুষ্পক উদ্ভিদের বাসস্থান।[৮২] পশ্চিমঘাট পর্বতমালার শোলা বর্ষণারণ্যের মতো ভারতের অনেক পরিবেশ অঞ্চলেই স্বাভাবিক উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায়। ৩৩% ভারতীয় বৃক্ষপ্রজাতি স্বাভাবিক উদ্ভিদশ্রেণীর অন্তর্গত।[৮৩][৮৪] ভারতের প্রধান অরণ্যক্ষেত্রগুলি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিষুবীয় বর্ষণারণ্য থেকে হিমালয়ের চিরহরিৎ অরণ্যক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া পূর্ব ভারতের শাল-অধ্যুষিত, মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের টিক-অধ্যুষিত ও মধ্য দাক্ষিণাত্য ও গাঙ্গেয় সমভূমির বাবুল অধ্যুষিত বনাঞ্চলও উল্লেখনীয়।[৮৫] গ্রামীণ ভারতে নিম গাছ ঔষধি রূপে ব্যবহৃত হয়। পিপল গাছ মহেঞ্জোদাড়োর প্রতীকচিহ্নে দেখা গাছে। এই গাছের তলাতেই গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
বহু ভারতীয় প্রজাতি গন্ডোয়ানায় জাত টেক্সা থেকে উদ্ভুত। উপদ্বীপীয় ভারতের ক্রমসরণ ও ইউরেশীয় ভূমিভাগের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে প্রজাতিগুলির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। যদিও অগ্ন্যুৎপাত ও অন্যান্য জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বিগত ২,০০,০০,০০০ বছরে বহু দেশজ প্রজাতিই অবলুপ্ত হয়ে যায়।[৮৬] এর ঠিক পরেই দুটি প্রাণীভৌগোলিক পথে উত্থানশীল হিমালয়ের দুই পাশ দিয়ে ভারতে স্তন্যপায়ীগণ প্রবেশ করে।[৮৫] প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতের মোট স্তন্যপায়ী ও পাখিদের যথাক্রমে মাত্র ১২.৬% ও ৪.৫% দেশজ; যেখানে দেশের সরীসৃপ ও উভচরদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৫.৮% ও ৫৫.৮%।[৮২] উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রাণী হল নীলগিরি লেঙ্গুর, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বাদামি ও গাঢ় লাল রঙের বেডোমি ব্যাঙ। ভারত ১৭২টি (২.৯%) আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ-গণিত লুপ্তপ্রায় প্রাণীর আবাসস্থল।[৮৭] এর মধ্যে রয়েছে এশীয় সিংহ, বাংলা বাঘ, ভারতীয় শ্বেতপৃষ্ঠ শকুন (বর্তমানে প্রায় অবলুপ্ত)।
বিগত দশকগুলিতে মানুষের অরণ্য আগ্রাসন বন্যপ্রাণী অবলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ১৯৩৫ সালে চালু হওয়া জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত স্থানের ব্যবস্থাটিকে ব্যাপ্ত করা হয়। ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন[৮৮] ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য ব্যাঘ্র প্রকল্প চালু হয়। এর সঙ্গে ১৯৮০ সালে প্রবর্তিত হয় অরণ্য সংরক্ষণ আইন[৮৯] ভারতে অভয়ারণ্যের সংখ্যা পাঁচশোর অধিক। সঙ্গে দেশে ১৩টি জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণও করা হয়।[৯০] এর মধ্যে চারটি বিশ্ব জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণ নেটওয়ার্কের অন্তর্গত। রামসর কনভেনশন অনুসারে ভারতে পঁচিশটি জলাভূমি আছে; যার একটি কলকাতা মহানগরীর পূর্বভাগে অবস্থিত।[৯১]
[সম্পাদনা] অর্থনীতি
- মূল নিবন্ধ : ভারতের অর্থনীতি
আরও দেখুন: ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস ও ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন
১৯৫০-এর দশক থেকে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত ভারত সমাজতান্ত্রিক-ধাঁচের অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করে চলে। স্বাধীনতা-উত্তর যুগের অধিকাংশ সময় জুড়ে ভারতে যে আধা-যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল, তাতে বেসরকারি উদ্যোগ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের উপর কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ আরোপিত থাকত। ১৯৯১ সালে আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্রমে ভারত তার বাজার উন্মুক্ত করে দেয়। বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উপর সরকারি কর্তৃত্ব শিথিল করা হয়।[৩০] মার্চ ১৯৯১ সালে ৫.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় ৪ জুলাই, ২০০৮ তারিখে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।[৯২] ঘাটতি কমে আসে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেটগুলিতে।[৯৩] যদিও সরকারি মালিকানাধীন সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণ এবং কোনও কোনও সরকারি ক্ষেত্রকে বেসরকারি ও বৈদেশিক অংশীদারদের নিকট মুক্ত করে দেওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়।[৯৪][৯৫] ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি মার্কিন ডলারের বিনিময়-হার অনুযায়ী ১.০৮৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।[৯৬] ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) অনুসারে ভারত ৪.৭২৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারসহ পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম জিডিপি। ভারতের মাথাপিছু আয় (নামমাত্র) ৯৭৭ মার্কিন ডলার (বিশ্বে ১২৮তম), কিন্তু এর ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) ২৭০০ মার্কিন ডলার (বিশ্বে ১১৮তম)।
বিগত দুই দশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থব্যবস্থা ভারতের গড় বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৭%।[৯৭] ৫১৬.৩ মিলিয়ন জনসংখ্যাবিশিষ্ট ভারত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমশক্তি। এই শক্তির ৬০% নিয়োজিত কৃষিক্ষেত্র ও কৃষিসংক্রান্ত শিল্পগুলিতে, ২৮% পরিষেবা ও পরিষেবাসংক্রান্ত শিল্পে এবং ১২% নিযুক্ত শিল্পে।[২৮] প্রধান কৃষিজ ফসলগুলি হল ধান, গম, তৈলবীজ, তুলা, পাট, চা, আখ ও আলু। ভারতের ২৮% জিডিপির উৎস কৃষিক্ষেত্র এবং ৫৪% ও ১৮% জিডিপি আয় হয় যথাক্রমে পরিষেবা ও শিল্পক্ষেত্র থেকে। প্রধান শিল্পগুলি হল অটোমোবাইল, সিমেন্ট, রাসায়নিক, বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, যন্ত্রশিল্প, খনি, পেট্রোলিয়াম, ভেষজ, ইস্পাত, পরিবহণ উপকরণ ও বস্ত্রশিল্প। ভারতের দ্রুত আর্থিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শক্তির চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে, ভারত পেট্রোপণ্যের ষষ্ঠ বৃহত্তম ও কয়লার তৃতীয় বৃহত্তম ভোক্তা।[৯৮]
বিগত দুই দশকে ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ সত্ত্বেও আর্থ-সামাজিক গোষ্ঠী, ভৌগোলিক অঞ্চল এবং গ্রাম ও শহরভেদে এর অসম বণ্টণ দেখা যায়।[৯৯] ভারতে আর্থিক বৈষম্য অপেক্ষাকৃত কমই (জিনি সহগ অনুসারে ২০০৪ সালে ৩৬.৮)।[৫] এই হার অবশ্য পরে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সম্পদ বণ্টনেও যথেষ্ট বৈষম্য চোখে পড়ে। ১০% উচ্চ আয়যুক্ত মানুষ ৩৩% আয় উপার্জন করে থাকেন।[১০০] উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রগতি সত্ত্বেও দেশের এক-চতুর্থাংশ মানুষ সরকার-নির্ধারিত দারিদ্যসীমার নিচে অবস্থান করছেন, যাঁদের দৈনিক আয় ০.৪০ মার্কিন ডলার। ২০০৪-২০০৫ সালে ভারতের ২৭.৫% মানুষ দারিদ্যসীমার নিচে অবস্থানকারী।[১১]
সাম্প্রতিককালে, ভারতের বহুসংখ্যক শিক্ষিত ইংরেজি-পটু প্রশিক্ষিত পেশাদারগণ বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা ও মেডিক্যাল ট্যুরিজমে আউটসোর্সিং-এর কাজে নিযুক্ত হয়েছেন।[১০১] বর্তমানে ভারত সফটওয়্যার ও অর্থসংক্রান্ত, গবেষণাসংক্রান্ত ও প্রকৌশলগত পরিষেবার এক বৃহৎ রপ্তানিকারক। ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদগুলি হল ফসলি জমি, বক্সাইট, ক্রোমাইট, কয়লা, হিরে, আকরিক লৌহ, চুনাপাথর, ম্যাঙ্গানিজ, অভ্র, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও আকরিক টাইটানিয়াম।[৫১]
২০০৭ সালে রপ্তানি ও আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[১০২] বস্ত্র, রত্ন, ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্যাদি ও সফটওয়্যার ভারতের প্রধান রপ্তানিদ্রব্য এবং অপরিশোধিত তেল, যন্ত্রপাতি, সার ও রাসায়নিক দ্রব্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। ভারতের প্রধানতম বাণিজ্য সহযোগী হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সদর দপ্তর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী নামে খ্যাত মুম্বাই মহানগরীতে অবস্থিত।
[সম্পাদনা] জনতত্ত্ব
- মূল নিবন্ধ : ভারতের জনতত্ত্ব
- আরও দেখুন: ভারতের ধর্ম, ভারতের ভাষা, দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠী
| ভারতে ধর্ম[১০৩] | ||||
|---|---|---|---|---|
| ধর্ম | শতাংশ | |||
| হিন্দুধর্ম | ৮০.৫% | |||
| ইসলাম | ১৩.৪% | |||
| খ্রিষ্টধর্ম | ২.৩% | |||
| শিখধর্ম | ১.৯% | |||
| বৌদ্ধধর্ম | ০.৮% | |||
| জৈনধর্ম | ০.৪% | |||
| অন্যান্য | ০.৭% | |||
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র। এদেশের জনসংখ্যা আনুমানিক একশো তেরো কোটি।[২৮] ৭০% ভারতবাসী গ্রামাঞ্চলে বাস করেন। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলিতে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতে শহরাঞ্চলীয় জনসংখ্যা বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের বৃহত্তম মহানগরগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মুম্বাই, নয়াদিল্লি, বেঙ্গালুরু (পূর্বনাম ব্যাঙ্গালোর), কলকাতা, হায়দ্রাবাদ, আহমদাবাদ ইত্যাদি।[৫১]
আফ্রিকা মহাদেশের পরেই ভারত সংস্কৃতি, ভাষা ও জাতিগতভাবে বিশ্বে সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল।[৫১] ভারতের দুটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠী হল ইন্দো-আর্য (মোট জনসংখ্যার ৭৪%) ও দ্রাবিড় (মোট জনসংখ্যার ২৪%)। অপরাপর ভাষাগোষ্ঠীগুলি হল অস্ট্রো-এশিয়াটিক ও টিবেটো-বার্মান ভাষাগোষ্ঠী। কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক ভাষা হিন্দি [১০৪] ভারতের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীয় ভাষা।[১০৫] “সহকারী দাপ্তরিক ভাষা” ইংরেজি প্রশাসন ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত।[১০৬] শিক্ষা - মূলত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ইংরেজির প্রাধান্য প্রশ্নাতীত। ভারতের সংবিধান বাংলা-সহ ২১টি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে। এগুলি হয় প্রচলিত, নয় ধ্রুপদী ভাষা। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেয়ে আসা তামিল ও সংস্কৃত[১০৭] এবং কন্নড় ও তেলুগু ভাষাকে ভারত সরকার একটি নিজস্ব যোগ্যতাসূচকবলে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দান করেছেন।[১০৮] ভারতে উপভাষার সংখ্যা ১,৬৫২টি।[১০৯]
৮০ কোটিরও বেশি (৮০.৫%) ভারতবাসী হিন্দু। অন্যান্য ধর্মসম্প্রদায়গুলির মধ্যে রয়েছে মুসলমান (১৩.৪%), খ্রিস্টান (২.৩%), শিখ (১.৯%), বৌদ্ধ (০.৮%), জৈন (০.৪%), ইহুদি, পারসি ও বাহাই ধর্মাবলম্বী মানুষ।[১১০]উল্লেখ্য, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা সমগ্র বিশ্বের দেশ নিরিখে তৃতীয় বৃহত্তম এবং অ-মুসলমান প্রধান দেশগুলিতে বৃহত্তম। দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা ৮.১%।[১১১]
ভারতে সাক্ষরতার হার ৬৪.৮% (৫৩.৭% মহিলা ও ৭৫.৩% পুরুষ)।[২৮] সাক্ষরতার হার সর্বাধিক কেরল রাজ্যে (৯১%);[১১২] সর্বনিম্ন বিহারে (৪৭%)।[১১৩] জাতীয় স্তরে লিঙ্গানুপাত প্রতি হাজার পুরুষে ৯৪৪ জন মহিলা। গড় মধ্যবয়স ২৪.৯। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৮% প্রতি বছরে। বাৎসরিক জন্মহার প্রতি হাজার জনে ২২.১ জন।[২৮]
| স্থান | মহানগর | রাজ্য | জনসংখ্যা | স্থান | মহানগর | রাজ্য | জনসংখ্যা | |||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | মুম্বাই | মহারাষ্ট্র | ১৩,৬৬২,৮৮৫ | ১১ | জয়পুর | রাজস্থান | ২,৯৯৭,১১৪ | |||
| ২ | দিল্লি | দিল্লি | ১১,৯৫৪,২১৭ | ১২ | লখনউ | উত্তর প্রদেশ | ২,৬২১,০৬৩ | |||
| ৩ | কলকাতা | পশ্চিমবঙ্গ | ৭,৭৮০,৫৪৪ | ১৩ | নাগপুর | মহারাষ্ট্র | ২,৩৫৯,৩৩১ | |||
| ৪ | হায়দ্রাবাদ | অন্ধ্রপ্রদেশ | ৬,৮৯৩,৬৪০ | ১৪ | ইন্দোর | মধ্যপ্রদেশ | ১,৭৬৮,৩০৩ | |||
| ৫ | বেঙ্গালুরু | কর্ণাটক | ৫,১৮০,৫৩৩ | ১৫ | পটনা | বিহার | ১,৭৫৩,৫৪৩ | |||
| ৬ | চেন্নাই | তামিলনাড়ু | ৪,৫৬২,৮৪৩ | ১৬ | ভোপাল | মধ্যপ্রদেশ | ১,৭৪২,৩৭৫ | |||
| ৭ | আহমদাবাদ | গুজরাট | ৩,৮৬৭,৩৩৬ | ১৭ | থানে | মহারাষ্ট্র | ১,৬৭৩,৪৬৫ | |||
| ৮ | পুনে | মহারাষ্ট্র | ৩,২৩০,৩৩২ | ১৮ | লুধিয়ানা | পাঞ্জাব | ১,৬৬২,৩২৫ | |||
| ৯ | সুরাট | গুজরাট | ৩,১২৪,২৪৯ | ১৯ | আগ্রা | উত্তর প্রদেশ | ১,৫৯০,০৭৩ | |||
| ১০ | কানপুর | উত্তর প্রদেশ | ৩,০৬৭,৬৬৩ | ২০ | বরোদা | গুজরাট | ১,৪৮৭,৯৫৬ | |||
| ২০০৮ সালের প্রাককলন [১১৪] | ||||||||||
[সম্পাদনা] সংস্কৃতি
- মূল নিবন্ধ : ভারতীয় সংস্কৃতি
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের[১১৬] মধ্যে ঐক্য[১১৭] ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই সংস্কৃতি স্বকীয় ঐতিহ্যরক্ষার পাশাপাশি বৈদেশিক হানাদার ও বহিরাগত জাতিগুলির থেকে ধার করা রীতি, ঐতিহ্য ও ধারণা অঙ্গীভূত করে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে নিজ সংস্কৃতির প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতীয় স্থাপত্য এমন একটি বিষয় যার মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপটি ধরা পড়ে। তাজমহল সহ মুঘল স্থাপত্য ও দ্রাবিড় স্থাপত্য নিদর্শনগুলি ভারত ও বহির্ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সম্মিলন লক্ষিত হয়। ভারতের স্থানীয় স্থাপত্যও দেশের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক স্থাপত্যের বৈচিত্র্য প্রদর্শন করে।
ধ্রুপদী ও আঞ্চলিক সংগীতধারার মিশ্রণে গড়ে উঠেছে ভারতীয় সংগীত জগৎ। শাস্ত্রীয় সংগীত দুটি ধারায় বিভক্ত – উত্তর ভারতের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত এবং দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটিক সংগীত। এই দুই প্রধান সংগীতধারা থেকে আবার উৎসারিত অনেক উপধারা। আঞ্চলিক জনপ্রিয় সংগীতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসংগীত, হিন্দি ফিল্মি গান ও ইন্ডি-পপ ও বাউল ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রকার লোকগান।
ভারতীয় নৃত্যকলাও “লোক” ও “ধ্রুপদী” - এই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত। ভারতের বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলি হল পাঞ্জাবের ভাংড়া, অসমের বিহু নৃত্য, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ছৌ নাচ এবং রাজস্থানের ঘুমার। ভারতের সংগীত নাটক অকাদেমী দেশের আটটি নৃত্যকলাকে ধ্রুপদী ভারতীয় নৃত্য আখ্যা দিয়েছে। এগুলি হল তামিলনাড়ুর ভরতনট্যম, উত্তর প্রদেশের কত্থক, কেরলের কথাকলি ও মোহিনীঅট্টম, অন্ধ্রপ্রদেশের কুচিপুডি, মণিপুরের মণিপুরি, ওড়িশার ওড়িশি এবং অসমের সত্রিয় নাচ।[১১৮] এই নাচগুলি বর্ণনাত্মক ও হিন্দু পুরাণের ঘটনাকেন্দ্রিক।
ভারতীয় নাটকের বৈশিষ্ট্য হল সংগীত, নৃত্য ও তাৎক্ষণিক বা লিখিত সংলাপের যুগলবন্দী।[১২২] এর বিষয়বস্তু কখনও পুরাণ থেকে, কখনও মধ্যযুগীয় প্রেমকথাগুলি থেকে, কখনও আবার একালের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি থেকে গৃহীত হয়। ভারতের লোকনাট্যের মধ্যে গুজরাটের ভাবাই, পশ্চিমবঙ্গের যাত্রা, উত্তর ভারতের নৌটঙ্কি ও রামলীলা, মহারাষ্ট্রের তামাশা, অন্ধ্রপ্রদেশের বুরাকথা, তামিলনাড়ুর তেরুককুত্তু ও কর্ণাটকের যক্ষগণ উল্লেখযোগ্য।[১২৩]
ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প সমগ্র বিশ্বে বৃহত্তম।[১২৪] বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমা প্রস্তুতকারক বলিউড বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সৃষ্টিশীল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।[১২৫] এছাড়াও বাংলা, কন্নড়, মালয়ালম, মারাঠি, তামিল ও তেলুগু ভাষায় জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাণের ঐতিহ্য প্রচলিত আছে।[১২৬]
ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রথমে মৌখিকভাবে ও পরে লিখিত আকারে প্রচলিত হয়।[১২৭] এই রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেদ, ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত, নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ ইত্যাদি সংস্কৃত সাহিত্যের ধ্রুপদী কীর্তিসমূহ[১২৮] এবং তামিলে রচিত সঙ্গম সাহিত্য।[১২৯] আধুনিক কালের ভারতীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হলেন ১৯১৩ সালে দেশের প্রথম সাহিত্যে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এছাড়াও ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনার জন্য ভারতীয় অথবা ভারতীয় বংশোদ্ভুত যেসকল লেখকগণ সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁরা হলেন অমিতাভ ঘোষ, মার্কিন-প্রবাসী বাঙালি সাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ী, নোবেলজয়ী ব্রিটিশ-ভারতীয় সাহিত্যিক ভি এস নাইপল প্রমুখ।
ভারতীয় রন্ধনশৈলীর বিশেষত্ব হল বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালী এবং ভেষজ ও মশলার অভিজাত প্রয়োগ। দেশের প্রধান খাদ্য ভাত (পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে) ও রুটি (মূলত উত্তর ভারতে)।[১৩০]
ভারতে পোষাকের ঐতিহ্য রং, ধরন ও জলবায়ুর মতো বিভিন্ন কারণে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন। থানকাপড়ের পোষাক হিসাবে মহিলাদের ক্ষেত্রে শাড়ি ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ধুতি বা লুঙ্গি বিশেষ জনপ্রিয়। এছাড়া সেলাই-করা পোষাকের মধ্যে মহিলাদের সালোয়ার-কামিজ ও পুরুষদের কুর্তা-পাজামা বা ইউরোপীয়-ধাঁচে ট্রাউজার্স ও শার্ট বিশেষভাবে প্রচলিত।
ভারতে উৎসব প্রকৃতিগতভাবে ধর্মীয়। যদিও অনেক ধর্ম ও জাতি নিরপেক্ষ উৎসবও পালিত হয়ে থাকে। দীপাবলি, গণেশ চতুর্থী, উগাদি, পোঙ্গল, দোলযাত্রা, ওনাম, দশেরা, দুর্গাপূজা, ঈদুল ফিত্র, ঈদুল আজহা, বড়দিন, বুদ্ধজয়ন্তী, বৈশাখী প্রভৃতি কয়েকটি জনপ্রিয় উৎসব।[১৩১] ভারতে তিনটি জাতীয় উৎসব পালিত হয়; এগুলি হল স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস ও গান্ধী জয়ন্তী। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎসবও যথেষ্ট উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। ধর্মাচরণও দৈনন্দিন ও গণজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
ভারতে সনাতন পারিবারিক মূল্য বিশেষ সম্মানের অধিকারী। একাধিক প্রজন্মের মিলনক্ষেত্র পিতৃতান্ত্রিক যৌথ পরিবারগুলিই ভারতীয় পরিবারতন্ত্রের আদর্শ বলে বিবেচিত হয়। যদিও আজকাল নগরাঞ্চলগুলিতে ছোটো ছোটো নিউক্লিয়ার পরিবারের উদ্ভব ঘটতে দেখা যায়।[১৩২] ভারতে বিবাহ আয়োজিত হয় পাত্র ও পাত্রীর সম্মতিক্রমে পিতামাতা ও অন্যান্য গুরুজনস্থানীয় আত্মীয়বর্গের সম্মতিক্রমে। আয়োজিত বিবাহ ভারতে এক অতিমাত্রায় লক্ষিত বিবাহরীতি।[১৩৩] বিবাহবন্ধন সারাজীবনের বন্ধন বলে বিবেচিত হয়।[১৩৩] তাই এদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হারও অত্যন্ত কম।[১৩৪] ভারতে বাল্যবিবাহ প্রথা আজও প্রচলিত। দেশের অর্ধেকেরও বেশি নারী বিবাহের আইনসম্মত বয়স আঠারো বছরে পা রাখার পূর্বেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন।[১৩৫][১৩৬]
[সম্পাদনা] বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অতি প্রাচীন কাল থেকেই ভারত তার নিজস্ব সাক্ষর রেখে এসেছে। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে ভারতীয় ধাতুবিদগণ দিল্লির লৌহস্তম্ভটি নির্মাণ করেন। বেদাঙ্গ জ্যোতিষ গ্রন্থে সেযুগের মহাকাশ পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিকতাবাদ প্রস্তাবনার ১০০০ বছর আগেই ভারতীয় গণিতবিদ তথা জ্যোতির্বিদ আর্যভট্ট প্রাচীন বিশ্বধারণার ভ্রান্ততা প্রমাণ করেছিলেন। প্রাচীন বিশ্বে একমাত্র ভারতেই গড়ে উঠেছিল হিরের খনি। ভারতীয় গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের অন্যতম বলে বিবেচিত হন। ১৯২৮ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন ভারতীয় পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন।
স্বাধীনোত্তর ভারতকে একটি দরিদ্র রাষ্ট্র বলে বিবেচনা করা হলেও, স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশকের মধ্যেই এই দেশ প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার এক মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। সাক্ষরতার হার ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নগরকেন্দ্রের উদ্ভব ভারতের এই প্রযুক্তিগত উত্থানের কারণ। ১৯৭৫ সালে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ আর্যভট্টের উৎক্ষেপন, তার পূর্ববর্তী বছরে স্মাইলিং বুদ্ধ নামে এক ভূগর্ভস্থ পারমানবিক পরীক্ষণ, দূরসংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পারমানবিক চুল্লি ও হোমি জাহাঙ্গির ভাবা পরিচালিত বিএআরসি-এর মতো গবেষণাকেন্দ্রের বিকাশ ভারতের উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক সাফল্য বলে বিবেচিত হয়।[১৩৭] লো-আর্থ, মেরু ও জিওস্টেশনারি কক্ষপথে উপগ্রহ উৎক্ষেপনের এক দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ভারত। এএসএলভি, পিএসএলভি, জিএসএলভি ও সর্বোপরি ইনস্যাট কৃত্রিম উপগ্রহ সিরিজগুলি ভারতের সফল মহাকাশ-কর্মসূচির সাক্ষর। ২০০৮ সালে চাঁদের মাটিতে অবতীর্ণ হয় প্রথম ভারতীয় মহাকাশযান চন্দ্রযান-১। দেশীয় বিমানশক্তির ক্ষেত্রে বৈকল্পিক শক্তি হিসেবে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ও এলসিএ তেজস-এর নাম করা যায়। লারসেন অ্যান্ড টাব্রো, ডিএফএল-এর মতো কোম্পানিগুলির সাহায্যে আবাসন ও পরিকাঠামো শিল্পেও ভারত আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর।
২০০৩ সালে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং তৈরি করে ভারতের প্রথম সুপারকম্পিউটার পরম পদ্ম। এটি পৃথিবীর দ্রুততম সুপারকম্পিউটারগুলির অন্যতম।[১৩৮] ১৯৯০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় এক অগ্রণী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে বিশ্বের মঞ্চে উপস্থাপিত করে। বর্তমানে আই বি এম, মাইক্রোসফট, সিসকো সিস্টেমস, ইনফোসিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস, উইপ্রো ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলি ভারতের বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই প্রভৃতি শহরে তাদের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেছে।
[সম্পাদনা] খেলাধূলা
- মূল নিবন্ধ : ভারতের খেলাধূলা
ভারতের সরকারি জাতীয় খেলা ফিল্ড হকি। ভারতে এই খেলা পরিচালনা করেন ইন্ডিয়ান হকি ফেডারেশন। ভারতীয় হকি দল ১৯৭৫ সালের পুরুষদের হকি বিশ্বকাপ ও একাধিক অলিম্পিক মেডেল বিজয়ী। যদিও ভারতে সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি-২০ বিজয়ী। ভারতে ক্রিকেট পরিচালিত হয় বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) কর্তৃক। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রনজি ট্রফি, দলীপ ট্রফি, দেওধর ট্রফি, ইরানি ট্রফি ও চ্যালেঞ্জার সিরিজ। ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দেশে প্রভূত জনপ্রিয়তা ও নানাবিধ বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী।
ভারতীয় দলের ডেভিস কাপ বিজয়ের পর থেকে ভারতে টেনিসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ফুটবল পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত, গোয়া ও কেরলে বেশ জনপ্রিয়।[১৩৯] ভারত জাতীয় ফুটবল দল বহুবার সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কাপ জিতেছে। ভারত ১৯৫১ ও ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমস আয়োজন করেছিল। এছাড়া ১৯৮৭ ও ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ ছিল; ২০১১ সালেও ভারত ক্রিকেট বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ। দাবা খেলার উদ্ভব হয়েছিল ভারতে। দেশে গ্রান্ডমাস্টার দাবাড়ুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ এটিও ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা।[১৪০] এছাড়া বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলা, যেমন, কাবাডি, খো খো, গুলি ডান্ডাও দেশজুড়ে খেলা হয়ে থাকে। ভারতে প্রাচীন যোগব্যায়াম এবং বিভিন্ন ভারতীয় মার্শাল আর্ট, কালারিপ্পায়াত্তু, বার্মা কলাই ইত্যাদি আজও জনপ্রিয়। ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক ক্রীড়া পুরস্কার রাজীব গান্ধী খেলরত্ন ও অর্জুন পুরস্কার এবং কোচিং-এর ক্ষেত্রে দ্রোণাচার্য পুরস্কার।
[সম্পাদনা] শ্রাব্য
|
|
|
||||
| ফাইলটি শুনতে অসুবিধা হচ্ছে? ? দেখুন media help. | |||||
|
|
|
||||
| ফাইলটি শুনতে অসুবিধা হচ্ছে? ? দেখুন media help. | |||||
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
সংজ্ঞা, উইকি-অভিধান হতে
পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
উক্তি, উইকিউক্তি হতে
রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে
- ইতিহাস
- Brown, Judith M. (1994)। Modern India: The Origins of an Asian Democracy। Oxford and New York, Oxford University Press প্রকাশিত। xiii, 474। ISBN 0198731132।
- Kulke, Hermann; Dietmar Rothermund (2004)। A History of India; 4th edition। Routledge প্রকাশিত। xii, 448। ISBN 0415329205।
- Metcalf, Barbara; Thomas R. Metcalf (2006)। A Concise History of Modern India (Cambridge Concise Histories)। Cambridge and New York, Cambridge University Press প্রকাশিত। xxxiii, 372। ISBN 0521682258।
- Spear, Percival (1990)। A History of India। New Delhi and London, Penguin Books প্রকাশিত। 298। ISBN 0140138366।
- Stein, Burton (2001)। A History of India। New Delhi and Oxford, Oxford University Press প্রকাশিত। xiv, 432। ISBN 0195654463।
- Thapar, Romila (1990)। A History of India। New Delhi and London, Penguin Books প্রকাশিত। 384। ISBN 0140138358।
- Wolpert, Stanley (2003)। A New History of India। Oxford and New York, Oxford University Press প্রকাশিত। 544। ISBN 0195166787।
- ভূগোল
- Dikshit, K.R.; Joseph E. Schwartzberg (2007)। "India: The Land", Encyclopædia Britannica 1–29।
- Government of India (2007)। India Yearbook 2007। Publications Division, Ministry of Information & Broadcasting প্রকাশিত।। ISBN 81-230-1423-6।
- Heitzman, J.; R.L. Worden (1996)। India: A Country Study। Library of Congress (Area Handbook Series) প্রকাশিত।। ISBN 0-8444-0833-6।
- Posey, C.A (1994)। The Living Earth Book of Wind and Weather। Reader's Digest Association প্রকাশিত।। ISBN 0-8957-7625-1।
- উদ্ভিদ ও প্রাণী
- Ali, Salim & S. Dillon Ripley (1995), A Pictorial Guide to the Birds of the Indian Subcontinent, Mumbai: Bombay Natural History Society and Oxford University Press. Pp. 183, 106 colour plates by John Henry Dick, ISBN 0195637321
- Blatter, E. & Walter S. Millard (1997), Some Beautiful Indian Trees, Mumbai: Bombay Natural History Society and Oxford University Press. Pp. xvii, 165, 30 colour plates, ISBN 019562162X
- Israel, Samuel & Toby Sinclair (editors) (2001), Indian Wildlife, Discovery Channel and APA Publications., ISBN 9812345558
- Prater, S. H. (1971), The book of Indian Animals, Mumbai: Bombay Natural History Society and Oxford University Press. Pp. xxiii, 324, 28 colour plates by Paul Barruel., ISBN 0195621697.
- Rangarajan, Mahesh (editor) (1999), Oxford Anthology of Indian Wildlife: Volume 1, Hunting and Shooting, New Delhi: Oxford University Press. Pp. xi, 439, ISBN 0195645928
- Rangarajan, Mahesh (editor) (1999), Oxford Anthology of Indian Wildlife: Volume 2, Watching and Conserving, New Delhi: Oxford University Press. Pp. xi, 303, ISBN 0195645936
- Tritsch, Mark F. (2001), Wildlife of India, London: Harper Collins Publishers. Pp. 192, ISBN 0007110626
- সংস্কৃতি
- Dissanayake, Wimal K. & Moti Gokulsing (2004), Indian Popular Cinema: A Narrative of Cultural Change, Trentham Books, Pp. 161, ISBN 1858563291 ., <http://books.google.com/books?id=_plssuFIar8C&dq>
- Johnson, W. J. (translator and editor) (1998), The Sauptikaparvan of the Mahabharata: The Massacre at Night, Oxford and New York: Oxford University Press (Oxford World's Classics). Pp. 192, ISBN 0192823618., <http://www.oup.com/uk/catalogue/?ci=9780192823618>
- Kalidasa & W. J. Johnson (editor) (2001), The Recognition of Śakuntalā: A Play in Seven Acts, Oxford and New York: Oxford University Press (Oxford World's Classics). Pp. 192, ISBN 0192839114., <http://www.oup.com/uk/catalogue/?ci=9780192839114>
- Karanth, K. Shivarama (1997), Yakṣagāna, (Forward by H. Y. Sharada Prasad). Abhinav Publications. Pp. 252, ISBN 8170173574.
- Kiple, Kenneth F. & Kriemhild Coneè Ornelas, সম্পাদিত s। (2000), The Cambridge World History of Food, Cambridge: Cambridge University Press, ISBN 0521402166
- Lal, Ananda (1998), Oxford Companion to Indian Theatre, Oxford and New York: Oxford University Press. Pp. 600, ISBN 0195644468, <http://www.amazon.com/Oxford-Companion-Indian-Theatre/dp/0195644468/>
- MacDonell, Arthur Anthony (2004), A History of Sanskrit Literature, Kessinger Publishing, ISBN 1417906197 .
- Majumdar, Boria & Kausik Bandyopadhyay (2006), A Social History Of Indian Football: Striving To Score, Routledge, ISBN 0415348358
- Massey, Reginald (2006), India's Dances, Abhinav Publications, ISBN 8170174341
- Ramanujan, A. K. (1985), Poems of Love and War: From the Eight Anthologies and the Ten Long Poems of Classical Tamil, New York: Columbia University Press. Pp. 329, ISBN 0231051077, <http://books.google.com/books?id=nIybE0HRvdQC&dq>
- Rajadhyaksha, Ashish & Paul Willemen (editors) (1999), Encyclopedia of Indian Cinema, 2nd revised edition, University of California Press and British Film Institute, Pp. 652, ISBN 0851706696 ., <http://www.ucpress.edu/books/bfi/pages/PROD0008.html>
- Vilanilam, John V. (2005), Mass Communication in India: A Sociological Perspective, Sage Publications, ISBN 0761933727
[সম্পাদনা] পাদটীকা
- ↑ State Emblem -inscription (HTML)। National Informatics Centre (NIC)। 2007-06-17 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ National Song - Know India portal। National Informatics Centre(NIC) (2007)। 2007-08-30 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ CONSTITUENT ASSEMBLY OF INDIA — VOLUME XII। Constituent Assembly of India: Debates। parliamentofindia.nic.in, National Informatics Centre (1950-01-24)। 2007-06-29 তারিখে সংগৃহীত। “The composition consisting of the words and music known as Jana Gana Mana is the National Anthem of India, subject to such alterations in the words as the Government may authorise as occasion arises; and the song Vande Mataram, which has played a historic part in the struggle for Indian freedom, shall be honoured equally with Jana Gana Mana and shall have equal status with it.”
- ↑ Department of Economic and Social Affairs Population Division (2009). "World Population Prospects, Table A.1" (.PDF). 2008 revision. United Nations. Retrieved on 2009-03-12.
- ↑ ৫.০ ৫.১ Field Listing — Distribution of family income — Gini index। The World Factbook। CIA (15 May 2008)। 2008-06-06 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৬.০ ৬.১ Human Development Report 2009. Human development index trends: Table G। The United Nations। 2009-10-05 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Footnote: The Government of India also considers Afghanistan to be a bordering country. This is because it considers the entire state of Jammu and Kashmir to be a part of India including the portion bordering Afghanistan. A ceasefire sponsored by the United Nations in 1948 froze the positions of Indian and Pakistani held territory. As a consequence, the region bordering Afghanistan is in Pakistan-administered territory.
- ↑ ৮.০ ৮.১ ৮.২ Kumar et al. 2006, p. 531
- ↑ Oldenburg, Phillip. 2007. "India: History," Microsoft® Encarta® Online Encyclopedia 2007© 1997-2007 Microsoft Corporation.
- ↑ ১০.০ ১০.১ India is the second fastest growing economy। Economic Research Service (ERS)। United States Department of Agriculture (USDA)। 2007-08-05 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ১১.০ ১১.১ Poverty estimates for 2004-05, Planning commission, Government of India, March 2007. Accessed: August 25, 2007
- ↑ "India", Oxford English Dictionary, second edition, 2100a.d. Oxford University Press
- ↑ Basham, A. L. (2000)। The Wonder That Was India। South Asia Books প্রকাশিত।। ISBN 0283992573।
- ↑ Official name of the Union। Courts Informatics Division, National Informatics Centre, Ministry of Comm. and Information Tech। 2007-08-08 তারিখে সংগৃহীত। “Name and territory of the Union- India, that is Bharat, shall be a Union of States.”
- ↑ Hindustan। Encyclopædia Britannica, Inc. (2007)। 2007-06-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Javid, Ali and Javeed, Tabassum. World Heritage Monuments and Related Edifices in India. 2008, page 19
- ↑ http://originsnet.org/bimb1gallery/index.htm
- ↑ Introduction to the Ancient Indus Valley। Harappa (1996)। 2007-06-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Krishna Reddy (2003)। Indian History। New Delhi, Tata McGraw Hill প্রকাশিত। A107। ISBN 0070483698।
- ↑ Jona Lendering। Maurya dynasty। 2007-06-17 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Gupta period has been described as the Golden Age of Indian history। National Informatics Centre (NIC)। 2007-10-03 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Heitzman, James. (2007). "Gupta Dynasty," Microsoft® Encarta® Online Encyclopedia 2007
- ↑ The Mughal Legacy।
- ↑ The Mughal World : Life in India's Last Golden Age।
- ↑ History : Indian Freedom Struggle (1857-1947)। National Informatics Centre (NIC)। 2007-10-03 তারিখে সংগৃহীত। “And by 1856, the British conquest and its authority were firmly established.”
- ↑ (1997) Concise Encyclopedia। Dorling Kindersley Limited প্রকাশিত। 455। ISBN 0-7513-5911-4।
- ↑ (1997) Concise Encyclopedia। Dorling Kindersley Limited প্রকাশিত। 322। ISBN 0-7513-5911-4।
- ↑ ২৮.০ ২৮.১ ২৮.২ ২৮.৩ ২৮.৪ ২৮.৫ CIA Factbook: India। CIA Factbook। 2007-03-10 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ২৯.০ ২৯.১ India Profile। Nuclear Threat Initiative (NTI) (2003)। 2007-06-20 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৩০.০ ৩০.১ Montek Singh Ahluwalia. "Economic Reforms in India since 1991: Has Gradualism Worked?" (MS Word). Journal of Economic Perspectives. Retrieved on 2007-06-13.
- ↑ Pylee, Moolamattom Varkey (2004)। "The Longest Constitutional Document", Constitutional Government in India; 2nd edition; S. Chand প্রকাশিত। 4। ISBN 8121922038। Retrieved on 2007-10-31।
- ↑ Dutt, Sagarika (1998); “Identities and the Indian state: An overview”। Third World Quarterly 19 (3): পৃ. 411–434। ডিওআই:10.1080/01436599814325। at p. 421
- ↑ Wheare, K.C. (1964)। Federal Government; 4th edition; Oxford University Press প্রকাশিত। 28।
- ↑ Echeverri-Gent, John (2002), “Politics in India's Decentred Polity”, in Ayres, Alyssa & Philip Oldenburg, Quickening the Pace of Change, London: M.E. Sharpe, ISBN 076560812X at pp. 19-20; Sinha, Aseema (2004), “The Changing Political Economy of Federalism in India”, India Review 3 (1), ডিওআই:10.1080/14736480490443085 at pp 25-33
- ↑ National Symbols of India। High Commission of India, London। 2007-09-03 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ জাতীয় নদী গঙ্গা
- ↑ ৩৭.০ ৩৭.১ ৩৭.২ Sharma, Ram (1950); “Cabinet Government in India”। Parliamentary Affairs 4 (1): পৃ. 116–126।
- ↑ Gledhill, Alan (1964)। The Republic of India: The Development of Its Laws and Constitution; 2nd edition; Stevens and Sons প্রকাশিত। 112।
- ↑ Tenure of President's office। The Constitution Of India। Constitution Society। 2007-09-02 তারিখে সংগৃহীত। “The President shall hold office for a term of five years from the date on which he enters upon his office”
- ↑ Election of President। The Constitution Of India। Constitution Society। 2007-09-02 তারিখে সংগৃহীত। “The President shall be elected by the members of an electoral college”
- ↑ Appointment of Prime Minister and Council of Ministers। The Constitution Of India। Constitution Society। 2007-09-02 তারিখে সংগৃহীত। “The Prime Minister shall be appointed by the President and the other Ministers shall be appointed by the President on the advice of the Prime Minister.”
- ↑ Matthew, K.M.। Manorama Yearbook 2003। Malayala Manorama প্রকাশিত। pg 524। ISBN 8190046187।
- ↑ Gledhill, Alan (1964)। The Republic of India: The Development of Its Laws and Constitution; 2nd edition; Stevens and Sons প্রকাশিত। 127।
- ↑ ৪৪.০ ৪৪.১ ৪৪.২ ৪৪.৩ Our Parliament A brief description of the Indian Parliament। www.parliamentofindia.gov.in। 2007-06-16 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৪৫.০ ৪৫.১ Neuborne, Burt (2003); “The Supreme Court of India”। International Journal of Constitutional Law 1 (1): পৃ. 476–510। ডিওআই:10.1093/icon/1.3.476। at p. 478.
- ↑ Supreme Court of India। Jurisdiction of the Supreme Court। National Informatics Centre। 2007-10-21 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Sripati, Vuayashri (1998); “Toward Fifty Years of Constitutionalism and Fundamental Rights in India: Looking Back to See Ahead (1950-2000)”। American University International Law Review 14 (2): পৃ. 413–496। at pp. 423-424
- ↑ Pylee, Moolamattom Varkey (2004)। "The Union Judiciary: The Supreme Court", Constitutional Government in India; 2nd edition; S. Chand প্রকাশিত। 314। ISBN 8121922038। Retrieved on 2007-11-02।
- ↑ Country profile: India। BBC (9 January 2007)। 2007-03-21 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ World's Largest Democracy to Reach One Billion Persons on Independence Day। United Nations Department of Economic and Social Affairs। United Nations: Population Division। 2007-12-06 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৫১.০ ৫১.১ ৫১.২ ৫১.৩ Country Profile: India (PDF)। Library of Congress - Federal Research Division (December 2004)। 2007-06-24 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Bhambhri, Chandra Prakash (1992)। Politics in India 1991-92। Shipra Publications প্রকাশিত। 118, 143। ISBN 978-8185402178।
- ↑ Narasimha Rao passes away। The Hindu। 2008-11-02 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Patrick Dunleavy, Rekha Diwakar, Christopher Dunleavy। The effective space of party competition (PDF)। London School of Economics and Political Science। 2007-10-01 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Hermann, Kulke; Dietmar Rothermund (2004)। A History of India। Routledge প্রকাশিত। 384। ISBN 978-0415329194।
- ↑ Significance of the Contribution of India to the Struggle Against Apartheid1 by M. Moolla।
- ↑ History of Non Aligned Movement। 2007-08-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Martin Gilbert (2002)। A History of the Twentieth Century 486–87। ISBN 006050594X। Retrieved on 2008-11-03।
- ↑ India's Expanding Role in Asia: Adapting to Rising Power Status।
- ↑ India's negotiation positions at the WTO (PDF)।
- ↑ Largest Navy War Game
- ↑ Brig. Vijai K. Nair (Indian Army)। No More Ambiguity: India's Nuclear Policy (PDF)। 2007-06-07 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Times of India, India, US seal 123 Agreement, Times of India, October 11, 2008.
- ↑ States Reorganisation Act, 1956। Constitution of India। Commonwealth Legal Information Institute। 2007-10-31 তারিখে সংগৃহীত।; See also: Political integration of India
- ↑ Districts of India। Government of India। National Informatics Centre (NIC)। 2007-11-25 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৬৬.০ ৬৬.১ ৬৬.২ Ali, Jason R., Jonathan C. Aitchison (2005); “Greater India”। Earth-Science Reviews 72 (3-4): পৃ. 170–173। ডিওআই:10.1016/j.earscirev.2005.07.005।
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 7
- ↑ Prakash, B., Sudhir Kumar, M. Someshwar Rao, S. C. Giri (2000); “Holocene tectonic movements and stress field in the western Gangetic plains” (PDF)। Current Science 79 (4): পৃ. 438–449।
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 11
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 8
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, pp. 9-10
- ↑ India's northernmost point is the region of the disputed Siachen Glacier in Jammu and Kashmir; however, the Government of India regards the entire region of the former princely state of Jammu and Kashmir (including the Northern Areas currently administered by Pakistan) to be its territory, and therefore assigns the longitude 37° 6' to its northernmost point.
- ↑ (Government of India 2007, p. 1)
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 15
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 16
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 17
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 12
- ↑ Dikshit & Schwartzberg 2007, p. 13
- ↑ ৭৯.০ ৭৯.১ Chang 1967, pp. 391-394
- ↑ Posey 1994, p. 118
- ↑ Wolpert 2003, p. 4
- ↑ ৮২.০ ৮২.১ Dr S.K.Puri। Biodiversity Profile of India (Text Only)। 2007-06-20 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Botanical Survey of India. 1983. Flora and Vegetation of India — An Outline. Botanical Survey of India, Howrah. p. 24.
- ↑ Valmik Thapar, Land of the Tiger: A Natural History of the Indian Subcontinent, 1997. ISBN 978-0520214705
- ↑ ৮৫.০ ৮৫.১ Tritsch, M.E. 2001. Wildlife of India Harper Collins, London. 192 pages. ISBN 0-00-711062-6
- ↑ K. Praveen Karanth. (2006). Out-of-India Gondwanan origin of some tropical Asian biota
- ↑ Groombridge, B. (ed). 1993. The 1994 IUCN Red List of Threatened Animals IUCN, Gland, Switzerland and Cambridge, UK. lvi + 286 pp.
- ↑ The Wildlife Protection Act, 1972। Helplinelaw.com (2000)। 2007-06-16 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The Forest Conservation Act, 1980। AdvocateKhoj.com (2007)। 2007-11-29 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Biosphere Reserves of India। 2007-06-17 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The List of Wetlands of International Importance (PDF) p. 18। The Secretariat of the Convention of on Wetlands (June 4, 2007)। 2007-06-20 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Weekly Statistical Supplement। Reserve Bank of India (June 1, 2007)। 2007-06-11 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ "Revenue surge boosts fiscal health"। Business Standard। 2006-12-28 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Mohan, T.T.Ram. "Privatization in India: Issues and Evidence" (PDF). Indian Institute of Management, Ahmedabad. Retrieved on 2007-08-03.
- ↑ Quarterly estimates of gross domestic product, 2006-07। Government of India। 2007-05-31 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ "India twelfth wealthiest nation in 2005: World Bank"। The Economic Times। 2006-07-08 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The Puzzle of India's Growth (2006-06-26)। 2008-09-15 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ EIA Country Profiles: India (2008-06-16)। 2008-06-25 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ "Inclusive Growth and Service delivery: Building on India’s Success" (PDF)। World Bank (2006)। 2007-04-28 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ "In Pictures – Middle Class, or Upper Class? ". India Together. Civil Society Information Exchange. August 2003
- ↑ Mudur, Ganapati (June 2004); “Hospitals in India woo foreign patients”। British Medical Journal 328: পৃ. 1338। ডিওআই:10.1136/bmj.328.7452.1338।
- ↑ G. Srinivasan. “Rise in Indian services exports less than global average: WTO”, The Hindu Business Line, 2008-04-18। 2008-11-16 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Religious Composition
- ↑ Mallikarjun, B. (Nov., 2004), Fifty Years of Language Planning for Modern Hindi–The Official Language of India, Language in India, Volume 4, Number 11. ISSN 1930-2940.
- ↑ Languages by number of speakers according to 1991 census। Central Institute of Indian Languages। August 2, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Notification No. 2/8/60-O.L. (Ministry of Home Affairs), dated 27 April, 1960। July 4, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Seaver, Sanford B. (1998), The Dravidian Languages, Taylor and Francis. Pp. 436, ISBN 0415100232, <http://books.google.com/books?id=CF5Qo4NDE64C&printsec=frontcover#PPA6,M1>. Quote: "Tamil ... It is therefore one of India's two classical languages, alongside the more widely known Indo-Aryan language Sanskrit." 2. Ramanujan, A. K. (1985), Poems of Love and War: From the Eight Anthologies and the Ten Long Poems of Classical Tamil, New York: Columbia University Press. Pp. 329, ISBN 0231051077, <http://books.google.com/books?id=nIybE0HRvdQC&printsec=frontcover&source=gbs_summary_r&cad=0#PPR9,M1> Quote: "Tamil, one of the two classical languages of India, is a Dravidian language spoken today by 50 million Indians, ..."
- ↑ Declaration of Telugu and Kannada as classical languages। Press Information Bureau। Ministry of Tourism and Culture, Government of India। 2008-11-19 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Matthew, K.M. (2006)। Manorama Yearbook 2003। Malayala Manorama প্রকাশিত। pg 524। ISBN 81-89004-07-7।
- ↑ Census of India 2001, Data on Religion। Census of India। November 22, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Tribes: Introduction। National Informatics Centre। Ministry of Tribal Affairs, Government of India। April 12, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Kerala's literacy rate। kerala.gov.in। Government of Kerala। 2007-12-13 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Census Statistics of Bihar: Literacy Rates Literacy rate of Bihar। Government of Bihar। 2007-12-13 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ World Gazetteer online
- ↑ Taj Mahal। World Heritage List। UNESCO World Heritage Centre। September 28, 2007 তারিখে সংগৃহীত। “The World Heritage List includes 851 properties forming part of the cultural and natural heritage which the World Heritage Committee considers as having outstanding universal value.”
- ↑ Baidyanath, Saraswati (2006)। "Cultural Pluralism, National Identity and Development", Interface of Cultural Identity Development; 1stEdition xxi+290pp। ISBN 81-246-0054-6। Retrieved on 2007-06-08।
- ↑ Das, N.K. (July 2006); “Cultural Diversity, Religious Syncretism and People of India: An Anthropological Interpretation”। Bangladesh e-Journal of Sociology 3 (2nd)। ISSN 1819-8465। 2007-09-27 তারিখে সংগৃহীত।।
- ↑ 1. "South Asian arts: Techniques and Types of Classical Dance" From: Encyclopædia Britannica Online. 12 Oct. 2007. 2. Sangeet Natak Academi (National Academy of Music, Dance, and Drama, New Delhi, India). 2007. Dance Programmes. 3. Kothari, Sunil. 2007. Sattriya dance of the celibate monks of Assam, India. Royal Holloway College, University of London.
- ↑ Rabindanath Tagore: Asia's First Nobel laureate...। Time Asia। October 3, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The Nobel Prize in Literature 1913। Nobel Prize Winners। Nobel Foundation। October 3, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Massey 2006, p. 186
- ↑ Lal 1998
- ↑ (Karanth 1997, p. 26). Quote: "The Yakṣagāna folk-theatre is no isolated theatrical form in India. We have a number of such theatrical traditions all around Karnataka... In far off Assam we have similar plays going on by the name of Ankia Nat, in neighouring Bengal we have the very popular Jatra plays. Maharashtra has Tamasa. (p. 26)
- ↑ Country profile: India। BBC।
- ↑ Dissanayake & Gokulsing 2004
- ↑ Rajadhyaksha & Willemen (editors) 1999
- ↑ MacDonell 2004, p. 1-40
- ↑ Johnson 1998, MacDonell 2004, p. 1-40, and Kalidasa & Johnson (editor) 2001
- ↑ 1. Encyclopaedia Britannica (2008), "Tamil Literature." Quote: "Apart from literature written in classical (Indo-Aryan) Sanskrit, Tamil is the oldest literature in India. Some inscriptions on stone have been dated to the 3rd century BC, but Tamil literature proper begins around the 1st century AD. Much early poetry was religious or epic; an exception was the secular court poetry written by members of the sangam, or literary academy (see Sangam literature)." 2. Ramanujan 1985, p. ix-x Quote: "These poems are 'classical,' i.e. early, ancient; they are also 'classics,' i.e. works that have stood the test of time, the founding works of a whole tradition. Not to know them is not to know a unique and major poetic achievement of Indian civilization. Early classical Tamil literature (c. 100 BC–AD 250) consists of the Eight Anthologies (Eţţuttokai), the Ten Long Poems (Pattuppāţţu), and a grammar called the Tolkāppiyam or the 'Old Composition.' ... The literature of classical Tamil later came to be known as Cankam (pronounced Sangam) literature. (pp. ix-x)"
- ↑ Delphine, Roger, "The History and Culture of Food in Asia", in Kiple & Kriemhild 2000, p. 1140-1151
- ↑ 18 Popular India Festivals। 2007-12-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Eugene M. Makar (2007)। An American's Guide to Doing Business in India।
- ↑ ১৩৩.০ ১৩৩.১ Medora, Nilufer (2003)। "Mate selection in contemporary India: Love marriages versus arranged marriages", Hamon, Raeann R. and Ingoldsby, Bron B. সম্পাদিত: Mate Selection Across Cultures। SAGE প্রকাশিত। 209–230। ISBN 0761925929।
- ↑ Divorce Rate In India।
- ↑ “Child marriages targeted in India”, BBC News।
- ↑ State of the World’s Children-2009। UNICEF (2009)।
- ↑ Indian Atomic Research Program
- ↑ [Param Padma Supercomputer unvieled]
- ↑ Majumdar & Bandyopadhyay 2006, p. 1-5
- ↑ “Anand crowned World champion”, Rediff, 10-29-2008। 2008-10-29 তারিখে সংগৃহীত।
[সম্পাদনা] গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা] ইংরেজি
- Amrita Basu, Atul Kohli: Community Conflicts and the State in India. Oxford University Press, 2000, ISBN 0-195-65214-2
- Paul R. Brass: The Politics of India Since Independence. Cambridge University Press, 1994, ISBN 0-521-45970-2
- Paul R. Brass: The Production of Hindu-Muslim Violence in Contemporary India. University of Washington Press, 2003, ISBN 0-295-98506-2
- John Keay: India: A History. HarperCollins, London 2000, ISBN 0-006-38784-5
- Subrata K. Mitra, V. B. Singh: Democracy and Social Change in India. Sage, 1999, ISBN 0-7619-9344-4
- Peter Seele: Brains and Gold. Global Transformation Processes and Institutional Change in South Asia. Academia Verlag, 2007, ISBN 978-3-89665-393-2
- Ramesh Chandra Thakur: The Government and Politics of India. MacMillan, 1995, ISBN 0-312-12719-7
- Yves Thoraval: The Cinemas of India (1896–2000). MacMillan, 2000, ISBN 0-333-93410-5
- Voll, Klaus; Beierlein, Dooren: Rising India - Europe´s partner? Berlin, 2006, Weißensee Verlag, ISBN 978-3-89998-098-1
[সম্পাদনা] জার্মান
- Dirk Bronger: Indien. Größte Demokratie der Welt zwischen Kastenwesen und Armut. Justus Perthes Verlag, Gotha 1996, ISBN 3-623-00667-X.
- Dirk Bronger, Johannes Wamser: Indien – China. Vergleich zweier Entwicklungswege. Lit Verlag, 2005, ISBN 3-8258-9156-9.
- Wilfried Huchzermeyer: Die heiligen Schriften Indiens – Geschichte der Sanskrit-Literatur. edition sawitri, Karlsruhe 2003, ISBN 3-931172-22-8.
- Olaf Ihlau: Weltmacht Indien. Die neue Herausforderung des Westens. Siedler Verlag, München 2006, ISBN 3-88680-851-3.
- Hermann Kulke: Indische Geschichte bis 1750. München 2005 (Oldenbourg Grundriss der Geschichte 34), ISBN 3-486-55741-6.
- Hermann Kulke, Dietmar Rothermund: Geschichte Indiens. Von der Induskultur bis heute. Aktual. Sonderaufl., Verlag C. H. Beck, München 2006, ISBN 3-406-54997-7.
- David Ludden: Geschichte Indiens. Magnus-Verlag, Essen 2006, ISBN 3-88400-440-9.
- Michael Mann: Geschichte Indiens. Vom 18. bis zum 21. Jahrhundert. Verlag Ferdinand Schöningh, Paderborn [usw.] 2005 (UTB 2694), ISBN 3-8252-2694-8.
- Maria Mies: Indische Frauen zwischen Unterdrückung und Befreiung. Syndikat, Frankfurt am Main 1986, ISBN 3-434-46085-3.
- Harald Müller: Weltmacht Indien – Wie uns der rasante Aufstieg herausfordert. S. Fischer Verlag GmbH, Frankfurt am Main, Oktober 2006, ISBN 3-596-17371-X.
- Bernd Rosenheim: Die Welt des Buddha. Frühe Stätten buddhistischer Kunst in Indien. Verlag Philipp von Zabern, Mainz 2006.
- Dietmar Rothermund: Indien: Kultur, Geschichte, Politik, Wirtschaft, Umwelt – ein Handbuch. Verlag C. H. Beck, München 1995, ISBN 3-406-39661-5.
- Arundhati Roy: Die Politik der Macht, 2002, ISBN 3442729874
- Michael Schied: Nationalismus und Fundamentalismus in Indien: Der Ayodhya-Konflikt, VDM-Verlag, Saarbrücken 2008, 346 S., ISBN 978-3-639-00541-7
- Friedrich Stang: Indien. Wissenschaftliche Buchgesellschaft, Darmstadt 2002, ISBN 3-534-06210-8.
- Helge Timmerberg: Im Palast der gläsernen Schwäne. Auf Umwegen nach Indien. Rowohlt Taschenbuch-Verlag, 1985, ISBN 3-499-17528-2.
- Helge Timmerberg: Shiva Moon. Eine Reise durch Indien Rowohlt, Berlin 2006, ISBN 3-871-34541-5
- Ilija Trojanow: Gebrauchsanweisung für Indien. 2. Aufl., Piper, München-Zürich 2006, ISBN 3-492-27552-4.
- Johannes Wamser: Standort Indien. Der Subkontinentalstaat als Markt und Investitionsziel ausländischer Unternehmen. Lit Verlag, 2005, ISBN 3-8258-8766-9.
- Dorothee Wenner [u. a.] (Hrsg.): Import/Export. Wege des Kulturtransfers zwischen Indien und Deutschland/Österreich. Parthas Verlag, 2005, ISBN 3-866-01910-6.
- Michael Witzel: Das alte Indien (C. H. Beck Wissen). C. H. Beck Verlag, München 2003.
- Klaus Voll: Globale asiatische Großmacht? Berlin, 2005, Weißensse Verlag, ISBN 978-3-89998-075-2.
[সম্পাদনা] ফরাসি
- Boillot, Jean-Joseph: L'économie de l'Inde, Paris, La Découverte, 2006, ISBN 2-7071-4750-8
- Deliège, Robert: Les castes en Inde aujourd'hui, Paris, Presses Univ. de France, 2005, ISBN 2-13-054034-1
- Gaudart de Soulages, Michel, Randa, Philippe: Les dernières années de l'Inde française, Coulommiers, Dualpha Éd., 2005, ISBN 2-915461-14-7
- Bronkhorst, Johannes: Catégories de langue et catégories de pensée en Inde et en Occident. Paris [u. a.], Harmattan, 2005, ISBN 2-7475-9621-4
- Grimaud, Emmanuel: Bollywood film studio ou comment les films se font à Bombay. Paris, CNRS Éd., 2003
- Grimaud, Emmanuel: La spirale prolifique ou l'histoire du processus cinématographique dans l'Inde contemporaine, CNRS Éd., 2003, ISBN 2-271-06183-0
- Weber, Jacques: Les établissements français en Inde au XIXè siècle, 1816–1914. Paris, Libr. de l'Inde Ed., Aix-en-Provence, 1987, ISBN 2-905455-01-2
- Dupuis, Jacques: L' Inde et ses populations, Bruxelles, Ed. Complexe, 1982, ISBN 2-87027-099-2
- Give, Bernard de: Les rapports de l'Inde et de l'Occident des origines au règne d'Asoka, Paris, Indes Savantes, 2005, ISBN 2-84654-036-5
[সম্পাদনা] বহির্সংযোগ
- Government of India – Official government portal
- India entry at The World Factbook
- India at UCB Libraries GovPubs
- ভারত - উন্মুক্ত নির্দেশিকা প্রকল্প (সাইট প্রস্তাবকরণ)
- Wikimedia Atlas of India
- {{{2}}} ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিট্রাভেল থেকে
- http://www.indianembassy.org/dydemo/indiaprofile/profile.htm
- http://economictimes.indiatimes.com/articleshow/1093864.cms
- http://www.traveldocs.com/in/economy.htm
- http://www.indiainbusiness.nic.in/india-profile/ser-infotech.htm
- http://timesfoundation.indiatimes.com/articleshow/819309.cms
- https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/geos/in.html
- http://www.censusindia.net/results/resultsmain.html
- http://india.eu.org/1963.html
- http://www.indexmundi.com/India/
- http://www.censusindia.net/results/religion_main.htm
- http://indiaimage.nic.in/languages.html
- http://www.indianembassy.org/policy/Foreign_Policy/2004/AR2004.htm
|
|||||
|
|||||||
|
||||||||