ভারতের জাতীয় প্রতীক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের জাতীয় প্রতীক
অশোকের সিংহ শীর্ষক, বেলেপাথরের বিখ্যাত মূল ভাস্কর্য। ২৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সারনাথে অশোকস্তম্ভের উপর নির্মিত এই ভাস্কর্যটি বর্তমানে সারনাথ সংগ্রহালয়ে সংরক্ষিত।

ভারতের জাতীয় প্রতীক সারনাথ অশোক সিংহ শীর্ষকের একটি রূপান্তর।

গৌতম বুদ্ধ যেখানে প্রথম ধর্মপ্রচার করেন এবং প্রথম বৌদ্ধ সংঘ যেখানে স্থাপিত হয়, সেই স্থানটি চিহ্নিত করে রাখার জন্য ভারতসম্রাট মহামতি অশোক একটি সিংহশীর্ষযুক্ত অশোকস্তম্ভ নির্মাণ করান। মূল ভাস্কর্যে দেখা যায়, একটি গোলাকার অ্যাবাকাসের উপর চারটি এশীয় সিংহ পরস্পরের দিকে পিঠ করে বসে আছে; একটি ফ্রিজে হাতি, লম্ফমান ঘোড়া, ষাঁড় ও সিংহের উচ্চ রিলিফ; এগুলি আবার ধর্মচক্র বা অশোকচক্র দ্বারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন। সমগ্র স্থাপত্যটি উলটানো ঘণ্টা আকারবিশিষ্ট একটি পদ্মের উপর স্থাপিত। এই স্থাপত্যটি পালিশকরা একটি একক বেলেপাথর খোদাই করে নির্মিত হয়।

জাতীয় প্রতীকে গৃহীত রূপটিতে চতুর্থ সিংহটি দেখা যায় না (কারণ এটি পিছনে অবস্থিত ও সামনে থেকে দৃষ্টিগোচরে আসে না)। ঘণ্টাকার পদ্মটিও জাতীয় প্রতীকে নেই। সিংহের পায়ের তলায় ফ্রিজটিতে দেখা যায় কেন্দ্রে ধর্মচক্র, ডানদিকে ষাঁড় ও বাঁদিকে লম্ফমান ঘোড়া। বাঁয়ে ও ডানে একদম ধারে অশোকচক্রের দুটি ধার দেখা যায়।[১]

জাতীয় প্রতীকের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হল অ্যাবাকাসের তলায় দেবনাগরী হরফে খোদিত নীতিবাক্যটি: : সত্যমেব জয়তে सत्यमेव जयते (সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী).[১] এটি পবিত্র হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদের একটি অংশ মুণ্ডক উপনিষদ থেকে গৃহীত।[২]

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের জাতীয় প্রতীক গৃহীত হয়। এই দিনই ভারত একটি সাধারণতন্ত্রের মর্যাদা লাভ করেছিল।[৩]

ভারত সরকারের দাপ্তরিক নামাঙ্কপত্রে, ভারতীয় মুদ্রায়, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পাসপোর্টে এবং আরও বহুক্ষেত্রে এই প্রতীক ব্যবহৃত হয়। প্রতীকের অশোকচক্রটি ভারতের জাতীয় পতাকার কেন্দ্রে স্থান পেয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:Coats of arms of Asia টেমপ্লেট:India-gov-mil