ভারতের ইতিহাস
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দক্ষিন এশিয়া ও ভারতের ইতিহাস |
|||||
|---|---|---|---|---|---|
| প্রস্তর যুগ | ৭০,০০০-৩৩০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • মেহেরগড় | • ৭০০০-৩৩০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| হরপ্পা ও মহেঞ্জদর সভ্যতা | ৩৩০০-১৭০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| হরপ্পা সংস্কৃতি | ১৭০০-১৩০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| বৈদিক যুগ | ১৫০০-৫০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| লৌহ যুগ | ১২০০-৩০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • ষোড়শ মহাজনপদ | • ৭০০-৩০০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • মগধ সাম্রাজ্য | • ৫৪৫খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • মৌর্য্য সাম্রাজ্য | • ৩২১-১৮৪খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| মধ্যবর্তী রাজাদের শাসন | ২৫০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • চোল সাম্রাজ্য | • ২৫০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • সাতবাহন সাম্রাজ্য | • ২৩০খ্রীষ্টপূর্ব | ||||
| • কুষাণ সাম্রাজ্য | • ৬০-২৪০ খ্রীষ্টান্দ | ||||
| • গুপ্ত সাম্রাজ্য | • ২৮০-৫৫০ খ্রীষ্টান্দ | ||||
| • পাল সাম্রাজ্য | • ৭৫০-১১৭৪ খ্রীষ্টান্দ | ||||
| • রাষ্ট্রকুট | • ৭৫৩-৯৮২ | ||||
| • সুলতানী আমল | ১২০৬-১৫৯৬ | ||||
| • দিল্লীর সুলতান | • ১২০৬-১৫২৬ | ||||
| • দাক্ষিনাত্যের সুলতান | • ১৪৯০-১৫৯৬ | ||||
| হোসালা সাম্রাজ্য | ১০৪০-১৩৪৬ | ||||
| কাকাতিয়া সাম্রাজ্য | ১০৮৩-১৩২৩ | ||||
| আহমন সাম্রাজ্য | ১২২৮-১৮২৬ | ||||
| বিজয়নগর সাম্রাজ্য | ১৩৩৬-১৬৪৬ | ||||
| মুঘল সাম্রাজ্য | ১৫২৬-১৮৫৮ | ||||
| মারাঠা সাম্রাজ্য | ১৬৭৪-১৮১৮ | ||||
| শিখ রাষ্ট্র | ১৭১৬-১৮৪৯ | ||||
| শিখ সাম্রাজ্য | ১৭৯৯-১৮৪৯ | ||||
| ব্রিটিশ ভারত | ১৮৫৮–১৯৪৭ | ||||
| ভারত ভাগ | ১৯৪৭–বর্তমান | ||||
| জাতীয় ইতিহাস বাংলাদেশ • ভুটান • ভারত মালদ্বীপ • নেপাল • পাকিস্তান • শ্রীলংকা |
|||||
| আঞ্চলিক ইতিহাস আসাম • বেলুচিস্তান • বঙ্গ হিমাচল প্রদেশ • উড়িশ্যা • পাকিস্তানের অঞ্চল সমূহ পাঞ্জাব • দক্ষিণ ভারত • তিব্বত |
|||||
| বিশেষায়িত ইতিহাস টঙ্কন • রাজবংশ • অর্থনীতি ভারতবিদ্যা • ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাস • সাহিত্য • নৌসেনা সেনা • বিঞ্জান ও প্রকৌশল • সময়রেখা |
|||||
|
|
|||||
ভারতের ইতিহাস(ইংরেজি:History of India) সিন্ধু সভ্যতার সঙ্গে শুরু হয়, যেটি ৩৩০০ খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ১৭০০ খ্রীষ্টপূর্ব পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে গড়ে উঠেছিল। ব্রোঞ্জযুগের সমসাময়িক এই সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।পরবর্তী কালে (বৈদিক যুগ) থেকে মহাজনপদ সৃস্টি হয়েছিল। খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে মহাবীর এবং গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহন করেছিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশ খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীর সময় মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে একত্র হয়েছিল।
পরবর্তীকালে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে ছোট ছোট রাজ্যে পরিণত হয়ে দশ শতাব্দী শাসন করে। গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনে দুই শতাব্দী, যা ভারতের ইতিহাসে "ভারতের স্বর্ণ যুগ" নামে পরিচিত। পরে উপমহাদেশ চালুক্য, চোল, পল্লব এবং পান্ড্যের অধীনে ছিল। কতিপয় শতাব্দীর পর হিন্দু ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্ম দক্ষিন-পুর্ব এশিয়ায় প্রসারিত হয়।
অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতা ভারতীয় উপমহাদেশের বেলুচিস্তান এবং সিন্ধ অঞ্চলে উপস্থিত হয়। ইসলামি সভ্যতা আসার পর দশম থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত দিল্লী সুলতান ও মুঘল সাম্রাজ্য উত্তর ভারতে শাসন করে। মোঘল যুগে শিল্প এবং স্থাপত্যের দিকে এক অভিনব দিক উন্মোচন ঘটে। ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে মোঘল সাম্রাজ্যের শেষ দিকে কতিপয় স্বাধীন রাজ্য, যেমন পশ্চিম ভারতে মারাঠা সাম্রাজ্য এবং দক্ষিন ভারতে বিজয়নগর সাম্রাজ্য উন্নতি লাভ করে। ১৮শ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ভারত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক যুগ ও ব্রিটিশ রাজ শুরু হয়।
পরাধীন ভারতে বা ব্রিটিশ রাজের যুগে শিক্ষার প্রসারের ফলে মুলত বাংলায় শুরু হয় নবজাগরনের যুগ। বিংশ শতাব্দী প্রথম থেকে শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলন। ফলে ভারতীয় উপমহাদেশ ১৯৪৭ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, ভারত বিভাগের মাধ্যমে ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি দেশ সৃষ্টি হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিম অংশের নাম হয় পশ্চিম পাকিস্তান ও পূর্বের নাম হয় পুর্ব পাকিস্তান ও মধ্যবর্তী অংশের নাম হয় ভারত বা ভারতবর্ষ। দুই পাকিস্তানের লোকের ধর্ম (ইসলাম) এক হলেও তাদের মধ্যে জাতিগত ও ভাষাগত ব্যাপারে ছিল বিরাট অমিল। ১৯৭১ সালে ভারতের সমর্থন নিয়ে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
[সম্পাদনা] প্রাগ-ঐতিহাসিক যুগ
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: প্রাগ-ঐতিহাসিক যুগ
কেন্দ্রীয় ভারতের নর্মদা উপত্যাকার হাথনোরাতে হোমো ইরেকটাস যে নিদর্শন পাওয়া গেছে তা নির্দেশ করে যে ভারতের ৫,০০, ০০০ বছর থেকে২,০০, ০০০এর মধ্যে মধ্য প্লেইস্টোসিন যুগে, বসতি ছিল।[১][২] ভারতীয় উপমহাদেশে মেসোলিথিক পর্যায়কাল ৩০, ০০০ বছর থেকে ২৫, ০০০বছরের মধ্যে, শুরু হয়েছে বলে ধরা হয়। আধুনিক মানুষ শেষ বরফ যুগ, অথবা প্রায় ১২, ০০০ বছর আগে উপমহাদেশে বসবাস শুরু করে।মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকায় প্রস্তর যুগের গুহাচিত্র আবিষ্কার হয়েছে। এটাই ভারতের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতার নিদর্শন। আজ থেকে ৯০০০ বছর আগে ভারতে মানুষ প্রথম বসতি স্থাপন করে।[৩]বর্তমান পাকিস্তানের বেলুচিস্থানে (৭০০০ খ্রীষ্টপূর্ব )মারগরে দক্ষিণ এশিয়ার নব্য প্রস্তর যুগ সংস্কৃতি খুঁজে পাওয়া গেছে। রেডিও কার্বন তারিখ ৭৫০০ খ্রীষ্টপূর্বে কাম্বে উপসাগরে নব্য প্রস্তর যুগ সংস্কৃতি খুঁজে পাওয়া গেছে। ৬০০০খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ২০০০ খ্রীষ্টপূর্ব মধ্যে শেষ প্রস্তর যুগ সিন্ধু সভ্যতা অঞ্চলে বিকশিত হয় এবং ২৮০০খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ১২০০ খ্রীষ্টপূর্বের মধ্যে দক্ষিন ভারতে বিকশিত হয়।
[সম্পাদনা] ব্রোঞ্জ যুগ
ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রোঞ্জ যুগ সিন্ধু সভ্যতা শুরুর সঙ্গেই ৩৩০০ খ্রীষ্টপূর্বের ধারেকাছে শুরু হয়। প্রাচীন সিন্ধু নদী উপত্যাকার হরপ্পা বাসীরা ধাতুবিদ্যার এক উন্নত নতুন কৌশল গড়ে তোলে এবং তামা, কালো ব্রোঞ্জ , শিষা, টিন উৎপন্ন করে।
[সম্পাদনা] হরপ্পা ও মহেঞ্জোদরো সভ্যতা
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: সিন্ধু সভ্যতা
সিন্ধু সভ্যতা যেটি ২৬০০ খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ১৯০০ খ্রীষ্টপূর্বতে উন্নতিলাভ করে এবং নগর কেন্দ্রীক সভ্যতা যেমন হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদরো সভ্যতা(বর্তমান পাকিস্তানে) এবং ধোলাভিরা যা এই উপমহাদেশে নগর সভ্যতার হিসাবে শুরু হয়েছিল। এইসভ্যতাটি সিন্ধু নদ এবং ঘাগ্রা-হাক্রা নদী উপত্যাকা[৪], গঙ্গা যমুনা দোয়াব[৫], গুজরাট [৬], এবং উত্তর আফগানিস্থানে[৭] বিস্তার লাভ করেছিল।
[সম্পাদনা] বৈদিক যুগ
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: বৈদিক যুগ
- আরও দেখুন: আর্য্যাবর্ত্ত
[সম্পাদনা] ষোড়শ মহাজনপদ
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: ষোড়শ মহাজনপদ
খ্রীষ্টপূর্ব ৫৫০ নাগাদ ভারত বহু স্বাধীন রাজ্যে বিভক্ত ছিল। এগুলোর মধ্যে কিছু ছিল রাজতান্ত্রিক, কিছু ছিল প্রজাতান্ত্রিক। সমসাময়িক বৌদ্ধগ্রন্থ থেকে ষোলটি রাজ্যের নাম জানা যায়। এগুলোর মধ্যে কাশী, কোশল, অংগ, মগধ, চেড়ি, কুরু, গান্ধার অন্যতম। এগুলোকেই একসাথে 'ষোড়শ মহাজনপদ' বলে।
[সম্পাদনা] মগধ সাম্রাজ্য
ষোড়শ মহাজনপদের মধ্যে মগধ বেশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই রাজ্য বর্তমানের বিহারের পাটনা, গয়া আর বাংলার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল। রাজগৃহ ছিল মগধের রাজধানী।
রাজা বিম্বসার ছিলেন মগধ প্রথম ঐতিহাসিক রাজা। তিনি অংগ দখল করেন।
রাজা বিম্বসারের পুত্র অজাতশত্রু হাতে মারা যান। অজাতশত্রু রাজা হলে কোশলের রাজা প্রসেনজিতের সংগে তার যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধে হেরে গিয়ে প্রসেনজিত মৈত্রী চুক্তি করে ও নিজের মেয়ে সংগে অজাতশত্রুর বিয়ে হয়। অজাতশত গংগা ওপারে রাজ্য বিস্তার করার জন্য পাটলিপুত্রে রাজধানী স্থানারিত করেন। পাটলিপুত্রে তার নতুন দুর্গের সাহায্যে সহজেই লিছ্ছবি প্রজাতন্ত্র দখল করে ফেলেন। শোনা যায় অজাতশত্রু তার দুধরনের নতুন অস্ত্রের (গুলতি ও আচ্ছাদনযুক্ত রথ) সাথে সহজেই সব যুদ্ধে জিতে যান।
পঞ্চম এবং চতুর্থ খ্রীষ্টাব্দে মগধ শাসন করে নন্দ বংশ। শিশুনাংগ বংশের শেষ রাজা মহান্দীনের অবৈধ সন্তান মহাপদ্ম নন্দ নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি সমস্ত ক্ষত্রিয় রাজাদের পরাজিত করে বিন্ধ্য পর্বত পর্যন্ত সামাজ্য বিস্তার করেন। তাঁকে ভারতের প্রথম সামাজ্য প্র্রতিষ্ঠাতাও বলা যায়। সামাজ্য বিস্তারের জন্য তিনি ২,০০,০০০ পদাতিক, ২০,০০০ অশ্বারোহী, ২,০০০ রথ ও ৩,০০০ হস্তীবিশিষ্ট সুবিশাল বাহিনী গড়ে তোলেন। প্লুটার্কের মতে তাঁর বাহিনী আরো বড় ছিল। এই বংশের শেষ রাজা ছিলেন ধননন্দ।
[সম্পাদনা] গ্রীক আক্রমন
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: মহামতি আলেকজান্ডার
৩২৬ খ্রীষ্টাপূর্বাব্দে আলেকজান্ডার ভারতীয় উপমহাদেশ আক্রমণ করেন। তিনি গান্ধার প্রদেশের সমস্ত শাসকদের আনুগত্য দাবী করলে তক্ষশীলার রাজা অম্ভি তার আনুগত্য স্বীকার করে নেন। ফলে ঝিলাম নদী পর্যন্ত গ্রীক সামাজ্যের অধীনে আসে। কিন্তু বর্তমান পাকিস্হানের কিছু পার্বত্য প্রদেশ দখল করতে তাঁকে প্রচন্ড বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বহু কষ্টে তিনি ওরা, বাজিরা, মাস্সগা দখল করেন। মাস্সগা দূর্গ দখল করতে গিয়ে তিনি নিজেও আহত হয়ে পড়েন।
এরপর আলেকজান্ডার সিন্ধু নদর ওপারে সামাজ্য বিস্তারে উদ্যোগী হন। সিন্ধু নদের ওপারে (বর্তমান পাঞ্জাব) তখন রাজত্ব করছিলেন রাজা পুরু। পুরু সংগে তিনি এক ভংকর সিন্ধুর যুদ্ধে (৩২৬ খ্রীষ্টাপূর্বাব্দে ) জড়িয়ে পড়েন। যুদ্ধে জিতেও তিনি পুরুও বীরত্বে মুদ্ধ হন ও তার নিজের রাজ্য কিছু সংযোজিত অঞ্চলসহ ফিরিয়ে দেন।
পুরুর রাজ্যের পূর্বদিকে তখন সুবিশাল নন্দরাজাদের মগধ সামাজ্যের সীমানা ছিল। তাদের শক্তিশালী বাহিনীর সংগে সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে পূর্বদিকে আর না অগ্রসর হওয়াই মনস্থ করেন।
[সম্পাদনা] মৌর্য্য সাম্রাজ্য
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: মৌর্য্য সাম্রাজ্য
মৌর্য্য বংশ শাসিত সুবিস্তৃত মৌর্য্য সাম্রাজ্য (খ্রীষ্টপূর্ব ৩২২-১৮৫) ছিল প্রাচীন ভারতের এক অন্যতম রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য।
[সম্পাদনা] চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য্য (জন্ম ৩৪০ খ্রীষ্টপূর্ব, শাসনকাল ৩২০-২৯৮ খ্রীষ্টপূর্ব) বংশ পরিচয় নিয়ে মতান্তার আছে। কেউ মনে করেন তিনি কোন নন্দ যুবরাজ ও তার পরিচারিকা 'মুরা'র সন্তান ছিলেন। মৌর্য্য কথার উৎপত্তি মুরা থেকেই। কেউ কেউ আবার মনে করেন তিনি নেপালের তরাই অঞ্চলের এক প্রজাতন্ত্রের থেকে এসেছিলেন। আবার কেউ কেউ আবার মনে করেন তিনি গান্ধার অঞ্চলের এক প্রজাতন্ত্রের থেকে এসেছিলেন।
বিভিন্ন সংস্কৃত স্রুত্র থেকে জানা যায়, সেসময় তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালায়ের এক ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন ব্রাহ্মণ ছিলেন। তার নাম ছিল চানক্য। তিনি কৌটিল্য নামেও পরিচিত ছিলেন। জৈন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, তিনি কোন কারণে নন্দ রাজাদের দ্বারা অপমানিত হন, তিনি তখন থেকে এর প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করতে থাকেন। এই সময় তিনি বালক চন্দ্রগুপ্ত দেখেন। তার মনে হয় এই বালকের মধ্যে রাজা হবার সবগুণ আছে। তিনি তাকে তক্ষশীলা নিয়ে যান ও বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী করে তোলেন। জৈন গ্রন্থ ও বিশাখাদত্তের মুদ্রারাক্ষস থেকে জানা যায়, চন্দ্রগুপ্তের সংগে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলের রাজা পার্বতকের সাথে মৈত্রী চুক্তি হয়। কোন জায়গায় একে আবার রাজা পুরু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নন্দরাজাদের সংগে যুদ্ধে প্রথমে সাফল্য না পেলে চানক্য কৌশল পরিবর্তন করে নন্দ সামাজ্যের প্রান্তিক প্রদেশগুলো আক্রমণ করা শুরু করেন, এতেই সাফল্য আসে। নন্দ সেনাপতি ভদ্রশালা ও ধননন্দকে একের পর পর যুদ্ধে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্তের বাহিনী রাজধানী কুসুমপুরা অবরোধ করে। আনুমানিক ৩২১ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে মাত্র ২০ বছর বয়সে চন্দ্রগুপ্ত নন্দ সামাজ্যের পতন ঘটিয়ে মৌর্য সামাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবেই তিনি এত অল্প বয়সেই পূর্বে আসাম ও বাংলা থেকে পশ্চিমে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিশাল সামাজ্যের অধিকারী হন।
এরপর চন্দ্রগুপ্ত ভারতের পশ্চিম সামাজ্যের বিস্তারে উদ্যোগী হন। সেসময় সেলুকাস আই নিকাটর, আলেকজান্ডারের সামাজ্যের ব্যকট্রিয় থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করছেন। চন্দ্রগুপ্তের সাথে ৩০৫ খ্রীষ্টপূর্বে তার যুদ্ধ শুরু হয়, পরে তাদের মধ্যে মৈত্রী চুক্তি সাক্ষরিত হয়। মনে করা হয়ে থাকে, এর ফলে হিন্দুকুশ পর্বত ও বালুচিস্থান পর্যন্ত দীর্ঘ অঞ্চল তাঁর অধীনে আসে। বিনিময়ে চন্দ্রগুপ্ত সেলুকাসকে ৫০০ যুদ্ধের হাতী দেন। সেলুকাসকন্যার সাথে চন্দ্রগুপ্তের বিয়ে হয় বলেও মনে করা হয়।
এরপর চন্দ্রগুপ্ত দক্ষিণভারতে দিকে অগ্রসর হন। তিনি বিন্ধ্য পর্বত পেরিয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমির সিংহভাগ দখল করতে সক্ষম হন। এরফলে কলিঙ্গ ও দাক্ষিণাত্যের অল্পকিছু অংশ বাদে সমগ্র ভারত মৌর্য্য সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়।
জৈন মতানুসারে শেষ বয়সে চন্দ্রগুপ্ত জৈন গ্রহন করে জৈন সন্ন্যাসী ভদ্রবাহুর সাথে দাক্ষিণাত্য যাত্রা করেন ও বর্তমানে কর্ণাটকের শ্রাবণবেলগোলায় স্বেচ্ছায় উপবাসে দেহত্যাগ করেন।
[সম্পাদনা] বিন্দুসার
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: বিন্দুসার
চন্দ্রগুপ্তের পর বিন্দুসার (জন্ম ৩২০ খ্রীষ্টপূর্ব, শাসনকাল ২৯৮-২৭২ খ্রীষ্টপূর্ব) সম্রাট হন।
বিন্দুসার চন্দ্রগুপ্ত ও দুধারার সন্তান ছিলেন। শোনা যায়, দুধারা যখন নয়মাসের অন্তসত্ত্বা, তখন বিষযুক্ত খাবার খেয়ে সন্তানসহ দুধারার প্রাণ সংশয় তৈরী হয়। তখন চন্দ্রগুপ্তের প্রধানমন্ত্রী চাণক্য দুধারার পেট কেটে বিন্দুসারের জন্ম দেন। পিতৃসুত্রে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হন। তাকে বিন্দুসার দক্ষিণদিকে আরো প্রসারিত করেন ও বর্তমান কর্ণাটক রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল মৌর্য সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। চোল, পান্ড্য ও চেরা রাজারা তাঁর সংগে মিত্রতার সূত্রে আবদ্ধ হন, আসলে তারা বাধ্য হন। তাই বিন্দুসার সেসব অঞ্চল আক্রমণ করেননি। এছাড়া কেবল মাত্র কলিঙ্গ তার সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল না।
বিন্দুসারের সময় তক্ষশীলা লোকেরা দু'বার বিদ্রোহ ঘোষণা করে। প্রথমবার বিদ্রোহের কারণ ছিল তত্কালীন আঞ্চলিক শাসক ও বিন্দুসারের জেষ্ঠপুত্র সুসীমের অপদার্থতা। দ্বিতীয়বার বিদ্রোহের কারণ জানা যায় না, তবে তা দমন করার আগেই বিন্দুসারের অসময়ে মৃত্যু হয়।
ইতিহাসে তাঁর পিতা চন্দ্রগুপ্ত বা পুত্র অশোকের মত বিন্দুসারের অধিক তথ্য পাওয়া যায় না। বিন্দুসারকে বলা হয় 'পিতার পুত্র ও পুত্রের পিতা'। তাঁর সময়ে মিশর ও সেলুকাসীয় সাম্রাজ্য থেকে দূত আসেছিল। গ্রীকদের সংগে তাঁর ভাল সম্পর্ক ছিল। তিনি আজীবক ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
[সম্পাদনা] সম্রাট অশোক
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: সম্রাট অশোক
বিন্দুসারের মৃত্যুর পর সম্রাট অশোক (জন্ম ৩০৪ খ্রীষ্টপূর্ব, শাসনকাল ২৯৮-২৭২ খ্রীষ্টপূর্ব; প্রাকৃত রাজকীয় উপাধি; দেবতাপ্রিয় প্রিয়দর্শী ও 'ধর্মা') সম্রাট হন। তাঁকে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়ে থাকে।
অশোক বিন্দুসারের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বসম্পন্ন রাণী ধর্মার সন্তান ছিলেন। তবে এনিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ঠ মতভেদ আছে। তাঁর চেয়ে বয়েসে বড় বিন্দুসারের অনেকগুলো দাদা ছিল, একমাত্র বিদ্দাশোকই ছিল তাঁর চেয়ে কনিষ্ঠ। কিন্তু পরাক্রম ও বুদ্ধির জন্য তিনিই সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন।
অশোকের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্ত্বতার জন্য মৌর্য সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন ছিলেন ও সেনাবাহিনীর এক বড় অংশের পরিচালক ছিলেন। অশোকের এই শক্তি বৃদ্ধি বাকী ভাইদের ঈর্ষান্বিত করে তোলে; সুসীম, বিন্দুসারের জেষ্ঠ পুত্র তার উত্তরিধীকার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে সুসীমের অপদার্থতায় তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দেয়, তখন তারই চক্রান্তে বিম্বসার অশোককে সেখানে বিদ্রোহে দমনে পাঠান। অশোক আসার খবরে সেনাবাহিনী উজ্জবিত হয়ে ওঠে, পরে বিদ্রোহী সেনারাও তাঁর আগমনে বিদ্রোহের পথ ত্যাগ করে ও বিনাযুদ্ধে অশোক বিদ্রোহ দমন করে ফেলেন।
যখন বিন্দুসারের অসুস্হতার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন অশোক মগধের বাইরে ছিলেন। এরপর বিন্দুসারের পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের দখল নিয়ে রক্তাক্ত দ্বন্ধ শুরু হ্য়। লোকশ্রতি অনুসারে অশোক তাদের ভাইদের হত্যা করে সিংহাসনের বাধা দূর করতে সক্ষম হন।
রাজা হওয়ার পরই অশোক সাম্রাজ্য বিস্তারে মনযোগী হন। তিনি পূর্বে বর্তমান আসাম ও বাংলাদেশ, পশ্চিমে ইরান ও আফগানিস্হান, উত্তরে পামীর গ্রন্থি থেকে প্রায় সমগ্র দক্ষিণভারত নিজের সাম্রাজ্যভূক্ত করেন।
এরপর অশোক কলিঙ্গ প্রজাতন্ত্র দখলে উদ্যোগী হন। কলিঙ্গ যুদ্ধ-এর সঠিক কারণ জানা যায় না। মনে করা হয়ে থাকে, অশোকের কোন ভাই কলিঙ্গ আশ্রয় নেন। তার প্রতিশোধ নেবার জন্য অশোক কলিঙ্গ আক্রমণ করেন। খ্রীষ্টপূর্ব ২৬১ (মতান্তরে খ্রীষ্টপূর্ব ২৬৩) দয়া নদীর ধারে ধৌলি পাহাড়ের কাছে ভীষণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। দু'দলের মধ্যে প্রচুর হতাহতের মধ্যে অশোক কলিঙ্গজয় করেন। এই যুদ্ধে কলিঙ্গবাহিনীর ১,০০,০০০ সেনা ও মৌর্য সেনাবাহিনীর ১০,০০০ সেনা নিহত হয় ও অসংখ্য নর-নারী আহত হয়। যুদ্ধের এই বীভত্সতা সম্রাট অশোককে বিষাদগ্রস্থ করে তোলে। তিনি যুদ্ধের পথত্যাগ করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন ও অহিংসার পথে সাম্রাজ্য পরিচালনের নীতি গ্রহণ করেন।
বিন্দুসারের মৃত্যুর পর সম্রাট অশোক (জন্ম ৩০৪ খ্রীষ্টপূর্ব, শাসনকাল ২৯৮-২৭২ খ্রীষ্টপূর্ব; প্রাকৃত রাজকীয় উপাধি; দেবতাপ্রিয় প্রিয়দর্শী ও 'ধর্মা') সম্রাট হন। তাঁকে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয়ে থাকে।
অশোক বিন্দুসারের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বসম্পন্ন রাণী ধর্মার সন্তান ছিলেন। তবে এনিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে যথেষ্ঠ মতভেদ আছে। তাঁর চেয়ে বয়েসে বড় বিন্দুসারের অনেকগুলো দাদা ছিল, একমাত্র বিদ্দাশোকই ছিল তাঁর চেয়ে কনিষ্ঠ। কিন্তু পরাক্রম ও বুদ্ধির জন্য তিনিই সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন।
অশোকের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্ত্বতার জন্য মৌর্য সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন ছিলেন ও সেনাবাহিনীর এক বড় অংশের পরিচালক ছিলেন। অশোকের এই শক্তি বৃদ্ধি বাকী ভাইদের ঈর্ষান্বিত করে তোলে; সুসীম, বিন্দুসারের জেষ্ঠ পুত্র তার উত্তরিধীকার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে সুসীমের অপদার্থতায় তক্ষশীলায় বিদ্রোহ দেখা দেয়, তখন তারই চক্রান্তে বিম্বসার অশোককে সেখানে বিদ্রোহে দমনে পাঠান। অশোক আসার খবরে সেনাবাহিনী উজ্জবিত হয়ে ওঠে, পরে বিদ্রোহী সেনারাও তাঁর আগমনে বিদ্রোহের পথ ত্যাগ করে ও বিনাযুদ্ধে অশোক বিদ্রোহ দমন করে ফেলেন।
যখন বিন্দুসারের অসুস্হতার খবর ছড়িয়ে পড়ে তখন অশোক মগধের বাইরে ছিলেন। এরপর বিন্দুসারের পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের দখল নিয়ে রক্তাক্ত দ্বন্ধ শুরু হ্য়। লোকশ্রতি অনুসারে অশোক তাদের ভাইদের হত্যা করে সিংহাসনের বাধা দূর করতে সক্ষম হন।
রাজা হওয়ার পরই অশোক সাম্রাজ্য বিস্তারে মনযোগী হন। তিনি পূর্বে বর্তমান আসাম ও বাংলাদেশ, পশ্চিমে ইরান ও আফগানিস্হান, উত্তরে পামীর গ্রন্থি থেকে প্রায় সমগ্র দক্ষিণভারত নিজের সাম্রাজ্যভূক্ত করেন।
এরপর অশোক কলিঙ্গ প্রজাতন্ত্র দখলে উদ্যোগী হন। কলিঙ্গ যুদ্ধ-এর সঠিক কারণ জানা যায় না। মনে করা হয়ে থাকে, অশোকের কোন ভাই কলিঙ্গ আশ্রয় নেন। তার প্রতিশোধ নেবার জন্য অশোক কলিঙ্গ আক্রমণ করেন। খ্রীষ্টপূর্ব ২৬১ (মতান্তরে খ্রীষ্টপূর্ব ২৬৩) দয়া নদীর ধারে ধৌলি পাহাড়ের কাছে ভীষণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। দু'দলের মধ্যে প্রচুর হতাহতের মধ্যে অশোক কলিঙ্গজয় করেন। এই যুদ্ধে কলিঙ্গবাহিনীর ১,০০,০০০ সেনা ও মৌর্য সেনাবাহিনীর ১০,০০০ সেনা নিহত হয় ও অসংখ্য নর-নারী আহত হয়। যুদ্ধের এই বীভত্সতা সম্রাট অশোককে বিষাদগ্রস্থ করে তোলে। তিনি যুদ্ধের পথত্যাগ করে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন ও অহিংসার পথে সাম্রাজ্য পরিচালনের নীতি গ্রহণ করেন।
এরপর অশোক দেশে ও বিদেশে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে উদ্যোগী হন। এই উদেশ্যে তিনি বিভিন্ন জায়গায় তাঁর প্রতিনিধিদের পাঠান। তাঁর পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রাকে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে শ্রীলংকা পাঠান। এছাড়া তিনি কাশ্মীর, গান্ধার, ভানাভাসী, কোংকন, মহারাষ্ট্র, ব্যাকট্রিয়, নেপাল, থাইল্যান্ড, ব্রহ্মদেশ, লাক্ষাদ্বীপ প্রভৃতি স্থানেও বৌদ্ধধর্ম প্রচার করান।
[সম্পাদনা] মৌর্য্য সাম্রাজ্যের পতন
২৩৬ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোকের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর তাঁর উত্তরাধিকারীরা কেউই সাম্রাজ্য পরিচালনায় দক্ষতার ছাপ রাখতে পারেনি। ধীরে ধীরে মৌর্য্য সাম্রাজ্য পতনের দিকে এগিয়ে যায়। মৌর্য্য সাম্রাজ্যের পতনের কারণ সম্বন্ধে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। অনেকই এই প্রসঙ্গে মৌর্য্য সম্রাটদের 'ধর্মবিজয়'-এর নীতিকে দায়ী করেছেন। অহিংস নীতির ফলে তারা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বিদ্রোহ দমন করতে পারেনি। বিভিন্ন বৌদ্ধধর্মকেন্দ্রিক বিষয়ে দানের ফলে সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া তারা এত বড় সাম্রাজ্য পরিচালনার ক্ষমতা তাদের ছিল না। বরং তাদের অন্তর্দ্বন্ধে সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ রাজা বৃহদ্রথ ১৯৭ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যখন রাজা হন, মৌর্য্য সাম্রাজ্য পতনের শেষ সীমায় এসে পড়েছে। এরমধ্যে গ্রীক-ব্যাকট্রিয় রাজা দিমিত্রিয়াস ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আক্রমণ সাম্রাজ্যের পতন ত্বরান্বিত করে। ১৮৫ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে এক সামরিক কুচকাওয়াজের সময় তারই সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ তাকে বধ করে ক্ষমতা দখল করে।