মুঘল সাম্রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুঘল সাম্রাজ্য
گورکانیان (fa)
مغلیہ سلطنت (ur)
সাম্রাজ্য
১৫২৬–১৮৫৭

Flag of the Mughal Empire

পতাকা

Orthographic projection map of the Mughal Empire
১৭০০ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সাম্রাজ্য, বিস্তারের সর্বোচ্চতায়
রাজধানী আগ্রা
(১৫২৬–১৫৭১)
Fatehpur Sikri
(১৫৭১–১৫৮৫)
লাহোর
(১৫৮৫–১৫৯৮)
আগ্রা
(১৫৯৮–১৬৪৮)
Shahjahanabad
(১৬৪৮–১৮৫৭)
ভাষাসমূহ ফার্সি (সরকারী এবং দরবারি ভাষা)[১]
চাগাতাই তুরকি (প্রথমদিকে)
উর্দু (শেষের দিকে)
ধর্ম ইসলাম
(১৫২৬–১৫৮২)
Din-e Ilahi
(১৫৮২–১৬০৫)
ইসলাম
(১৬০৫–১৮৫৭)
সরকার Absolute monarchy, unitary state
with মৈত্র কাঠামো
সাম্রাজ্য, মির্জা[২]
 -  ১৫২৬–১৫৩০ বাবর Beg (প্রথম)
 -  ১৮৩৭–১৮৫৭ বাহাদুর শাহ জাফর (শেষ)
ঐতিহাসিক যুগ প্রারম্ভিক আধুনিক
 -  পানিপথের প্রথম যুদ্ধ ২১শে এপ্রিল, ১৫২৬ ১৫২৬
 -  সিপাহি বিদ্রোহ ১০ই মে ১৮৫৭
আয়তন
 -  ১৭০০[lower-alpha ১] ৪৫,০০,০০০ বর্গ কি.মি. (১৭,৩৭,৪৬০ বর্গ মাইল)
জনসংখ্যা
 -  ১৭০০[lower-alpha ১] আনুমানিক ১৫,০০,০০,০০০ 
     ঘনত্ব ৩৩.৩ বর্গ কি.মি.  (৮৬.৩ বর্গ মাইল)
মুদ্রা রুপি
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
Timurid dynasty
Delhi Sultanate
Suri dynasty
Adil Shahi dynasty
Sultanate of Bengal
Deccan Sultanates
Maratha Empire
Durrani Empire 20px
British Raj
Hyderabad State
Nawab of Carnatic
Nawab of Bengal
Nawab of Awadh
Kingdom of Mysore
Bharatpur State
বর্তমানে অংশ  আফগানিস্তান
 পাকিস্তান
 বাংলাদেশ
 নেপাল
 ভারত
 ইরান
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

মুঘল সাম্রাজ্য ভারত উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত ছিল; অঞ্চলটি সেসময় হিন্দুস্তান বা হিন্দ নামে পরিচিত ছিল। এছাড়া আফগানিস্তানবেলুচিস্তানের বেশ কিছু এলাকাও মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিলো। মুঘল সাম্রাজ্য ১৫২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৭০৭ সাল পর্যন্ত এর সীমানা বিস্তার করে এবং ১৮৫৭ সালের এর পতন ঘটে। চেঙ্গিস খানতৈমুর লঙের উত্তরসূরী জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে দিল্লীর লোদী বংশীয় সর্বশেষ সুলতান ইবরাহিম লোদীকে প্রথম পানিপথের যুদ্ধে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের প্রাক্কালে ইংরেজদের হাতে পরাজিত হয়ে তৎকালীন বার্মারেঙ্গুনে নির্বাসনে চলে যান। সেখানেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। তবে মূলত মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পরেই মুঘল সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয় এবং ভারত উপমহাদেশে ইংরেজদের প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যায়।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মুঘল সাম্রাজ্যের ৩০০ বছরের বেশি ইতিহাস অনেক উত্থান পতনের সাক্ষী।

বাবরের ভারত আক্রমণ[সম্পাদনা]

ফরগণা নামে এক মধ্য এশিয় সামন্ত রাজ্যের তৈমুর বংশীয় রাজা ওমর শেখ মিরজার ছেলে বাবর মধ্য এশিয়া থেকে রাজ্যচ্যুত হয়ে কাবুল আক্রমণ করেন। এই সময় তিনি ভারত আক্রমণের পরিকল্পণা করেন। ১৫২৬ সালে পাণিপথের প্রথম যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে নিহত করে মুঘল সাম্রাজ্যের সুচনা করেন। এই যুদ্ধেই ভারতে প্রথম কামান ব্যবহার হয়েছিল।

খানুয়ার যুদ্ধ[সম্পাদনা]

1527 এই যুদ্ধে বাবর রাজপুত রাজা সংগ্রাম সিংহকে পরাজিত করেন।

শেরশাহের উত্থান[সম্পাদনা]

বিহারের এক জায়গীরদারের ছেলে ফরিদ খান শেরশাহ নাম ধারণ করে বাবরপুত্র হুমায়ুনকে বিল্বগ্রাম ও চৌসার যুদ্ধে পরাজিত করলে হুমায়ুন পারস্যে রাজা তামাস্পের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। শেরশাহের শাসন ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আকবরের শাসনব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে।

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ও আকবরের উত্থান[সম্পাদনা]

আকবর

পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে শেরশাহের উত্তরাধিকারী আদিল শাহের সেনাপতি হিমু হুমায়ুনপুত্র আকবর ও তাঁর সেনাপতি বৈরাম খানের সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হোন। এরপর আকবরের শাসনকালে মুঘল সাম্রায্য উত্তর ও মধ্যভারতে বিস্তৃত হয়। ১৫৬০ সালে বৈরাম খানকে সরিয়ে আকবর নিজে সকল ক্ষমতা দখল করেণ। আকবর রাজপুতদের সাথে মিত্রতানীতি নেন। মান সিংহকে সেনাপতিত্বে বরণ করেন। কিন্তু মেবারের শাসক প্রতাপসিংহকে মিত্র করতে সফল হন নি।

হলদিঘাটের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

এই যুদ্ধে মুঘল পক্ষীয় সেনাপতি মান সিংহ মেবারের রাণা প্রতাপ সিংহকে পরাজিত করেন।

রাজমহলের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

এই যুদ্ধে দাউদ খান কররাণী পরাজিত হলে বাংলায় মুঘল শাসন শক্তিশালী হয়। যদিও পরে বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত জমিদারেরা বিদ্রোহ করেন। আকবরের পুত্র ছিলেন জাহাঙ্গীর

১৬২৮-১৬৫৭ পরজন্ত সম্রাত শাহজাহানের শাসনকাল[সম্পাদনা]

শাহজাহান তখতে এসে সমস্ত উত্তরাধিকারীর দাবীদারদের হত্যা করেন। তার সকল ভাইদের তিনি হত্তা করেন এবং শাহজাহানের শাসনকালে তাজমহল তৈরি হয়।

আওরঙ্গজেবের উত্থান[সম্পাদনা]

আওরঙ্গজেব

শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলেরা গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। দারা, সুজা ও মুরাদকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসেন আওরঙ্গজেব। তিনি মারাঠা, ইংরেজ, শিখ ও অন্যান্য মুঘল্বিরোধীদের দমন করার সাময়িক চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে সফল হননি।

দাক্ষিণাত্য ক্ষত[সম্পাদনা]

এসময় মারাঠা নেতা শিবাজী সক্রিয় হয়ে ওঠেন যা মুঘল সাম্রায্যকে বিপন্ন করে।

আওরঙ্গজেবের মৃত্যু ও পতনের সুচনা[সম্পাদনা]

আওরঙ্গজেবের মৃত্যুতে আবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এরপর যোগ্য উত্তরসুরীর অভাব ভারতকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়

সৈয়দ ভাতৃদ্বয় ও ফারুখশিয়ার[সম্পাদনা]

ফারুখশিয়ার নামে মুঘল সম্রাট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীকে ফরমান দেন।মুঘল সম্রাটদের অযোগ্যতা অনেক আমলাদের সক্রিয় করে তোলে এদের মধ্যে সৈয়দ ভাতৃদ্বয় উল্লেখ্য।

মহম্মদ শাহ আমল ও নাদির শাহের আক্রমণ[সম্পাদনা]

মহম্মদ শাহ সৈয়দ ভাতৃদ্বয়দের দমন করলেও তিনি অতি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পারস্য সম্রাট নাদির শাহ এসময় ভারত আক্রমণ করেন। দিল্লি শ্মশানে পরিণত হয়।

মারাঠা সাম্রাজ্য ও আব্দালির আক্রমণ[সম্পাদনা]

মারাঠা সাম্রাজ্যের এসময় চরম উন্নতি হয়। কিন্তু আফগান নেতা আহমেদ শাহ আব্দালির হাতে পাণিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠা প্রভাব বিনস্ট হয়। দিল্লি আবার লুন্ঠিত হয়।

বক্সারের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর

এই যুদ্ধে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম অযোধ্যার নবাব সুজা উদ দোউলা ও বাংলার নবাব মীর কাশীমের সাথে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বিরোধীতা করেন কিন্তু নাকাম হন। তিনি ইংরেজদের দেওয়ানী দিতে বাধ্য হন। এরপর মুঘল সম্রাট ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আশ্রিত হয়ে থাকেন। এই সময় মুঘল সাম্রাজ্য লালকেল্লায় সীমাবদ্ধ ছিল।

সিপাহী বিদ্রোহ ও মুঘল সাম্রাজ্যের অবসান[সম্পাদনা]

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ অবদমিত হলে যোগদান কারী মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে রেংগুণে পাঠানো হয়। এভাবে মুঘল সাম্রাজ্য শেষ হয়।

অবদান[সম্পাদনা]

স্থাপত্য[সম্পাদনা]

খাদ্য[সম্পাদনা]

  • মোগলাই

চিত্রকলা[সম্পাদনা]

মুঘল চিত্রকলায় মালবে সামরিক অভিযান

মুঘল আমলে এক বিশেষ চিত্রকলার প্রচলন হয় যা মুঘল চিত্রকলা নামে পরিচিত।

সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন[সম্পাদনা]

মুঘল আমলে দক্ষিণ এশীয়, মধ্য এশীয় ও পশ্চিম এশীয় সংস্কৃতির মিলন হয়।

সামরিক[সম্পাদনা]

মুঘল সম্রাটরাই প্রথম ভারতে ব্যাপকভাবে কামান, বারুদ ও বন্দুক ব্যবহার করেন।

ধাতুবিদ্যা[সম্পাদনা]

মুঘল আমলে ধাতুবিদ্যা বিষয়ে উন্নতি হয়। আলি কাশ্মীরি নামে এক কারিগর বিশেষ ধরণের গোলক তৈরি করা আবিষ্কার করেন।

অর্থনৈতিক[সম্পাদনা]

শের শাহের মুদ্রা ব্যবস্থাকে উন্নত করা হয়।

বিচার ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

মুঘল বিচারব্যবস্থার প্রয়োগ আজও ভারতে অনেকাংশে অনুসরণ করা হয়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Conan, Michel (2007)। Middle East Garden Traditions: Unity and Diversity : Questions, Methods and Resources in a Multicultural Perspective, Volume 31। Washington, D.C.: Dumbarton Oaks Research Library and Collection। পৃ: 235। আইএসবিএন 978-0884023296 
  2. Emperors new names (title) Mirza, the title of Mirza and not Khan (title) or Padishah, which were the titles of the Mongol rulers.
  3. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Richards1993 নামের ref গুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]