মালদ্বীপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্র
ދިވެހިރާއްޖޭގެ ޖުމުހޫރިއްޔާ
মালদ্বীপের কোট অফ আর্মস
পতাকা কোট অফ আর্মস
জাতীয় সঙ্গীত
Gavmii mi ekuverikan matii tibegen kuriime salaam
"In National Unity Do We Salute Our Nation"

রাজধানী মালে
৪°১০′ উত্তর ৭৩°৩০′ পূর্ব / ৪.১৬৭° উত্তর ৭৩.৫০০° পূর্ব / 4.167; 73.500
বৃহত্তম শহর রাজধানী
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ দিভেহি
সরকার প্রজাতন্ত্র
 -  রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাসের
স্বাধীনতা
 -  যুক্তরাজ্য থেকে ২৬ জুলাই ১৯৬৫ 
আয়তন
 -  মোট ২৯৮ বর্গকিমি (২০৪তম)
১১৫ বর্গমাইল 
 -  জলভাগ (%) নগণ্য
জনসংখ্যা
 -  জুলাই ২০০৫ আনুমানিক ৩২৯,০০০ (১৭৬তম1)
 -  ২০০৬ আদমশুমারি ২৯৮,৮৪২ [১] 
 -  ঘনত্ব ১,১০৫ /বর্গ কিমি (৯ম)
২,৮৬২ /বর্গমাইল
জিডিপি (পিপিপি) ২০০৫ আনুমানিক
 -  মোট $২.৫৬৯ বিলিয়ন (১৬২তম)
 -  মাথাপিছু $৭,৬৭৫ (৭৯তম)
মানব উন্নয়ন সূচক (২০০৪) হ্রাস ০.৭৩৯ (মধ্যম) (৯৮তম)
মুদ্রা রুপিয়া (এমভিআর)
সময় স্থান (ইউটিসি+৫)
ইন্টারনেট টিএলডি .mv
কলিং কোড ৯৬০
১. Rank based on UN estimate for 2005.

মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম মালে। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্ক এর সদস্য।

মালদ্বীপ নামটি সম্ভবত "মালে দিভেহী রাজ্য" হতে ইদ্ভূত যার অর্থ হল মালে অধিকৃত দ্বীপ রাষ্ট্র । কারো কারো মতে সংস্কৃত 'মালা দ্বীপা' অর্থ দ্বীপ-মাল্য বা 'মহিলা দ্বীপা' অর্থ নারীদের দ্বীপ হতে মালদ্বীপ নামটি উদ্ভূত । কিন্তু প্রাচীন সংস্কৃতে এরকম কোন অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়না । তবে প্রাচীন সংস্কৃতে লক্ষদ্বীপ নামক এক অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে । লক্ষদ্বীপ বলতে মালদ্বীপ ছাড়াও লাক্কাদ্বীপ পুঞ্জ অথবা চাগোস দ্বীপপুঞ্জকেও বোঝান হয়ে থাকতে পারে । অপর একটি মতবাদ হলো তামিল ভাষায় 'মালা তিভু' অর্থ দ্বীপমাল্য হতে মালদ্বীপ নামটি উদ্ভূত ।

মধ্যযুগে ইবন বতুতা ও অন্যান্য আরব পর্যটকেরা এই অঞ্চলকে 'মহাল দিবিয়াত' নামে উল্লেখ করেছেন । আরবীতে মহাল অর্থ প্রাসাদ । বর্তমানে এই নামটিই মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় প্রতীকে লেখা হয় ।

অবস্থান[সম্পাদনা]

শ্রীলঙ্কা হতে আনুমানিক ৪০০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে ১০১০টি প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মালদ্বীপ বা দ্বীপের মালা; সংস্কৃত শব্দ ‘দ্বীপমালা’ শব্দ থেকেই মালদ্বীপ। আবার কেউ কেউ বলে যে- ‘মালে দিভেই রাজে’-এই কথা থেকে মালদ্বীপ শব্দটির উদ্ভব। ‘মালে দিভেই রাজে’-এই কথার অর্থ, ‘দ্বীপরাজ্য’। অনেকে মালদ্বীপকে মহলদ্বীপও বলে। মহল মানের (আরবিতে ) প্রাসাদ। দ্বাদশ শতক থেকেই মালদ্বীপের মুসলিম শাসন। ইবনে বতুতা মালদ্বীপ গিয়েছিলেন ১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দে। কাজী ছিলেন। সংস্কৃতে মালদ্বীপকে লক্ষদ্বীপও বলা হয়েছে। এর অর্থ লক্ষ দ্বীপের সমাহার। আসলে মালদ্বীপ লক্ষ দ্বীপের সমাহার নয়; রয়েছে ২৬টি অ্যাটোল। (অ্যাটোল মানে লেগুন ঘেরা প্রবালদ্বীপ) ২৬টি অ্যাটোল আর ১১৯২টি ক্ষুদ্র দ্বীপ। যার মধ্যে কেবল ২০০টি বাসযোগ্য। প্রাচীন শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক গ্রন্থে মালদ্বীপকে বলা হয়েছে মহিলা দ্বীপ। সম্রাট অশোকের সময়েই অর্থাৎ সেই খ্রিস্ট ৩য় শতকেই কতিপয় বৌদ্ধ ভিক্ষু নাকি গিয়েছিল লক্ষদ্বীপে । এরপর দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ওই দ্বীপে গিয়ে বাস করতে থাকে। দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী সম্ভবত ওখানে গিয়েছিল দক্ষিণ ভারত থেকে। এর পর সিংহলীরা মালদ্বীপ যায়। এরা ছিল বৌদ্ধ। এরপর মুসলিমরা ঐ দ্বীপে মুসলিম সংস্কৃতি প্রোথিত করে। সময়টা দ্বাদশ শতক। ১১৫৩ থেকে ১৯৫৩ অবধি -এই ৮০০ বছর ৯২ জন সুলতান নিরবিচ্ছিন্নভাবে শাসন করে দ্বীপটি ।

১৫০৭ সালে পর্তুগীজ পর্যটক দম লোরেনকো দে আলামেইদা মালদ্বীপে পৌঁছায়। সে সময় পশ্চিম ভারতের গোয়ায় ছিল পর্তুগীজদের বানিজ্য কুঠি। পর্তুগীজরা বলপূর্বক কর আদায় করত । ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দ। মালদ্বীপের সুলতান হলেন সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম। তিনি পর্তুগিজ দের মালদ্বীপ থেকে বহিস্কার করেন। সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম মালদ্বীপের নবযুগের দ্রষ্টা। তিনিই নতুন লেখনির প্রচলন করেন। গড়ে তোলেন সামরিক বাহিনী। ব্রিটিশরা ১৮১৫ সালে শ্রীলঙ্কা পদানত করে। এরপর পদানত করে মালদ্বীপও। যা হোক। ১৯৫৩ সালে সালতানাতএর অবসান হয় ও মালদ্বীপ হয়ে ওঠে রিপাবলিক। মালদ্বীপের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন আমিন দিদি। তিনি নারীস্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। গোঁড়ারা পিছু লাগল। ফলে আমিন দিদি উৎখাত হয়ে যান। এরপর আইনসভা পুনরায় সালতানাত এর পক্ষে রায় দেয়। নতুন সুলতান হন মোহাম্মদ দিদি। ইনি ব্রিটিশদের সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিলে ব্যাপক জনবিক্ষোভ সংগঠিত হয়। যা হোক। ১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ন স্বাধীনতা লাভ করে।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

মালদীপের জনসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ । শতকরা ১০০ ভাগ মুসলমান। দিভেহি ভাষা বা মালদ্বীপীয় ভাষা মালদ্বীপের সরকারী ভাষা। এই দ্বীপগুলির প্রায় সবাই দিভেহি ভাষার বিভিন্ন উপভাষায় কথা বলেন। এছারাও এখানে সিংহলি ভাষা, আরবি ভাষা এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার প্রচলন আছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


]