কলকাতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Kolkata
Calcutta
—  City  —
Clockwise from top: Victoria Memorial, St. Paul's Cathedral, central business district, Howrah Bridge, city tram line, Vidyasagar Bridge
নাম: City of Joy
কলকাতা West Bengal-এ অবস্থিত
Kolkata
Location of Kolkata in West Bengal
স্থানাঙ্ক: 22°34′N 88°22′E / 22.567°উ 88.367°পূ / 22.567; 88.367স্থানাঙ্ক: 22°34′N 88°22′E / 22.567°উ 88.367°পূ / 22.567; 88.367
Country India
State West Bengal
Division Presidency
District Kolkata[upper-alpha ১]
সরকার
 • ধরন Mayor–Council
 • দল KMC
 • Mayor Sovan Chatterjee[১]
 • Sheriff Indrajit Ray[২]
 • Police commissioner Ranjit Kumar
Pachnanda[৩]
আয়তন
 • City [.
 • মেট্রো ১,৮৮৬.৬৭
উচ্চতা
জনসংখ্যা (2011)[৪]
 • City ৪৪,৮৬,৬৭৯
 • মেট্রো[৫] ১,৪১,১২,৫৩৬
 • Metro rank [
Demonym Calcuttan
সময় অঞ্চল IST (ইউটিসি+05:30)
ZIP code(s) 7000 xx, 7001 xx
এলাকা কোড +91-33
যানবাহন নিবন্ধন WB 01–79
UN/LOCODE IN CCU
Spoken languages Bengali, English, Hindi, Urdu
Ethnicity Bengali, Marwari, Bihari, Other
ওয়েবসাইট www.kmcgov.in
  1. The Kolkata metropolitan area also includes portions of North 24 Parganas, South 24 Parganas, Howrah, Nadia, and Hooghly districts. See: Urban structure.

কলকাতা (পূর্বনাম: কলিকাতা; ইংরেজি: Kolkata, পূর্বে এই শব্দ Calcutta) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র এবং বৃহত্তম শহর। হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত[৬] এই শহরের পৌরএলাকার জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের কিছু বেশি। তবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত বৃহত্তর কলকাতার জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষের কাছাকাছি। এই জনসংখ্যার বিচারে কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটান বা মহানগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম মহানগর অঞ্চল।[৭] কলকাতা পৌরএলাকার উত্তর দিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ দিকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অবস্থিত। পশ্চিম দিকে হুগলি নদী এই শহরকে হাওড়া জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

১৭৭২ সালে মুর্শিদাবাদ শহর থেকে বাংলার রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা শুধুমাত্র বাংলারই নয়, বরং সমগ্র ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। ১৯২৩ সালে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের অধীনে কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষ কলকাতা পৌরসংস্থা স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর কলকাতা নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী ঘোষিত হয়। এই সময় কলকাতা ছিল আধুনিক ভারতের শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির এক পীঠস্থান। ১৯৫৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের ফলে সেই গৌরব অনেকাংশে খর্ব হয়। তবে ২০০০ সালের পর থেকে এই শহর পুনরায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয় এবং সাংস্কৃতিক হৃতগৌরব অনেকাংশেই পুনরুদ্ধার করে। যদিও ভারতের অন্যান্য শহরের মতো কলকাতাতেও নগরায়ণজনিত দারিদ্র্য ও পরিবেশ দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা।

কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধি এই শহরের বৈপ্লবিক আন্দোলন ও সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও পরবর্তীকালে বামপন্থী গণআন্দোলনগুলিতে এই শহর এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে আধুনিক ভারতের প্রধান প্রধান সাংস্কৃতিক আন্দোলনগুলিরও প্রাণকেন্দ্র এই কলকাতা। এই কারণে এই শহরকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী নামে অভিহিত করা হয়।[৮] আবার কলকাতা শহরে বিভিন্ন ভাষা, জাতি ও ধর্মাবলম্বী মানুষদের শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সহাবস্থানের জন্য এই শহরকে আনন্দ নগরী বা সিটি অফ জয় নামেও অভিহিত করা হয়। রাজা রামমোহন রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, রোনাল্ড রস, সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সি ভি রামন, অমর্ত্য সেন প্রমুখ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের কর্মভূমি কলকাতা মহানগরী তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য আজও বিশ্ববাসীর চোখে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

পরিচ্ছেদসমূহ

নামকরণ [সম্পাদনা]

কালীঘাট মন্দির, ১৮৮৭ খ্রি.; একটি মতে, "কালীক্ষেত্র" শব্দটি থেকে "কলিকাতা" নামটির উৎপত্তি

ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বে বর্তমান কলকাতা অঞ্চলে সুতানুটি, গোবিন্দপুর, কলিকাতা নামে তিনটি গ্রাম ছিল। বাংলা "কলকাতা" ও ইংরেজি "ক্যালকাটা" নামদুটির উৎস এই "কলিকাতা" নামটি।[৯] "কলিকাতা" নামটির ব্যুৎপত্তি প্রসঙ্গে গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। একটি মতে, "কলিকাতা" শব্দটির উৎপত্তি "কালীক্ষেত্র" শব্দ থেকে; যার অর্থ "দেবী কালীর রাজ্য", মতান্তরে, এই শব্দটির উৎস বাংলা "কিলকিলা" শব্দটি; যার অর্থ "চ্যাপ্টা অঞ্চল"।[১০] অপর একটি মতে, খাল (নালা) শব্দটির সঙ্গে কাট্টা (খনন করা) শব্দটি যুক্ত হয়ে এই নামটি সৃষ্টি করেছে।[১১] আবার অন্য একটি মতে এই অঞ্চলে উন্নত মানের কলি (কলিচুন) ও কাতা (নারকেল দড়ি) উৎপাদিত হত বলে এই অঞ্চলের নাম হয় কলিকাতা[১২] ভাষাতাত্ত্বিক সুকুমার সেন অবশ্য কলিকাতা নামটির একটি সম্পূর্ণ ভিন্নতর ব্যুৎপত্তি ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে:[১৩]

'কলিকাতা' – এই পরগণা নামটি এসেছে ফারসিতে গৃহীত দুটি আরবি শব্দের সংযোগে, - 'কলি' (qali) মানে "অস্থির; নির্বোধ", এবং 'কাতা' (qatta) মানে "বদমাইস দল; খুনেরা", নামটি খুবই সঙ্গত হয়েছিল। কেননা গঙ্গার পূর্বতীর ভাগের খাড়ি, বাদা ও জঙ্গল জলদস্যু, স্থল-ডাকাতি ও বিবিধ দেশি-বিদেশি বদমাইসদের পালিয়ে লুকোবার স্থান ছিল।

২০০১ সালে কলকাতার সরকারি ইংরেজি নাম "ক্যালকাটা" ("Calcutta") পরিবর্তন করে "কলকাতা" ("Kolkata") করা হয়। কেউ কেউ এই নাম পরিবর্তনকে শহরের ব্রিটিশ উত্তরাধিকার সূত্রটি মুছে ফেলার এক প্রচেষ্টা রূপে দেখেছেন।[১৪] বিদেশি গণমাধ্যমের সর্বত্র এই নাম পরিবর্তনকে গ্রহণ করা হয়নি। তবে বিবিসি "বোম্বাই"-এর বদলে "মুম্বই"[১৫] এবং "ক্যালকাটা"-র বদলে "কলকাতা"[১৬] নামদুটি গ্রহণ করেছে।

ইতিহাস [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতার ইতিহাস

প্রাক-ব্রিটিশ যুগ [সম্পাদনা]

ফোর্ট উইলিয়াম, কলকাতা, উইলিয়াম উড অঙ্কিত, ১৮২৮ খ্রি.

কলকাতার নিকটবর্তী চন্দ্রকেতুগড়ে[১৭] প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালিয়ে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে এই অঞ্চলটি বিগত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে জনবসতিপূর্ণ।[১৮] মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একাধিক গ্রন্থে হুগলি নদীর তীরবর্তী কলিকাতা গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিপ্রদাস পিপলাইয়ের মনসাবিজয় কাব্য (১৪৯৫ খ্রি.), মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কবিকঙ্কণ চণ্ডী (১৫৯৪-১৬০৬ খ্রি.), সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতী (১৬৪৫–৫২ খ্রি.), কৃষ্ণরাম দাসের কালিকামঙ্গল (১৬৭৬–৭৭ খ্রি.), সনাতন ঘোষালের ভাষা-ভাগবত (১৬৭৯–৮০ খ্রি.) ও কৃষ্ণদাসের নারদপুরাণ (১৬৯২ খ্রি.)।[১৯][২০] ১৫৮২ সালে রাজা টোডরমলের নির্দেশে সমগ্র বাংলা সুবা (প্রদেশ) জরিপ করে ওয়ালিশ-ই-জমা তুমার নামে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরি (১৫৯০ খ্রি.) গ্রন্থে উদ্ধৃত এই তালিকাটিতে "কলিকাতা" গ্রামটির উল্লেখ রয়েছে।[১৯][২০] এছাড়াও গোলাম হোসেন সেলিম রচিত রিয়াজ-উস-সালাতিন (১৭৮৬ খ্রি.) নামক একটি ফারসি গ্রন্থেও "কলিকাতা" গ্রামের উল্লেখ রয়েছে।[১৯]১৬৯০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় বাণিজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এই অঞ্চলে পদার্পন করে। এই সময় থেকেই শহর কলকাতার লিখিত ইতিহাসের সূচনা। জব চার্নক নামে কোম্পানির এক প্রশাসককে সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকগণ কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা মনে করতেন।[১০] যদিও আধুনিক গবেষকগণ এই মত খণ্ডন করেছেন। ২০০৩ সালে একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেন যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা অভিধায় অভিহিত করা যাবে না।[২১]

সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দী [সম্পাদনা]

ফোর্ট উইলিয়াম, কলকাতা, ১৭৩৫
সেকালের কলকাতা বন্দরে জাহাজ থেকে হাতি নামানোর দৃশ্য, হারপারস উইকলি থেকে, ১৮৫৮ খ্রি.

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে বর্তমান কলকাতা অঞ্চলটি সুতানুটি, গোবিন্দপুরডিহি কলিকাতা নামে তিনটি গ্রামে বিভক্ত ছিল। গ্রাম তিনটি ছিল বাংলার নবাবের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে। এই সময় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ওলন্দাজ, পর্তুগিজফরাসি শক্তিগুলিকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে ইংরেজ কর্তৃপক্ষ গোবিন্দপুরে একটি দুর্গনির্মাণের পরিকল্পনা করেন। ১৭০২ সালে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়।[২২] এই দুর্গটি ছিল একাধারে একটি সেনানিবাস ও আঞ্চলিক সেনা কার্যালয়। কলকাতা "প্রেসিডেন্সি সিটি" ঘোষিত হয় এবং পরে বাংলা প্রেসিডেন্সির সদরে পরিণত হয়।[২৩] এই সময় ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে কোম্পানির ছোটোখাটো সংঘর্ষ লেগেই থাকত। ফরাসিদের ঠেকাতে ১৭৫৬ সালে কোম্পানি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের সংস্কার শুরু করে। বাংলার তদনীন্তন নবাব সিরাজদ্দৌলা এই সামরিক আয়োজনের প্রতিবাদ জানালেও ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেননি। ক্ষুব্ধ সিরাজ এরপর কলকাতা আক্রমণ করে দুর্গ দখল করে নেন এবং ইংরেজদের কলকাতা থেকে বিতাড়িত করেন। এরপরই ইংরেজরা কুখ্যাত অন্ধকূপ হত্যার গল্প রটনা করে।[২৪] অবশ্য এক বছর পরে রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী কলকাতা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল।[২৪] ১৭৭২ সালে কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষিত হয়। পরবর্তীকালে ১৮৬৪ সাল থেকে ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী অধুনা উত্তরাখণ্ড রাজ্যের শৈলশহর সিমলায় সাময়িকভাবে স্থানান্তরিত করার রেওয়াজ শুরু হয়।[২৫] ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে কলকাতার চারপাশের জলাভূমিগুলি বুজিয়ে ফেলা হয়। হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠে গভর্নমেন্ট প্লেস বা অফিসপাড়া। লর্ড ওয়েলেসলির (গভর্নর-জেনারেল ১৭৯৭-১৮০৫) শাসনকালে শহরের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছিল। তাঁর আমলেই কলকাতার অধিকাংশ সরকারি ভবনের নির্মাণকার্য শুরু হয়। এই ভবনগুলির বিশালতা ও স্থাপত্যসৌকর্যই কলকাতাকে "প্রাসাদ নগরী" বা "সিটি অফ প্যালেসেস" সম্মান প্রদান করেছিল।[২৬] অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আফিম ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্রও ছিল কলকাতা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আফিম কলকাতায় নিলামে উঠত এবং তারপর জাহাজবন্দী করে তা চীনে পাঠানো হত।[২৭]

বাংলার নবজাগরণ [সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমান থেকে তোলা কলকাতা বন্দরের দৃশ্য, ১৯৪৫ খ্রি.
মূল নিবন্ধ: বাংলার নবজাগরণ

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতা শহর দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শহরের দক্ষিণে যে অংশে ব্রিটিশরা বাস করতেন সেটিকে বলা হত হোয়াইট টাউন এবং উত্তরে যে অংশে ভারতীয়েরা বাস করত সেটিকে বলা হত ব্ল্যাক টাউন।[২৮] ১৮৫০-এর দশক থেকে কলকাতা শহর বস্ত্রবয়ন ও পাটশিল্পে বিশেষ সমৃদ্ধি অর্জন করতে শুরু করে। এর ফলে ব্রিটিশ সরকার এখানে রেলপথ ও টেলিগ্রাফ প্রকল্পের মতো পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেন। ব্রিটিশ ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে শহুরে বাঙালিদের মধ্যে এক নব্য বাবু শ্রেণির উদ্ভব ঘটেছিল। এই বাবুরা ছিলেন সাধারণত উচ্চবর্ণীয় হিন্দু, ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ও সংবাদপত্রের পাঠক। পেশাগতভাবে এঁরা ছিলেন জমিদার, সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক।[২৯] ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার নবজাগরণ নামে পরিচিত যে যুগান্তকারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার আন্দোলন বাঙালি সমাজের চিন্তাধারা ও রুচির আমূল পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিল তার পটভূমিও ছিল এই কলকাতা শহর। বাংলার নবজাগরণ শুধু বাংলা নয়, সমগ্র ভারতের পথপ্রদর্শক হয়েছিল। এই আন্দোলনের পুরোধাপুরুষেরা ছিলেন রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২–১৮৩৩), হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯–১৮৩১), রামতনু লাহিড়ী (১৮১৩–১৮৯৮), মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭–১৯০৫), ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১), বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪), রামকৃষ্ণ পরমহংস (১৮৩৬–১৮৮৬), কেশবচন্দ্র সেন (১৮৩৮–১৮৮৪), স্বামী বিবেকানন্দ (১৮৬৩–১৯০২) প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন [সম্পাদনা]

কলকাতার রাস্তায় প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসের দাঙ্গায় নিহতদের মৃতদেহ, ১৯৪৬ খ্রি.

১৮৮৩ সালে রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেন। এটিই ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতের প্রথম রাজনৈতিক সম্মেলন।[১০] এরপর ধীরে ধীরে কলকাতা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষত বিপ্লবী সংগঠনগুলির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় কলকাতা শহর। ১৯০৫ সালে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে কলকাতায় ব্যাপক গণবিক্ষোভ ও ব্রিটিশ দ্রব্য বয়কট (স্বদেশী আন্দোলন) শুরু হয়।[৩০] এই সব গণআন্দোলনের তীব্রতা এবং দেশের পূর্বভাগে অবস্থিত কলকাতা থেকে দেশ শাসনের প্রশাসনিক অসুবিধার কারণে ১৯১১ সালে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হয়।[৩১] ১৯২৩ সালে ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্টের অধীনে কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন কর্তৃপক্ষ কলকাতা পৌরসংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৪ সালে এই পৌরসংস্থার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ। পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্র বসু, বিধানচন্দ্র রায়, আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রমুখ বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এই পদ অলংকৃত করেছিলেন।[৩২] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানি সেনাবাহিনী একাধিকবার কলকাতা শহর ও বন্দরে বোমা নিক্ষেপ করেছিল।[৩৩] কলকাতায় জাপানি বোমাবর্ষণের প্রথম ও শেষ ঘটনাটি ঘটে যথাক্রমে ১৯৪২ সালের ২০ ডিসেম্বর[৩৪] এবং ১৯৪৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর।[৩৫] যুদ্ধের সময় কলকাতায় পঞ্চাশের মন্বন্তরে লক্ষাধিক মানুষ অনাহারে মারা যান। এই মন্বন্তরের কারণ ছিল সামরিক তাণ্ডব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।[৩৬] ১৯৪৬ সালে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবিতে এক ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কলকাতায় চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।[৩৭][৩৮][৩৯] ভারত বিভাগের সময়ও বহু মানুষ সাম্প্রদায়িকতার শিকার হন। দেশভাগের পর বহুসংখ্যক মুসলমান পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান এবং সেই দেশের লক্ষ লক্ষ হিন্দু কলকাতায় চলে আসেন। এর ফলে শহরের জনপরিসংখ্যানে একটি বিরাট পরিবর্তন সূচিত হয়।[৪০]

স্বাধীনোত্তর যুগ [সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলে ব্রিটিশ বাংলা প্রেসিডেন্সির হিন্দুপ্রধান পশ্চিমাঞ্চল পশ্চিমবঙ্গ নামে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়। কলকাতা এই রাজ্যের রাজধানীর মর্যাদা পায়। এই সময় দেশভাগ-জনিত তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও পূর্ব পাকিস্তান থেকে হিন্দু শরণার্থীদের ব্যাপক হারে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ রাজ্যের তথা শহরের অর্থনীতির উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এই সমস্যার মোকাবিলা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় একাধিক কার্যকরী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন। কলকাতার জনসংখ্যার চাপ কমাতে শহরের উপকণ্ঠে চব্বিশ পরগনায় (অধুনা উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা) লবনহ্রদ (অধুনা বিধাননগর) ও নদিয়া জেলায় কল্যাণী নামে দুটি পরিকল্পিত উপনগরী গড়ে তোলা হয়। কলকাতা বন্দরের সাহায্যার্থে সহযোগী হলদিয়া বন্দর নির্মিত হয়। হুগলি নদীর নাব্যতা রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও গৃহীত হয়।[৪১] তা সত্ত্বেও বিধানচন্দ্রের মৃত্যুর পর ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ধর্মঘট ও জঙ্গী নকশাল আন্দোলনের ফলে শহরের পরিকাঠামো ব্যবস্থা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে শহরের অর্থনৈতিক অবক্ষয়ের সূত্রপাত ঘটে।[৪২] ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের বহুসংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসাবে কলকাতায় আশ্রয় নিলে শহরের অর্থনীতির উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।[৪৩]

বামফ্রন্টের একটি জনসভা

১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগে কলকাতাকে ছাপিয়ে মুম্বই (তৎকালীন নাম বোম্বাই) ভারতের সর্বাধিক জনবহুল শহরের শিরোপা অর্জন করে। ১৯৯০-এর দশকে ভারত সরকারের অর্থনৈতিক উদারীকরণের নীতি শহরের অর্থনৈতিক হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে অনেকাংশে সহায়ক হয়। ২০০০ সাল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প কলকাতার অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। শহরের উৎপাদন ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।[৪৪] বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কলকাতা শহর ছিল ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের ৩৩ বছরের সিপিআই(এম)-নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট শাসন বিশ্বের দীর্ঘতম মেয়াদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকারের একটি উদাহরণ।[৪৫][৪৬]

ভূগোল [সম্পাদনা]

পূর্ব কলকাতা জলাভূমি
স্পট স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে কলকাতা

কলকাতা শহর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের পূর্বদিকে ২২°৩৩′ উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮°২০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শহরের গড় উচ্চতা ১.৫ মিটার (৫ ফুট) থেকে ৯ মিটারের (৩০ ফুট) মধ্যে।[৪৭] উত্তর-দক্ষিণে শহরের বিস্তার হুগলি নদীর পাড় বরাবর। শহরের বেশিরভাগ এলাকাই আদতে ছিল জলাজমি। শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই সব জলাজমি ভরাট করে বসতযোগ্য করে তোলা হয়।[৪৮] অবশিষ্ট জলাভূমি এখন 'পূর্ব কলকাতা জলাভূমি' নামে পরিচিত। এই জলাভূমিটি রামসার কনভেনশন অনুযায়ী একটি "আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি"।[৪৯]

সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমির বেশিরভাগ এলাকার মতো, কলকাতার মাটি ও জল মূলত পলিজ (alluvial) প্রকৃতির। শহরের মাটির তলায় কাদা, পলি, বিভিন্ন ক্রমের বালি ও নুড়ি নিয়ে গঠিত কোয়্যাটারনারি যুগের পললস্তর দেখা যায়। পললস্তরগুলি দুটির কাদার স্তরের মধ্যে বদ্ধ রয়েছে। নিচের কাদার স্তরটির গভীরতা ২৫০ মিটার (৮২০ ফুট) থেকে ৬৫০ মিটার (২,১৩৩ ফুট) এবং উপরের কাদার স্তরটির গভীরতা ১০ মিটার (৩৩ ফুট) থেকে ৪০ মিটার (১৩১ ফুট)।[৫০] ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের হিসেব অনুযায়ী, কলকাতা শহর তৃতীয় ভূ-কম্পী ক্ষেত্রের অন্তর্গত, যার মাত্রা ১ (I) থেকে ৫ (V) (ভূমিকম্পের বৃদ্ধিপ্রবণতা অনুসারে)।[৫১] আবার রাষ্ট্রসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির রিপোর্ট অনুযায়ী বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড় ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা “অতি উচ্চ ক্ষয়ক্ষতি-প্রবণ” এলাকা।

নগরাঞ্চলের গঠন [সম্পাদনা]

মাদার টেরিজা সরণির দক্ষিণে কলকাতার দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য অঞ্চল

কলকাতা পৌরসংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত নগরাঞ্চলের মোট আয়তন ১৮৫ বর্গকিলোমিটার।[৫২] অন্যদিকে, ২০০৬ সালের হিসেব অনুযায়ী বৃহত্তর কলকাতা নামে পরিচিত শহরের নগরাঞ্চলীয় বিস্তারের মোট আয়তন ১৭৫০ বর্গকিলোমিটার।[৫২] এই অঞ্চলের মধ্যে ডাকবিভাগের ১৫৭টি অঞ্চল রয়েছে।[৫৩] বৃহত্তর কলকাতার শাসনকর্তৃত্ব ৩৮টি পুরসভা সহ একাধিক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। বৃহত্তর কলকাতায় মোট ৭২টি শহর এবং ৫২৭টি ছোটো শহর ও গ্রাম রয়েছে।[৫২] কলকাতা মহানগরীয় জেলার শহরতলি অঞ্চলটি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলিনদিয়া জেলা পর্যন্ত প্রসারিত।

মূল শহরের পূর্ব থেকে পশ্চিমের বিস্তার অত্যন্ত সংকীর্ণ। পশ্চিমে হুগলি নদী থেকে পূর্বে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস পর্যন্ত শহরের প্রস্থ মাত্র ৫-৬ কিলোমিটার।[৫৪] উত্তর থেকে দক্ষিণে শহরের প্রসার মোটামুটিভাবে তিন ভাগে বিভক্ত – উত্তর কলকাতা, মধ্য কলকাতা ও দক্ষিণ কলকাতা। শ্যামপুকুর, হাতিবাগান, শ্যামবাজার, বাগবাজার, কুমোরটুলি, জোড়াসাঁকো প্রভৃতি কলকাতার পুরনো এলাকাগুলি উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। দক্ষিণ কলকাতার বিস্তার স্বাধীনতার পর। টালিগঞ্জ, ভবানীপুর, আলিপুর, নিউ আলিপুর, ঢাকুরিয়া প্রভৃতি শহরের বিলাসবহুল অঞ্চল এই দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত। শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত বিধাননগর (অন্যনামে সল্টলেক বা লবনহ্রদ) কলকাতার একটি পরিকল্পিত স্যাটেলাইট টাউনশিপ। জ্যোতি বসু নগর নামে আরও একটি পরিকল্পিত টাউনশিপও কলকাতার উত্তর-পূর্ব দিকে গড়ে উঠছে। কলকাতার পশ্চিমে হাওড়া শহরের প্রান্তে গড়ে উঠছে কলকাতা পশ্চিম আন্তর্জাতিক মহানগরী নামে আর একটি শহরও। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও দ্রুত জনবসতির বিস্তার ঘটছে।

মধ্য কলকাতা শহরের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ বা বিবাদীবাগকে কেন্দ্র করে এখানেই গড়ে উঠেছে কলকাতার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য অঞ্চল। মহাকরণ, জিপিও, হাইকোর্ট, লালবাজার পুলিশ সদর, কলকাতা পৌরসংস্থা সহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় এখানে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ময়দান নামক এক সুবৃহৎ মাঠে বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠান ও রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন হয়ে থাকে। কলকাতার দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে মাদার টেরিজা সরণির দক্ষিণে। এখানেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় রয়েছে।

জলবায়ু [সম্পাদনা]

কলকাতার আকাশে শরতের মেঘ।

কলকাতার জলবায়ু "ক্রান্তীয় সাভানা" প্রকৃতির ("কোপেন জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ" অনুসারে Aw)। বার্ষিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৮° সেন্টিগ্রেড এবং মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯°-৩০° সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে।[৫৫] এখানে গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র। এই সময় সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৩০° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি থাকলেও মে-জুন মাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা প্রায়শই ৪০° সেন্টিগ্রেড ছাড়িয়ে যায়।[৫৫] শীতকাল সাধারণত মাত্র আড়াই মাস স্থায়ী হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৯°-১১° সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি থাকে। শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড যথাক্রমে ৪৩.৯° সেন্টিগ্রেড ও ৫° সেন্টিগ্রেড।[৫৫] সাধারণভাবে মে মাস শহরের উষ্ণতম মাস। এই সময় শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা থাকে যথাক্রমে ৩৭° সেন্টিগ্রেড ও ২৭° সেন্টিগ্রেড। অন্যদিকে জানুয়ারি শীতলতম মাস। জানুয়ারির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৩° সেন্টিগ্রেড ও ১২° সেন্টিগ্রেড। গ্রীষ্মের শুরুতে প্রায়শই শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই ধরনের ঝড়বৃষ্টি প্রকৃতিগতভাবে পরিচলন। এর স্থানীয় নাম কালবৈশাখী।[৫৬]

দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাটি শহরে বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য দায়ী।[৫৭] বর্ষাকাল সাধারণত স্থায়ী হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। শহরের বার্ষিক ১৫৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের অধিকাংশই এই সময়ে ঘটে থাকে। অগস্ট মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকে। এই সময় গড়ে ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কলকাতা বার্ষিক ২,৫২৮ ঘণ্টার সূর্যালোক পেয়ে থাকে। অধিকাংশ সূর্যালোক প্রাপ্তির সময় মার্চ মাস।[৫৮] দূষণ কলকাতার অন্যতম প্রধান সমস্যা। ভারতের অন্যান্য প্রধান শহরের তুলনায় কলকাতার সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার] বা এসপিএম-এর হার এতটাই বেশি যে এর ফলে প্রায়শই ধোঁয়া ও কুয়াশা সৃষ্টি হয়।[৫৯][৬০] মারাত্মক বায়ুদূষণের ফলে শহরে ফুসফুসের ক্যান্সার সহ দূষণসৃষ্ট অসুখবিসুখ বৃদ্ধি পেয়েছে।[৬১]

অর্থনীতি [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতার অর্থনীতি
কগনিজেন্ট টেকনোলজি সলিউশনস ভবন, বিধাননগর, সেক্টর ফাইভ ইলেকট্রনিকস কমপ্লেক্স
ডিএলএফ আইটি পার্ক, রাজারহাট নিউটাউন

কলকাতা পূর্ব ভারতউত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র। কলকাতায় অবস্থিত কলকাতা শেয়ার বাজার ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ার বাজার।[৬২] এটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্দরও বটে। পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি কলকাতাতেই অবস্থিত। একদা ভারতের রাজধানী ও অগ্রণী শিল্পনগরী কলকাতা স্বাধীনোত্তর কালে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জঙ্গি ট্রেড-ইউনিয়ন আন্দোলনের শিকার হয়ে দ্রুত আর্থিক অবনতির পথে এগিয়ে যায়।[৬৩] ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত একদিকে যেমন মূলধন বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে, তেমনি অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বৃহৎ কলকারখানাগুলি। অধিকাংশ কলকারখানাগুলির উৎপাদন কমে আসে। অনেকেই ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেন।[৬৩] মূলধন ও সম্পদের এই হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্ববাজারে এই অঞ্চলে উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী দ্রব্যগুলির (যেমন পাট ইত্যাদি) চাহিদা হ্রাস। ফলে শহরের আর্থিক অবস্থায় গুরুতর সংকট দেখা দেয়।[৬৪]

১৯৯০-এর দশকে ভারতীয় অর্থনীতির উদারীকরণ কলকাতার ভাগ্যোন্নয়নে বিশেষ সহায়ক হয়। আজও নমনীয় উৎপাদন কলকাতার অর্থব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য। ঘরোয়া সেক্টরগুলি তাই এখানে মোট শ্রমশক্তির ৪০% অধিকার করে আছে।[৬৫] উদাহরণস্বরূপ, ২০০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ফুটপাথের হকারদের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮,৭৭২ কোটি ভারতীয় টাকা (প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।[৬৬] শহরের অন্যতম বৃহৎ কর্মশক্তি হল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীগণ। এছাড়াও বিভিন্ন কায়িক ও বৌদ্ধিক শ্রমিকসহ শহরে একটি বৃহৎ সংখ্যক অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিক জনসংখ্যাও পরিলক্ষিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প কলকাতার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে একটি বিশিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেছে। এই শহরে আইটি সেক্টরের বৃদ্ধির হার বছরে ৭০%, যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ।[৪৪] বিগত কয়েক বছরে আবাসন পরিকাঠামো সেক্টরে উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্পও।[৬৭]

বড় বড় ভারতীয় কর্পোরেশনগুলি দ্বারা পরিচালিত অনেকগুলি শিল্প ইউনিট কলকাতায় অবস্থিত। আইটিসি লিমিটেড, ভারত সরকার টাঁকশাল, এক্সাইড ইন্ডাস্ট্রিজ, হিন্দুস্তান মোটরস, ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজ, বাটা ইন্ডিয়া, বিড়লা কর্পোরেশন, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন, ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইণ্ডিয়া, ইউকো ব্যাংকএলাহাবাদ ব্যাংক ইত্যাদি বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য সংস্থার প্রধান কার্যালয় কলকাতায় অবস্থিত। সাম্প্রতিককালে, কেন্দ্রীয় সরকারের "পুবে তাকাও" ("লুক ইস্ট") নীতির মতো বিভিন্ন কর্মসূচি সিক্কিমের নাথুলা গিরিপথ খুলে দেওয়ায় চীনের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিয়েছে। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলি ভারতীয় বাজারে প্রবেশে ইচ্ছুক হওয়ায় কলকাতার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই সুবিধাজনক।[৬৮][৬৯]

প্রশাসন [সম্পাদনা]

কলকাতার নগর-প্রশাসক
মহানাগরিক
নগরপাল
রঞ্জিত কুমার পচনন্দা[৭০]
কলকাতা পৌরসংস্থার ওয়ার্ড মানচিত্র

কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা, রাজ্য সচিবালয় মহাকরণমুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, কলকাতা হাইকোর্ট সহ একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার প্রধান কার্যালয় বা আঞ্চলিক কার্যালয় কলকাতায় অবস্থিত।

কলকাতার নগর প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক পরিষেবাগুলির দায়িত্ব একাধিক সরকারি সংস্থার হাতে ন্যস্ত। এই সকল সংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের সঙ্গে প্রাবৃত। কলকাতা এই জাতীয় অন্তত চারটি এক্তিয়ার এলাকার অন্তর্গত। এগুলি হল:

১. কলকাতা জেলা,
২. কলকাতা পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা,
৩. কলকাতা পৌরসংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা,
৪. বৃহত্তর কলকাতা বা কেএমডিএ এলাকা।

পৌরসংস্থা [সম্পাদনা]

কলকাতার বর্তমান মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়
মূল নিবন্ধ: কলকাতা পৌরসংস্থা

কলকাতার স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসন কর্তৃপক্ষ হল কলকাতা পৌরসংস্থা। ১৯২৩ সালে আধুনিক স্বায়ত্বশাসনমূলক সংস্থা হিসেবে এই পৌরসংস্থা গঠিত হয়।[৭১] ১৯৮০ সালে কলকাতা পৌরসংস্থা আইন সংশোধনের মাধ্যমে এই পৌরসংস্থা তার বর্তমান চেহারাটি লাভ করে।[৭২] বর্তমানে কলকাতার সমগ্র এলাকাটি ১৫টি বরো[৭৩] ও মোট ১৪১টি ওয়ার্ডে[৭৪] বিভক্ত। ১৯৮০ সালের পৌর আইনের ভিত্তিতে কলকাতা পৌরসংস্থায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। এই নির্বাচনে বামফ্রন্ট জয়লাভ করেছিল। এরপর ১৯৯০ ও ১৯৯৫ সালের নির্বাচনেওবামফ্রন্টই ক্ষমতা দখল করে। ২০০০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৫ সালে পুনরায় বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিকতম নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পুনরায় জয়লাভ করেছে।[৭৫] কলকাতা পৌরসংস্থায় বর্তমানে তিনটি কর্তৃপক্ষ রয়েছে: পৌরনিগম, মহানাগরিক (মেয়র) ও সপরিষদ-মহানাগরিক। পৌরসংস্থার ১৪১ জন পৌরপিতা/পৌরমাতা (কাউন্সিলর) শহরের এক একটি ওয়ার্ড থেকে নাগরিকদের ভোটে প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হন।[৭২] নির্বাচিত পৌরপিতা/পৌরমাতাগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মহানাগরিক নির্বাচিত করেন। মহানাগরিক, উপমহানাগরিক ও ১০ জন পৌরপিতা/পৌরমাতাকে নিয়ে গঠিত হয় সপরিষদ-মহানাগরিক।[৭২] পৌরসংস্থার প্রধান কাজ হল জল সরবরাহ, শহরের রাস্তাঘাট ও প্রকাশ্য স্থানসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তার আলোকদান, বাড়িনির্মাণ নিবন্ধীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ, পয়ঃপ্রণালী রক্ষণাবেক্ষণ ও কঠিন বর্জ্য পদার্থের অপসারণ ইত্যাদি।[৭৬]

জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা [সম্পাদনা]

কলকাতার অন্যান্য শাসনবিভাগীয় ও আরক্ষা-সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষগুলি হল: কলকাতা জেলার সমাহর্তা (কালেকটর), কলকাতা পুলিশ, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সমাহর্তা তথা জেলাশাসক এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার (এসপি)।[৭৭] কলকাতায় শেরিফ নামে একটি নামসর্বস্ব সাম্মানিক পদও রয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য কলকাতায় একাধিক নিম্ন আদালত, দেওয়ানি মামলার জন্য ছোটো আদালত ও ফৌজদারি মামলার জন্য দায়রা আদালত অবস্থিত। নগরপালের (পুলিশ কমিশনার) নেতৃত্বাধীন কলকাতা পুলিশ সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের অন্তর্গত।

সংসদীয় ক্ষেত্র [সম্পাদনা]

কলকাতা শহরের অধিকাংশ অঞ্চল ভারতীয় সংসদের কলকাতা উত্তরকলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রদুটির অন্তর্গত। দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার কয়েকটি অঞ্চল যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সুব্রত বক্সী[৭৮] এবং যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কবীর সুমন। তিনটি আসনই বর্তমানে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। কলকাতা মোট ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত। এগুলি হল: চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা, কাশীপুর-বেলগাছিয়া (কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্র);[৭৯] কসবা, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ (কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র);[৮০] এবং যাদবপুর ও টালিগঞ্জ (যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র)।[৭৯] সুব্রত বক্সী

জনপরিসংখ্যান [সম্পাদনা]

কলকাতার এক পুতুলওয়ালি।

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী, কলকাতার পৌর এলাকার জনসংখ্যা ৪৪৮৬৬৭৯ এবং কলকাতা মহানগরীয় অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ১,৪১,১২৫৩৬। লিঙ্গানুপাত প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৯১৯ জন নারী।[৮২] এই হার জাতীয় লিঙ্গানুপাত হারের তুলনায় কম; তার কারণ, অনেক উপার্জনশীল পুরুষ তাদের পরিবারের মহিলা সদস্যদের গ্রামে রেখে শহরে কাজ করতে আসেন। কলকাতার সাক্ষরতার হার ৮৮.৩৩ শতাংশ[৮৩]; যা জাতীয় সাক্ষরতার হার ৭৪.০৪ শতাংশের তুলনায় বেশি।[৮৪] নথিভুক্ত হিসেব অনুযায়ী কলকাতা পৌরসংস্থা অধিভুক্ত এলাকার বৃদ্ধির হার ৪.১ শতাংশ; যা ভারতের দশ লক্ষাধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট মহানগরগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন।[৮৫]

ভাষা [সম্পাদনা]

বাঙালিরা কলকাতার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী (৫৫ শতাংশ); মারোয়াড়িবিহারি সম্প্রদায় শহরের উল্লেখযোগ্য জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (২০ শতাংশ)।[৮৬] এছাড়াও কলকাতা প্রবাসী চীনা, তামিল, নেপালি, ওড়িয়া, তেলুগু, অসমীয়া, গুজরাটি, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, আর্মেনিয়ান, তিব্বতি, মহারাষ্ট্রীয়, পাঞ্জাবি, পারসি প্রভৃতি জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসভূমি। কলকাতার প্রধান ভাষা হল বাংলাইংরেজি; এছাড়াও হিন্দি, উর্দু, ওড়িয়া ও ভোজপুরি ভাষাও শহরের একাংশের বাসিন্দাদের দ্বারা কথিত হয়ে থাকে।

ধর্ম [সম্পাদনা]

কলকাতার ধর্মবিশ্বাস[৮৭]
ধর্ম শতাংশ
হিন্দুধর্ম
  
73%
ইসলাম
  
23%
খ্রিষ্টধর্ম
  
2%
জৈনধর্ম
  
1%

জনগণনা অনুসারে, কলকাতার জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ হিন্দু, ১৮ শতাংশ মুসলিম, ১ শতাংশ খ্রিষ্টান এবং ১ শতাংশ জৈন; অবশিষ্ট শিখ, বৌদ্ধ, ইহুদিজরথুস্ট্রীয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা অত্যন্ত অল্প।[৮৭] শহরের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ ২,০১১টি নথিভুক্ত এবং ৩,৫০০টি অনথিভুক্ত (মূলত দখলদার) বস্তিতে বাস করেন।[৮৮]

অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা [সম্পাদনা]

২০০৪ সালে দেশের ৩৫টি মহানগরের মধ্যে কলকাতায় সংঘটিত বিশেষ ও স্থানীয় আইনের আওতাভুক্ত অপরাধের হার ৬৭.৬ শতাংশ।[৮৯] ২০০৪ সালে কলকাতা পুলিশ ১০,৭৫৭টি ভারতীয় দণ্ডবিধির আওয়াভুক্ত মামলা নথিভুক্ত করে; যা সারা দেশে দশম স্থানের অধিকারী।[৯০] ২০০৬ সালে জাতীয় স্তরে যখন অপরাধ হার ছিল প্রতি এক লক্ষে ১৬৭.৭, তখন কলকাতায় এই হার ছিল ৭১; যা ভারতীয় মহানগরগুলির মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন হার।[৯১] কলকাতার সোনাগাছি অঞ্চল এশিয়ার বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লিগুলির অন্যতম; এখানে প্রায় ১০,০০০ যৌনকর্মী কাজ করেন।[৯২]

সংস্কৃতি [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতার সংস্কৃতি
Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: বিশিষ্ট কলকাতাবাসীদের তালিকা ও পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি

কলকাতা মহানগরী তার সাহিত্যিক, শৈল্পিক ও বৈপ্লবিক ঐতিহ্যগুলির জন্য বিশ্ববিদিত। এই শহর কেবলমাত্র ভারতের পূর্বতন রাজধানীই ছিল না, বরং আধুনিক ভারতের শিল্প ও সাহিত্য চেতনার জন্মস্থানও ছিল। শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি কলকাতাবাসীদের বিশেষ আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে; নতুন প্রতিভাকে গ্রহণ করার ঐতিহ্য কলকাতাকে তাই পরিণত করেছে "প্রচণ্ড সৃজনীশক্তিধর এক শহরে"।[৯৩] এই সকল কারণে কলকাতাকে অনেক সময় "ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী" বলে উল্লেখ করা হয়।

কলকাতার অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল শহরের ছোটো ছোটো অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পাড়া সংস্কৃতি। সাধারণত প্রত্যেক পাড়ায় একটি করে ক্লাবঘর সহ নিজস্ব সংঘ বা ক্লাব থাকে। অনেক সময় ক্লাবগুলির নিজস্ব খেলার মাঠও থাকে। পাড়ার বাসিন্দারা অভ্যাসগতভাবে এখানে এই সব ক্লাবঘরে আড্ডা দিতে আসেন; মাঝেমধ্যে এই সব আড্ডা হয়ে ওঠে মুক্তছন্দের বৌদ্ধিক আলাপআলোচনা।[৯৪] এই শহরে রাজনৈতিক দেওয়াললিখনেরও এক ঐতিহ্য লক্ষিত হয়; এই সব দেওয়াললিখনে কুরুচিপূর্ণ কেচ্ছাকেলেংকারির বর্ণনা থেকে শ্লেষাত্মক রঙ্গব্যঙ্গ, লিমেরিক, কার্টুন, ইস্তাহার – সবই বিধৃত হয়।

সাহিত্য [সম্পাদনা]

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - এশিয়ার প্রথম[৯৫] সাহিত্যে নোবেল বিজেতা[৯৬] এবং ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যের এই দিকপালের জন্ম ও মৃত্যু কলকাতায়।
Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: বাংলা সাহিত্য

ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে কলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্যিকদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হয়। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪), মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১), কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৮–১৯৭৬) ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) প্রমুখ। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেন শহরের পরবর্তী প্রজন্মের খ্যাতিমান সাহিত্যিকেরা। এঁদের মধ্যে উল্লেখনীয় হলেন জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪), বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪–১৯৫০), তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯–১৯৯৫) প্রমুখ। বর্তমান প্রজন্মের সাহিত্যিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৫), বুদ্ধদেব গুহ (জন্ম ১৯৩৬), মহাশ্বেতা দেবী (জন্ম ১৯২৬), সমরেশ মজুমদার (জন্ম ১৯৪৪), সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৬), সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৪) এবং জয় গোস্বামী (জন্ম ১৯৫৪) প্রমুখ।

সংগীত [সম্পাদনা]

Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: বাংলা সংগীত
কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত একটি নৃত্যানুষ্ঠান।

কলকাতা শহরের সাংগীতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ থেকেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বহির্বঙ্গ থেকেও বহু বিশিষ্ট সংগীতস্রষ্টা ও গায়ক কলকাতায় এসে বসতি স্থাপন করেন। এর ফলে অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলা গানে একটি বিশেষ কলকাতা-কেন্দ্রিক ধারার সৃষ্টি হয়, যা অধুনা "পুরাতনী" নামে পরিচিত।[৯৭] এই সময়কার সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় এবং উল্লেখযোগ্য সংগীতস্রষ্টা-গায়ক হলেন বাংলা টপ্পাসংগীতের জনক রামনিধি গুপ্ত (নিধুবাবু); তাঁর রচিত টপ্পাগান আজও জনপ্রিয়। নিধুবাবুই বাংলায় প্রথম দেশাত্মবোধক গান "নানান দেশে নানান ভাষা, বিনে স্বদেশীয় ভাষা মিটে কি আশা"-র রচয়িতা।[৯৮] সেযুগের অন্যান্য বিশিষ্ট সংগীতস্রষ্টা-গায়কেরা হলেন রাম বসু, হরু ঠাকুর, গোপাল উড়ে, রূপচাঁদ পক্ষী, শ্রীধর কথক প্রমুখ।[৯৭] ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলা গানে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িব্রহ্মসংগীতের অবদানও অনস্বীকার্য।[৯৭] কলকাতার জনসমাজে কবিগান, তরজা, আখড়াই-হাফ আখড়াই, টপ্পা প্রভৃতি গানের বিশেষ জনপ্রিয়তা ছিল।[৯৭]

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, বাংলা সাহিত্যে ও গানে এই বাড়ির সদস্যদের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন, রজনীকান্ত সেনকাজী নজরুল ইসলাম রচিত গানের চর্চা শুরু হয়। রবীন্দ্রসংগীত চর্চা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে কলকাতা এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী। এই শহরের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং "গীতবিতান", "রবিতীর্থ", "দক্ষিণী" প্রভৃতি রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষায়তন বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন। কলকাতা-কেন্দ্রিক উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীরা হলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক, কুন্দনলাল সায়গল, দেবব্রত বিশ্বাস, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুচিত্রা মিত্র, সাগর সেন, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সুমিত্রা সেন প্রমুখ; এবং একালের বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে প্রমিতা মল্লিক, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, শ্রাবণী সেন, ইন্দ্রাণী সেন, শ্রীকান্ত আচার্যের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নজরুলগীতির ক্ষেত্রে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ধীরেন বসু, অঞ্জলি মুখোপাধ্যায় প্রমুখ শিল্পীরা। দ্বিজেন্দ্রগীতি-অতুলপ্রসাদী-রজনীকান্তের গানে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, মঞ্জু গুপ্ত, শর্বাণী সেন, নূপুরছন্দা ঘোষ প্রমুখ।বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্বে কলকাতা-কেন্দ্রিক গীতিকার-সুরকার ও গায়ক-গায়িকারা বাংলা আধুনিক গানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন।[৯৯] এই সময়কার বিশিষ্ট গীতিকার-সুরকারেরা হলেন সলিল চৌধুরী, হিমাংশু দত্ত, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, নচিকেতা ঘোষ, মোহিনী চৌধুরী, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, কমল দাশগুপ্ত প্রমুখ।[৯৯] জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণচন্দ্র দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শচীন দেববর্মণ, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মান্না দে, কিশোরকুমার, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।[৯৯]

বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর অনুষ্ঠান।

১৯৯০-এর দশকের প্রথম ভাগ থেকে বাংলা সঙ্গীতের জগতে এক নতুন ধারার সূচনা ঘটে। এই ধারার বৈশিষ্ট্য লক্ষিত হয় বিভিন্ন বাংলা ব্যান্ডের গানে। কোনো কোনো ব্যান্ড আবার বাংলা লোকসঙ্গীতের সঙ্গে জ্যাজ ও অন্যান্য পাশ্চাত্য সঙ্গীতের ফিউশনও ঘটায়। তবে এই ধারায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবীর সুমন, নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত এবং বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু ও ক্যাকটাসের "জীবনমুখী গান"। এছাড়া কলকাতায় হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাউল-ভাটিয়ালি ইত্যাদি বাংলা লোকসংগীতও বিশেষ জনপ্রিয়। কলকাতার দুটি প্রধান সংগীত-উৎসব হল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত "বাংলা সংগীত মেলা" ও ডোভার লেন সংগীত সম্মেলন

নাটক [সম্পাদনা]

কলকাতার যাত্রাপালা, নাটক ও গ্রুপ থিয়েটারের ঐতিহ্য সুবিদিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩), দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০–১৮৭৩), গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪–১৯১২), দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩–১৯১৩), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১), ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ (১৮৬৩–১৯২৭) প্রমুখ কলকাতাকেন্দ্রিক নট ও নাট্যকারগণের হাত ধরে বাংলা নাট্যসাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পশ্চিমবঙ্গের বাংলা নাটকে যা বাস্তবমুখী গণনাট্য ও নবনাট্য ধারার সূচনা হয় তার পুরোধা ব্যক্তিত্বরা ছিলেন তুলসী লাহিড়ী (১৮৯৭–১৯৫৯), বিজন ভট্টাচার্য (১৯১৫–১৯৭৮), উৎপল দত্ত (১৯২৯–১৯৯৩), শম্ভু মিত্র (১৯১৫–১৯৯৭), তৃপ্তি মিত্র (১৯২৪–১৯৮৯) প্রমুখ নাট্যব্যক্তিত্বেরা। বাংলা নাটকের এই ঐতিহ্য বর্তমানে বহন করছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৫), মনোজ মিত্র (জন্ম ১৯৩৮), শাঁওলি মিত্র, ব্রাত্য বসু প্রমুখেরা। নাট্য গবেষণার উন্নতিকল্পে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি স্থাপন করেছে।

চলচ্চিত্র [সম্পাদনা]

সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২), ভারতীয় তথা বাংলা চলচ্চিত্রের এই দিকপাল ব্যক্তিত্বের কর্মস্থল ছিল কলকাতা। তাঁর বহু চলচ্চিত্রে প্রতিবিম্বিত হয়েছে এই শহরের জীবনযাত্রার ছবি।

বাংলা চলচ্চিত্রমূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্র কলকাতায় সমান জনপ্রিয়। শহরের ফিল্ম স্টুডিও টালিগঞ্জে অবস্থিত; এই কারণে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে "টলিউড" নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। একাধিক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের কর্মজীবন গড়ে উঠেছে এই শহরকে কেন্দ্র করেই। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্যজিৎ রায় (১৯২১–১৯৯২), মৃণাল সেন (জন্ম ১৯২৩), তপন সিংহ (১৯২৪-২০০৯), ঋত্বিক ঘটক (১৯২৫–১৯৭৬) এবং আধুনিক চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৪৪), অপর্ণা সেন (জন্ম ১৯৪৫) , গৌতম ঘোষ (জন্ম ১৯৫০) ও ঋতুপর্ণ ঘোষ (জন্ম ১৯৬২)। কলকাতার বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উত্তম কুমার (১৯২৬–১৯৮০), সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৫), সুচিত্রা সেন (জন্ম ১৯২৯), ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯২০–১৯৮৩), অপর্ণা সেন (জন্ম ১৯৪৫) , প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৬২) প্রমুখ।

স্থাপত্য [সম্পাদনা]

সায়েন্স সিটি, আধুনিক স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।

কলকাতার অনেক ভবন ও স্থাপনা গথিক, ব্যারোক, রোমান, প্রাচ্য, ও মুঘল স্থাপত্য সহ অন্যান্য ইন্দো-ইসলামীয় শৈলীর মোটিফ দ্বারা সজ্জিত। ঔপনিবেশিক যুগের অনেক উল্লেখযোগ্য ভবনই সুসংরক্ষিত এবং "ঐতিহ্যবাহী ভবন" হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। আবার অনেক ভবনই আজ কালের গহ্বরে বিলীয়মান।

গোর্খা যুদ্ধের (১৮১৪-১৬) স্মৃতিতে নির্মিত অক্টারলোনি মনুমেন্ট (১৮৪৮) মিশরীয়, সিরীয় ও তুর্কি স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণ দেখা যায়।[১০০] ১৯৬৯ সালে এই স্মৃতিস্তম্ভটি স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত হয়। তাই এখন এটি "শহীদ মিনার" নামে পরিচিত।[১০১] পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ গ্রিকো-রোমান স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।[১৮] কলকাতায় অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের রাজভবন ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারের কেডলস্টন হলের আদলে নির্মিত।[১০২] কলকাতা হাইকোর্টের মূল ভবনটি বেলজিয়ামের ইপ্রেসের ক্লথ হলের আদলে নির্মিত।[১০৩]

১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় সংগ্রহালয় এশিয়ার প্রাচীনতম জাদুঘর; ভারতের প্রাকৃতিক ইতিহাস ও ভারতীয় শিল্পের এক বিরাট সংগ্রহ এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।[১০৪] কলকাতার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে শহরের ইতিহাস-সংক্রান্ত একটি জাদুঘর রয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার দেশের অগ্রণী পাবলিক লাইব্রেরি। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস ও অন্যান্য শিল্প প্রদর্শশালায় নিয়মিত শিল্প প্রদর্শনী আয়োজিত হয়ে থাকে।

শিল্পকলা [সম্পাদনা]

কালীঘাটের পট কলকাতার নিজস্ব এক চিত্রশৈলী।

কলকাতার কালীঘাটের পট চিত্রকলা ভারতীয় শিল্পের একটি স্বতন্ত্র ঘরানা। কালীঘাট মন্দিরের কাছে উনিশ শতকে এই চিত্রশিল্প বিকাশ লাভ করেছিল। সেই সময় তীর্থযাত্রীরা স্মারক হিসেবে এই ছবিগুলি কিনে নিয়ে যেত। হিন্দু দেবদেবী, পৌরাণিক ঘটনাবলি ও সমসাময়িক নানা ঘটনাকে এক বিশেষ ধরনের ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলাই ছিল এই ঘরানার বৈশিষ্ট্য।

বিশ শতকের গোড়ার দিকে কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে "বেঙ্গল স্কুল অফ আর্ট" চিত্রশিল্পের বিশেষ এক ঘরানার জন্ম হয়। এই শিল্পকলার পুরোধাপুরুষ ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ক্যালকাটা স্কুল অফ আর্টের প্রভাবে মুঘল চিত্রকলা ও পাশ্চাত্য শিল্পীরীতির মিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলা চিত্রকলার এই নিজস্ব ঘরানাটির জন্ম দেন।[১০৫][১০৬] পরবর্তীকালে গণেশ পাইন, বিকাশ ভট্টাচার্য প্রমুখ শিল্পীরা এই ঘরানার দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হন।

উৎসব [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতার উৎসব
Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: দুর্গাপূজা, আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা, ও পঁচিশে বৈশাখ
কলকাতার প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা

কলকাতার উৎসবগুলি প্রকৃতিগতভাবে দুই প্রকার। যথা: ধর্মীয় উৎসব ও ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব। কলকাতার জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় হিন্দু উৎসবগুলি এই শহরে সর্বাধিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে থাকে। দুর্গাপূজা কলকাতার বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব।[১০৭] প্রতিবছর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিন-কার্তিক মাসে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতার দুর্গাপূজা শহরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণও বটে। হিন্দুদের অন্যান্য উৎসবগুলির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, কালীপূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা, পৌষ সংক্রান্তি, সরস্বতী পূজা, শিবরাত্রি, দোলযাত্রা, পয়লা বৈশাখ, রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী ও বিশ্বকর্মা পূজা;এবং অবাঙালি হিন্দুদের উৎসবগুলির মধ্যে দীপাবলি, ধনতেরস ও ছটপূজা সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামি উৎসবগুলির মধ্যে ঈদুল ফিতর, ঈদুজ্জোহা, মহরম, শবেবরাত ইত্যাদি; খ্রিষ্টান উৎসবগুলির মধ্যে বড়দিনগুড ফ্রাইডে; বৌদ্ধ উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা; জৈন উৎসব মহাবীর জয়ন্তী এবং শিখ উৎসব গুরু নানক জয়ন্তীও মহাসমারোহে পালিত হয়।

কলকাতায় রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান।

কলকাতার ধর্মনিরপেক্ষ উৎসবগুলির মধ্যে সর্বপ্রধান হল আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পঁচিশে বৈশাখ। এছাড়া কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, নান্দীকারের জাতীয় নাট্যমেলা, বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ছোটো বইমেলা ইত্যাদিও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়। কলকাতার চায়নাটাউনে প্রবাসী চীনাদের চৈনিক নববর্ষ উৎসবও কলকাতার অন্যতম দ্রষ্টব্য উৎসব। প্রতি বছর জুন মাসে কলকাতায় সমকামীদের গৌরব পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়; কলকাতার এই পদযাত্রা ভারতের প্রথম গৌরব পদযাত্রা।[১০৮]

খাদ্যাভ্যাস [সম্পাদনা]

কলকাতার খাদ্যতালিকার প্রধান উপাদান ভাত ও মাছের ঝোল,[১০৯] এবং রসগোল্লা, সন্দেশ ও মিষ্টি দই প্রভৃতি মিষ্টান্ন। ইলিশ, চিংড়িরুই সহ অন্যান্য মাছের নানা ব্যঞ্জনও কলকাতায় বেশ প্রচলিত। বেগুনি, কাটি রোল, ফুচকা প্রভৃতি পথখাদ্য এবং পূর্ব কলকাতার চায়নাটাউনের ভারতীয় চীনা খাদ্যও যথেষ্ট জনপ্রিয়।[১১০][১১১]

পোষাক-পরিচ্ছদ [সম্পাদনা]

কলকাতার পুরুষদের মধ্যে পাশ্চাত্য পোষাক পরার চল থাকলেও মহিলাদের মধ্যে সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। পুরুষেরা শার্ট, টি-শার্ট, ট্রাউজার্স, জিনস প্রভৃতি পরতে অভ্যস্থ। তবে উৎসবে অনুষ্ঠানে ধুতি-পাঞ্জাবি অথবা পাজামা-পাঞ্জাবি পরার চলই বেশি। অন্যদিকে মহিলারা শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজ পরেন। ধর্মপ্রাণ মুসলিম মহিলাদের বোরকা পরতেও দেখা যায়। অবশ্য তরুণীদের মধ্যে পাশ্চাত্য পোষাকও সমান জনপ্রিয়।

শিক্ষাব্যবস্থা [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতার শিক্ষাব্যবস্থা
কলকাতার স্কুলছাত্র
শহরের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (ছবিতে দেখা যাচ্ছে কলেজ স্ট্রিট শিক্ষাপ্রাঙ্গনের আশুতোষ ভবন ও শতবার্ষিকী ভবন)।
আইআইএম, কলকাতা দেশের একটি স্বনামধন্য বিজনেস স্কুল
পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় আইনবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়

কলকাতার বিদ্যায়তনগুলি প্রধানত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত অথবা বেসরকারি সংস্থাগুলির মালিকানাধীন। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির মধ্যে অনেক ধর্মীয় সংগঠন পরিচালিত বিদ্যালয়ও রয়েছে। বাংলাইংরেজি ভাষা শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হলেও হিন্দিউর্দুও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (আইসিএসই), কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই), জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় সংস্থা অথবা ব্রিটিশ ক্যারিকুলামের এ-লেভেল কর্তৃক অনুমোদিত। ১০+২+৩ পরিকল্পনার অধীনে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রছাত্রীদের "জুনিয়র কলেজ" (যা প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় নামেও পরিচিত) অথবা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুবিধাযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, সিবিএসই বা আইসিএসই অনুমোদিত বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রী কলা, বিজ্ঞান অথবা বাণিজ্য – এই তিন ধারার মধ্যে থেকে একটিকে বেছে নিতে হয়; যদিও অন্যান্য বৃত্তিমূলক ধারারও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনীয় পাঠক্রম সমাপ্ত করার পর ছাত্ররা সাধারণ বা পেশাগত ডিগ্রি শিক্ষাক্রমে ভর্তি হতে পারে।

কলকাতার স্বনামধন্য বিদ্যালয়গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হেয়ার স্কুল, সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল, লোরেটো স্কুল, সেন্ট জেমস স্কুল, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, সাউথ সাবার্বান স্কুল, বিধাননগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, লা মার্টিনিয়ার ক্যালকাটা, ক্যালকাটা বয়েজ স্কুল, সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুল, হিন্দু স্কুল, ডন বসকো স্কুল, নব নালন্দা হাই স্কুল, সেন্ট টমাস স্কুল ইত্যাদি।

কলকাতায় মোট দশটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এগুলি হল: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ জাতীয় আইনবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, পশ্চিমবঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া হাওড়ার বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটিরামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বারাসতের পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতার নিকটস্থ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়। বিধাননগরে ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আঞ্চলিক শাখাও রয়েছে। কলকাতার কলেজগুলি মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দ্বারা অনুমোদিত; অবশ্য বহিঃস্থ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত কলেজও কলকাতায় আছে। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যাই দুই শতাধিক।[১১২] বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতার উল্লেখযোগ্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, বেথুন কলেজ (ভারতের প্রথম মহিলা কলেজ) ও স্কটিশ চার্চ কলেজ। কলকাতায় অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি, বসু বিজ্ঞান মন্দির, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স, ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, সত্যেন্দ্রনাথ বসু ন্যাশানাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্সেস, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস অ্যাকাউন্টেন্টস অফ ইন্ডিয়া, এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

কলকাতায় এমবিবিএস/এমডি স্তরের পাঁচটি এবং এমডি ও উচ্চতর স্তরের নয়টি মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমবিবিএস/এমডি স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলি হল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা ন্যাশানাল মেডিক্যাল কলেজ, ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এসএসকেএম হাসপাতাল), নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ও আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এমডি বা উচ্চতর স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলি হল বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজি, স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন, রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ অফথ্যালামোলজি, চিত্তরঞ্জন সেবাসদন ও শিশুসদন, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ, বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, ড. বিধানচন্দ্র রায় স্মৃতি শিশু হাসপাতাল ও কম্যান্ড হাসপাতাল। হোমিওপ্যাথি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি, ক্যালকাটা হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মেট্রোপলিটান হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এশিয়ার প্রথম আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[১১৩]

গণমাধ্যম [সম্পাদনা]

কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্র ও টাওয়ার
  • বেতার ও টেলিভিশন: আকাশবাণী কলকাতা এই শহরের সরকারি বেতার সম্প্রচার সংস্থা। এছাড়া এই শহরে মোট চোদ্দোটি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে আকাশবাণীর দুটি ও বেসরকারি এফএম স্টেশন বারোটি। আকাশবাণীর এফএম স্টেশন দুটি হল এআইআর এফএম গোল্ড ও এআইআর এফএম রেইনবো। বেসরকারি এফএম স্টেশনগুলি হল রেডিও এসআরএফটিআই, রেডিও জেইউ, ফ্রেইন্ডস এফএম, বিগ এফএম,[১১৫] রেড এফএম, রেডিও ওয়ান, রেডিও মির্চি, ফিভার, মিঁয়াও এফএম, জ্ঞানবাণী, আমার এফএম ও পাওয়ার এফএম[১১৬]। সরকারি টেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থা দূরদর্শনের দুটি ফ্রি টেরেস্ট্রিয়াল চ্যানেল রয়েছে। এছাড়া চারটি এমএসও কেবল টেলিভিশনের মাধ্যমে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও অন্যান্য আঞ্চলিক চ্যানেল সম্প্রচার করে থাকে। বাংলায় চব্বিশ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেলগুলির অন্যতম স্টার আনন্দ, তারা নিউজ, কলকাতা টিভি, ২৪ ঘণ্টা ও এনইবাংলা।

পরিবহণ [সম্পাদনা]

বিদ্যাসাগর সেতু (দ্বিতীয় হুগলি সেতু) কলকাতা ও হাওড়া শহরকে যুক্ত করেছে
মূল নিবন্ধ: কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা
Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: রবীন্দ্র সেতু ও বিদ্যাসাগর সেতু

কলকাতায় গণ-পরিবহণ পরিষেবা দেয় কলকাতা শহরতলি রেল, কলকাতা মেট্রো, ট্রাম ও বাস। শহরতলি রেল কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির শহরগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হুগলি নদীর উপর অবস্থিত রবীন্দ্র সেতু (হাওড়া সেতু) ও বিদ্যাসাগর সেতু (দ্বিতীয় হুগলি সেতু) কলকাতার সঙ্গে হাওড়া শহরের যোগাযোগ রক্ষা করছে।

কলকাতা মেট্রো [সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: কলকাতা মেট্রো
কলকাতা মেট্রোর প্রান্তিক স্টেশন কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া)।

ভারতীয় রেলের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা মেট্রো দেশের প্রথম মেট্রোরেল পরিষেবা।[১১৭] হুগলি নদীর সমান্তরালে ২২.৩ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথে শহরের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর এই রেলপথ প্রসারিত। বর্তমানে বিধাননগরের সেক্টর ফাইভ অঞ্চল থেকে হাওড়ার রামরাজাতলা পর্যন্ত একটি দ্বিতীয় মেট্রো রেলপথের কাজও শুরু হয়েছে। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো) নামে এই মেট্রো রেলপথটি হুগলি নদীর তলদেশে একটি প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গের মাধ্যমে কলকাতা ও হাওড়া শহরদুটিকে সংযুক্ত করবে। মেট্রো রেলপথের ব্যাপক সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতায় মনোরেললাইট রেল স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে। ২০১০ সালে ভারতীয় রেল মন্ত্রক কলকাতা মেট্রো প্রণালী সম্প্রসারণের জন্য কয়েকটি নতুন লাইন নির্মান ঘোষণা করে , যেগুলি বর্তমানে নির্মানাধীন। প্রকল্পগুলি হলো যথাক্রমে জোকা থেকে বিবাদী বাগ , নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত , কবি সুভাষ(নিউ গড়িয়া) থেকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বরাহনগর - দক্ষিণেশ্বর - ব্যারাকপুর। এছাড়াও বর্তমানে উত্তর - দক্ষিণ লাইন এ আধুনিকীকরণ প্রকল্প চলছে । যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার কথা ভেবে বাতানুকুল রেক প্রচলন , স্বয়ংক্রিয় সিগনালিং ব্যবস্থা , স্বচালিত সিঁড়ি , আধুনিক টোকেন ও ফ্লিপগেট পদ্ধতিতে ভাড়া সংগ্রহ ইত্যাদি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে ।

সড়ক পরিবহণ [সম্পাদনা]

কলকাতার পুরনো বাস।
কলকাতার টানা-রিকশা।
মূল নিবন্ধ: ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি

কলকাতায় বাস পরিষেবা সরকারি ও বেসরকারে উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে থাকে। কলকাতার সরকারি বাস পরিবহণ সংস্থাগুলি হল কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহণ নিগম, ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি ইত্যাদি। কলকাতার ট্রাম পরিষেবার দায়িত্ব ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানির উপর ন্যস্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, কলকাতা ভারতের একমাত্র শহর যেখানে ট্রাম পরিষেবা অদ্যাবধি বিদ্যমান।[১১৮] তবে শহরের কয়েকটি অঞ্চলে শ্লথগতির ট্রাম চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়েছে। বর্ষাকালে অত্যধিক বৃষ্টিতে জল জমে মাঝে মাঝেই শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে।[১১৯][১২০]

কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার অপর এক বিশিষ্ট মাধ্যম হল ট্যাক্সি। কলকাতার ট্যাক্সিগুলি হলুদ রঙের হয়ে থাকে। অন্যান্য শহরে যখন টাটা ইন্ডিকা বা ফিয়েট গাড়ি ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে কলকাতার অধিকাংশ ট্যাক্সিই হিন্দুস্তান অ্যাম্বাস্যাডার মডেলের। কোনো কোনো নির্দিষ্ট রুটে অটোরিকশাও চলাচল করে। স্বল্পদুরত্বের যাত্রীরা অনেক সময় সাইকেল রিকশা ও হস্তচালিত রিকশাও ব্যবহার করে থাকেন। কলকাতায় বিভিন্ন রকমের গণ পরিবহণ মাধ্যম সুলভ বলে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা অন্যান্য শহরের তুলনায় অল্পই।[১২১] যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শহরে নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০০২ সালের একটি তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ববর্তী সাত বছরে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৪৪ শতাংশ।[১২২] জনঘনত্বের তুলনায় শহরে রাস্তার পরিমাণ মাত্র ৬ শতাংশ। এর ফলে তীব্র যানজট শহরে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। উল্লেখ্য, এই হার দিল্লিতে ২৩ শতাংশ ও মুম্বইতে ১৭ শতাংশ।[১২৩] কলকাতা মেট্রোরেল এবং একাধিক নতুন রাস্তা ও উড়ালপুল শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে অনেকটাই সাহায্য করছে।

রেলপথ [সম্পাদনা]

Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: কলকাতা আন্তঃনগরীয় রেল, হাওড়া স্টেশন, ও শিয়ালদহ
শিয়ালদহ স্টেশন

কলকাতায় দুটি দুরপাল্লার রেলস্টেশন আছে: হাওড়া স্টেশনশিয়ালদহ। "কলকাতা" (পূর্বনাম "চিৎপুর") নামে আরও একটি স্টেশন ২০০৬ সালে চালু হয়।[১২৪] ভারতীয় রেলের দুটি অঞ্চলের সদর কার্যালয় কলকাতায় অবস্থিত: পূর্ব রেলদক্ষিণ পূর্ব রেল[১২৫]

বিমান ও জলপথ [সম্পাদনা]

Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

কলকাতার একমাত্র বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তরে দমদমে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর থেকে আভ্যন্তরিণ ও আন্তর্জাতিক – দুই প্রকার উড়ানই পরিচালিত হয়।

জলপথ [সম্পাদনা]

Exquisite-kfind.png আরও দেখুন: কলকাতা বন্দর
কলকাতার জলপথ পরিবহন দপ্তরের যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জলপথ।

কলকাতা পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর। কলকাতা ও কলকাতার সহকারী হলদিয়া বন্দরের দায়িত্ব কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপর ন্যস্ত।[১২৬] এই বন্দর থেকে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে যাত্রী পরিষেবা এবং ভারতের অন্যান্য বন্দর ও বিদেশে পণ্য পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া কলকাতা ও হাওড়া শহরের মধ্যে একটি ফেরি পরিষেবাও চালু আছে।

নাগরিক পরিষেবা [সম্পাদনা]

টাটা কমিউনিকেশনসের বিদেশ সঞ্চার নিগম লিমিটেড ভবন, এটি শহরের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী

কলকাতা পৌরসংস্থা শহরের পানীয় জলের প্রধান সরবরাহকারী। হুগলি নদী থেকে সংগৃহীত জল উত্তর চব্বিশ পরগনার পলতার পাম্পিং স্টেশনে পরিশোধিত করে সমগ্র শহরে পানীয় জল হিসেবে সরবরাহ করে হয়। প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ টন কঠিন বর্জ্য কলকাতার পূর্ব দিকে অবস্থিত ধাপায় ফেলা হয়ে থাকে। এই বর্জ্যভূমিতে বর্জ্য পদার্থ ও নোংরা জলের প্রাকৃতিক পুনর্নবীকরণের জন্য চাষাবাদও করা হয়ে থাকে।[১২৭] শহরের অনেক অঞ্চলেই অনুন্নত পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থার কারণে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে বর্জ্য নিঃসরণ করা হয়ে থাকে।[৫৮] শহরাঞ্চলে ও শহরতলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে যথাক্রমে ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশনপশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ নামে দুই সরকারি সংস্থা। ১৯৯০-এর দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত কলকাতাবাসীদের উপর্যুপরি লোডশেডিং-এর যন্ত্রণা ভোগ করতে হত। যদিও বর্তমানে অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে, তবে এখনও মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ দমকল পরিষেবার অধীনে কলকাতায় ২০টি দমকল কেন্দ্র রয়েছে। এগুলি বছরে গড়ে ৭,৫০০টি অগ্নিসংযোগ ও উদ্ধারকার্যের জন্য ডাক পায়।[১২৮]

কলকাতার প্রধান টেলিফোন ও মোবাইল ফোন পরিষেবা সরবরাহকারী হল সরকারি সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) এবং ভোদাফোন, ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস, আইডিয়া সেলুলার, এয়ারসেল, টাটা ডোকোমো, টাটা ইন্ডিকম, ইউনিনর,ভার্জিন মোবাইল ও এমটিএস ইন্ডিয়া সহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা। শহরে জিএসএমসিডিএমএ সহ সুপ্রসারিত সেলুলার কভারেজ সুলভ। বিএসএনএল, টাটা ইন্ডিকম, সাইফি, এয়ারটেল, রিলায়েন্স ও এলিয়ান্স প্রভৃতি সংস্থা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহ করে থাকে।

খেলাধূলা [সম্পাদনা]

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন; ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম
কলকাতার পাড়া-ফুটবল।
ইডেন গার্ডেনস ক্রিকেট স্টেডিয়াম; বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিকেট মাঠে একটি ক্রিকেট ম্যাচ।

অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল, ক্রিকেটফিল্ড হকি কলকাতার জনপ্রিয় খেলা। কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান কর্মকেন্দ্র।[১২৯] এই শহর "ভারতীয় ফুটবলের মক্কা" নামেও পরিচিত। ১৮৯৮ সালে চালু হওয়া কলকাতা ফুটবল লিগ এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল লিগ। ভারতের অন্যতম প্রধান তিন জাতীয় দল মোহনবাগান, মহমেডানইস্টবেঙ্গল কলকাতারই তিন ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব। এছাড়াও চিরাগ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব ও জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টিং ক্লাব এই শহরেরই আই-লিগে অংশগ্রহণকারী দুই স্বনামধন্য ফুটবল ক্লাব। মোহনবাগান শুধুমাত্র এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাবই নয়, এটি "ভারতের জাতীয় ক্লাব" আখ্যাপ্রাপ্ত একমাত্র ক্লাব। শাহরুখ খানের মালিকানাধীন "ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ" (আইপিএল) ক্রিকেট দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের কেন্দ্রও কলকাতায় অবস্থিত।

ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কলকাতাতে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয়। শহরের মাঠেঘাটে ও রাস্তায় ক্রিকেট খেলার রেওয়াজ রয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি বহির্দ্বার এবং ক্যারাম প্রভৃতি অন্তর্দ্বার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কলকাতায় নিয়মিত আন্তঃঅঞ্চল ও আন্তঃক্লাব পর্যায়ে আয়োজিত হয়ে থাকে। কলকাতা ময়দানে একাধিক ছোটোখাটো ফুটবল ও ক্রিকেট ক্লাব এবং প্রশিক্ষণ সংস্থা অবস্থিত। কলকাতার উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বগণ হলেন প্রাক্তন ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়পঙ্কজ রায় এবং অলিম্পিক টেনিস ব্রোঞ্জ পদকজয়ী লিয়েন্ডার পেজ। কলকাতার ফুটবল তারকাদের মধ্যে উল্লেখনীয় হলেন প্রাক্তন অলিম্পিক পদকজয়ী শৈলেন মান্না, চুনী গোস্বামী, পি. কে. বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এবং বর্তমান কালের ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া

কলকাতা একাধিক বৃহদাকার স্টেডিয়ামের জন্য সুবিখ্যাত। ইডেন গার্ডেনস বহুকাল পর্যন্ত বিশ্বের দুটিমাত্র ১০০,০০০-আসনবিশিষ্ট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি বলে গন্য হত । ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য সংস্কারের পর বর্তমানে আসনসংখ্যা ১০০০০০ র চাইতে কমে গেছে । বর্তমানে এটি ভারতের বৃহত্তম ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম | [১৩০] বহুমুখী-ব্যবহারোপযোগী স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (বা সল্টলেক স্টেডিয়াম) বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম।[১৩১][১৩২] ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্রিকেট ক্লাব।[১৩৩] রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব, টালিগঞ্জ ক্লাবফোর্ট উইলিয়ামে কলকাতার তিনটি ১৮-হোলবিশিষ্ট গলফ কোর্স অবস্থিত। রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব ব্রিটেনের বাইরে বিশ্বের প্রথম গলফ ক্লাব।[১৩৪] রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব শহরে নিয়মিত ঘোড়দৌড় ও পোলো ম্যাচ আয়োজন করে থাকে। ক্যালকাটা পোলো ক্লাব বর্তমানে বিশ্বের প্রাচীনতম পোলো ক্লাব হিসেবে পরিগণিত হয়।[১৩৫] অন্যদিকে ক্যালকাটা সাউথ ক্লাব কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানস্থল। ২০০৫ সালে উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন ট্যুরের টায়ার-থ্রি টুর্নামেন্ট সানফিস্ট ওপেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয়েছিল। ক্যালকাটা রোয়িং ক্লাব নিয়মিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। রাগবি কলকাতার একটি অপ্রধান খেলা হলেও এই শহরকে ভারতের রাগবি ইউনিয়নের "রাজধানী" আখ্যা দেওয়া হয়। রাগবি ইউনিয়নের প্রাচীনতম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্যালকাটা কাপের নাম এই শহরের নামানুসারেই উদ্ভুত। কাপটি ভারতে নির্মিত হয়ে থাকে। কলকাতার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্টেডিয়ামগুলি হল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র, গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম এবং বেহালার প্রস্তাবিত সত্যজিৎ রায় ইন্ডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম।

ভগিনী নগরী [সম্পাদনা]

ভগিনী নগরী রাষ্ট্র
লং বিচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ডালাস
ওডেসা ইউক্রেন ইউক্রেন
থেসালোনিকি[১৩৬] গ্রিস গ্রিস
নেপলস ইতালি ইতালি


পাদটীকা [সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ "Sovan Chatterjee to be new Kolkata mayor"Hindustan Times (New Delhi)। 6 June 2010http://www.hindustantimes.com/Sovan-Chatterjee-to-be-new-Kolkata-mayor/Article1-554057.aspx। সংগৃহীত 26 April 2011
  2. "Doctor to be next sheriff"Times of India (New Delhi)। 5 January 2011http://articles.timesofindia.indiatimes.com/2011-01-05/kolkata/28356314_1_pavements-sheriff-hawkers। সংগৃহীত 27 January 2012
  3. "Pachnanda selected as new Calcutta Police Commissioner"The Telegraph (Kolkata)। 17 March 2011http://www.telegraphindia.com/1110317/jsp/frontpage/story_13730121.jsp। সংগৃহীত 26 February 2012
  4. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; 2011_pp_tableA2 নামের refগুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  5. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; kolkatauapop2011 নামের refগুলির জন্য কোন টেক্সট প্রদান করা হয়নি
  6. The Monthly Repository and Library of Entertaining Knowledge. 1833. পৃ: 338. http://books.google.com/?id=F8URAAAAYAAJ&dq=Kolkata+east+bank+of+river+Hooghly.
  7. "World Urbanization Prospects: The 2005 revision" (PDF)। 
  8. Calcutta Travel Advice
  9. (Mukherjee 1991)
  10. ১০.০ ১০.১ ১০.২ "Kolkata: History" (in Bangla)। Calcuttaweb.com। সংগৃহীত 2007-02-18 
  11. Nair, P. Thankappan (1986)। "Calcutta in the 17th century"। Firma KLM Private Limited।
  12. P. R. Sarkar, Path Calte Itikatha, 1985, AMPublications
  13. বাংলা স্থাননাম, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, মাঘ ১৪০০, পৃ. ৫২
  14. Easwaran, Kenny। "The Politics of Name Changes in India"। OCF, UC Berkeley। সংগৃহীত 2007-08-12 
  15. "Arrests linked to Mumbai attacks"। BBC। সংগৃহীত 2008-12-06 
  16. "Weather forecast"। BBC। সংগৃহীত 2009-09-01 
  17. "History"। Yahoo! Pte Ltd। সংগৃহীত 2006-05-08 
  18. ১৮.০ ১৮.১ Das S (2003-01-15)। "Pre-Raj crown on Clive House- Abode of historical riches to be museum"। The Telegraph, Kolkata, Indiahttp://www.telegraphindia.com/1030115/asp/frontpage/story_1575128.asp। সংগৃহীত 2006-04-26
  19. ১৯.০ ১৯.১ ১৯.২ কলকাতা বিচিত্রা, রাধারমণ রায়, দেব সাহিত্য কুটির প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ২০০৬, পৃ. ২-৫
  20. ২০.০ ২০.১ কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা, ১৯৮১, পৃ. ১২-১৩
  21. Gupta, Subhrangshu (18 May 2003)। "Job Charnock not Kolkata founder: HC Says city has no foundation day"Nation (The Tribune)http://www.tribuneindia.com/2003/20030518/nation.htm#3। সংগৃহীত 2006-12-07
  22. "William, Fort". Encyclopædia Britannica. 2007. http://www.britannica.com/eb/article-9077064/Fort-William। সংগৃহীত 2007-09-01.
  23. "Calcutta". Encyclopædia Britannica. 1911. http://en.wikisource.org/wiki/1911_Encyclop%C3%A6dia_Britannica/Calcutta। সংগৃহীত 2007-09-18.
  24. ২৪.০ ২৪.১ "History of Kolkata"। Kolkathub.com। সংগৃহীত 2007-09-04 
  25. Chuahan, Baldev (7 August 2007)। "Shimla - more than just Raj nostalgia"। IANS। The Indian Starhttp://www.theindianstar.com/index.php?udn=2007-12-02&uan=1197। সংগৃহীত 2009-03-08
  26. Dutta, Krishna। "Calcutta; A Cultural and Literary History"। Interlink Books। সংগৃহীত 2007-10-11 
  27. Pati, Biswamoy (2006)। "Narcotics and empire"Frontline (The Hindu) 23 (10)http://www.hinduonnet.com/fline/fl2310/stories/20060602000307600.htm। সংগৃহীত 2007-09-04
  28. Hardgrave, Jr, Robert L. (1990). "A Portrait of Black Town: Balthazard Solvyns in Calcutta, 1791–1804". In Pratapaditya Pal. Changing Visions, Lasting Images: Calcutta Through 300 Years. Bombay: Marg Publications. পৃ: 31–46. আইএসবিএন 8185026114. http://inic.utexas.edu/asnic/hardgrave/hardgraveportrait.html। সংগৃহীত 2007-06-29.
  29. Jack I. (2001). "Introduction to (Chaudhuri 2001, pp. v-xi) URL accessed on 2006-04-26.
  30. Roy, Ranjit। "Swadeshi Movement"Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগৃহীত 2007-09-14 
  31. Hall, P (2002). Cities of Tomorrow. Blackwell Publishing. পৃ: 198–206. আইএসবিএন 0631232524.
  32. Bhattacharya, Amalendu (ed.), Mayors of Kolkata: A Brief Chronology, Kolkata Municipal Corporation, Kolkata, Jan. 2009, pp. 7-8 & 63
  33. Randhawa K। "The bombing of Calcutta by the Japanese"। BBC। সংগৃহীত 2006-04-26 
  34. "World War 2 timelines 1939–1945 - Asian mainland 1942"। সংগৃহীত 2008-10-13 
  35. "Pacific War Timeline - New Zealanders in the Pacific War"। সংগৃহীত 2008-10-13 
  36. (Sen 1973)
  37. Burrows, Frederick (1946). Report to Viceroy Lord Wavell. The British Library IOR: L/P&J/8/655 f.f. 95, 96-107.
  38. Das, Suranjan (May 2000)। "The 1992 Calcutta Riot in Historical Continuum: A Relapse into 'Communal Fury'?"Modern Asian Studies (Cambridge University Press) 34 (2): 281–306। ডিওআই:10.1017/S0026749X0000336Xhttp://links.jstor.org/sici?sici=0026-749X(200005)34%3A2%3C281%3AT1CRIH%3E2.0.CO%3B2-4
  39. Suhrawardy HS (1987). "Direct Action Day". In Talukdar, MHR. (ed.). Memoirs of Huseyn Shaheed Suhrawardy. University Press of Bangladesh. পৃ: 55–56. ISBN 984-05-1087-8. http://www.globalwebpost.com/farooqm/study_res/suhrawardy/direct_action.html। সংগৃহীত 2006-04-24.
  40. (Gandhi 1992, p. 497)
  41. ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়, অশোক কুমার কুণ্ডু, ন্যাশানাল বুক ট্রাস্ট ইন্ডিয়া, নতুন দিল্লি, ২০০৯, পৃ. ৩৩-৩৪
  42. "Calcutta"Encyclopedia Britannica Online। Encyclopædia Britannica। 2009। সংগৃহীত 2009-03-15  and Judith Vidal-Hall, "Naxalites", in Index on Censorship, Volume 35, Number 4 (2006). p. 73.
  43. (Bennett & Hindle 1996, pp. 63–70)
  44. ৪৪.০ ৪৪.১ Datta T (2006-03-22)। "Rising Kolkata's winners and losers"। BBC Radio 4's Crossing Continentshttp://news.bbc.co.uk/2/hi/programmes/crossing_continents/4830762.stm। সংগৃহীত 2006-04-26
  45. Biswas S। "Calcutta's colorless campaign"। BBC। সংগৃহীত 2006-04-26 
  46. (Roy & Alsayyad 2004)
  47. NASA image.
  48. "An Introduction"History of Kolkata। Catchcal.com। সংগৃহীত 2007-08-29 
  49. Roy Chadhuri, S.; Thakur, A. R. (2006-07-25)। "Microbial genetic resource mapping of East Calcutta wetlands" (PDF)। Current Science (Indian Academy of Sciences) 91 (2): 212–217http://www.ias.ac.in/currsci/jul252006/212.pdf। সংগৃহীত 2007-09-02
  50. Bunting SW, Kundu N, Mukherjee M। "Situation Analysis. Production Systems and Natural Resources Use in PU Kolkata" (PDF)। Institute of Aquaculture, University of Stirling, Stirling, UK। পৃ: 3। সংগৃহীত 2006-04-26 
  51. "Hazard profiles of Indian districts" (PDF)। National Capacity Building Project in Disaster ManagementUNDP। archived from the original on 2006-05-19। সংগৃহীত 2006-08-23 
  52. ৫২.০ ৫২.১ ৫২.২ "007 Kolkata (India)" (PDF)। World Association of the Major Metropolises। সংগৃহীত 2007-08-31 
  53. "Kolkata Postal Codes"। bloom9.com। সংগৃহীত 2007-08-29 
  54. deduced from the satellite map of the city, from NASA
  55. ৫৫.০ ৫৫.১ ৫৫.২ "Weatherbase entry for Kolkata"। Canty and Associates LLC। সংগৃহীত 2006-04-26 
  56. "kal Baisakhi"Glossary of Meteorology। American Meteorological Society। সংগৃহীত 2006-09-05 
  57. Khichar, M.L.; Ram Niwas (14 July 2003)। "Know your monsoon"Agriculture Tribune, The Tribune। The Tribune Trust। সংগৃহীত 2007-06-09 
  58. ৫৮.০ ৫৮.১ "Calcutta: Not 'The City of Joy'"। Gaia: Environmental Information System। সংগৃহীত 2006-04-26 
  59. Central Pollution Control Board। "Ambient Air Quality in Seven Major Cities During 2002"। Ministry of Environment & Forests, Govt of India। archived from the original on 2006-08-28। সংগৃহীত 2006-04-26 
  60. http://www.telegraphindia.com/1081030/jsp/calcutta/story_10035984.jsp
  61. Bhaumik, Subir (17 May 2007)। "Oxygen supplies for India police"South Asia (BBC)http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/6665803.stm। সংগৃহীত 2007-06-23
  62. "Genesis and Growth of the [[Calcutta Stock Exchange]]"। Calcutta Stock Exchange Association Ltd। সংগৃহীত 2006-04-26  Wikilink embedded in URL title (সাহায্য)
  63. ৬৩.০ ৬৩.১ "Kolkata". Microsoft® Encarta® Online Encyclopedia. 2007. http://encarta.msn.com/encyclopedia_761555452/Kolkata.html। সংগৃহীত 2007-10-13.
  64. Follath E (2005-11-30)। "The Indian Offensive: From Poorhouse ro Powerhouse"। Spiegel Onlinehttp://service.spiegel.de/cache/international/spiegel/0,1518,387701,00.html। সংগৃহীত 2006-04-26
  65. Chakravorty S (2000). "From Colonial City to Global City? The Far-From-Complete Spatial Transformation of Calcutta" in (Marcuse & van Kempen 2000, pp. 56–77)
  66. Ganguly, Deepankar। "Hawkers stay as Rs. 265 crore talks"The Telegraph, 30 November 2006। সংগৃহীত 2008-02-16 
  67. Mukherjee Shankar (2005-03-28)। "Demand spurs New Town III- Never-before response to Rajarhat sale"। The Telegraph-Kolkatahttp://www.telegraphindia.com/1050328/asp/calcutta/story_4541017.asp। সংগৃহীত 2006-07-25
  68. Sambit Saha (2003-09-09)। "Nathula trade may spur business in NE"। rediff.comhttp://www.rediff.com/money/2003/sep/09trading.htm। সংগৃহীত 2007-09-18
  69. C. Raja Mohan (2007-07-16)। "A foreign policy for the East"। The Hinduhttp://www.hindu.com/2004/07/16/stories/2004071601841000.htm। সংগৃহীত 2007-09-18
  70. "Fire rule must be enforced: Kolkata top cop"। IBNLive.in। 2011-03-18। সংগৃহীত 2008-07-16 
  71. কলকাতা কর্পোরেশন, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, মিত্রম্‌, কলকাতা, ২০১০, পৃ. ২১
  72. ৭২.০ ৭২.১ ৭২.২ কলকাতা কর্পোরেশন, পৃ. ২৭
  73. কলকাতা কর্পোরেশন, পৃ. ৫০
  74. কলকাতা কর্পোরেশন, পৃ. ২৯
  75. কলকাতা কর্পোরেশন, পৃ. ১০৭
  76. Source: The Kolkata Municipal Corporation Axt, 1980.
  77. "About Kolkata Municipal Corporation"। Kolkata Municipal Corporation। সংগৃহীত 2006-04-26 
  78. "General Election 2009 Kolkata Dakshin"West Bengal Election Results। Ibnlive। সংগৃহীত 2009-05-20 
  79. ৭৯.০ ৭৯.১ "Delimitation Commission Order No. 18"Table B – Extent of Parliamentary Constituencies। Government of West Bengal। সংগৃহীত 2009-05-27 
  80. "Press Note, Delimitation Commission"Assembly Constituencies in West Bengal। Delimitation Commission। সংগৃহীত 2008-10-29 
  81. "Table 7.2.11"। mospi.gov.in। সংগৃহীত 2008-06-23 
  82. http://censusindia.gov.in (২০১২)। "Provisional Population Totals, Census of India 2011"Census of India 2011: Provisional Population Totals, West Bengal। সংগৃহীত ২০১২-০৩-০৪ 
  83. http://www.censusindia.gov.in (২০১২)। "Provisional Population Totals"। সংগৃহীত ২০১২-০৩-০৪ 
  84. http://www.censusindia.gov.in। "Number of Literates & Literacy Rate"India at a Glance। www.censusindia.gov.in। সংগৃহীত ২০১২-০৩-০৪ 
  85. "Highlights: Cities with more than one Million Population"Census of India 2001 (Provisional)। Office of the Registrar General, India। 2001-09-13। archived from the original on 2007-01-05। সংগৃহীত 2006-08-18 
  86. "Basic Statistics of Kolkata"। KolkataMyCity.com। সংগৃহীত 2008-11-02 
  87. ৮৭.০ ৮৭.১ "Census GIS Household"। Office of the Registrar General and Census Commissioner, India। সংগৃহীত 2006-04-26 
  88. Kundu N। "Understanding slums: Case Studies for the Global Report on Human Settlements 2003. The Case of Kolkata, India" (PDF)। Development Planning Unit. University College, London। পৃ: 6। সংগৃহীত 2006-04-26 
  89. National Crime Records Bureau (2004). "General Crime Statistics Snapshots 2004" (PDF). Crime in India-2004. Ministry of Home Affairs. পৃ: 1. http://ncrb.nic.in/crime2004/cii-2004/Snapshots.pdf। সংগৃহীত 2006-04-26.
  90. National Crime Records Bureau (2004). "Executive Summary" (PDF). Crime in India-2004. Ministry of Home Affairs. পৃ: 34. http://ncrb.nic.in/crime2004/cii-2004/CHAP1.pdf। সংগৃহীত 2006-04-26.
  91. National Crime Records Bureau (2006). "Crimes in Mega Cities" (PDF). Crime in India-2006. Ministry of Home Affairs. http://ncrb.nic.in/cii2006/cii-2006/CHAP2.pdf। সংগৃহীত 2008-05-09.
  92. Grant M (2004-11-30)। "Girl-trafficking hampers Aids fight"। BBChttp://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/4055143.stm। সংগৃহীত 2006-04-26
  93. Sinha P (1990). "Kolkata and the Currents of History". In Chaudhuri S. (ed.). Kolkata — The Living City. Volume 1: The Past. Oxford University Press, Oxford..
    Cited by: Heierstad G (2003)। "Nandikar: Staging Globalisation in Kolkata and Abroad" (PDF)। University of Oslo, Norway। পৃ: 102। সংগৃহীত 2006-04-26 
  94. Trachtenberg P (2005-05-15)। "The Chattering Masses"। The New York Timeshttp://travel2.nytimes.com/2005/05/15/travel/tmagazine/15T-INDIA.html?_r=4&ex=1146196800&en=a1463f6efd9ecdab&ei=5070&oref=slogin&oref=slogin&oref=slogin&oref=slogin। সংগৃহীত 2006-04-26
  95. "Rabindanath Tagore: Asia's First Nobel laureate..."। Time Asia।  |accessyear= প্যারামিটার অজানা উপেক্ষিত (সাহায্য); |accessmonthday= প্যারামিটার অজানা উপেক্ষিত (সাহায্য)
  96. "The Nobel Prize in Literature 1913"Nobel Prize Winners। Nobel Foundation।  |accessyear= প্যারামিটার অজানা উপেক্ষিত (সাহায্য); |accessmonthday= প্যারামিটার অজানা উপেক্ষিত (সাহায্য)
  97. ৯৭.০ ৯৭.১ ৯৭.২ ৯৭.৩ "গানের কলকাতা", সুধীর চক্রবর্তী, দেশ: বিনোদন ১৯৮৯ (কলকাতা শহরের ৩০০ বছর উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা), পৃ. ৮৯-৯৭
  98. নিধুবাবু ও তাঁর টপ্পা, রমাকান্ত চক্রবর্তী, পুনশ্চ, কলকাতা, ২০০১ পুনশ্চ সং, পৃ. ১৭৪
  99. ৯৯.০ ৯৯.১ ৯৯.২ "পুজোর গান: সেকাল একাল", স্বপন সোম, শারদীয়া নবপত্রিকা, ১৪১৭, পৃ. ৮৫-৯০
  100. Heritage Tour: Shaheed Minar
  101. Kolkata.org: Shaheed Minar
  102. Roy, Nishitranjan,Swasato Kolkata Ingrej Amaler Sthapathya, (বাংলা), pp. 48, 1st edition, 1988, Prtikhan Press Pvt. Ltd.
  103. Court's official website
  104. "History of Indian museum"। The Indian Museum of Kolkata। সংগৃহীত 2006-04-23 
  105. Mitter, Partha (2001). Indian art. Oxford University Press. পৃ: 177. আইএসবিএন 0192842218. http://books.google.co.in/books?id=FHxsDV1GDOIC&pg=PA177&lpg=PA177&dq=Ernest+Binfield+Havell+education&source=bl&ots=Ek6-6QKq--&sig=s5l_7kw7or0vB99ORZT6iiUucFo&hl=en&ei=sbLPTMbKLoG-uwPStZyBBg&sa=X&oi=book_result&ct=result&resnum=5&ved=0CCMQ6AEwBDgU#v=onepage&q=Ernest%20Binfield%20Havell%20education&f=false.
  106. Cotter, Holland (August 19, 2008)। "Art Review: Indian Modernism via an Eclectic and Elusive Artist"New York Timeshttp://www.nytimes.com/2008/08/20/arts/design/20bose.html
  107. "Durga Puja"Festivals of Bengal। West Bengal Tourism, Government of West Bengal। সংগৃহীত 2006-10-28 
  108. Gay pride march debuts in Delhi, BBC news date June 30, 2008
  109. Gertjan de Graaf, Abdul Latif। "Development of freshwater fish farming and poverty alleviation: A case study from Bangladesh" (PDF)। Aqua KE Government। সংগৃহীত 2006-10-22 
  110. Saha, S (18 January 2006)। "Resurrected, the kathi roll - Face-off resolved, Nizam's set to open with food court"The Telegraphhttp://www.telegraphindia.com/1060118/asp/calcutta/story_5733258.asp। সংগৃহীত 2006-10-26
  111. "Mobile food stalls"। Bangalinet.com। সংগৃহীত 2006-10-26 
  112. "List of Affiliated Colleges"। netGuruIndia.com। archived from the original on 2006-11-15। সংগৃহীত 2006-10-26 
  113. Mitra, Dola (20 April 2005)। "Calcutta Medical College, Calcutta"Careergraph। The Telegraph। সংগৃহীত 2007-10-20 
  114. "Business Development Mission to India 29 November – 5 December 2006" (PDF)। International Trade Administration। সংগৃহীত 2007-10-13 
  115. Big FM
  116. Power
  117. "About Kolkata Metro"Kolkata Metro। সংগৃহীত 2007-09-01 
  118. "Intra-city train travel"reaching India। Times Internet Limited। সংগৃহীত 2007-08-31 
  119. "HC admits PIL on waterlogging"Times of India (Times Internet Limited)। 11 July 2007http://timesofindia.indiatimes.com/Kolkata/HC_admits_PIL_on_waterlogging/articleshow/2193171.cms। সংগৃহীত 2007-07-18
  120. "Rain abates, but water logging paralyses normal life in Kolkata"dailyindia.com (DailyIndia.com)। 4 July 2007http://www.dailyindia.com/show/154671.php/Rain-abates-but-water-logging-paralyses-normal-life-in-Kolkata। সংগৃহীত 2007-07-18
  121. "Table E2 Registered Motor Vehicles in Million-plus Cities,1991 to 1996 (As on 31 March)"। National Institute of Urban Affairs। archived from the original on 2005-02-19। সংগৃহীত 2006-04-26 
  122. "Traffic Accident Characteristics of Kolkata" (PDF)। UNESCAP। সংগৃহীত 2006-07-05 
  123. "Call to ensure traffic discipline in Kolkata"। The Hindu Business Line। 2004-09-05http://www.thehindubusinessline.com/2004/09/06/stories/2004090600791300.htm। সংগৃহীত 2006-04-26
  124. "New station flag-off- Amenities added"। The Telegraph। 2006-02-20http://www.telegraphindia.com/1060220/asp/calcutta/story_5868502.asp। সংগৃহীত 2007-09-02
  125. "Geography : Railway Zones"IRFCA.org। Indian Railways Fan Club। সংগৃহীত 2007-08-31 
  126. "Salient Physical Features"Kolkata Port Trust। Kolkata Port Trust, India। সংগৃহীত 2007-06-09 
  127. "Sound Practices Composting"। United Nations Environment Programme। সংগৃহীত 2006-04-26 
  128. Dheri SK, Misra GC। "Fire: Blazing Questions" (PDF)। indiadisasters.org। archived from the original on 2004-12-24। সংগৃহীত 2006-04-26 
  129. Prabhakaran, Shaji (18 January 2003)। "Football in India - A Fact File"। LongLiveSoccer.com। সংগৃহীত 2006-10-26 
  130. "Eden Gardens"। Cricket Web। সংগৃহীত ২০১২-০৩-০৪ 
  131. "100 000+ Stadiums"। World Stadiums। সংগৃহীত 2006-10-26 
  132. "The Asian Football Stadiums (30.000+ capacity)"। Gunther Lades। সংগৃহীত 2006-10-26 
  133. Raju, Mukherji (14 March 2005)। "Seven Years? Head Start"। The Telegraphhttp://www.telegraphindia.com/1050314/asp/opinion/story_4428341.asp। সংগৃহীত 2006-10-26
  134. "Royal Calcutta Golf Club"। Encyclopaedia Britannica। সংগৃহীত 2007-08-30 
  135. "History of Polo"। Hurlingham Polo Association। সংগৃহীত 2007-08-30 
  136. "Twinning Cities"City of Thessaloniki। সংগৃহীত 2008-04-27 

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  • Bennett, A & J Hindle (1996), London Review of Books: An Anthology, Verso, 63–70, ISBN 185984121X
  • Chaudhuri, NC (2001), The Autobiography of an Unknown Indian, New York Review of Books, ISBN 094032282X
  • Chaudhuri, S (1995), Calcutta: The Living City. Vol I and Vol II, Oxford University Press, USA, ISBN 0195636988
  • Gandhi, R (1992), Patel: A Life, Navajivan, ISBN ASIN B0006EYQ0A
  • Marcuse, P & R van Kempen (2000), Globalizing Cities: A New Spatial Order?, Blackwell Publishers, ISBN 0631212906
  • Marston, D (2001), The Seven Year's War, Osprey Publishing, ISBN 1841761915
  • Mukherjee, SC (1991), The changing face of Calcutta: An architectural approach : Calcutta, 300, Government of West Bengal, ISBN B0000D6TXX
  • Roy, A (2002), City Requiem, Calcutta: Gender and The Politics of Poverty, University of Minnesota Press, ISBN 0816639329
  • Roy, A & Alsayyad (2004), Urban Informality: Transnational Perspectives from the Middle East, Latin America and South Asia, Lexington Books, ISBN 0739107410
  • Sen, A (1973), Poverty and Famines, Oxford University Press, USA, ISBN 0-19-828463-2
  • Singh, S (2003), Lonely Planet India (10 ed.), Lonely Planet, ISBN 1740594215
  • Thomas, FC (1977), Calcutta Poor: Elegies on a City Above Pretense, M.E. Sharpe, ISBN 1563249812

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]

কলকাতা সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে হলে উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন:

Wiktionary-logo-en.svg সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
Wikibooks-logo.svg পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
Wikiquote-logo.svg উক্তি, উইকিউক্তি হতে
Wikisource-logo.svg রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
Commons-logo.svg ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
Wikivoyage-logo.svg ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
Wikinews-logo.png সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে