কলকাতা
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
| কলকাতা | |||
| — পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী — | |||
| (ঘড়ির কাঁটার ক্রমে) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, মাদার তেরেসা সরণি ও ময়দান সংলগ্ন বাণিজ্যাঞ্চল, রবীন্দ্র সেতু, কলকাতার ট্রাম ও বিদ্যাসাগর সেতু-প্রিন্সেপ ঘাট। | |||
|
|||
| নীতিবাক্য: পুরশ্রী বিবর্ধন | |||
| Coordinates: | |||
| দেশ | |||
|---|---|---|---|
| রাজ্য | পশ্চিমবঙ্গ | ||
| বিভাগ | প্রেসিডেন্সি বিভাগ | ||
| জেলা | কলকাতা জেলা | ||
| সরকার ব্যবস্থা | |||
| - ধরন | পৌরসংস্থা | ||
| - মহানাগরিক | বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য | ||
| - শেরিফ | উৎপল চট্টোপাধ্যায় | ||
| আয়তন | |||
| - Total | ৭১.৪ sq mi (১৮৫ km²) | ||
| উচ্চতা | ৩০ ft (৯ m) | ||
| জনসংখ্যা (২০০৯) | |||
| - মোট জনসংখ্যা | ১৫,৪১৪,৮৫৯ | ||
| - জনঘনত্ব | ৭১,১২৬.৩/sq mi (২৭,৪৬২/km²) | ||
| সময় অঞ্চল | ভারতীয় সময় (UTC+৫.৩০) | ||
| PIN | ৭০০ xxx | ||
| আঞ্চলিক কোড | +৯১ ৩৩ | ||
| † কলকাতা মহানগরীয় অঞ্চল উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া ও হুগলি জেলা জুড়ে প্রসারিত। | |||
| Website: www.kolkatamycity.com | |||
কলকাতা (পূর্বনাম: কলিকাতা; ইংরেজি ভাষায়: Kolkata, পূর্বে Calcutta সহায়িকা·তথ্য) ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী। হুগলী নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এই শহরের পৌর অঞ্চলের জনসংখ্যা ৫০ লক্ষের কিছু বেশি। তবে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বিস্তৃত কলকাতার মহানগরীয় অঞ্চলের জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষের কাছাকাছি; এই জনসংখ্যার বিচারে কলকাতা ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম শহর ও তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রোপলিটান বা মহানগরীয় অঞ্চল।[১]
১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল। একদা ভারতের আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতির কেন্দ্রভূমি কলকাতা মহানগরে ১৯৫৪ সালের পর থেকে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ও তার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। তবে ২০০০ সালের পর থেকে এই শহর আবার আর্থিক ও বাণিজ্যিক সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হয় ও সাংস্কৃতিক হৃতগৌরব অনেকাংশে পুনরাধিকার করে। তবে ভারতের অন্যান্য মহানগরগুলির মতো নগরায়নজনিত দারিদ্র্য, পরিবেশ দূষণ ও যানজটের সমস্যা থেকে কলকাতাও একেবারে মুক্ত হতে পারেনি।
কলকাতা শহরের প্রসিদ্ধি তার বৈপ্লবিক আন্দোলনগুলির জন্য। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তীতে বামপন্থী বাণিজ্যিক ইউনিয়নগুলির আন্দোলন এ শহরের ইতিহাসের একটি বড় অংশ। এর সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ভারতে কলকাতা সাংস্কৃতিক রাজধানী ও আনন্দ নগরী (City of Joy সিটি অব জয়) নামে নন্দিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রোনাল্ড রস, সুভাষচন্দ্র বসু, মাদার তেরেসা, সত্যজিৎ রায়, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, স্বামী বিবেকানন্দ রাজা রামমোহন রায় সি ভি রামন-সহ বহু বিশ্ববিশ্রুত ব্যক্তিত্বের বাসভূমি এই নগরী তার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আজও বিশ্ববাসীর চোখে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] নামকরণ
‘কলকাতা’ নামটি এই শহরের আদিনাম ‘কলিকাতা’ থেকে ব্যুৎপন্ন। এই ‘কলিকাতা’ নামটি প্রাচীন এবং এর উৎস অজ্ঞাত। মধ্যযুগে কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তী প্রণীত চণ্ডীমঙ্গল, বিপ্রদাস পিপলাই প্রণীত মনসামঙ্গল ও আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে ‘কলিকাতা’ ও তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের নাম ও পরিচয় পাওয়া যায়।[২] তবে এই নাম কোনও গ্রাম বা শহরবাচক নয় – একটি জনপদবাচক। মুঘল আমলে কলিকাতা ছিল একটি পরগনার নাম। ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর সুকুমার সেন মনে করেন, “জোব চার্ণক ও তাঁর কোম্পানি যখন কলকাতায় তাঁদের ডেরা প্রতিষ্ঠিত করেন তখন সুতানুটি ও গোবিন্দপুরের মাঝখানে কলিকাতা (কলকাতা, কলকত্তা) বলে কোনও গ্রাম ছিল না। সুতানুটি ও গোবিন্দপুরের মাঝখানে যে জমি ছিল তার পশ্চিম অর্থাৎ গঙ্গাতীরস্থ অঞ্চল ছিল পতিত আর পূর্ব অঞ্চল ছিল ডাঙ্গা। এখানে কিছু চাষবাস হত (-যা “পটলডাঙ্গা” নাম থেকে অনুমান করতে পারি), তবে কোনও পাকা বাসিন্দা ছিল না। সেই কারণেই জমিদারি সেরেস্তায় এ স্থানটুকু কোন মৌজা নামে চিহ্নিত হয়নি। ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দুটি গ্রামের জমিদারি নিয়ে সবটার নামকরণ করেছিল পরগণার নামে,- কলিকাতা (কলকাতা)। পরে এই ফাঁকা স্থান লোক ব্যবহারে ‘ডিহি কলকাতা’- অর্থাৎ কলিকাতা যেখানে কর্তৃপক্ষ বাস করেন – বলে চলিত হয়।”[৩] অন্যমতে, কলকাতার কালীঘাট একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র। তাই ‘কালীক্ষেত্র’ থেকে কলিকাতা নামটির উদ্ভব হয়ে থাকবে। কলকাতা গ্রামটির নামের উৎপত্তির পিছনে অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করা হয়, যেমন "কলি" শব্দের একটি প্রচলিত অর্থ হল চুন এবং কলিকাতা গ্রামটিতে ভাটি খানা থাকার কারনে ধরা হয় যে, ‘কলি’ ও ‘কাতা’ থেকে কলিকাতা নামটি প্রচলিত হয়।আবার বৈকল্পিকভাবে, বাংলা শব্দ কিলকিলা (যার অর্থ "চ্যাপ্টা অঞ্চল ")থেকে উৎপত্তি বা প্রাকৃতিক "খাল" এর পর "কাতা" ( যার মানে খনন করা) যোগ করে কলিকাতা নামের উৎপত্তি সম্ভব।[৪] তবে সুকুমার সেন মনে করেন, “‘কলিকাতা’ – এই পরগণা নামটি এসেছে ফারসিতে গৃহীত দুটি আরবি শব্দের সংযোগে, - ‘কলি’ (qali) মানে “অস্থির; নির্বোধ”, এবং ‘কাতা’ (qatta) মানে “বদমাইস দল; খুনেরা”। নামটি খুবই সঙ্গত হয়েছিল। কেননা গঙ্গার পূর্বতীর ভাগের খাড়ি, বাদা ও জঙ্গল জলদস্যু, স্থল-ডাকাতি ও বিবিধ দেশি-বিদেশি বদমাইসদের পালিয়ে লুকোবার স্থান ছিল।” ”[৫] পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তে ৩০ জুলাই, ২০০১ সাল থেকে শহরটির ইংরেজি নাম Calcutta (ক্যালকাটা) বদলে Kolkata (কলকাতা) করা হয়।[৬]
[সম্পাদনা] ইতিহাস
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার ইতিহাস
চন্দ্রকেতুগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন[৭] চালিয়ে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে, কলকাতার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল বিগত দুই সহস্রাব্দ ধরে জনবসতিপূর্ণ ছিল।[৮] মধ্যযুগের কয়েকটি কাব্যেও তৎকালীন বাংলার প্রধান জলবাণিজ্যপথ হুগলি নদীর কূলে অবস্থিত কলিকাতা গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে বিপ্রদাস পিপলাই প্রণীত মনসামঙ্গল ও মুকুন্দ চক্রবর্তী প্রণীত কবিকঙ্কণ চণ্ডী উল্লেখযোগ্য। কবিকঙ্কণ চণ্ডী-র ষোড়শ শতকের একটি পুথিতে কলিকাতা গ্রামের যে বিবরণ পাওয়া যায় সেটি হল –
| “ | তীরসম ছোটে তরী তরঙ্গের ঘায়ে।
চিত্রপুর এড়াইয়া শালিখাতে যায়।। |
” |
যদিও এই কলিকাতা নগর ছিল না, ছিল সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের জায়গিরদারির অন্ধর্ভুক্ত একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম । মহানগর কলকাতার প্রামাণ্য ইতিহাসের সূত্রপাত ১৬৯৮ সালের ১১ই নভেম্বর, যখন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতা গ্রাম তিনটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন চার্লস আয়ারকে( জব চার্ণক- এর জামাতা) ইজারা দেন । এই সময়ই কোম্পানি বাংলায় তাদের বাণিজ্যের জাল বিস্তার করে। সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাসকারগণ জব চার্নক নামে কোম্পানির এক বণিককে এই নগরের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে প্রচার করতেন । যদিও সাম্প্রতিককালে বিদ্বজ্জন সমাজের প্রতিবাদ ও সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের দ্বারা দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধারণা পরিত্যক্ত হয়েছে। [১০]
১৭০২ সালে ব্রিটিশগণ ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গনির্মান সমাপ্ত করেন।[১১] সেই সময় একটি আঞ্চলিক সেনানিবাস হিসাবে এটি কার্যকর ছিল। তারপরই কলকাতা একটি ‘প্রেসিডেন্সি নগর’ ঘোষিত হয় এবং পরে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির সদরে রূপান্তরিত হয়।[১২] মুঘল সম্রাট ফরুখশিয়ার বাৎসরিক ৩০০০ টাকার বিনিময়ে কোম্পানিকে কলকাতা ও সন্নিহিত অঞ্চলের খাজনা আদায়ের অধিকার প্রদান করেন। এদিকে বারংবার ফরাসিদের সঙ্গে ছোটখাট হাঙ্গামায় জড়িয়ে পরে ইংরেজরা তাদের দুর্গব্যবস্থার উন্নতিসাধনও শুরু করে দেয়। বাংলার তৎকালীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা এই ফৌজি বাড়বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানান। কিন্তু ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর প্রতিবাদে কর্ণপাত না করলে তিনি ১৭৫৬ সালে বাধ্য হয়ে কলকাতা নগরী ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ দখল করে নেন। এর পরেই ব্রিটিশরা কুখ্যাত অন্ধকূপ হত্যার কাহিনি রটনা করে। [১৩] পরের বছরই রবার্ট ক্লাইভের নেতৃত্বে একদল সিপাহির সাহায্যে কোম্পানি পুনরায় কলকাতার দখল নিতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়বার ব্যর্থ আক্রমনের পর সিরাজউদ্দৌলা ক্লাইভের সঙ্গে আলিনগর চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অবশেষে ১৭৫৭ সালে সিরাজউদ্দৌলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যদলের কাছে পরাজিত হন এবং ব্রিটিশগণ বণিকের মানদন্ড-কে রাজদন্ড-এ রূপান্তরিত করার পথে প্রাথমিক সাফল্য লাভ করে।
১৭৭২ সালে কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষিত হয়। এরপরই শহরের চারদিকের জলাজমিট পয়ঃপ্রণালীর কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। হুগলি নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে স্থাপিত হয় সরকারি এলাকাটি। ভারতের গভর্নর-জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি (দপ্তরকাল ১৭৯৭-১৮০৫) এই শহর এবং শহরের যেসব প্রাসাদোপম ইমারতগুলির জন্য এটি ‘প্রাসাদ নগরী’ আখ্যাপ্রাপ্ত, তাদের নির্মানের জন্য মুখ্যত দায়ী।[১৪] অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে কলকাতা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফিম ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। স্থানীয় আফিম এই শহরেই নিলাম হত ও তা চিনে প্রেরিত হত।[১৫]
উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে কলকাতা মহানগরী স্পষ্টত দুটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভাগ হয়ে যায় – একটি ব্রিটিশ (হোয়াইট টাউন নামে অভিহিত) ও অপরটি ভারতীয় (ব্ল্যাক টাউন নামে পরিচিত)।[১৬] ১৮৫০-এর দশকের পর থেকেই এই শহর দ্রুত শিল্পায়ণ শুরু হয়। মূলত উন্নত বস্ত্রবয়ন ও পাটশিল্প এখানে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ টেনে আনে এবং ব্রিটিশ সরকার রেলপথ ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার প্রচলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নে সচেষ্ট হয়। এই সময় ব্রিটিশ ও ভারতীয় সংস্কৃতির নৈকট্য জন্ম দেয় কলকাতার বিখ্যাত তথা কুখ্যাত বাবু সম্প্রদায়ের। এঁরা ছিলেন মূলত ব্রিটিশ সরকারি আমলা বা অন্যান্য চাকুরিজীবি। সংবাদপত্র পাঠক ও ইংরেজ-প্রিয় এই বাবু সম্প্রদায় মূলত উচ্চবর্ণীয় হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন।[১৭] সমগ্র উনবিংশ শতাব্দী ধরে কলকাতাকে কেন্দ্র করে বাংলায় একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কারকর্ম চলতে থাকে। এই সংস্কারের দরুন এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের বিশেষ বৌদ্ধিক ও কৃষ্টিগত সমৃদ্ধি সাধিত হয়। এই সংস্কার বাংলার নবজাগরণ নামে খ্যাত। ১৮৮৩ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্থাপন করলেন একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল – ন্যাশালান কনফারেন্স বা জাতীয় সম্মেলন। এটিই ভারতের প্রথম জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক সমিতি। ধীরে ধীরে কলকাতা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে কলকাতাকে কেন্দ্র করে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। স্বদেশি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। মূলত এই আন্দোলনের চরিত্রগত ভয়াবহতা ও পূর্বভারত থেকে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়া তীব্র ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার ঢেউ সংহত করা অসুবিধাজনক বোধ করে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে দিল্লিতে ভারতের রাজধানী স্থানান্তরিত করে।.[১৮]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান কলকাতার বন্দর এলাকায় বোমা নিক্ষেপ করেছিল।[১৯] এই সময় বাংলার সমগ্র খাদ্যভাণ্ডার যুদ্ধরত ব্রিটিশ মিত্রবাহিনীর সাহায্যার্থে ব্যয়িত হলে দেশে মন্বন্তর দেখা দেয়। লক্ষাধিক মানুষ এই মন্বন্তরে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেন।[২০] ১৯৪৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র পাকিস্তান রাষ্ট্রের দাবিতে এক ভয়াবহ দাঙ্গায় কলকাতা শহরে মারা যান দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।[২১] ভারতবিভাগের পর লক্ষাধিক হিন্দু প্রাণভয়ে নবগঠিত পাকিস্তান থেকে এই শহরে এলে পালিয়ে এলে এই শহর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের জনতাত্ত্বিক গঠন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়।[২২]
১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ভয়ানক লোডশেডিং, ধর্মঘট ও নকশাল নামে পরিচিত মার্ক্সবাদী-মাওবাদীদের জঙ্গী আন্দোলন মহানগরের পরিকাঠামোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। ফলে বাংলার অর্থনীতির জগতেও স্থবিরতা দেখা দেয়। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে বহুসংখ্যক শরণার্থী কলকাতা মহানগরে আশ্রয় নিলে পুনরায় এর অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা লাগে।[২৩] ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জনসংখ্যার বিচারে মুম্বাই ভারতকে ছাড়িয়ে যায়। বিগত তিন দশক ধরে ভারতীয় কমিউনিজমের একটি শক্ত ঘাঁটি এই কলকাতা মহানগর – ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার এখানে বিশ্বের সর্ব-দীর্ঘকালীন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার।. [২৪][২৫] ১৯৯১ সালে ভারতে অর্থনৈতিক সংস্কার গৃহীত হলে মহানগরের অর্থব্যবস্থার উন্নতি শুরু হয়। ২০০০ সাল থেকে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি করে কলকাতা তার হৃত অর্থনৈতিক গৌরব অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া মহানগরের শিল্পোৎপাদনেও গতির সঞ্চার ঘটে।
[সম্পাদনা] ভূগোল
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার ভূগোল
ভারতের পূর্বদিকে অক্ষ-দ্রাঘিমাংশে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে কলকাতা মহানগরী অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শহরের উচ্চতা ১.৫ মিটার থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত।[২৬] হুগলি নদীর বামতট বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে শহরের প্রসার। শহরের অধিকাংশ অঞ্চল একসময় জলাভূমি ছিল। পরে বহু দশক ধরে ধীরে ধীরে শহরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ মেটাতে সেই জলাভূমি ভরাট করে শহরের প্রসার ঘটানো হয়।[২৭] পূর্ব কলকাতা জলাভূমি নামে পরিচিত অবশিষ্ট জলাভূমি রামসর কনভেনশন অনুসারে একটি “আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি”।[২৮]
সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমভূমির অধিকাংশ অঞ্চলের মতোই কলকাতার মৃত্তিকাও প্রকৃতিগতভাবে পললসমৃদ্ধ। শহরের মাটির তলায় মাটি, কাদা, বিভিন্ন প্রকার বালি ও পাথরের স্তর দেখা যায়। এই স্তরগুলি দুটি কাদার স্তরের মধ্যে চাপা পড়ে আছে। এই স্তরদুটির নিচের স্তরটির গভীরতা ২৫০-৬৫০ মিটার এবং উপরের স্তরটির গভীরতা ১০-৪০ মিটার।[২৯] ভারতীয় মানক ব্যুরোর হিসেব অনুসারে, শহরটি সিসমিক ক্ষেত্র-৩-এর অন্তর্গত। ভূমিকম্পের বৃদ্ধিপ্রবণতার হিসেবে এই অঞ্চলের মাত্রা ১ থেকে ৫-এর মধ্যে।[৩০] আবার রাষ্ট্রসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির রিপোর্ট অনুযায়ী বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড় ক্ষেত্র হিসেবে কলকাতা “অতি উচ্চ ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিপ্রবণ” অঞ্চল।
[সম্পাদনা] নগরাঞ্চলের গঠন
কলকাতা পৌরসংস্থার এক্তিয়ারভুক্ত নগরাঞ্চলের মোট আয়তন ১৮৫ বর্গকিলোমিটার।[৩১] অন্যদিকে, ২০০৬ সালের হিসেব অনুযায়ী বৃহত্তর কলকাতা নামে পরিচিত শহরের নগরাঞ্চলীয় বিস্তারের মোট আয়তন ১৭৫০ বর্গকিলোমিটার।[৩১] এই অঞ্চলের মধ্যে ডাকবিভাগের ১৫৭টি অঞ্চল রয়েছে।[৩২] বৃহত্তর কলকাতার শাসনকর্তৃত্ব ৩৮টি পুরসভা সহ একাধিক কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত। বৃহত্তর কলকাতায় মোট ৭২টি শহর এবং ৫২৭টি ছোটো শহর ও গ্রাম রয়েছে।[৩১] কলকাতা মহানগরীয় জেলার শহরতলি অঞ্চলটি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়া জেলা পর্যন্ত প্রসারিত।
মূল শহরের পূর্ব থেকে পশ্চিমের বিস্তার অত্যন্ত সংকীর্ণ। পশ্চিমে হুগলি নদী থেকে পূর্বে ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস পর্যন্ত শহরের প্রস্থ মাত্র ৫-৬ কিলোমিটার।[৩৩] উত্তর থেকে দক্ষিণে শহরের প্রসার মোটামুটিভাবে তিন ভাগে বিভক্ত – উত্তর কলকাতা, মধ্য কলকাতা ও দক্ষিণ কলকাতা। শ্যামবাজার, বাগবাজার, হাতিবাগান, আহিরীটোলা, কুমোরটুলি, জোড়াসাঁকো প্রভৃতি কলকাতার পুরনো এলাকাগুলি উত্তর কলকাতায় অবস্থিত। দক্ষিণ কলকাতার বিস্তার স্বাধীনতার পর। বালিগঞ্জ, ভবানীপুর, আলিপুর, নিউ আলিপুর, ঢাকুরিয়া প্রভৃতি শহরের বিলাসবহুল অঞ্চল এই দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত। শহরের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত বিধাননগর (অন্যনামে সল্টলেক বা লবনহ্রদ) কলকাতার একটি পরিকল্পিত স্যাটেলাইট টাউনশিপ। রাজারহাট নিউটাউন নামে আরও একটি পরিকল্পিত টাউনশিপও কলকাতার উত্তর-পূর্ব দিকে গড়ে উঠছে। কলকাতার পশ্চিমে হাওড়া শহরের প্রান্তে গড়ে উঠছে কলকাতা পশ্চিম আন্তর্জাতিক মহানগরী নামে আর একটি শহরও। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেও দ্রুত জনবসতির বিস্তার ঘটছে।
মধ্য কলকাতা শহরের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ বা বিবাদীবাগকে কেন্দ্র করে এখানেই গড়ে উঠেছে কলকাতার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য অঞ্চল। মহাকরণ, জিপিও, হাইকোর্ট, লালবাজার পুলিশ সদর, কলকাতা পৌরসংস্থা সহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় এখানে অবস্থিত। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ময়দান নামক এক সুবৃহৎ মাঠে বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠান ও রাজনৈতিক সমাবেশের আয়োজন হয়ে থাকে। কলকাতার দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় বাণিজ্য অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে মাদার তেরেসা সরণির দক্ষিণে। এখানেও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কার্যালয় রয়েছে।
[সম্পাদনা] জলবায়ু
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার জলবায়ু
কলকাতার জলবায়ু ক্রান্তীয় সাভানা প্রকৃতির (কোপেন জলবায়ু শ্রেণিবিভাগ অনুসারে Aw)। বার্ষিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৮° সেন্টিগ্রেট; মাসিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯°-৩০° সেন্টিগ্রেটের মধ্যে থাকে।[৩৪] গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র। এই সময় সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৩০° সেন্টিগ্রেটের কাছাকাছি থাকলেও মে-জুন মাসে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা প্রায়শই ৪০° সেন্টিগ্রেট ছাড়িয়ে যায়।[৩৪] শীতকাল সাধারণত মাত্র আড়াই মাস স্থায়ী হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা ৯°-১১° সেন্টিগ্রেটের কাছাকাছি থাকে। শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড যথাক্রমে ৪৩.৯° সেন্টিগ্রেট ও ৫° সেন্টিগ্রেট।[৩৪] সাধারণভাবে মে মাস শহরের উষ্ণতম মাস। এই সময় শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা থাকে যথাক্রমে ৩৭° সেন্টিগ্রেট ও ২৭° সেন্টিগ্রেট। অন্যদিকে জানুয়ারি শীতলতম মাস। জানুয়ারির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গড় তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৩° সেন্টিগ্রেট ও ১২° সেন্টিগ্রেট।
গ্রীষ্মের শুরুতে প্রায়শই শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই ধরনের ঝড় প্রকৃতিগতভাবে পরিচলন। এর স্থানীয় নাম কালবৈশাখী।[৩৫]
দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাটি শহরে বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য দায়ী।[৩৬] বর্ষাকাল সাধারণত স্থায়ী হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। শহরের বার্ষিক ১৫৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের অধিকাংশই এই সময়ে ঘটে থাকে। অগস্ট মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সর্বোচ্চ থাকে। এই সময় গড়ে ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কলকাতা বার্ষিক ২,৫২৮ ঘণ্টার সূর্যালোক পেয়ে থাকে। অধিকাংশ সূর্যালোক প্রাপ্তির সময় মার্চ মাস।[৩৭] দূষণ কলকাতার অন্যতম প্রধান সমস্যা। ভারতের অন্যান্য প্রধান শহরের তুলনায় কলকাতার সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটার বা এসপিএম-এর হার এতটাই বেশি যে এর ফলে প্রায়শই ধোঁয়া ও কুয়াশা সৃষ্টি হয়।[৩৮][৩৯] মারাত্মক বায়ুদূষণের ফলে শহরে ফুসফুসের ক্যান্সার সহ দূষণসৃষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।[৪০]
[সম্পাদনা] অর্থনীতি
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার অর্থনীতি
কলকাতা পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান ব্যবসায়িক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এই শহরেই অবস্থিত ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ; যেটি ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম।[৪১] এটি একটি প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্দর। কলকাতাতেই এই অঞ্চলের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি অবস্থিত। একদা ভারতের প্রধান নগরী ও রাজধানী কলকাতা, স্বাধীনোত্তর কালে অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জঙ্গি ট্রেড-ইউনিয়ন আন্দোলনের শিকার হয়ে দ্রুত আর্থিক অবনতির পথে এগিয়ে যায়।[৪২] ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত একদিকে যেমন মূলধন বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে, তেমনি অন্যদিকে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বৃহৎ কলকারখানাগুলি। অনেক ফ্যাক্টরির উৎপাদন কমে আসে। অনেকেই ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেন।[৪২] মূলধন ও সম্পদের এই হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত হয় বিশ্ববাজারে এই অঞ্চলে উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী দ্রব্যগুলির (যেমন পাট ইত্যাদি) চাহিদা হ্রাস। ফলে শহরের আর্থিক অবস্থায় গুরুতর সংকট দেখা দেয়।[৪৩]
১৯৯০-এর দশকে ভারতীয় অর্থনীতিতে উদারীকরণ কলকাতার ভাগ্যোন্নয়নে বিশেষ সহায়ক হয়। আজও নমনীয় উৎপাদন কলকাতার অর্থব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য। ঘরোয়া সেক্টরগুলি তাই এখানে মোট শ্রমশক্তির ৪০% অধিকার করে আছে।[৪৪] উদাহরণস্বরূপ, ২০০৫ সালের হিসাব অনুযায়ী ফুটপাথের হকারদের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮,৭৭২ কোটি ভারতীয় টাকা (প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।[৪৫] শহরের অন্যতম বৃহৎ কর্মশক্তি হল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীগণ। এছাড়াও বিভিন্ন কায়িক ও বৌদ্ধিক শ্রমিকসহ শহরে একটি বৃহৎ সংখ্যক অদক্ষ ও অর্ধদক্ষ শ্রমিক জনসংখ্যাও পরিলক্ষিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প কলকাতার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে একটি বিশিষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেছে। এই শহরে আইটি সেক্টরের বৃদ্ধির হার বছরে ৭০%, যা জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ।[৪৬] বিগত কয়েক বছরে আবাসন পরিকাঠামো সেক্টরে উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে গৃহীত হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্পও।[৪৭]
বড় বড় ভারতীয় কর্পোরেশনগুলি দ্বারা পরিচালিত অনেকগুলি শিল্প ইউনিট কলকাতায় অবস্থিত। আইটিসি লিমিটেড, বাটা শ্যুজ, বিড়লা কর্পোরেশন, কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন, ইউনাইটেড ব্যাংক অব ইণ্ডিয়া, ইউকো ব্যাংক ও এলাহাবাদ ব্যাংক ইত্যাদি বেশ কয়েকটি নামজাদা সংস্থার সদর কলকাতায় অবস্থিত। সাম্প্রতিককালে, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘লুক ইস্ট’ নীতির মতো বিভিন্ন ঘটনা সিক্কিমের নাথুলা গিরিপথ খুলে দেওয়ায় চিনের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার দিক খুলে দিয়েছে; এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলি ভারতীয় বাজারে প্রবেশে ইচ্ছুক হওয়ায় কলকাতার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেকটাই সুবিধাজনক।[৪৮] [৪৯]
[সম্পাদনা] রাজধানী ও নগর প্রশাসন
আরও দেখুন – পশ্চিমবঙ্গ সরকার, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা পৌরসংস্থা
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থানকেন্দ্র। এই শহরেই অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা, রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ ও কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়াও কলকাতায় কতকগুলি নিম্ন আদালতও অবস্থিত; সাধারণ দেওয়ানি মামলার জন্য ছোট আদালত এবং ফৌজদারি বিচারের জন্য দায়রা আদালত। নগরপাল বা পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কলকাতা পুলিশ পশ্চিমবঙ্গ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে।
২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের কালে কলকাতায় তিনটি লোকসভা কেন্দ্র ও ২১টি বিধানসভা কেন্দ্রের অস্তিত্ব ছিল। সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিশনের সুপারিশক্রমে বর্তমানে কলকাতার বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ১৬টি করা হয়েছে। এগুলি কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ ও অংশত যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে উক্ত পুনর্নির্ধারিত কেন্দ্রসীমার মধ্যেই কলকাতার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিধানসভা কেন্দ্রগুলি এখনও কার্যকর করা হয়নি। নবগঠিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলি হল যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত যাদবপুর ও টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র; কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কসবা, বেহালা পূর্ব, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, ভবানীপুর, রাসবিহারী ও বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র এবং কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চৌরঙ্গি, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা ও কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র।
কলকাতার নগর প্রশাসন ও নাগরিক পরিষেবাগুলির দায়িত্ব একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ন্যস্ত। কলকাতার পৌর প্রশাসনের দায়িত্বে আছে মহানাগরিক বা মেয়রের নেতৃত্বাধীন কলকাতা পৌরসংস্থা। এই পৌরসংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বৃহত্তম। কলকাতা পৌরসংস্থার এলাকা ১৫টি বরো ও ১৪১টি ওয়ার্ডে বিভক্ত। এই সংস্থায় মহানাগরিক ছাড়াও উপমহানাগরিক এবং ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মেয়র-পরিষদও রয়েছেন। বর্তমানে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এই পৌরসংস্থায় ক্ষমতা ভোগ করছেন। এছাড়াও শহরে কলকাতার শেরিফ একটি অরাজনৈতিক সাম্মানিক পদ রয়েছে।
কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত। বৃহত্তর কলকাতার নগরোন্নয়ন ও পরিকল্পনার দায়িত্বে এই সংস্থাগুলি ছাড়াও কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি ও ক্যালকাটা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট নিযুক্ত আছে। এছাড়া কলকাতা জেলার কালেক্টর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারও কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
ভারতে বাংলা ভাষার নিয়ন্ত্রক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির প্রধান কার্যালয়ও কলকাতায় অবস্থিত।
[সম্পাদনা] গণমাধ্যম
- মূল নিবন্ধ : ভারতের গণমাধ্যম, পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম, এবং কলকাতার গণমাধ্যম
ভারতীয় তথা বাংলা গণমাধ্যমের ইতিহাসে কলকাতা এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী। ১৭৮০ সালে অগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় প্রকাশিত ভারতের প্রথম সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল গেজেট’ এই শহর থেকেই প্রকাশিত হয়। এরপর ১৮১৮ সালে ‘দিগদর্শন’ নামক বাংলা মাসিক ও ‘সমাচার দর্পণ’ ও ‘বাঙ্গাল গেজেটি’ নামে দুটি সাপ্তাহিকপত্র প্রকাশিত হয়। ১৮৩৯ সালে কলকাতা থেকে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা দৈনিক সংবাদ প্রভাকর। স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগে এই শহর থেকেই প্রকাশিত হত বিপ্লবী ও রাজসমর্থক সংবাদপত্রগুলি। আজও সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রাচীন ঐতিহ্যটি সগৌরবে বহন করছে কলকাতা।
বর্তমানে কলকাতার প্রধান সংবাদপত্রগুলি হল আনন্দবাজার পত্রিকা, গণশক্তি, বর্তমান, আজকাল, সংবাদ প্রতিদিন ও দৈনিক স্টেটসম্যান। এছাড়া শিলিগুড়ি থেকে প্রকাশিত উত্তরবঙ্গ সংবাদ পত্রিকার একটি সংস্করণও কলকাতা থেকে বের হয়। ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য স্টেটসম্যান, এশিয়ান এজ, হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রধান সাময়িকপত্রগুলি হল দেশ, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, সানন্দা, উনিশ কুড়ি, আনন্দমেলা, আনন্দলোক, আমার সময় (টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত বাংলা দ্বৈমাসিক), বইয়ের দেশ, ইন্ডিয়া টুডে (বাংলা), দ্য সানডে ইন্ডিয়ান (বাংলা), ভাষাবন্ধন, নবকল্লোল, প্রসাদ ইত্যাদি। এগুলি ছাড়াও অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিন কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। কলকাতার ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য হিন্দি, উর্দু ও ওড়িয়া ভাষাতেও কয়েকটি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়ে থাকে।
কলকাতায় বর্তমানে দশটি স্থানীয় এফএম স্টেশন আছেঃ এয়ার কলকাতা (এফএম রেনবো ও এফএম গোল্ড), রেডিও মির্চি, রেড এফএম, পাওয়ার এফএম, আমার এফএম, জ্ঞানবাণী, বিগ এফএম, মিয়াও এফএম, ফ্রেন্ডস এফএম (আনন্দবাজার গোষ্ঠী পরিচালিত) ও ফিভার এফএম। সরকারি টেলিভিশন-ব্রডকাস্টার দূরদর্শন-এর বাংলা চ্যানেল ডিডিবাংলা কলকাতা থেকে সম্প্রচারিত হয়। এছাড়াও একাধিক বেসরকারি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল কলকাতা থেকে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে। এগুলির মধ্যে ২৪ ঘণ্টার সংবাদ চ্যানেল স্টার আনন্দ, ২৪ ঘণ্টা, কলকাতা টিভি ও তারা নিউজ; ২৪ ঘণ্টার সংগীত চ্যানেল সংগীত বাংলা ও তারা মিউজিক; ২৪ ঘণ্টার বাংলা চলচ্চিত্র চ্যানেল চ্যানেল এইট টকিজ; সাধারণ বিনোদন চ্যানেল স্টার জলসা, ইটিভি বাংলা, জি বাংলা ও আকাশ বাংলা প্রধান।
[সম্পাদনা] নাগরিক পরিষেবা
কলকাতা পৌরসংস্থা হুগলি নদী থেকে জল সংগ্রহ করে সারা কলকাতায় পানীয় জল হিসাবে সরবরাহ করে। এই জল উত্তর ২৪ পরগনার পলতা পাম্পিং স্টেশনে পরিশোধিত হয়ে থাকে। কলকাতা থেকে দৈনিক প্রায় ২৫০০ টন কঠিন বর্জ্য পদার্থ শহরের পূর্বে অবস্থিত ধাপার মাঠে ফেলা হয়ে থাকে। আবর্জনার প্রাকৃতিক রিসাইকেলিং ও পয়ঃপ্রণালী নির্মানের জন্য এই মাঠে চাষাবাদও করা হয়ে থাকে।[৫০] যদিও শহরের অনেক অঞ্চলেই পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা বেশ খারাপ এবং তা অনেক সময়েই নগরবাসীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করে থাকে।[৩৭] কলকাতার বিদ্যুত ব্যবস্থা ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন ও পার্শ্ববর্তী নগরাঞ্চলের বিদ্যুত ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ কর্তৃক পরিচালিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় অবধি এই শহরকে তীব্র বিদ্যুৎসংকট ও সেই কারণে ব্যাপক হারে লোডশেডিং-এর সম্মুখীন হতে হত। বর্তমানে সেই অবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে; যদিও এখনও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস-এর অধীনে শহরে মোট কুড়িটি দমকলকেন্দ্র আছে। এগুলি বছরে গড়ে ৭৫০০টি করে অগ্নিনির্বাপন ও উদ্ধারকার্য চালিয়ে থাকে।[৫১]
শহরের মোবাইল ফোন ও ল্যান্ডফোন পরিষেবা দিয়ে থাকে সরকারি সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড ও বেসরকারি সংস্থা ভোদাফোন, এয়ারটেল, রিলায়েন্স ইনফোকম ও টাটা ইন্ডিকম। জিএসএম ও সিডিএমএ উভয় মাধ্যমেই সেলুলার কভারেজ পাওয়া যায়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা বিএসএনএল, টাটা ইন্ডিকম, এয়ারটেল ও রিলায়েন্সের মাধ্যমে পাওয়া যায়।
[সম্পাদনা] পরিবহণ
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থা
কলকাতার গণ পরিবহণ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যমগুলি হল কলকাতা আন্তঃনগরীয় রেল, কলকাতা মেট্রো, ট্রাম ও বাস। আন্তঃনগরীয় রেল যোগাযোগব্যবস্থা বৃহত্তর কলকাতার দূরবর্তী শহরগুলি পর্যন্ত প্রসারিত। ভারতীয় রেলের নিয়ন্ত্রণাধীন কলকাতা মেট্রো দেশের প্রথম মেট্রোরেল পরিষেবা।[৫২] হুগলি নদীর সমান্তরালে ২২.৩ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথে শহরের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর এই রেলপথ প্রসারিত। কলকাতায় বাস পরিষেবা সরকারি ও বেসরকারে উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে থাকে। কলকাতার সরকারি বাস পরিবহণ সংস্থাগুলি হল কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা, পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহণ নিগম, ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি ইত্যাদি। কলকাতার ট্রাম পরিষেবার দায়িত্ব ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানির উপর ন্যস্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, কলকাতা ভারতের একমাত্র শহর যেখানে ট্রাম পরিষেবা অদ্যাবধি বিদ্যমান।[৫৩] তবে শহরের কয়েকটি অঞ্চলে শ্লথগতির ট্রাম চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়েছে। বর্ষাকালে অত্যধিক বৃষ্টিতে জল জমে মাঝে মাঝেই শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে।[৫৪][৫৫]
কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার অপর এক বিশিষ্ট মাধ্যম হল ট্যাক্সি। কলকাতার ট্যাক্সিগুলি হলুদ রঙের হয়ে থাকে। অন্যান্য শহরে যখন টাটা ইন্ডিকা বা ফিয়েট গাড়ি ট্যাক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে কলকাতার অধিকাংশ ট্যাক্সিই অ্যাম্বাস্যাডার। কোনো কোনো নির্দিষ্ট রুটে অটোরিকশাও চলাচল করে। স্বল্পদুরত্বের যাত্রীরা অনেক সময় সাইকেল রিকশা ও হস্তচালিত রিকশাও ব্যবহার করে থাকেন। কলকাতায় বিভিন্ন রকমের গণ পরিবহণ মাধ্যম সুলভ বলে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা অন্যান্য শহরের তুলনায় অল্পই।[৫৬] যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শহরে নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; ২০০২ সালের একটি তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ববর্তী সাত বছরে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৪৪ শতাংশ।[৫৭] জনঘনত্বের তুলনায় শহরে রাস্তার পরিমাণ মাত্র ৬ শতাংশ। এর ফলে তীব্র যানজট শহরে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। উল্লেখ্য, এই হার দিল্লিতে ২৩ শতাংশ ও মুম্বইতে ১৭ শতাংশ।[৫৮] কলকাতা মেট্রোরেল এবং একাধিক নতুন রাস্তা ও উড়ালপুল শহরের যানজট সমস্যার সমাধানে অনেকটাই সাহায্য করছে।
কলকাতায় দুটি দুরপাল্লার রেলস্টেশন আছে: হাওড়া স্টেশন ও শিয়ালদহ। "কলকাতা" (পূর্বনাম "চিৎপুর") নামে আরও একটি স্টেশন ২০০৬ সালে চালু হয়।[৫৯] ভারতীয় রেলের দুটি অঞ্চলের সদর কার্যালয় কলকাতায় অবস্থিত: পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পূর্ব রেল।[৬০]
কলকাতার একমাত্র বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শহরের উত্তরে দমদমে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর থেকে আভ্যন্তরিণ ও আন্তর্জাতিক – দুই প্রকার উড়ানই পরিচালিত হয়। কলকাতা পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর। কলকাতা ও কলকাতার সহকারী হলদিয়া বন্দরের দায়িত্ব কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের উপর ন্যস্ত।[৬১] এই বন্দর থেকে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারে যাত্রী পরিষেবা এবং ভারতের অন্যান্য বন্দর ও বিদেশে পণ্য পরিবহণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এছাড়া কলকাতা ও হাওড়া শহরের মধ্যে একটি ফেরি পরিষেবাও চালু আছে।
[সম্পাদনা] জনপরিসংখ্যান
| কলকাতার জনসংখ্যা | |||
|---|---|---|---|
| জনগননা | জনসংখ্যা | %± | |
| ১৯৮১ | ৯,১৯৪,০০০ |
|
|
| ১৯৯১ | ১১,০২১,৯০০ | 19.9% | |
| ২০০১ | ১৩,১১৪,৭০০ | 19.0% | |
| সূত্র: ভারতের জনগণনা[৬২] | |||
২০০১ সালের হিসেব অনুযায়ী, কলকাতার পৌর এলাকার জনসংখ্যা ৪,৫৮০,৫৪৪ এবং কলকাতা মহানগরীয় অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ১৩,২১৬,৫৪৬। ২০০৯ সালের একটি প্রাককলন অনুসারে শহরের পৌর এলাকার বর্তমান সম্ভাব্য জনসংখ্যা ৫,০৮০,৫১৯।[৬৩] লিঙ্গানুপাত প্রতি ১০০০ জন পুরুষে ৯২৮ জন নারী।[৬৪] এই হার জাতীয় লিঙ্গানুপাত হারের তুলনায় কম; তার কারণ, অনেক উপার্জনশীল পুরুষ তাদের পরিবারের মহিলা সদস্যদের গ্রামে রেখে শহরে কাজ করতে আসেন। কলকাতার সাক্ষরতার হার ৮১ শতাংশ[৬৫]; যা জাতীয় সাক্ষরতার হার ৮০ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।[৬৬] নথিভুক্ত হিসেব অনুযায়ী কলকাতা পৌরসংস্থা অধিভুক্ত এলাকার বৃদ্ধির হার ৪.১ শতাংশ; যা ভারতের দশ লক্ষাধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট মহানগরগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন।[৬৭]
বাঙালিরা কলকাতার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী (৫৫ শতাংশ); মারোয়াড়ি ও বিহারি সম্প্রদায় শহরের উল্লেখযোগ্য জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (২০ শতাংশ)।[৬৮] এছাড়াও কলকাতা চীনা, তামিল, নেপালি, ওড়িয়া, তেলুগু, অসমীয়া, গুজরাটি, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, আর্মেনিয়ান, তিব্বতি, মহারাষ্ট্রীয়, পাঞ্জাবি, পারসি প্রভৃতি জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসভূমি। কলকাতার প্রধান ভাষা হল বাংলা ও ইংরেজি; এছাড়াও হিন্দি, উর্দু, ওড়িয়া ও ভোজপুরি ভাষাও শহরের একাংশের বাসিন্দাদের দ্বারা কথিত হয়ে থাকে।
জনগণনা অনুসারে, কলকাতার জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ হিন্দু, ১৮ শতাংশ মুসলিম, ১ শতাংশ খ্রিষ্টান এবং ১ শতাংশ জৈন; অবশিষ্ট শিখ, বৌদ্ধ, ইহুদি ও জরথুস্ট্রীয় সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা অত্যন্ত অল্প।[৬৯] শহরের প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ ২,০১১টি নথিভুক্ত এবং ৩,৫০০টি অনথিভুক্ত (মূলত দখলদার) বস্তিতে বাস করেন।[৭০]
২০০৪ সালে দেশের ৩৫টি মহানগরের মধ্যে কলকাতায় সংঘটিত বিশেষ ও স্থানীয় আইনের আওতাভুক্ত অপরাধের হার ৬৭.৬ শতাংশ।[৭১] ২০০৪ সালে কলকাতা পুলিশ ১০,৭৫৭টি ভারতীয় দণ্ডবিধির আওয়াভুক্ত মামলা নথিভুক্ত করে; যা সারা দেশে দশম স্থানের অধিকারী।[৭২] ২০০৬ সালে জাতীয় স্তরে যখন অপরাধ হার ছিল প্রতি এক লক্ষে ১৬৭.৭, তখন কলকাতায় এই হার ছিল ৭১; যা ভারতীয় মহানগরগুলির মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন হার।[৭৩] কলকাতার সোনাগাছি অঞ্চল এশিয়ার বৃহত্তম নিষিদ্ধ পল্লিগুলির অন্যতম; এখানে প্রায় ১০,০০০ যৌনকর্মী কাজ করেন।[৭৪]
[সম্পাদনা] সংস্কৃতি
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার সংস্কৃতি
- আরও দেখুন: বিশিষ্ট কলকাতাবাসীদের তালিকা
কলকাতা মহানগরী তার সাহিত্যিক, শৈল্পিক ও বৈপ্লবিক ঐতিহ্যগুলির জন্য বিশ্ববিদিত। এই শহর কেবলমাত্র ভারতের পূর্বতন রাজধানীই ছিল না, বরং আধুনিক ভারতের শিল্প ও সাহিত্য চেতনার জন্মস্থানও ছিল। শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি কলকাতাবাসীদের বিশেষ আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে; নতুন প্রতিভাকে গ্রহণ করার ঐতিহ্য কলকাতাকে তাই পরিণত করেছে "প্রচণ্ড সৃজনীশক্তিধর এক শহরে"।[৭৭] এই সকল কারণে কলকাতাকে অনেক সময় "ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী" বলে উল্লেখ করা হয়।
কলকাতার অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল শহরের ছোটো ছোটো অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পাড়া সংস্কৃতি। সাধারণত প্রত্যেক পাড়ায় একটি করে ক্লাবঘর সহ নিজস্ব সংঘ বা ক্লাব থাকে। অনেক সময় ক্লাবগুলির নিজস্ব খেলার মাঠও থাকে। পাড়ার বাসিন্দারা অভ্যাসগতভাবে এখানে এই সব ক্লাবঘরে আড্ডা দিতে আসেন; মাঝেমধ্যে এই সব আড্ডা হয়ে ওঠে মুক্তছন্দের বৌদ্ধিক আলাপআলোচনা।[৭৮] এই শহরে রাজনৈতিক দেওয়াললিখনেরও এক ঐতিহ্য লক্ষিত হয়; এই সব দেওয়াললিখনে কুরুচিপূর্ণ কেচ্ছাকেলেংকারির বর্ণনা থেকে শ্লেষাত্মক রঙ্গব্যঙ্গ, লিমেরিক, কার্টুন, ইস্তাহার – সবই বিধৃত হয়।
কলকাতার অনেক ভবন ও স্থাপনা গথিক, ব্যারোক, রোমান, প্রাচ্য, ও মুঘল স্থাপত্য সহ অন্যান্য ইন্দো-ইসলামীয় শৈলীর মোটিফ দ্বারা সজ্জিত। ঔপনিবেশিক যুগের অনেক উল্লেখযোগ্য ভবনই সুসংরক্ষিত এবং "ঐতিহ্যবাহী ভবন" হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। আবার অনেক ভবনই আজ কালের গহ্বরে বিলীয়মান। ১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ভারতীয় সংগ্রহালয় এশিয়ার প্রাচীনতম জাদুঘর; ভারতের প্রাকৃতিক ইতিহাস ও ভারতীয় শিল্পের এক বিরাট সংগ্রহ এই জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।[৭৯] কলকাতার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলে শহরের ইতিহাস-সংক্রান্ত একটি জাদুঘর রয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার দেশের অগ্রণী পাবলিক লাইব্রেরি। অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস ও অন্যান্য শিল্প প্রদর্শশালায় নিয়মিত শিল্প প্রদর্শনী আয়োজিত হয়ে থাকে।
কলকাতার যাত্রাপালা, নাটক ও গ্রুপ থিয়েটারের ঐতিহ্য সুবিদিত। বাংলা চলচ্চিত্র ও মূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্র এখানে সমান জনপ্রিয়। শহরের ফিল্ম স্টুডিও টালিগঞ্জে অবস্থিত; এই কারণে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে "টলিউড" নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। একাধিক কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালকের কর্মজীবন গড়ে উঠেছে এই শহরকে কেন্দ্র করেই। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্যজিৎ রায় (১৯২১–১৯৯২), মৃণাল সেন (জন্ম ১৯২৩), ঋত্বিক ঘটক (১৯২৫–১৯৭৬) এবং আধুনিক চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত (জন্ম ১৯৪৪), অপর্ণা সেন (জন্ম ১৯৪৫), গৌতম ঘোষ (জন্ম ১৯৫০) ও ঋতুপর্ণ ঘোষ (জন্ম ১৯৬২)।
কলকাতার খাদ্যতালিকার প্রধান উপাদান ভাত ও মাছের ঝোল,[৮০] এবং রসগোল্লা, সন্দেশ ও মিষ্টি দই প্রভৃতি মিষ্টান্ন। ইলিশ, চিংড়ি ও রুই সহ অন্যান্য মাছের নানা ব্যঞ্জনও কলকাতায় বেশ প্রচলিত। বেগুনি, কাটি রোল, ফুচকা প্রভৃতি পথখাদ্য এবং পূর্ব কলকাতার চায়নাটাউনের ভারতীয় চীনা খাদ্যও যথেষ্ট জনপ্রিয়।[৮১][৮২]
বাঙালি রমণীরা সাধারণত ঐতিহ্যবাহী পোষাক শাড়ি পরে থাকেন; তবে কেউ কেউ পাশ্চাত্য পোষাক পরতেও অভ্যস্থ। আবার পুরুষদের মধ্যে পাশ্চাত্য পোষাকেরই চল বেশি।
দুর্গাপূজা কলকাতার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাপেক্ষা জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব।[৮৩] প্রতি বছর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিন-কার্তিক মাসে (ইংরেজি সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলির মধ্যে জগদ্ধাত্রী পূজা, কালীপূজা, ঈদুল ফিতর, দোলযাত্রা, বড়দিন, পয়লা বৈশাখ, পঁচিশে বৈশাখ, সরস্বতী পূজা, রথযাত্রা, পৌষপার্বন ইত্যাদি মহাসমারোহে পালিত হয়। এছাড়াও অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা, ডোভার লেন সংগীত সম্মেলন, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ও নান্দীকারের জাতীয় নাট্য উৎসব ইত্যাদি সাংস্কৃতিক উৎসবও। প্রতি বছর জুন মাসে কলকাতায় সমকামীদের গৌরব পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়; কলকাতার এই পদযাত্রা ভারতের প্রথম গৌরব পদযাত্রা।[৮৪]
ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে কলকাতাকেন্দ্রিক সাহিত্যিকদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হয়। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪), মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১), কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৮–১৯৭৬) ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) প্রমুখ। এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেন শহরের পরবর্তী প্রজন্মের খ্যাতিমান সাহিত্যিকেরা। এঁদের মধ্যে উল্লেখনীয় হলেন জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪), বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪–১৯৫০), তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬), আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯–১৯৯৫), শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৫), বুদ্ধদেব গুহ (জন্ম ১৯৩৬), মহাশ্বেতা দেবী (জন্ম ১৯২৬), সমরেশ মজুমদার (জন্ম ১৯৪৪), সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৬) এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৩৪) প্রমুখ।
রবীন্দ্রসংগীত, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত ও বাউল প্রভৃতি বাংলা লোকসংগীতের প্রতি কলকাতাবাসীদের বিশেষ আগ্রহ লক্ষিত হয়। ১৯৯০-এর দশকের প্রথম ভাগ থেকে বাংলা সংগীতের জগতে এক নতুন ধারার সূচনা ঘটে। এই ধারার বৈশিষ্ট্য লক্ষিত হয় বিভিন্ন বাংলা ব্যান্ডের গানে। কোনো কোনো ব্যান্ড আবার বাংলা লোকসংগীতের সঙ্গে জ্যাজ ও অন্যান্য পাশ্চাত্য সংগীতের ফিউশনও ঘটায়। তবে এই ধারায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবীর সুমন, নচিকেতা, অঞ্জন দত্ত এবং বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দু ও ক্যাকটাসের জীবনমুখী গান।
[সম্পাদনা] শিক্ষাব্যবস্থা
- মূল নিবন্ধ : কলকাতার শিক্ষাব্যবস্থা
কলকাতার বিদ্যায়তনগুলি প্রধানত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত অথবা বেসরকারি সংস্থাগুলির মালিকানাধীন। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলির মধ্যে অনেক ধর্মীয় সংগঠন পরিচালিত বিদ্যালয়ও রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হলেও হিন্দি ও উর্দুও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, ইন্ডিয়ান সার্টিফিকেট অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (আইসিএসই), কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই), জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় সংস্থা অথবা ব্রিটিশ ক্যারিকুলামের এ-লেভেল কর্তৃক অনুমোদিত। ১০+২+৩ পরিকল্পনার অধীনে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ছাত্রছাত্রীদের "জুনিয়র কলেজ" (যা প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় নামেও পরিচিত) অথবা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সুবিধাযুক্ত পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, সিবিএসই বা আইসিএসই অনুমোদিত বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রী কলা, বিজ্ঞান অথবা বাণিজ্য – এই তিন ধারার মধ্যে থেকে একটিকে বেছে নিতে হয়; যদিও অন্যান্য বৃত্তিমূলক ধারারও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনীয় পাঠক্রম সমাপ্ত করার পর ছাত্ররা সাধারণ বা পেশাগত ডিগ্রি শিক্ষাক্রমে ভর্তি হতে পারে।
কলকাতায় নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কলকাতার কলেজগুলি মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি দ্বারা অনুমোদিত; অবশ্য বহিঃস্থ কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত কলেজও কলকাতায় আছে। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যাই দুই শতাধিক।[৮৫] বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতার উল্লেখযোগ্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এশিয়ার প্রথম আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।[৮৬] অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল প্রেসিডেন্সি কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, বেথুন কলেজ (ভারতের প্রথম মহিলা কলেজ) ও স্কটিশ চার্চ কলেজ। কলকাতায় অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি, বসু বিজ্ঞান মন্দির, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স, ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার, সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, এস. এন. বোস ন্যাশানাল সেন্টার ফর বেসিক সায়েন্সেস, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস অ্যাকাউন্টেন্টস অফ ইন্ডিয়া, এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, খড়গপুর ও ন্যাশানাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, দুর্গাপুর কলকাতার অনতিদূরে অবস্থিত দুটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
[সম্পাদনা] খেলাধূলা
অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল, ক্রিকেট ও ফিল্ড হকি কলকাতার জনপ্রিয় খেলা। কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান কর্মকেন্দ্র।[৮৭] এই শহর "ভারতীয় ফুটবলের মক্কা" নামেও পরিচিত। ১৮৯৮ সালে চালু হওয়া কলকাতা ফুটবল লিগ এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল লিগ। ভারতের অন্যতম প্রধান তিন জাতীয় দল মোহনবাগান, মহমেডান ও ইস্টবেঙ্গল কলকাতারই তিন ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব। এছাড়াও চিরাগ ইউনাইটেড স্পোর্টিং ক্লাব ও জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টিং ক্লাব এই শহরেরই আই-লিগে অংশগ্রহণকারী দুই স্বনামধন্য ফুটবল ক্লাব। মোহনবাগান শুধুমাত্র এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাবই নয়, এটি "ভারতের জাতীয় ক্লাব" আখ্যাপ্রাপ্ত একমাত্র ক্লাব।
ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কলকাতাতে ক্রিকেট অত্যন্ত জনপ্রিয়। শহরের মাঠেঘাটে ও রাস্তায় ক্রিকেট খেলার রেওয়াজ রয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি বহির্দ্বার এবং ক্যারাম প্রভৃতি অন্তর্দ্বার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কলকাতায় নিয়মিত আন্তঃঅঞ্চল ও আন্তঃক্লাব পর্যায়ে আয়োজিত হয়ে থাকে। কলকাতা ময়দানে একাধিক ছোটোখাটো ফুটবল ও ক্রিকেট ক্লাব এবং প্রশিক্ষণ সংস্থা অবস্থিত। কলকাতার উল্লেখযোগ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বগণ হলেন প্রাক্তন ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং অলিম্পিক টেনিস ব্রোঞ্জ পদকজয়ী লিয়েন্ডার পেজ। কলকাতার ফুটবল তারকাদের মধ্যে উল্লেখনীয় হলেন প্রাক্তন অলিম্পিক পদকজয়ী শৈলেন মান্না, চুনী গোস্বামী, পি. কে. বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ এবং বর্তমান কালের ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া।
কলকাতা একাধিক বৃহদাকার স্টেডিয়ামের জন্য সুবিখ্যাত। ইডেন গার্ডেনস বিশ্বের দুটিমাত্র ১০০,০০০-আসনবিশিষ্ট ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একটি।[৮৮] বহুমুখী-ব্যবহারোপযোগী স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন (বা সল্টলেক স্টেডিয়াম) বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম।[৮৯][৯০] ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্রিকেট ক্লাব।[৯১] রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব, টালিগঞ্জ ক্লাব ও ফোর্ট উইলিয়ামে কলকাতার তিনটি ১৮-হোলবিশিষ্ট গলফ কোর্স অবস্থিত। রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব ব্রিটেনের বাইরে বিশ্বের প্রথম গলফ ক্লাব।[৯২] রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাব শহরে নিয়মিত ঘোড়দৌড় ও পোলো ম্যাচ আয়োজন করে থাকে। ক্যালকাটা পোলো ক্লাব বর্তমানে বিশ্বের প্রাচীনতম পোলো ক্লাব হিসেবে পরিগণিত হয়।[৯৩] অন্যদিকে ক্যালকাটা সাউথ ক্লাব কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেনিস প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানস্থল। ২০০৫ সালে উইমেনস টেনিস অ্যাসোসিয়েশন ট্যুরের টায়ার-থ্রি টুর্নামেন্ট সানফিস্ট ওপেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হয়েছিল। ক্যালকাটা রোয়িং ক্লাব নিয়মিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। কলকাতার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্টেডিয়ামগুলি হল রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং বেহালার প্রস্তাবিত সত্যজিৎ রায় ইন্ডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম।
শাহরুখ খানের মালিকানাধীন আইপিএল ক্রিকেট দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের কেন্দ্রও কলকাতায় অবস্থিত।
রাগবি কলকাতার একটি অপ্রধান খেলা হলেও এই শহরকে ভারতের রাগবি ইউনিয়নের "রাজধানী" আখ্যা দেওয়া হয়। রাগবি ইউনিয়নের প্রাচীনতম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ক্যালকাটা কাপের নাম এই শহরের নামানুসারেই উদ্ভুত। কাপটি ভারতে নির্মিত হয়ে থাকে।
[সম্পাদনা] ভগিনী নগরী
| ভগিনী নগরী | রাষ্ট্র |
|---|---|
| লং বিচ | |
| ডালাস | |
| ওডেসা | |
| থেসালোনিকি | |
| নেপলস | |
| ঢাকা |
[সম্পাদনা] পাদটীকা
- ↑ World Urbanization Prospects: The 2005 revision (PDF)।
- ↑ (Mukherjee 1991)
- ↑ বাংলা স্থাননাম, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, মাঘ ১৪০০, পৃ. ৫১-৫২
- ↑ Nair, P. Thankappan. “Calcutta in the 17th century”, Firma KLM Private Limited, 1986।
- ↑ বাংলা স্থাননাম, সুকুমার সেন, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, মাঘ ১৪০০, পৃ. ৫২
- ↑ নাম বদলের রাজনীতি
- ↑ History। Yahoo! Pte Ltd। 2006-05-08 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Das S. “Pre-Raj crown on Clive House - Abode of historical riches to be museum”, The Telegraph, Calcutta, India, 2003-01-15। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ কলিকাতা কল্পলতা, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য সংগ্রহ, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদনা কাঞ্চন বসু, রিফ্লেক্ট পাবলিকেশন, কলকাতা, ১৯৯১, পৃ. ৫০৭
- ↑ Gupta, Subhrangshu. “Job Charnock not Kolkata founder: HC Says city has no foundation day”, Nation, The Tribune, May 18, 2003। 2006-12-07 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ "William, Fort". Encyclopædia Britannica. (2007). Retrieved on 2007-09-01.
- ↑ "Calcutta". Encyclopædia Britannica. (1911). Retrieved on 2007-09-18.
- ↑ History of Kolkata। Kolkathub.com। 2007-09-04 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Dutta, Krishna। Calcutta; A Cultural and Literary History। Interlink Books। 2007-10-11 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Pati, Biswamoy (2006); “Narcotics and empire”। Frontline 23 (10)। 2007-09-04 তারিখে সংগৃহীত।।
- ↑ Hardgrave, Jr, Robert L. (1990)। "A Portrait of Black Town: Balthazard Solvyns in Calcutta, 1791–1804", Pratapaditya Pal সম্পাদিত: Changing Visions, Lasting Images: Calcutta Through 300 Years। Bombay, Marg Publications প্রকাশিত। 31–46। ISBN 8185026114।
- ↑ Jack I. (2001). "Introductionপিডিএফ (145 KiB) to (Chaudhuri 2001, pp. v-xi) URL accessed on 2006-04-26.
- ↑ Hall, P (2002)। Cities of Tomorrow। Blackwell Publishing প্রকাশিত। pp.198-206। ISBN 0631232524।
- ↑ Randhawa K। The bombing of Calcutta by the Japanese। BBC। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ (Sen 1973)
- ↑ Suhrawardy HS (1987)। "Direct Action Day", Talukdar, MHR. (ed.) সম্পাদিত: Memoirs of Huseyn Shaheed Suhrawardy। University Press of Bangladesh প্রকাশিত। 55–56। ISBN 984-05-1087-8।
- ↑ (Gandhi 1992, pp. 497)
- ↑ (Bennett & Hindle 1996, pp. 63–70)
- ↑ Biswas S। Calcutta's colourless campaign। BBC। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ (Roy & Alsayyad 2004)
- ↑ NASA image.
- ↑ An Introduction। History of Kolkata। Catchcal.com। 2007-08-29 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Roy Chadhuri, S. (2006-07-25); “Microbial genetic resource mapping of East Calcutta wetlands” (PDF)। Current Science 91 (2): পৃ. 212–217। 2007-09-02 তারিখে সংগৃহীত।।
- ↑ Bunting SW, Kundu N, Mukherjee M। Situation Analysis. Production Systems and Natural Resources Use in PU Kolkata (PDF)। Institute of Aquaculture, University of Stirling, Stirling, UK। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Hazard profiles of Indian districts (PDF)। National Capacity Building Project in Disaster Management। UNDP। 2006-05-19 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-08-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৩১.০ ৩১.১ ৩১.২ 007 Kolkata (India) (PDF)। World Association of the Major Metropolises। 2007-08-31 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Kolkata Postal Codes। bloom9.com। 2007-08-29 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ deduced from the satellite map of the city, from NASA
- ↑ ৩৪.০ ৩৪.১ ৩৪.২ Weatherbase entry for Kolkata। Canty and Associates LLC। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ kal Baisakhi। Glossary of Meteorology। American Meteorological Society। 2006-09-05 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Khichar, M.L.; Ram Niwas (14 July 2003)। Know your monsoon। Agriculture Tribune, The Tribune। The Tribune Trust। 2007-06-09 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৩৭.০ ৩৭.১ Calcutta: Not 'The City of Joy'। Gaia: Environmental Information System। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Central Pollution Control Board। Ambient Air Quality in Seven Major Cities During 2002। Ministry of Environment & Forests, Govt of India। 2006-08-28 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ http://www.telegraphindia.com/1081030/jsp/calcutta/story_10035984.jsp
- ↑ Bhaumik, Subir. “Oxygen supplies for India police”, South Asia, BBC, 17 May 2007। 2007-06-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Genesis and Growth of the Calcutta Stock Exchange। Calcutta Stock Exchange Association Ltd। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ ৪২.০ ৪২.১ "Kolkata". Microsoft® Encarta® Online Encyclopedia. (2007). Retrieved on 2007-10-13.
- ↑ Follath E. “The Indian Offensive: From Poorhouse ro Powerhouse”, Spiegel Online, 2005-11-30। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Chakravorty S (2000). "From Colonial City to Global City? The Far-From-Complete Spatial Transformation of Calcutta" in (Marcuse & van Kempen 2000, pp. 56–77)
- ↑ Ganguly, Deepankar। Hawkers stay as Rs. 265 crore talks। The Telegraph, 30 November 2006। 2008-02-16 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Datta T. “Rising Kolkata's winners and losers”, BBC Radio 4's Crossing Continents, 2006-03-22। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Mukherjee Shankar. “Demand spurs New Town III- Never-before response to Rajarhat sale”, The Telegraph-Kolkata, 2005-03-28। 2006-07-25 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Sambit Saha. “Nathula trade may spur business in NE”, rediff.com, 2003-09-09। 2007-09-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ C. Raja Mohan. “A foreign policy for the East”, The Hindu, 2007-07-16। 2007-09-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Sound Practices Composting। United Nations Environment Programme। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Dheri SK, Misra GC। Fire: Blazing Questions (PDF Format)। indiadisasters.org। [[24 December 2004]] তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ About Kolkata Metro। Kolkata Metro। 2007-09-01 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Intra-city train travel। reaching India। Times Internet Limited। 2007-08-31 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ “HC admits PIL on waterlogging”, Times of India, Times Internet Limited, 11 July 2007। 2007-07-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ “Rain abates, but water logging paralyses normal life in Kolkata”, dailyindia.com, DailyIndia.com, 4 July 2007। 2007-07-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Table E2 Registered Motor Vehicles in Million-plus Cities,1991 to 1996 (As on 31 March)। National Institute of Urban Affairs। 2005-02-19 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Traffic Accident Characteristics of Kolkata (PDF)। UNESCAP। 2006-07-05 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ “Call to ensure traffic discipline in Kolkata”, The Hindu Business Line, 2004-09-05। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ “New station flag-off- Amenities added”, The Telegraph, 2006-02-20। 2007-09-02 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Geography : Railway Zones। IRFCA.org। Indian Railways Fan Club। 2007-08-31 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Salient Physical Features। Kolkata Port Trust। Kolkata Port Trust, India। 2007-06-09 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Table 7.2.11। mospi.gov.in। 2008-06-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ World Gazetteer: India - largest cities and towns and statistics of their population Retrieved 4 June, 2009
- ↑ Directorate of Census Operations, West Bengal (2003)। Table-4: Population, Decadal Growth Rate, Density and General Sex Ratio by Residence and Sex, West Bengal/ District/ Sub District, 1991 and 2001। Census of India 2001: Provisional Population Totals, West Bengal। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Directorate of Census Operations, West Bengal (2003)। Table 11 Literacy Rate with Decadal Percentage Point Increase (in brackets) * by Residence and Sex, West Bengal / District 1951–2001। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Number of Literates & Literacy Rate। India at a Glance। Registrar General & Census Commissioner, India। 2007-04-16 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-12-05 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Highlights: Cities with more than one Million Population। Census of India 2001 (Provisional)। Office of the Registrar General, India (2001-09-13)। 2007-01-05 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-08-18 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Basic Statistics of Kolkata। KolkataMyCity.com। 2008-11-02 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Census GIS Household। Office of the Registrar General and Census Commissioner, India। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Kundu N। Understanding slums: Case Studies for the Global Report on Human Settlements 2003. The Case of Kolkata, India (PDF)। Development Planning Unit. University College, London। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ National Crime Records Bureau (2004)। "General Crime Statistics Snapshots 2004", Crime in India-2004 (PDF); Ministry of Home Affairs প্রকাশিত। 1।
- ↑ National Crime Records Bureau (2004)। "Executive Summary", Crime in India-2004 (PDF); Ministry of Home Affairs প্রকাশিত। 34।
- ↑ National Crime Records Bureau (2006)। "Crimes in Mega Cities", Crime in India-2006 (PDF); Ministry of Home Affairs প্রকাশিত।।
- ↑ Grant M. “Girl-trafficking hampers Aids fight”, BBC, 2004-11-30। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Rabindanath Tagore: Asia's First Nobel laureate...। Time Asia। October 3, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The Nobel Prize in Literature 1913। Nobel Prize Winners। Nobel Foundation। October 3, 2007 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Sinha P (1990)। "Kolkata and the Currents of History", Chaudhuri S. (ed.) সম্পাদিত: Kolkata — The Living City. Volume 1: The Past। Oxford University Press, Oxford. প্রকাশিত।।
Cited by: Heierstad G (2003)। Nandikar: Staging Globalisation in Kolkata and Abroad (PDF)। University of Oslo, Norway। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত। - ↑ Trachtenberg P. “The Chattering Masses”, The New York Times, 2005-05-15। 2006-04-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ History of Indian museum। The Indian Museum of Kolkata। 2006-04-23 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Gertjan de Graaf, Abdul Latif। Development of freshwater fish farming and poverty alleviation: A case study from Bangladesh (PDF)। Aqua KE Government। 2006-10-22 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Saha, S. “Resurrected, the kathi roll - Face-off resolved, Nizam's set to open with food court”, The Telegraph, 18 January 2006। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Mobile food stalls। Bangalinet.com। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Durga Puja। Festivals of Bengal। West Bengal Tourism, Government of West Bengal। 2006-10-28 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Gay pride march debuts in Delhi, BBC news date June 30, 2008
- ↑ List of Affiliated Colleges। netGuruIndia.com। 2006-11-15 তারিখে থেকে সংগৃহীত 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Mitra, Dola (20 April 2005)। Calcutta Medical College, Calcutta। Careergraph। The Telegraph। 2007-10-20 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Prabhakaran, Shaji (18 January 2003)। Football in India - A Fact File। LongLiveSoccer.com। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ India - Eden Gardens (Kolkata)। Cricket Web। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ 100 000+ Stadiums। World Stadiums। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ The Asian Football Stadiums (30.000+ capacity)। Gunther Lades। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Raju, Mukherji. “Seven Years? Head Start”, The Telegraph, 14 March 2005। 2006-10-26 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ Royal Calcutta Golf Club। Encyclopaedia Britannica। 2007-08-30 তারিখে সংগৃহীত।
- ↑ History of Polo। Hurlingham Polo Association। 2007-08-30 তারিখে সংগৃহীত।
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- Bennett, A & J Hindle (1996), London Review of Books: An Anthology, Verso, 63–70, ISBN 185984121X
- Chaudhuri, NC (2001), The Autobiography of an Unknown Indian, New York Review of Books, ISBN 094032282X
- Chaudhuri, S (1995), Calcutta: The Living City. Vol I and Vol II, Oxford University Press, USA, ISBN 0195636988
- Gandhi, R (1992), Patel: A Life, Navajivan, ISBN ASIN B0006EYQ0A
- Marcuse, P & R van Kempen (2000), Globalizing Cities: A New Spatial Order?, Blackwell Publishers, ISBN 0631212906
- Marston, D (2001), The Seven Year's War, Osprey Publishing, ISBN 1841761915
- Mitra, A (1976), Calcutta Diary, Routledge (UK), ISBN 0714630829
- Mukherjee, SC (1991), The changing face of Calcutta: An architectural approach : Calcutta, 300, Government of West Bengal, ISBN B0000D6TXX
- Roy, A (2002), City Requiem, Calcutta: Gender and The Politics of Poverty, University of Minnesota Press, ISBN 0816639329
- Roy, A & Alsayyad (2004), Urban Informality: Transnational Perspectives from the Middle East, Latin America and South Asia, Lexington Books, ISBN 0739107410
- Sen, A (1973), Poverty and Famines, Oxford University Press, USA, ISBN 0-19-828463-2
- Singh, S (2003), Lonely Planet India (10 ed.), Lonely Planet, ISBN 1740594215
- Thomas, FC (1977), Calcutta Poor: Elegies on a City Above Pretense, M.E. Sharpe, ISBN 1563249812
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
উক্তি, উইকিউক্তি হতে
রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে
- কলকাতা - উন্মুক্ত নির্দেশিকা প্রকল্প (সাইট প্রস্তাবকরণ)
- ক্যালকাটাওয়েব: কলকাতা সংক্রান্ত একটি তথ্যবহুল ওয়েবসাইট
- কলকাতা পৌরসংস্থার সরকারি ওয়েবসাইট
- কলকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সরকারি ওয়েবসাইট
- বাংলার মুখ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি ওয়েবসাইট
- {{{2}}} ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিট্রাভেল থেকে
|
|||||
|
|||||