মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
|
United States of America
ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র |
|||||
|---|---|---|---|---|---|
|
|
|||||
| নীতিবাক্য ইন গড উই ট্রাস্ট (সরকারি) E Pluribus Unum (প্রথাগত) (লাতিন: বহুর মধ্যে এক) |
|||||
| জাতীয় সঙ্গীত "দ্য স্টার-স্প্যাংগলড ব্যানার" |
|||||
| রাজধানী | ওয়াশিংটন, ডি.সি. 38°53′N 77°01′W / 38.883°N 77.017°W |
||||
| বৃহত্তম নগরী | নিউ ইয়র্ক | ||||
| জাতীয় ভাষা | যুক্তরাষ্ট্রীয় স্তরে কোনোটিও না[a]ইংরেজি (ডি ফ্যাক্টো)[b] | ||||
| জাতীয়তাসূচক বিশেষণ | আমেরিকান | ||||
| সরকার | যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র | ||||
| - | রাষ্ট্রপতি | বারাক ওবামা (ডেমোক্র্যাট) | |||
| - | উপরাষ্ট্রপতি | জো বাইডেন (ডেমোক্র্যাট) | |||
| - | হাউসের স্পিকার | ন্যান্সি পেলোসি (ডেমোক্র্যাট) | |||
| - | প্রধান বিচারপতি | জন রবার্টস | |||
| স্বাধীনতা গ্রেট ব্রিটেন রাজ্য থেকে | |||||
| - | ঘোষিত | ৪ জুলাই, ১৭৭৬ | |||
| - | স্বীকৃতি | ৩ সেপ্টেম্বর, ১৭৮৩ | |||
| - | বর্তমান সংবিধান | ২১ জুন, ১৭৮৮ | |||
| - | জলভাগ (%) | ৬.৭৬ | |||
| জনসংখ্যা | |||||
| - | ২০১২ আনুমানিক | ৩১,২৩,৪১,০০০[১] (তৃতীয়[d]) | |||
| - | ২০০০ আদমশুমারি | ২৮১,৪২১,৯০৬[২] | |||
| জিডিপি (পিপিপি) | ২০০৮ আনুমানিক | ||||
| - | মোট | ১৪.৪৪১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার[৩] (১ম) | |||
| - | মাথাপিছু | ৪৭,৪৪০ মার্কিন ডলার[৩] (ষষ্ঠ) | |||
| জিডিপি (নামমাত্র) | ২০০৮ আনুমানিক | ||||
| - | মোট | ১৪.৪৪১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার[৩] (১ম) | |||
| - | মাথাপিছু | ৪৭,৪৪০ মার্কিন ডলার[৩] (১৭তম) | |||
| জিনি সহগ? (২০০৭) | 45.0[৪] (৪৪তম) | ||||
| মানব উন্নয়ন সূচক (২০০৭) | |||||
| মুদ্রা | মার্কিন ডলার ($) (USD) |
||||
| সময় স্থান | (ইউটিসি-5 to -10) | ||||
| - | গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) | (ইউটিসি-4 to -10) | |||
| তারিখ বিন্যাস | m/d/yy (AD) | ||||
| ড্রাইভ করা হয় | right | ||||
| ইন্টারনেট টিএলডি | .us .gov .mil .edu | ||||
| কলিং কোড | ++1 | ||||
| ^ a. ইংরেজি অন্তত ২৮টি রাজ্যের সরকারি ভাষা। "সরকারি" কথাটির অর্থভেদের ভিত্তিতে কোনো কোনো সূত্র অনুযায়ী এই সংখ্যাটি আরও বেশি।[৬] ইংরেজি ও হাওয়াইয়ান উভয় ভাষাই হাওয়াই রাজ্যের সরকারি ভাষা।
^ b. ইংরেজি ভাষা মার্কিন সরকারের ডি ফ্যাক্টো সরকারি ভাষা। পাঁচ বছর এবং তার অধিক বয়স্ক আমেরিকানদের ৮০ শতাংশের একমাত্র কথ্য ভাষাও হল ইংরেজি। স্প্যানিশ ভাষা দ্বিতীয় সাধারণ কথ্য ভাষা। ^ c. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না গণপ্রজাতন্ত্রী চীন – কোন দেশটি আয়তনে বড়ো তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। প্রদত্ত সংখ্যাটি মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক থেকে গৃহীত। অন্যান্য সূত্র থেকে নানান ক্ষুদ্রতর সংখ্যা পাওয়া যায়। দেশের আয়তন সংক্রান্ত সকল সরকারি গণনায় কেবল পঞ্চাশটি রাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার আয়তন ধরা হয়ে থাকে, শাসিত অঞ্চলগুলি ধরা হয় না। ^ d. জনসংখ্যা প্রাককলনটিতে অনাগরিক সহ যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশটি রাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়ার সাধারণ বাসিন্দাদের ধরা হয়েছে। শাসিত অঞ্চলগুলির জনসংখ্যা এর মধ্যে ধরা হয়নি। উল্লেখ্য, শাসিত অঞ্চলগুলির জনসংখ্যা চল্লিশ লক্ষেরও বেশি (অধিকাংশ পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দা)। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রেরর বাইরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদেরও ধরা হয়নি। |
|||||
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা (ইংরেজি: United States of America; য়ুনাইটেড্ স্টেইট্স্ অভ়্ আমেরিকা) উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত পঞ্চাশটি রাজ্য ও একটি ফেডেরাল ডিস্ট্রিক্ট নিয়ে গঠিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এই দেশটি ইউনাইটেড স্টেটস, ইউ. এস. , যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নামেও পরিচিত। মধ্য উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত আটচল্লিশটি রাজ্য ও ক্যাপিটাল ডিস্ট্রিক্ট ওয়াশিংটন ডি. সি. সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডটি পশ্চিমে প্রশান্ত ও পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরদ্বয়ের মধ্যস্থলে অবস্থিত; এই অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত যথাক্রমে কানাডা ও মেক্সিকো রাষ্ট্রদ্বয়। আলাস্কা রাজ্যটি অবস্থিত মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে; এই রাজ্যের পূর্ব সীমায় কানাডা ও পশ্চিমে বেরিং প্রণালী পেরিয়ে রাশিয়া। হাওয়াই রাজ্যটি মধ্য-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন ৩.৭৯ মিলিয়ন বর্গমাইল (৯.৮৩ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩০৯ মিলিয়ন। সামগ্রিক আয়তনের হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় অথবা চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। আবার স্থলভূমির আয়তন ও জনসংখ্যার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যমণ্ডিত বহুজাতিক সমাজব্যবস্থা। বহু দেশ থেকে বিভিন্ন জাতির মানুষের অভিনিবেশের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ একটি বহুসংস্কৃতিবাদী দেশ।[৭] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় অর্থনীতি। ২০০৮ সালে দেশের আনুমানিক জিডিপি হার ছিল ১৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র বিশ্ব জিডিপির এক চতুর্থাংশ এবং ক্রয় ক্ষমতা সমতায় বিশ্ব জিডিপির এক পঞ্চমাংশ)।[৩][৮]
আমেরিকার আদিম অধিবাসীরা সম্ভবত এশীয় বংশোদ্ভুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এরা কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তবে নেটিভ আমেরিকানদের জনসংখ্যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর থেকে মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহের প্রকোপে ব্যাপক হ্রাস পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগর তীরস্থ উত্তর আমেরিকার তেরোটি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এই উপনিবেশগুলি একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে উপনিবেশগুলি তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ঘোষণা করে এবং একটি সমবায় সংঘের প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিদ্রোহী রাজ্যগুলি গ্রেট ব্রিটেনকে পরাস্ত করে। এই যুদ্ধ ছিল ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে প্রথম সফল ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা যুদ্ধ।[৯] ১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া কনভেনশন বর্তমান মার্কিন সংবিধানটি গ্রহণ করে। পরের বছর এই সংবিধান সাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার সহ একক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৭৯১ সালে সাক্ষরিত এবং দশটি সংবিধান সংশোধনী সম্বলিত বিল অফ রাইটস একাধিক মৌলিক নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করে।
ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো ও রাশিয়ার থেকে জমি অধিগ্রহণ করে এবং টেক্সাস প্রজাতন্ত্র ও হাওয়াই প্রজাতন্ত্র অধিকার করে নেয়। ১৮৬০-এর দশকে রাজ্যসমূহের অধিকার ও দাসপ্রথার বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ দক্ষিণাঞ্চল ও শিল্পোন্নত উত্তরাঞ্চলের বিবাদ এক গৃহযুদ্ধের জন্ম দেয়। উত্তরাঞ্চলের বিজয়ের ফলে দেশের চিরস্থায়ী বিভাজন রোধ করা সম্ভব হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা আইনত রদ করা হয়। ১৮৭০-এর দশকেই মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা পায়।[১০] স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সামরিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা দান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দেশ প্রথম পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। ঠান্ডা যুদ্ধের শেষভাগে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র।[১১]১৯৩০ এর দশকে ও একবিংশ শতকের প্রথম দশকের শেষে আমেরিকার অর্থনীতি 'অর্থনেতিক মহামন্দা' বা 'গ্রেট ডিপ্রেশন'র স্বীকার হয়।
সূচিপত্র |
[সম্পাদনা] নামকরণ
১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার বিশ্বের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এই মানচিত্রে তিনি ইতালীয় আবিষ্কারক ও মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে পশ্চিম গোলার্ধের নামকরণ করেন "আমেরিকা"।[১২] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে পূর্বতন ব্রিটিশ কলোনিগুলি প্রথম দেশের আধুনিক নামটি ব্যবহার করে। ১৭৭৪ সালের ৪ জুলাই "unanimous Declaration of the thirteen united States of America" নামে এই ঘোষণাপত্রটি "Representatives of the united States of America" কর্তৃক গৃহীত হয়।[১৩] ১৭৭৭ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে আর্টিকলস অফ কনফেডারেশন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বর্তমান নামটি চূড়ান্ত হয়। এই আর্টিকেলে বলা হয়েছিল: "The Stile of this Confederacy shall be 'The United States of America.'" সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে the United States নামটি প্রামাণ্য। অন্যান্য প্রচলিত নামগুলি হল the U.S., the USA, ও America। কথ্য নামগুলি হল the U.S. of A. ও the States। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামানুসারে কলম্বিয়া নামটি এককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হত। "ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া" নামের মধ্যে এই নামটির আজও অস্তিত্ব রয়েছে।
মার্কিন নাগরিকেরা সাধারণভাবে "আমেরিকান" নামে পরিচিত। যদিও সরকারিভাবে বিশেষণ হিসেবে "ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকান" ও "ইউ. এস. " দুইই প্রচলিত (আমেরিকান মূল্যবোধ বা ইউ. এস. সামরিক বাহিনী) ইংরেজি ভাষায় খুব অল্প ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্যতীত অন্যদের বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকা" কথাটি ব্যবহৃত হয়।[১৪]
পূর্বে "দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি বহুবচনে ব্যবহৃত হত ("the United States are")। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫ সালে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শব্দটিকে একবচন হিসেবে ঘোষণা করা হয় ("the United States is")। বর্তমানে একবচন রূপটিই প্রামাণ্য। বহুবচন রূপটি কেবল বাগধারা "these United States" কথাটিতেই ব্যবহৃত হয়।[১৫]
[সম্পাদনা] ইতিহাস
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস
[সম্পাদনা] আদি আমেরিকান ও ইউরোপীয় উপনিবেশ
এই বিষয়ে মূল নিবন্ধের জন্য দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূমি এবং আলাস্কাতে বর্তমানে যে আদিবাসীরা বাস করে তারা এশিয়া থেকে অভিবাসী হয়ে এ অঞ্চলে এসিছল। তারা আজ থেকে প্রায় ৪০,০০০ বছর আগে থেকে আসা শুরু করেছিল বলে ধারণা করা হয়। কমপক্ষে ১২,০০০ বছর আগে তাদের আসার ব্যাপারটি তো প্রায় নিশ্চিত। প্রাক-কলাম্বীয় যুগের অনেক আদিইবাসী সম্প্রদায়ই অগ্রসর কৃষি, স্থাপত্য এবং রাজ্য-সদৃশ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ইউরোপীয় অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলম্বাস ১৪৯৩ সালের নভেম্বর ১৯ তারিখে আমেরিকা অঞ্চলের পুয়ের্তো রিকোতে এসেছিলেন। এর মাধ্যমে আদিবাসী আমেরিকানদের সাথে ইউরোপীয়দের প্রথম পরিচয় হয়। এর পর অধিকাংশ আমেরিকান আদিবাসীরাই ইউরেশিয়া অঞ্চলের মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
সে সময় আমেরিকায় ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনকারীদের বাসস্থান ছিল মূলত ফ্লোরিডায়। সেই ঔপরিবেশিক কলোনিগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল ১৫৬৫ সালে স্থাপিত সেন্ট অগাস্টিন কলোনিটিই টিকে আছে। এছাড়া ফরাসি পশুর লোম ব্যবসায়ীরা গ্রেট লেক্সের নিকটে নিউ ফ্রান্স নামক একটি বাসস্থল গড়ে তুলেছিল। এর পরে স্পেনীয়রা বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বিস্তৃত উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে। এই অঞ্চল বর্তমান মেক্সিকোর অন্তর্গত। প্রথম সফল ইংরেজ উপনিবেশ ছিল ১৬০৭ সালে জেম্সটাউনে প্রতিষ্ঠিত ভার্জিনিয়া কলোনি এবং ১৬২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্লিমাথ (ইংরেজি: Plymouth) কলোনি। ১৬২৮ সালে ম্যাসাচুসেট্স বে কলোনি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি অর্থায়নের পর ইংরেজদের মধ্যে অভিবাসনের জোয়ার বয়ে যায়। ১৬৩৪ সালের মধ্যে নিউ ইংল্যান্ডে প্রায় ১০,০০০ পিউরিটান বাসস্থান গড়ে তোলে। ১৬১০-এর দশকের শেষ দিকে ব্রিটিশ সেদেশের বিপ্লবীদের মধ্যে ৫০,০০০ জনকে আমেরিকায় ব্রিটিশ কলোনিসমূহে স্থানান্তর করে। ১৬১৪ সাল থেকে নেদারল্যান্ডের উপনিবেশিকরা হাডসন নদীর নিম্নভূমি জুড়ে এবং ম্যানহাটন দ্বীপ ও নিউ আমস্টারডামে বসতি গড়ে তুলেছিল। ১৬৩৮ সালে সুয়েডীয়রা ডেলওয়্যার নদীর পাশ জুড়ে ছোট একটি উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল যার নাম ছিল নিউ সুইডেন। কিন্তু ১৬৫৫ সালে ডাচরা তা অধিকার করে নেয়।
ফরাসি এবং ভারতীয় যুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৭ বছর ধরে ঔপনিবেশিক সম্প্রসারণ চলতে থাকে। ব্রিটেন ফ্রান্সের কাছ থেকে কানাডা দখল করে নেয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলীয় কলোনিসমূহ থেকে ফ্রাঙ্কোফোনের জনগণরা রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৬৭৪ সালে ইঙ্গ-ডেনীয় যুদ্ধে ডাচদেরকে পরাজিত করে ব্রিটেন প্রাক্তন ডাচ কলোনিসমূহ দখল করে নেয়। এর পর প্রাক্তন নিউ নেদারল্যান্ডের নাম রাখা হয় নিউ ইয়র্ক। ১৭২৯ সালে ক্যারোলিনাসমূহের বিভাজন এবং ১৭৩২ সালে জর্জিয়ার উপনিবেশিকীকরণের পর ১৩টি পৃথক পৃথক ব্রিটিশ কলোনি সৃষ্টি হয়। এই ১৩টি কলোনি মিলেই পরবর্তীকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল। যাহোক, এই রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটিতে সক্রিয় স্থানীয় এবং উপনিবেশিক সরকার ছিল যা স্বাধীন মানুষদের নির্বাচনের মাধ্যমে জন্ম লাভ করতো। রাজ্যগুলোর চেতনার মূলে ছিল ইংরেজদের প্রাচীন অধিকারের প্রতি আত্ম নিবেদন এবং স্ব-নিয়ন্ত্রিত সরকার পদ্ধতির অনুপ্রেরণা যা পরবর্তীকালে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্ম দেয়। সবগুলো রাজ্যেই আফ্রিকান দাসদের নিয়ে বাণিজ্য করা বৈধতা পেয়েছিল। উচ্চ জন্ম হার, নিম্ন মৃত্যু হার এবং চিরস্থায়ী অভিভাবসনের কারণে কলোনিগুলোর জনসংখ্যা প্রতি ২৫ বছরে দ্বিগুণ হয়ে যেতে থাকে।
[সম্পাদনা] ভূগোল
- মূল নিবন্ধ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূগোল
[সম্পাদনা] মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রের টপোগ্রাফিক মানচিত্র
আয়তনের ভিত্তিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবী তৃতীয় অথবা চতুর্থ বৃহৎ জাতি। এর আএ বা পরে চীনের অবস্থান। কিন্তু একটি অঞ্চল নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় এই বিষয়ের সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। কেবল স্থলভাগের দিক দিয়ে চিন্তা করলে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ যার আগে কেবল রাশিয়া ও চীন আর পরে রয়েছে কানাডা। মহাদেশীয় যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা অতি বিস্তৃত, আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত, উত্তরে কানাডা থেকে দক্ষিণে মেক্সিকো ও মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত এর সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। আয়তনের ভিত্তিতে এর বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য হচ্ছে আলাস্কা। কানাডার মাধ্যমে পৃথকীকৃত এই রাজ্যটি প্রশান্ত ও আর্কটিক মহাসাগরকে স্পর্শ করেছে। উত্তর আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের বুক অবস্থিত হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ এই দেশেরই অন্তর্ভুক্ত। দেশটির বৃহত্তম এবং সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল পুয়ের্তো রিকো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে পাওয়া যায় সবুজ ভূমি ও কৃষি ফসল আবাদের উর্বর অঞ্চল, পাথুরে পাহাড়, তৃণাচ্ছাদিত সামান্য ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ ভূমি, উত্তর বায়ুর সাথে সামঞ্জস্যশীল বনভূমি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল, আর দক্ষিণ-পশ্চিমে কেবল বিরান মরুভূমি। উত্তর-পশ্চিমে আটলান্টিকের কোল ঘেঁষে অবস্থিত বৃহৎ হ্রদ এলাকায়ই দেশটির অধিকাংশ মানুষের বসতি। গুয়াম অঞ্চল এবং আলাস্কার সবচেয়ে পশ্চিম প্রান্তের কিছু অঞ্চল ছাড়া পুরো দেশটাই উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
[সম্পাদনা] পরিমাপ পদ্ধতি
- মূল নিবন্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ একক
যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। তারা ব্রিটিশদের ব্যবহৃত একক হিসেবে মাইল, গজ এবং ফারেনহাইট ইত্যাদি এককগুলো ব্যবহার করে না।[১৬] এর পরিবর্তে ইউ.এস গ্যালন এবং ইউ.এস পিন্ট পরিমাণের একক হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর তিনটি দেশের মধ্যে একটি, যারা আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি ব্যবহার করে না। ম্যাট্রিক পদ্ধতিকে একক হিসেবে ধরে বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং অনেক শিল্পখাতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করছে।[১৭]
[সম্পাদনা] তথ্যসূত্র
- ↑ U.S. POPClock Projection। প্রকাশক: U.S. Census Bureau। http://www.census.gov/population/www/popclockus.html। Figure updated automatically.
- ↑ Population Finder: United States। প্রকাশক: U.S. Census Bureau। 2000। http://factfinder.census.gov/servlet/SAFFPopulation?_submenuId=population_0&_sse=on। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-12-20।
- ↑ ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ United States। প্রকাশক: International Monetary Fund। http://www.imf.org/external/pubs/ft/weo/2009/02/weodata/weorept.aspx?sy=2006&ey=2009&scsm=1&ssd=1&sort=country&ds=.&br=1&c=111&s=NGDPD%2CNGDPDPC%2CPPPGDP%2CPPPPC%2CLP&grp=0&a=&pr.x=64&pr.y=8। সংগৃহীত হয়েছে: 2009-10-01।
- ↑ United States। The World Factbook। প্রকাশক: CIA। 2009-09-30। https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/geos/us.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2010-01-05 (area given in square kilometers)।
- ↑ Human Development Report 2009. The United Nations. Retrieved October 5, 2009
- ↑ Feder, Jody (2007-01-25)। English as the Official Language of the United States—Legal Background and Analysis of Legislation in the 110th Congress। প্রকাশক: Ilw.com (Congressional Research Service)। http://www.ilw.com/immigrationdaily/news/2007,0515-crs.pdf। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-06-19।
- ↑ Adams, J.Q., and Pearlie Strother-Adams (2001). Dealing with Diversity. Chicago: Kendall/Hunt. ISBN 0-7872-8145-X.
- ↑ The European Union has a larger collective economy, but is not a single nation.
- ↑ Dull, Jonathan R. (2003). "Diplomacy of the Revolution, to 1783," p. 352, chap. in A Companion to the American Revolution, ed. Jack P. Greene and J. R. Pole. Maiden, Mass.: Blackwell, pp. 352–361. ISBN 1-4051-1674-9.
- ↑ Maddison, Angus (2006)। Historical Statistics for the World Economy। প্রকাশক: The Groningen Growth and Development Centre, Economics Department of the University of Groningen। http://www.ggdc.net/maddison/Historical_Statistics/horizontal-file_09-2008.xls। সংগৃহীত হয়েছে: 2008-11-06।
- ↑ Cohen, Eliot A. (July/August 2004)। History and the Hyperpower। Foreign Affairs। http://www.foreignaffairs.org/20040701faessay83406/eliot-a-cohen/history-and-the-hyperpower.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2006-07-14। Country Profile: United States of America। প্রকাশক: BBC News। 2008-04-22। http://news.bbc.co.uk/2/hi/americas/country_profiles/1217752.stm। সংগৃহীত হয়েছে: 2008-05-18।
- ↑ Cartographer Put 'America' on the Map 500 years Ago। USA Today। 2007-04-24। http://www.usatoday.com/news/nation/2007-04-24-america-turns-500_N.htm?csp=34। সংগৃহীত হয়েছে: 2008-11-30।
- ↑ The Charters of Freedom। প্রকাশক: National Archives। http://www.archives.gov/exhibits/charters/charters.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2007-06-20।
- ↑ Wilson, Kenneth G. (1993). The Columbia Guide to Standard American English. New York: Columbia University Press, pp. 27–28. ISBN 0-231-06989-8.
- ↑ Zimmer, Benjamin (2005-11-24)। Life in These, Uh, This United States। প্রকাশক: University of Pennsylvania—Language Log। http://itre.cis.upenn.edu/~myl/languagelog/archives/002663.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2008-02-22।
- ↑ "English units of measurement". The Columbia Encyclopedia 6th ed. 2001–2007. archived copy.
- ↑ Appendix G: Weights and Measures। The World Factbook। প্রকাশক: CIA। https://www.cia.gov/library/publications/the-world-factbook/appendix/appendix-g.html। সংগৃহীত হয়েছে: 2010-04-01।
[সম্পাদনা] বহিঃসংযোগ
সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
উক্তি, উইকিউক্তি হতে
রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে
| Book:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র | |
| Books are collections of articles that can be downloaded or ordered in print. | |
- Government
- Official U.S. Government Web Portal Gateway to government sites
- House Official site of the United States House of Representatives
- Senate Official site of the United States Senate
- White House Official site of the President of the United States
- Supreme Court Official site of the Supreme Court of the United States
- Overviews and Data
- সিআইএ প্রণীত দ্য ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক-এ United States-এর ভুক্তি
- InfoUSA Portal to U.S. Information Agency resources
- Library of Congress Official site of the U.S. Library of Congress
- Demographic Highlights Statistics from the Population Reference Bureau
- The 50 States of the U.S.A. Collected informational links for each state
- United States travel guide from Wikitravel
- United States Encyclopaedia Britannica entry
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - উন্মুক্ত নির্দেশিকা প্রকল্প
- U.S. Census Housing and Economic Statistics Wide-ranging data from the U.S. Census Bureau
- U.S. Citizenship and Immigration Services Official government site
- State Fact Sheets Population, employment, income, and farm data from the U.S. Economic Research Service
- State Energy Profiles Economic, environmental, and energy data for each state from the U.S. Energy Information Administration
- History
- Historical Documents Collected by the National Center for Public Policy Research
- U.S. National Mottos: History and Constitutionality Analysis by the Ontario Consultants on Religious Tolerance
- USA Collected links to historical data
- Maps
- National Atlas of the United States Official maps from the U.S. Department of the Interior
- United States Satellite view at WikiMapia (not affiliated with Wikipedia/Wikimedia Foundation)
- Wikimedia Atlas of the United States
|
|||||
|
||||||||
| এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সমৃদ্ধ করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |