হিন্দুধর্ম
|
হিন্দুধর্ম |
|---|
|
ওঁ • ব্রহ্ম • ঈশ্বর |
|
|
হিন্দুধর্ম ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম তথা একটি দেশীয় ধর্মবিশ্বাস।[১] হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণ স্বীয় ধর্মমতকে সনাতন ধর্ম (सनातन धर्म) নামেও অভিহিত করেন।[২][৩] হিন্দুধর্মের সাধারণ "ধরনগুলির" মধ্যে লৌকিক ও বৈদিক হিন্দুধর্ম থেকে বৈষ্ণবধর্মের অনুরূপ ভক্তিবাদী ধারার মতো একাধিক জটিল মতবাদগুলির সমন্বয়ের এক প্রচেষ্টা লক্ষিত হয়। যোগ, কর্মযোগ ধারণা, ও হিন্দু বিবাহের মতো বিষয়গুলিও হিন্দুধর্মের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
হিন্দুধর্ম একাধিক ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত। এই ধর্মের কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই।[৪] লৌহযুগীয় ভারতের ঐতিহাসিক বৈদিক ধর্মে এই ধর্মের শিকড় নিবদ্ধ। হিন্দুধর্মকে বিশ্বের "প্রাচীনতম জীবিত ধর্মবিশ্বাস"[৫] বা "প্রাচীনতম জীবিত প্রধান মতবাদ"[৬][৭][৮][৯] আখ্যা দেওয়া হয়।
জনসংখ্যার বিচারে হিন্দুধর্ম খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলামের পরেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মমত। এই ধর্মের অনুগামীদের সংখ্যা ১০০ কোটিরও বেশি। এদের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি হিন্দু বাস করেন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে।[১০][১১] এছাড়া নেপাল (২৩,০০০,০০০), বাংলাদেশ (১৪,০০০,০০০) ও ইন্দোনেশীয় দ্বীপ বালিতে (৩,৩০০,০০০) উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দুরা বাস করেন।
হিন্দুধর্মের শাস্ত্রগ্রন্থের সংখ্যা প্রচুর। হিন্দুশাস্ত্র শ্রুতি ও স্মৃতি নামে দুই ভাগে বিভক্ত। এই গ্রন্থগুলিতে ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও পুরাণ আলোচিত হয়েছে এবং ধর্মানুশীলন সংক্রান্ত নানা তথ্য বিবৃত হয়েছে। এই গ্রন্থগুলির মধ্যে বেদ সর্বপ্রাচীন, সর্বপ্রধান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য প্রধান ধর্মগ্রন্থগুলি হল উপনিষদ্, পুরাণ, ও ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত। ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত মহাভারতের কৃষ্ণ-কথিত একটি অংশ বিশেষ গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা পেয়ে থাকে।[১২]
পরিচ্ছেদসমূহ |
ব্যুৎপত্তি [সম্পাদনা]
হিন্দু শব্দটি উৎসারিত হয়েছে সংস্কৃত সিন্ধু শব্দটি থেকে। সিন্ধু ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক নদীর নাম।[১৩] ঋগ্বেদে সিন্ধু নদের স্তুতি করা হয়েছে।[১৪] পরবর্তীকালের আরবি সাহিত্যেও আল-হিন্দ শব্দটির মাধ্যমে সিন্ধু নদ অববাহিকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে।[১৫] ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ভারতের নামের সমার্থক শব্দ হিসেবে হিন্দুস্তান বা হিন্দুস্থান শব্দটির উৎপত্তি হয়। এই শব্দের আক্ষরিক অর্থ "হিন্দুদের দেশ"।[১৬]
প্রথমদিকে হিন্দু শব্দটি ধর্মনির্বিশেষে ভারতীয় উপমহাদেশের সকল অধিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। কেবলমাত্র চৈতন্যচরিতামৃত ও চৈতন্য ভাগবত ইত্যাদি কয়েকটি ষোড়শ-অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মগ্রন্থে যবন বা ম্লেচ্ছদের থেকে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পৃথক করার জন্য শব্দটি বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে।[১৭] অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে ইউরোপীয় বণিক ও ঔপনিবেশিক শাসকেরা ভারতীয় ধর্মবিশ্বাসগুলির অনুগামীদের একত্রে হিন্দু নামে অভিহিত করে। ধীরে ধীরে এই শব্দটি আব্রাহামীয় ধর্মসমূহ অথবা অবৈদিক ধর্মবিশ্বাসগুলির (যেমন জৈনধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও শিখধর্ম) অনুগামী নন এবং সনাতন ধর্ম নামক ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এমন সকল ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে পড়ে।[১৮][১৯]
ইংরেজি ভাষাতে ভারতের স্থানীয় ধর্মীয়, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলি বোঝাতে হিন্দুইজম বা হিন্দুধর্ম কথাটি চালু হয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে।[২০]
উপবিভাগ [সম্পাদনা]
হিন্দুধর্ম আজ একাধিক শাখায় বিভক্ত। অতীতে এই ধর্ম ছয়টি দর্শনে বিভক্ত ছিল। বর্তমানে এগুলির মধ্যে কেবল বেদান্ত ও যোগেরই অস্তিত্ব আছে। আধুনিক হিন্দুধর্মের প্রধান বিভাগগুলি হল বৈষ্ণবধর্ম, শৈবধর্ম, স্মার্তবাদ ও শাক্তধর্ম। এছাড়াও একাধিক ছোটো বিভাগ বা উপবিভাগ লক্ষিত হয়, যাদের অনেকগুলিই পরস্পরের সঙ্গে অংশত আবৃত। তবে আজকের হিন্দুরা মোটামুটিভাবে পূর্বোক্ত চারটি প্রধান শাখার কোনো না কোনো একটির সদস্য।
২০০৭ সালে অধিকতর জটিল ও সূক্ষ্ম বিবেচনার নিরিখে একাধিক মতের বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের দিকটি বিচার করে ম্যাকড্যানিয়েল হিন্দুধর্মের আরো ছয়টি শাখাকে চিহ্নিত করেছেন। এই বিভাগগুলি হল : [২১]
- লৌকিক হিন্দুধর্ম – বিভিন্ন স্থানীয় ঐতিহ্য ও লৌকিক দেবদেবীর পূজাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক বা সম্প্রদায় স্তরের ধর্মবিশ্বাস যা প্রাগৈতিহাসিক কাল বা অন্ততপক্ষে বেদ রচিত হবার আগে থেকে প্রচলিত।
- বৈদিক হিন্দুধর্ম – এই বিশ্বাসটি এক শ্রেণীর ব্রাহ্মণ (বিশেষত শ্রুতিবাদী) সমাজে আজও প্রচলিত।
- বৈদান্তিক হিন্দুধর্ম – উপনিষদের শিক্ষা অবলম্বনে প্রচারিত। উদাহরণ – অদ্বৈত (স্মার্তবাদ)
- যৌগিক হিন্দুধর্ম – পতঞ্জলি রচিত যোগসূত্র অবলম্বনে প্রচারিত।
- ধার্মিক হিন্দুধর্ম বা প্রাত্যহিক নৈতিকতা – কর্ম ও হিন্দু বিবাহ সংস্কার ইত্যাদি সামাজিক নিয়মকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শাখা।
- ভক্তিবাদ – বৈষ্ণবধর্মের অনুরূপ ভক্তিকেন্দ্রিক মতবাদ।
সংজ্ঞা [সম্পাদনা]
সার্বিক সহিষ্ণুতা থেকে মতবৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য ও হিন্দুধর্মের রক্ষণশীল উদারতা ধ্রুপদী পাশ্চাত্য চিন্তাধারায় এই ধর্মের সংজ্ঞা নিরুপণের প্রধান বাধাস্বরূপ।[২২] হিন্দুধর্ম মূলত একটি ব্যবহারিক ধর্মচেতনা। একাধিক প্রথা, সংস্কার ও আদর্শ এতে সন্নিবেশিত। তাই অনেকের মতে এই ধর্মের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করা বেশ অসুবিধাজনক।[২৩] সেই কারণে ‘রিলিজিয়ন’ বা ধর্ম অপেক্ষা ‘রিলিজিয়াস ট্র্যাডিশন’ বা ধর্মসংস্কার হিসেবেই একে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংজ্ঞায়িত করা হয়।[১] এই বৈশিষ্ট্য হিন্দুধর্মকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মবিশ্বাসের পাশাপাশি বিশ্বের সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ ধর্মের শিরোপাও দান করেছে।[২৪][৬][২৫][২৬] অধিকাংশ ধর্মীয় সংস্কার পবিত্র ধর্মশাস্ত্র বেদ হতে সঞ্জাত। যদিও এর ব্যতিক্রমও দুর্লভ নয়। কোনো কোনো সংস্কার অনুসারে মোক্ষ বা পারত্রিক মুক্তিলাভের জন্য কিছু প্রথানুষ্ঠান অপরিহার্য। যদিও এই ব্যাপারেও মতানৈক্য বিদ্যমান। কোনো কোনো হিন্দু দার্শনিক মহাবিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের পশ্চাতে এক অস্তিবাদী পরাসত্তার সন্ধান করে ফেরেন, আবার কোনো কোনো হিন্দু নাস্তিকতার চর্চা করে থাকেন। হিন্দুধর্ম কর্মফলের ভিত্তিতে পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস রাখে। মোক্ষ এই ধর্মে জন্ম ও মৃত্যুর চক্রাকার বৃত্ত থেকে মুক্তিরই অপর নাম। যদিও হিন্দুধর্মের ক্ষেত্রের বাইরে বৌদ্ধ ও জৈনধর্মও এই মতবাদে বিশ্বাস রাখে।[২৩] এই কারণে হিন্দুধর্মকে মনে করা হয় বিশ্বের জটিলতম ধর্মবিশ্বাসগুলির অন্যতম।[২৭] এই জটিলতা ব্যতিরেকেও হিন্দুধর্ম যে শুধুমাত্র একটি সংখ্যাগতভাবে সুবৃহৎ জনগোষ্ঠীর ধর্মচেতনা তাই নয়, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে প্রচলিত এই ধর্মবিশ্বাস পৃথিবীর অধুনা বর্তমান ধর্মগুলির মধ্যে প্রাচীনতমও বটে।[২৮]
ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি তথা বিশিষ্ট দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন হিন্দুধর্মের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে একে “একটি বিশ্বাসমাত্র” বলতে অস্বীকার করেন। বরং এই ধর্মের যুক্তি ও দর্শনের দিকটি বিচার করে তিনি খোলাখুলিভাবেই এই মত ব্যক্ত করেন যে হিন্দুধর্মের সংজ্ঞা দান করা অসম্ভব। শুধুমাত্র এই ধর্ম অনুশীলনই করা যায়।[২৯] তেমনই কোনো কোনো পণ্ডিত সুসংজ্ঞায়িত ও রক্ষণশীল ধর্মীয় সংগঠন না বলে হিন্দুধর্মকে “অস্পষ্ট সীমানায়” বর্গায়িত করার পক্ষপাতী। কয়েকটি ধর্মমত হিন্দুধর্মে কেন্দ্রীয়। অন্যগুলি ঠিক কেন্দ্রীয় না হলেও এই পরিসীমার আওতার মধ্যেই পড়ে। এরই ভিত্তিতে ফেরো-লুজি হিন্দুধর্মের সংজ্ঞায়নে একটি “উদাহরণমূলক তাত্ত্বিক অন্বেষণ” (“প্রোটোটাইপ থিওরি অ্যাপ্রোচ”) চালিয়েছেন।[৩০]
উনবিংশ শতকে হিন্দু পুনর্জাগরণবাদীগণ ‘হিন্দু-ইজম’ শব্দটির প্রয়োগ শুরু করার পর থেকেই হিন্দুধর্ম একটি বিশ্বধর্ম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।[২] এছাড়াও শব্দটির প্রাথমিক প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন পশ্চিমা প্রাচ্যবিদ বা ‘প্রথম যুগের ভারততত্ত্ববিদগণ’, যাঁদের বক্তব্য সাধারণত একপেশে ছিল বলে মনে করা হয়। যদিও হিন্দুধর্মের শিকড় ও তার বিভিন্ন শাখাপ্রশাখার প্রাচীনত্বের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। সকলেই স্বীকার করেছেন যে প্রাগৈতিহাসিক সিন্ধু সভ্যতা থেকে ঐতিহাসিক বৈদিক সভ্যতার প্রাথমিক পর্ব জুড়ে ছিল হিন্দুধর্মের সূচনালগ্ন।[৩১] কেবলমাত্র ধর্মবৈভিন্ন প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বৈদিক সংস্কারের ভিত্তিতে হিন্দুধর্মের একটি রূপ দান করেছেন পশ্চিমা প্রাচ্যবিদগণ – এমন কথাও বলেছেন কেউ কেউ। কিন্তু তা সত্য নয়।[৩২][৩৩][৩৪]
সংজ্ঞা বা ‘হিন্দুইজম’ বা হিন্দুধর্ম শব্দটির দ্বারা কি বোঝায় তা এই কারণেই বলা সম্ভব নয় যে এই ধর্মের কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই। হিন্দুধর্মে, বা কারো কারো ভাষ্য অনুযায়ী হিন্দুধর্মসমূহে মোক্ষলাভের প্রণালীটি এক এক সম্প্রদায়ের নিকট এক এক প্রকার। বৈদিক ধর্মের যে রূপগুলি পরিলক্ষিত হয়, তা হিন্দুধর্মের বিকল্প নয় - বরং তার প্রাচীনতম রূপ। তাই পশ্চিমা প্রাচ্যবিদদের লেখায় বৈদিক ধর্ম, ব্রাহ্মণ্যবাদ ও হিন্দুধর্মের মধ্যে যে প্রভেদ দেখানো হয়ে থাকে তারও বিশেষ যুক্তি নেই।[৯][৩৫] কেউ কেউ মনে করেন, হিন্দুধর্মে কোনো “অনুশাসনের আকারে নিবদ্ধ কোনো একক ধর্মীয় বিশ্বাস” প্রচলিত নেই। এই জন্য ইসলামের বিরাট সংগঠনের পাশে এটিকে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ধর্মব্যবস্থা বলে অভিহিত করা হয়। আবার কেউ কেউ ইহুদি ধর্মের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ একাত্মতার কথাও বলে থাকেন।[২৩]
পাশ্চাত্য দৃষ্টিকোণ থেকে, ধর্ম কি এবং কিভাবে তা আরও প্রাচীন ধর্মবিশ্বাসগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত তারই বিচারে হিন্দুধর্মকে যাচাই করা হয়।[৩৬] ‘ধর্মবিশ্বাস’ (‘ফেইথ’) শব্দটি ‘ধর্ম’ (‘রিলিজিয়ন’) অর্থে প্রয়োগের ফলে এই বিষয়ে জটিলতা বৃদ্ধি পায়।[২৩] কোনো কোনো পণ্ডিত[৩৭] এবং অনেক হিন্দু দেশীয় ‘সনাতন ধর্ম’-এর সংজ্ঞাটির পক্ষপাতী। এই সংস্কৃত শব্দবন্ধটির অর্থ ‘চিরন্তন ধর্ম (বিধি)’ বা ‘চিরন্তন পন্থা’।[২][৩৮]
ধর্মবিশ্বাস [সম্পাদনা]
হিন্দুধর্ম এমনই একটি মূলধারার ধর্মবিশ্বাস যা একটি সুবিস্তৃত ভৌগোলিক ক্ষেত্রে এক বহুধাবিভক্ত জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে দিয়ে বিকাশলাভ করেছে। এই বিকাশলাভ সম্ভবপর হয়েছে মূলত দুটি পন্থায়: হিন্দুধর্মের পুরনো রীতিনীতির নবীকরণ এবং বহিরাগত রীতিনীতি ও সংস্কৃতি থেকে আত্মীকরণ। এর ফলে ধর্মীয় ক্ষেত্রে এক বিরাট বৈচিত্র্যময় সমাবেশ গড়ে উঠেছে। এই সমাবেশে যেমন স্থান পেয়েছে অসংখ্য ছোটো ছোটো আদিম ধর্মমত, তেমনই স্থান পেয়েছে সমগ্র উপমহাদেশে লক্ষাধিক মতাবলম্বী সমন্বিত প্রধান ধর্মসম্প্রদায়গুলিও। বৌদ্ধধর্ম বা জৈনধর্মের থেকে পৃথক ধর্মবিশ্বাসরূপে হিন্দুধর্মের পরিচিতিও তাই এই মতাবলম্বীদের অনুমোদনসাপেক্ষ বিষয়।[৩৯]
হিন্দু ধর্মবিশ্বাসের প্রধান উপাদানগুলি হল: ধর্ম (নৈতিকতা/কর্তব্য), সংসার (জন্ম-মৃত্যু-পুনর্জন্মের চক্র), কর্ম (ক্রিয়া ও তার প্রতিক্রিয়া), মোক্ষ (সংসার থেকে মুক্তি) ও বিভিন্ন যোগ (ধর্মানুশীলনের পন্থা)।[৪০]
ঈশ্বর ধারণা [সম্পাদনা]
- মূল নিবন্ধ: হিন্দুধর্মে ঈশ্বর
একেশ্বরবাদ, বহুদেববাদ, [৪১] সর্বেশ্বরময়বাদ, অদ্বৈতবাদ, নাস্তিক্যবাদ – সকল প্রকার বিশ্বাসের সমাহার দেখা যায় হিন্দুধর্মে। তাই হিন্দুধর্মে ঈশ্বরধারণাটি অত্যন্ত জটিল। এই ধারণা মূলত নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহ্য অথবা দর্শনের উপর নির্ভরশীল। কখনও কখনও হিন্দুধর্মকে হেনোথেইস্টিক ধর্ম (অর্থাৎ, বহু দেবতা অস্তিত্ব স্বীকার করার পাশাপাশি এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী ধর্মব্যবস্থা) বলে উল্লেখ করা হয়। তবে এধরনের বর্গীকরণ অতিসরলীকরণের নামান্তর।[৪২]
হিন্দুরা বিশ্বাস করেন যে মানুষের আত্মা শাশ্বত।[৪৩] অদ্বৈত বেদান্তের ন্যায় অদ্বৈতবাদী/সর্বেশ্বরময়বাদী দর্শন অনুসারে, আত্মা সর্বশেষে পরমাত্মা ব্রহ্মে বিলীন হয়। এই কারণেই এই দর্শন অদ্বৈত দর্শন নামে পরিচিত।[৪৪] অদ্বৈত দর্শনের মতে, জীবনের উদ্দেশ্য হল আত্মা ও ব্রহ্মের অভিন্নতা অনুভব করা।[৪৫] উপনিষদে বলা হয়েছে, মানুষের পরমসত্ত্বা আত্মাকে যিনি ব্রহ্মের সঙ্গে অভিন্ন রূপে অনুভব করতে সক্ষম হন, তিনিই মোক্ষ বা মহামুক্তি লাভ করেন।[৪৩][৪৬]
দ্বৈত ও ভক্তিবাদী দর্শনে ব্রহ্মের উপর ব্যক্তিত্ব আরোপিত হয়েছে। এই মতানুসারে সম্প্রদায়বিশেষে তাঁকে বিষ্ণু, ব্রহ্মা, শিব বা শক্তিরূপে পূজা করা হয়। আত্মা এখানে ঈশ্বরের উপর নির্ভরশীল এবং মোক্ষ নির্ভরশীল ঈশ্বরের প্রতি প্রেম অথবা ঈশ্বরের অনুগ্রহের উপর।[৪৭] পরমসত্ত্বা রূপে ঈশ্বর হিন্দুধর্মে ঈশ্বর (প্রভু[৪৮]), ভগবান (পবিত্র ব্যক্তি[৪৮]) বা পরমেশ্বর (সর্বোচ্চ প্রভু[৪৮]) নামে আখ্যাত।[৪৪] অবশ্য ঈশ্বর শব্দের একাধিক ব্যাখ্যা রয়েছে। মীমাংসাবাদীরা ঈশ্বরে অবিশ্বাস করেন; আবার অদ্বৈতবাদীরা ব্রহ্ম ও ঈশ্বরকে অভিন্ন মনে করেন।[৪৪] অধিকাংশ বৈষ্ণব ঐতিহ্যে তিনি বিষ্ণু। বৈষ্ণব শাস্ত্রগুলি তাঁকে কৃষ্ণ বা কখনও কখনও স্বয়ং ভগবানের রূপে দর্শিয়েছে। আবার সাংখ্য দর্শন নাস্তিক্যবাদী মনোভাবাপন্ন।[৪৯]
দেবতা ও অবতারগণ [সম্পাদনা]
হিন্দুধর্মে দৈব ব্যক্তিত্বদের দেব (স্ত্রীলিঙ্গে দেবী) নামে অভিহিত করা হয়। বাংলায় দেবতা শব্দটি দেব শব্দের সমার্থক শব্দরূপে বহুল প্রচলিত। শব্দটির আক্ষরিক দৈব সত্ত্বা। আবার ইংরেজি ভাষায় শব্দটি গড শব্দের সমার্থক।[৫০] হিন্দু সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলেন হিন্দু দেবগণ। চিত্রকলা ও স্থাপত্যে মূর্তির আকারে এবং বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থে, বিশেষত ভারতীয় মহাকাব্য ও পুরাণে নানান উপাখ্যানে তাঁদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঈশ্বরের থেকে এঁরা পৃথক। অনেক হিন্দুই তাঁদের ইষ্টদেবতার রূপে ঈশ্বরকে পূজা করে থাকেন।[৫১][৫২] ইষ্টদেবতার নির্বাচন ব্যক্তিগত,[৫৩] আঞ্চলিক বা পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে হয়ে থাকে।[৫৩]
হিন্দু মহাকাব্যে ও পুরাণের একাধিক কাহিনিতে বর্ণিত হয়েছে, কেমন করে দেবগণ মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়ে সমাজে ধর্ম সুরক্ষিত করেছেন এবং মানুষকে মোক্ষ পথে চালিত করেছেন। এই প্রকারের অবতীর্ণ রূপ অবতার নামে পরিচিত। হিন্দুধর্মে বিষ্ণুর অবতারগণ বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। রামায়ণের নায়ক রাম ও মহাভারতের কেন্দ্রীয় চরিত্র কৃষ্ণ বিষ্ণুরই অবতার রূপে চিত্রিত।
কর্ম ও সংসার [সম্পাদনা]
কর্মের আক্ষরিক অর্থ হল কার্য, ক্রিয়া অথবা করণ এবং বলা যেতে পারে এটি হল "কারণ এবং করণের (কার্যের) নৈতিক ধর্ম"। উপনিষদ্ মতে একজন মানুষ (অর্থাত্ জীবত্মা) সংস্কার (লব্ধ জ্ঞান) অর্জন করে তার শারিরীক ও মানসিক কর্মের মধ্যে দিয়ে। মানুষের মৃত্যুর পর সমস্ত সংস্কারগুলি যথাযথ ভাবে তার লিঙ্গ-শরীরে (যে শরীর রক্ত-মাংসের শরীর থেকে সুক্ষ অথচ আত্মার থেকে স্থূল) বিদ্যমান থাকে এবং পরজন্মে তার সুনির্দিষ্ট কক্ষপথ তৈরী করে। সুতরাং, একটি সর্বজনীন, নিরপেক্ষ, এবং অব্যর্থ কর্মের ধারণা মানুষের পুনর্জন্মলাভের সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যক্তিত্ব, বৈশিষ্ট্য, এবং পরিবার সম্পর্কিত ধারণার সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও ভাগ্য প্রভৃতি ধারণাগুলিকে কর্ম একত্রে সংযুক্ত করেছে।
কার্য, কারণ, জন্ম, মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের বৃত্তাকার পরম্পরাই হল সংসার। দেহধারণ এবং কর্মফল ধারণা সম্পর্কে হিন্দুধর্মে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ চিন্তার প্রকাশ দেখা যায়। শ্রীমদ্ভগ্বতগীতায় বলা হয়েছে:
বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
- নবানি গৃহ্নাতি নরোহপরাণি।
তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা
- ন্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী। (শ্রীমদ্ভগ্বতগীতা, দ্বিতীয় অধ্যায়, ২২)
[ব্যখ্যা: মানুষ যেমন জীর্ণ-শীর্ণ পুরোনো বস্ত্রগুলি ত্যাগ করে অন্য নতুন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেইরূপ জীবাত্মা পুরোনো শরীর ত্যাগ করে অন্য নতুন শরীর গ্রহণ করে। (শ্রীমদ্ভগ্বতগীতা, দ্বিতীয় অধ্যায়, ২২)]
যেখানে সংসার ক্ষণিকের আনন্দ দেয়, যা মানুষকে আরেকটি বিনাশশীল শরীর পরিগ্রহ করতে উত্সাহী করে। সেখানে মোক্ষ এই সংসারের গণ্ডী থেকে মুক্ত হয়ে চির আনন্দ ও শান্তির বিশ্বাস প্রদান করে। হিন্দুধর্মের বিশ্বাস যে অনেকগুলি জন্মান্তরের পর অবশেষে জীবাত্মা মহাজাগতিক আত্মায় (ব্রহ্ম/পরমাত্মা) মিলিত হতে ব্যাকুল হয়।
জীবনের চরম লক্ষ্যকে (চরম লক্ষ্য বলতে এখানে মোক্ষ অথবা নির্বাণ অথবা সমাধি) বিভিন্ন ভাবে বোঝানো হয়েছে: যেমন ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্মতার বোধ; যেমন ঈশ্বরের সঙ্গে অবিছ্যেদ্য সম্পর্কের বোধ; যেমন সমস্ত বস্তুর সম্পর্কে অদ্বৈত বোধ; যেমন আত্ম বিষয়ক বিশুদ্ধ নিস্বার্থতা ও জ্ঞান; যেমন নিখুঁত মানসিক শান্তিলাভ; এবং যেমন পার্থিব বাসনার থেকে অনাসক্তি বোধ। এই ধরনের উপলব্ধি মানুষকে সংসার এবং পুনর্জন্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করে। আত্মার অবিনশ্বরতায় বিশ্বাস থাকার ফলে, মৃত্যুকে পরমাত্মার তুলনায় নেহাত্ই তুচ্ছ মনে হয়। অত:পর, একজন ব্যক্তি যার কোন ইচ্ছা বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাকি নেই এবং জীবনের কোন দায়িত্বই বাকি নেই অথবা একটিও রিপু দ্বারা আক্রান্ত নয়, সে প্রায়োপবেশন (সংস্কৃত ভাষায় प्रायोपवेशनम्, যার আক্ষরিক অর্থ হল মৃত্যু কামনায় উপবাসের মাধ্যমে দেহত্যাগ) দ্বারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে।
মোক্ষের ধারণা সম্বলিত বিষয়গুলি বিভিন্ন হিন্দু দার্শনিক গোষ্ঠীগুলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন। উদাহরণ স্বরূপ, যেমন অদ্বৈত বেদান্তবাদীরা বিশ্বাস করে যে মোক্ষ লাভের পর একটি জীবাত্মা নিজেকে পরমব্রহ্ম ব্যতীত অন্য কিছু মনে করতে পারেনা। আবার দ্বৈতবাদীরা নিজেদের ব্রহ্মের অংশ বলে মনে করে, এবং মোক্ষ লাভের পর স্বর্গালোকে ঈশ্বরের সঙ্গে অনান্তকাল বাস করবে বলে বিশ্বাস করে। সুতরাং, এক কথায় বলা যায় যে যেখানে দ্বৈতবাদীরা চায় "চিনি খেতে", সেখানে অদ্বৈতবাদীরা চায় "চিনি হতে"।
মানবজীবনের উদ্দেশ্য [সম্পাদনা]
পরপারে গোলকৃন্দাবনে গিয়া পরম করুণাময় ভগবাণের চরণের সেবা করা ।
যোগ [সম্পাদনা]
ধর্মানুশীলন [সম্পাদনা]
প্রথা ও রীতিনীতি [সম্পাদনা]
তীর্থযাত্রা ও উৎসব [সম্পাদনা]
শাস্ত্রগ্রন্থ [সম্পাদনা]
শ্রুতি [সম্পাদনা]
স্মৃতি [সম্পাদনা]
ইতিহাস [সম্পাদনা]
হিন্দুধর্ম বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম তবে হিন্দু নামটি আধুনিকালের দেওয়া। এর প্রাচীন নাম হল সনাতন ধর্ম। আবার এই ধর্ম বৈদিক ধর্ম নামেও পরিচিত। এই ধর্ম বেদ এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল। এ ধর্মত্ত্বের মূল কথা হল ঈশ্বরের অস্তিত্বেই সকল কিছুর অস্তিত্ব এবং সকল কিছুর মূলেই স্বয়ং ঈশ্বর। খ্রীস্টপূর্ব ৫৫০০-২৬০০ অব্দের দিকে যখন কিনা হাপ্পান যুগ ছিল ঠিক সেই সময়ই এ ধর্মের গোড়ার দিক। অনেকের মতে খ্রীস্টপূর্ব ১৫০০-৫০০ অব্দ। কিন্তু ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে আর্য (বা Aryan) জাতিগোষ্ঠি ইউরোপের মধ্য দিয়ে ইরান হয়ে ভারতে প্রবেশ করে খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০-২৫০০ অব্দের মধ্যে, তারাই ভারতে বেদ চর্চা করতে থাকে এবং তারা সমগ্র ভারতে তা ছড়িয়ে দেয়।
আর্য জাতিগোষ্ঠিরা অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলত। তারা চারটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল এরা হলঃ ব্রাহ্মন, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্র। এই সম্প্রদায়গুলো তৈরি করার অন্যতম কারণ হল কাজ ভাগ করে নেওয়া অর্থাৎ এক এক সম্প্রদায় এর লোক এক এক ধরনের কাজ করবে। অনেকের মতে হিন্দু শব্দটি আর্যদেরকে আফগানিস্তানের বাসিন্দা বা আফগানেরা দিয়েছে তারা সিন্দু নদের তীরবর্তী সনাতন ধর্মের সাধু সন্ন্যাসিদেরকে হিন্দু বলত, আর এই ভাবেই হিন্দু নামটি এসেছে। এই সনাতন ধর্মের সাধু সন্ন্যাসিরাই বেদ শ্রুতিবদ্ধ করেন অর্থাৎ ধ্যানের মাধ্যমে বেদ আয়ত্ব করেন। বেদ কোন একজন সাধু বা সন্ন্যাসির লব্ধকৃত নয়, বেদ হল বহু সাধু সন্ন্যাসিদের লব্ধকৃত এক মহান শ্রুতিবদ্ধ গ্রন্থ যা প্রথম অবস্থায় সবার মনে মনে ছিল পরে তাকে লিপিবদ্ধ করা হয়। বেদ এই লিঙ্কটির মাধ্যমে বেদ সম্পর্কে আরো জানতে পারবেন। তখন কার যুগে এই বেদের আধিপত্য ছিল ব্যাপক, অর্থাৎ সমাজের সকল কাজ বেদের মাধ্যমে চলত কারণ বেদে সমাজ চালানো, চিকিৎসা করা, গণনা করা এমন সব উপাদানই আছে। এই কারনে তখনকার সভ্যতাকে বলা হয় বৈদিক সভ্যতা।
এই বৈদিক সভ্যতায় অর্থাৎ ঐ আমলে কোন মূর্তি পুজা করা হত না। সেই সময় হিন্দুদের প্রধান দেবতা ছিলেন ইন্দ্র, বরুন, অগ্নি এবং সোম। তারা যজ্ঞের মাধ্যমে পূজিত হত। তখনকার ঈশ্বর আরাধনা হত যজ্ঞ এবং বেদ পাঠের মাধ্যমে। সকল কাজের আগে যজ্ঞ করা ছিল বাঞ্ছনীয়। সে আমলে কোন মূর্তি বা মন্দির ছিল না। ধারনা করা হয়ে থাকে যে খ্রীস্টপূর্ব ৫০০ থেকে ১০০ অব্দের মধ্যে রামায়ণ এবং মহাভারত শ্রুতিবদ্ধ হয়। বর্তমানে এই সমস্ত মহান ধর্ম গ্রন্থগুলোর লিখিত রূপ হয়েছে। এই রামায়ণ এবং মহাভারতে লিপিবদ্ধ আছে ধর্ম এবং যুদ্ধের কাহিনী। এছারাও পুরাণ নামে যে ধর্মগ্রন্থগুলো রয়েছে তাতে দেবতাদের এবং অসুরদের যুদ্ধ নিয়ে ঘটনা আছে।
হিন্দুসমাজ [সম্পাদনা]
সম্প্রদায় [সম্পাদনা]
আশ্রম [সম্পাদনা]
সন্ন্যাস [সম্পাদনা]
চতুর্বর্ণ [সম্পাদনা]
হিন্দু ধর্মাবলম্বী দের ৪ টা বর্ণ রয়েছে। যথাঃ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।
অহিংসা ও নিরামিষ আহার [সম্পাদনা]
ধর্মান্তর [সম্পাদনা]
আরও দেখুন [সম্পাদনা]
|
হিন্দুধর্ম |
সম্পর্কিত অন্যান্য ধর্ম |
পাদটীকা [সম্পাদনা]
- ↑ ১.০ ১.১ Hinduism is variously defined as a "religion", "set of religious beliefs and practices", "religious tradition" etc. For a discussion on the topic, see: "Establishing the boundaries" in Gavin Flood (2003), pp. 1–17. René Guénon in his Introduction to the Study of the Hindu Doctrines (1921 ed.), Sophia Perennis, ISBN 0-900588-74-8, proposes a definition of the term "religion" and a discussion of its relevance (or lack of) to Hindu doctrines (part II, chapter 4, p. 58).
- ↑ ২.০ ২.১ ২.২ The Concise Oxford Dictionary of World Religions. Ed. John Bowker. Oxford University Press, 2000;
- ↑ The term "Dharma" connotes much more than simply "law". It is not only the doctrine of religious and moral rights, but also the set of religious duties, social order, right conduct and virtuous things and deeds. As such Dharma is the Code of Ethics.[১] The modern use of the term can be traced to late 19th century Hindu reform movements (J. Zavos, Defending Hindu Tradition: Sanatana Dharma as a Symbol of Orthodoxy in Colonial India, Religion (Academic Press), Volume 31, Number 2, April 2001, pp. 109–123; see also R. D. Baird, "Swami Bhaktivedanta and the Encounter with Religions", Modern Indian Responses to Religious Pluralism, edited by Harold Coward, State University of New York Press, 1987); less literally also rendered "eternal way" (so Harvey, Andrew (2001), Teachings of the Hindu Mystics, Boulder: Shambhala, xiii, আইএসবিএন 1-57062-449-6). See also René Guénon, Introduction to the Study of the Hindu Doctrines (1921 ed.), Sophia Perennis, ISBN 0-900588-74-8, part III, chapter 5 "The Law of Manu", p. 146. On the meaning of the word "Dharma", see also René Guénon, Studies in Hinduism, Sophia Perennis, ISBN 0-900588-69-3, chapter 5, p. 45
- ↑ Osborne 2005, p. 9
- ↑ Morgan, Sarma 1953
- ↑ ৬.০ ৬.১ Merriam-Webster's Collegiate Encyclopedia, Merriam-Webster, 2000, p. 751, আইএসবিএন 0877790175
- ↑ Laderman, Gary (2003), Religion and American Cultures: An Encyclopedia of Traditions, Diversity, and Popular Expressions, Santa Barbara, Calif: ABC-CLIO, p. 119, আইএসবিএন 1-57607-238-X, "world's oldest living civilization and religion"
- ↑ Turner, Jeffrey S. (1996), Encyclopedia of relationships across the lifespan, Westport, Conn: Greenwood Press, p. 359, আইএসবিএন 0-313-29576-X, "It is also recognized as the oldest major religion in the world"
- ↑ ৯.০ ৯.১ Klostermaier 1994, p. 1
- ↑ [২]
- ↑ "Major Religions of the World Ranked by Number of Adherents"। Adherents.com। সংগৃহীত 2007-07-10।
- ↑ The Gita Dhyanam is a traditional short poem sometimes found as a prefatory to editions of the Bhagavad Gita. Verse 4 refers to all the Upanishads as the cows, and the Gita as the milk drawn from them. (Chidbhavananda 1997, pp. 67–74)
- ↑ "India", Oxford English Dictionary, second edition, 2100a.d. Oxford University Press.
- ↑ "Rig Veda: Rig-Veda, Book 10: HYMN LXXV. The Rivers"। Sacred-texts.com। সংগৃহীত 2010-09-01।
- ↑ Thapar, R. 1993. Interpreting Early India. Delhi: Oxford University Press. p. 77
- ↑ Thompson Platts, John, A dictionary of Urdu , classical Hindī, and English, W.H. Allen & Co., Oxford University 1884
- ↑ O'Conell, Joseph T. (1973), "The Word 'Hindu' in Gauḍīya Vaiṣṇava Texts", Journal of the American Oriental Society 93 (3): 340–344, ডিওআই:10.2307/599467, http://jstor.org/stable/599467.
- ↑ "Sanatana Dharma – वेद Veda"। Veda.wikidot.com। সংগৃহীত 2010-09-01।
- ↑ "Hindu Sects and Schools"। ReligionFacts। সংগৃহীত 2010-09-01।
- ↑ "...that many-sided and all-enfolding culture which we in the West have chosen to call Hinduism" Jan Gonda, Visnuism and Sivaism, Munshiram Manoharlal. 1996, ISBN 812150287X p. 1. cited by Welbon, G.R. (Journal of the American Academy of Religion, Vol. 43, No. 1, 98+100. March, 1975.), Review: Love of God According to Saiva Siddhanta: A Study in the Mysticism and Theology of Saivism by Mariasusay Dhanamoy.
- ↑ J. McDaniel Hinduism, in John Corrigan, The Oxford Handbook of Religion and Emotion, (2007) Oxford University Press, 544 pages, pp. 52-53 ISBN 0-19-517021-0
- ↑ Bryan S. Turner "Essays on the Sociology of Fate - Page 275"
- ↑ ২৩.০ ২৩.১ ২৩.২ ২৩.৩ Flood 2001, Defining Hinduism
- ↑ Merriam-Webster's Encyclopedia of World Religions, p. 434
- ↑ Vaz, P. (2001), "Coexistence of Secularism and Fundamentalism in India", Handbook of Global Social Policy: 124, http://books.google.com/books?hl=en&lr=&ie=UTF-8&id=opHYPSvPpWYC&oi=fnd&pg=PA123&dq=oldest+major+tradition+Hinduism&ots=dvtYVKGW2O&sig=evj3yKYq4oNkrZDX1tQ_UrKLTb8, সংগৃহীত 2008-06-26, "Hinduism is the oldest of all the major world religions."
- ↑ Eastman, R. (1999). The Ways of Religion: An Introduction to the Major Traditions. Oxford University Press, USA.
- ↑ Joel Beversluis (2000). Sourcebook of the World's Religions: An Interfaith Guide to Religion and Spirituality (Sourcebook of the World's Religions, 3rd ed). Novato, Calif: New World Library. পৃ: 50. আইএসবিএন 1-57731-121-3.
- ↑ Weightman & Klostermaier 1994, p. 1
- ↑ Bhagavad Gita, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন: "Hinduism is not just a faith. It is the union of reason and intuition that can not be defined but is only to be experienced."
- ↑ Ferro-Luzzi,(1991)The Polythetic-Prototype Approach to Hinduism in G.D. Sontheimer and H. Kulke (ed.) Hinduism Reconsidered. Delhi: Manohar. pp. 187-95
- ↑ Smart, (1993) The Formation Rather than the Origin of a Tradition,in DISKUS: A Disembodied Journal of Religious Studies, vol. 1, no. 1, p. 1
- ↑ Smith, W.C. (1962) The Meaning and End of Religion. San Francisco, Harper and Row. p. 65
- ↑ Stietencron, on, Hinduism: On the Proper Use of A Deceptive Term, pp.1-22
- ↑ Halbfass, (1991) Tradition and Reflection. Albany, SUNY Press. pp. 1-22
- ↑ "JSTOR: Philosophy East and West, Vol. 34, No. 2 (Apr., 1984 ), pp. 234-236"। www.jstor.org।
- ↑ David Kopf। "Review: Imagining India by Ronald Inden: Journal of the American Oriental Society, Vol. 112, No. 4 (Oct. - Dec., 1992 ), pp. 674-677"। www.jstor.org। সংগৃহীত 2008-08-04।
- ↑ Hinduism in Britain Kim Knott, (2000) The South Asian Religious Diaspora in Britain, Canada, and a United States.
- ↑ Harvey, Andrew (2001). Teachings of the Hindu Mystics. Boulder: Shambhala. xiii. আইএসবিএন 1-57062-449-6.
- ↑ Weightman 1998, pp. 262–264 "It is Hindu self-awareness and self-identity that affirm Hinduism to be one single religious universe, no matter how richly varied its contents, and make it a significant and potent force alongside the other religions of the world."
- ↑ Brodd, Jefferey (2003). World Religions. Winona, MN: Saint Mary's Press. আইএসবিএন 978-0-88489-725-5.
- ↑ "Polytheism"। Encyclopædia Britannica। Encyclopædia Britannica Online। 2007। সংগৃহীত 2007-07-05।
- ↑ See Michaels 2004, p. xiv and Gill, N.S। ""Henotheism""। About, Inc। সংগৃহীত 2007-07-05।
- ↑ ৪৩.০ ৪৩.১ Monier-Williams 1974, pp. 20–37
- ↑ ৪৪.০ ৪৪.১ ৪৪.২ & Bhaskarananda 1994
- ↑ Vivekananda 1987
- ↑ Werner 1994, p. p37
- ↑ Werner 1994, p. 7
- ↑ ৪৮.০ ৪৮.১ ৪৮.২ Monier-Williams 2001
- ↑ Sen Gupta 1986, p. viii
- ↑ For translation of deva in singular noun form as "a deity, god", and in plural form as "the gods" or "the heavenly or shining ones", see: Monier-Williams 2001, p. 492. In fact, there are different ranks among the devas. The highest are the immortal Mahadevas, such as Shiva, Vishnu, etc. The second-rank devas, such as Ganesha, are described as their offspring: they are "born", and their "lifespan" is quite limited. In ISKCON the word is translated as "demigods", although it can also denote such heavenly denizens as gandharvas. See: "Vedic cosmology"। Vedic Knowledge Online। VEDA - Bhaktivedanta Book Trust। সংগৃহীত 2007-06-25।. For translation of devatā as "godhead, divinity", see: Monier-Williams 2001, p. 495.
- ↑ Werner 1994, p. 80
- ↑ Renou 1961, p. 55
- ↑ ৫৩.০ ৫৩.১ Harman 2004, pp. 104–106
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- Banerji, S. C. (1992), written at Delhi, Tantra in Bengal (Second Revised and Enlarged ed.), Manohar, ISBN 81-85425-63-9
- Basham, A.L (1999), A Cultural History of India, Oxford University Press, ISBN 0-19-563921-9
- Bhaktivedanta, A. C. (1997), Bhagavad-Gita As It Is, Bhaktivedanta Book Trust, ISBN 089213285X, <http://bhagavadgitaasitis.com/>
- Bhaskarananda, Swami (1994), written at Seattle, WA, The Essentials of Hinduism: a comprehensive overview of the world's oldest religion, Viveka Press, ISBN 1-884852-02-5
- Bhattacharyya, N.N (1999), written at Delhi, History of the Tantric Religion (Second Revised ed.), Manohar Publications, ISBN 81-7304-025-7
- Chidbhavananda, Swami (1997), The Bhagavad Gita, Sri Ramakrishna Tapovanam
- Eliot, Sir Charles (2003), Hinduism and Buddhism: An Historical Sketch, vol. I (Reprint ed.), Munshiram Manoharlal, ISBN 8121510937
- Guénon, René (1921), Introduction to the Study of the Hindu Doctrines (1921 ed.), Sophia Perennis, ISBN 0-900588-74-8
- Guénon, René, Studies in Hinduism (1966 ed.), Sophia Perennis, ISBN 0-900588-69-3
- Guénon, René, Man and His Becoming According to the Vedanta (1925 ed.), Sophia Perennis, ISBN 0-900588-62-4
- Monier-Williams, Monier (2001), written at Delhi, English Sanskrit dictionary, Motilal Banarsidass, ISBN 8120615093, <http://www.ibiblio.org/sripedia/ebooks/mw/index.html>. Retrieved on 2007-07-24
- Nikhilananda, Swami (1990), written at New York, The Upanishads: Katha, Iśa, Kena, and Mundaka, vol. I (5th ed.), Ramakrishna-Vivekananda Center, ISBN 0-911206-15-9
- Nikhilananda, Swami (trans.) (1992), written at New York, Gospel of Sri Ramakrishna (8th ed.), Ramakrishna-Vivekananda Center, ISBN 0-911206-01-9
- Oberlies, T (1999), written at Vienna, Die Religion des Rgveda, Institut für Indologie der Universität Wien, ISBN 3900271321
- Osborne, E (2005), Accessing R.E. Founders & Leaders, Buddhism, Hinduism and Sikhism Teacher's Book Mainstream, Folens Limited
- Radhakrishnan, S & CA Moore (1967), A Sourcebook in Indian Philosophy, Princeton University Press, ISBN 0-691-01958-4
- Radhakrishnan, S (Trans.) (1995), Bhagvada Gita, Harper Collins, ISBN 1-855384-57-4
- Radhakrishnan, S (1996), Indian Philosophy, vol. 1, Oxford University Press, ISBN 0195638204
- Sargeant, Winthrop & Christopher Chapple (1984), written at New York, The Bhagavad Gita, State University of New York Press, ISBN 0-87395-831-4
- Sen Gupta, Anima (1986), The Evolution of the Sāṃkhya School of Thought, South Asia Books, ISBN 8121500192
- Silverberg, James (1969), "Social Mobility in the Caste System in India: An Interdisciplinary Symposium", The American Journal of Sociology 75 (3): 442–443
- Smelser, N. & S. Lipset, eds. (2005), Social Structure and Mobility in Economic Development, Aldine Transaction, ISBN 0202307999
- Smith, Huston (1991), written at San Francisco, The World's Religions: Our Great Wisdom Traditions, HarperSanFrancisco, ISBN 0062507990
- Vivekananda, Swami (1987), written at Calcutta, Complete Works of Swami Vivekananda, Advaita Ashrama, ISBN 81-85301-75-1
আরও পড়ুন [সম্পাদনা]
- Bowes, Pratima (1976), The Hindu Religious Tradition: A Philosophical Approach, Allied Pub, ISBN 0710086687
- Flood, Gavin (Ed) (2003), Blackwell companion to Hinduism, Blackwell Publishing, ISBN 0-631-21535-2
- Klostermaier, K (1994), A Survey of Hinduism (3rd (2007) ed.), State University of New York Press;, ISBN 0791470822, <http://www.oneworld-publications.com/books/texts/hinduism-a-short-history-ch1.htm>
- Lipner, Julius (1998), Hindus: Their Religious Beliefs and Practices, Routledge, ISBN 0415051819, <http://www.google.co.in/books?id=HDMLYkIOoWYC&printsec=frontcover&dq=sindhu+hindu&as_brr=3>. Retrieved on 2007-07-12
- Michaels, A (2004), Hinduism: Past and Present (5th ed.), Princeton University Press, ISBN 0-691-08953-1
- Monier-Williams, Monier (1974), Brahmanism and Hinduism: Or, Religious Thought and Life in India, as Based on the Veda and Other Sacred Books of the Hindus, Adamant Media Corporation, ISBN 1421265311, <http://books.google.com/books?id=U5IBXA4UpT0C&dq=isbn:1421265311>. Retrieved on 2007-07-08
- Morgan, Kenneth W., ed. (1987), written at Delhi, The Religion of the Hindus (New Ed ed.), Motilal Banarsidas, ISBN 8120803876
- Renou, Louis (1964), The Nature of Hinduism, Walker
- Rinehart, R (Ed.) (2004), Contemporary Hinduism: Ritual, Culture, and Practice, ABC-Clio, ISBN 1-57607-905-8
- Weightman, Simon (1998), "Hinduism", in Hinnells, John (Ed.), The new Penguin handbook of living religions, Penguin books, ISBN 0-140-51480-5
- Werner, Karel (1994), "Hinduism", written at Richmond, Surrey, in Hinnells, John (Ed.), A Popular Dictionary of Hinduism, Curzon Press, ISBN 0-7007-0279-2
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
উক্তি, উইকিউক্তি হতে
রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে
- Resources for Scholars and Students
- Dharma Central's facts about Hinduism
- All About Hinduism by Swami Sivananda (pdf)
- Heart of Hinduism: An overview of Hindu traditions
- Information on Hinduism or Santana dharma
- Sri Sarwartha Sidhi Vinayagar Temple, Modera,Sri Lanka.
- [http://www.oneworld-publications.com/books/texts/hinduism-a-short-history-ch1.htm Hinduism: A Short History
|publisher=www.oneworld-publications.com |accessdate=2008-07-06 |author=Prof. Klaus K. Klostermaier]
অডিও
- Paper on Hinduism by Swami Vivekananda - Presented at World Parliament of Religion in 1893 (Text + Audio Version)
- Oxford Centre for Hindu Studies Lectures and seminars in MP3 audio format by the OCHS as reference material for scholars and students.