তেলঙ্গানা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(তেলেঙ্গানা থেকে ঘুরে এসেছে)
তেলঙ্গানা
తెల౦గాణ
تلنگانہ
ভারতের রাজ্য
তেলঙ্গানা রাজ্যের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য.
উপরের বাঁদিক থেকে ঘড়ির কাঁটার ক্রমে: চারমিনার, ভদ্রাচলম রামের চিত্র, কাচেগুড়া রেল স্টেশন, ভোঙ্গির দুর্গ, হুসেনসাগরে বুদ্ধমূর্তি, এনটিপিসি রামগুন্ডাম সুপার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

Seal
ভারতে তেলঙ্গানা রাজ্যের অবস্থান
স্থানাঙ্ক (হায়দ্রাবাদ): ১৭°২১′৫৮″ উত্তর ৭৮°২৮′৩৪″ পূর্ব / ১৭.৩৬৬° উত্তর ৭৮.৪৭৬° পূর্ব / 17.366; 78.476স্থানাঙ্ক: ১৭°২১′৫৮″ উত্তর ৭৮°২৮′৩৪″ পূর্ব / ১৭.৩৬৬° উত্তর ৭৮.৪৭৬° পূর্ব / 17.366; 78.476
দেশ  ভারত
অঞ্চল দক্ষিণ ভারত
প্রতিষ্ঠা ২ জুন ২০১৪ (2014-06-02)
রাজধানী ও বৃহত্তম শহর হায়দ্রাবাদ
জেলা ১০
সরকার
 • রাজ্যপাল ই. এস. এল. নরসিংহন
 • মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও (তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি)
 • বিধানসভা দ্বিকক্ষীয় (১১৯ + ৪০ আসন)
 • লোকসভা কেন্দ্র ১৭
 • হাইকোর্ট হায়দ্রাবাদ হাইকোর্ট
আয়তন
 • মোট ১,১৪,৮৪০
এলাকার ক্রম ১২শ
জনসংখ্যা (২০১১)
 • স্থান ১২শ
সময় অঞ্চল ভারতীয় সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
আইএসও ৩১৬৬ কোড IN-xx (এখনও নির্ধারিত হয়নি)
যানবাহন নিবন্ধন TG [১][২]
সাক্ষরতা ৬৬.৪৬%
সরকারি ভাষা তেলুগু
উর্দু
ওয়েবসাইট telangana.gov.in

তেলঙ্গানা শুনুনi/ˌtɛlənˈɡɑːnə/ হল দক্ষিণ ভারতের একটি রাজ্য। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চল নিজাম-শাসিত হায়দ্রাবাদ দেশীয় রাজ্যের (মেদক ও ওয়ারঙ্গল বিভাগ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত অধিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চল হায়দ্রাবাদ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। ১৯৫৬ সালে হায়দ্রাবাদ রাজ্য অবলুপ্ত হয়ে অন্ধ্র রাজ্য এবং হায়দ্রাবাদ রাজ্যের তেলঙ্গানা অঞ্চল যুক্ত হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হয়। ২০১৪ সালের ২ জুন অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন অনুসারে, অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলা নিয়ে তেলঙ্গানা রাজ্য গঠিত হয়।[৩] হায়দ্রাবাদ শহর তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের যৌথ রাজধানীর মর্যাদা পাবে দশ বছরের জন্য।[৪]

তেলঙ্গানা রাজ্যের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে মহারাষ্ট্র, পশ্চিমে কর্ণাটক, উত্তর-পূর্বে ছত্তীসগঢ় এবং দক্ষিণ ও পূর্বে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য। তেলঙ্গানার আয়তন ১,১৪,৮৪০ বর্গকিলোমিটার (৪৪,৩৪০ মা) ও জনসংখ্যা ৩৫, ২৮৬, ৭৫৭ (২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে)।[৫] হায়দ্রাবাদ, ওয়ারঙ্গল, নিজামাবাদ, তেলঙ্গানাকরিমনগর এই রাজ্যের চারটি বৃহত্তম শহর।

নাম ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

মনে করা হয়, "তেলঙ্গানা" নামটি "তেলুগু" শব্দটি থেকে এসেছে। এই শব্দের দ্বারা তেলুগু ভাষাভাষী-অধ্যুষিত অঞ্চলটিকে বোঝায়। "ত্রিলিঙ্গ দেশ" কথাটি "তেলঙ্গানা" শব্দের মূল উৎস। এই শব্দের অর্থ "তিন লিঙ্গের দেশ"। প্রচলিত হিন্দু কিংবদন্তি অনুসারে, শিব লিঙ্গের আকারে কালেশ্বরম, শ্রীশৈলমদ্রাক্ষারাম পর্বতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই তিন পর্বতমালা ত্রিলিঙ্গ দেশের তিন সীমানা নির্দেশ করত। এই "ত্রিলিঙ্গ দেশ" কথাটি থেকেই "থেলিঙ্গ", "তেলুঙ্গা", "তেলুগু" কথাটি এসেছে।[৬][৭]

পূর্বতন হায়দ্রাবাদ রাজ্যের মারাঠি-অধ্যুষিত অঞ্চল মারাঠওয়াড়ার থেকে তেলুগু-অধ্যুষিত অঞ্চলটিকে আলাদা করে বোঝাতে "তেলঙ্গানা" কথাটি ব্যবহৃত হত।.[৮]

"তেলঙ্গানা" শব্দটির সবচেয়ে পুরনো উল্লেখগুলির মধ্যে একটি হল মালিক মকবুলের নাম। তাঁকে "তিলঙ্গানি" বলা হত। এটির অর্থ ছিল, তিনি তিলঙ্গানা অঙ্গলের মানুষ ছিলেন। মালিক মকবুল হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নাম ছিল যুগন্ধর। তিনি দাদি নগদেবের পুত্র এবং ওয়ারঙ্গল দুর্গের (তেলুগু নাম "কটক পালুডু") সেনানায়ক ছিলেন।[৯]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন যুগ[সম্পাদনা]

সাতবাহন রাজংশের শিকড় ছিল অধুনা করিমনগর জেলার অন্তর্গত গোদাবরী উপত্যকার কোটিলিঙ্গল অঞ্চলে।

প্রাচীনকালে করিমনগরের কোটিলিঙ্গল ছিল ষোড়শ মহাজনপদের অন্তর্গত অস্মক জনপদের রাজধানী। এই অঞ্চলে প্রাক-সাতবাহন রাজাদের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। সাতবাহন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা চিমুখ ও পরবর্তী রাজাদের তাম্রমুদ্রাও এখানে পাওয়া গিয়েছে।[১০]

সাতবাহন রাজবংশ (খ্রিস্টপূর্ব ২৩০ অব্দ থেকে ২২০ খ্রিস্টাব্দ) এই অঞ্চলের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। এই রাজবংশের উৎস ছিল গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।[১১] সাতবাহন রাজবংশের পতনের পর বাকাটক, বিষ্ণুকুণ্ডিনা, চালুক্য, রাষ্ট্রকূটপশ্চিম চালুক্য রাজবংশ এই অঞ্চল শাসন করেছিল।[১২]

কাকতীয় রাজবংশ[সম্পাদনা]

১১৬৩ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারঙ্গলে নির্মিত কাকতীয় তোরণ
১২১৩ খ্রিস্টাব্দে কাকতীয় রাজা রেচেরলা রুদ্রের নির্মিত রামাপ্পা মন্দির

১০৮৩ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তেলঙ্গানা অঞ্চল শাসন করে কাকতীয় রাজবংশ। এই যুগটি তেলঙ্গানার ইতিহাসে সুবর্ণযুগ নামে পরিচিত।[১২] ১১৯৯ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ কাকতীয় রাজা গণপতিদেব ক্ষমতায় আসেন। সাতবাহন রাজাদের পর তিনিই প্রথম সমগ্র তেলুগুভাষী অঞ্চলকে একক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি তেলুগু চোল রাজ্যের শাসনের অবসান ঘটান। ১২১০ খ্রিস্টাব্দে তেলুগু চোলেরা তাঁর সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়েছিল। পূর্বে গোদাবরী বদ্বীপ থেকে পশ্চিমে রায়চুর (অধুনা কর্ণাটক রাজ্যে) এবং উত্তরে করিমনগরবস্তার (অধুনা ছত্তীসগঢ় রাজ্যে) থেকে দক্ষিণে শ্রীশৈলমত্রিপুরান্তকম (ওঙ্গলের কাছে) পর্যন্ত অঞ্চল তিনি নিজের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তাঁর রাজত্বেই গোলকোন্ডা দুর্গ নির্মিত হয়েছিল।[১৩] কাকতীয় রাজবংশের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য শাসকেরা হলেন রুদ্রামা দেবী ও প্রতাপরুদ্র। ১৩০৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক কাফুরের আক্রমণের পর এই রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। মহম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতাপরুদ্রকে পরাজিত করলে এই রাজবংশের পতন ঘটে।[১৪][১৫]

কুতুবশাহি ও নিজাম[সম্পাদনা]

চতুর্দশ শতাব্দীতে তেলঙ্গানা অঞ্চলটি দিল্লি সুলতানির অধীনে আসে। এরপর তেলঙ্গানা অঞ্চল বাহমনি সুলতানির অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৫১৮ খ্রিস্টাব্দে গোলকুন্ডার শাসনকর্তা কুলি কুতুব মুল্ক বাহমনি সুলতানির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কুতুবশাহি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দের ২১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ এক বছর গোলকুন্ডা দুর্গ অবরোধের পর মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব গোলকুন্ডা সুলতানি দখল করেন।[১৬]

চারমিনার, হায়দ্রাবাদ

১৭১২ খ্রিস্টাব্দে কামারুদ্দিন খানকে "নিজাম-উল-মুল্ক" (অর্থাৎ, "রাজ্যের শাসনকর্তা") উপাধি দিয়ে দাক্ষিণাত্যের শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয়। ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুবারিজ খানকে পরাজিত করে "দাক্ষিণাত্য সুবা"র স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আসিফ জাহ নাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সময় থেকেই আসিফ জাহি রাজবংশের সূচনা।[১২] তিনি অঞ্চলটির নাম দেন হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য। তাঁর পরবর্তী শাসকেরাও "নিজাম-উল-মুল্ক" উপাধিটি ব্যবহার করতেন। এই জন্য তাঁদের আসিফ জাহি নিজাম বা হায়দ্রাবাদের নিজাম বলা হত। মেদকওয়ারঙ্গল শাসন করতেন নিজামরা।[১৭]

১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম আসিফ জাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্রদের মধ্যে সিংহাসনের অধিকার নিয়ে বিরোধ বাঁধে। সুযোগসন্ধানী প্রতিবেশী রাজ্য ও সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি শক্তিগুলিও এই বিরোধে সমর্থন জানায়। ১৭৬৯ সালে হায়দ্রাবাদ শহরটি নিজামদের আনুষ্ঠানিক রাজধানীতে পরিণত হয়। ব্রিটিশ আমলে হায়দ্রাবাদ রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের করদ রাজ্যে পরিণত হয়।[১৭]

চৌমাহাল্লা রাজপ্রাসাদ, নিজামদের বাসভবন।

স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগ[সম্পাদনা]

১৯৪৭ সালে ভারত যখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন হায়দ্রাবাদের নিজাম ভারত অধিরাজ্যে যোগ না দিয়ে দেশীয় রাজ্যের বিশেষ স্বীকৃতি ভোগ করতে চান। ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অপারেশন পোলোর মাধ্যমে ভারত সরকার হায়দ্রাবাদ রাজ্য অধিগ্রহণ করে।[১২] ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি, ভারত সরকার এম. কে. ভেল্লোডি নামে এক সরকারি আধিকারিককে হায়দ্রাবাদ রাজ্যের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করে।[১৮] তিনি মাদ্রাজ রাজ্যবোম্বাই রাজ্যের ইংরেজি-শিক্ষিত প্রশাসকদের সাহায্যে রাজ্য পরিচালনা করতেন। কারণ, নিজাম-শাসিত হায়দ্রাবাদ রাজ্যের সরকারি ভাষা উর্দু ছিল বলে সেখানকার প্রশাসকেরা ভারতীয় প্রশাসন সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন না।

১৯৫২ সালে, ভারতের প্রথম নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলে বুরগুলা রামকৃষ্ণ রাও এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই সময় তেলঙ্গানাপন্থীরা মাদ্রাজ রাজ্যের প্রশাসকদের বদলে স্থানীয় প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে হিংসাত্মক আন্দোলন করেছিলেন।[১৯]

ইতিমধ্যে, ১৯৫২ সালে পোত্তি শ্রীরামালুর আমরণ অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে তেলুগু-ভাষী উত্তর সরকাররায়লসীমা অঞ্চল দুটিকে মাদ্রাজ রাজ্য থেকে পৃথক করে আলাদা অন্ধ্র রাজ্য গঠন করা হয়।[২০][২১]

তেলঙ্গানা বিদ্রোহ[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানা বিদ্রোহ ছিল কমিউনিস্ট-সমর্থিত একটি কৃষক বিদ্রোহ। ১৯৪৬ ও ১৯৫১ সালে হায়দ্রাবাদ রাজ্যে এই আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই)।[২২]

নালগোন্ডা জেলায় জমিদার রেড্ডি ও ভেলম জাতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন শুরু হয়। খুব শীঘ্রই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ওয়ারাঙ্গলবিদার জেলায়। কৃষক ও খেতমুজররা জায়গিরদার ও দেশমুখ উপাধিধারী সামন্ত প্রভুদের বিরুদ্ধে এবং পরে হায়দ্রাবাদ রাজ্যের নিজাম ওসমান আলি খানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। বিদ্রোহ হিংসাত্মক আকার ধারণ করলে কেন্দ্রীয় সরকার সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। এরপরই বিদ্রোহের সমাপ্তি ঘটে।[২৩] ১৯৫১ সালের বিদ্রোহে সিপিআই মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিজমকে ভারতীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।[২৪]

রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের উদ্দেশ্যে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়।[২৫] ১৯৫৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তেলঙ্গানার নেতৃবৃন্দ ও অন্ধ্রের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রের সংযুক্তি বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত ছিল, তেলঙ্গানার স্বার্থ বজায় রাখা হবে।[২৬] ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর তেলঙ্গানা ও অন্ধ্র রাজ্য যুক্ত হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য গঠিত হয়।[২০][২৭][২৮]

তেলঙ্গানা আন্দোলন[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রের সংযুক্তি রদ করার দাবিতে একাধিক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান আন্দোলনগুলি হয় ১৯৬৯, ১৯৭২ ও ২০০৯ সালে। এই সব আন্দোলনের ফলে পৃথক তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের দাবি জোরালো হয়।[২৯] ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারত সরকার ঘোষণা করে, পৃথক তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এই ঘোষণার পরই উপকূলীয় অন্ধ্ররায়ালসীমা অঞ্চলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। সেই জন্য ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর সরকার তাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে। যদিও হায়দ্রাবাদ সহ তেলঙ্গানা অঞ্চলের অন্যান্য জেলায় পৃথক রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চলতে থাকে।[৩০]

অন্ধ্রপ্রদেশ বিভাজন[সম্পাদনা]

২০১৩ সালের ৩০ জুলাই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি পৃথক তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের জন্য একটি দাবিসনদ পাস করে।[৩১] ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিলটি ভারতের সংসদে উত্থাপিত হয়। এই মাসেই সংসদের উভয় কক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ পুনর্গঠন আইন পাস হয়। এই আইন অনুসারে, উত্তর-পশ্চিম অন্ধ্রপ্রদেশের ১০টি জেলা নিয়ে তেলঙ্গানা রাজ্য গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়।[৩২] ২০১৪ সালের ১ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সাক্ষর করে এবং সেটি গেজেটে প্রকাশ করেন।[৩৩]

২০১৪ সালের ২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তেলঙ্গানা রাজ্য গঠিত হয়। কে. চন্দ্রশেখর রাও তেলঙ্গানার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। জয় জয় হে তেলঙ্গানা গানটিকে রাষ্ট্রীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়।[৩৪] পরবর্তী ১০ বছরের জন্য হায়দ্রাবাদ শহরটিকে তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের যৌথ রাজধানী ঘোষণা করা হয়।[৩৫]

ভূগোল[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানা রাজ্যটি ভারতীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল ঘেঁষে দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলের মধ্য অংশে অবস্থিত। এই রাজ্যের আয়তন ১,১৪,৮০০ বর্গকিলোমিটার (৪৪,৩০০ মা)। এই রাজ্যের প্রধান নদী দুটি - গোদাবরী নদীকৃষ্ণা নদী। গোদাবরী অববাহিকার ৭৯% এলাকা এবং কৃষ্ণা অববাহিকার ৬৯% এলাকা এই রাজ্যের অন্তর্গত। তবে রাজ্যের অধিকাংশ অঞ্চলই অনুর্বর।[৩৬] ভীমা, মঞ্জীরা ও মুসি নদী এই রাজ্যের অন্যান্য নদী।

আবহাওয়া[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানার আবহাওয়া প্রধানত উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির। মার্চ মাসে গ্রীষ্মের সূত্রপাত হয়। মে মাসের সর্বাধিক তাপমাত্রা হয় ৪২ °সে (১০৮ °ফা)। জুন থেকে সেপ্টেম্বর বর্ষাকাল। এই সময় গড় বৃষ্টিপাত হয় ৭৫৫ মিলিমিটার (২৯.৭ ইঞ্চি)। শীতকাল শুষ্ক। নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির গোড়া পর্যন্ত শীতকাল থাকে। শীতকালের গড় তাপমাত্রা হয় ২২–২৩ °সে (৭২–৭৩ °ফা)।

Warangal
জলবায়ু লেখচিত্র
জা ফে মা মে জু জু সে ডি
 
 
15
 
30
16
 
 
5
 
33
18
 
 
5
 
37
22
 
 
7
 
40
26
 
 
15
 
42
28
 
 
50
 
37
28
 
 
85
 
32
25
 
 
170
 
31
25
 
 
160
 
33
23
 
 
70
 
33
22
 
 
10
 
31
18
 
 
0
 
30
15
সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ এবং সর্বোনিম্ন গড়
মিলিমিটারে বৃষ্টিপাতের মোট পরিমাণ
উৎস: www.mustseeindia.com
Hyderabad-এর আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য
মাস জানু ফেব্রু মার্চ এপ্রিল মে জুন জুলাই আগস্ট সেপ্টে অক্টো নভে ডিসে বছর
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) রেকর্ড ৩৩.৪
(৯২.১)
৩৬.৮
(৯৮.২)
৩৯.৯
(১০৩.৮)
৪৩.১
(১০৯.৬)
৪৩.৭
(১১০.৭)
৪৫.৫
(১১৩.৯)
৩৬.০
(৯৬.৮)
৩৪.৭
(৯৪.৫)
৩৫.৩
(৯৫.৫)
৩৬.১
(৯৭)
৩৩.৮
(৯২.৮)
৩২.৭
(৯০.৯)
৪৫.৫
(১১৩.৯)
সর্বোচ্চ °সে (°ফা) গড় ২৮.৬
(৮৩.৫)
৩১.৮
(৮৯.২)
৩৫.২
(৯৫.৪)
৩৭.৬
(৯৯.৭)
৩৮.৮
(১০১.৮)
৩৪.৪
(৯৩.৯)
৩০.৫
(৮৬.৯)
২৯.৬
(৮৫.৩)
৩০.১
(৮৬.২)
৩০.৪
(৮৬.৭)
২৮.৮
(৮৩.৮)
২৭.৮
(৮২)
৩২.০
(৮৯.৬)
দৈনিক গড় °সে (°ফা) ২২.২
(৭২)
২৫.১
(৭৭.২)
২৮.৪
(৮৩.১)
৩১.৫
(৮৮.৭)
৩৩.০
(৯১.৪)
২৯.৩
(৮৪.৭)
২৭.০
(৮০.৬)
২৬.২
(৭৯.২)
২৬.৬
(৭৯.৯)
২৫.৭
(৭৮.৩)
২৩.২
(৭৩.৮)
২১.৬
(৭০.৯)
২৬.৬৫
(৭৯.৯৭)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) গড় ১৪.৭
(৫৮.৫)
১৭.০
(৬২.৬)
২০.৩
(৬৮.৫)
২৪.১
(৭৫.৪)
২৬.০
(৭৮.৮)
২৩.৯
(৭৫)
২২.৫
(৭২.৫)
২২.০
(৭১.৬)
২১.৭
(৭১.১)
২০.০
(৬৮)
১৬.৪
(৬১.৫)
১৪.১
(৫৭.৪)
২০.২
(৬৮.৪)
সর্বনিম্ন °সে (°ফা) রেকর্ড ৬.১
(৪৩)
১১.৩
(৫২.৩)
১৪.৬
(৫৮.৩)
১৭.২
(৬৩)
১৭.৮
(৬৪)
১৮.৬
(৬৫.৫)
১৯.২
(৬৬.৬)
২০.০
(৬৮)
১৯.১
(৬৬.৪)
১৩.৩
(৫৫.৯)
১০.৬
(৫১.১)
৮.৫
(৪৭.৩)
৬.১
(৪৩)
বৃষ্টিপাত মিমি (ইঞ্চি) ৩.২
(০.১২৬)
৫.২
(০.২০৫)
১২.০
(০.৪৭২)
২১.০
(০.৮২৭)
৩৭.৩
(১.৪৬৯)
৯৬.১
(৩.৭৮৩)
১৬৩.৯
(৬.৪৫৩)
১৭১.১
(৬.৭৩৬)
১৮১.৫
(৭.১৪৬)
৯০.৯
(৩.৫৭৯)
১৬.২
(০.৬৩৮)
৬.১
(০.২৪)
৮০৪.৫
(৩১.৬৭৩)
আর্দ্রতা ৫৬ ৪৯ ৩৯ ৩৭ ৩৯ ৬১ ৭১ ৭৪ ৭২ ৬৩ ৫৮ ৫৭ ৫৬.৩
বৃষ্টিবহুল দিনের গড় .৩ .৪ .৯ ১.৮ ২.৭ ৭.৬ ১০.৬ ১০.১ ৮.৯ ৫.৭ ১.৬ .৪ ৫১.০
মাসিক গড় সূর্যালোকের ঘণ্টা ২৭৯.০ ২৭১.২ ২৬৩.৫ ২৭৩.০ ২৮২.১ ১৮০.০ ১৪২.৬ ১৩৬.৪ ১৬৮.০ ২২৬.৩ ২৪৬.০ ২৬৩.৫ ২,৭৩১.৬
উৎস #১: India Meteorological Department (1951–1980),[৩৭] NOAA of the USA (extremes, mean, humidity, 1971–1990)[৩৮]
উৎস #২: Hong Kong Observatory (sun only, 1971–1990)[৩৯] IMD • Hyderabad [৪০]

সরকার ও রাজনীতি[সম্পাদনা]

ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো তেলঙ্গানা রাজ্যেও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক পরিষদীয় ব্যবস্থা প্রচলিত। রাজ্যের অধিবাসীরা সর্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সরকারের তিনটি শাখা রয়েছে।

  1. সরকার পরিচালনার কার্যনির্বাহী ক্ষমতা মুখ্যমন্ত্রীর অধীনস্থ মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত। যদিও রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের আনুষ্ঠানিক প্রধান। রাজ্যপালকে নিয়োগ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শক্রমেই তিনি মন্ত্রিপরিষদকে নিয়োগ করেন। মন্ত্রিপরিষদ তাঁদের কাজকর্মের জন্য বিধানসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।
  2. তেলঙ্গানার আইনবিভাগ তেলঙ্গানা বিধানসভাতেলঙ্গানা বিধান পরিষদ নিয়ে গঠিত। এই দুই বিভাগের সদস্যরা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে নির্বাচিত করেন। তাঁরা সভার পৌরহিত্য করেন। আইনবিভাগ দ্বিকক্ষীয়। বিধানসভায় ১১৯ জন এবং বিধান পরিষদে ৪০ জন সদস্য আছে। বিধানসভার স্বাভাবিক মেয়াদ ৫ বছর। বিধান পরিষদ একটি স্থায়ী সংস্থা। এই সংস্থার এক-তৃতীয়াংশ সদস্য প্রতি দুই বছর অন্তর অবসর নেন।
  3. বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা হায়দ্রাবাদ হাইকোর্টের হাতে ন্যস্ত।

তেলঙ্গানার আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি হল তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি, তেলুগু দেশম পার্টিভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। ২০১৪ সালের তেলঙ্গানা বিধানসভার নির্বাচনে তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির কে. চন্দ্রশেখর রাও তেলঙ্গানার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

বিভাগ[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানার জেলাসমূহের মানচিত্র

নিচে তেলঙ্গানার দশটি জেলার তালিকা দেওয়া হল:

নাম সংক্ষেপ জেলা সদর জনসংখ্যা (২০১১)[৪১] আয়তন (বর্গকিলোমিটার) জনঘনত্ব (/বর্গকিলোমিটার)
AD আদিলাবাদ আদিলাবাদ ২,৭৩৭,৭৩৮ ১৬,১০৫ ১৭০
HY হায়দ্রাবাদ হায়দ্রাবাদ ৪,০১০,২৩৮ ১৮,৪৮০ ২১৭
KA করিমনগর করিমনগর ৩,৮১১,৭৩৮ ১১,৮২৩ ৩২২
KH খাম্মাম খাম্মাম ২,৭৯৮,২১৪ ১৬,০২৯ ১৭৫
MA মেহবুবনগর মেহবুবনগর ৪,০৪২,১৯১ ১৮,৪৩২ ২১৯
ME মেডক সঙ্গরেড্ডি ৩,০৩১,৮৭৭ ৯,৬৯৯ ৩১৩
NA নালগোন্ডা নালগোন্ডা ৩,৪৮৩,৬৪৮ ১৪,২৪০ ২৪৫
NI নিজামাবাদ নিজামাবাদ ২,৫৫২,০৭৩ ৭,৯৫৬ ৩২১
RA রঙ্গারেড্ডি হায়দ্রাবাদ ৫,২৯৬,৩৯৬ ৭,৪৯৩ ৭০৭
WA ওয়ারাঙ্গল হানামকোন্ডা ৩,৫২২,৬৪৪ ১২,৮৪৬ ২৫২

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানায় ধর্মবিশ্বাস
ধর্ম শতাংশ
হিন্দুধর্ম
  
৮৬%
ইসলাম
  
১২.৪%
খ্রিস্টধর্ম
  
১.২%
অন্যান্য
  
০.৪%

অনগ্রসর অঞ্চল অনুদান তহবিল ২০০৯-১০ অনুসারে, পূর্বতন অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে ১৩টি অনগ্রসর জেলা ছিল। তার মধ্যে বর্তমান তেলঙ্গানার হায়দ্রাবাদ জেলা ছাড়া বাকি নয়টি জেলাই অন্তর্ভুক্ত ছিল।[৪২]

তেলঙ্গানার অধিবাসীদের ৮৬ % হিন্দু, ১২.৪% মুসলমান, ১.২ % খ্রিস্টান ও ০.৪% অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।[৪৩]

তেলঙ্গানার অধিবাসীদের ৭৬ % তেলুগু ভাষায় কথা বলেন। ১২ % উর্দুতে এবং ১২ % অন্যান্য ভাষায় কথা বলেন।[৪৪][৪৫] ১৯৪৮ সালের আগে উর্দু ছিল হায়দ্রাবাদ রাজ্যের সরকারি ভাষা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সেই সময় তেলুগু ভাষায় শিক্ষার সুবন্দোবস্ত না থাকায়, তেলঙ্গানা অঞ্চলের সম্ভ্রান্ত শিক্ষিত মহলের ভাষা হিসেবে উর্দুই প্রচলিত ছিল। ১৯৪৮ সালের পর হায়দ্রাবাদ ভারতে যোগ দিলে, তেলুগু সরকারি ভাষার মর্যাদা পায়। তারপর বিদ্যালয় ও কলেজগুলিতে তেলুগু মাধ্যমে শিক্ষা প্রচলিত হলে, অমুসলমানদের মধ্যে উর্দু শিক্ষার প্রবণতা কমে যায়।[৪৬]

২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে, তেলঙ্গানার সাক্ষরতার হার ৬৭.২২ %।[৪৭] পুরুষ ও মহিলা সাক্ষরতার হার যথাক্রমে ৭৫.৬% ও ৫৮.৭৭%। সাক্ষরতার হার সর্বাধিক হায়দ্রাবাদ জেলায় (৮০.৯৬%) এবং সর্বনিম্ন মেহবুবনগর জেলায় (৫৬.০৬%)।[৪৮]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটটি বিশ্বজনীন। কারণ, এই অঞ্চলে ভারত ও বহির্ভারতের নানা অঞ্চলের মানুষ বসবাস করেন। দক্ষিণ ভারতীয় প্রথা ও রীতিনীতিগুলি এখানে প্রধান। তবে মুঘল ও নিজাম শাসনে কিছু কিছু পারস্য প্রথাও এখানে চালু হয়েছিল।

শিল্প ও সাহিত্য[সম্পাদনা]

খাম্মাম জেলার ভদ্রাচলমে একটি মন্দিরে রামের চিত্রকলা।

তেলঙ্গানার অধিবাসী কবি পোতানা শ্রীমদ্‌ অন্ধ্র মহা ভাগবতমু (ভাগবত পুরাণ-এর তেলুগু অনুবাদ) রচনা করেছিলেন।[৪৯] মহম্মদ কুলি কুতুব শাহ ছিলেন প্রথম সাহেব-এ-দেওয়ান উর্দু কবি।[৫০] তেলঙ্গানার প্রথম যুগের অন্যান্য কবিরা হলেন কাঞ্চেরলা গোপান্না বা ভক্ত রামদাসু, গোনা বুদ্দা রেড্ডি, পালকুরিকি সোমনাথ, মল্লিনাথ সূরি ও হুলুক্কি ভাস্কর। আধুনিক কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদ্মবিভূষণ সম্মান-প্রাপ্ত কালোজি নারায়ণ রাও, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার-প্রাপক দাশরথি কৃষ্ণমারার‍্যুলু, বাচস্পতি পুরস্কার-প্রাপক শ্রীভাষ্যম বিজয়সারথি ও জ্ঞানপীঠ পুরস্কার-প্রাপক সি. নারায়ণ রেড্ডি। ভারতের নবম প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি।[৫১]

খাদ্যাভ্যাস[সম্পাদনা]

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি

তেলঙ্গানায় দুই ধরনের খাদ্য প্রচলিত - তেলুগু খাদ্য ও হায়দ্রাবাদি খাদ্য। তেলুগুখাদ্যগুলি দক্ষিণ ভারতীয় খাদ্যের অন্তর্গত। এগুলি অত্যন্ত মশলাদার খাদ্য। হায়দ্রাবাদি খাদ্য হল আরব, মোগলাই, তেলুগুতুর্কি খাদ্যের সংমিশ্রণ। কুতুব শাহি রাজবংশ ও নিজামের শাসনকালে এই খাদ্য প্রচলন লাভ করেছিল। চাল, আটা, মাংস, নানারকম মশলা ও শাকসবজি এই খাদ্যের প্রধান উপাদান।[৫২][৫৩]

উৎসব[সম্পাদনা]

বাতুকাম্মা পুষ্পসজ্জা

তেলঙ্গানা রাজ্যে একাধিক উৎসব পালিত হয়। ধর্মীয় উৎসবগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বোনালু (হিন্দু দেবী মহাকালীর পূজা), বাতুকাম্মা (হিন্দু দেবী মহাগৌরীর পূজা), সাম্মাক্কা সরলাম্মা জাতারা (আদিবাসী দেবীদের পূজা) ও এদুপায়ালা জাতারা (মেডকে শিবরাত্রির দিন উৎযাপিত এক উৎসব)। এছাড়া দশেরা, গণেশ চতুর্থী, উগাড়ি (দক্ষিণ ভারতের নববর্ষ উৎসব), দীপাবলি, সংক্রান্তি ইত্যাদিও পালিত হয়। তেলঙ্গানার মুসলমানেরা পালন করে ইদুল-ফিতর, বকরিদ, মহরমমাওলিদ। খ্রিস্টানরা বড়দিনগুড ফ্রাইডে পালন করেন।[৫৪]

খনিজ সম্পদ[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানার ভূগর্ভে প্রচুর পরিমাণে কয়লা সঞ্চিত আছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বৃহৎ শিল্পের প্রয়োজনে এই কয়লা উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছে সিঙ্গারেনি কোলিয়ারিজ কোম্পানি।[৫৫] এই রাজ্যের খনিজ চুনাপাথর সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহৃত হয়। তেলঙ্গানায় বক্সাইট ও মাইকাও পাওয়া যায়। কোঠাগুদেম, জাম্মাইকুন্টাপালওয়াঞ্চা হল রাজ্যের প্রধান শিল্প শহরগুলির অন্যতম।

পরিবহণ[সম্পাদনা]

সেকেন্দ্রাবাদ রেল স্টেশন, দক্ষিণ মধ্য রেলের প্রধান কার্যালয়
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

সড়কপথ[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানা রাজ্য সড়ক পরিবহণ সংস্থা হল রাজ্যের প্রধান সরকারি পরিবহণ সংস্থা।[৫৬] হায়দ্রাবাদের মহাত্মা গান্ধী বাস স্টেশন হল এশিয়ার বৃহত্তম বাসস্টত্যান্ডগুলির একটি।[৫৭] সেকেন্দ্রাবাদের জুবিলি বাস স্টেশন আন্তঃমহানগরীয় বাস পরিষেবার কাজে ব্যবহৃত হয়। হায়দ্রাবাদের মিয়াপুরে তৈরি হচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তম ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাস।[৫৮]

রেলপথ[সম্পাদনা]

তেলঙ্গানা অঞ্চলে রেলপথ স্থাপিত হয়েছিল ১৮৭৪ সালে।[৫৯] ১৯৬৬ সাল থেকে এটি ভারতীয় রেলের দক্ষিণ মধ্য রেল অঞ্চলের অন্তর্গত। সেকেন্দ্রাবাদের রেল নিলয়ম এই অঞ্চলের প্রধান কার্যালয়। দক্ষিণ মধ্য রেলের প্রধান বিভাগদুটি হল হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদ।[৬০]

বিমানবন্দর[সম্পাদনা]

রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল হায়দ্রাবাদ শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি ২০০৯ ও ২০১০ সালে ৫-১৫ মিলিয়ন যাত্রী বিভাগে বিশ্বের এক নম্বর বিমানবন্দর পুরষ্কার পেয়েছে।[৬১] এটিই রাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দর ও সারা দেশের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। বর্তমানে সরকার ওয়ারাঙ্গল, নিজামাবাদ, করিমনগর, রামাগুন্ডামকোঠাগুদেম শহরেও বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।[৬২]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "Telangana number plates to bear TG registration"Deccan Chronicle। May 13, 2014। সংগৃহীত June 2, 2014 
  2. K V Kurmanath। "Telangana govt, depts to have new web addresses"The Hindu Business Line। সংগৃহীত 2014-06-03 
  3. "Notification" (PDF)। The Gazette of India। Government of India। 4 March 2014। সংগৃহীত 4 March 2014 
  4. "Telangana will be 29th state, Hyderabad to be common capital for 10 years"The Times of India। 30 July 2013। 31 July 2013-এ মূল থেকে আর্কাইভ 
  5. "POPULATION"। Govt of Andhra Pradesh। সংগৃহীত 30 May 2014 
  6. History of Kannada language: readership lectures, By R. Narasimhacharya
  7. "A grammar of the Teloogoo language, commonly termed the Gentoo, peculiar to the Hindoos inhabiting the north eastern provinces of the Indian peninsula(page iii)"Alexander Duncan Campbell। Sashachellum, 1816। সংগৃহীত 10 October 2012 
  8. "India Today Encyclopedia, An encyclopedia of life in the republic, Vol 1"Arnold P Kaminsky। Library of Congress Cataloging-in-Publication data। 
  9. Sri Marana Markandeya Puranamu, ed. G. V. Subrahmanyam, 1984, Andhra Pradesh Sahitya Academy, Hyderabad.
  10. "Antiquities unearthed at Kotilingala"The Hindu। সংগৃহীত 17 January 2013 
  11. The Rough Guide to India। Penguin। 2011। Rise of the south section। 
  12. ১২.০ ১২.১ ১২.২ ১২.৩ Ratnakar Sadasyula (4 March 2014)। "A brief history of Telangana and Andhra Pradesh"। DNA। সংগৃহীত 2 June 2014 
  13. Penta Sivunnaidu (2004)। Kākati Ganapatideva and His Times, A.D. 1199–1262। Kalpaz Publications। 
  14. A Social History of the Deccan: 1300–1761, R. M. Eaton, 2005, Cambridge University Press, pp. 15–26, ISBN 0-521-25484-1
  15. Telugu Vignana Sarvaswamu, Volume 2, History, Telugu University, Hyderabad
  16. Richards, J. F. (1975)। "The Hyderabad Karnatik, 1687–1707"Modern Asian Studies (Cambridge University Press) 9 (2): 241–260। ডিওআই:10.1017/S0026749X00004996। সংগৃহীত 20 April 2012 
  17. ১৭.০ ১৭.১ "Asif Jahi Dynasty (1724–1948)"। mahabubnagar.tripod.com। সংগৃহীত 2 June 2014 
  18. "Post-Independence Era"। Associated Press। সংগৃহীত 2 June 2014 
  19. "Mulki agitation in Hyderabad State"। The Hindu। সংগৃহীত 3 June 2014 
  20. ২০.০ ২০.১ "Post-Independence Era"। Government of Andhra Pradesh। সংগৃহীত 14 September 2010 
  21. "After Sriramulu, Andhra State"The Hindu। 18 December 2002। সংগৃহীত 3 June 2014 
  22. Elliot, Carolyn M. (November 1974)। "Decline of a Patrimonial Regime: The Telangana Rebellion in India, 1946–51"Journal of Asian Studies 34 (1): 24–47। ডিওআই:10.2307/2052408 
  23. "Declassify report on the 1948 Hyderabad massacre"। সংগৃহীত 25 September 2013 
  24. "India • Communist Parties"। Country Studies, USA। সংগৃহীত 3 June 2014 
  25. "History of India"। Indian Saga। সংগৃহীত 3 June 2014 
  26. "SRC sub committee said no decision on Visalandhra taken"The Indian Express (Google news archive)। 1 February 1956। সংগৃহীত 3 June 2014 
  27. "Andhra Pradesh to be formed with safeguards to Telangana"The Hindu। 7 March 2006। সংগৃহীত 3 June 2014 
  28. "Andhra Pradesh formed"The Hindu। 2 November 2006। সংগৃহীত 3 June 2014 
  29. "How Telangana movement has sparked political turf war in Andhra"Rediff.com। 5 October 2011। সংগৃহীত 19 February 2012 
  30. "Pro-Telangana AP govt employees threaten agitation"The Economic Times। 10 February 2012। সংগৃহীত 18 February 2012 
  31. "Creation of a new state of Telangana by bifurcating the existing State of Andhra Pradesh"। Home ministry, government of India। সংগৃহীত 3 October 2013 
  32. "Telangana bill passed by upper house"The Times of India। সংগৃহীত 20 February 2014 
  33. "The Andhra Pradesh reorganisation act, 2014"। Ministry of law and justice, government of India। সংগৃহীত 3 March 2014 
  34. "Telangana is born, KCR to take oath as its first CM"India Today। 2 June 2014। সংগৃহীত 2 June 2014 
  35. Amid chaos and slogans, Rajya Sabha clears Telangana bill – NDTV, 20 Feb 2014
  36. "Factfile on Telangana"। indiatoday.intoday.in। 30 July 2013। সংগৃহীত 8 December 2013 
  37. "Hyderabad"। India Meteorological Department। সংগৃহীত 30 May 2010 
  38. "Hyderabad climate normals 1971–1990"National Oceanic and Atmospheric Administration of the USA। সংগৃহীত December 24, 2012 
  39. "Climatological information for Hyderabad, India"Hong Kong Observatory। সংগৃহীত 5 May 2011 
  40. "IMD • Hyderabad"। India Meteorological Department - Hyderabad Center। সংগৃহীত 28 May 2013 
  41. Census, provisional। "AP districts census 2011"। সংগৃহীত 13 May 2014 
  42. "BRGF District"। panchayat.gov.in। সংগৃহীত 14 September 2010 
  43. "Region-wise distribution of religious groups 2001" (PDF)। Table 7.2 in page 381 of SKC report। সংগৃহীত 3 June 2014 
  44. "Region-wise distribution of religious groups 2001" (PDF)। Table 7.3 in page 393 of SKC report। সংগৃহীত 3 June 2014 
  45. "Urdu in Andhra Pradesh"। Language in India। সংগৃহীত 22 January 2013 
  46. "Census of India – Distributions of 10,000 persons by language"। www.censusindia.gov.in। সংগৃহীত 14 September 2010  – People not interested in dividing Andra Pradesh. টেমপ্লেট:Cit
  47. "T-party today: India’s 29th state Telangana is born"The Times of India। সংগৃহীত 3 June 2014 
  48. "Literacy of Rural – Urban (Andhra Pradesh)"। Government of India। সংগৃহীত 9 May 2014 
  49. "Pothana's land identified in Bammera"The Hindu। 20 September 2010। সংগৃহীত 2 June 2014 
  50. "A Sheikh's tryst with Urdu poetry"The Hindu। 2 May 2010। সংগৃহীত 2 June 2014 
  51. "Sahitya Akademi award for Samala Sadasiva"The Times of India। 22 December 2011। সংগৃহীত 2 June 2014 
  52. Sanjeev Kapoor; Harpal Singh Sokhi (2008)। Royal Hyderabadi CookingPopular Prakashan। পৃ: 3। আইএসবিএন 978-81-7991-373-4। সংগৃহীত 8 December 2013 
  53. Karen Isaksen Leonard (2007)। Locating Home: India's Hyderabadis Abroad। Stanford University Press। পৃ: 14। আইএসবিএন 978-0-8047-5442-2। সংগৃহীত 8 December 2013 
  54. "Telangana Festivals"। Triangle Telangana। সংগৃহীত 2 June 2014 
  55. "Introduction"। Singareni Collieries Company। সংগৃহীত December 2013 
  56. "It will be TGSRTC from June 2"The Hindu। 16 May 2014। সংগৃহীত 2 June 2014 
  57. "Andhra Pradesh • Natural Advantages"। Governement of Andhra Pradesh। 3 April 2009-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত 3 March 2009 
  58. "Miyapur bus terminal"The Times of India। 20 April 2014। 
  59. "History"। South Central railway। সংগৃহীত 11 June 2014 
  60. "History"। South Central Railway। সংগৃহীত 2 June 2014 
  61. "Rajiv Gandhi International Airport among top in the world"The Times of India। 16 February 2011। সংগৃহীত 2 June 2014 
  62. "About Andhra Pradesh"। Hyderabadi search। সংগৃহীত 2 June 2014 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]