পাকিস্তান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
اسلامی جمہوریۂ پاکستان
ইস্‌লামী জুম্‌হূরিয়াতে পাকিস্তান্‌
ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান
পাকিস্তান-এর পতাকা পাকিস্তান-এর রাষ্ট্রীয় এমব্লেম
নীতিবাক্য
ইত্তেহাদ, তানজিম, ইয়াক্বিন-ই-মুহ্‌কাম  (উর্দূ)
"একতা, নিয়মানুবর্তিতা ও বিশ্বাস"
জাতীয় সঙ্গীত
কোয়ামি তারানা
রাজধানী ইসলামাবাদ
33°40′N 73°10′E / 33.667°উ 73.167°পূ / 33.667; 73.167
বৃহত্তম শহর করাচি
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ উর্দু, ইংরেজি
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র
 -  রাষ্ট্রপতি আসিফ জারদারি
 -  প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ গিলানী
গঠন
 -  স্বাধীনতা যুক্তরাজ্য থেকে 
 -  ঘোষিত আগস্ট ১৪ ১৯৪৭ 
 -  ইসলামী প্রজাতন্ত্র মার্চ ২৩ ১৯৫৬ 
আয়তন
 -  মোট ৮০৩,৯৪০ বর্গকিমি (৩৬তম)
৩৪০,৪০৩ বর্গমাইল 
 -  জলভাগ (%) ৩.১
জনসংখ্যা
 -  ২০০৭ আনুমানিক ১৫৬,৭৭০,০০০[১] (৬ষ্ঠ)
 -  ঘনত্ব ২০৬ /বর্গকিমি (৫৩তম)
৫৩৪ /বর্গমাইল
জিডিপি (পিপিপি) ২০০৭ আনুমানিক
 -  মোট $৪৭৫.৬ বিলিয়ন (২৫তম)
 -  মাথাপিছু $৩,০০৪.৫ (১২৮তম)
জিনি (২০০২) ৩০.৬ (মধ্যম
এইচডিআই (২০০৬) ০.৫৩৯ (মধ্যম) (১৩৪তম)
মুদ্রা রুপি (Rs.) (পিকেআর)
সময় স্থান পিএসটি (ইউটিসি+৫)
 -  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি) পর্যবেক্ষণ করা হয় না (ইউটিসি+৬)
ইন্টারনেট টিএলডি .পিকে
কলিং কোড ৯২
আজাদ কাশ্মীর এবং উত্তরাঞ্চলসমূহ ধরা হয়নি।

পাকিস্তান তথা ইসলামী প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান (উর্দু ভাষায়: اسلامی جمہوریۂ پاکستان ইস্‌লামী জুম্‌হূরিয়াতে পাকিস্তান্‌) দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি দেশ। দেশটি দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। পাকিস্তান ভারতীয় উপমহাদেশের অংশ। দেশটির প্রায় হাজার কিলোমিটার লম্বা সৈকতরেখা আছে। এর দক্ষিণদিকে (আরব সাগর)। পশ্চিমে রয়েছে আফগানিস্তানইরান, পূর্বে ভারত, এবং উত্তর-পূর্বে চীনের তিব্বতশিঞ্চিয়াং এলাকাগুলো। ইসলামাবাদ পাকিস্তানের রাজধানী। করাচি দেশটির বৃহত্তম শহর।

বর্তমান পাকিস্তান এলাকাটিতে ২৫শ থেকে ১৭শ খ্রিস্টপূর্ব শতাব্দী যাবৎ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা, সিন্ধু অববাহিকার সভ্যতা, বিরাজমান ছিল। ১৫২৬ থেকে ১৮শ শতক পর্যন্ত এলাকাটি মুঘল সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। এরপর এটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আচে। ১৯৪৭ সালের আগস্টে এলাকাটি পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের পশ্চিম অংশ হিসেবে স্বাধীনতা লাভ করে। দেশের অন্য অংশ পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ভূমিস্বত্ব সংস্কারের মাধ্যমে জমিদার ব্যবস্থা রদ করা হয়।(Baxter[৬], p. 72) কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও জনসংখ্যাগত গুরুত্ব সত্ত্বেও পাকিস্তানের সরকার ও সেনাবাহিনী পশ্চিম পাকিস্তানীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে বৈরীতার প্রথম লক্ষণ হিসাবে প্রকাশ পায়। (Baxter[৬], pp. 62—63) পরবর্তী দশক জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নেয়া নানা পদক্ষেপে পূর্ব পাকিস্তানে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। এসময় বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসাবে আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটে, এবং দলটি বাঙালি জাতির প্রধান রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি ৬ দফা আন্দোলনের সূচনা ঘটে যার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বাধিকার আদায়। আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে কারাবন্দী করা হয়। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চাপিয়ে আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় ; কিন্তু ঊনসত্তরের তুমুল গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার পতন ঘটে এবং মুজিব মুক্তি পান। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ১১ নভেম্বর এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটে। এ সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার অসহযোগিতা ও ঔদাসীন্য প্রকট হযে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করতে থাকে। (Baxter[৬], pp. 78—79) মুজিবের সাথে গোলটেবিল বৈঠক সফল না-হওয়ার পর পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জেনারেল ইয়াহিয়া খান ২৫শে মার্চ গভীর রাতে মুজিবকে গ্রেপ্তার করেন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসাবে বাঙালিদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ শুরু করে।[৯] পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর এই নারকীয় হামলাযজ্ঞে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।[১০] সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় দালালদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী। গণহত্যা থেকে নিস্তার পেতে প্রায় ১ কোটি মানুষ দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। (LaPorte [১১] , p. 103) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোট জীবনহানির সংখ্যার হিসাব কয়েক লাখ হতে শুরু করে ৩০ লাখ পর্যন্ত অনুমান করা হয়েছে।[১২] [১৩] আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁরা ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। এর প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ৯ মাস পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিরূদ্ধে লড়াই করে। মুক্তি বাহিনী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভারতের সহায়তায় ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে পরাভূত করে। মিত্রবাহিনী প্রধান জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান জেনারেল নিয়াজী ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পন করেন। প্রায় ৯০,০০০ পাকিস্তানী সেনা যুদ্ধবন্দী হিসাবে আটক হয়; যাদেরকে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।[১৪] ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র বাংলাদেশ গঠন করে।

পরিচ্ছেদসমূহ

নামকরন [সম্পাদনা]

ফার্সি, সিন্ধি, ও উর্দু ভাষায়, "পাকিস্তান" নামটির অর্থ "পবিত্রদের দেশ"। নামটি আসে পাকিস্তানের তৎকালীন পশ্চিম অংশের পাঁচটি রাজ্যের নাম থেকে:

প - পাঞ্জাব
আ - আফগানিয়া (নর্থ-ওয়েস্ট ফ্রন্টির প্রভিন্স)
ক - কাশ্মীর
স - সিন্ধ
তান - বালুচিস্তান

১৯৩৪ সালে চৌধুরী রহমত আলী তাঁর "নাও অর নেভার" (Now or Never) পুস্তিকায় এই নামটির প্রস্তাব রাখেন, । [২]

ইতিহাস [সম্পাদনা]

‍১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভাজনের মাধ্যমে ভারতপাকি‍স্তান এ দুটি দেশের জ‌ন্ম হয়।

রাজনীতি [সম্পাদনা]

পাকিস্তানের রাজনীতি বর্তমানে একটি অর্ধ-রাষ্ট্রপতিশাসিত যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়, যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা প্রধানত আইনসভার উপর ন্যস্ত।

২০০৮ সাল থেকে পাকিস্তানের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হলেন আসিফ আলি জারদারি। আর একই সাল থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হলেন ইউসাফ রাজা গিলানি।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ [সম্পাদনা]

মুলত পাকিস্তান একটি বেলাগাম দেশ ।

ভূগোল [সম্পাদনা]

পাকিস্তানকে তিনটি প্রধান ভৌগোলিক অঞ্চলে ভাগ করা যায়: উত্তরের উচ্চভূমি, সিন্ধু নদের অববাহিকা (যেটিকে পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে উপবিভক্ত করা যায়) এবং বেলুচিস্তান মালভূমি।

অর্থনীতি [সম্পাদনা]

জনসংখ্যা [সম্পাদনা]

ভাষাসমূহ [সম্পাদনা]

পাকিস্তানে প্রচলিত ভাষাসমূহ
ইন্দো-আর্য ভাষা

██  পাঞ্জাবি

██  সিন্ধি

ইরানীয় ভাষা

██  পশতু

██  বেলুচি

দ্রাবিড় ভাষা

██  ব্রাহুই

দার্দীয় ভাষা

██  খোওয়ার

██  শিনা

চীনা-তিব্বতী ভাষা

██  বাল্টি

বিচ্ছিন্ন ভাষা

██  বুরুশাস্কি

পাকিস্তানের সরকারী ভাষা ইংরেজি এবং জাতীয় ভাষা উর্দু। এছাড়াও দেশটিতে পাঞ্জাবি, সিন্ধি, সারাইকি, পশতু, বেলুচি, ব্রাহুই, ইত্যাদি ভাষা প্রচলিত। প্রায় সব ভাষাই ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের বিভিন্ন শাখার অন্তর্গত। উর্দু, পাঞ্জাবি ও সিন্ধি -আর্য ভাষাসমূহ, পশতু ও বেলুচি ইরানীয় ভাষাসমূহ, ব্রাহুই দ্রাবিড় ভাষাসমূহের অন্তর্গত। এছাড়া উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে বিভিন্ন দার্দীয় ভাষা যেমন খোওয়ার ও শিনা প্রচলিত।

জাতীয় পতাকা [সম্পাদনা]

FIAV 011000.svg অনুপাত: ২:৩

পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার নকশা প্রণয়ন করেন সৈয়দ আমিরুদ্দিন কেদোয়াই। এই নকশাটি অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের ১৯০৬ সালের পতাকার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। পাকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করার ৩ দিন আগে ১৯৪৭ সালের ১১ই আগস্ট তারিখে এই পতাকাটির নকশা গৃহীত হয়।

পতাকাটিকে পাকিস্তানে সাব্‌জ হিলালি পারচাম বলা হয়। উর্দু ভাষার এই বাক্যটির অর্থ হলো "নতুন চাঁদ বিশিষ্ট সবুজ পতাকা"। এছাড়াও এটাকে "পারচাম-ই-সিতারা আও হিলাল" অর্থাৎ "চাঁদ ও তারা খচিত পতাকা" বলা হয়ে থাকে।

তাৎপর্য [সম্পাদনা]

পতাকাটির খুঁটির বিপরীত দিকের গাঢ় সবুজ অংশটি ইসলাম ধর্মের প্রতীক। খুঁটির দিকে সাদা অংশ রয়েছে, যা পাকিস্তানে বসবাসরত সংখ্যালঘু অমুসলিমদের প্রতীক। পতাকার মধ্যস্থলে রয়েছে একটি সাদা নতুন চাঁদ, যা প্রগতির প্রতীক; এবং একটি পাঁচ কোনা তারকা, যা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের প্রতীক।

আকার ও ব্যবহার [সম্পাদনা]

আকার [সম্পাদনা]

  • বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য. ২১' x ১৪', ১৮' x ১২', ১০' x ৬-২/৩' বা ৯' x ৬ ১/৪.
  • ভবনে ব্যবহারের জন্য. ৬' x ৪' or ৩' x ২'.
  • গাড়িতে ব্যবহারের জন্য ১২" x ৮".
  • টেবিলে ব্যবহারের জন্য ৬ ১/৪" x ৪ ১/৪".

যেসব অনুষ্ঠানে পতাকা উড্ডয়ন করা হয় [সম্পাদনা]

যেসব দিনে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় [সম্পাদনা]

সংস্কৃতি [সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]

  1. Estimate of Pakistan Economic Survey of 2006-2007, prepared by the Ministry of Finance
  2. Text of the Now or Never pamphlet, issued on January 28, 1933

আরও দেখুন [সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]