মহাভারত

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ; পুথিচিত্র
কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণঅর্জুন; অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর চিত্রকলা

মহাভারত (সংস্কৃত: महाभारत) সংস্কৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন ভারতের দুটি প্রধান মহাকাব্যের অন্যতম (অপরটি হল রামায়ণ)। এই মহাকাব্যটি হিন্দুশাস্ত্রের ইতিহাস অংশের অন্তর্গত।

মহাভারত-এর মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরবপাণ্ডবদের গৃহবিবাদ এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি। তবে এই আখ্যানভাগের বাইরেও দর্শনভক্তির অধিকাংশ উপাদানই এই মহাকাব্যে সংযোজিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ধর্ম, অর্থ, কামমোক্ষ – এই চার পুরুষার্থ-সংক্রান্ত একটি আলোচনা (১২।১৬১) সংযোজিত হয়েছে এই গ্রন্থে। মহাভারত-এর অন্তর্গত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা ও উপাখ্যানগুলি হল ভগবদ্গীতা, দময়ন্তীর উপাখ্যান, রামায়ণ-এর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠান্তর ইত্যাদি। এগুলিকে মহাভারত-রচয়িতার নিজস্ব সৃষ্টি বলে মনে করা হয়।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাভারত-এর রচয়িতা ব্যাসদেব। অনেক গবেষক এই মহাকাব্যের ঐতিহাসিক বিকাশ ও রচনাকালীন স্তরগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। অধুনা প্রাপ্ত পাঠটির প্রাচীনতম অংশটি মোটামুটি ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ রচিত হয়।[১] মহাভারতের মূলপাঠটি তার বর্তমান রূপটি পরিগ্রহ করে গুপ্তযুগের প্রথমাংশে (খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী)।[২] মহাভারত কথাটির অর্থ হল ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। গ্রন্থেই উল্লিখিত হয়েছে যে ভারত নামে ২৪,০০০ শ্লোকবিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্রতর আখ্যান থেকে মহাভারত মহাকাব্যের কাহিনিটি বিস্তার লাভ করে।[৩]

মহাভারত-এ এক লক্ষ শ্লোক ও দীর্ঘ গদ্যাংশ রয়েছে। এই মহাকাব্যের শব্দসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ। মহাভারত মহাকাব্যটির আয়তন ইলিয়াডওডিসি কাব্যদ্বয়ের সম্মিলিত আয়তনের দশগুণ এবং রামায়ণ-এর চারগুণ।[৪][৫]

রচনার ইতিহাস ও গঠন[সম্পাদনা]

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ব্যাসদেব এই মহাকাব্যের রচয়িতা। তিনি এই আখ্যানকাব্যের অন্যতম চরিত্রও বটে। মহাভারত-এর প্রথম অংশের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যাসদেবের অনুরোধে তাঁর নির্দেশনা মতো গণেশ এই মহাকাব্য লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব নেন। গণেশ একটি শর্তে এই কাজে রাজি হয়েছিলেন। তাঁর শর্ত ছিল ব্যাস একবারও না থেমে সমগ্র মহাকাব্যটি আবৃত্তি করবেন। ব্যাস রাজি হন, কিন্তু তিনিও পাল্টা শর্ত দেন যে গণেশও প্রতিটি শ্লোকের অর্থ না বুঝে লিপিবদ্ধ করতে পারবেন না।

মহাভারত মহাকাব্যটি গল্পের মধ্য গল্প শৈলীতে রচিত। এই শৈলী ভারতের অনেক ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ রচনার বৈশিষ্ট্য। অর্জুনের প্রপৌত্র জনমেজয়ের নিকট এই কাহিনি পাঠ করে শোনান ব্যাসদেবের শিষ্য বৈশম্পায়ন। অনেক বছর পরে, জনমেজয়ের নিকট বৈশম্পায়নের এই মহাভারত কথনের ঘটনাটি পেশাদার কথক উগ্রশ্রবা সৌতি কর্তৃক ঋষিদের একটি যজ্ঞসমাবেশে কথিত হয়।

সংক্ষিপ্ত কাহিনি[সম্পাদনা]

কাহিনীর শুরু প্রকৃতপক্ষে ভরত রাজার সময় থেকে। কিন্তু বহু পুস্তকে রাজা শান্তনুর সময় থেকে কাহিনী শুরু করা হয়। পিতৃসত্য পালনের জন্য শান্তনুর পুত্র দেবব্রত আজীবন বিবাহ করেন নি ও রাজসিংহাসনে বসেন নি। এই ভীষণ প্রতিজ্ঞান জন্য তাঁকে ভীষ্ম বলা হয়। ভীষ্মের কণিষ্ঠ ভ্রাতা বিচিত্রবীর্য রাজত্ব চালান তাঁর ছিল দুই পুত্র - ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু। জ্যেষ্ঠ ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ হওয়ায় পাণ্ডু রাজা হন। কিন্তু পাণ্ডুর অকালমৃত্যুর পর রাজত্ব ধৃতরাষ্ট্রের তত্বাবধানে আসে। সেখান থেকেই শুরু হয় মহাভারতের মহাবিরোধ। কে রাজা হবেন - পাণ্ডুর পুত্র, না ধৃতরাষ্ট্রের ? শুরু হয় হিংসা, ষড়যন্ত্র, কপট দ্যূতক্রীড়া বনবাস ইত্যাদি । কাহিনীর পরিণতি অষ্টাদশদিবসব্যাপী এক সংহারক যুদ্ধ - যাতে ভারতবর্ষের বহু রাজার প্রাণ যায় । মৃত্যু হয় ধৃতরাষ্টের জ্যেষ্ঠপুত্র দুর্যোধন সহ মোট শতপুত্রের। শেষে রাজত্ব পান জ্যেষ্ঠ পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠির। সমস্ত কাহিনীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মুখ্য চালকের ভূমিকায় থাকেন। এই কাহিনীর আধ্যাত্মিক সারাংশ হল ধর্মের জয় ও অধর্মের নাশ।

চরিত্র সমূহ[সম্পাদনা]

পাণ্ডব শিবির[সম্পাদনা]

পঞ্চপাণ্ডব (যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেব), এদের মা কুন্তি (বাবা পাণ্ডু যুদ্ধের বহু পূর্বে বিগত, নকুল, সহদেব-এর মা মাদ্রী সহমৃতা।) স্ত্রী দ্রৌপদী। পুত্র অভিমন্যু, ঘটোত্কচ, শিখণ্ডী, কৃষ্ণ

কৌরব শিবির[সম্পাদনা]

দুর্যোধন, দুঃশাসন ইত্যাদি ভাইরা, (পিতা ধৃতরাষ্ট্র রাজধানীতে থেকে সঞ্জয়ের মুখে বর্ণনা শুনছিলেন ও মন্ত্রী বিদুরের সহাতায় রাজ্য চালনা করছিলেন, সেখানে আরো ছিলেন এদের বোন দুঃশলা, মা গান্ধারী), মামা শকুনি। পিতামহ ভীষ্ম, গুরু দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য, কর্ণ, অশ্বথামা, শল্য

অন্যান্য চরিত্র[সম্পাদনা]

একলব্য, চিত্রাঙ্গদা, হিড়িম্বা,

কুরু পরিবারের বংশতালিকা[সম্পাদনা]

 
 
 
 
 
 
কুরু রাজবংশ
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
গঙ্গা
 
শান্তনু
 
সত্যবতী
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
পরাশর
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
ভীষ্ম
 
 
 
চিত্রাঙ্গদ
 
 
 
অম্বিকা
 
বিচিত্রৱীর্য়
 
অম্বালিকা
 
 
 
বেদব্যাস
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
ধৄতরাষ্ট্র
 
গান্ধারী
 
শকুনী
 
 
 
 
কুন্তী
 
পাণ্ডু
 
মাদ্রী
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
কর্ণ
 
যুধিষ্ঠির
 
ভীম
 
অর্জুন
 
সুভদ্রা
 
নকুল
 
সহদেব
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
দুর্যোধন
 
দুঃশলা
 
দুঃশাসন
 
(৯৮ জন পুত্র)
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
অভিমন্যু
 
উত্তরা
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
পরীক্ষিৎ
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
জন্মেজয়

প্রতীকসমুহের কী

  • পুরুষ: নীল সীমানা
  • মহিলা: লাল সীমানা
  • পান্ডব: সবুজ বাক্স
  • কৌরব: লাল বাক্স

নোট

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Brockington (1998, p. 26)
  2. Van Buitenen; The Mahabharata - 1; The Book of the Beginning. Introduction (Authorship and Date)
  3. bhārata means the progeny of Bharata, the legendary king who is claimed to have founded the Bhāratavarsha kingdom.
  4. Spodek, Howard. Richard Mason. The World's History. Pearson Education: 2006, New Jersey. 224, 0-13-177318-6
  5. Amartya Sen, The Argumentative Indian. Writings on Indian Culture, History and Identity, London: Penguin Books, 2005.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Chaturvedi Badrinath, The Mahabharata : An Inquiry in the Human Condition, New Delhi, Orient Longman (2006)
  • Bandyopadhyaya, Jayantanuja (2008). Class and Religion in Ancient India. Anthem Press.
  • Basham, A. L. (1954)। The Wonder That Was India: A Survey of the Culture of the Indian Sub-Continent Before The Coming of the Muslims। New York: Grove Press। 
  • J. Brockington, The Sanskrit Epics, Leiden (1998).
  • Buitenen, Johannes Adrianus Bernardus (1978). The Mahābhārata. 3 volumes. University of Chicago Press.
  • Hiltebeitel, Alf. The Ritual of Battle, Krishna in the Mahabharata, SUNY Press, New York 1990.
  • E. W. Hopkins, The Great Epic of India, New York (1901).
  • Keay, John (2000)। India: A History। Grove Press। আইএসবিএন 0-8021-3797-0 
  • H. Oldenberg, Zur Geschichte der Altindischen Prosa, Berlin (1917)
  • Jyotirmayananda Swami, Mysticism of the Mahabharata, Yoga Research Foundation, Miami 1993.
  • Pāṇini. Ashtādhyāyī. Book 4. Translated by Chandra Vasu. Benares, 1896. (সংস্কৃত)(ইংরেজি)
  • Paule Lerner, Astrological Key in Mahabharata, David White (trans.) Motilal Banarsidass, New Delhi 1988.
  • Ruth Cecily Katz, Arjuna in the Mahabharata, University of South Carolina Press, Columbia 1989.
  • R.V.Bhasin, "Mahabharata" published by National Publications, India, 2007.
  • Majumdar, R. C. (general editor) (1951)। The History and Culture of the Indian People: (Volume 1) The Vedic Age। London: George Allen & Unwin Ltd.। 
  • Krishna Chaitanya (K.K. Nair), The Mahabharata, A Literary Study, Clarion Books, New Delhi 1985.
  • Th. Oberlies, 'Ritual an und unter der Oberfläche des Mahabharata', in: Neue Methoden der Epenforschung (ed. H. L. C. Tristram), Freiburg (1998).
  • H. Oldenberg, Das Mahabharata, Göttingen (1922).
  • Mallory, J. P (2005). In Search of the Indo-Europeans. Thames & Hudson. ISBN 0-500-27616-1
  • M. Mehta, The problem of the double introduction to the Mahabharata, JAOS 93 (1973), 547-550.
  • C. Z. Minkowski, Janamehayas Sattra and Ritual Structure, JAOS 109 (1989), 410-420.
  • C. Z. Minkowski, 'Snakes, Sattras and the Mahabharata', in: Essays on the Mahabharata, ed. A. Sharma, Leiden (1991), 384-400.
  • Sattar, Arshia (transl.) (1996)। The Rāmāyaṇa by Vālmīki। Viking। পৃ: 696। আইএসবিএন 9780140298666 
  • Sukthankar, Vishnu S. and Shrimant Balasaheb Pant Pratinidhi (1933). The Mahabharata: for the first time critically edited. Bhandarkar Oriental Research Institute.
  • Bruce M. Sullivan, Seer of the Fifth Veda, Krsna Dvaipayana Vyasa in the Mahabharata, Motilal Banarsidass, New Delhi 1999.
  • Nicholas Sutton, Religious Doctrines in the Mahabharata, Motilal Banarsidass, New Delhi 2000.
  • N. B. Utgikar, The mention of the Mahabharata in the Ashvalayana Grhya Sutra, Proceedings and Transactions of the All-India Oriental Conference, Poona (1919), vol. 2, Poona (1922), 46-61.
  • M. Witzel, Epics, Khilas and Puranas: Continuities and Ruptures, Proceedings of the Third Dubrovnik International Conference on the Sanskrit Epics and Puranas, ed. P. Koskiallio, Zagreb (2005), 21-80.
  • Gupta, S.P. and K.S. Ramachandran (ed.), Mahabharata: myth and reality. Agam Prakashan, New Delhi 1976.
  • Pargiter, F.E., Ancient Indian Historical Tradition, London 1922. Repr. Motilal Banarsidass 1997.
  • Majumdar, R.C. and A.D. Pusalker (ed.), The History and Culture of the Indian People, Vol I. "The Vedic Age", Bharatiya Vidya Bhavan 1951.
  • Vaidya, R.V., A Study of Mahabharat; A Research, Poona, A.V.G. Prakashan, 1967

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

Original text online (সংস্কৃত)
Abridged Versions
textual resources
Kisari Mohan Ganguli translation (ইংরেজি)
Articles on the Mahabharata
Movies

টেমপ্লেট:হিন্দু মহাকাব্য