মিশর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
جمهورية مصر العربية
গুম্‌হুরিয়াত্‌ মিস্ব্‌র্‌ আল্‌ ʿআরাবিয়াহ্‌
গুম্‌হুরিয়েত্‌ মাস্ব্‌র্‌ এল্‌ ʿআরাবিয়াহ্‌
মিশর আরব প্রজাতন্ত্র
পতাকা কোট অফ আর্মস
জাতীয় সঙ্গীত
বিলাদি, বিলাদি, বিলাদি
রাজধানী কায়রো
৩০°২′ উত্তর ৩১°১৩′ পূর্ব / ৩০.০৩৩° উত্তর ৩১.২১৭° পূর্ব / 30.033; 31.217
বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়া
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ আরবি
সরকার অর্ধ-রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্র
 -  রাষ্ট্রপতি মুহাম্মাদ মুরসি ইসা আল-আইয়াত
 -  প্রধানমন্ত্রী আহামেদ নাজিফ
প্রতিষ্টিত
 -  প্রথম রাজবংশ প্রায় ৩১৫০ BCE 
 -  স্বাধীনতা প্রদান করেছে ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৯২২ 
 -  প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছে জুন ১৮ ১৯৫৩ 
 -  জাতীয় দিবস ২৩শে জুলাই (২৩শে জুলাই ১৯৫২ উদযাপন করত) 
আয়তন
 -  মোট ১,০০২,৪৫০ বর্গকিমি (৩০তম)
৩৮৭,০৪৮ বর্গমাইল 
 -  জলভাগ (%) ০.৬৩২
জনসংখ্যা
 -  ২০০৯ আনুমানিক ৭৭,৪২০,০০০[১] 
 -  ১৯৯৬ আদমশুমারি ৫৯,৩১২,৯১৪ 
 -  ঘনত্ব ৮২.৩ /বর্গ কিমি (১২০তম)
২১৪.৪ /বর্গমাইল
জিডিপি (পিপিপি) ২০০৯ আনুমানিক
 -  মোট $৪৭১.৫০৯ বিলিয়ন[২] (২৬তম)
 -  মাথাপিছু $৬,১৪৭.১২[২] (১০১তম)
জিডিপি (নামমাত্র) ২০০৯ আনুমানিক
 -  মোট $১৮৭.৯৫৬ বিলিয়ন[২] (৪৯তম)
 -  মাথাপিছু $২,৪৫০.৪১[২] (১১৭তম)
জিনি (১৯৯৯–০০) ৩৪.৫ (মধ্যেম
এইচডিআই (২০০৭) বৃদ্ধি ০.৭০৩[৩] (মধ্যেম) (১২৩তম)
মুদ্রা মিশরীয় পাউন্ড (ইজিপি)
ইন্টারনেট টিএলডি .eg
কলিং কোড ২০
১. কথ্য ভাষা মিশরীয় আরবি

মিশর (আরবি ভাষায: مصر মিস্ব্‌র্‌, কথ্য মিশরীয় আরবি مصر মাস্ব্‌র্‌, ইংরেজি ভাষায়: Egypt ইজিপ্ট্‌), সরকারী নাম মিশর আরব প্রজাতন্ত্র, উত্তর আফ্রিকার একটি প্রাচীন রাষ্ট্র। দেশটির বেশির ভাগ অংশ আফ্রিকাতে অবস্থিত, কিন্তু এর সবচেয়ে পূর্বের অংশটি, সিনাই উপদ্বীপ, সাধারণত মনে করা হয়। সিনাই উপদ্বীপ আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে স্থলসেতুর মত কাজ করে। মিশরের অধিকাংশ এলাকা মরুময়। নীল নদ দেশটিকে দুইটি অসমান অংশে ভাগ করেছে। নীল নদের উপত্যকা ও ব-দ্বীপ অঞ্চলেই মিশরের বেশির ভাগ মানুষ বাস করেন। কায়রো দেশের বৃহত্তম শহররাজধানী

নামের উৎস[সম্পাদনা]

প্রাচীন মিশরের ভাষায় দেশটির একটি নাম ছিল "কমেট" (km.t) বা কালো মাটির দেশনীল নদের বন্যার সাথে বয়ে আনা উর্বর কালো মাটি যা মরুভূমির মাটি "deshret" (dšṛt) অথবা "লাল জমি" থেকে আলাদা।[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

লিখিত ইতিহাস অনুসারে প্রায় ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকেই একটি সংহত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মিশর বিদ্যমান। সেচভিত্তিক কৃষি, সাক্ষরতা, নগরজীবন, এবং বড় মাপের রাজনৈতিক সংগঠনবিশিষ্ট ইতিহাসের প্রথম সভ্যতাগুলির একটি নীল নদের উপত্যকাতে গড়ে উঠেছিল। সাংবাৎসরিক বন্যা মিশরকে একটি স্থিতিশীল কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।আফ্রিকার সংযোগস্থলে সামরিক কৌশলগত স্থানে অবস্থিত ছিল বলে এবং ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা এবং ভারতচীনের মধ্যকার বাণিজ্যপথের উপর অবস্থিত ছিল বলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতক থেকে বিভিন্ন বিদেশী শক্তি দেশটি দখল করে এবং এখানে নতুন নতুন ধর্ম ও ভাষার প্রবর্তন করে। কিন্তু মিশরের সমৃদ্ধ কৃষি সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অবস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক একতার ফলস্বরূপ এখনও পুরনো ঐতিহ্য ও রীতিনীতিগুলি হারিয়ে যায়নি। বর্তমান মিশর আরবিভাষী মুসলিম রাষ্ট্র হলেও এটি অতীতের খ্রিস্টান, গ্রীক-রোমান ও প্রাচীন আদিবাসী ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি এখনও ধরে রেখেছে।

৬৪১ সালে আরব মুসলিমরা মিশরে আসলে মিশরের মানুষ দলে দলে ইসলাম ধরম গ্রহন করে। তখন থেকেই মিশর মুসলিম ও আরব বিশ্বের একটি অংশ। আধুনিক মিশরের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী। দেশটি যখন উসমানীয় সাম্রাজ্যের একটি অংশ ছিল, তখন ১৮০৫ থেকে ১৮৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির বড়লাট ছিলেন। ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সেনারা মিশর দখল করে। এরপর প্রায় ৪০ বছর মিশর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯২২ সালে দেশটি একটি রাজতন্ত্র হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন করলেও ব্রিটিশ সেনারা মিশরে থেকে যায়। ১৯৫২ সালে জামাল আব্দেল নাসের-এর নেতৃত্বে একদল সামরিক অফিসার রাজতন্ত্র উৎখাত করে এবং একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে মিশর প্রতিষ্ঠা করে। নাসের ১৯৫৬ সালের মধ্যে মিশর থেকে সমস্ত ব্রিটিশ সেনাকে সরিয়ে দেন। ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি আনওয়ার আল-সাদাতের নেতৃত্বে মিশর প্রথম জাতি হিসেবে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। বর্তমানে মিশর সমগ্র আরব বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। ২০০৫ সালে দেশের প্রথম বহুদলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

আরবি ভাষা মিশরের সরকারি ভাষা। মিশরের জনগণেরর অধিকাংশই আরবি ভাষাতে কথা বলে। মিশরে আরবি ভাষার বেশ কিছু স্থানীয় কথ্য উপভাষা প্রচলিত। মিশরের জিপসি সম্প্রদায়ের প্রায় অর্ধেক লোক জিপসি দোমারি ভাষাতে কথা বলেন। এছাড়াও এখানে আর্মেনীয় ভাষা, গ্রিক ভাষা এবং নীল নুবীয় ভাষা প্রচলিত। কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে সীমিত পরিমাণে কপ্টীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Central Agency for Population Mobilisation and Statistics - Population Clock (July 2008)
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ "Egypt"। International Monetary Fund। সংগৃহীত 2009-10-01 
  3. "Human Development Report 2009. Human development index trends: Table G"। The United Nations। সংগৃহীত 2009-10-10 
  4. Rosalie, David (1997)। Pyramid Builders of Ancient Egypt: A Modern Investigation of Pharaoh's Workforce। Routledge। পৃ: 18। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

সরকারী
সাধারণ তথ্য
অন্যান্য