মৌর্য রাজবংশ
সম্রাট অশোকের সময়ে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি |
|
| সাম্রাজ্যের চিহ্ন: The Lion Capital of Ashoka |
|
| Founder | চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য |
|---|---|
| Preceding State(s) | মগধের নন্দ রাজবংশ মহাজনাপদেশ |
| Languages | পালি প্রকৃত সংস্কৃত |
| Religions | বৌদ্ধ হিন্দু জৈনJainism |
| Capital | পাটালিপুত্র |
| Head of State | সম্রাট |
| First Emperor | চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য |
| Last Emperor | [ভর্হদ্রতা |
| Government | Centralized Absolute Monarchy with Divine Right of Kings as described in the Arthashastra |
| Divisions | ৪টি প্রদেশ তোসালি উজ্জাইন সুবর্ণনগরী ট্যাক্সিলা আধা স্বাধীন উপজাতি |
| Administration | Inner Council of Ministers (Mantriparishad) under a Mahamantri with a larger assembly of ministers (Mantrinomantriparisadamca). Extensive network of officials from treasurers (Sannidhatas) to collectors (Samahartas) and clerks (Karmikas). Provincial administration under regional viceroys (Kumara or Aryaputra) with their own Mantriparishads and supervisory officials (Mahamattas). Provinces divided into districts run by lower officials and similar stratification down to individual villages run by headmen and supervised by Imperial officials (Gopas). |
| Area | 5 million km² [১] (Southern Asia and parts of Central Asia) |
| Population | 50 million [২] (one third of the world population [৩]) |
| Currency | Silver Ingots (Panas) |
| Existed | 322–185 BCE |
| Dissolution | Military coup by Pusyamitra Sunga |
| Succeeding state | Sunga Empire |
মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল প্রাচীন ভারতের একটি সাম্রাজ্য। মৌর্য রাজবংশ-শাসিত এই সাম্রাজ্য ৩২১ থেকে ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। মৌর্য সাম্রাজ্যের উৎসভূমি ছিল গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের মগধ রাজ্য (অধুনা বিহার, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বাংলা)। সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র (অধুনা পাটনা)।[৪][৫]
৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজবংশকে উচ্ছেদ করে এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং তারপর সামরিক শক্তিবলে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের আঞ্চলিক রাজ্যগুলিকে জয় করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যেই মৌর্য সাম্রাজ্য সম্পূর্ণ উত্তর-পশ্চিম ভারত জয় করে নেয়।[৬]
মৌর্য সাম্রাজ্যের মোট আয়তন ছিল ৫,০০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। এই সাম্রাজ্য ছিল সমসাময়িক বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলির অন্যতম। সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তার ছিল উত্তরে হিমালয়, পূর্বে বর্তমান অসম, পশ্চিমে বালুচিস্তান, দক্ষিণ-পূর্ব ইরান ও আফগানিস্তান পর্যন্ত।[৭] চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও বিন্দুসারের আমলে মৌর্য সাম্রাজ্য মধ্য ও দক্ষিণ ভারতেও প্রসারিত হয়। মহামতি অশোক কলিঙ্গ (বর্তমান ওড়িশা) জয় করেন। অশোকের মৃত্যুর ৬০ বছরের মধ্যে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন সূচিত হয়। ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মগধে সূঙ্গ রাজবংশের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের পতন সম্পূর্ণ হয়।
মৌর্য বংশের রাজারা চতুর্থ- তৃতীয় খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন। মগধের নন্দ বংশীয় রাজবংশকে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজে তাকে সাহায্য করেন চাণক্য বা কৌটিল্য নামে খ্যাত বিচক্ষন ব্যক্তি। কথিত আছে যে, নন্দ বংশীয় রাজার কাছে অপমানিত হয়ে চাণক্য ভিন্দিয়া অরণ্যে চলে যান। সেখানেই চন্দ্রগুপ্তের সাথে তার সাক্ষাত ঘটে।
আলেক্সান্ডার এর আক্রমণের পর ভারতীয় দের মধ্যে এককেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। সেই চিন্তাধারার অনুসারী চন্দ্রগুপ্ত ভারত উপমহাদেশে আলেক্সান্ডারের উত্তরসূরী ম্যাসিডোনিয়ান সেনাপতি সেলুকাস নিকেটর কে পরাজিত করেন।এভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের অবস্থান সুসংহত হয়। মৌর্য সাম্রাজ্য বাস্তবে ভারতের প্রথম বৃহৎ আকারের এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিল।
পরিচ্ছেদসমূহ |
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য [সম্পাদনা]
মৌর্য রাজ বংশের প্রতিষ্টাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তাঁর শাসনকাল ৩২৪-৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তাঁর পরামর্শ দাতা প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌটিল্যের মন্ত্রণায় ও নিজ বাহুবলে তিনি ভারত বর্ষের বুক থেকে বিদেশী গ্রিক শক্তিকে পরাজিত করেন। এছাড়া দেশীয় নন্দরাজকে পরাজিত করে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেন।
বিন্দুসার [সম্পাদনা]
|
|
এই অনুচ্ছেদে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। (সাহায্যের জন্য দেখুন: যাচাইযোগ্যতা) নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই, সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। (ডিসেম্বর ২০১১) |
মৌর্য বংশের চন্দ্রগুপ্ত পরবর্তী রাজার নাম রাজা বিন্দুসার। তাঁর রাজত্বকাল আনুমানিক ৩০০-২৭২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। একথা প্রচলিত আছে যে চন্দ্রগুপ্তের গুরু চাণিক্য প্রত্যহ সম্রাটকে অল্প পরিমানে বিষ সেবন করাতেন যেন তার শরীর বিষ প্রতিরোধক হতে পারে। একবার সম্রাট জানতেন না যে তার খাদ্যে বিষ মেশানো আছে এবং সেই খাবার তিনি তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী দুরধারার সাথে গ্রহন করেন, খাবার গ্রহনে দুরধারার মৃত্যু হয়। এসময় কক্ষে প্রবেশ করেন চাণিক্য তিনি অনাগত সন্তান কে বাচানোর জন্য দুরধারার পেট চিরে শিশু বিন্দুসার কে বের করেন, কিন্তু কিছু বিষ ইতোমধ্যেই শিশুর মাথায় উঠে এবং তার মাথার কিয়দংশে সারাজীবনের জন্য নীল রংএর দাগ বা বিন্দু স্থান পায় এবং এ থেকেই তার নাম হয় বিন্দুসার। উত্তরাধিকার সূত্রেই পিতার বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকার হন তিনি। তিনি তার সাম্রাজ্যকে দক্ষিনে কর্ণাটক পর্য্যন্ত বিস্ত্রত করেছিলেন। তিনি ১৬ টি প্রদেশকে এক শাসনের অধীনে আনেন যদিওবা তিনি বন্ধুবৎসল দ্রাবিড় ও কোল সাম্রাজ্য আক্রমন করেননি। দক্ষিনের কলিঙ্গ প্রদেশ বাদে তিনি অধিকাংশ স্থানই তার শাসনের অধীন ই ছিল। বিন্দুসারের জীবন সম্পর্কে তেমন কোন সুনির্দিস্ট ইতিহাস পাওয়া যায়না যেমনটা পাওয়া যায় তার পিতা চন্দ্রগুপ্ত বা তার পুত্র মহামতি অশোক সম্পর্কে। মহাপন্ডিত চাণিক্য তার জীবদ্দশায় বিন্দুসারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিস্ঠিত ছিলেন। মধ্যযুগীয় তিব্বতীয় পন্ডিত তারানাথ এর মতে চাণিক্যের পরামর্শেই বিন্দুসার ১৬ টি প্রদেশের রাজাকে পরাজিত করেন এবং তা তার শাসনের অধিভুক্ত করেন। তার শাসন আমলে তক্ষশীলায় দুইবার বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যার প্রথমটির কারন ছিলো বিন্দুসার পুত্র সুসীমের অপশাসন।
বিক্রমাদিত্য [সম্পাদনা]
অশোক [সম্পাদনা]
বিন্দুসারের মৃত্যুর পরে তার পুত্র অশোক মৌর্য বংশের সিংহাসণে আরোহন করেন। তাঁর রাজত্ব কাল আনুমানিক ২৭২-২৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। তিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ট সম্রাট। তিনি সূদীর্ঘ ৩৬ বছর রাজত্ব করেন।
কলিঙ্গ যুদ্ধ [সম্পাদনা]
তাঁর সিংহাসন লাভের বারো বছর পরে, কলিঙ্গ যুদ্ধে অসংখ্য জীবনহানির ঘটনায় তিনি মর্মাহত হন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে অহিংস নীতির অনুসারী হন। তাঁর আমলে বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
পতন [সম্পাদনা]
অশোকের মৃত্যুর পরে মৌর্য বংশের শেষ নরপতি বৃপদ্রর্থ নিজ সেনাপতি কর্তৃক নিহত হবার পর, মৌর্য বংশের সমাপ্তি ঘটে।
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ Peter Turchin, Jonathan M. Adams, and Thomas D. Hall. East-West Orientation of Historical Empires. University of Connecticut, November 2004.
- ↑ Roger Boesche (2003). "Kautilya’s Arthashastra on War and Diplomacy in Ancient India", The Journal of Military History 67 (p. 12).
- ↑ Colin McEvedy and Richard Jones (1978), "Atlas of World Population History", Facts on File (p. 342-351). New York.
- ↑ Kulke, Hermann; Rothermund, Dietmar (2004), A History of India, 4th edition. Routledge, Pp. xii, 448, আইএসবিএন 0415329205, http://www.amazon.com/History-India-Hermann-Kulke/dp/0415329205/.
- ↑ Thapar, Romila (1990), A History of India, Volume 1, New Delhi and London: Penguin Books. Pp. 384, আইএসবিএন 0140138358, http://www.amazon.com/History-India-Penguin/dp/0140138358/.
- ↑ http://www.historyfiles.co.uk/FeaturesFarEast/India_IronAge_Mauryas01.htm
- ↑ http://www.historyfiles.co.uk/FeaturesFarEast/India_IronAge_Mauryas01.htm