ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহ
|
|
এই নিবন্ধটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি। দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন। (সাহায্যের জন্য দেখুন: যাচাইযোগ্যতা) নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই, সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে। (মার্চ ২০১০) |
| ইন্দো-আর্য | |
|---|---|
| ভৌগলিক বিস্তার: |
দক্ষিণ এশিয়া |
| বংশগতিক শ্রেণীবিভাগ: |
ইন্দো-ইউরোপীয়
|
| উপবিভাজনসমূহ: | |
| ISO 639-2 এবং 639-5: | inc |
| [[File: |
|
ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহ (ইংরেজি: Indo-aryan languages) ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবারের সদস্য ইন্দো-ইরানীয় ভাষাসমূহের একটি শাখা।
এসআইএল ইন্টারন্যাশনালের করা ২০০৫ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৯ টি ইন্দো-আর্য ভাষা আছে। এদের মধ্যে হিন্দুস্তানী অর্থাৎ হিন্দি ও উর্দুভাষীর সংখ্যা প্রায় ৫৪ কোটি, বাংলা প্রায় ২০ কোটি, পাঞ্জাবি ১০ কোটি, মারাঠি ৭ কোটি, গুজরাটি ৪ কোটি ৫০ লক্ষ, নেপালি প্রায় ৪ কোটি, ওড়িয়া প্রায় ৩ কোটি এবং সিন্ধি প্রায় ২ কোটি। সব মিলিয়ে ইন্দো-আর্য ভাষাসমূহের মাতৃভাষী সংখ্যা প্রায় ৯০ কোটি।
পরিচ্ছেদসমূহ |
কেন্দ্রীয় হিন্দি এলাকা [সম্পাদনা]
উত্তর ভারতীয় উপমহাদেশের এক বিশাল কেন্দ্রীয় এলাকা "হিন্দি এলাকা" নামে পরিচিত। উত্তরাঞ্চল, উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, দিল্লি রাজধানী এলাকা এর মধ্যে পড়ে। পশ্চিম থেকে পূর্বে বিস্তৃত আঞ্চলিক ভাষাগুলি এরকমঃ হরিয়ানার অধিকাংশ অঞ্চল ও দিল্লি সরকারী অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে কথিত হরিয়ান্ভি ভাষা, দিল্লি থেকে উত্তর-পূর্বে কথ্য হিন্দুস্তানি বা কৌরবী, দিল্লির দক্ষিণ-পূর্বে ব্রজ, তার পূর্বে কানৌজি। এগুলির দক্ষিণে মধ্য প্রদেশের অংশবিশেষ জুড়ে কথিত হয় 'বুন্দেলি। লক্ষ্ণৌ-এর উত্তরে ও দক্ষিণে উত্তর প্রদেশের পূর্ব-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কথিত হয় আওয়াধি, আর বাঘেলি নামে আওয়াধির একটি উপভাষা মধ্য প্রদেশে প্রচলিত। এদের দক্ষিণ-পূর্বে ছত্তিসগড় রাজ্যে কথিত হয় ছত্তিসগড়ি। উত্তর প্রদেশের পূর্ব অংশে ও বিহারের পশ্চিমে ভোজপুরি ভাষার বিভিন্ন উপভাষা প্রচলিত।
রাজস্থানে প্রচলিত আছে মাড়োয়াড়ি ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, যেমন - বাগরি, ভিত্রাউতি, সিরোহি, গোদওয়ারি, মেওয়াড়ি, ইত্যাদি। আরো আছে ভিল্লি, কেন্দ্র-পূর্বীয় রাজস্থানি ভাষাসমূহ যেমন জয়পুরি ও হাড়ুয়াটি। উত্তর-পশ্চিমে হরিয়ানার সাথে সীমান্তে কথিত হয় মেওয়াটি। পশ্চিম মধ্য প্রদেশে বলা হয় মালভি।
উত্তর প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে কথিত হয় গড়ওয়ালি ও কুমায়ুনি। এদের পশ্চিমদিকের অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে কথিত হয় জাউনসারি, সিরমাউরি, বাঘাটি, মহাসুই, এবং আরও অনেক পশ্চিম পাহাড়ি ভাষা।
নেপালি [সম্পাদনা]
কেন্দ্রীয় পাহাড়ি ভাষার পূর্বে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে নেপালে কথিত হয় নেপালি ভাষা। নেপাল ছাড়াও সিকিম, ভূটান ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলায় নেপালি কথিত হয়।
অসমীয়া [সম্পাদনা]
ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ব্রহ্মপুত্রের উপত্যকায় আসাম রাজ্যে কথিত হয় অসমীয়া ভাষা। এছাড়া নাগাল্যান্ডে অসমীয়ার একটি পিজিনকৃত (pidginized) রূপ নাগামীয়া বলা হয়।
বাংলা [সম্পাদনা]
পশ্চিমে হিন্দি এলাকা থেকে রাজমহল পাহাড় এবং উত্তর-পূর্বে অসমীয়া থেকে খাসি-গারো পাহাড়ের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন বিস্তীর্ণ গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এলাকায় কথিত হয় বাংলা ভাষা। বর্তমানে এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে বিভক্ত। এছাড়া আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যেও বাংলা প্রচলিত। বাংলা ভাষার চট্টগ্রাম ও সিলেটি উপভাষা মান্য চলিত বাংলা থেকে যথেষ্ট আলাদা এবং এগুলিকে আলাদা ভাষা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী [সম্পাদনা]
বাংলাদেশের সিলেট জেলা, আসামের কাছাড় জেলা ও ত্রিপুরাতে কথিত একটি ইন্দো-আর্য ভাষা বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী। আগে মায়ানমার সংলগ্ন মণিপুর রাজ্যে এটি প্রচলিত ছিল।
ওড়িয়া [সম্পাদনা]
বাংলাভাষী অঞ্চলের দক্ষিণ-পশ্চিমে মহানদী নদীর ব-দ্বীপ অঞ্চলে ওড়িশা রাজ্যে প্রচলিত ভাষার নাম ওড়িয়া। এছাড়া মধ্য প্রদেশে ওড়িয়ার একটি উপভাষা ভাত্রি প্রচলিত।
হালবি [সম্পাদনা]
ভাত্রি ও মারাঠির সংযোগস্থলে মধ্য প্রদেশের দক্ষিণে কথিত হয় হালবি ভাষা। হালবিকে অনেকে মারাঠির উপভাষা মনে করেন।
মারাঠি [সম্পাদনা]
উত্তর-পূর্ব দাক্ষিণাত্যের মালভূমি জুড়ে মহারাষ্ট্র প্রদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কথিত হয় মারাঠি ভাষা।
কঙ্কনি [সম্পাদনা]
গোয়া ও তার আশেপাশের অঞ্চলে কথিত হয় কঙ্কনি ভাষা।
ভিল্লি [সম্পাদনা]
মুম্বাইয়ের উত্তর থেকে শুরু করে গুজরাটের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমানা জুড়ে কথিত হয় ভিল্লি ভাষা।
গুজরাটি [সম্পাদনা]
গুজরাট রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা এবং মুম্বাই শহরে কথিত হয় গুজরাটি ভাষা।
সিন্ধি [সম্পাদনা]
ভারতের সীমানা পেরিয়ে সিন্ধু নদের উপত্যকায় পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে কথিত হয় সিন্ধি ভাষা। করাচিতে এর তেমন প্রচলন নেই, বরং হায়দ্রাবাদ এই ভাষাভাষী মানুষের কেন্দ্রস্থল।
পশ্চিম পাঞ্জাবি [সম্পাদনা]
সিন্ধ প্রদেশের উত্তর থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অনেক ভাষা রয়েছে যেগুলিকে একত্রে ভাষাবিজ্ঞানীরা পশ্চিম পাঞ্জাবি বা লান্দি বলে ডাকেন।
কাশ্মিরি [সম্পাদনা]
কাশ্মির উপত্যকায় কথিত ইন্দো-আর্য ভাষার নাম কাশ্মিরি। এর পশ্চিমে আছে পশ্চিম পাঞ্জাবি ভাষাগুলি আর পূর্বে আছে পশ্চিম পাহাড়ি ভাষাগুলি।
দোগরি [সম্পাদনা]
জম্মু-র নিজস্ব ভাষার নাম দোগরি।
পাঞ্জাবি [সম্পাদনা]
ভারতের উত্তর-পশ্চিমের পাঞ্জাব রাজ্য এবং পাকিস্তানের জনগণের এক বড় অংশের কথিত ভাষা পাঞ্জাবি।
আরও দেখুন [সম্পাদনা]