স্বাধীনতা দিবস (ভারত)
| স্বাধীনতা দিবস | |
|---|---|
দিল্লির লালকেল্লায় ভারতের জাতীয় পতাকা; পনেরোই আগস্ট সহ জাতীয় ছুটির দিনগুলিতে এভাবেই সরকারি ও বেসরকারি ভবনগুলিতে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। |
|
| অন্যান্য নাম | পনেরোই আগস্ট |
| ধরন | জাতীয় |
| তাৎপর্য | এই দিন ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। |
| তারিখ | ১৫ আগস্ট |
| উদযাপন | জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, দেশাত্মবোধক গান গাওয়া, প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা প্রদান, পারিবারিক পুনর্মিলন, চড়ুইভাতি, ঘুড়ি ওড়ানো |
ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় পনেরোই আগস্ট তারিখে। ১৯৪৭ সালে এই তারিখেই ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছিল।[১] দিনটি ভারতে একটি জাতীয় ছুটির দিন। সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। দেশের প্রধান অনুষ্ঠানটি হয় দিল্লির লালকেল্লায়। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পতাকা উত্তোলন করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সেই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নেতা ও শহিদদেরও শ্রদ্ধা জানান।
পরিচ্ছেদসমূহ |
পটভূমি [সম্পাদনা]
১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটেনের রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় ব্রিটেনের পক্ষে আভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কোনোরকম সাহায্য লাভ অসম্ভব হয়ে পড়ে। ব্রিটেনের লেবার সরকার বুঝতে পারেই সেই পরিস্থিতে ভারতে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা বা অর্থবল ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী হারিয়ে ফেলেছে।[২][৩] তাঁরা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৪৭ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে দেন যে, ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ভারতের শাসনক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
স্বাধীনতা ঘোষণার সময় যত এগিয়ে আসতে থাকে, পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তত বৃদ্ধি পায়। দাঙ্গা রোধে ব্রিটিশ বাহিনীর অক্ষমতার কথা মাথায় রেখে ভারতের তদনীন্তন ভাইসরয় লুইস মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তরের দিনটি সাত মাস এগিয়ে আনেন। ১৯৪৭ সালের জুন মাসে জওহরলাল নেহেরু, আবুল কালাম আজাদ, মহম্মদ আলি জিন্নাহ, ভীমরাও রামজি আম্বেডকর প্রমুখ জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ ধর্মের ভিত্তিতে ভারত বিভাগের প্রস্তাব মেনে নেন। হিন্দু ও শিখ সংখ্যাগুরু অঞ্চলগুলি ভারতে ও মুসলমান সংখ্যাগুরু অঞ্চলগুলি নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানে যুক্ত হয়; পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশ দ্বিখণ্ডিত হয়।
লক্ষাধিক মুসলমান, শিখ ও হিন্দু শরণার্থী র্যাডক্লিফ লাইন পেরিয়ে নিরাপদ দেশে আশ্রয় নেন। পাঞ্জাবে শিখ অঞ্চলগুলি দ্বিখণ্ডিত হওয়ায় রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয়। বাংলা ও বিহারে মহাত্মা গান্ধীর উপস্থিতি দাঙ্গার প্রকোপ কিছুটা প্রশমিত করতে সক্ষম হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ২৫০,০০০ থেকে ৫০০,০০০ লোক সীমান্তের দুই পারের দাঙ্গায় হতাহত হয়।[৪] ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট নতুন পাকিস্তান অধিরাজ্য জন্ম নেয়। করাচিতে মহম্মদ আলি জিন্নাহ এই রাষ্ট্রের প্রথম গভর্নর-জেনারেল হিসেবে শপথ নেন। মধ্যরাতে অর্থাৎ, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট সূচিত হলে জওহরলাল নেহেরু তাঁর বিখ্যাত নিয়তির সঙ্গে অভিসার অভিভাষণটি প্রদানের মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ভারতীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়। নতুন দিল্লিতে নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী রূপে কার্যভার গ্রহণ করেন। মাউন্টব্যাটেন হন স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর-জেনারেল।
উদযাপন [সম্পাদনা]
১৫ আগস্ট দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানটি জাতীয় চ্যানেল দূরদর্শনের সাহায্যে সারা দেশে সম্প্রচারিত হয়। রাজ্য রাজধানীগুলিতেও পতাকা উত্তোলন সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অন্যান্য শহরে রাজনৈতিক নেতৃবর্গ নিজ নিজ কেন্দ্রে পতাকা উত্তোলন করেন। নানা বেসরকারি সংস্থাও পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্কুল-কলেজেও পতাকা উত্তোলন ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা এই উপলক্ষ্যে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সাজপোষাক পরে শোভাযাত্রা করে।
আরও দেখুন [সম্পাদনা]
তথ্যসূত্র [সম্পাদনা]
- ↑ lihu Lauterpacht Editor H. Lauterpacht (1958), International Law Reports, 22, Cambridge University Press, p. 147, আইএসবিএন 9780949009364, http://books.google.com.ph/books?id=OrMErqyDdvEC.
- ↑ Hyam 2007, p. 106 Quote:By the end of 1945, he and the Commander-in-chief, General Auckinleck were advising that there was a real threat in 1946 of large scale anti-British Disorder amounting to even a well-organised rising aiming to expel the British by paralysing the administration. Quote:...it was clear to Attlee that everything depended on the spirit and reliability of the Indian Army:"Provided that they do their duty, armed insurrection in India would not be an insolube problem. If, however, the Indian Army was to go the other way, the picture would be very different... Quote:...Thus, Wavell concluded, if the army and the police "failed" Britain would be forced to go. In theory, it might be possible to revive and reinvigorate the services, and rule for another fifteent to trwenty years, but:It is a fallacy to suppose that the solution lies in trying to maintain status quo. We have no longer the resources, nor the necessary prestige or confidence in ourselves.
- ↑ Brown 1994, p. 330 Quote: "India had always been a minority interest in British publicity life; no great body of public opinion now emerged to argue that war-weary and impoverished Britain should send troops and money to hold it against its will in an empire of doubtful value. By late 1946 both Prime Minister and Secretary of State for India recognized that neither international opinion no their own voters would stand for any reassertion of the raj, even if there had been the men, money, and administrative machinery with which to do so." Sarkar 1983, p. 418 Quote: "With a war weary army and people and a ravaged economy, Britain would have had to retreat; the Labour victory only quickened the process somewhat." Metcalf & Metcalf 2006, p. 212 Quote: "More importantly, though victorious in war, Britain had suffered immensely in the struggle. It simply did not possess the manpower or economic resources required to coerce a restive India."
- ↑ (Khosla 2001, p. 299)
- ↑ "65th Independence Day Celebrations (2011)"। Mohith.net। http://www.mohith.net/2011/08/happy-65th-indipendence-day-to-every.html। সংগৃহীত 2011-08-14।
বহিঃসংযোগ [সম্পাদনা]
- Partition and Independence of India
- All About the National Symbols of India
- First Independence Day of India