ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের ত্রিশ কোটি মধ্যবিত্ত জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৫%।[১] উপরের চিত্রে মুম্বাই মহানগরীর বসতাঞ্চল
কোচির কালুরে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের পাশে বস্তি। এই ধরনের দূষিত পরিবেশে বাস করেন কাজের খোঁজে শহরে আসা শত শত শ্রমিক শ্রেণীর মানুষজন। [২]

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের স্বাধীনোত্তর ইতিহাসে মোটামুটি সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের নীতিতে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ; লাইসেন্স রাজ নামে পরিচিত বহুবিধ বিধি ও লাল ফিতের নীতি; এবং বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্নতা ছিল এই ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। স্বাধীনতার পরবর্তী তিন দশকে ভারতে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১%। [৩] ১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে ভারতের বাজার ধীরে ধীরে খুলে যেতে থাকে। ১৯৯১ সালের মৌলিকতর আর্থিক সংস্কার ও ২০০০-এর দশকে তার নবায়নের ফলে ভারত বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপনের পথে অগ্রসর হয়।[৩]

২০০০-এর দশকের শেষভাগে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.৫%, যা দেশের গড় দশকীয় আয়ের দ্বিগুণ।[৩] বিশ্লেষক মহলের ধারণা, ভারত আরও বাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে আরো কতকগুলি মৌলিক পদক্ষেপ নিলেই এই হার বৃদ্ধি পাবে এবং ২০১১ সালের মধ্যে সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে উপনীত হবে।[৩] নিজ নিজ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় রাজ্যগুলির নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। রাজ্যক্ষেত্রে ১৯৯৮-২০০৮ বর্ষভিত্তিক বৃদ্ধির হার হল : গুজরাট (৮.৮%), হরিয়ানা (৮.৭%), দিল্লি (৭.৪%)। এই হার বিহার (৫.১%), উত্তরপ্রদেশ (৪.৪%) বা মধ্যপ্রদেশ (৩.৫%) রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি।[৪] ভারত বিশ্বে দ্বাদশ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থা; ক্রয়ক্ষমতা সমতার নিরিখে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম ও মাথাপিছু জিডিপি (নমিন্যাল) ও মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) অনুযায়ী বিশ্বে যথাক্রমে ১২৮তম ও ১১৮তম।

ভারতে জীবনযাত্রার মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার ৭৫.৬ শতাংশের দৈনিক ক্রয়ক্ষমতা সমতা ২ মার্কিন ডলারেরও কম, এবং নমিন্যাল ক্ষেত্রে তা ০.৫ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।[৫] ভারতীয়দের দুই তৃতীয়াংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ থেকে জীবিকানির্বাহ করেন। আবার জিডিপির অংশ হিসেবে নগর ও মহানগরগুলি ভারতীয় অর্থনীতির দুই তৃতীয়াংশের গঠনকর্তা।

ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সারা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের মতে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ প্রয়োজন পাবলিক সেক্টর সংস্কার, পরিকাঠামো, কৃষি ও গ্রামীন উন্নয়ন, শ্রম আইনের অপসারণ, পিছিয়ে পড়া রাজ্য ও এইচআইভি/এইডস-এর ক্ষেত্রে।[৬] ২০০৮ সালের ইজ অফ ডুইং বিজনেস ইনডেক্স অনুসারে ভারতের স্থান ১২০তম। উল্লেখ্য এই ইনডেক্সে গণপ্রজাতন্ত্রী চিনব্রাজিলের স্থান যথাক্রমে ৮৩তম ও ১২০তম।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]