পাল সাম্রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পাল সাম্রাজ্য

৭৫০–১১৭৪
রাজধানী পাটলিপুত্র
গৌড়
ভাষাসমূহ পালি, সংস্কৃত, প্রাকৃত
ধর্ম বৌদ্ধধর্ম
হিন্দুধর্ম
সরকার রাজতন্ত্র
রাজা
 -  ৭৫০ – ৭৭৫ গোপাল
ঐতিহাসিক যুগ মধ্যযুগ
 -  একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গোপালের রাজ্যাভিষেক ৭৫০
 -  ভাঙ্গিয়া দেত্তয়া হয়েছে ১১৭৪
আয়তন
 -  850 est. ৪৬,০০,০০০ বর্গ কি.মি. (১৭,৭৬,০৭০ বর্গ মাইল)
সতর্কীকরণ: "মহাদেশের" জন্য উল্লিখিত মান সম্মত নয়

পাল রাজবংশ প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজবংশ। এর প্রতিষ্ঠাতার নাম গোপাল। পাল বংশের বিস্তার ৭৫০-১১৭৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। '

৫ ‘মাৎস্যন্যায় (গধঃংুধহধুধস) শশাঙ্কের পর দীর্ঘদিন বাংলায় কোন যোগ্য শাসক ছিলনা। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও আরজকতা দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় শাসন শক্তভাবে ধরার মত কেউ ছিলনা। সামনত্ম রাজারা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে থাকেন। এ অরাজকতাপূর্ণ সময় (৭ম-৮ম শতক) কে পাল তাম্র শাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে। পুকুরে বড় মাছগুলো শক্তির দাপটে ছোট মাছ ধরে ধরে খেয়ে ফেলার বিশৃঙ্খল পরিসি'তিকে বলে ‘মাৎস্যন্যায়’। বাংলার সবল অধিপতিরা এমনি করে ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকে গ্রাস করেছিল।

৫ গোপাল (৭৫৬-৭৮১ সাল) ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার অরাজক পরিসি'তির অবসান ঘটে পাল রাজত্বের উত্থানের মধ্য দিয়ে। পাল বংশের প্রথম রাজা ছিলেন গোপাল। বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন শুরম্ন হয় পাল বংশের রাজত্বকালে। পাল বংশের রাজারা একটানা চারশত বছর এদেশ শাসন করেছিলেন। এত দীর্ঘ সময় আর কোন রাজবংশ এদেশ শাসন করেনি। পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

৫ ধর্মপাল (৭৮১-৮২১ সাল) পাল রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন গোপালের পুত্র ধর্মপাল। তার যুগে তিনটি রাজবংশ প্রতিযোগিতায় নেমেছিল উত্তর ভারতে আধিপত্য বিসত্মার করতে। একটি বাংলার পাল বংশ, অন্যটির রাজপুতানার গুর্জর প্রতীহার বংশ এবং তৃতীয়টি দাড়্গিণাত্যের রাষ্ট্রকুট বংশ। ইতিহাসে এ যুদ্ধ পরিচিত হয়েছে ‘ত্রিশক্তির সংঘর্ষ’ (ঞৎরঢ়ধৎঃরঃব ডধৎ) নামে।

৫ রামপাল (১০৮২-১১২৪ সাল) পাল বংশের সর্বশেষ রাজা ছিলেন রামপাল। সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিত’ গ্রন' থেকে রামপালের রাজত্ব সম্পর্কে জানা যায়। বরেন্দ্র এলাকায় পানিকষ্ট দূর করার জন্য তিনি অনেক দীঘি খনন করেন। দিনাজপুর শহরের নিকট যে ‘রামসাগর’ রয়েছে তা রামপালের কীর্তি।