লাদাখ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ལ་དྭགས་

লাদাখ

—  region  —
লাদাখে অবস্থিত তাংলাং গিরিবর্ত্ম


জম্মু ও কাশ্মীরতে কাশ্মীরের মানচিত্রে লাল রঙ দ্বারা চিহ্নিত লাদাখ অঞ্চল[α]
স্থানাঙ্ক ৩৪°০৮′ উত্তর ৭৭°৩৩′ পূর্ব / ৩৪.১৪° উত্তর ৭৭.৫৫° পূর্ব / 34.14; 77.55
দেশ ভারত
State জম্মু ও কাশ্মীর
বৃহত্তম নগরী লেহ
জনসংখ্যা ২,৭০,১২৬ (2001)[১]
অফিসিয়াল ভাষাসমূহ লাদাখি, উর্দু
সময় অঞ্চল আইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)
শিশুমৃত্যুর হার ১৯%[২] (১৯৮১)
ওয়েবসাইট leh.nic.in

লাদাখ বা লা-দ্বাগস(তিব্বতী: ལ་དྭགསওয়াইলি: la dwags) ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অন্তর্গত উত্তরে কুনলুন পর্বতশ্রেণী এবং দক্ষিণে হিমালয় দ্বারা বেষ্টিত একটি অঞ্চল। এই এলাকার অধিবাসীরা ইন্দো-আর্য এবং তিব্বতী বংশোদ্ভুত। [৩] লাদাখ কাশ্মীরের সবচেয়ে জনবিরল এলাকার মধ্যে অন্যতম। ঐতিহাসিককাল ধরে বালটিস্তান উপত্যকা, সিন্ধু নদ উপত্যকা, জাংস্কার, লাহুল ও স্পিটি, রুদোকগুজ সহ আকসাই চিন এবং নুব্রা উপত্যকা লাদাখের অংশ ছিল। বর্তমানে লাদাখ শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লেহ জেলাকার্গিল জেলা নিয়ে গঠিত। তিব্বতী সংস্কৃতি দ্বারা লাদাখ প্রচন্ডভাবে প্রভাবিত বলে এই অঞ্চলকে ক্ষুদ্র তিব্বত বলা হয়ে থাকে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১০০০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ন্যিমা-গোনের আমলে লাদাখ রাজ্যে বিস্তার

লাদাখের বিভিন্ন অংশে প্রাপ্ত খোদিত প্রস্তরখন্ড থেকে জানা যায় যে নব্য প্রস্তর যুগেও এই অঞ্চলে মানুষের বসবাস ছিল।[৪] হিরোডোটাস, নিয়ার্কোস, মেগাস্থিনিস, প্লিনি, টলেমিপুরাণের [৫] বিবরণ থেকে জানা যায় এই অঞ্চলের প্রথমদিককার অধিবাসীদের মধ্যে মিশ্র ইন্দো-আর্য মোনদর্দ জাতির মানুষ ছিলেন [৬] প্রথম শতাব্দীর সময়কালে লাদাখ কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পশিম তিব্বত ও পূর্ব লাদাখে বোন ধর্ম প্রচলিত থাকলেও কাশ্মীর থেকে পশ্চিম লাদাখে এই সময় বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারিত হয়। সপ্তম শতাব্দীতে বৌদ্ধ পরিব্রাজক হিউয়েন সাং তাঁর রচনায় লাদাখ অঞ্চলের উল্লেখ করেছেন।[n ১]

অষ্টম শতাব্দীতে লাদাখে পশ্চিম দিক থেকে তিব্বতের ও মধ্য এশিয়া থেকে চীনের আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়। ৮৪২ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বত সাম্রাজ্যের পতন হলে অন্তিম তিব্বত সম্রাট গ্লাং-দার-মার পৌত্র স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন লাদাখকে নিজের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং লাদাখি রাজবংশের সুত্রপাত করেন। এই সময় সমগ্র লাদাখে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসার হয় এবং লাদাখে তিব্বতীদের বসবাস শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে সম্পাদিত লা-দ্ভাগ্স-র্গ্যাল-রাব্স বা লাদাখের রাজাদের ধারাবিবরণীতে বলা হয় যে রাজা স্ক্যিদ-ল্দে-ন্যিমা-গোন তাঁর তিন পুত্রের মধ্য তাঁর সাম্রাজ্য ভাগ করে দেন। এই বিবরণীতে বলা হয় তিনি তাঁর তাঁর জৈষ্ঠ্য পুত্র দ্পাল-গ্যি-ঙ্গোনকে মার‍্যুল, হ্গোগের স্বর্ন খনি, রু-থোগ, ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো ও রা-বা-দ্মার-পো প্রদান করেন। এই বিবরণী থেকে বোঝা যায় যে, রু-থোগ বা রুদোক এবং ল্দে-ম্চোগ-দ্কার-পো বা দেমচোক মার‍্যুল বা লাদাখের অংশ ছিল।[n ২]

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ইসলামের ভারত বিজয়ের সময়কাল থেকে লাদাখ তিব্বতের কাছ থেকে ধর্মীয় পথপ্রদর্শনের সহায়তা নিতে থাকে। ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী মুসলিম রাজ্যগুলি বহুবার লাদাখ আক্রমণ করলে কিছু লাদাখি নূরবকশিয়া ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন। [৫][৯]

রাজা ল্হাচেন ভগন ১৪৭০ খ্রিষ্টাব্দে নামগ্যাল রাজবংশ স্থাপন করে লাদাখ থেকে মধ্য এশিয়ার আক্রমণকারীদের বিতাড়িত করে নেপা পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেন [৪] সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত লাদাখের সীমা জাংস্কারস্পিটি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই সময় মুসলমানদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত বৌদ্ধ বিহার ও কারুকীর্তিগুলির পুনর্নির্মাণ করা হয়।

১৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে বালটি রাজা আলি শের খান আনচান লাদাখ আক্রমণ করলে লাদাখের রাজা শান্তির প্রার্থনা করেন। এতে আলি শের খান লাদাখের কাছ থেকে গানোখ ও গাগ্রা নুল্লাহ অঞ্চল দুটি স্কার্দুর অধীনে নিয়ে আসেন এবং লাদাখের রাজার কাছ থেকে বার্ষিক কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। লাদাখের রাজা লামায়ুরু বৌদ্ধবিহারের মাধ্যমে স্কার্দুর রাজদরবারে এই কর পদান করতেন। [১০]

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিব্বতের সাথে ভূটানের দ্বন্দ্ব শুরু হলে লাদাখ ভূটানের পক্ষ নেয়। এর ফলে তিব্বত লাদাখ আক্রমণ করলে ১৬৭৯ থেকে ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিব্বত-লাদাখ-মুঘল যুদ্ধ হয়। [১১][১২][১৩][১৪] এই যুদ্ধে কাশ্মীর লাদাখকে সহায়তার বিনিময়ে লেহ শহরে মসজিদ নির্মাণ ও লাদাখের রাজা দেলদান নামগ্যালকে ইসলাম ধর্মগ্রহণের শর্ত রাখে। [১৫] ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দে টিংমোসগাংয়ের চুক্তিতে লাদাখ ও তিব্বতের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান হলেও লাদাখের স্বাধীনতা এতে অনেকাংশে খর্ব হয়। ১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ডোগরা সেনাপতি জোরাওয়ার সিং কাহলুরিয়া লাদাখ আক্রমণ করে কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখে ইউরোপীয়দের আনাগোনা শুরু হয়। ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে লেহ শহরে দপ্তর খোলা হয়।

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত স্বাধীন হলে কাশ্মীরের ডোগরা শাসক হরি সিং অন্তর্ভুক্তি চুক্তিতে সই করে কাশ্মীর রাজ্যকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেন। এই সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী লাদাখ ও কাশ্মীরের অন্যান্য অংশ দখল করে নিলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের মাধ্যমে এই এলাকা পাকিস্তানী দখলমুক্ত হয়। [১৬]

১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে চীন জিনজিয়াংনুব্রা উপত্যকার মধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে চীন জিনজিয়াং ও তিব্বতের মধ্যে সড়ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কারাকোরাম মহাসড়ক নির্মাণ করে। ভারত শ্রীনগর থেকে লেহ পর্যন্ত ১ডি নং জাতীয় সড়ক তৈরী করে। [৪][১৭]

বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ[সম্পাদনা]

চমরী গাই, লাদাখ

লাদাখের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে সর্বপ্রথম গবেষণা করেন অস্ট্রীয়-চেক জীবাশ্মবিজ্ঞানী ফার্ডিনান্ড স্টোলিস্কা। ১৮৭০ সালের দিকে তিনি এ অঞ্চলে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করেন।এ অঞ্চলের পাহাড়ি ঝিরিসংলগ্ন ভূমি, জলাভূমি, হ্রদ ও আবাদি জমি ছাড়া অন্য কোথাও গাছপালা খুব একটা দেখা যায় না। [১৮]

লাদাখের সাথে মধ্য এশিয়ার বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অদ্ভুত মিল লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তিব্বতী মালভূমিতে যে সমস্ত বন্যপ্রাণী দেখতে পাওয়া যায়, তাদের অধিকাংশই লাদাখের উপত্যকাগুলোতে দেখা যায়। তবে কয়েক প্রজাতির পাখি এখানে দেখা যায় যেগুলো আবার তিব্বতী মালভূমি বা মধ্য এশিয়ার কোনখানেই দেখা যায় না। এসব পাখি শীতের পরে ভারতের উষ্ণতর অঞ্চলগুলো থেকে এখানে পরিযান করে আসে। রুক্ষ অঞ্চল হলেও লাদাখে বসবাসকারী পাখি প্রজাতির সংখ্যা অনেক বেশি; এ পর্যন্ত মোট ২২৫ প্রজাতির পাখি এখান থেকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন পাখিদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির তুতি, রবিন, লালগির্দি (যেমন কালো লালগির্দি) আর মোহনচূড়া এখানে সচরাচর দেখা যায়। এছাড়া এ সময় চুংথাং অঞ্চলের হ্রদগুলোতে আর সিন্ধু নদে প্রায়ই খয়রামাথা গাঙচিলকে বিচরণ করতে দেখা যায়। আবাসিক পাখির মধ্যে রয়েছে খয়েরি চখাচখিদাগি রাজহাঁস (লাদাখি: ngangpa)। তিব্বতী মালভূমির বিরল কালোঘাড় সারসকে (trhung-trhung) গ্রীষ্মকালে লাদাখের বেশ কিছু অংশে প্রজনন করতে দেখা যায়। অন্যান্য পাখির মধ্যে র‍্যাভেন, তিব্বতী তুষারমোরগচুকার বাতাই (srakpa) প্রধান।[১৯] শিকারী পাখির মধ্যে গৃধিনীসোনালি ঈগল, এই দু'টি প্রজতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কালোঘাড় সারস লাদাখে আসে প্রজননের উদ্দেশ্যে; ছবিটি সো কার, লাদাখ থেকে তোলা

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Hsuan-tsang describes a journey from Ch'u-lu-to (Kuluta, Kullu) to Lo-hu-lo (Lahul), then goes on saying that "from there to the north, for over 2000 li, the road is very difficult, with cold wind and flying snow"; thus one arrives in the kingdom of Mo-lo-so, or Mar-sa, synonymous with Mar-yul, a common name for Ladakh. Elsewhere, the text remarks that Mo-lo-so, also called San-po-ho borders with Suvarnagotra or Suvarnabhumi (Land of Gold), identical with the Kingdom of Women (Strirajya). According to Tucci, the Zan-zun kingdom, or at least its southern districts were known by this name by the 7th century Indians.[৭]
  2. He gave to each of his sons a separate kingdom, viz., to the eldest Dpal-gyi-ngon, Maryul of Mnah-ris, the inhabitants using black bows; ru-thogs of the east and the Gold-mine of Hgog; nearer this way Lde-mchog-dkar-po; at the frontier ra-ba-dmar-po; Wam-le, to the top of the pass of the Yi-mig rock ...[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জনগণনা ২০০১"Roof of the World। Ladakh Autonomous Hill Development Council, Leh। ২০০১। সংগৃহীত 2006-08-23 
  2. Wiley, AS (২০০১)। "The ecology of low natural fertility in Ladakh"। Department of Anthropology, Binghamton University (SUNY) 13902-6000, USA, PubMed publication। সংগৃহীত 2006-08-22 
  3. Jina, Prem Singh (1996)। Ladakh: The Land and the People। Indus Publishing। আইএসবিএন 8173870578 
  4. ৪.০ ৪.১ ৪.২ Loram, Charlie (2004) [2000]। Trekking in Ladakh (2nd Edition সংস্করণ)। Trailblazer Publications। 
  5. ৫.০ ৫.১ Petech, Luciano (1977)। The Kingdom of Ladakh c. 950–1842 A.D.। Istituto Italiano per il media ed Estremo Oriente। 
  6. Ray, John (2005)। Ladakhi Histories — Local and Regional PerspectivesLeiden, Netherlands: Koninklijke Brill NV। 
  7. Petech, Luciano (1977). The Kingdom of Ladakh c. 950–1842 A.D. Istituto Italiano per il media ed Estremo Oriente
  8. Francke, A. H. (1914), 1920, 1926. Antiquities of Indian Tibet. Vol. 1: Personal Narrative; Vol. 2: The Chronicles of Ladak and Minor Chronicles, texts and translations, with Notes and Maps. Reprint: 1972. S. Chand & Co., New Delhi. (Google Books)
  9. Loram, Charlie. Trekking in Ladakh, Trailblazer Publications, 2004
  10. "The great empire of Maqpon" 
  11. Halkias, T. Georgios(2009) "Until the Feathers of the Winged Black Raven Turn White: Sources for the Tibet-Bashahr Treaty of 1679-1684," in Mountains, Monasteries and Mosques, ed. John Bray. Supplement to Rivista Orientali, pp. 59-79
  12. Emmer, Gerhard(2007) "Dga' ldan tshe dbang dpal bzang po and the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84," in The Mongolia-Tibet Interface. Opening new Research Terrains in Inner Asia, eds. Uradyn Bulag, Hildegard Diemberger, Leiden, Brill, pp. 81-107
  13. Ahmad, Zahiruddin (1968) "New Light on the Tibet-Ladakh-Mughal War of 1679-84." East and West, XVIII, 3, pp. 340-361
  14. Petech, Luciano(1947) "The Tibet-Ladakhi Moghul War of 1681-83." The Indian Historical Quarterly, XXIII, 3, pp. 169-199.
  15. See Islam-Tibet, Cultural Interactions (8th-17th centuries)
  16. Menon, P.M> & Proudfoot, C.L., The Madras Sappers, 1947-1980, 1989, Thomson Press, Faridabad, India.
  17. "Government may clear all weather tunnel to Leh today"। 16 July 2012। 
  18. "Flora and fauna of Ladakh"। India Travel Agents। সংগৃহীত 2006-08-21 
  19. Namgail, T. (2005). Winter birds of the Gya-Miru Wildlife Sanctuary, Ladakh, Jammu and Kashmir, India. Indian Birds, 1: 26-28.

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Allan, Nigel J. R. 1995 Karakorum Himalaya: Sourcebook for a Protected Area, ISBN 969-8141-13-8
  • Cunningham, Alexander. 1854. Ladak: Physical, Statistical, and Historical; with notices of the surrounding countries. Reprint: Sagar Publications, New Delhi. 1977.
  • Desideri (1932). An Account of Tibet: The Travels of Ippolito Desideri 1712-1727. Ippolito Desideri. Edited by Filippo De Filippi. Introduction by C. Wessels. Reproduced by Rupa & Co, New Delhi. 2005
  • Drew, Federic. 1877. The Northern Barrier of India: a popular account of the Jammoo and Kashmir Territories with Illustrations. 1st edition: Edward Stanford, London. Reprint: Light & Life Publishers, Jammu. 1971.
  • Francke, A. H. (1914), 1920, 1926. Antiquities of Indian Tibet. Vol. 1: Personal Narrative; Vol. 2: The Chronicles of Ladak and Minor Chronicles, texts and translations, with Notes and Maps. Reprint: 1972. S. Chand & Co., New Delhi. (Google Books)
  • Gillespie, A. (2007). Time, Self and the Other: The striving tourist in Ladakh, north India. In Livia Simao and Jaan Valsiner (eds) Otherness in question: Development of the self. Greenwich, CT: Information Age Publishing, Inc.
  • Gillespie, A. (2007). In the other we trust: Buying souvenirs in Ladakh, north India. In Ivana Marková and Alex Gillespie (Eds.), Trust and distrust: Sociocultural perspectives. Greenwich, CT: Information Age Publishing, Inc.
  • Gordon, T. E. 1876. The Roof of the World: Being the Narrative of a Journey over the high plateau of Tibet to the Russian Frontier and the Oxus sources on Pamir. Edinburgh. Edmonston and Douglas. Reprint: Ch’eng Wen Publishing Company. Tapei. 1971.
  • Harvey, Andrew. 1983. A Journey in Ladakh. Houghton Mifflin Company, New York.
  • Knight, E. F. 1893. Where Three Empires Meet: A Narrative of Recent Travel in: Kashmir, Western Tibet, Gilgit, and the adjoining countries. Longmans, Green, and Co., London. Reprint: Ch'eng Wen Publishing Company, Taipei. 1971.
  • Knight, William, Henry. 1863. Diary of a Pedestrian in Cashmere and Thibet. Richard Bentley, London. Reprint 1998: Asian Educational Services, New Delhi.
  • Moorcroft, William and Trebeck, George. 1841. Travels in the Himalayan Provinces of Hindustan and the Panjab; in Ladakh and Kashmir, in Peshawar, Kabul, Kunduz, and Bokhara... from 1819 to 1825, Vol. II. Reprint: New Delhi, Sagar Publications, 1971.
  • Norberg-Hodge, Helena. 2000. Ancient Futures: Learning from Ladakh. Rider Books, London.
  • Peissel, Michel. 1984. The Ants' Gold: The Discovery of the Greek El Dorado in the Himalayas. Harvill Press, London.
  • Rizvi, Janet. 1998. Ladakh, Crossroads of High Asia. Oxford University Press. 1st edition 1963. 2nd revised edition 1996. 3rd impression 2001. ISBN 0-19-564546-4.
  • Trekking in Zanskar & Ladakh: Nubra Valley, Tso Moriri & Pangong Lake, Step By step Details of Every Trek: a Most Authentic & Colourful Trekkers' guide with maps 2001–2002 Abebooks.co.uk
  • Zeisler, Bettina. (2010). "East of the Moon and West of the Sun? Approaches to a Land with Many Names, North of Ancient India and South of Khotan." In: The Tibet Journal, Special issue. Autumn 2009 vol XXXIV n. 3-Summer 2010 vol XXXV n. 2. "The Earth Ox Papers", edited by Roberto Vitali, pp. 371–463.
  • The Road to Lamaland - by Martin Louis Alan Gompertz
  • Magic Ladakh - by Martin Louis Alan Gompertz