হাম্মাদিয়ার মসজিদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সীতাকুণ্ড হাম্মাদিয়ার মসজিদ
অবস্থান চট্টগ্রাম,  বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠিত ১৫৩৩ - ১৫৩৮- এর মধ্যবর্তী যেকোন সময়[১]
স্থাপত্য তথ্য
ধরণ ইসলামী ঐতিহ্য

একটি সিরিজের অংশ
মসজিদ

স্থাপত্য
স্থাপত্য স্টাইল
মসজিদের তালিকা
অন্যান্য


হাম্মাদিয়ার মসজিদ সুলতানী আমলে নির্মিত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ[১] এটাকে চট্টগ্রাম জেলার এখনও বর্তমান মসজিদগুলোর মাঝে দ্বিতীয় প্রাচীন মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।[২]

অবস্থান[সম্পাদনা]

সুলতানী আমলের এই মসজিদটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় হাম্মাদিয়া দীঘি নামে একটি দীঘির পাশে অবস্থিত।[৩] মসজিদ স্থাপনের পর গ্রামের নামকরণ হয় মসজিদিয়া, স্থানীয়ভাবে বিকৃতভাবে উচ্চারিত হয় মসজিদ্দা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলার শেষ হোসেন শাহী বংশের সুলতান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহের (১৫৩৩-১৫৩৮) সময় তৎকালীন চাটিগ্রাম বা চাটগাঁও বন্দর শহরের ১২-১৩ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ৭নং কুমিরা ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামে এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ নির্মিত হয়।[২] অধ্যাপক আবদুল করিমের গবেষণা সূত্রে জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ শাহের সময়কালের চট্টগ্রামের শাসক হামিদ খান এই মসজিদ নির্মাণ করেন। নির্মাতা হামিদ খানের নামে মসজিদের নাম ছিল হামিদিয়া মসজিদ, পরবর্তিতে স্থানীয়ভাবে বিকৃত হয়ে হাম্মাদিয়ার মসজিদ নামটি হয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রাচীন সাহিত্যে মসজিদের নির্মাতার উল্লেখ[সম্পাদনা]

মধ্যযুগের কবি দৌলত উজির বাহরাম খান বিরচিত ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যে মসজিদের নির্মাতা হামিদ খানের দীঘি আর মসজিদ নির্মাণের উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রধান উজির তান সুনাম হামিদ খান
তাহান গুণের অন্ত নাই।
অন্ন শালা স্থানে স্থানে মসজিদ সুনির্মাণ
পুষ্করিনী দিলেক ঠাঁই ঠাঁই॥

বিবরণ[সম্পাদনা]

মসজিদটি একগম্বুজ বিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইমারত (বাইরের দিকে এর প্রতি বাহু ৬.৩৪ মিটার) এবং এর বাইরের চার কোণায় আছে চারটি সংযুক্ত চোঙ্গাকৃতির গোলাকার বুরুজ। প্রত্যেকটি বুরুজ অভিক্ষিপ্ত ভিতসহ ৬ মিটার উঁচু। এর গাত্রে রয়েছে খোদিত বুটি দ্বারা অলঙ্কৃত দুটি বন্ধনী, যা বপ্র পর্যন্ত বুরুজটিকে তিনটি অংশে বিভক্ত করেছে এবং বপ্রের উপরে প্রতিটি বুরুজের মাথা ছত্রী দ্বারা আবৃত। মসজিদটির ছাদ ক্রমানুযায়ী বক্রাকারে তৈরি এবং এর উপরে স্থাপন করা হয়েছে কন্দাকৃতির একটি বড় গম্বুজ। এ গম্বুজটি মূল চার দিকে চারটি স্কুইঞ্চের সাহায্যে নির্মিত অষ্টভুজের উপর স্থাপিত।

মসজিদের পূর্ব দেওয়ালে তিনটি খিলান দরজা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেওয়ালের প্রত্যেকটির মাঝে একটি করে জানালা আছে। প্রতিটি দরজার বাইরে ও ভেতরে রয়েছে দুটি সূচ্যগ্র পাথরের খিলান-ফ্রেম এবং এ দুয়ের মধ্যে আছে টোলের মতো খিলান ছাদ।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]