দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা
পশ্চিমবঙ্গের জেলা
সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানে বাঘ
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অবস্থান
পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অবস্থান
দেশ ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
বিভাগপ্রেসিডেন্সি
প্রতিষ্ঠা১ মার্চ, ১৯৮০
সদরআলিপুর
সরকার
 • লোকসভা কেন্দ্রজয়নগর (তফসিলি জাতি), মথুরাপুর (তফসিলি জাতি), ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, কলকাতা দক্ষিণ
 • বিধানসভা কেন্দ্রগোসাবা (তফসিলি জাতি), বাসন্তী (তফসিলি জাতি), কুলতলি (তফসিলি জাতি), পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর, কুলপি, রায়দিঘি, মন্দিরবাজার (তফসিলি জাতি), জয়নগর (তফসিলি জাতি), বারুইপুর পূর্ব (তফসিলি জাতি), ক্যানিং পশ্চিম (তফসিলি জাতি), ক্যানিং পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব (তফসিলি জাতি), মগরাহাট পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (তফসিলি জাতি), সোনারপুর দক্ষিণ, ভাঙর, সোনারপুর উত্তর, বেহালা পূর্ব, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, বেহালা পশ্চিম
আয়তন
 • Total৯,৯৬০ বর্গকিমি (৩,৮৫০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • Total৮১,৬১,৯৬১
 • জনঘনত্ব৮২০/বর্গকিমি (২,১০০/বর্গমাইল)
 • পৌর এলাকা১০,৮৯,৭৩০
জনপরিসংখ্যান
 • সাক্ষরতা৭৮.৫৭%
 • লিঙ্গানুপাত৯৪৯
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫:৩০)
যানবাহন নিবন্ধনডব্লিউবি-১৯ থেকে ডব্লিউবি-২২, ডব্লিউবি-৯৫ থেকে ডব্লিউবি-৯৯
প্রধান সড়ক১২ নং জাতীয় সড়ক, ১ নং জাতীয় সড়ক
গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত১৭৫০ মিলিমিটার
ওয়েবসাইটhttp://s24pgs.gov.in/

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা হল ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রশাসনিক জেলা। এই জেলার সদর আলিপুরে অবস্থিত। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার উত্তর দিকে কলকাতাউত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা, পূর্ব দিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, পশ্চিম দিকে হুগলি নদী ও দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এটি আয়তনের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম ও জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। জনসংখ্যার নিরিখে ভারতের ৬৪০টি জেলার মধ্যে এই জেলার স্থান ষষ্ঠ। এই জেলার এক দিকে কলকাতা মহানগরীর একাংশ এবং অপর দিকে সুন্দরবন অঞ্চলের বনাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী গ্রামগুলির অবস্থান।[১] ১৯৮০ সালের ১ মার্চ চব্বিশ পরগনা জেলা বিভাজিত করে এই জেলাটি গঠন করা হয়।[২]

নামকরণ[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কলিকাতা জমিদারির অন্তর্গত চব্বিশটি "পরগনা" (রাজস্ব-সংক্রান্ত বিভাগ) নিয়ে অবিভক্ত চব্বিশ পরগনা জেলা গঠিত হয়েছিল। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২০ ডিসেম্বর এক সন্ধির শর্ত অনুযায়ী বাংলার তৎকালীন নবাব মিরজাফর ইংরেজদের এই চব্বিশটি পরগনা অর্পণ করেছিলেন। পরগনাগুলির নাম হল: (১) আকবরপুর, (২) আজিমাবাদ, (৩) বলিয়া, (৪) বরিধারি, (৫) বাসনন্ধরি, (৬) কলিকাতা, (৭) আমিরপুর, (৮) দখিন সাগর, (৯) গড়, (১০) হাতিগড়, (১১) ইখতিয়ারপুর, (১২) খারিজুড়ি, (১৩) খাসপুর, (১৪) মৈদানমল বা মেদনিমল, (১৫) মগুরা, (১৬) মনপুর, (১৭) মৈদা, (১৮) মুড়াগাছা, (১৯) পাইকান, (২০) পিছাকুলি, (২১) সতল, (২২) শাহনগর, (২৩) শাহপুর ও (২৪) উত্তর পরগনা।[৩] ১৯৮৬ সালের ১ মার্চ চব্বিশ পরগনা জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত জেলাটি পরিচিত হয় "দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা" নামে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলার লেফট্যানেন্ট গভর্নর স্যার অ্যান্ড্রু ফ্রেজারের বাসভবনের ধ্বংসাবশেষ, ফ্রেজারগঞ্জ

১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব মীরজাফর কলকাতার দক্ষিণে কুলপি পর্যন্ত অঞ্চলে ২৪ টি জংলীমহল বা পরগনার জমিদারি সত্ত্ব ভোগ করার অধিকার দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। এই ২৪টি পরগনা হল-১। আকবরপুর ২।আমীরপুর ৩।আজিমবাদ ৪।বালিয়া ৫।বাদিরহাটি ৬।বসনধারী ৭।কলিকাতা ৮। দক্ষিণ সাগর ৯।গড় ১০।হাতিয়াগড় ১১।ইখতিয়ারপুর ১২।খাড়িজুড়ি ১৩।খাসপুর ১৪।মেদনমল্ল ১৫।মাগুরা ১৬।মানপুর ১৭।ময়দা ১৮। মুড়াগাছা ১৯। পাইকান ২০।পেচাকুলি ২১।সাতল ২২।শাহনগর ২৩।শাহপুর ২৪।উত্তর পরগনা। সেই থেকে অঞ্চলটির নাম হয় ২৪ পরগণা।

১৭৫৯ সালে কোম্পানি লর্ড ক্লাইভকে এই ২৪টি পরগনা ব্যক্তিগত জায়গীর হিসাবে দেয়। ১৭৭৪ সালে লর্ড ক্লাইভের মৃত্যুর পর এটি আবার কোম্পানির হাতে চলে আসে। ইংরেজ আমলে ২৪টি পরগনা জেলা প্রশাসনিক কারণে বহুবার ভাগ হয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তান হবার পর যশোর জেলার বনগাঁ ২৪টি পরগনা জেলার মধ্যে চলে আসে এবং সুন্দরবনের বৃহত্তম অংশ খুলনা ও বাখরগঞ্জের মধ্যে চলে আসে। ইংরেজ আমলে কলকাতা ২৪টি পরগনা জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভারতের রাজধানীতে পরিনত হয়। ১৯৮৩ সালে ডঃ অশোক মিত্রের প্রসাসনিক সংস্কার কমিটি এই জেলাকে বিভাজনের সুপারিশ করে। ১৯৮৬ সালে ১লা মার্চ জেলাটিকে উত্তর ২৪ পরগণা জেলাদক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা নামে দুটি জেলায় ভাগ করা হয়। দুটি জেলাই প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।

খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে গ্রিক ভূগোলবিদ টলেমিরট্রিটিজ অন জিওগ্রাফি” বইয়ে গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিদাই জাতির কথা বলা হয়েছে। গঙ্গারিডি বা গঙ্গারিদাই জাতির মানুষের আবাসস্থল ছিল এই অঞ্চল। উত্তর চব্বিশ পরগনার দেগঙ্গা থানার বেড়াচাঁপার অন্তর্গত প্রত্নস্থল চন্দ্রকেতুগড় এই ঐতিহাসিক রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী এবং রাজধানী ছিল বলে মনে করা হয়। প্রাক-মৌর্যযুগ থেকে কুষাণ, শুঙ্গ, গুপ্তযুগ এবং গুপ্ত-পরবর্তী পাল-সেন যুগের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংলগ্ন অঞ্চলসমূহ থেকে মিলেছে।

২৪টি পরগনা সরাসরি গুপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল না। গৌড় রাজ শশাঙ্ক এই অঞ্চলে শাসন কায়েম করতে পারেনি। পাল বংশের রাজা ধর্মপালের রাজ্যভুক্ত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে সেন যুগের বহু দেবদেবীর মূর্তি জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আবিস্কৃত হয়েছে।

কলকাতার শিয়ালদহের কাছে পুকুর খুঁড়ে প্রায় ৩০ ফুট নিচে সুন্দরী গাছের অনেক গুড়ি পাওয়া গিয়েছিল। মাতলার কাছে ১০-১২ ফুট মাটি খুঁড়ে একসময় দেখা গিয়েছে যে, একাধিক সুন্দরী গাছ কঙ্কালের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে এ অঞ্চলের মাটি বসে গিয়েছে; সেজন্য ঘরবাড়ি, মন্দির, মূর্তি, রাজপ্রাসাদ ইত্যাদি কোন চিহ্ন এখানে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তার অধিকাংশই মাটির তলায় সমাধিস্থ।[৪]

“মনসামঙ্গল” কাব্যে ২৪টি পরগনা জেলার অনেক জায়গার নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। চাঁদ সওদাগর চম্পকনগরী থেকে যাত্রা শুরু করে তার তরী ভাসিয়েছিলেন ভাগীরথীর প্রবাহে।তিনি কুমারহট্ট, ভাটপাড়া, কাকিনাড়া,মূলাজোড়, গারুলিয়া,ইছাপুর, দিগঙ্গা-চনক (ব্যারাকপুর),খড়দহ, চিৎপুর, কলিকাতা,কালীঘাট ইত্যাদি জায়গা পার হয়েছিলেন।তিনি চম্পকনগরী থেকে যাত্রা শুরু করে বারুইপুরে পৌছেছিলেন।

জানা যায়, গৌড় থেকে মাহিনগর (পাঠান সুলতানদের রাজকর্মচারী মহীপতি বসুর নামানুসারে এই গ্রামের নাম) পর্যন্ত ভাগীরথী গঙ্গার প্রবাহ ছিল এবং এখানে সুলতান হুসেন শাহের (১৪৯৩ - ১৫১৮) নৌবহরের একটি বড় ঘাঁটি ছিল।[৪]

গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ কালীঘাট দিয়ে পূর্ব-দক্ষিণ অভিমুখে বৈষ্ণবঘাটা, গড়িয়া, রাজপুর সোনারপুর, হরিনাভি, কোদালিয়া, চাংড়িপোতা, মালঞ্চ, মাহিনগর, শাসন, বারুইপুর, ময়দা, দক্ষিণ বারাসাত, জয়নগর মজিলপুর প্রভৃতি অঞ্চল দিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হত৷ সাগর অভিমুখি গঙ্গাপ্রবাহপথের এই গ্রামগুলি ধর্মার্থীদের কাছে পবিত্র ছিল এবং সেজন্য দাক্ষিণাত্য বৈদিক ব্রাহ্মণরা এখানে বহুকাল আগে থেকে বসবাস শুরু করেছিলেন।[৫]

কর্ণপুর রচিত “চৈতন্যচরিতামৃত” গ্রন্থে ও ২৪টি পরগনা জেলার অনেক জায়গার নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।“মনসামঙ্গল” কাব্যে ও “চৈতন্যচরিতামৃত” গ্রন্থে পাওয়া বিভিন্ন জায়গার নাম ও বিবরণ তুলনা করলে দেখে যায় ২৪টি পরগনা জেলার উক্ত জায়গাগুলির অস্তিত্ব ছিল। চাঁদসদাগর বারুইপুরে পৌছে আদি গঙ্গা তীরবর্তী মনসামন্দির লুঠ করেন। চৈতন্যদেব বারুইপুরের কাছে অতিসরাতে অনন্ত পন্ডিতের আতিথ্য গ্রহণ করেন। মথুরাপুর থানা অঞ্চলে ছিল ছত্রভোগ বন্দর।

ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলের নদীপথে পর্তুগিজ জলদস্যুদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। পরবর্তী ১০০ বছর তাদের আধিপত্য বজায় ছিল উত্তর ২৪টি পরগনা ও দক্ষিণ ২৪টি পরগনার বসিরহাট অঞ্চলে। এই সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের ("হার্মাদ") অত্যাচারে সুন্দরবনের অনেক সমৃদ্ধশালী জনপদ জনশূন্য হয়ে যায়। এখানকার নদীপথে যেতে যেতে অনেক জায়গায় জীর্ণ বাড়িঘরের, এক-আধটা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

১৭ শতাব্দীর শুরুতে প্রতাপাদিত্য, যিনি বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম ছিলেন, যশোর,খুলনা, বরিশালসহ গোটা ২৪টি পরগনা জেলার অধিপতি ছিলেন। যশোররাজ প্রতাপাদিত্য পর্তুগিজ জলদস্যুদের সঙ্গে বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি সাগরদ্বীপ, সরসুনা ,জগদ্দল প্রভৃতি অঞ্চলে দুর্গ বানিয়ে এদের আটকাবার চেষ্টা করেন। ১৮৯০ সালে সুন্দরবন সফরকারী এক ইংরেজ সাহেব রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজপুরীর ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান; যা সেসময় 'The Statesman' পত্রিকায় 'The Ruined City of the Sunderbans' নামে প্রকাশিত হয়েছিল।[৬]

১৬১০ সালে মুঘল সেনাপতি মান সিংহের হাতে প্রতাপাদিত্য পরাজিত হন়। ভবানন্দ মজুমদার নামে এক তালুকদারের বিশ্বাসঘাতকতায়, যিনি বর্ধমানে গিয়ে মান সিংহের সাথে দেখা করেন, এবং প্রতাপাদিত্যকে কীভাবে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলা যায় সে ব্যাপারে পরামর্শ দেন ।

মান সিংহ ছিলেন কামদেব ব্রহ্মচারীর শিষ্য । কামদেবের বংশধর হালিশহরের জায়গিরদার লক্ষীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় কে ১৬১০ সালে সম্রাট জাহাঙ্গির মাগুরা,পাইকান, আনোয়ারপুর, কলকাতা ইত্যাদি একুশটি অঞ্চলের জমিদারি স্বত্ত্ব দেন। প্রতাপাদিত্য যখন রাজা বসন্ত রায়কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন তখন থেকে প্রতাপাদিত্যের সংস্রব ত্যাগ করেছিলেন লক্ষ্মীকান্ত । হালিশহর নামটি লক্ষ্মীকান্তর পূর্বপুরুষ পাঁচু শক্তি খানের হাভেলির কারণে কালক্রমে হালিশহর হয় । পাঁচু শক্তি খান ছিলেন হুমায়ুনের আফগান সেনাদের প্রধান। লক্ষ্মীকান্তর বংশধরদের বলা হয় সাবর্ণ চৌধুরী, কেননা তারা আকবরের কাছ থেকে 'রায়' এবং জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে 'চৌধুরী' খেতাব পান ।

লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়ের নাতি কেশবচন্দ্র মুর্শিদকুলি খাঁর আমলে দক্ষিণ ২৪টি পরগনা ও খুলনার জমিদার নিযুক্ত হন।

ভূ-পরিচয়[সম্পাদনা]

বকখালি সমুদ্র সৈকত
কিরণ সৈকত, হেনরি দ্বীপ

উত্তর ২৪টি পরগনা ও দক্ষিণ ২৪টি পরগনা জেলার প্রায় পুরোটাই পলিগঠিত সমভূমি, উত্তর থেকে দক্ষিণে সামান্য ঢালু। ১৮৩০ সালে ড্যাম্পিয়ার ও হজেস নামে দুই জন সার্ভে অফিসার সুন্দরবনের ব-দ্বীপ অঞ্চলের উত্তর সীমা নির্ধারণ করেন। এই রেখার নাম হয় ড্যাম্পিয়ার-হজেস রেখা। এর দক্ষিণে সুন্দরবনের কর্দমাক্ত সিক্ত বনাঞ্চল "বাদাবন" নামে পরিচিত।এই বাদাবন (Mangrove forest) র‌য়াল বেঙ্গল টাইগারের বাসভূমি। গরাণ, গেঁওয়া, সুঁদরি, গর্জন, হেতাঁল, গোলপাতা, কেওড়া, ধোন্দল, পশুর, বাইন, কাদড়া, ওড়া, আমুড়, হদো, বেলাসুন্দরী, গিলে, বাকঝাকা ইত্যাদি সুন্দরবনের গাছপালা। এছাড়া, শিঙ্গড়া, ভাদাল, গড়ে, খলসী, হিঙ্গে, গোলদাদ, হোগলা ইত্যাদি আগাছা এবং নানাবিধ বনৌষধি পাওয়া যায়।[৭]

দক্ষিণ ২৪টি পরগনা জেলার নদীগুলির মধ্যে হুগলি,বিদ্যাধরী,পিয়ালী, মাতলা, ইছামতীযমুনা প্রধান। হুগলি নদী এই জেলার পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে প্রবাহিত। বাকি নদীগুলি গঙ্গা ও পদ্মার শাখা নদী।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন[সম্পাদনা]

জটার দেউল, কঙ্কণদীঘি, সুন্দরবন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

১৯২৩ সালে বারুইপুরের দু'মাইল উত্তর-পশ্চিমে গোবিন্দপুর গ্রামে দ্বাদশ শতাব্দীর সেনবংশীয় রাজা লক্ষ্মণসেনের গ্রামদানের একটি তাম্রশাসন পাওয়া যায় (দ্রষ্টব্য খাড়ি গ্রাম)। এই গ্রামে পুরানো একটি পুকুরপাড়ে (হেদোপুকুর নামে পরিচিত) কারুকাজ করা ইটের একটি স্তুপ দেখা যায়। গোবিন্দপুরের মাইলখানেক দক্ষিণে বেড়াল-বৈকুণ্ঠপুরে প্রাচীন একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় এবং আরও দক্ষিণে কল্যাণপুর গ্রামে প্রাচীন একটি জীর্ণ মন্দিরে একটি শিবলিঙ্গ আছে যাঁকে 'রায়মঙ্গল' কাব্যের 'কল্যাণ-মাধব' বলে চিহ্নিত করা হয়।

বারুইপুরের পাঁচমাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে কুলদিয়া গ্রামে বেশ সুন্দর একটি সূর্যমূর্তি (১ ফুট ১০ ইঞ্চি উঁচু ও ১ ফুট চওড়া) এবং সঙ্গে বেলেপাথরের নৃসিংহের একটি প্লাক পাওয়া গিয়েছে। জয়নগর থানার মধ্যে দক্ষিণ বারাসাত গ্রামে বিষ্ণু, নৃসিংহের একাধিক পাথরের মূর্তি, বিষ্ণুচক্র, স্তম্ভ ইত্যাদি পাওয়া গেছে। এখানকার সেনপাড়ায় পুকুর খননের সময় মাথায় নিখুঁত বহুগুণাবিশিষ্ট সর্পছত্রযুক্ত জৈন তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের একটি নগ্নমূর্তির সন্ধান মিলেছিল। দক্ষিণ বারাসাতের দুই মাইল দক্ষিণে বড়ুক্ষেত্র বা বহড়ু গ্রামেও ছ'ফুট উঁচু সুন্দর একটি সূর্যমূর্তি পাওয়া গেছে, গ্রামের লোক 'পঞ্চানন' বলে এর পূজা করেন। ময়দাগ্রামে পুকুর খুঁড়তে গিয়ে প্রায় দেড়ফুট উঁচু নৃত্যরত চমৎকার একটি গণেশমূর্তি পাওয়া যায়।

জয়নগরেও সূর্যমূর্তি পাওয়া গেছে; মথুরাপুরে ভূমিস্পর্শমুদ্রাযুক্ত একটি ভাঙা বুদ্ধমূর্তি এবং সূর্যমূর্তি পাওয়া গেছে। মথুরাপুরের দুই মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ঘটেশ্বর গ্রামে বিংশ শতকের প্রথম দিকে পুকুর খননের সময় তিনটি জৈনমূর্তি পাওয়া যায়, তার মধ্যে একটি মূর্তি কুসংস্কারবশত জলে ফেলে দেওয়া হয়, একটি বেদখল হয়ে যায়, আর একটি মজিলপুরের কালিদাস দত্ত নিজের সংগ্রহে নিয়ে এসে রাখেন। কাঁটাবেনিয়া গ্রামেও অনুরূপ বিষ্ণুমূর্তি, বাসুদেবমূর্তি, গণেশমূর্তি, মন্দিরের দ্বারফলক, বড় বড় প্রস্তরস্তম্ভ এবং একটি বৃহৎ জৈন পার্শ্বনাথের নিখুঁত মূর্তি পাওয়া গেছে, এটি বর্তমানে বিশালাক্ষি দেবীর সঙ্গে গ্রামদেবতা 'পঞ্চানন'রূপে পূজিত হন।

জয়নগরের তিন মাইল দক্ষিণে উত্তরপাড়ার জমিদারদের একটি পুরানো কাছারিবাড়ির কাছে পুকুর সংস্কারের সময় তিনটি সুন্দর বিষ্ণুমূর্তি ও একটি দশভূজা দুর্গামূর্তি পাওয়া যায়; মূর্তিগুলো জমিদাররা তাদের উত্তরপাড়া লাইব্রেরিতে নিয়ে যান৷ ছত্রভোগে একটি কুবেরের মূর্তি, বিষ্ণু ও দশভূজা দুর্গামূর্তি, ব্রোঞ্জের গণেশ ও নৃসিংহমূর্তি পাওয়া গেছে। আটঘরা থেকে তাম্রমুদ্রা, মৃৎপাত্রের টুকরো, পোড়ামাটির মেষমূর্তি, যক্ষ্মিণীমূর্তি, শীলমোহর,তৈজসপত্র, পাথরের বিষ্ণুমূর্তি ইত্যাদি মিলেছে।

১৮৬০-এর দশকে মথুরাপুর থানার মধ্যে, লট নং ১১৬, পুরানো আদিগঙ্গার খাত থেকে এখানকার গভীর জঙ্গল পরিষ্কারের সময় 'জটার দেউল' নামে একটি মন্দির আবিষ্কৃত হয়। অনেকের মতে, এখানে জটাধারী নামে এক শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত ছিল; আবার কারোর মতে, জটাধারী বড় বড় বাঘ এখানে ঘুরে বেড়াত। অধিকাংশ প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, জটার দেউলের স্থাপত্যশৈলীর সাথে ভুবনেশ্বরের দেউল স্থাপত্যের মিল আছে এবং সেদিক থেকে ও অন্যান্য আবিষ্কৃত নিদর্শন বিচার করে এর নির্মাণকাল আনুমানিক দ্বাদশ শতাব্দী।

১৯১৮ সালে জঙ্গল সাফ করার সময় জটার দেউলের ছ'মাইল দূরে দেউলবাড়ি নামক স্থানে (লট নং ১২২) এই ধরনের আরও একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় (এখন বিলুপ্ত)। এই স্থানের আধমাইল পূর্বে কমবেশি একবিঘা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অট্টালিকার ধ্বংসাবশেষ দেখা গিয়েছিল। ১৯২১-২২ সালে জটার দেউলের বারো-তেরো মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে জগদ্দল গাঙের কাছে আরও একটি মন্দিরের অবশেষের হদিশ মিলেছিল। মাটি খোঁড়ার সময় এখানে (বনশ্যামনগর) ইটের ঘর, প্রচুর ইট মৃৎপাত্রের টুকরো এবং মানুষের অস্থি-কঙ্কাল ইত্যাদি পাওয়া যায়।

এর আটমাইল উত্তর-পশ্চিমে (লট নং ১১৪) এসময় জঙ্গলের মধ্যে বেশ একটি বড় ইটের স্তুপ খুঁড়ে নিচে একটি মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, গর্ভগৃহ ছাড়া এই মন্দিরের আর কোন অংশের চিহ্ন ছিল না। খননকালে চারটি বিষ্ণুমূর্তি (একটি ৪ ফুট উঁচু, দুটি ৩ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং আরেকটি ৩ ফুট ২ ইঞ্চি উঁচু) ও একটি নটরাজমূর্তি (মূর্তিটি ৩ ফুট ১ ইঞ্চি উঁচু, দশহাতযুক্ত; গলায় আজানুলম্বিত একটি মালা আছে, মালার নিচে দশটি নরমুণ্ড ঝোলানো।)। এছাড়া, পাথরপ্রতিমা, রাক্ষসখালি প্রভৃতি অঞ্চলেও অষ্টধাতুর বুদ্ধমূর্তি , অন্যান্য পাথর ও পোড়ামাটির মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে।[৮]

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা পাঁচটি মহকুমায় বিভক্ত: আলিপুর সদর, বারুইপুর, ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিংকাকদ্বীপ[৯]

এই জেলার সদর আলিপুরে অবস্থিত। জেলায় মোট ৩৩টি থানা, ২৯টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক, ৭টি পুরসভা ও ৩১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে।[৯][১০] দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত সুন্দরবন অঞ্চল বারোটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক জুড়ে অবস্থিত: সাগর, নামখানা, কাকদ্বীপ, পাথরপ্রতিমা, কুলতলি, মথুরাপুর ১, মথুরাপুর ২, জয়নগর ২, ক্যানিং, ক্যানিং ২, বাসন্তীগোসাবা[১০] জেলায় মোট ৩৭টি দ্বীপ আছে।[১০]

পুরসভা এলাকাগুলি ছাড়া দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রত্যেকটি মহকুমার অন্তর্গত সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকগুলি আবার গ্রামীণ অঞ্চল ও জনগণনা নগরে বিভক্ত। জেলায় মোট ১১৮টি নগরাঞ্চল রয়েছে: সাতটি পুরসভা ও ১১১টি জনগণনা নগর।[১০][১১]

মহকুমা সদর
আয়তন
কিলোমিটার
জনসংখ্যা
(২০১১)
নগরাঞ্চলীয়
জনসংখ্যা %
(২০১১)
গ্রামীণ
জনসংখ্যা %
(২০১১)
আলিপুর সদর আলিপুর ৪২৭.৪৩ ১,৪৯০,৩৪২ ৫৯.৮৫ ৪০.১৫
বারুইপুর বারুইপুর ১,৩৫৫.৪৪ ২,৩৯৬,৬৪৩ ৩১.০৫ ৬৮.৯৫
ক্যানিং ক্যানিং ১,১০৩.৭৩ ১,১৪০,৫৬২ ১২.৩৭ ৮৭.৬৩
ডায়মন্ড হারবার ডায়মন্ড হারবার ১,২৬৪.৬৮ ২,১২৫,৭৫৮ ১৪.৬১ ৮৫.৩৯
কাকদ্বীপ কাকদ্বীপ ১,৩৮৯.৯৩ ১,০০৮,৬৫৩ ১০০
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা আলিপুর ৯,৯৬০,০০ ৮,১৬১,৯৬১ ২৫.৫৮ ৭৪.৪২

আলিপুর সদর মহকুমা[সম্পাদনা]

আলিপুর সদর মহকুমার অন্তর্গত এলাকাগুলি হল:[৯]

কাকদ্বীপ মহকুমা[সম্পাদনা]

কাকদ্বীপ মহকুমা নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি নিয়ে গঠিত:[৯]

ক্যানিং মহকুমা[সম্পাদনা]

ক্যানিং মহকুমা নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি নিয়ে গঠিত:[৯]

ডায়মন্ড হারবার মহকুমা[সম্পাদনা]

ডায়মন্ড হারবার মহকুমা নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি নিয়ে গঠিত:[৯]

বারুইপুর মহকুমা[সম্পাদনা]

বারুইপুর মহকুমা নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি নিয়ে গঠিত:[৯]

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ধর্মবিশ্বাস (২০১১)[১২]

  হিন্দুধর্ম (৬৩.১৭%)
  ইসলাম (৩৫.৫৭%)
  অন্যান্য (০.১৪%)
  নাস্তিক (০.৩০%)

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মোট জনসংখ্যা ৮,১৬১,৯৬১, [১] যা হন্ডুরাস রাষ্ট্র[১৩] অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যের জনসংখ্যার প্রায় সমান।[১৪] ভারতের মোট ৬৪০টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যার নিরিখে এই জেলার স্থান ষষ্ঠ।[১] জেলার জনঘনত্ব ৮১৯ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (২,১২০ জন/বর্গমাইল)।[১] ২০০১-২০১১ দশকে এই জেলার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৮.০৫ শতাংশ।[১] দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার লিঙ্গানুপাতের হার হল প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯৪৯ জন মহিলা[১] এবং সাক্ষরতার হার ৭৮.৫৭ শতাংশ।[১]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার নিম্নলিখিত পুরসভা ও জনগণনা নগরগুলি ২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী কলকাতা মহানগরীয় অঞ্চলের অন্তর্গত (পুরসভা ও জনগণনা নগরগুলি বন্ধনীর মধ্যে যথাক্রমে "পু." ও "জ. ন." হিসাবে উল্লিখিত): জোকা (জ. ন.), চটা কালিকাপুর (জ. ন.), গন্যে গঙ্গাধরপুর (জ. ন.), রামেশ্বরপুর (জ. ন.), অসুতি (জ. ন.), হাঁসপুকুরিয়া (জ. ন.), কালুয়া (জ. ন.), রামচন্দ্রপুর (জ. ন.), সামালি (জ. ন.), মহেশতলা (পু.), উত্তর রায়পুর (জ. ন.), বলরামপুর (জ. ন.), বুইটা (জ. ন.), বেনজানহারি আচারিয়াল (জ. ন.), অভিরামপুর (জ. ন.), নিশ্চিন্তপুর (জ. ন.), বিড়লাপুর (জ. ন.), চক কাশীপুর (জ. ন.), চক আলমপুর (জ. ন.), বোওয়ালি (জ. ন.), দক্ষিণ রায়পুর (জ. ন.), পোয়ালি (জ. ন.), পূজালি (পু.), বজবজ (পু.), দৌলতপুর (জ. ন.), ভাসা (জ. ন.), বিষ্ণুপুর (জ. ন.), কন্যানগর (জ. ন.), নহাজারি (জ. ন.), নাদাভাঙা (জ. ন.), কঙ্গনবেড়িয়া (জ. ন.), বোড়া গগনগোহালিয়া (জ. ন.), চন্দনদহ (জ. ন.), বড়কালিকাপুর (জ. ন.), পাথরবেড়িয়া (জ. ন.), রামকৃষ্ণপুর (জ. ন.), আমতলা (জ. ন.), কৃপারামপুর (জ. ন.), চক এনায়েতনগর (জ. ন.), মরিচা (জ. ন.), ভাঙর রঘুনাথপুর (জ. ন.), গোবিন্দপুর (জ. ন.), রাধানগর (জ. ন.), দাংগা (জ. ন.), রামচন্দ্রপুর (জ. ন.), বিদ্যাধরপুর (জ. ন.), কালিকাপুর (জ. ন.), চক বেড়িয়া (জ. ন.), সাহেবপুর (জ. ন.), রাজপুর সোনারপুর (পু.), পেটুয়া (জ. ন.), গড়িয়া (জ. ন.), পাঁচঘড়া (জ. ন.), মল্লিকপুর (জ. ন.), হরিহরপুর (জ. ন.), চম্পাহাটি (জ. ন.), সোলগোহালিয়া (জ. ন.), নারিদানা (জ. ন.), সালিপুর (জ. ন.), খোদার বাজার (জ. ন.), কোমারহাট (জ. ন.), বারুইপুর (পু.), রায়নগর (জ. ন.), কালিকাপুর বারাসাত (জ. ন.), বহড়ু (জ. ন.), উত্তরপারাঞ্জি (জ. ন.), আলিপুর (জ. ন.), উত্তর দুর্গাপুর (জ. ন.) ও জয়নগর মজিলপুর (পু.).[১৫]

ভাষা[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ভাষা (২০১১)[১৬].[১৭]

  বাংলা (৯৭.৮২%)
  হিন্দি (১.৬৮%)
  অন্যান্য (০.৫০%)

২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মোট জনংখ্যার ৯৭.৯ শতাংশের মাতৃভাষা বাংলা; ১.৫ শতাংশের মাতৃভাষা হিন্দি, ০.৩ শতাংশের মাতৃভাষা উর্দু এবং ওড়িয়াতেলুগু-ভাষী লোকের সংখ্যা ০.১ শতাংশ করে।[১৮]

ধর্ম[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ১৯৬১ সালে হিন্দু জনসংখ্যার হার ছিল ৭৬.০ শতাংশ; ২০১১ সালে তা কমে হয় ৬৩.২ শতাংশ। একই সময়কালে জেলার মুসলমান জনসংখ্যার হার ২৩.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৩৫.৬ শতাংশ। ২০১১ সালে জেলায় খ্রিস্টান জনসংখ্যার হার ছিল ০.৮ শতাংশ।[১৯]

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় সাক্ষরতার হার ৭৭.৫১ শতাংশ। আলিপুর সদর মহকুমায় সাক্ষরতার হার ৮১.১৪ শতাংশ, বারুইপুর মহকুমায় ৭৭.৪৫ শতাংশ, ক্যানিং মহকুমায় ৭০.৯৮ শতাংশ, ডায়মন্ড হারবার মহকুমায় ৭৬.২৬ শতাংশ এবং কাকদ্বীপ মহকুমায় সাক্ষরতার হার ৮২.০৪ শতাংশ।[২০]

নিচের সারণিতে ২০১৩-১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার শিক্ষাব্যবস্থার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হল (তথ্যপরিসংখ্যান সংখ্যায় প্রদত্ত হয়েছে):[২০]

মহকুমা প্রাথমিক
বিদ্যালয়
মধ্য
বিদ্যালয়
উচ্চ
বিদ্যালয়
উচ্চ মাধ্যমিক
বিদ্যালয়
সাধারণ
কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়
প্রযুক্তি /
পেশাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান
অপ্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রছাত্রী
আলিপুর সদর ৫৩১ ৫৩,৭১৯ ৩৪ ৪,৪৫৫ ৫০ ১৬,৪৭১ ৯১ ৬৬,৮১৩ ৮,১২২ ৩,০৯৪ ১,৩৭৯ ৫৩,৪২৯
বারুইপুর ৮৮৩ ১৩২,৬৪৯ ৬৫ ৮,৯৫৪ ৫০ ২৬,৪৪৩ ১২৮ ১২৯,১৯৫ ২৭,৬৫৭ ৬,৭৩৫ ৩,১১৬ ১৩৮,৫০৭
ক্যানিং ৫৩২ ৮১,৬৯৭ ৫৯ ৯,১৮১ ২৯ ১০,৫১৫ ৫৫ ৫৭,৯২১ ৫,৪৯০ অজ্ঞাত ২,১০৫ ৯৬,৬২২
ডায়মন্ড হারবার ১,২১২ ১১৬,৪০৭ ৬১ ৬,৬৮০ ৯৮ ৩৮,৪৭০ ১৪৫ ১১৩,১৪৭ ২০,০৬১ ১,৭৭৪ ৩,১৪০ ১৩৭,৩৭৮
কাকদ্বীপ ৫৯৮ ৫৩,০৫৮ ৪৫ ৫,৬৫৪ ৪৮ ২০,৩৮৩ ৮২ ৫৬,১৯২ ৫,৪২০ ১০০ ১,৮৪৪ ৭৮,৮৯৭
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা* ৩,৭৫৬ ৪৩৭,৫৩০ ২৬৪ ৩৪,৯২৪ ২৭৫ ১১৮,২৮২ ৫০১ ৪২৩,২৬৮ ২৭ ৬৬,৭৫০ ২০ ১১,৭০৩ ১১,৫৮৪ ৫০৪,৮৩৩

* দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার যে অংশগুলি কলকাতা পৌরসংস্থার অন্তর্ভুক্ত সেখানকার তথ্য সংযোজিত হয়নি।

স্বাস্থ্য পরিষেবা[সম্পাদনা]

নিচের সারণিতে (সকল তথ্য সংখ্যায় দেওয়া হল) ২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সকল হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে লভ্য চিকিৎসা পরিষেবার বিবরণ দেওয়া হল:[২১]

মহকুমা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ অন্যান্য
রাজ্য
সরকারি
বিভাগ
স্থানীয়
সংস্থা
কেন্দ্রীয়
সরকারি
বিভাগ/
পিএসইউ
এনজিও /
বেসরকারি
নার্সিং
হোম
মোট মোট
শয্যাসংখ্যা
মোট
চিকিৎসকের
সংখ্যা
অন্তর্বিভাগীয়
রোগী
বহির্বিভাগীয়
রোগী
হাসপাতাল
গ্রামীণ
হাসপাতাল
ব্লক
প্রাথমিক
স্বাস্থ্য
কেন্দ্র
প্রাথমিক
স্বাস্থ্য
কেন্দ্র
আলিপুর সদর - - ৪৮ ৬৫ ১,১৫৯ ১৯৯ ৩৩,৪৯৮ ৬৩৩,২৩৩
বারুইপুর ১৮ - - ৬৬ ৯৪ ১,০৪৫ ২০১ ৪৮,১১৪ ১,২৬৬,২৪৪
ক্যানিং - - - ১৫ ২৬ ৩৫১ ৪৯ ২২,৪৬৭ ৬৬৬,৩৭৭
ডায়মন্ড হারবার মহকুমা ১৭ - - - ৬৮ ৯৫ ১০৭৭ ১৬৯ ৬৫,০৫১ ১,৩২৫,৫৩৫
কাকদ্বীপ ১১ - - - ২০ ৩৬ ৪৫৮ ৭৩ ২৮,৭০৭ ৪০৫,৫০১
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা ২১ ৫৯ - ২১৭ ৩১৬ ৪,০৯০ ৬৯১ ১৯৭,৮৩৭ ৪,৩৯৭,৮৯০

দ্র: জেলাওয়াড়ি তথ্যের মধ্যে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার যে অংশগুলি কলকাতা পৌরসংস্থার অন্তর্গত সেখানকার তথ্য সংযোজিত হয়নি। চিকিৎসকদের সংখ্যা বেসরকারি বাদে দেখানো হয়েছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

গ্রামীণ দারিদ্র্য[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে একটি গ্রামীণ গৃহস্থালী সমীক্ষায় জানা যায়, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মোট জনসংখ্যার ৩৪.১১ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে, যা রাজ্য ও জাতীয় দারিদ্র্য অনুপাতের অনেক উপরে। উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জনবসতি এলাকায় অবস্থিত তেরোটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের নথিবদ্ধ দারিদ্র্য অনুপাত নিম্ন দারিদ্র্যসীমায় অবস্থানকারী জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের উপরে এবং আটটি ব্লকের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশের উপরে।[২২]

অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অনুন্নত অঞ্চলের তালিকাভুক্ত। এই জেলাটি অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য লাভ করে। ভারত সরকার সৃষ্ট এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট ২৭২টি জেলা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের এগারোটি জেলা রয়েছে।[২৩][২৪]

যোগাযোগ[সম্পাদনা]

কৃষি[সম্পাদনা]

মৎস্যচাষ[সম্পাদনা]

মৎস্যচাষ সমগ্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ২০০১ সালের হিসাব অনুযায়ী, সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি লোক এই জেলায় মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে ২.৫৭ লক্ষ মানুষের বাস সুন্দরবন বসতি অঞ্চলের তেরোটি ব্লকে।[২৫]

শিল্প[সম্পাদনা]

  • কাকদ্বীপ
  • সাগর দ্বীপ
  • ক্যানিং

মেলা[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার মতো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাতেও অসংখ্য মেলা আয়োজিত হয়। এগুলির মধ্যে প্রধান মেলাগুলি হল: গঙ্গাসাগর মেলা, জয়নগরের দোল উৎসবের মেলা, বহড়ু গ্রামে শ্যামসুন্দরের মেলা, বড়িশার চণ্ডীমেলাআছিপুরের চীনা মন্দিরের মেলা।

গঙ্গাসাগর মেলা[সম্পাদনা]

গঙ্গাসাগর মেলায় আগত সাধু

প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি (পৌষ সংক্রান্তি) উপলক্ষ্যে সাগর দ্বীপের দক্ষিণে গঙ্গাসাগরের কপিল মুনি মন্দিরে পূজা ও মেলা আয়োজিত হয়। সারা ভারত থেকে সাধুসন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রীরা এই মেলা উপলক্ষ্যে গঙ্গাসাগরে আসেন এবং সাগরসঙ্গমে (গঙ্গা নদীর মোহনা) স্নান করেন। বর্তমান কপিল মুনি মন্দিরটি নির্মিত হয় ১৮৯৯ সালে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং রামকৃষ্ণ মিশনভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো ধর্মীয় সংস্থাগুলি তীর্থযাত্রীদের সহযোগিতা করে থাকে। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে গঙ্গাসাগরে তিন দিন স্নানের বিধি রয়েছে। সংক্রান্তির আগের দিন "বাউনি", সংক্রান্তির স্নান এবং পরদিন অর্থাৎ পয়লা মাঘ উত্তরায়ণ স্নান। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, উত্তরায়নের দিন গঙ্গার পুত্র ভীষ্ম দেহত্যাগ করেছিলেন। মেলাও এই তিন দিনই চলে। মেলায় চাল, ডাল, চিড়ে, মুড়ি, তরিতরকারি, নানা রকম খাদ্যদ্রব্য, কাঠের জিনিস, পাথরের বাসনপত্র, লোহার জিনিসপত্র ইত্যাদি বিক্রি হয়।[২৬]

জয়নগরের দোল উৎসবের মেলা[সম্পাদনা]

প্রতি বছর দোল পূর্ণিমায় জয়নগরে দুর্গাপুর গ্রামের আরাধ্য দেবতা শ্যামসুন্দরের মন্দিরে পক্ষকাল ব্যাপী উৎসব ও মেলা আয়োজিত হয়। কথিত আছে, ষোড়শ শতাব্দীতে সুন্দরবন অঞ্চলের তদনীন্তন শাসক প্রতাপাদিত্য রায়ের আত্মীয় বসন্ত রায় আদিগঙ্গার তীরে খাড়ি ছত্রভোগের জঙ্গলের মধ্যে এক বৈষ্ণব মন্দিরে রাধাবল্লভ, মদনমোহন ও শ্যামসুন্দর নামে তিনটি কৃষ্ণবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। একবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে জলস্ফীতি ও ভূমিকম্পের ফলে এই স্থান সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে দক্ষিণ বিষ্ণুপুর থেকে এক তান্ত্রিক জঙ্গলে এসে মূর্তিগুলি দেখতে পান এবং সেগুলিকে উদ্ধার করে জয়নগরের জমিদারকে প্রদান করেন। তারপর থেকেই এই দোল উৎসব ও মেলার সূচনা হয়।[২৭]

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • রামচন্দ্র তর্কালঙ্কার (দ্বিজ রামচন্দ্র) (১৭৯৩ - ১৮৪৫) – প্রাক-আধুনিক বাঙালি কবি। পৈত্রিক নিবাস তথা জন্মস্থান দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার হরিনাভি।[২৮]
  • রাজনারায়ণ বসু (৭ সেপ্টেম্বর, ১৮২৬ – ১৮ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৯) – ব্রাহ্ম নেতা, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তাঁর আদি নিবাস ছিল অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বোড়ালে।[৩২]
  • শিবনাথ শাস্ত্রী (৩১ জানুয়ারি, ১৮৪৭ – ৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯) – সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা, সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর লেখা আত্মচরিতরামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ সমকালীন সমাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পুস্তক। শিবনাথ শাস্ত্রীর পৈত্রিক নিবাস ছিল অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মজিলপুরে[৩৭]
  • জানকীনাথ বসু (২৮ মে, ১৮৬০ – নভেম্বর, ১৯৩৪) – কটক জেলা আদালতের আইনজীবী, পরবর্তীকালে কটক পুরসভার চেয়ারম্যান এবং বাংলার শাসনপরিষদের সদস্য হন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর পুত্র। বসু পরিবারের আদি নিবাস তথা জানকীনাথ বসুর জন্ম অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হরিনাভির নিকট কোদালিয়ায় (অধুনা সুভাষগ্রাম)।[৩৮]
  • হেমন্ত মুখোপাধ্যায় (১৬ জুন, ১৯২০ – ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯) – সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। রবীন্দ্রসংগীত, বাংলা আধুনিক গান এবং বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী। তাঁর জন্ম ও পৈত্রিক নিবাস অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বহড়ু গ্রাম।[৪১]


আকর গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • আদি গঙ্গার তীরে-ডঃ প্রতিসকুমার রায়চৌধুরী-মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা।
  • চব্বিশ পরগনার আঞ্চলিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি-গোকুল চন্দ্র দাস-প্রগ্রেসিভ পাবলিশার্স কলকাতা
  • পশ্চিমবঙ্গ-জেলা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সংখ্যা
  • পশ্চিমবঙ্গ-শিবনাথ শাস্ত্রী সংখ্যা
  • দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার অতীত-কালিদাস দত্ত
  • রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ-শিবনাথ শাস্ত্রী

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "District Census 2011"। Registrar General and Census Commissioner, India। ২০১১। ১ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৩ 
  2. Mandal, Asim Kumar (২০০৩)। Google books preview from The Sundarbans of India: A Development Analysis। Indus Publishing। পৃষ্ঠা 168–169। আইএসবিএন 81-7387-143-4। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-০৪ 
  3. সমরেন্দ্রনাথ চন্দ (সংকলিত), গল্পে গাথায় ছন্দে বাংলা স্থাননাম, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ২০০৮ সংস্করণ, ২০১০ মুদ্রণ, পৃ. ৭১
  4. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১৫২
  5. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ২২০
  6. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ২৭৪
  7. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ২৭২
  8. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১৫২-১৫৫
  9. "Directory of District, Sub division, Panchayat Samiti/ Block and Gram Panchayats in West Bengal"। National Informatics Centre, India। ১৯ মার্চ ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৮ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. "District Profile"। Official website of South 24 Parganas district। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  11. "Population, Decadal Growth Rate, Density and General Sex Ratio by Residence and Sex, West Bengal/ District/ Sub District, 1991 and 2001"West Bengal। Directorate of census operations। ১৯ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  12. "C-1 Population By Religious Community"। Census। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০১৯ 
  13. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ১ অক্টোবর ২০১১Honduras 8,143,564 
  14. "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। ১৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১Virginia 8,001,024 
  15. "Provisional Population Totals, Census of India 2011" (PDF)Constituents of Urban Agglomeration Having Population Above 1 Lakh। Census of India 2011। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৬ 
  16. http://www.censusindia.gov.in/2011census/C-16.html
  17. "DISTRIBUTION OF THE 22 SCHEDULED LANGUAGES-INDIA/STATES/UNION TERRITORIES - 2011 CENSUS" (PDF) 
  18. "Census of India 2011, West Bengal, District Census Handbook, South Twentyfour Parganas, Series – 20, Part XII-A, Village and Town Directory" (PDF)Page 53, Table 11: Population by Mother-tongue in South 24 Parganas district 1961-2001। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  19. "District Census Handbook South Twentfour Parganas, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Pages 52-53: Religion। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৮ 
  20. "District Statistical Handbook 2014 South Twety-four Parganas"Basic data: Table 4.4, 4.5, Clarifications: other related tables। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৯ 
  21. "District Statistical Handbook 2014 South Twety-four Parganas"Table 3.1, 3.3। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৯ 
  22. "District Human Development Report: South 24 Parganas"Pages 42-43, Chapter 3.8: Poverty Scenario in South 24 Parganas। Department of Planning and Statistics, Government of West Bengal। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  23. "Backward Regions Grant Funds: Programme Guidelines" (PDF)। Ministry of Panchayati Raj, Government of India। ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  24. "Backward Regions Grant Fund"Press Release, 14 June 2012। Press Information Bureau, Government of India। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  25. "District Human Development Report: South 24 Parganas"Pages 76 , Chapter 4.5.2: Non-agriculture, (i) Pisciculture। Department of Planning and Statistics, Government of West Bengal। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  26. বাংলার মেলা, অনুপম মিত্র, রক্তকরবী, কলকাতা, ২০১৩ সংস্করণ, ২০১৮ মুদ্রণ, পৃ. ৩১-৩৩
  27. বাংলার মেলা, অনুপম মিত্র, রক্তকরবী, কলকাতা, ২০১৩ সংস্করণ, ২০১৮ মুদ্রণ, পৃ. ২৮
  28. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৪৮১
  29. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৪৩
  30. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ২২৩
  31. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ১৩১
  32. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৪৬৭-৪৬৮
  33. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৪৮৫
  34. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ২৭২-২৭৩
  35. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৭০-৭১
  36. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৩১৭
  37. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৫২২-৫২৩
  38. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ১৭৩-১৭৪
  39. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ১৫৫
  40. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, প্রধান সম্পাদক: সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৮১
  41. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সম্পাদক: অঞ্জলি বসু, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৯৮ সংস্করণ, ২০০২ মুদ্রণ, পৃ. ৪১৩

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]