ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক। দক্ষিণ বাংলার suballtern discourse তথা নিম্নবর্গীয় মানুষের বয়ান, সমাজ জীবন উপজীব্য করে সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন তাঁদের অন্যতম।

ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬শে নভেম্বর ডায়মন্ড-হারবারে। পিতা উদয় চন্দ্র চট্টোপাধ্য্যায়, মাতা রানীবালা চট্টোপাধ্যায় ।

শিক্ষা ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ডায়মন্ড-হারবার হাই স্কুলে বিদ্যালয়ের পাঠ, তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে কলাবিভাগে স্নাতক । এরপর সরকারী চাকরি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা কালেক্টরেটেই কর্মজীবন শুরু ।

সাহিত্যকর্ম-[সম্পাদনা]

ছাত্রজীবনেই লেখালেখি শুরু। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তা প্রকাশিত হতে থাকে। তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবী কংসারী হালদারের ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বিশেষত বাদা অঞ্চল, দ্বীপ বা চরে বসবাসকারী মানুষের সাথে ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন । নিম্নবর্গীয় মানুষদের খুব কাছে থেকে জেনেছেন, বুঝেছেন নিজের মত করে অতি স্বাভাবিক ভাবেই। মোটামুটি সত্তরে দশক হতে যে লেখাগুলি শুরু করেন, সেগুলি পুস্তক আকারে প্রকাশিত হতে থাকে। প্রথম ছোট গল্প সংকলন ‘ ‘যাত্রীনিবাস’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে। গল্পের মূল প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয় দক্ষিণ বাংলার বাদা অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই। সেখানকার নদীনালা, ফেরীঘাট, ছোট দ্বীপ বা চরভূমি, গাঙ, আবাদী,অনাবাদী জমি – এই ভৌগলিক বৃত্তের মানুষ, তাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ আয়ুধ হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

উপন্যাস সমূূহ -[সম্পাদনা]

প্রকাশিত উপন্যাসগুলি হল –বন্দর (১৯৯২), রামপদর অশন-ব্যসন(১৯৯৩), বিনোদনের বিপণন (১৯৯৩),স্বজনভূমি (১৯৯৪), চরপুর্ণিমা(১৯৯৫),পুবের মেঘে দক্ষিণের আকাশ (১৯৯৫), ফুলের মানুষ (২০০০), সহিস (২০০৩), জোড়কলম (২০০৭), নভেলেট (২০০৯), সমুদ্রদুয়ার (২০১০), নতুন মেম, জলের সীমানা প্রভৃতি । গল্প সম্ভারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – যাত্রীনিবাস(১৯৮৭), ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের ছোট গল্প, ও শ্রেষ্ঠ গল্প। হিন্দি ও ইংরাজী ছাড়াও তামিল, মালায়লম ভাষাতে ওনার উপন্যাস ও গল্প অনূদিত হয়েছে।

সম্মাননা -[সম্পাদনা]

তারাশঙ্কর স্মৃতি পুরস্কার, সোপান, কথাপুরস্কার (দিল্লী), রামমোহন লাইব্রেরী পুরস্কার, পাঞ্চজন্য, শিলালিপি, সমতট, মহাদিগন্ত সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন । ‘সহিস’ উপন্যাসের জন্য ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্কিম সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। দক্ষিণের নিম্মবর্গীয় মানুষদের জীবনের চালচিত্র যথাযথভাবে তুলে ধরার স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন 'নেতাজী সুভাষ সম্মাননা – ২০১৯’।

====তথ্যসূত্র====

দে'জ পাবলিশিং হাউজ, কলকাতা ৭০০ ০৭৩