প্রতাপাদিত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রতাপাদিত্য
যশোরের মহারাজা
জন্ম১৫৬১
জন্মস্থানযশোর, বাংলা, ভারতীয় উপমহাদেশ (বর্তমান বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৬১১ (বয়স ৫০)
মৃত্যুস্থানবেনারস, মুঘল, ভারত (বর্তমানে উত্তর-প্রদেশ, ভারত)
দাম্পত্যসঙ্গীশরৎ কুমারী
সন্তানাদিউদয়াদিত্য, সংগ্রামদিত্য এবং বিন্দুমতি।
পিতাশ্রী হরি অথবা শ্রী ধর
ধর্মবিশ্বাসহিন্দু
যে সিরিজের অংশ সেটি হল
বাংলার ইতিহাস
Atisha.jpg
প্রাচীন বাংলা
 বৈদিক যুগ 
বাংলার প্ৰাচীন জনপদসমূহ
গঙ্গারিডাই, বঙ্গ,
পুণ্ড্র, সুহ্ম,
অঙ্গ, হরিকেল

মৌর্যযুগ
ধ্রুপদী বাংলা
ধ্রুপদী যুগ
শশাঙ্ক
সাম্রাজ্যের যুগ
পাল সাম্রাজ্য, সেন সাম্রাজ্য
মধ্যযুগীয় বাংলা
ইসলামের আগমন
বাংলা সুলতানী, দেব রাজ্য
বখতিয়ার খিলজি, রাজা গণেশ, জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ, হুসেন শাহী রাজবংশ

মুঘল যুগ
প্রতাপাদিত্য, রাজা সীতারাম রায়
বাংলার নবাব, বারো ভুঁইয়া, রাণী ভবাণী

আধুনিক বাংলা
কোম্পানি রাজ
পলাশীর যুদ্ধ, জমিদারী ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্রিটিশ ভারত
বাংলার নবজাগরণ
ব্রাহ্মসমাজ
স্বামী বিবেকানন্দ, জগদীশচন্দ্র বসু,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু

উত্তর-সাম্রাজ্য যুগ
বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭), বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ
শেখ মুজিবুর রহমান, জ্যোতি বসু, বিধানচন্দ্র রায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা

এছাড়াও দেখুন
বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ

প্রতাপাদিত্য (বাংলা: প্রতাপাদিত্য) (১৫৬১–১৬১১ CE) একজন জমিদার ছিলেন, পরবর্তীতে একজন হিন্দু রাজা হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেন।, বারো ভুঁইয়ার অন্যতম প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন।[১] তিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তার জামিদারী উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে শুরু করে, বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, যশোর ও নড়াইল পর্য়ন্ত বিস্তৃত ছিল।

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

প্রতাপাদিত্যের বাবা শ্রীধর অথবা শ্রী হরি দাউদ খান কররানীর অধীনে একজন কর্মকর্তা ছিলেন।[২] শ্রী হরি দাউদ খান কররানীর বিশ্বস্ত উজির লুদি খানকে হত্যা করে উজির পদ দাবি করেন।[৩] দাউদ খান কররানী তাকে ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি প্রদান করেন এবং মৃত জমিদার চাঁদ খানের জমিদারি তাকে দান করেন। উল্লেখ্য যে, চাঁদ খানের কোন বংশধর ছিল না।[৪] দাউদ কররানী মুঘলদের কাছে পরাজিত হবার পর শ্রী হরি তার রাজকোষের সমস্ত অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান।[২] শ্রী হরি খুলনার বাওর এলাকায় যান এবং সেখানে নিজেকে মহারাজা বিক্রমাদিত্য হিসেবে ঘোষণা করেন।[৩] ১৫৮৪ সালে প্রতাপাদিত্যের জন্ম হয় এবং ১৫৬১ সালে তিনি সিংহাসনে আরোহন করেন।[৫]শ্রী হরি তার রাজ্যেকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ৮ ভাগের ৫ ভাগ প্রতাপাদিত্যকে এবং ৮ ভাগের ৩ ভাগ তার ভাই বসন্ত রায়কে প্রদান করেন।

বসন্ত রায় ছিলেন প্রতাপাদিত্যের চাচা। তিনি প্রতাপাদিত্য এবং তার ভাই লক্ষীকান্ত কে (যিনি পরবর্তীতে লক্ষীকান্ত রায়চৌধুরী নামে পরিচিত হন) প্রতিপালন করেন। তিনি তাদের জমিদারি এবং প্রশাসনিক বিষয় শিক্ষা দেন।[৫] প্রতাপাদিত্য যশোরের প্রশাসনে যোগদান করেন এবং নিজেকে একজন যোগ্য শাসক হিসেবে প্রমাণ করেন। এটা মোটামুটি স্বীকৃত যে নিজে স্বতন্ত্রভাবে প্রশাসন পরিচালনা করার জন্য তিনি তার চাচা কে হত্যা করেন।[৬][৭] এই ঘটনায় লক্ষীকান্ত অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং জমিদারি প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করে কালীঘাটে তার জন্মভূমিতে চলে যান।[৫][৬]

সামরিক অভিযান[সম্পাদনা]

মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর জানতে পারেন যে প্রতাপাদিত্য তাঁর চাচা বসন্ত রায় কে হত্যা করে স্বাধীন রাজা হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেছেন। প্রতাপাদিত্য কে দমন করার জন্য মুঘল সম্রাট সেনাপতি মান সিং কে বাংলায় প্রেরণ করেন। লক্ষীকান্তের উত্তর পুরুষরা দাবি করেন যে রাজা মানসিংহ বসন্ত রায়কে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। প্রতাপাদিত্য কে পরাজিত করার পর রাজা মান সিং তার গুরুপুত্র লক্ষীকান্ত এর সাথে দেখা করেন।[৮]

মুগলদের বিরুদ্ধে জোট ও প্রচারণা[সম্পাদনা]

বাংলার জমিদারদের মধ্যে প্রতাপাদিত্য ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের অনুগ্রহ পাওয়ার জন্য প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। ১৬০৮ সালে প্রতাপাদিত্যের প্রতিনিধি হিসাবে শায়খ বারি এবং তার কনিষ্ঠ পুত্র সংগ্রামাদিত্য প্রচুর উপঢৌকন নিয়ে সুবাদারের দরবারে হাজির হন। চুক্তি অনুসারে, প্রতাপাদিত্য কে সশরীরে হাজির হবার শর্তে রাজপুত্র সংগ্রমাদিত্য কে সুবাদারের জিম্মায় রেখে দেয়া হয়। ১৬০৯ সালে আত্রাই নদীর তীরে প্রতাপাদিত্য মুঘল সুবাদারের নিকট আত্মসমর্পণ করেন।[২]

প্রতাপাদিত্য এই মর্মে রাজি হন যে তার রাজ্যে ফেরত যাবার পর তিনি ৪০০ যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তার কনিষ্ঠ পুত্র সংগ্রাম আদিত্যকে মুঘল সামরিক বাহিনীতে যোগদান করার জন্য প্রেরণ করবেন। এবং তিনি নিজে আড়িয়াল খাঁ নদী ধরে ২০,০০০ পাইক, এক হাজার অশ্বারোহী, এবং ১০০ সামরিক নৌ-যান নিয়ে মুসা খানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন।[৯] প্রতাপাদিত্য তাঁর প্রতিজ্ঞা না রাখার কারণে, সুবাদার ইসলাম খান তার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। আসন্ন আক্রমণের আশঙ্কায় তিনি আশিটি নৌযান নিয়ে তার কনিষ্ঠ পুত্র সংগ্রামাদিত্য কে সুবাদারের নিকট প্রেরণ করেন। কিন্তু সুবাদার নৌযানগুলো গ্রহণ না করে ধ্বংসের নির্দেশ দেন।[২]

প্রতাপাদিত্য আফগান বংশোদ্ভূত সৈনিক এবং ভাড়াটিয়া পর্তুগীজ সৈনিকদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। তিনি উদিত্যনারায়ন কে সলকা দুর্গ রক্ষার দায়িত্ব দেন। উদিত্যনারায়ণের সাথে ছিল জামাল খান নামে এক আফগান সেনাপতি। জামাল খান ছিলেন অশ্বারোহী এবং হস্তী বাহিনীর প্রধান। আর একজন আফগান ৫০০ নৌযানের একটি নৌবহর এর নেতৃত্ব দেন।

সলকার যুদ্ধ[সম্পাদনা]

মোঘলরা ১০০০ অশ্বারোহী হয় এবং ৫০০০ বন্দুকধারীর এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করে। এই বাহিনীতে বেশ কিছু অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন যেমন, মির্জা মাক্কীহ, ইফতিকার খান, মির্জা সাইফুদ্দিন, শেখ ইসমাইল ফতেপুরী, সায়েক কয়সার এবং লাচ্মি রাজপুত। মুঘল পদাতিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুবাদার ইসলাম খানের ভ্রাতা গিয়াস খান ওরফে এনায়েত খান। একই সময় তার জামাতা বাকলার রাজা রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযান প্রেরণ করা হয় যাতে তিনি বাকলা থেকে যশোরের সাহায্যে এগিয়ে আসতে না পারেন। ১৬১১ সালের ডিসেম্বর মাসে মুঘল বাহিনী ইছামতি এবং ভৈরব নদীর তীর ধরে যশোরের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে থাকে। দ্রুত তারা যমুনা এবং ইছামতি সঙ্গমস্থলে সলাকা নামক একটি স্থানে পৌঁছায়।[২] মুঘল বাহিনীর সলকার দিকে অগ্রসর হলে উদিত্যনারায়ণ আচমকা তাদের উপর আক্রমণ করেন। মুঘল বাহিনী কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আফগান জামাল খান কে দুর্গের দায়িত্বে রেখে যান। যশোর বাহিনী মুঘল বাহিনীকে পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য করে। পরে গোলন্দাজ বাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে যশোর বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়। খাজা কামাল নিহত হন। উদিত্য নারায়ণ পলায়ন করেন। জামাল খান তার হস্তী বাহিনী নিয়ে উদিত্য নারায়ণ কে অনুসরণ করেন।[২]

খাগারঘাটের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

প্রতাপাদিত্য দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। এবারের যুদ্ধক্ষেত্র খাগড়াঘাট খাল এবং যমুনার সংগম স্থান। জনুয়ারি, ১৬১২ সালে মুঘল বাহিনী যশোর বাহিনীকে আক্রমণ করে এবং তাদের দুর্গের অভ্যন্তরে অবস্থান নিতে বাধ্য করে। যশোর বাহিনীর বিপুল গোলাবর্ষণের মাধ্যমে মুঘল বাহিনীর অগ্রসরকে বাধা দেয়। কিন্তু এক অতর্কিত আক্রমণে মোগলবাহিনী দুর্গ দখল করে নেয়। প্রতাপাদিত্য বাধ্য হয়ে দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে পালিয়ে যান।[২] দ্বিতীয়বারের মতো পরাজয়ের পর প্রতাপাদিত্যের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। রাজা মান সিং লক্ষ্মীকান্ত কে সিংহাসনে বসার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।[৬] ভবানন্দ মজুমদার নামে প্রতাপাদিত্যের এক কর্মচারীকে সিংহাসনে বসানো হয়। পরবর্তীতে তিনি নদীয়া রাজপরিবারের পত্তন করেন।[১০]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

রাজা প্রতাপাদিত্য একজন যোগ্য প্রশাসক ছিলেন। তার সময় দেশে আইনের শাসন বজায় ছিল। কবি ভারত চন্দ্র লিখেছিলেন-

‘যশোর নগর ধাম       
 প্রতাপ আদিত্য নাম
 মহারাজা বঙ্গজ কায়সত্ম
 নাহি মানে পাতশায়,       
 কেহ নাহি আটে তায়
 ভয়ে যত ভূপতি দ্বারস্থ
 বরপুত্র ভবানীর       
 প্রিয়তম পৃথিবীর
 বায়ান্ন হাজার যার পল্লী
 ষোড়শ হলকা হাতি       
 অযুত তুরঙ্গ সাতি
 যুদ্ধকালে সেনাপতি কালী।’

এলাকা[সম্পাদনা]

প্রতাপাদিত্যের রাজ্য বৃহত্তর ২৪ পরগনা, যশোর এবং খুলনা নিয়ে গঠিত ছিল। বর্তমান কুষ্টিয়া, বরিশাল এবং ভোলাও তার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১১] ধুমঘাট ছিল তার রাজ্যের রাজধানী।

সামরিক বাহিনী[সম্পাদনা]

প্রতাপাদিত্য বেশকিছু দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। কাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৪ টি দুর্গ ছিল যশোর, ধুমঘাট, রায়গর ,কমলাপুর, বেদকাশি, শিবসা, প্রতাপনগর, শালিখা, মাতলা, হায়দার গড়, আড়াই কাকি, মানি, রায়মঙ্গল এ অবস্থিত ছিল। সাতটি দুর্গ ছিল বর্তমান কলকাতায় অবস্থিত। স্থানগুলো হল, মাতলা, রায়গর, তালা, বেহালা, শালিকা, চিৎপুর এবং মুলাগড়।

প্রতাপাদিত্যের সামরিক বাহিনী ছয়টি বিভাগে বিভক্ত ছিল। বিভাগগুলি হল পদাতিক, অশ্বারোহী, তীরন্দাজ, গোলন্দাজ, এবং হস্তি বাহিনী। পদাতিক বাহিনী প্রধানের নাম ছিল কালিদাস রায় এবং মদন মাল্লা। ভারতচন্দ্র এর লেখা অনুসারে প্রতাপাদিত্যের সেনাবাহিনীতে ৫২০০০ ঢালী ছিল। অনেক কুকি সৈন্য ছিল। তাদের সেনাপতির নাম ছিল রঘু। অশ্বারোহী বাহিনীতে ১০ হাজার সৈন্য ছিল। যাদের সেনাপতি ছিলেন প্রতাপ সিংহ দত্ত। মহিউদ্দিন এবং নুরুল্লা ছিলেন তার সহকারী। তীরন্দাজ বাহিনীর প্রধান ছিলেন সুন্দর এবং ধুলিয়ান বেগ। ১৬০০ হাতিকে যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও প্রতাপাদিত্যের একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা বাহিনী ছিল।

প্রতাপাদিত্যের সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য ছিলেন বাঙ্গালী কায়স্থ, রাজপুত, পর্তুগিজ সৈন্য এবং আফগান মুসলমান। বহু সংখ্যক আরকানিজ এবং কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত সৈন্য তার বাহিনীতে ছিল। তার বাহিনীর সেনাপতিদের মধ্যে ছিলেন জামাল খান গোত্র খানের পুত্র এবং খাজা কামাল এরা সবাই আফগান মুসলমান ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন একজন বাঙালি ব্রাহ্মণ যার নাম ছিল রুদ্রদীত্য উপাধ্যায়। রুদ্রদীত্য ছিল তার ভ্রাতুষ্পুত্রী এর জামাতা।

নৌবাহিনী[সম্পাদনা]

বাংলার উপকণ্ঠে পর্তুগীজ জলদস্যু এবং আরাকান জলদস্যুদের ক্রমাগত আক্রমণের প্রেক্ষাপটে বাংলার কোন শাসকই একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করতে পারেননি। বারো ভূঁইয়াদের সবারই নিজস্ব নৌ বাহিনী ছিল। অধ্যাপক রাধা কুমুদ মুখার্জি এর পর্যালোচনায়,

তৎকালীন সময়ে বাংলার হিন্দুরা যাদের মূল নৌঘাঁটি অবস্থিত ছিল চান্দিখান এবং সাগরদ্বীপে। এ দুটি নৌঘাঁটি দুর্ধর্ষ রাজা প্রতাপাদিত্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অনেক যুদ্ধজাহাজ সর্বদা যুদ্ধযাত্রার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকত। এছাড়াও আরও তিনটি স্থানে প্রতাপাদিত্যের শিপ ইয়ার্ড এবং ডকইয়ার্ড ছিল। সেই স্থানগুলি হল ধুবালি, জাহাজঘাটা, এবং চাকরাশি। সেখানে যুদ্ধ জাহাজ মেরামত এবং সংরক্ষণ করা হতো।

যুদ্ধ জাহাজগুলো সাধারনত সুন্দরবনের কাঠ দ্বারা নির্মিত হত। কিছু কিছু জাহাজে ৬৪টি দাড় থাকত। এসকল নৌযানের বেশিরভাগই কামান দ্বারা সজ্জিত থাকত। নৌবহরে বিভিন্ন শ্রেণীর নৌযান ছিল। যেমন, পায়রা, মহলগিরি, গুরাব, পাল, ‍ডিঙি, বালাম ইত্যাদি। ওলন্দাজ ঐতিহাসিক জস গমানসের মতে সে সময় মুঘলদের নৌযানের সংখ্যা ছিল ৫০০টি। তখন রাজা প্রতাপাদিত্যের নৌযানে সংখ্যা ছিল তার প্রায় দ্বিগুণ। [১২] প্রতাপাদিত্যের নৌ-বাহিনী প্রথমে বাঙালি সেনাপতিদের অধীনে থাকলেও পরবর্তীতে পর্তুগিজ সেনাপতিদের হাতে এর নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

খাগড়াঘাট যুদ্ধের পর মুঘলরা এক সন্ধি প্রস্তাব করে। মুঘলরা এই বিপুল যুদ্ধে জয়লাভ করলেও উভয় পক্ষের সেনারা ক্লান্ত এবং অবসন্ন ছিল। চুক্তিতে প্রতাপাদিত্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।[৩] প্রতাপাদিত্য গিয়াস খানের নিকট আত্মসমর্পণ করার পর তাকে শৃঙ্খলিত করে গিয়াস খান নিজে ইসলাম খানের দরবারে হাজির করেন। ঢাকায় তাকে আটক করে রাখা হয়। [২] প্রতাপাদিত্যের জীবনের শেষ দিনগুলি সম্পর্কে খুব ভালো কোনো প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি। কিছু মুঘল দলিলে পাওয়া যায় যে তাকে বন্দি অবস্থায় দিল্লি নেয়ার পথে তিনি বেনারস থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাংলায় ফেরার পথে তিনি মারা যান।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nagendra Nath Ray (১৯২৯)। Pratapaditya। B. Bhattacharyya at the Sree Bhagabat Press। 
  2. Khan, Muazzam Hussain (২০১২)। "Pratapaditya, Raja"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  3. Chakrabarty, Dipesh (২০১৫)। The Calling of History: Sir Jadunath Sarkar and His Empire of Truth। University of Chicago Press। পৃষ্ঠা 137–140। আইএসবিএন 0-226-10045-6। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৬ 
  4. Steele, Tim (১০ জানুয়ারি ২০১৫)। "Pratapaditya, another freedom fighter"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  5. Bangiya Sabarna Katha Kalishetra Kalikatah by Bhabani Roy Choudhury, Manna Publication. আইএসবিএন ৮১-৮৭৬৪৮-৩৬-৮
  6. "Sarborno Roy Chowdhurys and their Puja"Durga Darshan। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [নিজস্ব উৎস]
  7. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; AlamHussain2011 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  8. "History of the Sabarna Roy Choudhury Family and of Kolkata (Calcutta)"The Family History। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ [নিজস্ব উৎস]
  9. Akhtaruzzaman, Md (২০১২)। "Sripur"Islam, Sirajul; Jamal, Ahmed A.। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। Asiatic Society of Bangladesh 
  10. Bhattacharya, Jogendra Nath (১৮৯৬)। Hindu Castes and Sects। Calcutta: Thacker, Spink and Co.। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  11. Singh, Nagendra Kr. (২০০৩)। Encyclopaedia Of Bangladesh। Anmol Publications। পৃষ্ঠা 54। আইএসবিএন 81-261-1390-1 
  12. Gommans, Jos J. L. (২০০২)। Mughal warfare: Indian frontiers and highroads to empire, 1500–1700। Routledge। পৃষ্ঠা 174। আইএসবিএন 0-415-23989-3 

তথ্য সূত্র: http://www.jessore.gov.bd/node/1139707/স্বাধীন-রাজা-প্রতাপাদিত্য