ইছামতী জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইছামতী জেলা
পশ্চিমবঙ্গের জেলা
উপরে থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে: বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য, বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, বাঙালি জনগণ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক সীমান্তে একত্রীত হয়েছে, ঠাকুরনগর মতুয়া মহাসংঘ ও ইছামতি নদী
সার্বভৌম রাষ্ট্র ভারত
রাজ্যপশ্চিমবঙ্গ
বিভাগপ্রেসিডেন্সি
প্রতিষ্ঠা২০২২
সরকার
 • লোকসভা নির্বাচনী এলাকাবনগাঁ
 • এমপিশান্তনু ঠাকুর (বিজেপি)
আয়তন
 • মোট৮৩৮.১৭ বর্গকিমি (৩২৩.৬২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট১০,৬৩,০২৮
 • জনঘনত্ব১,৩০০/বর্গকিমি (৩,৩০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • দাপ্তরিকবাংলা, ইংরেজি
জনসংখ্যা-বিষয়ক
 • সাক্ষরতা৮০.৫৭% (২০১২-১৩)[১]
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)

ইছামতী জেলা পশ্চিমবঙ্গের প্রেসিডেন্সি বিভাগের একটি প্রস্তাবিত জেলা।[২][৩] জেলাটি উত্তর ২৪ পরগণা জেলা থেকে বনগাঁ মহকুমাকে পৃথক করে গঠন করা হবে।[৪][৫]

জেলার উত্তর ও পূর্ব সীমানা ভারত-বাংলাদেশ অন্তর্জাতিক সীমান্ত গঠন করে। দক্ষিণ সীমানা বসিরহাটউত্তর ২৪ পরগনা জেলার সঙ্গে যুক্ত এবং পশ্চিম সীমানা রানাঘাট জেলার সঙ্গে সীমান্ত গঠন করে। এই জেলার জনসংখ্যা ২০১১ সালের ভারতের আদমশুমারি অনুসারে ১০,৬৩,০২৮ জন ছিল। প্রস্তাবিত এই জেলার একমাত্র পুরসভা এলাকাটি হল বনগাঁ। মূলত ঔপনিবেশিক যুগে ইংরেজ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বনগাঁ মহকুমার মোট আয়তন বর্তমান জেলার আয়তন হয়ে উঠেছে, জেলার মোট আয়তন হল ৮৩৮.১৭ বর্গকিমি (৩২৩.৬২ বর্গমাইল)। জেলার নাম জেলার প্রধান নদী ইছামতী নদীর নাম থেকে নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮৮৩ সালে বনগাঁ মহকুমাটিকে নদিয়া জেলা থেকে যশোহর জেলার হস্তান্তরিত করা হয়।[৬][৭] ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় যশোহর জেলার অন্তর্গত বনগাঁ ও গাইঘাটা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত বনগাঁ মহকুমা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং অবশিষ্ট যশোহর জেলা চলে যায় পূর্ব পাকিস্তানে[৮]

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২২ সালের ১ অগস্ট বনগাঁ মহকুমা নিয়ে ইছামতী জেলার ঘোষণা করেন।[২][৪][৫]

ভূগোল[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত ইছামতী জেলাটি নিম্ন গাঙ্গেয় বদ্বীপের অবস্থিত ইছামতী-রায়মঙ্গল সমভূমির অংশ। এই অঞ্চলের মাটি পরিপক্ক কালো বা বাদামি দোঁয়াশ থেকে পলল প্রকৃতির। প্রস্তাবিত জেলার পূর্বাঞ্চলে ইছামতী নদী প্রবাহিত।[৯]

এলাকা[সম্পাদনা]

সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত ইছামতী জেলার ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকগুলির বর্তমান চিত্র নিম্নরূপ:[১০][১১][১২][১৩]

সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক সদর
আয়তন
কিমি
জনসংখ্যা
(২০১১)
তফসিলি জাতি % তফসিলি উপজাতি % হিন্দু % মুসলমান % সাক্ষরতার
হার %
জনগণনা
নগর
বাগদা বাগদা ২৩৩.৪৭ ২৪২,৯৭৪ ৫৪.৮১ ৫.৩৩ ৮২.০০ ১৭.৪২ ৭৫.৩০ -
বনগাঁ বনগাঁ ৩৩৬.৭০ ৩৮০,৯০৩ ৪৬.৬০ ৩.৬১ ৭৮.১৭ ১৮.৪৭ ৭৯.৭১ -
গাইঘাটা চাঁদপাড়া বাজার ২৪৩.৩০ ৩৩০,২৮৭ ৪৯.১৩ ১.৭৬ ৯৩.২৭ ৬.৪২ ৮৩.৩২

পুরসভা[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত ইছামতী জেলার ভূখণ্ডের অন্তর্গত একমাত্র পৌরশহরটির বিবরণ নিচে দেওয়া হল:[১৩][১৪]

পুরসভা আয়তন (কিমি) জনসংখ্যা
(২০১১)
হিন্দু % মুসলমান % বস্তির
জসংখ্যা %
দরিদ্র পরিবার % (২০০৬) সাক্ষরতা%
(২০০১)
বনগাঁ ১৫.৫৭ ১০৮,৮৬৪ ৯৬.৬৬ ২.৮৫ ১৪.৫৩ ৩৭.৪৫ ৮৪.১৬

গ্রাম পঞ্চায়েত[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত ইছামতী জেলার অন্তর্গত ভূখণ্ডে তিনটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অধীনে মোট ৩৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে:[১৫]

  • বাগদা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল: আশাড়ু, হেলেঞ্চা, মালিপাড়া, বাগদা, কোনিয়াড়া–১, রণঘাট, বয়রা, কোনিয়াড়া–২ ও সিন্দরানি।
  • বনগাঁ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল: আকাইপুর, ছাইঘড়িয়া, গাংড়াপোতা, কালুপুর, বৈরামপুর, ধরমপুকুরিয়া, ঘাটবৌর, পাল্লা, চৌবেড়িয়া-১, দিঘাড়ি, গোপালনগর-১, সুন্দরপুর, চৌবেড়িয়া-২, গঙ্গানন্দপুর, গোপালনগর-২ ও টেংড়া।
  • গাইঘাটা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল: চাঁদপাড়া, ফুলসারা, জলেশ্বর-২, সুতিয়া, ধর্মপুর-১, ইছাপুর-১, ঝৌডাঙা, ধর্মপুর-২, ইছাপুর-২, রামনগর, দুমা, জলেশ্বর-১ ও শিমুলপুর।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত এই জেলায় সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। জেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এছাড়া, জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদপশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

নহাটা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষাঙ্গন ও ভবন

জেলাটিতে মোট ৪ টি মহাবিদ্যালয় রয়েছে। দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয় ১৯৪৭ সালে বনগাঁ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি জেলার প্রচিন্তন প্রাচীনতম মহাবিদ্যালয়। নহাটা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল স্মৃতি মহাবিদ্যালয় ১৯৮৫ সালে, ডক্টর বি আর আম্বেদকর শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয় ২০০৫ সালে ও পি.আর ঠাকুর গভর্নমেন্ট কলেজ ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পি আর ঠাকুর গভর্নমেন্ট কলেজটি জেলার একমাত্র সরকারি মহাবিদ্যালয়[১৬] এবং অন্য তিনটি সরকার থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত মহাবিদ্যালয়। এই মহাবিদ্যালয় ৪ টি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। তবে, পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে পি আর ঠাকুর গভর্নমেন্ট কলেজ ব্যতীত অন্য তিনটি মহাবিদ্যালয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল।

জেলার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়টি চাঁদপাড়ার নিকট দেবীপুর গ্রামে অবস্থিত। এটি ২০১৯ সালে ১১ই জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[১৭] বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী শিক্ষাঙ্গনটি ৮.৮ একর (০.০৩৬ বর্গকিমি) জুড়ে বিস্তৃত। বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো নির্মাণাধীন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম অস্থায়ী শিক্ষাঙ্গন পি.আর ঠাকুর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা[সম্পাদনা]

প্রস্তাবিত ইছামতী জেলার প্রধান হাসপাতাল হল ডাঃ জীবন রতন ধর মহকুমা হাসপাতাল। এটি ২৫০ টি শয্যা নিয়ে গঠিত।[১৮] এছাড়াও, এই জেলায় ৩০ টি শয্যা বিশিষ্ট দুটি গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যথা- বাগদা গ্রামীণ হাসপাতাল ও চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "District Statistical Handbook"North 24 Parganas 2013, Basic data: Table 4.4, 4.5, Clarifications: other related tables। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। ২০১৯-০১-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  2. "West Bengal to get 7 new districts, cabinet reshuffle on Wednesday: Mamata Banerjee"। timesofindia.indiatimes.com। Times of India। ১ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  3. "West Bengal to get 7 new districts, announces CM Mamata Banerjee"। www.livemint.com। Live Mint। ১ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  4. "Explained: 7 new districts in West Bengal — how and why are districts created or abolished in India?"। indianexpress.com। The Indian Express। ১ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  5. "রাজ্যে ২৩ জেলা বেড়ে হবে ৩০! নতুন সাত জেলা ছ'মাসের মধ্যে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর"। www.anandabazar.com। Anandabazar। ১ আগস্ট ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  6. "Bengal District Gazetteers, Jessore by L.S.S. O'Malley"Chapter II: History, Page/ Section 44। Bengal Secretariat Book Depot, 1912। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৮ 
  7. "District Gazetteer" (পিডিএফ)Chapter IX: General Administration, Page 150। Egiye Bangla। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৮ 
  8. "Jessore District Information"। Khujbo.com। ১৬ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১৮ 
  9. "District Census Handbook North Twenty Four Parganas, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Page 13। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১৬ এপ্রিল ২০১৮ 
  10. "District Statistical Handbook"North 24 Parganas 2013, Tables 2.1, 2.2, 2.4b। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। ২০১৯-০১-২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৮ 
  11. "District Census Handbook North Twenty Four Parganas, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (পিডিএফ)Map of North Twenty Four Parganas with CD Block HQs and Police Stations (on the fifth page)। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৮ 
  12. "C.D. Block Wise Primary Census Abstract Data(PCA)"West Bengal – District-wise CD Blocks। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৫ 
  13. "Population by Religious Community"West Bengal - North 24 Parganas। Registrar General and Census Commissioner, Government of India। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৮ 
  14. "District Human Development Report: North 24 Parganas" (পিডিএফ)(1)Table 3.3.2: Population densist and other features of municipalities in North 24 Parganas, Pages 42-43 (2) Table 3.3.8: Slum population, slum children and literacy rates in slum, Page 51 (3) Table 3.3.10: Distriution of BPL households in uraban North 24 Parganas and (4) Table 3.3.7 Literacy rates in urban North 24 Parganas, Page 49। Development & Planning Department, Government of West Bengal, 2010। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৮ 
  15. "Directory of District, Subdivision, Panchayat Samiti/ Block and Gram Panchayats in West Bengal"North Twentyfour Parganas - Revised in March 2008। Panchayats and Rural Development Department, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৮ 
  16. "P.R.Thakur Government College"। PRTGC। ২২ জুন ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০১৮ 
  17. "Harichand Guruchand University" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২ 
  18. "Health & Family Welfare Department"Health Statistics। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১ আগস্ট ২০২২