কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক

স্থানাঙ্ক: ২২°০৫′১২″ উত্তর ৮৮°৩৫′৩৭″ পূর্ব / ২২.০৮৬৬° উত্তর ৮৮.৫৯৩৭° পূর্ব / 22.0866; 88.5937
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কুলতলি
সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক
কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মানচিত্র
কুলতলি পশ্চিমবঙ্গ-এ অবস্থিত
কুলতলি
কুলতলি
কুলতলি ভারত-এ অবস্থিত
কুলতলি
কুলতলি
পশ্চিমবঙ্গে কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অবস্থান##ভারতে কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°০৫′১২″ উত্তর ৮৮°৩৫′৩৭″ পূর্ব / ২২.০৮৬৬° উত্তর ৮৮.৫৯৩৭° পূর্ব / 22.0866; 88.5937
দেশ ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
জেলাদক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা
মহকুমাবারুইপুর মহকুমা
আয়তন
 • মোট৩০৬.১৮ বর্গকিমি (১১৮.২২ বর্গমাইল)
উচ্চতা৭ মিটার (২৩ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২,২৯,০৫৩
 • জনঘনত্ব৭৫০/বর্গকিমি (১,৯০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • সরকারিবাংলা[১][২]
 • অতিরিক্ত সরকারিইংরেজি[১]
সময় অঞ্চলভারতীয় প্রমাণ সময় (ইউটিসি+০৫.৩০)
পিন কোড৭৪৩৩৩৮
টেলিফোন কোড+৯১ ৩২১৮
যানবাহন নিবন্ধনডব্লিউবি-১৯ থেকে ডব্লিউবি-২২, ডব্লিউবি-৯৫ থেকে ডব্লিউবি-৯৯
লোকসভা কেন্দ্রজয়নগর (তফসিলি জাতি)
বিধানসভা কেন্দ্রকুলতলি (তফসিলি জাতি)
ওয়েবসাইটwww.s24pgs.gov.in

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারুইপুর মহকুমার একটি প্রশাসনিক বিভাগ

ভূগোল[সম্পাদনা]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের অবস্থান ২২°০৫′১২″ উত্তর ৮৮°৩৫′৩৭″ পূর্ব / ২২.০৮৬৬° উত্তর ৮৮.৫৯৩৭° পূর্ব / 22.0866; 88.5937। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা ৭ মিটার (২৩ ফু)। এই ব্লকের উত্তর দিকে জয়নগর ১ক্যানিং ১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক, পূর্ব দিকের একাংশে বাসন্তী সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক, পূর্ব দিকের অপর অংশে এবং দক্ষিণ দিকে সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান এবং পশ্চিম দিকে জয়নগর ২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক অবস্থিত।[৩][৪]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের আয়তন ৩০৬.১৮ বর্গ কিলোমিটার। জেলা পরিসংখ্যান হ্যান্ডবুক, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা অনুযায়ী, এই ব্লকে একটি পঞ্চায়েত সমিতি, ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ১২০টি গ্রাম সংসদ, ৪৬টি মৌজা ও ৪৩টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। ব্লকটি কুলতলিমাইপীঠ উপকূলীয় থানার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার অন্তর্গত।[৫] ব্লকের সদর দফতর জামতলায় অবস্থিত।[৬]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের তটরেখার দৈর্ঘ্য ১৯১.৫৬১ কিলোমিটার। এই তটরেখা ভাঙনের পার্থক্য ২০০৩-০৪ সালে ৫ কিলোমিটার থেকে ২০০৬-০৭ সালে ২৩.৪ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। দৈনিক জোয়ার-ভাঁটার প্রেক্ষিতে নদীর ভাঙনের সঙ্গে জনজীবনের সুরক্ষা ও শস্য রক্ষার মতো বিষয়গুলি জড়িত। প্রযুক্তিগতভাবে তটরেখার বাঁধগুলি দুর্বল। স্লুইস গেটগুলির মাধ্যমে জমা হওয়া বৃষ্টির জল নিষ্কাষণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে। সঞ্চিত বৃষ্টির জল নিষ্কাষণের জন্য তটরেখায় ত্রুটিপূর্ণ কর্তিতাংশ এবং বড়ো ভেড়িগুলিতে জল সরবরাহের জন্য কাটা খালগুলিও সমস্যাবহুল হয়ে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় এবং ক্রান্তীয় নিম্নচাপগুলিও এখানকার আশঙ্কার নিয়মিত কারণ।[৭]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক/পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি হল: দেউলবাড়ি, গোপালগঞ্জ, গুড়গুড়িয়া, ভুবনেশ্বরী, জলাবেড়িয়া ১, জলাবেড়িয়া ২, কুণ্ডখালি গোদাবার, মাইপীঠ বৈকুণ্ঠপুর, মেরিগঞ্জ ১ ও মেরিগঞ্জ ২।[৮]

জনপরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট জনসংখ্যা ২২৯,০৫৩, যার পুরোটাই গ্রামীণ জনসংখ্যা। ব্লকের মোট পুরুষ জনসংখ্যা ১১৭,৫৬২ (৫১ শতাংশ) এবং মহিলা জনসংখ্যা ১১১,৪৯১ (৪৯ শতাংশ)। ৩৫,৭২৭ জনের বয়স ছয় বছরের কম। তফসিলি জাতি-তালিকাভুক্ত মোট জনসংখ্যা ১০৪,১৯৩ (৪৫.৪৯ শতাংশ) এবং তফসিলি উপজাতি-তালিকাভুক্ত মোট জনসংখ্যা ৫,৬৭২ (২.৪৮ শতাংশ)।[৯]

২০০১ সালের জনগণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৮৭,৯৪২, যার মধ্যে ৯৭,২৭২ জন পুরুষ এবং ৯০,৬৭০ জন মহিলা। ১৯৯১-২০০১ দশকে ব্লকের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২০.১৩ শতাংশ। উল্লেখ্য, এই দশকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় এবং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে এই হার ছিল যথাক্রমে ২০.৮৯ শতাংশ ও ১৭.৮৪ শতাংশ। ২০০১ সালের জনগণনার প্রতিবেদনে এই ব্লকে তফসিলি জাতি-তালিকাভুক্ত জনসংখ্যা ছিল ৮৯,১০২ এবং তফসিলি উপজাতি-তালিকাভুক্ত জনসংখ্যা ছিল ৬,৬৪৮।[১০][১১][১২]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বড়ো গ্রামগুলি (৪,০০০+ জনসংখ্যাবিশিষ্ট) হল (বন্ধনীতে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য দেওয়া হল): মেরিগঞ্জ (২২,২২৫), কৈলাসনগর (৫,০৮৩), পূর্ব তেঁতুলবেড়িয়া (৪,৩০৯), ডোঙ্গাজোড়া (১০,২৭১), কীর্তনখোলা (৫,৩১২), গোদাবার (৪,৩৬১), জলাবেড়িয়া (২০,১৩৮), কোরাখালি (৪,১৮৮), জামতলা (৪,৪৯৫), পশ্চিম গাবতলা (৪,৩৮৭), মাধবপুর (৪,৭২৫), মধুসূদনপুর (৬,৮৯৯), দক্ষিণ গরানকাটি (৬,১৮৯), গোপালগঞ্জ (৭,৮৫৩), কৈখালি (৬,০৩০), সানকিজাহান (৮,৮১১), কাটামারি (৫,২৩৮), দক্ষিণ দুর্গাপুর (৫,৩৪৬), দেউলবাড়ি দেবীপুর (৭,৩১৫), পূর্ব গুড়গুড়িয়া (৫,৬৬২), মধ্য গুড়গুড়িয়া (৪,৬৬৯), দেবীপুর গুড়গুড়িয়া (১০,৮১২), ভুবনেশ্বরী (৬,৯৩৬), মাইপীঠ (৫,৬১৫), বিনোদপুর (৫,৩৩০), বৈকুণ্ঠপুর (৭,৮০২) ও কিশোরীমোহনপুর (৬,৪৮৩)।[৯] কুণ্ডখালি (৩,৩০৭) এই ব্লকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম।[৯]

সাক্ষরতা[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায়
সাক্ষরতার হার
আলিপুর সদর মহকুমা
বিষ্ণুপুর ১ – ৭৮.৩৩%
বিষ্ণুপুর ২ – ৮১.৩৭%
বজবজ ১ – ৮০.৫৭%
বজবজ ২ – ৭৯.১৩%
ঠাকুরপুকুর মহেশতলা – ৮৩.৫৪%
বারুইপুর মহকুমা
বারুইপুর – ৭৬.৪৬%
ভাঙড় ১ – ৭২.০৬%
ভাঙড় ২ – ৭৪.৪৯%
জয়নগর ১ – ৭৩.১৭%
জয়নগর ২ – ৬৯.৭১%
কুলতলি – ৬৯.৩৭%
সোনারপুর – ৭৯.৭০%
ক্যানিং মহকুমা
বাসন্তী – ৬৮.৩২%
ক্যানিং ১ – ৭০.৭৬%
ক্যানিং ২ – ৬৬.৫১%
গোসাবা – ৭৮.৯৮%
ডায়মন্ড হারবার মহকুমা
ডায়মন্ড হারবার ১ – ৭৫.৭২%
ডায়মন্ড হারবার ২ – ৭৬.৯১%
ফলতা – ৭৭.১৭%
কুলপি – ৭৫.৪৯%
মগরাহাট ১ – ৭৩.৮২%
মগরাহাট ২ – ৭৭.৪১%
মন্দিরবাজার – ৭৫.৮৯%
মথুরাপুর ১ – ৭৩.৯৩%
মথুরাপুর ২ – ৭৭.৭৭%
কাকদ্বীপ মহকুমা
কাকদ্বীপ – ৭৭.৯৩%
নামখানা – ৮৫.৭২
পাথরপ্রতিমা – ৮২.১১%
সাগর – ৮৪.২১%
সূত্র: ২০১১ সালের জনগণনা: সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক অনুযায়ী
প্রাথমিক জনগণনা সংক্ষিপ্ত তথ্য

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট সাক্ষর জনসংখ্যা ১৩৪, ১০১ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী জনসংখ্যার ৬৯.৩৭ শতাংশ), যার মধ্যে সাক্ষর পুরুষের সংখ্যা ৭৮,৬০১ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী পুরুষ জনসংখ্যার ৭৯.০১ শতাংশ) এবং সাক্ষর মহিলার সংখ্যা ৫৫,৫০০ (অন্যূন ছয় বছর বয়সী মহিলা জনসংখ্যার ৫৯.১৪ শতাংশ)। লিঙ্গবৈষম্যের (পুরুষ ও মহিলা জনসংখ্যার সাক্ষরতার হারের পার্থক্য) ১৯.৮৬ শতাংশ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকেই মহিলা সাক্ষরতার হার সর্বনিম্ন এবং লিঙ্গবৈষম্যের হার সর্বোচ্চ।[৯]

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সাক্ষরতার হার ছিল ৭৭.৫১ শতাংশ,[১৩] পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার ছিল ৭৭.০৮ শতাংশ,[১৪] এবং সমগ্র ভারতের সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.০৪ শতাংশ।[১৪]

২০০১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের সামগ্রিক সাক্ষরতার হার ছিল অন্যূন ছয় বছর জনসংখ্যার ৬০.০৯ শতাংশ, যার মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৪৫ শতাংশ এবং মহিলা সাক্ষরতার হার ছিল ৪৪.৫৮ শতাংশ। উক্ত জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সামগ্রিক সাক্ষরতার হার ছিল ৬৯.৪৫ শতাংশ, যার মধ্যে পুরুষ সাক্ষরতার হার ছিল ৭৯.১৯ শতাংশ এবং মহিলা সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯.০১ শতাংশ।[১০]

ধর্মবিশ্বাস[সম্পাদনা]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ধর্মবিশ্বাস
হিন্দু
  
৬৯.৮১%
মুসলমান
  
২৯.৮৬%
অন্যান্য
  
০.৩৩%

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে হিন্দুর সংখ্যা ১৫৯,৮৯৭ (মোট জনসংখ্যার ৬৯.৮১ শতাংশ), মুসলমানের সংখ্যা ৬৮,৩৮৫ (মোট জনসংখ্যার ২৯.৮৬ শতাংশ) এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৭৭১ (মোট জনসংখ্যার ০.৩৩ শতাংশ)।[১৫]

গ্রামীণ দারিদ্র্য[সম্পাদনা]

২০০৯ সালে প্রকাশিত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ৪৬.৩৬ শতাংশ পরিবার দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করে। সুন্দরবনের জনবসতি অঞ্চলের তেরোটি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মধ্যে সব ক’টিতেই দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থানকারী পরিবারের হার অত্যধিক–৩০ শতাংশেরও বেশি, যার মধ্যে কুলতলি সহ আটটি ব্লকে এই হার ৪০ শতাংশেরও বেশি। জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে সুন্দরবন অঞ্চল সবচেয়ে অনগ্রসর অঞ্চল। ২০০৫ সালে গ্রামীণ পরিবার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থানকারী পরিবারের হার ৩৪.১১ শতাংশ, যা জাতীয় ও রাজ্যের হারের তুলনায় অনেকটাই বেশি।[১৬]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

জীবিকা[সম্পাদনা]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে
জীবিকা

  কৃষক (২০.৬২%)
  কৃষিশ্রমিক (৪৫.৮৩%)
  কুটিরশিল্পী (৯.৯১%)
  অন্যান্য শ্রমিক (২৩.৬৪%)

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে ১৮,০৭৯ জন কৃষক (মোট শ্রমজীবীর ২০.৬২ শতাংশ), ৪০,১৭৭ জন কৃষিশ্রমিক (মোট শ্রমজীবীর ৪৫.৮৩ শতাংশ), ৮,৬৮৯ জন কুটিরশিল্পী (মোট শ্রমজীবীর ৯.৯১ শতাংশ) এবং ২০,৭২৫ জন অন্যান্য ক্ষেত্রের শ্রমিক (মোট শ্রমজীবীর ২৩.৬৪ শতাংশ)।[১৭] ব্লকের মোট শ্রমজীবীর সংখ্যা ৮৭,৬৭০ (মোট জনসংক্যার ৩৮.২৭ শতাংশ) এবং অ-শ্রমজীবীর সংখ্যা ১৪১,৩৮৩ (মোট জনসংখ্যার ৬১.৭৩ শতাংশ)।[১৮]

পরিকাঠামো[সম্পাদনা]

জেলা জনগণনা হ্যান্ডবুক, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, ২০১১ অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে মোট ৪৩টি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম রয়েছে। ১০০ শতাংশ গ্রামেই বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ৪২টি গ্রামে (৯৭.৬৭ শতাংশ) গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। ২১টি গ্রামে (৪৮.৮৪ শতাংশ) গ্রামে ডাকঘর রয়েছে। ৩৪টি গ্রামে (৭৯.০৭ শতাংশ) টেলিফোন পরিষেবা (ল্যান্ডনাইন, পাবলিক কল অফিস ও মোবাইল ফোন সহ) পাওয়া যায়। ১৯টি গ্রামে (৪৪.১৯ শতাংশ) পাকা রাস্তা এবং ২০টি গ্রামে (৪৬.৫১ শতাংশ) পরিবহণের সুব্যবস্থা (বাস ও রেল পরিষেবা এবং নাব্য জলপথ সহ) রয়েছে। ৫টি গ্রামে (১১.৬৩ শতাংশ) কৃষিঋণ সংস্থা রয়েছে এবং ৮টি গ্রামে (১৮.৬০ শতাংশ) ব্যাংক পরিষেবা সুলভ।[১৯]

কৃষি[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন তেভাগা আন্দোলনে বৃহত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পরবর্তীকালে কৃষকদের ভূমিসত্ত্ব অধিকারের লক্ষ্যে অপারেশন বর্গা কর্মসূচি গৃহীত হয়। কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক এলাকায় ৫,৮৫৯.৫১ একর জমি অধিগৃহীত ও স্থায়ী অধিকারভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৫,৬২১.৯৭ একর জমি (স্থায়ী অধিকারভুক্ত জমির ৯৫.৯৫ শতাংশ) বণ্টিত হয়। ব্লকে মোট পাট্টা পেয়েছিলেন ১০,৩৭৫ জন।[২০]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ৯১টি ফার্টিলাইজার ডিপো, ৪টি বীজের দোকান ও ৩৮টি রেশন দোকান রয়েছে।[২১]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ২,৭৪৯ হেক্টর জমিতে ৪,৩৬৬ টন প্রধান শীতকালীন শস্য আমন ধান, ৭৫২ হেক্টর জমিতে ২,০১৪ টন বসন্তকালীন শস্য বোরো ধান এবং ১৬৮ হেক্টর জমিতে ৩,১৭৬ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এছাড়াও এই ব্লকে কলাই ও তৈলবীজ উৎপাদিত হয়।[২১]

মৎস্যচাষ[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের মোট ৩,৫৬৮ হেক্টর এলাকা জুড়ে মৎস্যচাষ করা হয়। এই পেশায় জড়িত মানুষের সংখ্যা ৩১,৯০৫ এবং বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৮৩,৩৯৯ টন।[২১]

সমগ্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলাতেই মৎস্যচাষ জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ২০০১ সালের হিসেব অনুযায়ী, এই জেলার সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি মানুষ মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে ২.৫৭ লক্ষ মানুষ আবার সুন্দরবন বসতি এলাকার ১৩টি ব্লকের অধিবাসী।[২২]

ব্যাংক পরিষেবা[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এবং ২টি গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয় রয়েছে।[২১]

অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল[সম্পাদনা]

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা অনুন্নত অঞ্চলের তালিকাভুক্ত। এই জেলাটি অনুন্নত অঞ্চল অনুদান তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য লাভ করে। ভারত সরকার সৃষ্ট এই তহবিল গঠনের উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট ২৭২টি জেলা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের এগারোটি জেলা রয়েছে।[২৩][২৪]

পরিবহণ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে ১৩টি ফেরি পরিষেবা ও ২টি প্রান্তিক বাস রুট রয়েছে। নিকটতম রেল স্টেশনটি ব্লকের সদর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।[২১]

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১৩-১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬,৮২৮ জন ছাত্রছাত্রী, ৯টি মধ্য বিদ্যালয়ে ২,০১২ জন ছাত্রছাত্রী, উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫,০০৫ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৯টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০,০৭৪ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। ব্লকের একটি মাত্র সাধারণ ডিগ্রি কলেজে ৯৪৯ জন ছাত্রছাত্রী এবং ৪১০টি বিশেষ ও অ-চিরাচরিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৯,৮৭১ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনার সুযোগ পায়।[২১]

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের ৪৩টি জনবসতিপূর্ণ গ্রামের মধ্যে ১টি গ্রামে কোনও বিদ্যালয়ই নেই, ২৬টি গ্রামে দুই বা ততোধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, ২৪টি গ্রামে অন্তত একটি প্রাথমিক ও একটি মধ্য বিদ্যালয় রয়েছে এবং ১৬টি গ্রামে অন্তত একটি মধ্য ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।[২৫]

২০০৫ সালে কুলতলিতে কুলতলি ড. বি. আর. আম্বেডকর কলেজ স্থাপিত হয়।[২৬]

স্বাস্থ্যব্যবস্থা[সম্পাদনা]

২০১৪ সালের হিসেব অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে একটি গ্রামীণ হাসপাতাল, ৪টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ২টি এনজিও/বেসরকারি নার্সিং হোম রয়েছ; যেগুলির মোট শয্যাসংখ্যা ৬২ ও মোট চিকিৎসকের সংখ্যা ১০ (বেসরকারি সংস্থা বাদে)। এছাড়া ব্লকে ৪৩টি পরিবার কল্যাণ উপকেন্দ্রও রয়েছে। সমগ্র ব্লকের হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপকেন্দ্রগুলিতে ৩,৮৫৮ জন রোগী অন্তর্বিভাগে এবং ১৬৩,৯৫২ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসার সুবিধা পান।[২১]

২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের চারটি গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ২৬টি গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, একটি গ্রামে একটি মাতৃসদন ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র, ১২টি গ্রামে ওষুধের দোকান রয়েছে এবং ৪৩টি গ্রামের মধ্যে সাতটি গ্রামে কোনও স্বাস্থ্য পরিষেবাই সুলভ নয়।[২৭]

জামতলায় অবস্থিত ২৫ শয্যাবিশিষ্ট জয়নগর গ্রামীণ হাসপাতাল কুলতলি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে কাঁটামারি (৬ শয্যাবিশিষ্ট), মাইপীঠ (৬ শয্যাবিশিষ্ট), কৈকালি (গোপালগঞ্জ) (১০ শয্যাবিশিষ্ট) এবং ভুবনেশ্বরীতে (৬ শয্যাবিশিষ্ট)।[২৮][২৯][৩০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Fact and Figures"Wb.gov.in। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  2. "52nd REPORT OF THE COMMISSIONER FOR LINGUISTIC MINORITIES IN INDIA" (PDF)Nclm.nic.inMinistry of Minority Affairs। পৃষ্ঠা 85। ২৫ মে ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুলাই ২০১৯ 
  3. "District Census Handbook: South 24 Parganas, Series 20, Part XII B" (PDF)Map of South 24 Parganas with CD block HQs and Police Stations (on the fourth page)। Directorate of Census Operations, West Bengal, 2011। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৯ 
  4. "South Twenty-four Parganas"CD block/ tehsil map। Maps of India। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৯ 
  5. "District Statistical Handbook 2014 South 24 Parganas"Table No. 2.1, 2.2। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৯ 
  6. "Census of India 2011, West Bengal, District Census Handbook, South Twentyfour Parganas, Series – 20, Part XII-A, Village and Town Directory" (PDF)Page 749 - Map of Kultali CD block। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৯ 
  7. "District Human Development Report: South 24 Parganas"Intro: pp 218-221, Chapter 7.4: Vulnerability to Natural Disasters। Development & Planning Department, Government of West Bengal, 2009। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৬ 
  8. "Blocks and Gram Panchayats in South 24 Parganas"। South 24 Parganas District Administration। সংগ্রহের তারিখ ১ এপ্রিল ২০১৬ 
  9. "CD block Wise Primary Census Abstract Data(PCA)"2011 census: West Bengal – District-wise CD blocks। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ২ এপ্রিল ২০১৬ 
  10. "District Statistical Handbook – 2010-11 – South 24 Parganas"South 24 Parganas at a glance, Tables 2.2, 2.4 (b), 4.5। Bureau of Applied Economics and Statistics, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৬ 
  11. "Provisional Population Totals, West Bengal. Table 4"Census of India 2001 – South 24 Parganas। Census Commission of India। ১৯ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২০ 
  12. "Provisional Population Totals, West Bengal. Table 4"Census of India 2001। Census Commission of India। সেপ্টেম্বর ২৭, ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০১-২০ 
  13. "District Census 2011"। Population Census 2011। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৬ 
  14. "Provisional population tables and annexures" (PDF)Census 2011:Table 2(3) Literates and Literacy rates by sex। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ 
  15. "C1 Population by Religious Community"West Bengal। Registrar General and Census Commissioner, India। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৬ 
  16. "District Human Development Report: South 24 Parganas"Pages 42-43, Chapter 3.8: Poverty Scenario in South 24 Parganas। Department of Planning and Statistics, Government of West Bengal। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  17. "District Census Handbook South Twentyfour Parganas, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Table 33: Distribution of Workers by Sex in Four Categories of Economic Activity in Sub-district 2011। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  18. "District Census Handbook South Twentyfour Parganas, Census of India 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Table 30: Number and percentage of Main workers, Marginal workers and Non workers by Sex, in Sub-districts, 2011। Directorate of Census Operations, West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  19. "District Census Handbook, South Twentyfour Parganas, 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Page 111, Table 36: Distribution of villages according to availability of different amenities, 2011। Directorate of Operations, West Bengal.। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  20. "District Human Development Report: South 24 Parganas"(1) Chapter 1.2, South 24 Parganas in Historical Perspective, pages 7-9 (2) Chapter 3.4, Land reforms, pages 32-33। Development & Planning Department, Government of West Bengal, 2009। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ নভেম্বর ২০১৯ 
  21. "District Statistical Handbook 2014 South 24 Parganas"Table No. 16.1, 18.1, 20.1, 21.2, 4.4, 3.1, 3.2, 3.3 – arranged as per use। Department of Statistics and Programme Implementation, Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  22. "District Human Development Report: South 24 Parganas"Pages 76 , Chapter 4.5.2: Non-agriculture, (i) Pisciculture। Department of Planning and Statistics, Government of West Bengal। ৫ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  23. "Backward Regions Grant Funds: Programme Guidelines" (PDF)। Ministry of Panchayati Raj, Government of India। ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  24. "Backward Regions Grant Fund"Press Release, 14 June 2012। Press Information Bureau, Government of India। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 
  25. "District Census Handbook, South 24 Parganas, 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Page 931-932, Appendix I A: Villages by number of Primary Schools and Appendix I B: Villages by Primary, Middle and Secondary Schools। Directorate of Census Operations, West Bengal.। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৯ 
  26. "Kultali Dr. B.R.Ambedkar College"। KDBRAC। সংগ্রহের তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০১৯ 
  27. "District Census Handbook, South Twentyfour Parganas, 2011, Series 20, Part XII A" (PDF)Pages 927-929, Appendix I: Summary showing total number of villages having Educational, Medical and other amenities – C.D.Block level। Directorate of Census Operations, West Bengal.। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৯ 
  28. "Health & Family Welfare Department" (PDF)Health Statistics – Rural Hospitals। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৯ 
  29. "Health & Family Welfare Department" (PDF)Health Statistics – Block Primary Health Centres। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৯ 
  30. "Health & Family Welfare Department" (PDF)Health Statistics – Primary Health Centres। Government of West Bengal। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৯