বিমলকৃষ্ণ মতিলাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিমলকৃষ্ণ মতিলাল
জন্ম১ জুন ১৯৩৫
জয়নগর-মজিলপুল দক্ষিণ ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গভারত
মৃত্যু৮ জুন ১৯৯১
জাতীয়তাভারতীয়
শিক্ষায়তনমৌলানা আজাদ কলেজ কলকাতা
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
পুরস্কারপদ্মভূষণ ১৯৯০

বিমলকৃষ্ণ মতিলাল(ইংরেজি: Bimal Krishna Motilal)(জন্ম- ১ জুন,১৯৩৫- মৃত্যু-৮ জুন, ১৯৯১) ছিলেন ভারতীয় দার্শনিক অধ্যাপক । [১] তাঁর প্রভাবশালী রচনাগুলি পশ্চিমী দর্শনের ভাব দিয়ে বোঝান বেশিরভাগ বিষয়গুলিকে ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্য দিয়ে একত্রিত করে বুদ্ধিগম্য যুক্তিবিদ্যা পদ্ধতি দিয়ে উপস্থাপন করেছে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্য ধর্ম ও নীতি সম্পর্কিত স্পালডিং অধ্যাপক ছিলেন।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শৈশবকাল থেকেই সংস্কৃত ভাষায় শিক্ষিত মতিলাল গণিত এবং যুক্তির দিকেও আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তিনি সংস্কৃত কলেজের শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতদের দ্বারা প্রথাগত ভারতীয় দার্শনিক ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ লাভ করেছিলেন। পরে তিনি নিজে সেখানে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি পণ্ডিত তারানাথ তর্কতীর্থ এবং কালীপদ তর্কাচার্যের মতো পণ্ডিতদের দ্বারা শিক্ষালাভ করেছিলেন। তিনি পণ্ডিত অনন্ত কুমার ন্যায়তর্কর্তীর্থ, মধুসূদন ন্যায়াচার্য এবং বিশ্ববন্ধু তর্কতীর্থের সাথেও আলোচনা করতেন। ১৯৬২ সালে তাকে তর্কতীর্থ (যুক্তির গুরু) উপাধি' (ডিগ্রি) দেওয়া হয়েছিল।

১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে সংস্কৃত কলেজে পড়ানোর সময় (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি কলেজ)), মাতিলাল ড্যানিয়েল ইনগালসের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইন্ডোলজিস্ট ছিলেন এবং তাকে সেখানে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।মাতিলাল ফুলব্রাইট ফেলোশিপ অর্জন করেন এবং ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে ইনগালসের অধীনে নব্য ন্যায়ের অস্বীকৃতি মতবাদ নিয়ে পিএইচডি শেষ করেন। এই সময়কালে তিনি উইলার্ড ভ্যান অরম্যান কুইন এর সাথেও পড়াশোনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে, তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক হয়েছিলেন, এবং ১৯৭৭ সালে তিনি সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ এবং রবার্ট চার্লস জেহনার এর পর অক্সফোর্ডের স্পালডিং অধ্যাপক নির্বাচিত হন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মতিলাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯১ সালের ৮ই জুন মারা যান।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

মতিলালের রচনা[সম্পাদনা]

তার রচনায় তিনি ভারতীয় যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন, বিশেষত ন্যায় - বৈসেসিকা, মীমাংসা এবং বৌদ্ধ দর্শন, আধুনিক দার্শনিক আলোচনার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হিসাবে। মতিলাল ভারতীয় দার্শনিক চিন্তাকে নিছক প্রকাশের চেয়ে সংশ্লেষণ হিসাবে বেশি উপস্থাপন করেছিলেন। এটি কঠোর শিক্ষার চেয়ে ধারণার প্রাসঙ্গিক উৎস হিসাবে ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহের প্রাণবন্ত উদ্দীপনা তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। তিনি জার্নাল অব ইন্ডিয়ান ফিলসফির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকও ছিলেন।

বই[সম্পাদনা]

তার রচিত বইগুলির মধ্যে আছে এপিটেমোলজি, লজিক অ্যান্ড গ্রামার ইন ইন্ডিয়ান ফিলসফিক্যাল অ্যানালাইসিস,[৩][৪][৫] লজিক, ল্যাঙ্গুয়েজ, অ্যান্ড রিয়েলিটি: অ্যান ইনট্রোডাকশান টু ইন্ডিয়ান ফিলসফিকাল স্টাডিজ[৬][৭] ইত্যাদি।

আরো দেখুন ওয়ার্ল্ডক্যাটে লেখা

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯, পৃষ্ঠা ২৬৩, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
  2. "Padma Awards" (PDF)। Ministry of Home Affairs, Government of India। ২০১৫। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৫ 
  3. Bimal Krishna Matilal (১৯৭১)। Epistemology, Logic and Grammar in Indian Philosophical Analysis। De Gruyter। আইএসবিএন 9789997821942 
  4. Berg, Jan (ডিসেম্বর ১৯৭৫)। "Epistemology, Logic, and Grammar in Indian Philosophical Analysis by Bimal Krishna Matilal"। The Journal of Symbolic Logic40 (4): 578–579। doi:10.2307/2271783জেস্টোর 2271783 
  5. Rocher, Rosane (এপ্রিল–জুন ১৯৭৫)। "Epistemology, Logic, and Grammar in Indian Philosophical Analysis by Bimal K. Matilal"। Journal of the American Oriental Society95 (2): 331–332। doi:10.2307/600381জেস্টোর 600381 
  6. Bimal Krishna Matilal (১৯৮৫)। Logic, Language, and Reality: an introduction to Indian philosophical studies। Motilal Banarsidass। আইএসবিএন 978-81-208-0008-3 
  7. Sen, Pranab Kumar (জানুয়ারি ১৯৮৯)। "Logic, Language and Reality by Bimal Krishna Matilal"। Mind। New Series। 98 (389): 150–154। জেস্টোর 2255069 

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]