মালদহ জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
মালদা জেলা
মালদহ জেলা
পশ্চিমবঙ্গের জেলা
পশ্চিমবঙ্গে মালদার অবস্থান
পশ্চিমবঙ্গে মালদার অবস্থান
দেশ ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
প্রশাসনিক বিভাগ মালদা
সদরদপ্তর ইংরেজ বাজার
তহশিল ১৫টি
সরকার
 • লোকসভা কেন্দ্র মালদা উত্তর, মালদা দক্ষিণ
 • বিধানসভা আসন হাবিবপুর, গাজোল, চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক, মালদহ, ইংরেজ বাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, বৈষ্ণবনগর
আয়তন
 • মোট ৩৭৩৩ কিমি (১৪৪১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট ৩৯,৮৮,৮৪৫
 • ঘনত্ব ১১০০/কিমি (২৮০০/বর্গমাইল)
 • মূল শহর ৫,৪১,৬৬০
জনতাত্ত্বিক
 • সাক্ষরতা ৬১.৭৩
 • লিঙ্গানুপাত ৯৪৪
প্রধান মহাসড়ক ৩৪ নং জাতীয় সড়ক, ৮১ নং জাতীয় সড়ক
ওয়েবসাইট [www.malda.nic.in দাপ্তরিক ওয়েবসাইট]

মালদহ জেলা বা মালদা জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা বিভাগের একটি জেলা। এই জেলার পশ্চিমে ও উত্তরে বিহার রাজ্য, উত্তর দিনাজপুরদক্ষিণ দিনাজপুর জেলা; পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রাজশাহী বিভাগ, দক্ষিণে মুর্শিদাবাদ জেলা অবস্থিত।

নামকরণ[সম্পাদনা]

মালদহ জেলার নামকরণ এই জেলার আদি বাসিন্দা ‘মলদ’ কৌমগোষ্ঠীর নাম থেকে। অন্যমতে ফার্সি ‘মাল’ (ধনসম্পদ) ও বাংলা ‘দহ’ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে এই জেলার নামটির উৎপত্তি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসনের আদিপর্বে মালদহ জেলার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এই জেলার কিয়দংশ পূর্ণিয়া জেলার ও অবশিষ্টাংশ অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৭৯৩ সালে মালদহ অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[১] ১৮৫৯ সাল থেকে ১৮৭৬ সাল পর্যন্ত মালদহ জেলা রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল। ১৮৭৬ সালে এই জেলা ভাগলপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯০০ সালে পুনরায় রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ অগস্ট শিবগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাচোলগোমস্তাপুর উপজেলা বাদে মালদহ জেলা ভারত অধিরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি জলপাইগুড়ি বিভাগের অন্তর্গত। মালদা জেলার আদি নাম ছিল গৌড় (শশাঙ্ক রাজা )।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

মালদহ একটি কৃষিনির্ভর জেলা। বৃহৎ শিল্পে এই জেলা বিশেষ অনুন্নত হলেও এখানকার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সুলতানি যুগের বিভিন্ন স্থাপত্য নিদর্শনকে কেন্দ্র করে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন শিল্পও এখানে বিকাশলাভ করেছে। মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়। মালদা জেলা ফজলি আম-এর জন্য সুপরিচিত।

অবস্থান এবং জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

  • অক্ষাংশ: ২৪ ডিগ্রী ৪০' ২০" উঃ থেকে ২৫ ডিগ্রী ৩২' ০৮" উঃ
  • দ্রাঘিমাংশ: ৮৭ ডিগ্রী ৪৫' ৫০" পূঃ থেকে ৮৮ ডিগ্রী ২৮' ১০" পূঃ
  • জেলার আয়তন: ৩৭৩৩ বর্গ কিমি
  • মোট জনসংখ্যা (২০০১ জনগণনা): ৩,২৯০,৪৬৮ (২০১১ জনগণনা): ৩,৯৮৮,৮৪৫

ভাষা[সম্পাদনা]



Circle frame.svg

মালদহ জেলার ভাষাসমূহ ২০১১ [২].[৩]

  বাংলা (৯১.০৪%)
  হিন্দী (১.৪৮%)
  সাঁওতালী (৪.১৮%)
  খোরঠা মৈথিলী (২.২৭%)
  অন্যান্য (১.০৩%)

ধর্ম[সম্পাদনা]




Circle frame.svg

মালদহ জেলার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ২০১১[২]

  হিন্দু (৪৭.৯৯%)
  মুসলিম (৫১.২৭%)
  খ্রীষ্টান (০.৩৩%)
  অন্যান্য (০.৪১%)
  • মুসলিম - ২,০৪৫,১৫১
  • হিন্দু - ১,৯১৪,৩৫২
  • খ্রীষ্টান - ১৩,২০৯

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের জনগননা অনুসারে মালদা জেলার জনসংখ্যা ৩,৯৮৮,৮৪৫ [৪] যেটি লাইবেরিয়ার জনসংখ্যার সমান [৫] অথবা ইউনাইটেড স্টেট অফ অরেগনর সমান।[৬] ভারতে ৬৪০টি জেলার মধ্যে জনসংখ্যা অনুসারে এটির স্থান ৫৮তম।[৪] জেলার জনঘনত্ব ১,০৭১ জন প্রতি বর্গকিলোমিটার (২,৭৭০ জন/বর্গমাইল)।[৪] ২০০১-২০১১ তে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২১.২২%। [৪] মালদার লিঙ্গানুপাত প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯৪৪ জন নারী [৪] এবং সাক্ষরতার হার ৬১.৭৩%।[৪]

নদ নদী[সম্পাদনা]

পর্যটন ও দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

১) রামকেলি অষ্টকুণ্ড ২)বড়সোনা মসজিদ ৩)দাখিল দরবাজা ৪)মা জহুরা মন্দির ৫)কদম রসুল মসজিদ ৬)ফিরোজ মিনার ৭)মালদহ জেলা সংগ্রহশালা ৮)চামকাটি মসজিদ ৯)লুকোচুরি গেট ১০)আদিনা হরিণ অরণ্য ১১)আদিনা মসজিদ ১২)একলাখি সমাধিস্থল ১৩)জগজীবনপুর বৌদ্ধ বিহার ১৪)চাঁচল রাজবাড়ী

প্রশাসনিক বিভাগ[সম্পাদনা]

মালদহ জেলা দুটি মহকুমাতে বিভক্ত

১) চাঁচল মহকুমা

চাঁচল মহকুমার অবস্থান জেলাটির উত্তর পশ্চিমে যা ৬ টি তহশিল বা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক নিয়ে গঠিত ৷

তহশিলটি ১০০ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি চাঁচলে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৯২ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি মালতীপুরে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ১০১ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি রতুয়াতে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৫১ গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি পাকুড়িয়াতে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ১০৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি হরিশ্চন্দ্রপুরে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৭৪ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি বারদুয়ারীতে অবস্থিত ৷

২) মালদহ সদর মহকুমা

মালদহ সদর মহকুমার অবস্থান জেলাটির পুর্ব ও দক্ষিণ পশ্চিমে যা ৯ টি তহশিল বা সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৷

তহশিলটি ৮৯ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি মনিকচকে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৫৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি কালিয়াচকে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৬৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি মোথাবাড়িতে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ৭৩ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি দরিয়াপুরে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ১৩২ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি মিলকীতে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ১১৫ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি কালুদেওয়ানে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ২৯১ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি গাজোলে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ২৮৭ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি হবিবপুরে অবস্থিত ৷

তহশিলটি ১৪২ টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ও সদরটি পাকুয়াহাটে অবস্থিত ৷

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর জেলার ইতিহাস, কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ২০০৬, পৃষ্ঠা ২১১
  2. http://www.censusindia.gov.in/2011census/C-16.html উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ অবৈধ; আলাদা বিষয়বস্তুর সঙ্গে "m" নাম একাধিক বার সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
  3. "DISTRIBUTION OF THE 22 SCHEDULED LANGUAGES-INDIA/STATES/UNION TERRITORIES - 2011 CENSUS" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০১৬ 
  4. "District Census 2011"। Census2011.co.in। ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০ 
  5. US Directorate of Intelligence। "Country Comparison:Population"। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১০-০১Liberia 3,786,764 July 2011 est. 
  6. "2010 Resident Population Data"। U. S. Census Bureau। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-০৯-৩০Oregon 3,831,074 

বহিঃসংযোগসমূহ[সম্পাদনা]

মালদহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট