বনবিবি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
বনবিবি
Banbibi.jpg
বনবিবি ও দুখী
অন্তর্ভুক্তি দেবী
বাহন বাঘ অথবা মুরগী
অঞ্চল সুন্দরবন

বনবিবি বা বনদেবী বা ব্যাঘ্রদেবী একইসাথে হিন্দু ধর্মের দেবী ও কিছু কিছু বনবাসী মুসলমানদের পীরানি। সুন্দরবনের বাংলাদেশভারতীয় অংশ ও এর আশেপাশের এলাকার মধু আহরণকারী ও কাঠুরে জনগোষ্ঠী বাঘের আক্রমণ হতে রক্ষা পেতে বনবিবির পূজো করেন।[১] এ কথা প্রচলিত আছে যে, নিষ্ঠুর রাজা দক্ষিণরায় (রায়মণি) হিংস্র বাঘের ছদ্মবেশে মানুষের উপর হামলা করেন। তার পিতার নাম ইব্রাহীম ও মাতার নাম গুলালবিবি।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দয়াপুর বনবিবি মন্দির

সুন্দরবন অঞ্চলের লোকায়ত দেবী যিনি হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে পূজিত হন। মধু সংগ্রাহক, কাঠুরে, মৎসজীবী মানুষের দেবী বনবিবি, বাঘের তথা দক্ষিণ রায়ের হাত থেকে তাদের রক্ষা করবেন এই বিশ্বাস প্রচলিত। ইতিহাসবিদ সতীশ চন্দ্র মিত্রের যশোহর-খুলনার ইতিহাস বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০০ সালের কাছাকাছি সময়ে সুন্দরবন এলাকায় দক্ষিণ রায়, বণিক ধোনাই ও মোনাই এবং গাজীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বনবিবি ইব্রাহিম (মতান্তরে বেরাহিম) নামে এক আরবদেশির কন্যা। ইব্রাহিমের স্ত্রী গুলাল বিবি সতিনের প্ররোচনায় সুন্দরবনে পরিত্যক্ত হন। সেখানে বনবিবির জন্ম। দক্ষিণ রায় যশোরের ব্রাহ্মণনগরের রাজা মুকুট রায়ের অধীন ভাটির দেশের রাজা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বনবিবির একাধিক যুদ্ধ হয়। দক্ষিণ রায় পরাজিত হয়ে সন্ধি করেন। দক্ষিণ রায়ের পরাজয় অর্থে বাঘ বা অপশক্তির পরাজয়। বাংলাদেশ ও ভারতের সুন্দরবনের বহু অঞ্চলে লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেন দেবী বনবিবি।[২] দেবীর পীরমাহাত্ম্যবিষয়ক কাব্যের নাম বনবিবির জহুরানামা। এই আখ্যান মঙ্গলকাব্যের ঢঙে রচিত হলেও আল্লাহ-রসুল, মক্কা, পীর-পীরানি যুক্ত আছে। অরণ্যচারী মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও জীবনধারা এতে বর্ণিত হয়েছে।[৩]

মন্দির[সম্পাদনা]

দুই বাংলার সুন্দরবনের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় অধিবাসীরা বনবিবির মন্দির স্থাপনা করেছেন। সজনেখালি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, দো বাঁকি অভয়ারণ্য ও দয়াপুর গ্রামে বনবিবির মন্দির চোখে পড়ে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Sufia Uddin (২০১১)। "Beyond National Borders and Religious Boundaries: Muslim and Hindu Veneration of Bonbibi"। in Mathew N. Schmalz and Peter Gottschalk ed। Engaging South Asian Religions: Boundaries, Appropriations, and Resistances। New York: State University of New York Press। পৃ: 61–82। আইএসবিএন 978-1-4384-3323-3 
  2. লোকসংস্কৃতি, আহাদ হায়দার (১৮ জানুয়ারি ২০১৫)। "বনবিবি"। প্রথম আলো। সংগৃহীত ৬.০১.২০১৭ 
  3. "বনবিবির জহুরনামা"। বাংলাপিডিয়া। সংগৃহীত ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭