মুমুরদিয়া ইউনিয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মুমুরদিয়া
ইউনিয়ন
Government Seal of Bangladesh.svg ৫নং মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ।
মুমুরদিয়া ঢাকা বিভাগ-এ অবস্থিত
মুমুরদিয়া
মুমুরদিয়া
মুমুরদিয়া বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
মুমুরদিয়া
মুমুরদিয়া
বাংলাদেশে মুমুরদিয়া ইউনিয়নের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°১৮′০৪″ উত্তর ৯০°৪৮′১৩″ পূর্ব / ২৪.৩০১১° উত্তর ৯০.৮০৩৬° পূর্ব / 24.3011; 90.8036স্থানাঙ্ক: ২৪°১৮′০৪″ উত্তর ৯০°৪৮′১৩″ পূর্ব / ২৪.৩০১১° উত্তর ৯০.৮০৩৬° পূর্ব / 24.3011; 90.8036
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলাকিশোরগঞ্জ জেলা
উপজেলাকটিয়াদী উপজেলা উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
মানচিত্র

মুমুরদিয়া ইউনিয়ন বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন।[১][২]

অবস্থান ও সীমানা[সম্পাদনা]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তিন শহীদকন্যার ৪৯ বছর ধরে আরেক যুদ্ধ


বিশেষ প্রতিনিধি ঃ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর উত্তর মুমুরদিয়া গ্রামের সভ্রান্ত ও ধনাঢ্য ব্যক্তি নলিনীকান্ত ব্যানার্জিকে দালাল-রাজাকাররা পাকিস্তানী হানাদারদের হাতে তুলে দেয়। ১৭ বৈশাখ কটিয়াদী-গচিহাটা সড়কের পাশে নলিনীকান্ত বাড়ির সামনেই তাঁকে এবং দীনেশ চন্দ্র দে নামে এক কবিরাজকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তৎকালীন স্থানীয় রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন নলিনীকান্তর স্ত্রী লক্ষীরানী ব্যানার্জিকে ধর্ষণের পর কৌশলে বিয়ে করে। পরে ওই চেয়ারম্যান 'মালিক' সেজে নলিনীকান্তর মূল্যবান সম্পত্তি বিক্রি করতে থাকে। এদিকে লুকিয়ে প্রাণে রা পাওয়া নলিনীকান্ত তিন মেয়ে বাবার সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে গ্রামে ফিরে ওঠেন জন্মভিটায়, বাবার দালানঘরে। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা নির্যাতন চালিয়ে তাঁদের উচ্ছেদ করে। গুঁড়িয়ে দেয় দোতলা ভবনটিও। এভাবে ৪১ বছর ধরেই নলিনীকান্তর সন্তানদের ওপর শোষণ-নিপীড়ন এবং শহীদের সম্পদ হরণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকাবাসী এখন সহায়হীন তিন বোনের পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শহীদকন্যাদের বাঁচার লড়াই : নলিনীকান্তর বড় মেয়ে বিনা রানী (শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা) জানান, বাবাকে হত্যার সময় তিনি তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। দেশ স্বাধীন হলে কলকাতা থেকে পিসে মশাইরা বিধবা মাসহ তাঁদের নিয়ে যেতে আসেন। কিন্তু আফতাব উদ্দিন দেখভাল করার কথা বলে তাঁদের রেখে দেয়। এর কিছুদিন পরই আফতাব তাঁর মাকে ধর্ষণ করে এবং পরে কৌশলে বিয়েও করে। ওই পরিস্থিতিতে গ্রামের লোকজন বিনাকে মামার বাড়ি করিমগঞ্জের পারদা নন্দীপুরে পাঠিয়ে দেয়। ছোট দুই বোন সন্ধ্যা ও নিশাকে লুকিয়ে রাখা হয় জালাল উদ্দিনের বাড়িতে। আফতাব উদ্দিন তাঁদের জমিজমা বিক্রি শুরু করলে গ্রামবাসী বিনাকে গ্রামে এনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বিনাকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটে আফতাব। পরিস্থিতি খারাপ দেখে গ্রামের রমজান আলী তিন মেয়েকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের নিজগাঁওয়ে রেখে আসেন। বিনা জানান, শোকে-দুঃখে তাঁর মা লক্ষীরানী নির্বাক হয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আড়াই বছরের মধ্যেই তিনি মারা যান। কয়েক বছর পর রমজান আলী তাঁর শ্যালক আব্দুল লতিফের সঙ্গে বিনার বিয়ে দেন। ধর্মান্তরিত বিনার নাম হয় শামসুন্নাহার। এরপর লতিফই সন্ধ্যা ও নিশাকে লালনপালন করে বিয়ে দেন। বিনা জানান, তাঁর বাবাকে হত্যার পর দালালরা সিন্দুকভর্তি সোনার গয়না, আসবাবপত্র লুট করে। আত্মসাৎ করে কয়েক শ কানি জমি। দলিল জালিয়াতির নমুনা : অনুসন্ধানে জানা যায়, আফতাব উদ্দিন দাতা সেজে কটিয়াদীর চরমুগদিয়া গ্রামের জমাত উল্লাহর স্ত্রী আছিয়া খাতুনের নামে ১৯৭৪ সালের ১৭ জুন তিন হাজার টাকা মূল্য ধরে ২৩৩ শতাংশ জমি সাফ কবলা করে দেয়। একই দলিলে নলিনীকান্ত স্ত্রী লক্ষীরানীকেও (পরিবর্তিত নাম বেগম নূরজাহান) দাতা সাজানো হয়। আবার একই দাগ-খতিয়ানের ওই একই জমির আরো দুটি সাফ কবলা দলিল করা হয় ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। দুটি দলিলের গ্রহীতা সেই আছিয়া খাতুন। দাতা হিসেবে তাতে বিনার নাম লেখা। এই দুই দলিলের প্রথমটিতে (১৩৫০২ নম্বর) সন্ধ্যা ও নিশার কোনো অভিভাবক দেখানো হয়নি। একই দিনে নিবন্ধন করা দ্বিতীয় (১৩৫০৩ নম্বর) দলিলে দেখা যায়, 'নাবালিকা' দুই বোনের অভিভাবক হিসেবে বিনার নাম লেখা। বিনা বলেন, দলিলগুলো জাল। এসব দলিল সৃষ্টির সময় তাঁর বয়স ছিল ১২-১৩। আত্মরায় বোনদের নিয়ে তিনি সেই সময় পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। আছিয়া খাতুন ২০১০ সালে মুমুরদিয়া রেজিস্টার্ড স্কুলের শিক আব্দুল খালেকের কাছে ২১২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। গ্রামবাসী জানায়, আব্দুল খালেক যে জায়গা কেনার দাবি করছে, তাতে সব সময় পানের বরজ ও কলার বাগান ছিল। কিন্তু সে আচমকা নলিনীকান্ত দালানঘরসহ বাড়িটি দখল করে নেয়। তিন বোনের ওপর নির্যাতন : ভিটে ও জমিজমা পুনরাদ্ধারের জন্য তিন বোন মুমুরদিয়ায় আসছেন দুই বছর ধরে। গত বছরের বিজয় দিবসে স্থানীয় 'নবীন শক্তি যুবসংঘ' শহীদ নলিনীকান্তর মেয়েদের সংবর্ধনা দেয়। পরে চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসীর পরামর্শে তিন বোন তাঁদের জন্মভিটায় গিয়ে ওঠেন। নিশা জানান, বাড়ি যাওয়ার পর আব্দুল খালেক তাঁদের রান্নার চুলা কুপিয়ে ভাঙে। হাঁড়ি-পাতিল, আসবাবপত্র ছুড়ে ফেলে। নিরাপত্তা চেয়ে নিশা সেই সময় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ১ এপ্রিল খালেকের ভাড়াটে সন্ত্রাসী ফরিদ মিয়া দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বিনা ও নিশা জানান, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাঁদের দুই বোনকে বেধড়ক পেটায়। তাঁদের রায় এগিয়ে এসে জসিম উদ্দিনের স্ত্রী হেনা ও ছেলের বউ নাজমা প্রহৃত হন। আহত বিনা ও নাজমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে দখলদার খালেক লোক লাগিয়ে তিন দিনে দোতলা দালানঘরটি গুঁড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নিশা ৩ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা করেন। মামলায় আব্দুল খালেকসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। প্রায় তিন মাস পর পুলিশ গত ৪ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। থানার উপপরিদর্শক রকিবুল হোসেন স্বারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তে শহীদ নলিনীকান্তর দালান ভাঙচুর, লুটপাট এবং শহীদের তিন মেয়ের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। ২৯ মে ২০১২ইং আদালত কটিয়াদীর সাবরেজিস্ট্রারকে আলাদা তদন্তের নির্দেশ দেন। সাবরেজিস্ট্রার গাজী আবু হানিফ গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ইং আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেন, আফতাব উদ্দিনের সহযোগীরা অবৈধভাবে নলিনীকান্তর বিপুল পরিমাণ সহায়-সম্পদ ভোগদখল করছে। এলাকাবাসীর ক্ষোভ : কটিয়াদী-গচিহাটা সড়কের পাশে দেখা যায় একটি স্মৃতিস্তম্ব। মুমুরদিয়ার মানুষ জানায়, নলিনীকান্ত ও দীনেশ কবিরাজকে মাটিচাপা দেওয়া স্থানটিতেই ওই স্মৃতিস্তম্ব তৈরি করা হয়েছে। নলিনীর বাড়ির ভেতর চোখে পড়ে দালানের ধ্বংসাবশেষ। দখলদার খালেক মাস্টার বাড়িতে ঘর তুলে লোকজন বসিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে শহীদকন্যারা পাশের জসিম উদ্দিনের বাড়িতে ছোট্ট একটি ঘরে আশ্রিত। বিনা জানান, তাঁদের খাওয়া-পরার খুব কষ্ট। সিলেটি উচ্চারণে তিনি বলেন, 'কিতা করুম বাই, বাফের মাডি কামুড় দিয়া ফইরা রইছি। দেখি একটা কিছু নি অয়।' মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শিক আব্দুল হাই এবং ওয়ার্ড মেম্বার আবু হানিফ জানান, খালেক মাস্টার নলিনী বাবুর বাড়ি না কিনেও অন্যায়ভাবে দখল করে শহীদের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করছে। অভিযুক্তরা যা বলছে : আছিয়া খাতুন জানান, আফতাব উদ্দিনই ছিল নলিনী বাবুর জমিজমার দখলদার। নলিনী মারা যাওয়ার পর আফতাব তাঁর স্ত্রীকে বিয়ে করে জমির মালিক হয়। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে তাঁকে (আছিয়াকে) কিছু জমি সাফ কবলা করে দেয়। পরে ওই জমির বৈধতা লাভের জন্য নলিনী বাবুর মেয়ে বিনার কাছ থেকে তিনি নতুন করে দলিল করে নেন। পালিয়ে বেড়ানো কিশোরী বিনা কিভাবে দলিল দিয়েছে- এ প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। তাঁর ছেলে হাবিব উল্লাহ স্বীকার করেন, তাঁর মা আছিয়া খাতুন নলিনীকান্তর সহায়-সম্পদ এখন অন্যদের কাছে বিক্রি করছেন। আব্দুল খালেক জানায়, আছিয়া খাতুনের কাছ থেকে সে ৩০ লাখ টাকায় ২১২ শতাংশ জমি কিনেছে। নলিনী বাবুর মেয়েদের উচ্ছেদ করার কথা স্বীকার করে সে বলে, উচ্ছেদের সময় তাঁদের ওপর সে হাত তোলেনি। অনুসন্ধানে জানা যায়, আফতাব উদ্দিন ও খালেক ছাড়াও ব্যানার্জি পরিবারের সম্পদ কুগিত করেছে স্থানীয় রাজাকার মুক্তার উদ্দিনসহ অনেকেই। তাদের সবাই মারা গেছে। আফতাব উদ্দিনও ১৮-২০ বছর আগে মারা যায়। সম্পদ কি ওরা ফিরে পাবেন : মুমুরদিয়া ইউনিয়ন তহশিল অফিস সূত্র জানায়, মুমুরদিয়া ইউনিয়নে নলিনীকান্ত ব্যানার্জির বাবা শ্রীশ চন্দ্র ব্যানার্জি, আত্মীয় প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জি, রমেশচন্দ্র ব্যানার্জি, কালিদাস ব্যানার্জি প্রমুখের বিপুল পরিমাণ জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় গেছে। তহশিলদার বিকাশ সাহা জানান, মুমুরদিয়া মৌজার ২০০৯ খতিয়ানের ৮০৩ দাগে নলিনীবাবুর ৭৩ শতাংশের বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। কটিয়াদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তুলসীকান্তি রাউত জানান, শহীদ নলিনীকান্তর প্রচুর সহায়-সম্পদ বেহাত হয়ে আছে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শহীদ নলিনীকান্তর ব্যানার্জির সন্তানরা প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপরে কাছে আবেদন করতে পারেন। উপযুক্ত স্যা-প্রমাণ থাকলে তাঁরা জমি ফেরত পেতে পারেন। নলিনীকান্ত ব্যানার্জির সন্তানদের হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

আয়তন ও জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

শিক্ষার হার :

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

জনপ্রতিনিধি[সম্পাদনা]

বর্তমান চেয়ারম্যান-

চেয়ারম্যানগণের তালিকা
ক্রমিক নাম মেয়াদ
০১
০২
০৩
০৪
০৫
০৬
০৭

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মুমুরদিয়া ইউনিয়ন"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২০ 
  2. "কটিয়াদী উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ১১ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২০