ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (সংস্কৃত: व्रह्मबैवर्तपुराणम्, brahma-vaivarta purāṇam) অষ্টাদশ মহাপুরাণের অন্যতম তথা একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দুশাস্ত্র। এই পুরাণ চারটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে বিশ্বসৃষ্টির কাহিনি; দ্বিতীয় খণ্ডে বিভিন্ন দেবদেবীর বিবরণী ও বর্ণনা প্রদত্ত হয়েছে; তৃতীয় খণ্ডের উপজীব্য গণেশের লীলাকাহিনি এবং চতুর্থ খণ্ডে বর্ণিত হয়েছে কৃষ্ণের জীবন ও কর্ম।

গঠন ও উপাদান[সম্পাদনা]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ নৈমিষারণ্যে ঋষিদের নিকট উগ্রশ্রবা সৌতির দ্বারা কথিত হয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নাম ব্রহ্মা খণ্ড ; ব্রহ্মা তাঁর নারদাদি পুত্রের নিকট এই অংশ ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয় খণ্ডের নাম প্রকৃতি খণ্ড ; এই অংশ প্রকৃতির স্বরূপ দেবী অর্থাৎ শক্তির বর্ণনা। তৃতীয় গণেশ খণ্ড শিবপার্বতীর গজানন পুত্র গণেশের বর্ণনা। এই খণ্ডে দেখা যায়, গণেশজননী পার্বতী শনিকে অভিশাপ অস্বীকার করে গণেশের মুখ দর্শন করার নির্দেশ দিচ্ছেন।[১] চতুর্থ ও শেষ খণ্ডের নাম কৃষ্ণ জন্ম খণ্ড ; এই খণ্ডের উপজীব্য স্বয়ং ভগবান, কৃষ্ণের জন্ম ও জীবনবৃত্তান্ত।

কৃষ্ণ ও বিশ্বসৃষ্টি[সম্পাদনা]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে কৃষ্ণকে পরমেশ্বর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[২],[৩] তিনি এখানে গোলকনিবাসী পরব্রহ্ম[৪] রাসেশ্বরী (রাধা) সহযোগে তিনি বিশ্বসৃষ্টি করেছেন।[৫] ব্রহ্মা তাঁদের বিবাহদান করেন।[৬] সমগ্র বেদ ও তৎসম্পর্কিত শাস্ত্রগ্রন্থে পরব্রহ্মকে পরমেশ্বর বলা হয়েছে; কিন্তু এই পুরাণে বিশেষত কৃষ্ণকে পরমেশ্বর প্রতিপাদন করা হয়েছে। তিনিই ব্রহ্মা, বিষ্ণুশিব – এই দেবত্রয়ীর স্রষ্টা।[৭] তাঁরা যথাক্রমে বিশ্বচরাচরের সৃষ্টি, রক্ষণ ও ধ্বংসের কারণ। সৃষ্টিপ্রসঙ্গে এই পুরাণের মত অন্যান্য পুরাণের তুলনায় সামান্য ভিন্ন। রাধাকৃষ্ণের পূর্ণাঙ্গ কিংবদন্তি নারদ-পঞ্চরাত্রের মতো এই পুরাণেও গড়ে উঠতে দেখা যায়।[৮]

গ্রন্থসূত্র[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Vyasa; Sen, R.N. (1920 (1974))। The Brahma-Vaivarta Puranam। AMS Press।  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. Brahma Vaivarta Purāṇa 4.4.64, 4.5.94,100,105
  3. Kṛṣṇa called paripūrṇatama: 4.1.8, 4.9.13, 4.13.56,79, 4.20.16, 4.21.181,202, 4.22.45, 4.53.51, 4.69.22, 4.70.49
  4. ibid. 4.4.*, 4.13.49, etc.
  5. ibid. 4.13.88-112, etc.
  6. ibid. 4.15.1-140
  7. ibid. 4.9.9, 4.13.49, 4.29.43-46, 4.53.52, 4.67.58,63, 4.70.62
  8. Dimock, Jr, E.C. (1963)। "Doctrine and Practice among the Vaisnavas of Bengal"History of Religions 3 (1): 106। ডিওআই:10.1086/462474। সংগৃহীত 2008-05-03 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]