ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (সংস্কৃত: व्रह्मबैवर्तपुराणम्, brahma-vaivarta purāṇa) হল হিন্দু অষ্টাদশ মহাপুরাণের অন্যতম। এটি খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে রচিত। এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে ব্রহ্মাণ্ড ও সকল জীবের সৃষ্টিতত্ত্ব, দ্বিতীয় খণ্ডে বিভিন্ন হিন্দু দেবীর বর্ণনা ও পৌরাণিক গল্প, তৃতীয় খণ্ডে গণেশের জন্ম ও কীর্তিকাহিনী এবং চতুর্থ খণ্ডে কৃষ্ণের জন্ম ও লীলা বর্ণিত হয়েছে। পদ্ম পুরাণের শ্রেণিবিভাগ অনুসারে, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ একটি রাজসিক পুরাণ।[১]

রচনাকাল[সম্পাদনা]

গবেষকদের মতে, মূল ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর রচনা। কিন্তু খ্রিস্টীয় ১০ম-১১শ শতাব্দীর পর থেকে "কয়েক শতাব্দী যাবৎ বঙ্গীয় পণ্ডিতদের হাতে বিবিধ সংযোজন ও পরিবর্ধনের ফলে প্রাচীন রচনা বর্তমান রূপ লাভ করেন।"[২]

গঠন ও উপাদান[সম্পাদনা]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ নৈমিষারণ্যে ঋষিদের নিকট উগ্রশ্রবা সৌতির দ্বারা কথিত হয়েছে। এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের নাম ব্রহ্মা খণ্ড ; ব্রহ্মা তাঁর নারদাদি পুত্রের নিকট এই অংশ ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয় খণ্ডের নাম প্রকৃতি খণ্ড ; এই অংশ প্রকৃতির স্বরূপ দেবী অর্থাৎ শক্তির বর্ণনা। তৃতীয় গণেশ খণ্ড শিবপার্বতীর গজানন পুত্র গণেশের বর্ণনা। এই খণ্ডে দেখা যায়, গণেশজননী পার্বতী শনিকে অভিশাপ অস্বীকার করে গণেশের মুখ দর্শন করার নির্দেশ দিচ্ছেন।[৩] চতুর্থ ও শেষ খণ্ডের নাম কৃষ্ণ জন্ম খণ্ড ; এই খণ্ডের উপজীব্য স্বয়ং ভগবান, কৃষ্ণের জন্ম ও জীবনবৃত্তান্ত।

কাহিনি[সম্পাদনা]

প্রকৃতি খণ্ড[সম্পাদনা]

পরমেশ্বর কৃষ্ণ সৃষ্টিকার্যের জন্য যোগ অবলম্বন করে নিজেকে পুরুষ ও প্রকৃতি - এই দুই ভাগে বিভক্ত করেন। এই প্রকৃতিকে "মূল প্রকৃতি" বা প্রধান প্রকৃতি বলা হয়। কৃষ্ণের সৃষ্টিকার্যের ইচ্ছা বলবতী হলেই মূল প্রকৃতি হঠাৎ আবির্ভূত হন। পরে সৃষ্টির প্রয়োজন অনুসারে তিনি নিজেকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেন - দুর্গা, রাধা, লক্ষ্মী, সরস্বতীসাবিত্রী[৪]

কৃষ্ণ ও বিশ্বসৃষ্টি[সম্পাদনা]

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে কৃষ্ণকে পরমেশ্বর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৫],[৬] তিনি এখানে গোলকনিবাসী পরব্রহ্ম[৭] রাসেশ্বরী (রাধা) সহযোগে তিনি বিশ্বসৃষ্টি করেছেন।[৮] ব্রহ্মা তাঁদের বিবাহদান করেন।[৯] সমগ্র বেদ ও তৎসম্পর্কিত শাস্ত্রগ্রন্থে পরব্রহ্মকে পরমেশ্বর বলা হয়েছে; কিন্তু এই পুরাণে বিশেষত কৃষ্ণকে পরমেশ্বর প্রতিপাদন করা হয়েছে। তিনিই ব্রহ্মা, বিষ্ণুশিব – এই দেবত্রয়ীর স্রষ্টা।[১০] তাঁরা যথাক্রমে বিশ্বচরাচরের সৃষ্টি, রক্ষণ ও ধ্বংসের কারণ। সৃষ্টিপ্রসঙ্গে এই পুরাণের মত অন্যান্য পুরাণের তুলনায় সামান্য ভিন্ন। রাধাকৃষ্ণের পূর্ণাঙ্গ কিংবদন্তি নারদ-পঞ্চরাত্রের মতো এই পুরাণেও গড়ে উঠতে দেখা যায়।[১১]

গ্রন্থসূত্র[সম্পাদনা]

  • Brahma-vaivarta puranam. Translated into English by Rajendra Nath Sen, Publisher - DIVINE Books, Delhi
  • Mani, Vettam. Puranic Encyclopedia. 1st English ed. New Delhi: Motilal Banarsidass, 1975.
  • C.M. Brown (1976–Hartford, 1974)। "God as Mother: A Feminine Theology in India. An Historical and Theological Study of the Brahmavaivarta Purana"। Journal of the American Academy of Religion 44 (2): 366–367। জেএসটিওআর 1462354 

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Wilson, H. H. (1840)। The Vishnu Purana: A system of Hindu mythology and tradition। Oriental Translation Fund। পৃ: 12। 
  2. সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস, ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষৎ, কলকাতা, ২০০০, পৃ. ১১১-১২
  3. Vyasa; Sen, R.N. (1920 (1974))। The Brahma-Vaivarta Puranam। AMS Press।  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  4. ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, প্রকৃতি খণ্ড, প্রথম অধ্যায়
  5. Brahma Vaivarta Purāṇa 4.4.64, 4.5.94,100,105
  6. Kṛṣṇa called paripūrṇatama: 4.1.8, 4.9.13, 4.13.56,79, 4.20.16, 4.21.181,202, 4.22.45, 4.53.51, 4.69.22, 4.70.49
  7. ibid. 4.4.*, 4.13.49, etc.
  8. ibid. 4.13.88-112, etc.
  9. ibid. 4.15.1-140
  10. ibid. 4.9.9, 4.13.49, 4.29.43-46, 4.53.52, 4.67.58,63, 4.70.62
  11. Dimock, Jr, E.C. (1963)। "Doctrine and Practice among the Vaisnavas of Bengal"History of Religions 3 (1): 106। ডিওআই:10.1086/462474। সংগৃহীত 2008-05-03 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]