সীতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সীতার অগ্নিপরীক্ষা, মুঘল চিত্রকলা, সপ্তদশ শতাব্দী
সিংহাসনে রাম ও সীতা, ১৯৪০ এর দশকের পোস্টার।

সীতা (সংস্কৃত: सीता) হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রধানা নারী চরিত্র তথা বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রামের পত্নী। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি শক্তিরূপা লক্ষ্মীর অবতার। লক্ষ্মী মানবসমাজের সম্মুখে কঠিন জীবনযাপনের এক দৃষ্টান্ত রাখার উদ্দেশ্যে সীতারূপে অবতার গ্রহণ করেন। এই জন্য হিন্দুসমাজে সীতাকে আদর্শ স্ত্রী তথা এক আদর্শ নারীর এক উদাহরণ বলে মনে করা হয়।

নামকরণ[সম্পাদনা]

রামায়ণে সীতা বহু নামে উল্লেখিতা হয়েছেন। তবে তিনি মুলতঃ সীতা নামেই পরিচিতা। জনকের কন্যা বলে সীতাকে জানকী বলা হয়। মিথিলা রাজ্যের কন্যা হওয়ায় তিনি মৈথিলি নামেও পরিচিতা। এছাড়া তিনি রাম-এর স্ত্রী হওয়ায় তাঁকে রমা ও বলা হয়ে থাকে।

জীবণী[সম্পাদনা]

রামায়ণ অনুসারে, সীতা ভূদেবী পৃথিবীর কন্যা ও রাজর্ষি জনকের পালিতা কন্যা। রামচন্দ্র চোদ্দো বছরের জন্য বনবাসে গেলে সীতা তাঁর সঙ্গী হন। পরে রাবণ সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে গেলে রাম ও রাবণের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। কিষ্কিন্ধ্যার বানরদের সহায়তায় রাম রাবণকে পরাজিত ও নিহত করে সীতাকে উদ্ধার করেন। রাজা হওয়ার পর লোকনিন্দার ভয়ে তিনি সীতাকে পরিত্যাগ করেন। মহর্ষি বাল্মীকির তপোবনে সীতা লব ও কুশ নামে দুই যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে রাম সীতাকে দ্বিতীয়বার অগ্নিপরীক্ষা দিতে বললে মর্মাহতা সীতা জননী পৃথিবীর কোলে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ভূগর্ভ থেকে উত্থিতা হয়ে ভূদেবী পৃথিবী সীতাকে নিয়ে পাতালে প্রবেশ করেন।

রামায়ণের বিভিন্ন পাঠান্তরে সীতার সম্পর্কিত নানা উপাখ্যানের সন্ধান মেলে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, বৈশাখ মাসের শুক্লানবমী তিথিটিকে সীতানবমী বলা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী এই যে এ দিনেই সীতা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। উত্তর ভারতে সীতানবমী একটি অন্যতম প্রধান উৎসব।

রামায়ণে সীতা[সম্পাদনা]

সীতার পিতা ছিলেন রাজা জনক। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে জমি চাষ করার সময় লাঙলের আঘাতে ভূমি বিদীর্ণ করে সীতার জন্ম হয়।

সীতাকে লংকার রাজা রাবণ অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে রাম, লক্ষণ , হনুমান সহ বিশাল বাহিনী লংকা আক্রমণ ও ধ্বংস করে। সীতাকে উদ্ধার করে নিয়ে এলেও পরবর্তীতে রামচন্দ্রের অযোধ্যা রাজ্যের প্রজারা সীতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সীতার চরিত্রের পবিত্রতা প্রমাণের জন্য রাম অগ্নিপরীক্ষার আয়োজন করেন। অগ্নিপরীক্ষার অংশ হিসাবে সীতাকে অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করতে হয়। সীতা সতীসাধ্বী হলে আগুন তার কোনো ক্ষতি করবে না, এই ছিলো সবার বিশ্বাস। অগ্নি রীক্ষার মাধ্যমে সীতার চরিত্রের পবিত্রতা প্রমাণ হলে রামচন্দ্র সীতাকে ঘরে ফিরিয়ে নেন। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও সীতার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন রাম সীতাকে আবারও বনবাসে পাঠান। সেখানে বাল্মিকী মুণির আশ্রমে সীতা আশ্রয় পান। এর কিছুদিন পরেই সী্তার দুই পুত্র সন্তান - লব ও কুশের জন্ম হয়। এই দুই পুত্র সন্তান বড় হওবার পরে রাম একবার শিকার করতে বনে গেলে রামের সাথে পুত্রদের পুনর্মিলন হয়। কিন্তু সীতার চরিত্র নিয়ে আবারও প্রজাদের নিন্দা শুরু হলে লজ্জ্বা ও ক্ষোভে সীতা পাতালে প্রবেশ করেন।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Hindu Goddesses: Vision of the Divine Feminine in the Hindu Religious traditions (ISBN 81-208-0379-5) by David Kinsley
  • The Ramayana (2001) by Ramesh Menon

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]