কৃষ্ণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
"বাসুদেব" এখানে পুননির্দেশ করা হয়েছে। কৃষ্ণের পিতার জন্য, দেখুন বসুদেব
কৃষ্ণ
Krishna Kumartuli Park Sarbojanin Arnab Dutta 2010.JPG
কৃষ্ণ
দেবনাগরী कृष्ण
সংস্কৃত লিপ্যন্তর Kṛṣṇa
অন্তর্ভুক্তি বিষ্ণুর অবতার, স্বয়ং ভগবান
আবাস বৃন্দাবন, গোকুল, দ্বারকা
মন্ত্র ॐ नमो भगवते वासुदेवाय
অস্ত্র শঙ্খ, সুদর্শন চক্র, গদা, পদ্ম
সঙ্গী রাধা, রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, সত্য, লক্ষ্মণা, কালিন্দী, ভদ্রা, মিত্রাবিন্দা এবং ১৬১০০ স্ত্রী
Mount গরুড়
Texts ভাগবত পুরাণ, ভগবদ্গীতা

কৃষ্ণ (সংস্কৃত: कृष्ण) একজন হিন্দু আরাধ্য অবতার। এই ধর্মের বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কৃষ্ণের পূজা করে থাকে। একাধিক বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে তাঁকে বিষ্ণুর অবতার রূপে গণ্য করা হয়; অন্যদিকে কৃষ্ণধর্মের অন্যান্য সম্প্রদায়গুলিতে তাঁকে স্বয়ং ভগবান বা সর্বোচ্চ ঈশ্বরের মর্যাদা দেওয়া হয়।

ভাগবত পুরাণে কৃষ্ণকে প্রায়শই বংশী-বাদনরত এক কিশোরের রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।[১] আবার ভগবদ্গীতায় তিনি এক পথপ্রদর্শক ও সহায়ক তরুণ রাজপুত্র।[২] হিন্দু দর্শন ও ধর্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্যে কৃষ্ণ-সংক্রান্ত উপাখ্যানগুলি বহুধা পরিব্যাপ্ত।[৩] তাঁকে কল্পনা করা হয়ে থাকে বিভিন্ন রূপে: কখনো শিশুদেবতা, কখনো রঙ্গকৌতুকপ্রিয়, কখনো আদর্শ প্রেমিক, কখনো দিব্য নায়ক, আবার কখনো বা সর্বোচ্চ ঈশ্বর।[৪] কৃষ্ণ-সংক্রান্ত উপাখ্যানগুলি মূলত লিখিত আছে মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণবিষ্ণু পুরাণ গ্রন্থে।

চতুর্থ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকেই বাসুদেব, বালকৃষ্ণগোপাল প্রভৃতি কৃষ্ণের নানা রূপের পূজাকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দীতেই দক্ষিণ ভারতে কৃষ্ণভক্তি আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর ভারতে কৃষ্ণধর্ম সম্প্রদায়গুলি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় মোটামুটি একাদশ শতাব্দী নাগাদ। দশম শতাব্দী থেকেই ভক্তি আন্দোলনের ক্রমবিস্তারের ফলে কৃষ্ণ শিল্পকলার এক মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠেন। ওড়িশায় জগন্নাথ, মহারাষ্ট্রে বিঠোবা, রাজস্থানে শ্রীনাথজি প্রভৃতি কৃষ্ণের রূপগুলিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভক্তিসংস্কৃতিও বিকাশলাভ করে।

নামকরণ[সম্পাদনা]

দাদা বলরাম (বামে) ও বোন সুভদ্রার (মধ্যে) জগন্নাথ-রূপী কৃষ্ণ (ডানে); ওড়িশায় এই রূপেই পূজিত হন কৃষ্ণ

সংস্কৃত কৃষ্ণ শব্দটির অর্থ কালো, ঘন বা ঘন-নীল[৫] কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কৃষ্ণের মূর্তিগুলিতে তাঁর গায়ের রং সাধারণত কালো এবং ছবিগুলিতে নীল দেখানো হয়ে থাকে।

কৃষ্ণ নামের অর্থ-সংক্রান্ত একাধিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। মহাভারতের উদ্যোগপর্বে (৫।৭১।৪)বলা হয়েছে কৃষ্ণ শব্দটি কৃষ এবং এই দুটি মূল থেকে উৎপন্ন। কৃষ শব্দের অর্থ টেনে আনা বা কর্ষণ করা; সেই সূত্রে শব্দটি ভূ (অর্থাৎ, অস্তিত্ব বা পৃথিবী) শব্দটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। শব্দটিকে নিবৃত্তি শব্দের প্রতিভূ ধরা হয়। মহাভারতের উক্ত শ্লোকটি চৈতন্য চরিতামৃতশ্রীল প্রভুপাদের টীকায় ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে ভূ শব্দটির নিহিত অর্থ আকর্ষণীয় অস্তিত্ব; অর্থাৎ কৃষ্ণ শব্দের অর্থ সকল দিক থেকে আকর্ষণীয় ব্যক্তি[৬][৭] ভাগবত পুরাণের আত্মারাম স্তবে কৃষ্ণের গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে।[৮] বল্লভ সম্প্রদায়ের ব্রহ্মসম্ভব মন্ত্রে কৃষ্ণ নামের মূল শব্দগুলিকে বস্তু, আত্মা ও দিব্য কারণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাপের বিনাশশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লিখিত হয়েছে।[৯]

বিষ্ণু সহস্রনামের ৫৭তম নামটি হল কৃষ্ণ, যার অর্থ, আদি শঙ্করের মতে আনন্দের অস্তিত্ব[১০] কৃষ্ণের একাধিক নাম ও অভিধা রয়েছে। কৃষ্ণের সর্বাধিক প্রচলিত নামদুটি হল গোবিন্দ (গো-অন্বেষক) ও গোপাল (গো-রক্ষাকারী)। এই নামদুটি ব্রজে কৃষ্ণের প্রথম জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।[১১][১২] কোনো কোনো নামের আঞ্চলিক গুরুত্বও রয়েছে। যেমন, জগন্নাথ নামটি। ওড়িশায় এই নামে একটি বিশেষ মূর্তিতে পূজিত হন কৃষ্ণ।[১৩]

মূর্তিতত্ত্ব[সম্পাদনা]

গো, গোপালক ও গোপী পরিবৃত কৃষ্ণ, স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনে রক্ষিত চিত্র

কৃষ্ণের মূর্তি ও ছবিগুলি সহজেই চেনা যায়। কৃষ্ণের অধিকাংশ মূর্তিতেই তাঁর গায়ের রং কালো দেখানো হয়ে থাকে; অন্যদিকে ছবিগুলিতে প্রধানত তাঁর গায়ের রং ঘন নীল। তাঁর রেশমি ধুতিটি সাধারণত হলুদ রঙের এবং মাথার মুকুটে একটি ময়ূরপুচ্ছ শোভা পায়। কৃষ্ণের প্রচলিত মূর্তিগুলিতে সাধারণত তাঁকে বংশীবাদনরত এক বালক বা যুবকের বেশে দেখা যায়।[১৪][১৫] এই বেশে তাঁর একটি পা অপর পায়ের উপর ঈষৎ বঙ্কিম অবস্থায় থাকে এবং বাঁশিটি তাঁর ঠোঁট পর্যন্ত ওঠানো থাকে। তাঁকে ঘিরে থাকে গোরুর দল; এটি তাঁর দিব্য গোপালক সত্ত্বার প্রতীক। কোনো কোনো চিত্রে তাঁকে গোপী-পরিবৃত অবস্থাতেও দেখা যায়।

কৃষ্ণের অপর একটি পরিচিত্র চিত্র হল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবদ্গীতায় অর্জুনকে পরমার্থ উপদেশ দেওয়ার ছবি। এই চিত্রে তাঁর যে বিশ্বরূপ দর্শিত হয় তার অনেকগুলি বাহু ও মাথা। এর মধ্যে সুদর্শন চক্র-ধারী বিষ্ণুর একটি ছায়া বিদ্যমান। উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে ৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অঙ্কিত একটি গুহাচিত্রে অশ্বচালিত রথচালনার চিত্র আছে; সেই চিত্রে একটি চরিত্র রথের চাকা ছুঁড়তে উদ্যত। এই চরিত্রটিকে কৃষ্ণ বলে অভিহিত করা হয়।[১৬]

মন্দিরে পূজিত কৃষ্ণমূর্তিগুলি প্রধানত দণ্ডায়মান অবস্থার। কোথাও কোথাও কৃষ্ণ একা; আবার কোথাও কোথাও তাঁর অন্যান্য সঙ্গীরাও তাঁর সঙ্গে পূজিত হন।[১৭] এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তাঁর দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রা অথবা তাঁর প্রধানা মহিষী রুক্মিণীসত্যভামা

কৃষ্ণ কখনও কখনও তাঁর সহচরী গোপিনী রাধার সঙ্গেও পূজিত হন। মণিপুরী বৈষ্ণবরা একা কৃষ্ণের পূজা করেন না; তাঁদের আরাধ্য রাধা ও কৃষ্ণের যুগলমূর্তি রাধাকৃষ্ণ[১৮] রুদ্র[১৯]নিম্বার্ক সম্প্রদায়,[২০] এবং স্বামীনারায়ণ মতেও এই প্রথা বিদ্যমান। গৌড়ীয় বৈষ্ণবরা রাধারমণ মূর্তিটিকে রাধাকৃষ্ণের প্রতিভূ মনে করেন।[২১]

কোথাও কোথাও শিশুর মূর্তিতেও পূজিত হন কৃষ্ণ। এই মূর্তিতে তাঁকে হামাগুড়ি দিতে, অথবা নৃত্যরত অবস্থায়, অথবা মাখন হাতে দেখা যায়।[২২][২৩] অঞ্চলভেদেও কৃষ্ণের বিভিন্ন প্রকার মূর্ত দেখা যায়। যেমন ওড়িশায় জগন্নাথ, মহারাষ্ট্রে বিঠোবা,[২৪]রাজস্থানে শ্রীনাথজি

শাস্ত্রীয় উৎস[সম্পাদনা]

শিশু কৃষ্ণকে স্নান করাচ্ছেন যশোদা, ভাগবত পুরাণের পশ্চিম ভারতীয় পুথিচিত্র

ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারতে কৃষ্ণকে বিষ্ণুর অবতাররূপে বর্ণনা করা হয়েছে। এই গ্রন্থই প্রাচীনতম গ্রন্থ যেখানে ব্যক্তি কৃষ্ণ বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।[২৫] এই গ্রন্থের অনেক উপাখ্যানের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন কৃষ্ণ। এর ষষ্ঠ পর্বের (ভীষ্ম পর্ব) আঠারোটি অধ্যায় ভগবদ্গীতা নামে পৃথক ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা পেয়ে থাকে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধক্ষেত্রে যোদ্ধা অর্জুনকে প্রদত্ত কৃষ্ণের উপদেশাবলির সংকলনই হল ভগবদ্গীতা। মহাভারতে কৃষ্ণকে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ রূপে দেখানো হলেও, কোথাও কোথাও তাঁর বাল্যলীলারও আভাস দেওয়া হয়েছে। মহাভারতের পরবর্তীকালীন পরিশিষ্ট হরিবংশ গ্রন্থে কৃষ্ণের বাল্য ও কৈশোরের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।

১৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রচিত পতঞ্জলির মহাভাষ্য গ্রন্থে এই শ্লোকে বলা হয়েছে: "সঙ্কর্ষণের সহচর কৃষ্ণের শক্তি বৃদ্ধি হউক!" অন্য একটি শ্লোকে বলা হয়েছে, "কৃষ্ণ স্বয়ং যেন চতুর্থ" (তিন সহচর সহযোগে কৃষ্ণের কথা বলা হয়েছে, তিন সহচর সম্ভবত সঙ্কর্ষণ, প্রদ্যুম্ন ও অনিরুদ্ধ)। অপর এক শ্লোকে রাম (বলরাম) ও কেশবের (কৃষ্ণ) মন্দিরে যে সকল বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়ে থাকে সেগুলির উল্লেখ রয়েছে। পতঞ্জলির রচনা থাকে বাসুদেবের কংসবধ (কৃষ্ণ-কংসোপাচারম্) উপাখ্যানের নাট্যাভিনয় ও মূকাভিনয়ের বিবরণ পাওয়া যায়।[২৬]

খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে পাঁচজন বৃষ্ণি নায়কের পূজার প্রচলনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এঁরা হলেন বলরাম, কৃষ্ণ, প্রদ্যুম্ন, অনিরুদ্ধশাম্বমথুরার নিকটবর্তী মোরা থেকে পাওয়া একটি শিলালিপিতে মহান সত্রপ রাজুভুলার পুত্রের উল্লেখ এবং এক বৃষ্ণির চিত্র পাওয়া গেছে। ইনি সম্ভবত বাসুদেব এবং পঞ্চযোদ্ধার অন্যতম।[২৭] ব্রাহ্মী লিপিতে লিখিত এই শিলালিপিটি বর্তমানে মথুরা সংগ্রহালয়ে রক্ষিত আছে।[২৮][২৯]

একাধিক পুরাণে কৃষ্ণের জীবনকাহিনি বর্ণিত হয়েছে বা তার উপর আলোকপাত করা হয়েছে। ভাগবত পুরাণবিষ্ণু পুরাণ গ্রন্থদ্বয়ে কৃষ্ণের জীবনের সর্বাপেক্ষা বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। এই দুই পুরাণে বর্ণিত ধর্মতত্ত্বই গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদগুলির মূল ভিত্তি।[৩০] ভাগবত পুরাণ গ্রন্থের প্রায় এক চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে কৃষ্ণ ও তাঁর ধর্মোপদেশের স্তুতিবাদ।

খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে লিখিত যক্ষের নিরুক্ত নামক বুৎপত্তি-অভিধানে অক্রুরের শ্যামন্তক মণির একটি উল্লেখ পাওয়া যায়, যার মূল সূত্র কৃষ্ণ-সংক্রান্ত একটি সুপরিচিত পৌরাণিক কাহিনি।[৩১] শতপথ ব্রাহ্মণঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থদ্বয়ে কৃষ্ণকে বৃষ্ণিবংশজ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩২]

হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ ঋগ্বেদে কৃষ্ণের কোনো উল্লেখ নেই। তবে রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর ঋগ্বেদের একটি শ্লোকে (৮।৯৩।১৩) উল্লিখিত দ্রপ্স...কৃষ্ণ (কালো বিন্দু) কথাটিকে দেবতা কৃষ্ণের উল্লেখ বলে প্রমাণ করতে চেয়েছেন।[৩১][৩৩] কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ কয়েকজন প্রাগৈতিহাসিক দেবতার সঙ্গে কৃষ্ণের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ১৯২৭-৩১ সাল নাগাদ ম্যাকে মহেঞ্জোদাড়োতে একটি চিত্রলিপি আবিষ্কার করেছিলেন। এই চিত্রে দুজন ব্যক্তি একটি গাছ ধরে আছে এবং বৃক্ষ দেবতা তাদের দিকে বাহু প্রসারিত করে রেখেছেন। আবিষ্কারক এই চিত্রটিকে কৃষ্ণের যমলার্জুন-লীলার সঙ্গে তুলনা করেছেন।[৩৪][৩৫]

জীবন[সম্পাদনা]

নিচে মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণবিষ্ণু পুরাণ গ্রন্থের ভিত্তিতে কৃষ্ণের জীবনের একটি বিবরণ দেওয়া হল। এই উপাখ্যানগুলির পটভূমি আধুনিক ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার, হরিয়ানা, দিল্লিগুজরাট রাজ্য।

জন্ম[সম্পাদনা]

পিতা বসুদেব যমুনা পেরিয়ে কৃষ্ণকে বৃন্দাবনে নিয়ে যাচ্ছেন; মধ্য অষ্টাদশ শতাব্দীর চিত্রকলা

শাস্ত্রীয় বিবরণ ও জ্যোতিষ গণনার ভিত্তিতে লোকবিশ্বাস অনুযায়ী কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই।[৩৬][৩৭][৩৮] কৃষ্ণের জন্মদিনটি কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী বা জন্মাষ্টমী নামে পালিত হয়।[৩৯] কৃষ্ণ যাদব-রাজধানী মথুরার রাজপরিবারের সন্তান। তিনি বসুদেবদেবকীর অষ্টম পুত্র। তাঁর পিতামাতা উভয়ের যাদববংশীয়। দেবকীর দাদা কংস [৪০] তাঁদের পিতা উগ্রসেনকে বন্দী করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। একটি দৈববাণীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তানের হাতে তাঁর মৃত্যু হবে। এই কথা শুনে তিনি দেবকী ও বসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন এবং তাঁদের প্রথম ছয় পুত্রকে হত্যা করেন। দেবকী তাঁর সপ্তম গর্ভ রোহিণীকে প্রদান করলে, বলরামের জন্ম হয়। এরপরই কৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন।

কৃষ্ণের জীবন বিপন্ন জেনে জন্মরাত্রেই দৈবসহায়তায় কারাগার থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে বসুদেব তাঁকে গোকুলে তাঁর পালক মাতাপিতা যশোদা [৪১]নন্দের কাছে রেখে আসেন। কৃষ্ণ ছাড়া বসুদেবের আরও দুই সন্তানের প্রাণরক্ষা হয়েছিল। প্রথমজন বলরাম (যিনি বসুদেবের প্রথমা স্ত্রী রোহিণীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন) এবং সুভদ্রা (বসুদেব ও রোহিণীর কন্যা, যিনি বলরাম ও কৃষ্ণের অনেক পরে জন্মগ্রহণ করেন)।[৪২] ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী, কোনো প্রকার যৌনসংগম ব্যতিরেকেই কেবলমাত্র "মানসিক যোগের" ফলে কৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। হিন্দুরা বিশ্বাস করেন, সেযুগে এই ধরনের যোগ সম্ভব ছিল।[৩৯][৪৩][৪৪]

বাল্য ও কৈশোর[সম্পাদনা]

গোবর্ধন গিরি হস্তে কৃষ্ণ

নন্দ ছিলেন গোপালক সম্প্রদায়ের প্রধান। তাঁর নিবাস ছিল বৃন্দাবনে। কৃষ্ণের ছেলেবেলার গল্পগুলি থেকে জানা যায়, কিভাবে তিনি একজন রাখাল বালক হয়ে উঠলেন,[৪৫] শৈশবেই কৃষ্ণ এতটাই দুর্ধর্ষ আর অপ্রতিরোধ্য প্রকৃতির ছিলেন যে তিনি তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টাগুলিকে চমকপ্রদভাবে বানচাল করে দিতে পারতেন এবং বৃন্দাবনবাসীর জীবনরক্ষা করতেন। কৃষ্ণের প্রাণনাশের জন্য কংশ পুতনা সহ অন্যান্য রাক্ষসদের প্রেরণ করলে সকলকে হত্যা করেন কৃষ্ণ।

কৃষ্ণের খোঁজ পাওয়া গেলে কংস পুতনা নামক এক রাক্ষসীকে পাঠান শিশুকৃষ্ণকে হত্যা করতে। মাত্র ৬দিন বয়সেই পুতনা রাক্ষসীকে হত্যা করেন তিনি যাঁর উচ্চতা ছিল ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। কালীয় নামে একটি বিরাট সাপ যমুনার জল বিষাক্ত করে রেখেছিল। এই জল পান করে রাখাল ও গরুর মৃত্যু হত প্রায়শই। বালক কৃষ্ণ এই কালীয় [৪৬] নাগকে হত্যা করেন।হিন্দু চিত্রকলায় অনেক স্থানেই বহুফণাযুক্ত কালীয় নাগের মাথার উপর নৃত্যরত কৃষ্ণের ছবি দেখা যায়।এধরণের দৈত্যাকৃতির শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁর একক হামলা ও তাদের পরাস্ত করার কৌশলাদি যে কোন চৌকশ মেধাবী সামরিক কর্মকর্তার দুর্ধর্ষতাকে হার মানায়।[৪৭][৪৮] রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, প্রথাগত বৈদিক ধর্ম ও তার দেবদেবীর বিরুদ্ধে কৃষ্ণের এই অবস্থান, আধ্যাত্মিক ভক্তি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে।[৪৯]

বৃন্দাবনে গোপীদের নিয়ে কৃষ্ণের লীলাও ভারতীয় সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় বিষয়। রাধার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে গীতগোবিন্দম্ রচয়িতা জয়দেব সহ অসংখ্য কবি প্রণয়মূলক কবিতা রচনা করেছেন। রাধাকৃষ্ণ মূর্তিতে কৃষ্ণের পূজা কৃষ্ণভক্তি আন্দোলনের বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।[৫০]

যৌবরাজ্য[সম্পাদনা]

কৃষ্ণ এবং তাঁর দুই প্রধান মহিষী। (বাঁ দিক থেকে) রুক্মিণী, কৃষ্ণ, সত্যভামা এবং গরুড়।

যৌবনে মথুরায় প্রত্যাবর্তন করে কৃষ্ণ তাঁর মামা কংসের অনুগামীদের দ্বারা সংঘটিত বহু হত্যার ষড়যন্ত্র থেকে আত্মরক্ষা করে কংসকে বধ করেন। তিনি কংসের পিতা উগ্রসেনকে পুনরায় যাদবকুলের রাজা হিসেবে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন এবং নিজে সেখানে অন্যতম যুবরাজ হিসেবে অবস্থান করেন।[৫১] এই সময়ে তাঁর সাথে অর্জুন সহ কুরু রাজ্যের অন্যান্য পাণ্ডব রাজপুত্রদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তিনি যাদবদের নিয়ে দ্বারকা নগরীতে (অধুনা গুজরাত) চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর রাজত্ব স্থাপন করেন।[৫২]

কৃষ্ণ বিদর্ভ রাজ্যের রাজকন্যা রুক্মিণীকে তাঁর অনুরোধে শিশুপালের সাথে অনুষ্ঠেয় বিবাহ মণ্ডপ থেকে হরণ করে নিয়ে এসে বিবাহ করেন। এরপরই কৃষ্ণ ১৬১০০ নারীকে নরকাসুর নামক অসুরের কারাগার থেকে উদ্ধার করে তাদের সম্মান রক্ষার্থে তাদের বিবাহ করেন।[৫৩][৫৪] কৃষ্ণের মহিষীদের মধ্যে আটজন ছিলেন প্রধান, যাদের অষ্টভার্যা নামেও অভিহিত করা হয়। এঁরা হলেন রুক্মিণী, সত্যভামা, জাম্ববতী, কালিন্দি, মিত্রবৃন্দা, নগ্নাজিতি, ভদ্রা এবং লক্ষণা।[৫৫][৫৬][৫৭] কৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করে সমস্ত বন্দী নারীদের মুক্ত করেন। তৎকালীন সামাজিক রীতি অনুসারে বন্দী নারীদের সমাজে কোন সম্মান ছিল না এবং তাদের বিবাহের কোন উপায় ছিল না কারণ তারা ইতিপূর্বে নরকাসুরের অধীনে ছিল।[৫৮] বৈষ্ণব মতে কৃষ্ণের সমস্ত মহিষীগণই ছিলেন দেবী লক্ষ্মীর অবতার অথবা সেই সব নারী যারা বহু জন্মের তপস্যাবলে কৃষ্ণের স্ত্রী হওয়ার অধিকার লাভ করেছিলেন। এছাড়া তাঁর এক স্ত্রী সত্যভামা ছিলেন রাধার অংশ[৫৯]

যখন যুধিষ্ঠির সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন তিনি সমস্ত মহান রাজাদের সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। যখন তিনি তাঁদের প্রত্যেককে একে একে সম্মান জ্ঞাপন করতে আরম্ভ করলেন তখন তিনি সর্বপ্রথম কৃষ্ণকে সম্মান জ্ঞাপন করলেন কারণ তিনি কৃষ্ণকেই সমস্ত রাজাদের মধ্যে মহান হিসেবে গণ্য করেছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল রাজারাই তাতে সম্মত হলেও কৃষ্ণের আত্মীয় শিশুপাল তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কৃষ্ণের নিন্দা শুরু করেন। কৃষ্ণ শিশুপালের মায়ের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমা করবেন। তাই যখন শিশুপাল একশত অপরাধ অতিক্রম করলেন তখন তিনি তার বিরাট রূপ ধারণ করে সুদর্শন চক্রের দ্বারা শিশুপালকে বধ করলেন। সেইসময় অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রও দিব্যদৃষ্টি লাভ করে কৃষ্ণের সেই রূপ দর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পুরাণ অনুসারে শিশুপাল এবং দন্তবক্র নামে অপর এক ব্যক্তি পূর্বজন্মে ছিলেন স্বর্গে দেবতা বিষ্ণুর দ্বাররক্ষক জয় ও বিজয়। তাঁরা অভিশপ্ত হয়ে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আবার বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের দ্বারাই স্বর্গে প্রত্যাগমন করেন।[৬০]

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ও ভগবদ্গীতা[সম্পাদনা]

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে কৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করাচ্ছেন।

যখন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে তখন কৃষ্ণ পাণ্ডব এবং কৌরব উভয়পক্ষকেই সুযোগ দেন তাঁর কাছ থেকে সাহায্য হিসেবে দু'টি জিনিসের মধ্যে যেকোন একটি নির্বাচন করতে। তিনি বলেন যে হয় তিনি স্বয়ং থাকবেন অথবা তাঁর নারায়ণী সেনাকে যুদ্ধের জন্য প্রদান করবেন, কিন্তু তিনি নিজে যখন থাকবেন তখন তিনি হাতে অস্ত্র তুলে নেবেন না। পাণ্ডবদের পক্ষে অর্জুন স্বয়ং কৃষ্ণকে গ্রহণ করেন এবং কৌরবদের পক্ষে দুর্যোধন কৃষ্ণের নারায়ণী সেনা গ্রহণ করেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় কৃষ্ণ অর্জুনের রথের সারথির ভূমিকা পালন করেন কারণ তাঁর অস্ত্র ধরার কোন প্রয়োজন ছিল না।

যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন যখন উপলব্ধি করলেন যে যাঁরা তাঁর প্রতিপক্ষ তাঁরা তাঁর আত্মীয়বর্গ এবং অত্যন্ত প্রিয়জন তখন তিনি যুদ্ধের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি সমস্ত আশা ত্যাগ করে তাঁর ধনুক গাণ্ডীব নামিয়ে রাখলেন। তখন কৃষ্ণ অর্জুনকে সেই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে এক উপদেশ দেন যা ভগবদ্গীতা নামে খ্যাত।[৬১]

কৃষ্ণ ছিলেন প্রখর কূটবুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ এবং মহাভারতের যুদ্ধ ও তার পরিণতিতে তাঁর প্রগাঢ় প্রভাব ছিল। তিনি পাণ্ডব এবং কৌরবদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে যথাসম্ভব উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তাঁর সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে তখন তিনি ক্রূর কূটনীতিকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। যুদ্ধকালে পিতৃ-পিতামহের বিরুদ্ধে সঠিক মনোবল নিয়ে যুদ্ধ না করার জন্য তিনি অর্জুনের উপর ক্রুদ্ধ হন। একবার তাঁকে আঘাত করার অপরাধে কৃষ্ণ একটি রথের চাকাকে চক্রে পরিণত করে ভীষ্মকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন। তখন ভীষ্ম সমস্ত অস্ত্র পরিত্যাগ করে কৃষ্ণকে বলেন তাঁকে হত্যা করতে। কিন্তু এরপর অর্জুন কৃষ্ণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন এবং পূর্ণ উদ্যম নিয়ে যুদ্ধ করার প্রতিজ্ঞা করেন। কৃষ্ণ যুধিষ্ঠির এবং অর্জুনকে নির্দেশ দেন যাতে তারা ভীষ্মের দেওয়া যুদ্ধজয়ের বর ফিরিয়ে দেয়, কারণ ভীষ্ম স্বয়ং সেই যুদ্ধে পাণ্ডবদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ভীষ্মকে এ কথা জানানো হলে তিনি এ কথার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পেরে কীভাবে তিনি অস্ত্র পরিত্যাগ করবেন সে উপায় পাণ্ডবদের বলে দেন। তিনি বলেন যে, যদি কোন নারী যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে তবেই তিনি অস্ত্রত্যাগ করবেন। পরের দিন কৃষ্ণের নির্দেশে শিখণ্ডী, অর্থাৎ যিনি পূর্বজন্মে অম্বা ছিলেন তিনি অর্জুনের সাথে যুদ্ধে যোগদান করেন এবং ভীষ্ম তাঁর অস্ত্রসকল নামিয়ে রাখেন।

এছাড়াও কৃষ্ণ ধৃতরাষ্ট্রের জামাতা জয়দ্রথকে বধ করতে অর্জুনকে সহায়তা করেন। জয়দ্রথের কারণেই অর্জুনের পুত্র অভিমন্যু দ্রোণাচার্যের চক্রব্যূহে প্রবেশ করেও বেরিয়ে আসার উপায় অজ্ঞাত থাকায় কৌরবদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। কৃষ্ণ কৌরবদের সেনাপতি দ্রোণাচার্যের পতনও সম্পন্ন করেছিলেন। তিনি ভীমকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অশ্বত্থামা নামক একটি হাতিকে বধ করতে এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে দ্রোণাচার্যের পুত্রের নামও অশ্বত্থামা। এরপর কৃষ্ণের নির্দেশে যুধিষ্ঠির দ্রোণাচার্যকে গিয়ে বলেন যে অশ্বত্থামা নিহত হয়েছেন এবং তারপর খুব মৃদুস্বরে বলেন যে সেটি একটি হাতি। কিন্তু যেহেতু যুধিষ্ঠির কখনও মিথ্যাচার করতেন না তাই দ্রোণাচার্য তাঁর প্রথম কথাটি শুনেই মানসিক ভাবে অত্যন্ত আহত হন ও অস্ত্র পরিত্যাগ করেন। এরপর কৃষ্ণের নির্দেশে ধৃষ্টদ্যুম্ন দ্রোণের শিরশ্ছেদ করেন।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের রথচালকের ভূমিকায় কৃষ্ণ

কর্ণের সাথে অর্জুনের যুদ্ধের সময় কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে যায়। তখন কর্ণ যুদ্ধে বিরত থেকে সেই চাকা মাটি থেকে ওঠানোর চেষ্টা করলে কৃষ্ণ অর্জুনকে স্মরণ করিয়ে দেন যে কৌরবেরা অভিমন্যুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে যুদ্ধের সমস্ত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। তাই তিনি নিরস্ত্র কর্ণকে বধ করে অর্জুনকে সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে আদেশ করেন।

এরপর যুদ্ধের অন্তিম পর্বে কৌরবপ্রধান দুর্যোধন মাতা গান্ধারীর আশীর্বাদ গ্রহণ করতে যান যাতে তার শরীরের যে অঙ্গসমূহের উপর গান্ধারীর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হবে তাই ইস্পাতকঠিন হয়ে উঠবে। তখন কৃষ্ণ ছলপূর্বক তার ঊরুদ্বয় কলাপাতা দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেন। এর ফলে গান্ধারীর দৃষ্টি দুর্যোধনের সমস্ত অঙ্গের উপর পড়লেও ঊরুদ্বয় আবৃত থেকে যায়। এরপর যখন দুর্যোধনের সাথে ভীম গদাযুদ্ধে লিপ্ত হন তখন ভীমের আঘাত দুর্যোধনকে কোনভাবে আহত করতে ব্যর্থ হয়। তখন কৃষ্ণের ইঙ্গিতে ভীম ন্যায় গদাযুদ্ধের নিয়ম লঙ্ঘন করে দুর্যোধনের ঊরুতে আঘাত করেন ও তাকে বধ করেন। এইভাবে কৃষ্ণের অতুলনীয় ও অপ্রতিরোধ্য কৌশলের সাহায্যে পাণ্ডবেরা কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ জয় করে। এছাড়াও কৃষ্ণ অর্জুনের পৌত্র পরীক্ষিতের প্রাণরক্ষা করেন, যাকে অশ্বত্থামা মাতৃগর্ভেই ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করে আঘাত করেছিলেন। পরবর্তীকালে পরীক্ষিতই পাণ্ডবদের উত্তরাধিকারী হন।

গার্হস্থ্য জীবন[সম্পাদনা]

বালি দ্বীপের শৈল্পিক রূপে কৃষ্ণ
মন্দিরের দেওয়ালে খোদাইকৃত রাধাকৃষ্ণের ভাস্কর্য

কৃষ্ণের মোট ১৬১০৮ জন স্ত্রী ছিলেন যাদের মধ্যে আটজন ছিলেন তাঁর প্রধান মহিষী এবং বাকি ১৬১০০ জন ছিলেন নরকাসুরের অন্তঃপুর থেকে উদ্ধার হওয়া রমণীকুল। কিন্তু এই প্রত্যেক রমণীকেই দেবী লক্ষ্মীর অবতার হিসেবে মনে করা হয়।[৬২][৬৩][৬৪]

প্রত্যেক রমণীর গর্ভেই কৃষ্ণ দশটি পুত্র এবং একটি কন্যার জন্মদান করেছিলেন।[৬৫][৬৬][৬৭][৬৮] কৃষ্ণের প্রধান আট মহিষীর গর্ভজাত পুত্রদের নাম:[৬৫]

কৃষ্ণ এবং মহিষী রুক্মিণীর প্রথম পুত্র হল প্রদ্যুম্ন। এছাড়া রুক্মিণীর গর্ভজাত কৃষ্ণের অন্যান্য পুত্রেরা হলেন চারুদেষ্ণ, সুদেষ্ণ, চারুদেহ, সুচারু, চারুগুপ্ত, ভদ্রচারু, চারুচন্দ্র, বিচারু ও চারু। কৃষ্ণপুত্র প্রদ্যুম্ন এবং রুক্মিণীর ভ্রাতা রুক্মীর কন্যা রুক্মাবতীর পুত্র হল পুরাণে উল্লিখিত বীর অনিরুদ্ধ।[৬৭]

আরেক মহিষী সত্যভামার গর্ভে কৃষ্ণ যে দশটি পুত্র লাভ করেছিলেন তারা হলেন ভানু, সুভানু, স্বরভানু, প্রভানু, ভানুমান, চন্দ্রভানু, বৃহদ্ভানু, অতিভানু, শ্রীভানু এবং প্রতিভানু।[৬৭]

জাম্ববানের কন্যা জাম্ববতীর গর্ভে কৃষ্ণ যে দশটি পুত্র লাভ করেছিলেন তারা হলেন শাম্ব, সুমিত্র, পুরুজিৎ, শতজিৎ, সহস্রজিৎ, বিজয়, চিত্রকেতু, বসুমান, দ্রাবিড় ও ক্রতু। এই পুত্রেরা কৃষ্ণের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।[৬৭]

কৃষ্ণ ও নগ্নাজিতির মিলনে জন্ম হয় বীর, চন্দ্র, অশ্বসেন, চিত্রাগু, বেগবান, বৃষ, অম, শঙ্কু এবং কুন্তী (কৃষ্ণের পিসি ও পাণ্ডবদের মাতা কুন্তী নন), এই দশটি পুত্রের।[৬৭]

শ্রুত, কবি, বৃষ, বীর, সুবাহু, ভদ্র, শান্তি, দর্শ, পূর্ণাংশ এবং সোমক হলেন কৃষ্ণ ও কালিন্দির পুত্র।[৬৭]

মদ্রা নামক মহিষীর গর্ভে কৃষ্ণের ঔরসজাত পুত্রেরা হলেন প্রঘোষ, গাত্রবান, সিংহ, বল, প্রবল, উর্ধগ, মহাশক্তি, সাহা, ওজ এবং অপরাজিত।[৬৭]

মিত্রবিন্দা ও কৃষ্ণের মিলনে যে দশ পুত্রের জন্ম হয়, তারা হলেন বৃক, হর্ষ, অনিল, গৃধ্র, বর্ধন, উন্নাদ, মহাংশ, পবন, বহ্নি এবং ক্ষুধী।[৬৭]

ভদ্রার গর্ভজাত কৃষ্ণের পুত্রেরা হলেন সংগ্রামজিৎ, বৃহৎসেন, সুর, প্রহরণ, অরিজিৎ, জয়, সুভদ্র, বাম, আয়ুর ও সাত্যক।[৬৭]

রোহিণীর গর্ভে কৃষ্ণ লাভ করেছিলেন দীপ্তিমান, তাম্রতপ্ত ও অন্যান্য আটজন পুত্র।[৬৭][৬৯]

পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

সপরিবারে প্রভাস তীর্থে গমন ও যদুবংশ বিনাশ[সম্পাদনা]

মহাভারত অনুসারে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ফলে গান্ধারীর একশত পুত্রের মৃত্যু ঘটেছিল। দুর্যোধনের মৃত্যুর পূর্বরাত্রে কৃষ্ণ গান্ধারীর নিকট শোকজ্ঞাপন করতে যান। কিন্তু শোকাহত গান্ধারী ভেবেছিলেন যে কৃষ্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে যুদ্ধের অবসানের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। শোকে দুঃখে কাতর হয়ে তিনি কৃষ্ণকে এই বলে শাপ দেন যে কৃষ্ণ অন্যান্য সমস্ত যাদবদের সাথে ৩৬ বছর পরে ধ্বংস হয়ে যাবেন।[৭০][৭১][৭২] এরপর একদিন কয়েকজন যাদব কৃষ্ণের পুত্র শাম্বকে গর্ভবতী স্ত্রীবেশে সজ্জিত করে কয়েকজন মুনিকে কৌতুকবশতঃ প্রশ্ন করেন যে নারীর ছদ্মবেশী শাম্বর সন্তান পুত্র হবে না কন্যা।তখন সেই ঋষিরা ধ্যানে সব জানতে পেরে ক্রুদ্ধ হয়ে সেই যাদবদের অভিশাপ দেন যে স্ত্রীবেশী শাম্ব একটি লৌহ মুষল প্রসব করবে এবং সেই মুষলের দ্বারা সমগ্র যদুকুল ধ্বংস হয়ে যাবে।এই অভিশাপে তারা ভীত হয়ে যদুপ্রধান কৃষ্ণের কাছে যায় এবং কৃষ্ণ তাদের প্রভাস নামক তীর্থে গিয়ে সেই সদ্যপ্রসূত মুষল পাথরে ঘষে ক্ষয় করার উপদেশ দেন।যাদবেরা কৃষ্ণের পরামর্শ অনুসারে মুষল ক্ষয় করলেও একটি ছোট অংশ নদীর জলে নিক্ষেপ করেন।ঘটনাচক্রে সেই লৌহখণ্ড একটি মাছ ভক্ষণ করে এবং এক ধীবরের হাত হয়ে এক ব্যাধ সেই মুষলখণ্ড লাভ করে।সেই ব্যাধ তখন সেই লৌহখণ্ড দিয়ে এমন এক বাণ প্রস্তুত করেন যার দ্বারা কিছুকাল পরে যদুকুল বিনষ্ট হয়।

এর কিছুকাল পরে একদিন কৃষ্ণ উপলব্ধি করলেন যে দ্বারকা নগরী জনবসতিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ষোল হাজার রমণী ও অষ্টমহিষী থেকে জাত স্বয়ং কৃষ্ণের অসংখ্য পুত্রপৌত্রাদিতে যদুবংশ বিপুল আকার ধারণ করেছে।এছাড়াও অন্যান্য যাদবদের পরিবারও প্রচুর।তাই তিনি অগ্রজ বলভদ্রের সাথে পরামর্শ করে পৃথিবীর ভার লাঘবার্থ বিপুল যদুবংশ ধ্বংস করা কথা স্থির করলেন।তিনি দ্বারকার নারীদের গৃহে রেখে সকল যাদবদের প্রভাস তীর্থে গমনের আদেশ করলেন ও স্বয়ং সেখানে গেলেন।সেখানে সুরাপানের ফলে যাদবদের মধ্যে তীব্র অন্তর্কলহের ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করে। [৭৩] এর কিছুকাল পরে একদিন কৃষ্ণ উপলব্ধি করলেন যে দ্বারকা নগরী জনবসতিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ষোল হাজার রমণী ও অষ্টমহিষী থেকে জাত স্বয়ং কৃষ্ণের অসংখ্য পুত্রপৌত্রাদিতে যদুবংশ বিপুল আকার ধারণ করেছে।[৬৭] এছাড়াও অন্যান্য যাদবদের পরিবারও প্রচুর।[৬৭] তাই তিনি অগ্রজ বলভদ্রের সাথে পরামর্শ করে পৃথিবীর ভার লাঘবার্থ বিপুল যদুবংশ ধ্বংস করা কথা স্থির করলেন।[৫৫][৭৩] তিনি দ্বারকার নারীদের গৃহে রেখে সকল যাদবদের প্রভাস তীর্থে গমনের আদেশ করলেন ও স্বয়ং সেখানে গেলেন।[৭৩] সেখানে সুরাপানের ফলে যাদবদের মধ্যে তীব্র অন্তর্কলহের ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করে।

কৃষ্ণ ও বলরামের দেহত্যাগ[সম্পাদনা]

তখন কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা বলরাম যোগবলে দেহত্যাগ করেন। তখন কৃষ্ণ এক বনে গিয়ে ধ্যান শুরু করেন। তখন এক ব্যাধ হরিণভ্রমে কৃষ্ণের বাম পা লক্ষ করে তীর নিক্ষেপ করেন। এতে কৃষ্ণ ব্যাধকে সান্তনা দিয়ে নিজ দেহ ত্যাগ করে নিজধামে ফিরে যান। তাঁর মনুষ্য জীবনের অবসান ঘটে। কিন্তু সূর্য যেমন স্হির থাকে, তা জ্বলেও না আবার নিভেও না সর্বদা দুত্যিময় কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয় সূর্য ডুবে যায়। আর কৃষ্ণের দেহত্যাগ ঠিক এরকম ব্যাপার।[৭৪][৭৫][৭৬][৭৭] পৌরাণিক সূত্র অনুযায়ী[৭৮] কৃষ্ণের পরলোকগমনের মধ্যে দিয়েই ৩১০২ খ্রিস্টপূর্বের ১৭/১৮ ফেব্রুয়ারি[৭৯] দ্বাপর যুগের সমাপ্তি ঘটে ও কলি যুগের সূচনা হয়।

পূজা ও আরাধনা[সম্পাদনা]

বৈষ্ণব ধর্ম[সম্পাদনা]

মণিপুরি শৈলীতে রাসলীলা

কৃষ্ণের পূজা হল বৈষ্ণব ধর্মের একটি অঙ্গ। বৈষ্ণব ধর্ম অনুসারে দেবতা বিষ্ণুকে পরমেশ্বর জ্ঞান করা হয়ে থাকে এবং তাঁর অন্যান্য অবতারসমূহ, তাঁদের পত্নী এবং তৎসম্বন্ধীয় গুরু ও সাধকদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। কৃষ্ণকে মূলত বিষ্ণুর পূর্ণাবতার হিসেবে গণ্য করা হয়।[৮০] কিন্তু কৃষ্ণের সাথে বিষ্ণুর প্রকৃত সম্বন্ধ অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্রপূর্ণ হয়ে ওঠে[৮১] যখন কখনও স্বয়ং কৃষ্ণকেই একমাত্র পরমেশ্বর রূপে আরাধনা করা হয়।[৮২] বহু আরাধ্য দেবদেবী ও তাদের অবতারদের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কৃষ্ণের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণ এবং বিষ্ণুকেই কেন্দ্র করে বৈষ্ণব ধর্মের ঐতিহ্য চলে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে হিন্দুধর্মের যে শাখায় স্বয়ং কৃষ্ণ প্রধান আরাধ্য রূপে বিবেচিত হন সেই শাখাকে "কার্ষ্ণ্য ধর্ম" এবং যে শাখায় কৃষ্ণকে শুধুমাত্র বিষ্ণুর অবতার রূপে চিহ্নিত করা হয় সেই শাখাকে "বৈষ্ণব ধর্ম" আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।[৮৩]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]


পাদটিকা[সম্পাদনা]

  1. Knott 2000, p. 56
  2. Knott 2000, p. 36, p. 15
  3. Richard Thompson, Ph. D. (December 1994)। Reflections on the Relation Between Religion and Modern Rationalism। সংগৃহীত 2008-04-12 
  4. Mahony, W.K. (1987)। "Perspectives on Krsna's Various Personalities"History of Religions (American Oriental Society) 26 (3): 333–335। জেএসটিওআর 10.2307/599733ডিওআই:10.2307/599733 
  5. "Monier Williams Sanskrit-English Dictionary p.306"website। Cologne Digital Sanskrit Lexicon project। 2008। সংগৃহীত 2008-10-13 
  6. Bhaktivedanta Swami, Prabhupada"Chaitanya Charitamrta Madhya-lila Chapter 9 Verse 30"। vedabase.net। সংগৃহীত 2008-06-15 
  7. Lynne Gibson (2002)। Modern World Religions: Hinduism - Pupils Book Foundation (Modern World Religions)। Oxford [England]: Heinemann Educational Publishers। পৃ: 7। আইএসবিএন 0-435-33618-5 
  8. Goswami 1998, p. 141
  9. Beck 1993, p. 195
  10. Vishnu sahasranama, Swami Tapasyananda's translation, pg. 51.
  11. Bryant 2007, p. 17
  12. Hiltebeitel, Alf (2001)। Rethinking the Mahābhārata: a reader's guide to the education of the dharma king। Chicago: University of Chicago Press। পৃ: 251–53, 256, 259। আইএসবিএন 0-226-34054-6 
  13. B.M.Misra। Orissa: Shri Krishna Jagannatha: the Mushali parva from Sarala's MahabharataOxford University Press, USA। আইএসবিএন 0-19-514891-6  in Bryant 2007, p. 139
  14. The Encyclopedia Americana। [s.l.]: Grolier। 1988। পৃ: 589। আইএসবিএন 0-7172-0119-8 
  15. Benton, William (1974)। The New [[Encyclopaedia Britannica]]। Encyclopaedia Britannica। পৃ: 885। আইএসবিএন 0852292902, 9780852292907 |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)  ইউআরএল শিরোনামে উইকিলিঙ্ক এমবেড করা (সাহায্য)
  16. D. D. Kosambi (1962), Myth and Reality: Studies in the Formation of Indian Culture, New Delhi, CHAPTER I: SOCIAL AND ECONOMIC ASPECTS OF THE BHAGAVAD-GITA, paragraph 1.16
  17. Harle, J. C. (1994)। The art and architecture of the Indian Subcontinent। New Haven, Conn: Yale University Press। পৃ: 410। আইএসবিএন 0-300-06217-6। "figure 327. Manaku, Radha‭'‭s messenger describing Krishna standing with the cow-girls, from Basohli." 
  18. Datta, Amaresh; Mohan Lal (1994)। Encyclopaedia of Indian Literature। Sahitya Akademi। পৃ: 4290।  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  19. The penny cyclopædia [ed. by G. Long]. 1843, p.390 [১]
  20. Ramesh M. Dave, K. K. A. Venkatachari, The Bhakta-bhagawan Relationship: Paramabhakta Parmeshwara Sambandha. Sya. Go Mudgala, Bochasanvasi Shri Aksharpurushottama Sanstha, 1988. p.74
  21. Valpey 2006, p. 52
  22. Hoiberg, Dale; Ramchandani, Indu (2000)। Students' Britannica India। Popular Prakashan। পৃ: 251। আইএসবিএন 0852297602, 9780852297605 |isbn= মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  23. Satsvarupa dasa Goswami (1998). The Qualities of Sri Krsna. GNPress. pp. 152 pages. আইএসবিএন 0911233644
  24. Vithoba is not only viewed as a form of Krishna. He is also by some considered that of Vishnu, Shiva and Gautama Buddha according to various traditions. See: Kelkar, Ashok R. (2001) [1992]। "Sri-Vitthal: Ek Mahasamanvay (Marathi) by R.C. Dhere"Encyclopaedia of Indian literature 5Sahitya Akademi। পৃ: 4179। সংগৃহীত 2008-09-20  and Mokashi, Digambar Balkrishna; Engblom, Philip C. (1987)। Palkhi: a pilgrimage to Pandharpur - translated from the Marathi book Pālakhī by Philip C. Engblom। Albany: State University of New York Press। পৃ: 35। আইএসবিএন 0887064612  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  25. Wendy Doniger (2008)। "Britannica: Mahabharata"encyclopedia। Encyclopædia Britannica Online। সংগৃহীত 2008-10-13 
  26. Bryant 2007, p. 5
  27. Barnett, Lionel David (1922)। Hindu Gods and Heroes: Studies in the History of the Religion of India। J. Murray। পৃ: 93। 
  28. Puri, B.N. (1968)। India in the Time of Patanjali। Bhartiya Vidya Bhavan। Page 51: The coins of Raj uvula have been recovered from the Sultanpur District.. the Brahmi inscription on the Mora stone slab, now in the Mathura Museum,
  29. Barnett, Lionel David (1922)। Hindu Gods and Heroes: Studies in the History of the Religion of India। J. Murray। পৃ: 92। 
  30. Elkman, S.M.; Gosvami, J. (1986)। Jiva Gosvamin's Tattvasandarbha: A Study on the Philosophical and Sectarian Development of the Gaudiya Vaisnava Movement। Motilal Banarsidass Pub।  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  31. ৩১.০ ৩১.১ Bryant 2007, p. 4
  32. Sunil Kumar Bhattacharya Krishna-cult in Indian Art. 1996 M.D. Publications Pvt. Ltd. ISBN 81-7533-001-5 p.128: Satha-patha-brahmana and Aitareya-Aranyaka with reference to first chapter.
  33. Sunil Kumar Bhattacharya Krishna-cult in Indian Art. 1996 M.D. Publications Pvt. Ltd. ISBN 81-7533-001-5 p.126: "According to (D.R.Bhadarkar), the word Krishna referred to in the expression 'Krishna-drapsah' in the Rig- Veda, denotes the very same Krishna".
  34. Mackay's report part 1,pp.344-45,Part 2,plate no.90,object no.D.K.10237
  35. Age of Bharata War by G.C. AGARWALA and K.L VERMA page.81
  36. See horoscope number 1 in Dr. B.V. Raman (1991)। Notable Horoscopes। Delhi, India: Motilal Banarsidass। আইএসবিএন 8120809017 
  37. Arun K. Bansal's research published in Outlook India, September 13, 2004. "Krishna (b. July 21, 3228 BC)" 
  38. N.S. Rajaram takes these dates at face value when he opines that "We have therefore overwhelming evidence showing that Krishna was a historical figure who must have lived within a century on either side of that date, i.e., in the 3200-3000 BC period". (Prof. N. S. Rajaram (September 4, 1999)। "Search for the Historical Krishna"। www.swordoftruth.com। সংগৃহীত 2008-06-15 
  39. ৩৯.০ ৩৯.১ Knott 2000, p. 61
  40. According to the Bhagavata and Vishnu Puranas, but in some Puranas like Devi-Bhagavata-Purana, her paternal uncle. See the Vishnu-Purana Book V Chapter 1, translated by H. H. Wilson, (1840), the Srimad Bhagavatam, translated by A.C. Bhaktivedanta Swami Prabhupada, (1988) copyright Bhaktivedanta Book Trust
  41. Yashoda and Krishna
  42. Bryant 2007, pp. 124–130,224
  43. Bryant 2004, p. 425 (Note. 4)
  44. Bryant 2004, p. 16 (Bh.P. X Ch 2.18)[২]
  45. Tripurari, Swami, Gopastami, Sanga, 1999.
  46. Lord Krishna Stories
  47. Lynne Gibson (1844)। Calcutta Review। India: University of Calcutta Dept. of English। পৃ: 119। 
  48. Lynne Gibson (1999)। Merriam-Webster's Encyclopedia of World Religions। Merriam-Webster। পৃ: 503। 
  49. The English Writings of Rabindranath Tagore (ed. Sisir Kumar Das) (1996)। A Vision of Indias History। Sahitya Akademi: Sahitya Akademi। পৃ: 444। আইএসবিএন 8126000945 
  50. Schweig, G.M. (2005)। Dance of divine love: The Rasa Lila of Krishna from the Bhagavata Purana, India's classic sacred love story.Princeton University Press, Princeton, NJ; Oxford। আইএসবিএন 0691114463 
  51. Bryant 2007, p. 290
  52. Bryant 2007, pp. 28–29
  53. Charudeva Shastri, Suniti Kumar Chatterji(1974) Charudeva Shastri Felicitation Volume, p. 449
  54. David L. Haberman, (2003) Motilal Banarsidass, The Bhaktirasamrtasindhu of Rupa Gosvamin, p. 155, ISBN 81-208-1861-X
  55. ৫৫.০ ৫৫.১ "যদুবালকদিগের প্রতি ব্রহ্মশাপ এবং শাম্বের মুষল প্রসব, মুষল পর্ব্ব, মহাভারত - কাশীরাম দাস" 
  56. Bryant 2007, p. 152
  57. Aparna Chatterjee (December 10, 2007)। "The Ashta-Bharyas"American Chronicleআসল থেকে 6 December 2012-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 21 April 2010 
  58. Bryant 2007, pp. 130–133
  59. Rosen 2006, p. 136
  60. "Krishna & Shishupal"। Mantraonnet.com। 2007-06-19। সংগৃহীত 2011-10-23 
  61. Krishna in the Bhagavad Gita, by Robert N. Minor in Bryant 2007, pp. 77–79
  62. "শ্রীকৃষ্ণের হস্তিনাপুরে গমন ও কালিন্দী প্রভৃতি পঞ্চ কন্যার বিবাহ, অষ্টপঞ্চাশ অধ্যায়, শ্রীমদ্ভাগবত - তারাকান্ত ভট্টাচার্য" 
  63. B. R. Kishore, Lord Krishna,page 47
  64. Francis Hamilton, Genealogies of the Hindus extracted from Sacred Texts, page 123, 145
  65. ৬৫.০ ৬৫.১ "বলরামের রুক্মী ও কালিঙ্গ বধ, একষষ্টিতম অধ্যায়, শ্রীমদ্ভাগবত - তারাকান্ত ভট্টাচার্য" 
  66. "সংক্ষেপে শ্রীকৃষ্ণ-লীলা কথন, নবতিতম অধ্যায়, শ্রীমদ্ভাগবত - তারাকান্ত ভট্টাচার্য" 
  67. ৬৭.০০ ৬৭.০১ ৬৭.০২ ৬৭.০৩ ৬৭.০৪ ৬৭.০৫ ৬৭.০৬ ৬৭.০৭ ৬৭.০৮ ৬৭.০৯ ৬৭.১০ ৬৭.১১ "সপরিবারে শ্রীকৃষ্ণের প্রভাস তীর্থে গমন, মুষল পর্ব্ব, মহাভারত - কাশীরাম দাস" 
  68. Sister Nivedita & Ananda K.Coomaraswamy: Myths and Legends of the Hindus and Bhuddhists, Kolkata, 2001 ISBN 81-7505-197-3
  69. ইংরেজি উইকিপিডিয়া
  70. "Lord Krishna's Disappearance,Disappearance of Lord Krishna,Life Span of Lord Krishn,Disappearance of Sri Krishna"। Happywink.org। সংগৃহীত 2011-10-23 
  71. [৩][অকার্যকর সংযোগ]
  72. "MAHABHARATA -Krishna`s Return to Heaven"। Urday.in। সংগৃহীত 2011-10-23 
  73. ৭৩.০ ৭৩.১ ৭৩.২ "যদুকুল ক্ষয়ার্থে কৃষ্ণ-বলরামের যুক্তি, মুষল পর্ব্ব, মহাভারত - কাশীরাম দাস" 
  74. "শ্রীকৃষ্ণের দেহত্যাগ, মুষল পর্ব্ব, মহাভারত - কাশীরাম দাস" 
  75. Bryant 2007, pp. 148
  76. Kisari Mohan Ganguli (2006 - digitized)। Book 16: Mausala Parva Sections 4-8। "The Mahabharata (originally published between 1883 and 1896)"। book। Sacred Texts। সংগৃহীত 2008-10-13 
  77. Mani, Vettam (1975)। Puranic Encyclopaedia: A Comprehensive Dictionary With Special Reference to the Epic and Puranic Literature। Delhi: Motilal Banarsidass। পৃ: 429। আইএসবিএন 0842-60822-2 
  78. The Bhagavata Purana (1.18.6), Vishnu Purana (5.38.8), and Brahma Purana (212.8), the day Krishna left the earth was the day that the Dvapara Yuga ended and the Kali Yuga began.
  79. See: Matchett, Freda, "The Puranas", p 139 and Yano, Michio, "Calendar, astrology and astronomy" in Flood, Gavin (Ed) (2003)। Blackwell companion to HinduismBlackwell Publishingআইএসবিএন 0-631-21535-2 
  80. John Dowson (2003)। Classical Dictionary of Hindu Mythology and Religion, Geography, History and Literature। Kessinger Publishing। পৃ: 361। আইএসবিএন 0-7661-7589-8 
  81. See Beck, Guy, "Introduction" in Beck 2005, pp. 1–18
  82. Knott 2000, p. 55
  83. Flood (1996) p. 117

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]