বিশ্বাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বিশ্বাস বলতে সাধারণতঃ পারিপার্শ্বিক বস্তুসমূহ ও জগৎ সম্পর্কে ব্যক্তির স্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণা (উপলব্ধি) বা জ্ঞান এবং তার নিশ্চয়তার উপর আস্থা বোঝানো হয়। কিন্তু সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ব(এপিস্টেমিওলজি – দর্শনের শাখা যাতে “জ্ঞান” কালে বলে এই সব নিয়ে আলোচনা হয়) ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বাস শব্দটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে খানিকটা আলাদা অর্থ বহন করতে পারে, তাই জ্ঞান, সত্য, ইত্যাদির মত বিশ্বাসেরও কোন একটি সর্বজনসম্মত সংজ্ঞা নেই।

কোন বিষয় সত্য না মিথ্যা তা বিচার করে - সত্য মনে করলে তা "বিশ্বাস করা" হল, মিথ্যা মনে হলে অবিশ্বাস করা হল আর মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশী মনে হলে সন্দেহ করা হল (সন্দেহ অর্থাৎ বিশ্বাসের অভাব)। বিশ্বাস মানে হতে পারে আস্থা (trust), ভরসা (faith) বা বিশ্বাসের দৃঢ়তা (বিশ্বাস যত বেশী সন্দেহ তত কম) যা খুব বেশী হলে তাকে বলা যায় ভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস। আবার বিশ্বাস মানে হতে পারে আশা (hope) বা আশ্বাস (assurance) বা বিশ্বাস করার ইচ্ছা (willingness to trust)।

বিশ্বাস হতে পারে কোন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অনুভুতির সচেতন অনুধাবন; বা কোনো তথ্য (information) বোধগম্য হওয়া; এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যাচাই করার পর এই বোধের নিশ্চয়তা সম্বন্ধে প্রত্যয় বা প্রতীতি জন্মালে (সত্য বলে স্থায়ী ধারণা) হলে তাকে জ্ঞান (knowledge) বলা যায়। পর্যবেক্ষণের উপর যুক্তির (ও পূর্বলব্ধ জ্ঞানের) সাহায্যে বিচার (ডিডাক্সন) করে কোন বিষয় সত্য বলে সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে নতুন জ্ঞান জন্মায়। এইভাবে মনের মধ্যে উপলব্ধ সত্যগুলিকে জুড়ে যে তত্বের জাল বোনা হতে থাকে তাদের বিষয়বস্তুগুলি সামগ্রিকভাবে হল জ্ঞান আর তাদের গ্রহণযোগ্যতার সচেতন অনুমোদন হল বিশ্বাস। জ্ঞানের বিশেষত্ব হল শুধু পূর্বের অভিজ্ঞতাই নয় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও অজ্ঞাত পরিস্থিতি সম্বন্ধেও এর দ্বারা (ইন্ডাক্সন) ভবিষ্যৎবাণী করা সম্ভব ও সেই ভবিষ্যৎবাণীর সাফল্য বিশ্বাসকে বজায় রাখে। জ্ঞানের গভীরতা, ব্যাপ্তি ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাকে প্রয়োগ করে ভালো ফল লাভের সম্ভাবনার উপর নির্ভর করে জ্ঞান ক্ষেত্রবিশেষে বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা(wisdom) বা দূরদৃষ্টি (insight) ইত্যাদি হিসাবে পরিগণিত হতে পারে।

বিশ্বাস হতে পারে একজনের ব্যক্তিগত কষ্ট কল্পনা। যেমন সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা অনেক কিছু দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণ দেখালে সেই বিশ্বাস আরো বদ্ধমূল হয়ে যেতে থাকে। এই ধরণের ভিত্তিহীন বা যুক্তির অতীত বদ্ধমূল অন্ধবিশ্বাসকে বলে ডিলিউসন (delusion)। আবার বিশ্বাস হতে পারে কোন জনতার সম্মিলিত জনমত। যেমন নানা ধরণের ধর্মবিশ্বাস।

বিশ্বাসের সঙ্গে মূল্যবোধ ও ভালোমন্দ বিচারও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। কোন কিছুকে ভালো বলে বিশ্বাস না হলে তাকে খারাপ বলেই সন্দেহ হবে। সন্দেহ (বিশ্বাস করার অনিচ্ছা) খুব জোরালো হলে এবং অন্যান্য চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে দিলে তাকে বলে প্যারানোইয়া, যার বিশেষণ হল প্যারানয়েড। সিজোফ্রেনিয়ার চারটি প্রধান ধরণের মধ্যে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া একটি।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]