জগন্নাথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জগন্নাথ
ଜଗନ୍ନାଥ
Suna Vesha or Golden Attire of Lord Shri Jagannath of Puri.jpg
জগন্নাথের "সুনা বেশ" বা "স্বর্ণবেশ", জগন্নাথ মন্দির, পুরী, ওড়িশা
দেবনাগরী जगन्नाथ
সংস্কৃত লিপ্যন্তর Jàgannātha
সম্পর্কিত হিন্দু দেবতা, বিষ্ণুর রূপভেদ
‌আবাস নীলাচল
মন্ত্র ওঁ জগন্নাথায় নমঃ।
(ॐ जगन्नाथाय नमः।)
অস্ত্র সুদর্শন চক্র
সঙ্গী লক্ষ্মী
বাহন গরুড়

জগন্নাথ (অর্থাৎ, "জগতের নাথ" বা "জগতের প্রভু") হলেন একজন হিন্দু দেবতাভারতের ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় (বস্তার অঞ্চল), পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, মণিপুরত্রিপুরা রাজ্যে[১] এবং বাংলাদেশে তাঁর পূজা প্রচলিত। জগন্নাথ হলেন হিন্দু দেবতা বিষ্ণু বা তাঁর অবতার কৃষ্ণের একটি বিশেষ রূপ।[২] তাঁকে তাঁর দাদা বলরামবোন সুভদ্রার সঙ্গে পূজা করা হয়।

জগন্নাথের মূর্তি সাধারণত কাঠে তৈরি করা হয়। এই মূর্তির চোখদুটি বড়ো বড়ো ও গোলাকার। হাত অসম্পূর্ণ। মূর্তিতে কোনো পা দেখা যায় না। জগন্নাথের পূজাপদ্ধতিও অন্যান্য হিন্দু দেবতাদের পূজাপদ্ধতির চেয়ে আলাদা।[৩] ওড়িশা রাজ্যের পুরী শহরে জগন্নাথের প্রধান মন্দিরটি অবস্থিত।[৪] এই মন্দির হিন্দুধর্মের চারধামের অন্যতম।[৫]

বেদে জগন্নাথের সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। তিনি দশাবতার অথবা বৈদিক হিন্দু দেবমণ্ডলীর সদস্যও নন।[৬] অবশ্য কোনো কোনো ওড়িয়া গ্রন্থে জগন্নাথকে বিষ্ণুর নবম অবতার রূপে বুদ্ধের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।[৭] বিষ্ণুর রূপভেদ হিসেবে জগন্নাথ এক অসাম্প্রদায়িক দেবতা।[৮][৯][১০] তাঁকে এককভাবে হিন্দুধর্মের কোনো একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। বৈষ্ণব, শৈব, শাক্ত, স্মার্ত সকল শাখার অনুগামীরাই জগন্নাথকে পূজা করেন। এমনকি বৌদ্ধজৈন ধর্মসম্প্রদায়ের সঙ্গেও জগন্নাথের যোগ দেখানো হয়।

জগন্নাথের সবচেয়ে বিখ্যাত উৎসবটি হল রথযাত্রা। এই উৎসবের সময় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি মূল মন্দিরের (বড় দেউল) গর্ভগৃহ থেকে বের করে এনে কাঠের তৈরি তিনটি বিরাট রথে করে প্রায় ৩ কিলোমিটার (১.৯ মা) দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভক্তরাই এই রথগুলি টেনে নিয়ে যান। যেখানেই জগন্নাথ মন্দির আছে, সেখানেই এই ধরনের রথযাত্রা আয়োজিত হয়।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

তাঁদের মতে, "জগন্নাথ" শব্দটি "লোকনাথ" বা "অবলোকিতেশ্বর" শব্দদুটির মতো একটি বর্গনাম। আসলে যে দেবতাকেই সর্বোচ্চ জ্ঞান করা হয়, তাঁকেই "জগন্নাথ" বলা চলে।

—সুরেন্দ্র মোহান্তি, লর্ড জগন্নাথ: দ্য মাইক্রোকসম অফ ইন্ডিয়ান স্পিরিচুয়াল কালচার[১১]

"জগন্নাথ" শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ "জগত বা ব্রহ্মাণ্ডের প্রভু"।[১২]

"জগন্নাথ" কথাটি তৎপুরুষ সমাস। এটি "জগৎ" (যার মূল ধাতু "গম্‌", অর্থাৎ "[যা কিছু] চলে") এবং "নাথ" (অর্থাৎ, প্রভু বা আশ্রয়) শব্দটির সংমিশ্রণে গঠিত। অর্থাৎ, "জগন্নাথ" শব্দের অর্থ "যিনি চলমান জগতের আশ্রয় বা প্রভু"।[১৩][১৪]

ওড়িয়া ভাষায় "জগন্নাথ" নাম থেকে উৎপন্ন "জগা" বা "জগবন্ধু" শব্দদুটিরও প্রচলন লক্ষ্য করা হয়। এছাড়া জগন্নাথের মূর্তির গড়ন অনুসারে তাঁর "কাল্য" (অর্থাৎ, "কালো দেবতা" বা "কালের দেবতা"), "দারুব্রহ্ম" (অর্থাৎ, কাষ্ঠরূপী ব্রহ্ম), "দারুদেবতা" (অর্থাৎ, কাঠের দেবতা), "চকাক্ষী", "চকাদোলা বা "চকানয়ন" (অর্থাৎ, যে দেবতার চোখ গোলাকার) নামও প্রচলিত।[১৫][১৬][১৭]

কোনো কোনো গবেষকের মতে, "জগন্নাথ" শব্দটি কোনো সংস্কৃতায়িত আদিবাসী শব্দ। এই গবেষকেরা জগন্নাথকে মূলত আদিবাসী দেবতা মনে করেন। ওড়িশার আদিম আদিবাসী সরভরা ছিল বৃক্ষ-উপাসক। তারা তাদের দেবতাকে বলত "জগনাত"। সম্ভবত, এই শব্দটি থেকে "জগন্নাথ" শব্দটি এসেছে।[১৮] যদিও এই সব মতবাদ সর্বজনসম্মত নয়। "দৈতাপতি" নামে পরিচিত একটি অব্রাহ্মণ পুরোহিত শ্রেণী দাবি করে, তাঁরা বিশ্ববাসু নামে এক সরভ জগন্নাথ-ভক্তের বংশধর। তাঁরা পুরীর মন্দিরের কয়েকটি প্রধান উৎসব পালন করেন এবং ঈশ্বরের পরিবার নামে পরিচিত হন।[১৯]

তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা[সম্পাদনা]

পুরীর মন্দিরে জগন্নাথের মূর্তি

হিন্দুদের কোনো কোনো সম্প্রদায় জগন্নাথকে বিষ্ণুর অবতার মনে করে।[২০] আবার কোনো কোনো সম্প্রদায়ে তাঁকে সকল অবতারের উৎস বিষ্ণু মনে করা হয়।[২১][২২] মনে করা হয়, অবতারেরা সকল জাগতিক সৃষ্টির কারণ জগন্নাথের থেকে উৎসারিত। তাই রাম, কৃষ্ণ প্রমুখ অবতারের মতো জগন্নাথের কোনো জীবনবৃত্তান্ত বা লীলা নেই।

দীপ্তি রায় তাঁর প্রতাপরুদ্র দেব (ওড়িশার শেষ উল্লেখযোগ্য সূর্যবংশীয় রাজা) গ্রন্থে লিখেছেন:

"সরল দাসের মতে, বিষ্ণুর (জগন্নাথ) সকল অবতার তাঁর থেকেই উৎসারিত এবং তাঁদের লীলা অবসানের পর জগন্নাথেই বিলীন হয়ে যান। প্রতাপরুদ্র দেবের আমলে ওড়িয়া কবিরা এই ধারণা গ্রহণ করে তাঁদের বইতেই এই মতবাদ প্রচার করতেন। তাঁদের মতে, জগন্নাথ শূন্য পুরুষ, নিরাকার ও নিরঞ্জন। নীলাচলে লীলার জন্য তিনি সর্বদা উপস্থিত থাকেন;... প্রতাপরুদ্র দেবের আমলে ওড়িশার পাঁচটি বৈষ্ণব শাখা তাঁদের ধর্মগ্রন্থে জগন্নাথকে (পুরুষোত্তম) পূর্ণব্রহ্মরূপে প্রচার করেন। তাঁরাও বলেছেন, জগন্নাথের থেকেই রাম, কৃষ্ণ প্রমুখ অবতারেরা উৎসারিত হয়ে জগতে লীলা করেছেন এবং লীলার অন্তে পূর্ণব্রহ্মে লীন হয়েছেন।[২৩]

জগন্নাথের মধ্যে বিষ্ণুর সকল অবতারের চিহ্ন আছে। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে বিষ্ণুর এক-একটি অবতারের মূর্তিতে পূজা করা হয়।[২৪] বিভিন্ন প্রথা-রীতিনীতি থেকেও জগন্নাথের সঙ্গে নানা অবতারের যোগ লক্ষিত হয়। যদিও তাঁকে বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে।[২৫] পুরাণে আছে, বিষ্ণুর নৃসিংহ অবতার কাঠের স্তম্ভ ভেঙে বেরিয়েছিলেন। তাই জগন্নাথকে দারুব্রহ্ম রূপে নৃসিংহ স্তোত্র পাঠ করে পূজা করা হয়।[২৬] জগন্নাথকে এককভাবে পূজা করার সময় বলা হয় "দধিবামন"।[২৭] প্রতি বছর ভাদ্র মাসে জগন্নাথকে বিষ্ণুর বামন অবতারের বেশে পূজা করা হয়।[২৮] বার্ষিক রথযাত্রার সময়ও জগন্নাথকে বামন রূপে পূজা করা হয়।[২২] ষোড়শ শতাব্দীতে তুলসীদাস পুরীতে এসে জগন্নাথকে রঘুনাথ (রাম) রূপে পূজা করেছিলেন।[২৯] চৈতন্য মহাপ্রভুর সময় থেকে জগন্নাথকে কৃষ্ণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আবার বিষ্ণুর নবম অবতার বুদ্ধকেও জগন্নাথ মনে করা হয়।[৩০] যদিও বিষ্ণুর নবম অবতার রূপে বুদ্ধের বদলে জগন্নাথকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াসটি বিতর্কিত।[৩১] প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, জগন্নাথ দায়িত্বশীল পুত্রের মতো তাঁর সকল মানব অবতারের বাবা-মায়ের বাৎসরিক শ্রাদ্ধকার্য করে থাকেন।

জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথা কখনই ছিল না।[৩২] হিন্দুধর্মের সকল সম্প্রদায়ে জগন্নাথের পূজা হয়।[২৪] তিনি শুধু বৈষ্ণব দেবতা নন, সকল সম্প্রদায়ের দেবতা।[৩৩][৩৪] জগন্নাথকে তান্ত্রিক ক্রিয়ার সার মনে করা হয়।[৩০] শৈবশাক্তরা জগন্নাথকে দেবী বিমলার ভৈরব অর্থাৎ শিব মনে করেন। [৩৩] এমনকি জগন্নাথ মন্দিরের পূজারিরাও শাক্ত সম্প্রদায়ভুক্ত। যদিও এই মন্দিরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।[৩৫] বলরামকেও শিব ও সুভদ্রাকে দুর্গা মনে করা হয়।[৩৬] প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, ভক্তদের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য জগন্নাথ যে কোনো দেবতার রূপ ধরতে পারেন।[২৯] ভাগবত পুরাণে আছে, ঋষি মার্কণ্ডেয় পুরুষোত্তম জগন্নাথ ও শিবের একত্ব প্রমাণ করেন।[৩৭] মহারাষ্ট্রের গণপতি ভট্ট হাতিবেশের সময় জগন্নাথকে গণেশ রূপে পূজা করেছিলেন।[২৯]

পৌরাণিক উপাখ্যান[সম্পাদনা]

জগন্নাথদেবকে কেন্দ্র করে দুটি জনপ্রিয় কাহিনি প্রচলিত আছে। প্রথম কাহিনি অনুসারে, কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের সম্মুখে আবিভূর্ত হয়ে পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়ে দেন মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন। বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন তাঁরা বন্ধ দরজার কাছে যেতেন এবং শুনতে পেতেন ভিতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে। ৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতুহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত স্বরূপ।

দ্বিতীয় কাহিনিটির অবতারণা করা হয়েছিল পূর্বোল্লিখিত উপখ্যানটির ব্যাখ্যা ও সংশয় নিরসনের উদ্দেশ্যে। বৃন্দাবনে গোপীরা একদিন কৃষ্ণের লীলা ও তাঁদের কৃষ্ণপ্রীতির কথা আলোচনা করছিলেন। কৃষ্ণ গোপনে সেই সকল কথা আড়ি পেতে শুনছিলেন। কৃষ্ণভগিনী সুভদ্রাকে নিয়োগ করা হয়েছিল গোপীরা যখন কৃষ্ণের কথা আলোচনা করেন তখন কৃষ্ণ যেন তাঁদের নিকটবর্তী না হতে পারে সেদিকে নজর রাখার জন্য। কিন্তু গোপীদের কৃষ্ণপ্রীতি দেখে পরিতুষ্ট সুভদ্রা তাঁদেরই কথা শুনতে শুনতে বিমোহিত হয়ে গেলেন। দেখতে পেলেন না যে তাঁদের দুই দাদা কৃষ্ণ ও বলরাম এগিয়ে আসছেন। শুনতে শুনতে দুই ভাইয়ের কেশ খাড়া হয়ে উঠল, হাত গুটিয়ে এল, চোখদুটি বড় বড় হয়ে গেল এবং মুখে আনন্দের উচ্চ হাসির রেখা ফুটে উঠল। এই কারণেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার এইপ্রকার রূপ। বৈষ্ণবরা কৃষ্ণের এই বিমূর্ত রূপটিকে পূজা করেন।

জগন্নাথ মন্দির[সম্পাদনা]

পুরীর জগন্নাথ মন্দির ভারতের অন্যতম প্রসিদ্ধ মন্দির। জগন্নাথ-আরাধনার ইতিবৃত্ত এতই প্রাচীন যে এর কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড পাওয়া সম্ভব নয়। জগন্নাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কলিঙ্গ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মন্দিরটি শ্রীমন্দির নামে সমধিক পরিচিত। গর্ভগৃহের মাথায় রয়েছে একটি সুউচ্চ শিখর বা চূড়া। প্রদীপ উৎসর্গের জন্য রয়েছে ফসিল হয়ে যাওয়া কাঠের একটি স্তম্ভ। মন্দিরের প্রধান দ্বার সিংহদ্বারের রক্ষক দেবতা জয়া ও বিজয়া। মূল প্রবেশপথের সামনে রয়েছে অরুণস্তম্ভ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। খুরদার রাজা কোনার্কের সূর্যমন্দির থেকে এটি নিয়ে আসেন।

তিন দেবতাকে সাধারণত মন্দিরের অভ্যন্তরেই পূজা করা হয়। তবে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে তাঁদের রাজপথে বের করে রথারূহ করে তিন কিলোমিটার দূরে মৌসিমা মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ভক্তরা দেবতাকে গণদর্শনের সুযোগ পান। এই বিরাট বিরাট রথগুলি প্রতি বছর কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়। এই সুদীর্ঘ রথগুলিই ইংরেজি শব্দ 'juggernaut'-উৎস।[৩৮] দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর কৃষ্ণের বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের প্রতীকী রূপে পালিত হয়ে থাকে এই রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রার সময় সারা পৃথিবী থেকে এখানে ভক্ত সমাগম হয়। পুরীর রাজা রথের সম্মুখে রাস্তা ঝাঁট দেন।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tripathy, B; Singh P.K (June 2012)। "Jagannath Cult in North-east India"Orissa Review: 24–27। সংগৃহীত 10 March 2013  |coauthors= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. Jayanti Rath। "Jagannath- The Epitome of Supreme Lord Vishnu" 
  3. "Synthetic Character of Jagannath Culture", Pp. 1–4
  4. "The unfinished Jagannath idol at Puri"। Our Dharma। সংগৃহীত 21 October 2012 
  5. See: Chakravarti 1994, p 140
  6. Wilkins, William Joseph (1900)। Hindu Mythology, Vedic and Puranic। London: Elibron Classics। আইএসবিএন 81-7120-226-8 
  7. Mukherjee, Prabhat The history of medieval Vaishnavism in Orissa. P.155
  8. Pradhan, Atul Chandra (June 2004)। "Evolution of Jagannath Cult"Orissa Review: 74–77। সংগৃহীত 21 October 2012 
  9. Patnaik, Bibhuti (July 3, 2011)। "My friend, philosopher and guide"The Telegraph। সংগৃহীত 1 December 2012 
  10. Misra, Narayan (2005)। Annals and Antiquities of the Temple of Jagannātha। Jagannathism: Sarup& Sons। পৃ: 97। 
  11. Mohanty, Surendra. Lord Jagannatha: the microcosm of Indian spiritual culture.p. 93. Orissa Sahitya Academy (1982)
  12. Das, Basanta Kumar (2009)। "Lord Jagannath Symbol of National Integration"Orissa Review। সংগৃহীত 10 December 2012। "The term Jagannath etymologically means the Lord of the Universe" 
  13. Miśra, Mishra, Narayan, Durga Nandan (2007)। Annals and antiquities of the temple of Jagannātha। Sarup & Sons। পৃ: 190। আইএসবিএন 978-81-7625-747-3 
  14. Eschmann, Anncharlott (1978)। The Cult of Jagannath and the regional tradition of Orissa। University of California, California, San Francisco, USA: Manohar। পৃ: 537। 
  15. "::: LordJagannath.Com ::: Lord Jagannath (Names)"lordjagannath.com। 2010। সংগৃহীত 10 December 2012। "Different names of Shree Jagannath" 
  16. [১]
  17. "64 Names Of Lord Jagannath Around Odisha | PURIWAVES"puriwaves.nirmalya.in। সংগৃহীত 11 December 2012। "Sri Jagannath is being worshipped throughout Orissa over thirty districts in 64 names." 
  18. Joshi, Dina Krishna (June–July 2007)। "Lord Jagannath: the tribal deity"Orissa Review: 80–84। সংগৃহীত 21 October 2012 
  19. Abraham, Priya (30 June 2008)। "125th brother of Jagannath"The Telegraph। সংগৃহীত 21 October 2012 
  20. Asiatic Journal। Parbury, Allen, and Company। 1841। পৃ: 233–। সংগৃহীত 15 December 2012 
  21. Patra, Avinash (2011)। "Origin & Antiquity of the Cult of Lord Jagannath"University of Oxford Weekly Journal। সংগৃহীত 22 October 2012 
  22. ২২.০ ২২.১ Mishra, Kabi (July 3, 2011)। "He is the infinite Brahman"The Telegraph, Kolkata। সংগৃহীত 1 December 2012 
  23. Ray, Dipti (2007)। Prataparudradeva, the Last Great Suryavamsi King of Orissa (A.D. 1497 to A.D. 1540)। Northern Book Centre। পৃ: 196। "
  24. ২৪.০ ২৪.১ Asiatic Society of Bengal (1825)। Asiatic researches or transactions of the Society instituted in Bengal, for inquiring into the history and antiquities, the arts, sciences, and literature, of Asia। পৃ: 319–। সংগৃহীত 15 December 2012 
  25. Srinivasan (15 June 2011)। Hinduism For Dummies। John Wiley & Sons। পৃ: 96–। আইএসবিএন 978-1-118-11077-5। সংগৃহীত 15 December 2012 
  26. Dash, Durgamadhab (June 2007)। "Place of Chakratirtha in the cult of Lord Jagannath"Orissa Review। সংগৃহীত 27 November 2012 
  27. Das, MADHAVANANDA (June 8, 2004)। "The Story Of Gopal Jiu"Vaishnav News। সংগৃহীত 27 November 2012 
  28. Mishra, Bhaskar (June 2012)। "Beshas of Shree Jagannath Mahaprabhu"Orissa Review: 16। সংগৃহীত 15 December 2012 
  29. ২৯.০ ২৯.১ ২৯.২ Mohanty, Tarakanta (July 2005)। "Lord Jagannath in the form of Lord Raghunath and Lord Jadunath"Orissa Review: 109–110। সংগৃহীত 28 November 2012 
  30. ৩০.০ ৩০.১ Jitāmitra Prasāda Siṃhadeba (1 January 2001)। Tāntric Art of Orissa। Gyan Books। পৃ: 146–। আইএসবিএন 978-81-7835-041-7। সংগৃহীত 15 December 2012 
  31. Pati, Dinanath (21 June 2012)। "Who else could be a mascot?"The Telegraph, Kolkata। সংগৃহীত 1 December 2012 
  32. Brad Olsen (1 February 2004)। Sacred Places Around the World: 108 Destinations। CCC Publishing। পৃ: 91–। আইএসবিএন 978-1-888729-10-8। সংগৃহীত 15 December 2012 
  33. ৩৩.০ ৩৩.১ Jagannath Mohanty (2009)। Encyclopaedia of Education, Culture and Children's Literature: v. 3. Indian culture and education। Deep & Deep Publications। পৃ: 19–। আইএসবিএন 978-81-8450-150-6। সংগৃহীত 15 December 2012 
  34. K. K. Kusuman (1990)। A Panorama of Indian Culture: Professor A. Sreedhara Menon Felicitation Volume। Mittal Publications। পৃ: 162–। আইএসবিএন 978-81-7099-214-1। সংগৃহীত 15 December 2012 
  35. O. M. Starza (1993)। The Jagannatha Temple at Puri: Its Architecture, Art, and Cult। BRILL। পৃ: 64–। আইএসবিএন 978-90-04-09673-8। সংগৃহীত 15 December 2012 
  36. James G. Lochtefeld (2002)। The Illustrated Encyclopedia of Hinduism: Volume Two। The Rosen Publishing Group। পৃ: 665–। আইএসবিএন 978-0-8239-3180-4। সংগৃহীত 15 December 2012 
  37. Index of 16 Purans। Markandeya। 2009। পৃ: 18, 19। 
  38. See http://www.m-w.com/cgi-bin/dictionary?va=juggernaut

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]