জিজিয়া কর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

জিজিয়া কর (আরবি: جزيةǧizyah Ottoman Turkish: cizye;) ইসলামি রাষ্ট্রে ধার্য একপ্রকার কর যা অমুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য। ইসলামি রাষ্ট্র যদি জিহাদের মুঝোমুখি হয় তবে জিহাদে অংশগ্রহণ করা সকল সক্ষম মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয্‌। কিন্তু বিধর্মীদের জন্য জিহাদ ফরয্‌ নয়, পরিবর্তে তারা রাষ্ট্রকে একটি কর দেবে যার নাম “জিজিয়া”।,আদিতে আরবের কতিপয় খ্রিষ্টান ও ইহুদি গোত্র মহানবিকে এই কর প্রদান করত। জিজিয়া’র শব্দগত অর্থ সামরিক কর্তব্য থেকে অব্যাহতিজনিত কর।

এ প্রসঙ্গে কোরানের সুরা তওবা’র ২৯ আয়াতে বলা হয়েছে, “যাদের ওপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর বিশ্বাস করে না ও পরকালেও না, এবং আল্লাহ ও তার রসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না ও সত্যধর্ম অনুসরণ করে না, তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যে পর্যন্ত না তারা বশ্যতা স্বীকার করত: আনুগত্যের নিদর্শন স্বরূপ স্বেচ্ছায় জিজিয়া দেয়”।।[১]

উসমানীয় তুরস্কে ১৯শ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জিজিয়া বলবৎ ছিল। মুসলমানদের বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বিভাগে যোগদান করতে হতো বলে তার পরিবর্তে অমুসলমানদের ওপর একটি কর ধার্য করা হয়। কিন্তু সকল ধর্মের নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পেশা প্রবর্তিত হওয়ার পর এই করেরও বিলোপ হয়। মধ্য যুগে পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম শাসিত দেশেও অমুলমানদের ওপর জিজিয়া কর ধার্য করা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে আকবর এটা রহিত করেন, কিন্তু সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে এটা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।[২][৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. তাফসির
  2. ইহুদি-খ্রিস্টানদের জন্যও আরব ভূমির অধিকার সঙ্কুচিত করার নির্দেশ
  3. হজরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ.

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]