হরিশংকর জলদাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হরিশংকর জলদাস
Harishankar Jaladas in 2011 (cropped).jpg
২০১১ সালে প্রথম আলো বর্ষসেরা বই অনুষ্ঠানে জলদাস
জন্ম
হরিশংকর জলদাস

(1953-05-03) মে ৩, ১৯৫৩ (বয়স ৬৭)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ববাংলাদেশী
শিক্ষাপিএইচডি
মাতৃশিক্ষায়তনচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা
  • ঔপন্যাসিক
  • ছোটগল্পকার
কর্মজীবন২০০১–বর্তমান
বাসস্থানচট্টগ্রাম
আদি নিবাসচট্টগ্রাম
পুরস্কারপ্রথম আলো বর্ষসেরা বই (২০১১)

হরিশংকর জলদাস (জন্ম: ০৩মে, ১৯৫৩) বাংলাদেশের একজন ঔপন্যাসিক। লিখেছেন অনেক উপন্যাস। জেলেদের জীবনের উপর তিনি উচ্চতর গবেষণা করেছেন এবং লিখেছেন একাধিক বই। ২০১১ সালে তিনি সৃজনশীল শাখায় প্রথম আলো বর্ষসেরা বই পুরস্কার পেয়েছেন।[১] ২০১৯ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

হরিশংকর জলদাস ১৯৫৩ সালের ৩ মে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা গ্রামের এক জেলে পল্লিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশব এবং কৈশোরের পুরোটা কেটেছে পতেঙ্গার কৈবর্তপাড়ায়। গ্রামের পাঠশালায় তিনি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি সেই জেলেপাড়ার প্রথম হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্র। তার বাবা যুধিষ্ঠির জলদাস পেশায় ছিলেন জেলে। বংশের প্রথম শিক্ষিত বানাবার স্বপ্ন দেখে যুধিষ্ঠির তাকে স্কুলে পাঠান। শৈশবে পরিবারের অভাব মেটাতে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন বর্তমানে বাংলার অধ্যাপক ড. হরিশংকর জলদাস।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

গ্রাম থেকে দুই মাইল দূরে আদাবস্যার নামে পরিচিত দেবেন্দ্রলাল দে'র পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে শিক্ষাজীবনের শুরু। তিনি পতেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ে ১৯৬৬ সালে ভর্তি হয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করে ১৯৭১ (পরীক্ষা হয় ১৯৭২ সালে) সালে এসএসসি পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে তিনি ‘নদীভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ও কৈবর্ত জনজীবন’ বিষয়ে গবেষণা করে ১৯৮২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

হরিশংকর জলদাস পেশাগত জীবনে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান।

সন্মাননা[সম্পাদনা]

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

উপন্যাস[সম্পাদনা]

  • মৎস্যগন্ধা (২০২০)
  • সুখলতার ঘর নেই (২০১৯)
  • প্রস্থানের আগে (২০১৯)
  • রঙ্গশালা (২০১৭)
  • ইরাবতী (২০১৭)
  • অর্ক (২০১৭)
  • সেই আমি নই আমি (২০১৬)
  • কোনো এক চন্দ্রাবতী (২০১৫)
  • এখন তুমি কেমন আছ (২০১৫)
  • প্রতিদ্বন্দ্বী (২০১৪)
  • হরকিশোরবাবু (২০১৪)
  • আমি মৃণালিনী নই (২০১৪)
  • হৃদয়নদী (২০১৩)
  • মোহনা (২০১৩)
  • রামগোলাম (২০১২)
  • মহীথর
  • জলপুত্র (২০১২)
  • কসবি (২০১১)
  • দহনকাল (২০১০)

গল্প[সম্পাদনা]

  • মনোজবাবুদের বাড়ি (২০২০)
  • আহব ইদানীং (২০২০)
  • আছে তো দেহখানি (২০২০)
  • অনার্য অর্জুন (২০১৯)
  • সপ্তর্ষি (২০১৭)
  • ক্ষরণ (২০১৭)
  • কাঙাল (২০১৬)
  • চিত্তরঞ্জন অথবা যযাতির বৃত্তান্ত (২০১৬)
  • মাকাল লতা (২০১৫)
  • লুচ্চা (২০১২)
  • জলদাসীর গল্প (২০১১)

প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  • বাংলা সাহিত্যের নানা অনুষঙ্গ (২০১২)
  • জীবনানন্দ ও তাঁর কাল (২০১০)
  • লোকবাদক বিনয়বাঁশি (২০০৪)
  • কবি অদ্বৈত মল্লবর্মণ এবং (২০০২)
  • ছোটগল্পে নিম্নবর্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০২)
  • ধীবরজীবনকথা (২০০১)

আত্মজীবনী[সম্পাদনা]

  • নোনাজলে ডুবসাঁতার (২০১৮)
  • নিজের সঙ্গে দেখা (২০১২)
  • কৈবর্তকথা (২০১১)

ভ্রমণকাহিনী[সম্পাদনা]

  • নতুন জুতোয় পুরনো পা (২০১৯)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ১৪১৬। পুরস্কার পেল দহনকালবাংলাদেশের গণসংগীত। তারিখ ০৮-০১-২০১১
  2. "একুশে পদক ২০১৯ পাচ্ছেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  3. প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ১৪১৬
  4. বাংলা একাডেমির বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]