শেখ ফজলুল হক মনি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শেখ ফজলুল হক মনি
Sheikh Fazlul Haque Mani
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৯৩৯-০৪-১২)১২ এপ্রিল ১৯৩৯
টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ (তত্কালীন ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু ১৫ আগস্ট ১৯৭৫(১৯৭৫-০৮-১৫) (৩৬ বছর)
ঢাকা, বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
যুবলীগ (প্রতিষ্ঠাতা)
ছাত্রলীগ
মুজিব বাহিনী (প্রতিষ্ঠাতা)
জীবিকা রাজনীতিবিদ, লেখক, সাংবাদিক
ধর্ম ইসলাম
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য মুজিব বাহিনী
সার্ভিস/শাখা গেরিলা
পদ প্রধান সেনাপতি[১]

শেখ ফজলুল হক মনি (৪ ডিসেম্বর ১৯৩৯ - ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্যতম প্রধান গেরিলা বাহিনী মুজিব বাহিনী তার নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত এবং পরিচালিত হয়।[১]

শিক্ষা[সম্পাদনা]

ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ১৯৫৬ সালে এস.এস.সি, ১৯৫৮ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে এইচ.এস.সি, ১৯৬০ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে বি.এ, ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ এবং আইনে ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ছাত্রজীবন থেকেই শেখ মনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬২ সালে হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের নিকট থেকে সনদপত্র গ্রহণে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জয়লাভ করে ডিগ্রি ফিরে পান। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন।১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়।

স্বাধীনতা পরবর্তী[সম্পাদনা]

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর সম্পাদনায় সাপ্তাহিক বাংলার বাণী পত্রিকা দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে তিনি ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। যুগপৎ তিনি তেজগাঁ আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট তিনি সাপ্তাহিক সিনেমা পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৭৪ সালের ৭ জুন তাঁর সম্পাদনায় দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস প্রকাশিত হয়। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে তিনি এর সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মনোনীত হন। তাঁর রচিত গল্পের সংকলন বৃত্ত ১৯৬৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কতিপয় সদস্যের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। 

মুক্তিযুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর উদ্যোগে  মুজিব বাহিনী গঠিত হয়। এ বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেটপার্বত্য চট্টগ্রামে হানাদার পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

স্মরণিকা[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত 'শহীদ শেখ মনি স্মৃতি আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগীতা' তার নামানুসারে নামাঙ্কিত করা হয়।[২] গোপালগঞ্জ জেলায় তার নামে একটি মিলনায়তনের নাম রাখা হয়েছে।[৩]

জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন "শাপলা কুঁড়ির আসর" এর প্রতিষ্ঠাতা।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Staff Correspondent। "No justice yet in 3 other Aug 15 cases"thedailystar.net। The Daily Star। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫ 
  2. REPUBLICA। "Pak wins wheelchair cricket,Himal finishes fifth in B’desh"myrepublica.com। Nepal Republic Media। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫ 
  3. Gopalganj Correspondent। "Shajahan Khan: BNP-Jamaat is killing people like the Pakistan Army"dhakatribune.com। Dhaka Tribune। সংগৃহীত ১০ জুন ২০১৫ 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]