রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো
স্থাপিত জুলাই ৬, ১৯৫৩ (১৯৫৩-০৭-০৬)[১]
ধরন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
আচার্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
অধ্যহ্ম ১৬ (প্রাধ্যাক্ষ)
উপাচার্য মুহাম্মাদ মিজানউদ্দিন
ডীন
অ্যাকাডেমিক স্টাফ ১১৩১
প্রশাসনিক স্টাফ ২০০০
ছাত্র ৩৩,০০০ (প্রায়)
অবস্থান মতিহার, রাজশাহী, বাংলাদেশ
২৪°২২′১২″উত্তর ৮৮°৩৮′১৩″পূর্ব / ২৪.৩৭০° উত্তর ৮৮.৬৩৭° পূর্ব / 24.370; 88.637স্থানাঙ্ক: ২৪°২২′১২″উত্তর ৮৮°৩৮′১৩″পূর্ব / ২৪.৩৭০° উত্তর ৮৮.৬৩৭° পূর্ব / 24.370; 88.637
ক্যাম্পাস শহরে ৭৫৩ একর (৩ কিমি)
সংক্ষিপ্ত নাম রাবি
অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
ওয়েবসাইট ru.ac.bd

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি: University of Rajshahi) বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ই জুলাই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।[২] রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার৷ [৩] বিশ্ববিদ্যালয়টি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে রাজশাহী শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরে পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত৷[৪]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ যুগে রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষাদীক্ষা উন্নয়নের জন্য ১৮৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয রাজশাহী কলেজ৷ সে সময়ে রাজশাহী কলেজে আইন বিভাগসহ পোস্ট গ্রাজুয়েট শ্রেনী চালু করা হয়৷ কিন্ত এর কিছুদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায় এসব কার্যক্রম৷ সে সময়েই রাজশাহীতে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভূত হয়৷ ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে৷ রাজশাহীতে এ সময় স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয়৷

ভাষা আন্দোলনের কিছুদিন আগ থেকেই মূলত রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়৷ ১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়৷ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সর্বপ্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শহরের ভূবন মোহন পার্কে ৷ প্রথম দাবি অবশ্য ওঠে রাজশাহী কলেজেই৷ ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গনে সমবেত হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ পাস করার দাবি তোলে৷

পরবর্তীতে ১৩ই ফেব্রুয়ারি ভূবন মোহন পার্কেই আলহাজ্ব আব্দুল হামিদ এমএলএ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আরও একটি জনসভা৷ উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন ইদ্রিস আহমেদ এমএলএ, প্রভাষ চন্দ্র লাহিড়ী, খোরশেদ আলম, আনসার আলী, আব্দুল জব্বার প্রমূখ৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ক্রমেই তীব্র হতে থাকে৷ এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে কারারুদ্ধ হন ১৫ ছাত্রনেতা ৷ পরে ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে ঢাকায় একটি ডেলিগেশন পাঠানো হয়৷ ওই ডেলিগেশনের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আবুল কালাম চৌধুরী ও আব্দুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য৷ এভাবে একের পর এক আন্দালনের চাপে স্থানীয় আইন পরিষদ রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়৷ এই আন্দোলনে একাত্ব হন পূর্ববঙ্গীয় আইনসভার সদস্য প্রখ্যাত আইনজীবী মাদার বখশ৷

১৯৫৩ সালের ফেব্রুয়ারি ৬ ভূবন মোহন পার্কে আরও একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদার বখশ সরকারকে হুশিয়ার করে বলেন, যদি রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন না হয় তবে উত্তরবঙ্গকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ দাবি করতে আমরা বাধ্য হব৷ মাদার বখশের এই বক্তব্যে সাড়া পড়ে দেশের সুধী মহলে এবং সাথে সাথে টনক নড়ে সরকারেরও৷ অবশেষে ১৯৫৩ সালের মার্চ ৩১ প্রাদেশিক আইনসভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আইন পাশ হয়। নতুন উপাচার্য প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে সঙ্গে নিয়ে মাদারবখশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করে৷ এ দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করে মোট ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়৷ এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তত্কালীন বিভাগীয় কমিশনার এম এ খুরশীদ৷ একই বছর ৬ জুলাই প্রফেসর ইতরাত হোসেন জুবেরীকে উপচার্য নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে ১৬১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।[১] প্রথম ক্লাস শুরু হয় রাজশাহী কলেজে৷ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দফতর প্রতিষ্ঠা করা হয় পদ্মার তীরের বড়কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠি বা নীল কুঠির উপর তলায়৷ বড়কুঠির কাছেই তত্কালীন ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমিতে চিকিত্সাকেন্দ্র ও পাঠাগার তেরি করা হয়৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দফতর স্থাপন করা হয় জমিদার কুঞ্জমোহন মৈত্রের বাড়িতে৷ বড়কুঠি পাড়ার মাতৃধাম এ স্থাপন করা হয় কলেজ পরিদর্শক দফতর৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার নিযুক্ত হন ওসমান গনি ও প্রথম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিযুক্ত হন অধ্যাপক আব্দুল করিম৷ শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা বাড়িতে গড়ে ওঠে ছাত্রাবাস৷ রাজশাহী কলেজ সংলগ্ন ফুলার হোস্টেলকে রুপান্তরিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস হিসেবে৷ বড়কুঠি এলাকার লালকুঠি ভবন ও আরেকটি ভাড়া করা ভবনে ছাত্রী নিবাস স্থাপন করা হয়৷

১৯৫৮ সালে বর্তমান ক্যাম্পাসে দালান-কোঠা ও রাস্তাঘাট নির্মাণ শুরু হয়।[৩] রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মতিহারের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এবং ১৯৬৪ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস ও বিভাগ এখানে স্থানান্তরিত হয়৷ এই ক্যাম্পাসটি গড়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের স্থাপত্য পরিকল্পনায়৷

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরনে নির্মিত ভাষ্কর্য ’সাবাস বাংলাদেশ’

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার প্রাণের বিনিময়ে স্বাধিকার সংগ্রামের ইতিহাসে যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। প্রক্টর হিসেবে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালনরত ড. জোহা ছাত্রদের মিছিলকে সংযুত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, চেষ্টা করছিলেন তাঁর প্রাণপ্রিয় ছাত্ররা যাতে পশ্চিমা শাসক চক্রের লেলিয়ে দেয়া সশস্ত্র বাহিনীর আক্রমণের শিকার না হয়। কিন্তু ওদের বর্বর আক্রোশ মুহূর্তে বিদীর্ণ করে তাঁর বুক। ড. জোহার মৃত্যুতে সারাদেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। প্রতিবাদে টলে উঠেছিল আইয়ুব খানের গদি, পতন হয়েছিল সেই স্বৈরশাসকের। তারই ফলে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির পথের একটি ধাপ পেরিয়ে এসেছিল মুক্তিকামী বাঙালী। বাঙালীর মনে অধ্যাপক জোহা বেঁচে আছেন শহীদ জোহা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক পর্বেই বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ হবিবুর রহমান, শহীদ মীর আবদুল কাইয়ুম, শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার। অকথ্য নির্যাতন ভোগ করলেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মজিবর রহমান। আরও ত্রিশ জন ছাত্র, কর্মচারী-কর্মকর্তাও এই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন।

প্রতীক[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকে রয়েছে একটি বৃত্ত। তা বিশ্বের প্রতীক। একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ যা জ্ঞানের প্রতীক এবং আকাশদৃষ্টি থেকে শাপলা ফুল সৌন্দর্য, পবিত্রতা ও জাতীয় প্রতীক। এটি সূর্য অর্থেও প্রাণ ও শক্তির প্রতীক। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রতীকের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে নকশা আহ্বান করা হয়। শিল্পী গোলাম সারওয়ারের আঁকা মূল নকশা নির্বাচনের পর কিছুটা পরিবর্তন করে বর্তমান প্রতীকে রুপ দেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী হাশেম খান।

প্রতীকের রং: বৃত্ত ও মূল গ্রন্থ কোবাল্ট ব্লু। তা আকাশ, নদী ও উদারতার রং। গ্রন্থের বহিঃরেখা রক্তলাল, জাতীয় পতাকার রং। গ্রন্থের মধ্যরেখা সোনালি, সোনার মতই মূল্যবান শিক্ষার গুনগত মূল্য।[৩]

ক্যম্পাস[সম্পাদনা]

এখন প্রায় ৩০৪ হেক্টর জুড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৫টি উচ্চতর গবেষনা ইন্সটিটিউট, ৯টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম৷ ক্যাম্পাসের উত্তর পুর্ব দিক জুড়ে রয়েছে ১১টি ছাত্রহল ৷ ৬টি ছাত্রীহল ক্যাম্পাসের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত৷ পূর্ব দিকে গবেষকদের জন্য রয়েছে একটি ডরমিটরি। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে রয়েছে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক এলাকা৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এদেশের সর্বপ্রথম স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর৷ রয়েছে সাবাস বাংলাদেশ নামে একটি ভাষ্কর্য৷ আর রয়েছে গোল্ডেন জুবিলি টাওয়ার৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি সাংবাদিক সংগঠন সক্রিয় রয়েছে। ১৫টি সংগঠন নিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। এছাড়া অন্যান্য সংগঠন যেমন বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম (বিএফডিএফ) প্রধান বিতর্ক সংগঠন। এছাড়া আছে বিভিন্ন হল ভিত্তিক বিতর্ক ক্লাব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার সম্পর্কে সচেতন বা সহায়তা করতে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য সহায়তায় রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হায়ার স্ট্যাডিজ ক্লাব ।

শিক্ষা সহায়ক সুবিধা[সম্পাদনা]

সাধারণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের শিক্ষা সহায়ক হিসেবে এখানে রয়েছে কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরী, ইন্সটিটিউট ও অনুষদ লাইব্রেরী, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ও লাইব্রেরী, কম্পিউটার সেন্টার। [৩]সংস্কৃতি চর্চার জন্য রয়েছে শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়াম, জিমনেশিয়াম, সুমিং পুলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে।

বিভিন্ন ভবন পরিচিতি[সম্পাদনা]

প্রশাসন ভবন
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
প্রথম বিজ্ঞানভবন
দ্বিতীয় বিজ্ঞানভবন
চতুর্থ বিজ্ঞানভবন
রবীন্দ্র কলা ভবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানচিত্র
প্রশাসন ভবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট পেরিয়ে বৃক্ষশোভিত গোল চত্বর। এখানে শায়িত ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা। সামনেই প্রশাসন ভবন। এর নিচতলায় জনসংযোগ দপ্তর, প্রক্টর এবং ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর, তথ্য সেল, বীমা ইউনিট, একাডেমিক শাখার একাংশ, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের একাংশ, টেলিফোন শাখা। দোতালায় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্টার দপ্তর, সংস্থাপন শাখা - ১, অর্থ ও হিসাব দপ্তর, পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন দপ্তর, লিগ্যাল সেল। তিনতলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন দপ্তর ও সংস্থাপন শাখা - ২।
প্রসাশন ভবন ২
কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পশ্চিমে এই ভবনে প্রকৌশল দপ্তর, এস্টেট শাখা, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন দপ্তরের বিল শাখা, একডেমিক শাখার একাংশ, কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার, প্রকাশনা দপ্তর ও কৃষি প্রকল্প অফিস অবস্থিত। এই ভবনের পাশেই অগ্রণী ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সিনেট ভবন
আধুনিক অডিও সিস্টেমসহ ২০৬ আসনবিশিষ্ট শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেট ভবন প্রশাসন ভবনের সামনেই। এখানে রয়েছে পরিষদ শাখা।

ডিনস কমপ্লেক্স - শহিদুল্লাহ কলাভবনের ডানে এই ভবনে কলা, আইন, বিজনেস স্টাডিজ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ অফিস। এখানে একটি সম্মেলন কক্ষ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রস্থলে প্রশাসন ভবন-১ এর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে অবস্থিত মনোরম স্থাপত্য সমৃদ্ধ ভবনই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। [৩] এতে রয়েছে প্রায় তিনলক্ষ পুস্তকের একটি সুবিশাল সংগ্রহ। বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনীয় বই সহ রয়েছে বহু দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ। গ্রন্থাগার খোলা থাকে প্রতি শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮.১৫ থেকে সন্ধ্যা ৭.৪৫ পর্যন্ত। শুক্রবার দুপুর ৩.০০ থেকে সন্ধ্যা ৭.৪৫ পর্যন্ত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি থাকলে এই সময় সূচিতে সমান্য পরিবর্তন হয়। গ্রন্থাগারের দোতলায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দুটি পাঠ কক্ষ রয়েছে। তিনতলায় রয়েছে সাময়িকী, পত্র-পত্রিকা, ইন্টারনেট কক্ষ ও গ্রন্থাগার প্রশাসকের কার্যালয়। প্রায় সম্পুর্ন নিচতলা জুড়ে সকল বইয়ের কপি এবং পুরাতন পত্র-পত্রিকা সংরক্ষন করা আছে। দোতলায় প্রবেশ পথে একটি ক্যাটলগ ক্যাবিনেট রয়েছে। ক্যাবিনেটে সংরক্ষিত কার্ডে বইয়ের নাম এবং গ্রন্থাকারের নাম ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। প্রতিটি কার্ডের জন্য একটি সতন্ত্র কল নাম্বার রয়েছে। এই কল নাম্বার অনুসারে গ্রন্থাগারে বই সজ্জিত থাকে। গ্রন্থাগারের নিচতলায় ধার শাখা রয়েছে যেখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা গ্রন্থাগার কার্ড দেখিয়ে বই ধার নিতে পারে। এছাড়া দোতলার একটি কক্ষে বই ফটোকপি করারও ব্যাবস্থা রয়েছে। গ্রন্থাগারে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি দ্রুতগতির ওয়াইফাই জোন রয়েছে। সম্পুর্ন গ্রন্থাগার শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
রবীন্দ্র ভবন
লাইব্রেরীর পশ্চিমে শহিদুল্লাহ কলাভবনের পেছনে এই ভবনের অবস্থান। উত্তর ব্লকে দোতালায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ। মধ্য ব্লকে দোতালায় ফাইনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ। দক্ষিণ ব্লকে দোতালায় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগ এবং তিনতলায় মার্কেটিং বিভাগ ও আইসিএমএবি রাজশাহী সেন্টার। পশ্চিম ব্লকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ইনফরমেশন সায়েন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট, লোক প্রশাসন এবং আইন ও বিচার বিভাগ। মধ্য ব্লকে বাবসায় ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট।
শহিদুল্লাহ কলাভবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এককালিন শিক্ষক, জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহর নামানুসারে এই ভবনটি লাইব্রেরির পশ্চিমে। নিচতলায় বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ। দোতালায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং কলা অনুষদের কম্পিউটার সেল। তিনতলায় আরবি ও ভাষা বিভাগ।
মমতাজউদ্দিন কলা ভবন
ডিনস কমপ্লেক্সের ডানে এই ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্যের নামে। নিচতলায় সমাজকর্ম বিভাগ। দোতালায় অর্থনীতি, দর্শন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন
নিচতলায় ফোকলোর এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগ। দোতালায় নাট্যকলা এবং সংগীত বিভাগ এবং ভাষা বিভাগ (একাংশ) এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট।
প্রথম বিজ্ঞানভবন
বাস স্ট্যান্ডের উত্তরে নিচতলায় আহমেদ হোসেন গ্যালারি। এই ভবনের দক্ষিণ পাশে পদার্থবিজ্ঞান, উত্তর পাশে ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রিক ইনজিনিয়ারিং এবং প্রকৌশল অনুষদের ডীন অফিস।
দ্বিতীয় বিজ্ঞানভবন
প্রথম বিজ্ঞান ভবনের উত্তরে এই ভবন। নিচতলায় রসায়ন এবং এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। তিনতলায় মনোবিজ্ঞান, ভুতত্ত ও খনিবিদ্যা এবং গনিত বিভাগ। চারতলায় প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ ও বিজ্ঞান অনুষদ রয়েছে।
তৃতীয় বিজ্ঞানভবন
দ্বিতীয় বিজ্ঞানভবনের পশ্চিমে এই ভবনের নিচতলায় ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ। তিনতলায় প্রাণিবিদ্যা ও পরিসংখ্যান বিভাগ। চারতলায় ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়টেকনোলোজি, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, অ্যানিম্যাল হাজব্র্যান্ডি এন্ড ভেটেরিনারি সায়েন্স বিভাগ এবং জীব ও ভু-বিজ্ঞান অনুষদ অফিস।
চতুর্থ বিজ্ঞানভবন
গ্রন্থাগার ভবনের উত্তরে এই ভবনের নিচতলায় কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ও ফলিত গনিত বিভাগ, পরিবেশ বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট এবং সেন্ট্রাল সায়েন্স লাইব্রেরি। দ্বিতীয় তলায় ফার্মেসি বিভাগ, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইনজিনিয়ারিং বিভাগ ও কম্পিউটার সেন্টার।
কৃষি অনুষদ ভবন
বোটানিক্যাল গার্ডেন এর পাশেই, রেল লাইন এর পরেই, ক্যাম্পাস এর উত্তর গেট পেরিয়েই বাম দিকে এর অবস্থান। উত্তর ব্লকে ফিসারিজ, দক্ষিণ ব্লকে এগ্রনামী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ এবং কৃষি অনুষদ অফিস।
চারুকলা বিভাগ
কৃষি অনুষদ ভবনের সামনের ভবনে চারুকলা বিভাগ।
নারিকেলবাড়িয়া ক্যাম্পাস
রাজশাহী নওগা মহাসড়কের, রাজশাহী বাইপাস রোড থেকে ডানে এক কিলোমিটার ভিতরে এই ক্যাম্পাসে ক্রপ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগসহ কৃষি অনুষদের পরীক্ষণ ও গবেষণা খামার আছে।
শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) 
প্রথম বিজ্ঞান ভবনের পূর্ব পাশেই রয়েছে শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা TSCC ।[৩]
রাকসু ভবন
শহিদ মিনারের উত্তরে এই ভবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ অফিস। এছাড়া বিভিন্ন কালচারাল সংগঠনের অফিস এখানে।
কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া
রাকসু ভবনের পেছনে ও শহীদ মিনারের উত্তর-পূর্বে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া। এখানে সুলভে নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা আছে।
বিজ্ঞান ওয়ার্কশপ
রাকসু ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত। এখানে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষণ করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন
আধুনিক শব্দ এবং আলোক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সজ্জিত মিলনায়তন। ভবনের দক্ষিণাংশে রাকসু কোষাধ্যক্ষ অফিস।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য একটি চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বদিকে বিনোদপুর গেটের কাছে অবস্থিত। এখানে সাধারণ বিভাগ, প্যাথলজি, এক্স-রে, ইসিজি, আই, দেন্তাল ও পরিবার পরিকল্পনা ইউনিট রয়েছে। ১ জন প্রধান চিকিৎসক সহ মোট ২৫ জন চিকিৎসক আছেন এই কেন্দ্রে। চক্ষু, প্যাথলজি, অর্থপেডিক ও চর্মরোগ বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। এখানে ছাত্র-ছাত্রীদের সকল প্রকার চিকিৎসা বিনামূল্যে দেয়া হয় এবং বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। জরুরী প্রয়োজনে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের জন্য রয়েছে চিকিৎসা কেন্দ্রের নিজস্ব এম্বুলেন্স। [৩]
ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)
ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ এ বাংলদেশের জীবন ও সমাজের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। ভবনটি বিনোদপুর গেটের পূর্বদিকে।
বিএনসিসি ভবন
প্রধান গেটের পাশে এই ভবনে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর - বিএনসিসি অফিস অবস্থিত।
জুবেরী ভবন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্যের নাম অনুসারে এই অতিথি ভবনটি ক্যাম্পাসের পশ্চিম এলাকায়, কাজলা গেটের উত্তরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক ক্লাবও এখানে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল
কাজলা গেটের পাশেই স্কুল ভবন। এর কলেজ শাখা ও এখানে। অত্যন্ত সুনামের অধিকারি এই স্কুলে প্রায় ১৫০০ ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে।
শেখ রাসেল মডেল স্কুল
মমতাজ উদ্দিন কলা ভবনের পশ্চিমে ও মন্নুজান হলের দক্ষিণে এ ভবনে শেখ রাসেল মডেল স্কুল অবস্থিত।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
আরও দেখুন: বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর

১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সর্বপ্রাচীন সংগ্রহশালা - বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর বঙ্গীয় শিল্পকলার বিপুল ও বর্ণাঢ্য সংগ্রহের জন্য সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। রাজশাহী শহরে অবস্থিত, বাংলদেশের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক এই জাদুঘরটি ১৯৬৪ সাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানা
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে, কেন্দ্রীয় মন্দিরের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি ছাপাখানা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি সুপরিসর ও সুন্দর তুর্কী স্তাপনাসমৃদ্ধ। এখানে একটি ইসলামি পাঠাগার রয়েছে।
পরিবহন অফিস এবং বাস স্ট্যান্ড
প্রশাসন ভবনের উত্তরে পরিবহন অফিস। সাথেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস স্ট্যান্ড।

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

স্ফুলিঙ্গ (শহীদ শামসুজ্জোহা স্মৃতি ভাস্কর্য)
সুবর্ণ জয়ন্তি টাওয়ার
শহীদ মিনার কমপ্লেক্স
এখানে আছে রাবি শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা দুটি মুরাল ও উন্মুক্ত মঞ্চ। উলেখ্য এটি একটি ওয়াই ফাই জোন।
সাবাশ বাংলাদেশ
মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সাবাশ বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি সিনেট ভবনের দক্ষিণ চত্বরে। প্রয়াত শিল্পী নিতুন কুণ্ডুর তৈরি এই ভাস্কর্যের পাদদেশে একটি মুক্ত মঞ্চ আছে।
বিদ্যার্ঘ
মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ গনিত বিভাগের শিক্ষক হবিবুর রহমান স্মরনে "বিদ্যার্ঘ" স্মারকসৌধটি নির্মিত হয়। এটি শহীদ হবিবুর রহমান হল চত্বরে অবস্থিত|[৫]
স্ফুলিঙ্গ
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ডঃ শামসুজ্জোহা স্মরনে নির্মিত স্ফুলিঙ্গ ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপাশে শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত|
সুবর্ণ জয়ন্তি টাওয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তির স্মারক এই সুবর্ণ জয়ন্তি টাওয়ার। প্রধান ফটক পেরিয়ে সড়ক দ্বীপের ডানে, প্রশাসন ভবনের সামনে গোল চত্বরের দক্ষিণপূর্বে।
বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে এই বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ এর অবস্থিত।

অনুষদসমূহ ও ইন্সটিটিউটসমূহ[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বমোট ৯টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগ রয়েছে এবং অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪১টি; যার মধ্যে সরকারি ১১টি ও বেসকারি ২৪টি।[৬] অনুষদসমূহঃ

  1. কলা অনুষদ
  2. বিজ্ঞান অনুষদ
  3. প্রকৌশল অনুষদ
  4. কৃষি অনুষদ
  5. বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ
  6. সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ
  7. আইন অনুষদ
  8. জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ
  9. চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদ

এছাড়া উচ্চতর গবেষণা ইনস্টিটিউট রয়েছে ৫টি। ইন্সটিটিউটসমূহঃ

  1. ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ
  2. ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স
  3. ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট
  5. শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

আবাসিক হল সমূহ[সম্পাদনা]

শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হল
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ১৭টি হল এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১টি হল ছেলেদের এবং ৬টি মেয়েদের হল।

ছেলেদের হল
ছেলেদের সবগুলো হল ক্যাম্পাসের পূর্বদিকে অবস্থিত।
  • মতিহার হল
  • শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হল
  • শহীদ হবিবুর রহমান হল
  • মাদার বখ্‌শ হল
  • নবাব আবদুল লতিফ হল
  • সৈয়দ আমীর আলী হল
  • শহীদ শামসুজ্জোহা হল
  • শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হল
  • জিয়াউর রহমান হল
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
  • শাহ্‌ মাখদুম হল
তিনতলা বিশিষ্ট এ হলটি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হলের প্রশাসনিক কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য হলকে অফিসিয়ালী পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। নীচতলা উত্তরে প্রাধ্যক্ষ কক্ষ সহ অতিথি কক্ষ, অফিস সমূহ, লাইব্রেরি ও ইন্টারনেট রুম। পশ্চিমে ক্যান্টিন, পত্রিকা কক্ষ, মসজিদ ও কমনরুম, আর পূর্বে আছে ২ টি ডাইনিং। হলের আসন সংখা ৪৩০। হলের আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র সংখ্যা যথাক্রমে ৪৩০ ও ১৮৬৮ জন। বর্তমানে হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন ড. মো ইমতিয়াজ আহমদ।
মেয়েদের হল
মেয়েদের হলগুলো মূল ক্যাম্পাসের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। [৩]
  • বেগম রোকেয়া হল
  • রহমতুন্নেসা হল
  • বেগম খালেদা জিয়া হল
  • বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল
  • মুন্নুজান হল
  • তাপসী রাবেয়া হল

এছাড়াও গবেষক ও বিদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ডরমেটরি রয়েছে। যার নাম শহীদ মীর কাইয়ুম হোসেন ইন্টারন্যাশনাশ ডরমেটরি।

সংগঠনসমূহ[সম্পাদনা]

রাজনৈতিক[সম্পাদনা]

বিজ্ঞান[সম্পাদনা]

সাংস্কৃতিক[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্তমানে ২২ টি সক্রিয় সাংস্কৃতিক দল রয়েছে। স্বনন, অনুশীলন নাট্যদল, সমকাল নাট্যচক্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা অ্যাসোসিয়েশন (রুডা), তীর্থক নাটক, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার রাজশাহী, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশন (এস্), বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঐকতান, বিবর্তন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট,প্রান্তজন, বিকল্প। বিতর্কের সংগঠন গুলোর মধ্যে বিজনেস ফ্যাকাল্টি ডিবেটিং ফোরাম,গোল্ড বাংলাদেশ,রেটোরিক অন্যতম। ক্যারিয়ার সচেতন ছাত্রদের জন্য ২০১৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। এই সংগঠন টি ক্যারিয়ার ফেয়ার সহ স্কিল ডেভলপমেন্ট সংক্রান্ত নানা কাজ করে। ২০১৩ সালেই RUMUNA নামে একটি সংগঠন আত্নপ্রকাশ করেছে যা জাতিসংঘ ভিত্তিক একটি সংগঠন। এছাড়া আরো ২০১৪ সালে Rajshahi University Higher Study Club নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে এবং যারা ইতোমধ্যেই উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনেক সেমিনারের আয়োজন করেছে । এছাড়া ফটোগ্রাফিক ক্লাব সহ অনেক সংগঠন রয়েছে।[৭]

সমাবর্তন[সম্পাদনা]

১ম বিজ্ঞান ভবনের চতুরাঙ্গনে অনুষ্ঠিত ২য় সমাবর্তনে বক্তৃতারত আছেন ডীন ডঃ আজিজুর রহমান মল্লিক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এরপর ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৯৮, ২০১২ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম সমাবর্তন। তবে মুক্তিযুদ্ধের আগের সমাবর্তনগুলোর বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায় নাই। ধারণা করা হয়, সেগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ২২ এপ্রিল অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদ উপাচার্য থাকাকালীন একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। উক্ত সমাবর্তনে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফরাসি মনীষা আঁন্দ্রে মালরোকে ডি-লিট প্রদান করা হয়।[৮]

সপ্তম সমাবর্তন[সম্পাদনা]

দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর অধ্যাপক আব্দুল খালেক ভিসি থাকাকালীন সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

অষ্টম সমাবর্তন[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ০৯ ডিসেম্বার অধ্যাপক আব্দুস সোবহানকে উপাচার্য থাকাকালীন অষ্টম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান অসুস্থ থাকায় শিক্ষামন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এই সমাবর্তনে সমাবর্তনের বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

নবম সমাবর্তন[সম্পাদনা]

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন উপাচার্য থাকাকালীন নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তালাত আহমদ।[৮][৯][১০]

ক্রীড়া[সম্পাদনা]

স্টেডিয়াম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

স্টেডিয়াম: দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের পূর্বে এর অবস্থান। নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এখানে আরও রয়েছে শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগ, স্টুয়ার্ড শাখা, রোভার স্কাউট অফিস ও ডাকঘর। স্টেডিয়ামের পূর্ব দিকে রয়েছে জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, টেনিস কমপ্লেক্স ও বাস্কেটবল কোর্ট।

উপাচার্যগণ[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ২২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রফেসর ডক্টর ইতরাত হোসেন জুবেরী ছিলেন প্রথম উপাচার্য এবং ২২তম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য হচ্ছেন প্রফেসর ডক্টর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন

কৃতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক[সম্পাদনা]

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে অনেক উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করেছেন এবং অনেক শিক্ষক এখানে পড়িয়েছেন। নিচে তালিকা দেয়া হল:

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ সাইফুদ্দীন চৌধুরী (০৬ জুলাই, ২০১৩)। "৬০ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়"দৈনিক প্রথম আলো। সংগৃহীত জুন ১, ২০১৫ 
  2. ২.০০ ২.০১ ২.০২ ২.০৩ ২.০৪ ২.০৫ ২.০৬ ২.০৭ ২.০৮ ২.০৯ ২.১০ "গৌরবের ৬১ বছর পূর্তি আজ"দৈনিক সংগ্রাম (ঢাকা)। জুলাই ০৬, ২০১৪। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ ৩.৪ ৩.৫ ৩.৬ ৩.৭ নবীনদের জন্য তথ্য, ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে নবীন বরন উপলক্ষে প্রকাশিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। 
  4. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট
  5. "মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে রাবিতে ‘বিদ্যার্ঘ’ ভাস্কর্যের উদ্বোধন"cutimes24.com 
  6. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডায়েরী-২০১৫
  7. জাকির হোসেন তমাল (এপ্রিল ২২, ২০১৫)। "ক্যাম্পাসের ক্যানভাসে"যায় যায় দিন (ঢাকা)। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  8. ৮.০ ৮.১ "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবম সমাবর্তন আজ"দৈনিক কালের কণ্ঠ (ঢাকা)। ১৮ জানুয়ারি, ২০১৫। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  9. "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি"lekhapora24.com (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: lekhapora24.com। ১৮ জানুয়ারি, ২০১৫। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  10. "রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তন"rnews24.com (রাজশাহী)। ১৭ জানুয়ারি, ২০১৫। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  11. ১১.০ ১১.১ ১১.২ ১১.৩ ১১.৪ ১১.৫ "অনাড়ম্বর আয়োজনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত"রাবি নিউজ। সংগৃহীত ০৩ জুন, ২০১৫ 
  12. সলিমুল্লাহ খান (১৬ মার্চ, ২০১৫)। "বুদ্ধিজীবীর জারি: ১৯৭১"বিডিপ্রতিদিন.কম (ঢাকা)। সংগৃহীত মে ১৯, ২০১৫ 
  13. "পীর হাবিবুর রহমান"porua.com.bd (বাংলা ভাষায়)। ঢাকা: পড়ুয়া.কম। সংগৃহীত জুন ৩, ২০১৫ 
  14. "আজ কবি আবু বকর সিদ্দিকের জন্মদিন"বাংলাদেশ প্রতিদিন (ঢাকা)। ১৯ আগস্ট, ২০১৩। সংগৃহীত জুন ৩, ২০১৫ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]