হিন্দু ধর্মগ্রন্থ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(হিন্দুশাস্ত্র থেকে পুনর্নির্দেশিত)

হিন্দুধর্মের অনুশাসনশাস্ত্রটি একক কোনো গ্রন্থ নয় [১][২]। বর্তমানে ধর্মটিকে অানুশাসনিকভাবে মূলত মনুসংহিতাতে নিবেশিত মনে হলেও আসলে তা ন্যূনতম ৯৮ (৭২+২৬) গ্রন্থের এক শাস্ত্রপঞ্জী ।[৩]

স্রষ্টাবাণীকেন্দ্রীক শ্রুতি ও প্রাপ্ত এ বাণীদির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকেন্দ্রীক স্মৃতি বিন্যাসে বিন্যস্ত গ্রন্থপুঞ্জটি হিন্দুধর্মের আপাত বৈপরীত্যময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসজীবনাচার নিয়ন্ত্রণ ক'রে আসছে । [৪][৫]


প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলি সংস্কৃত ভাষায় রচিত। অনেক ধর্মগ্রন্থ স্থানীয় ভারতীয় ভাষাতেও রচিত। আধুনিক কালে প্রাচীনতমন ধর্মগ্রন্থগুলি ভারতের বিভিন্ন ভাষা এবং পাশ্চাত্যের নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে।[২] খ্রিস্টের জন্মের আগে হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলি মুখে মুখে রচিত হত ও মনে রাখা হত এবং মুখে মুখেই গুরুশিষ্য-পরম্পরায় এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে প্রচলিত ছিল। এক সহস্রাব্দ পর এগুলি পাণ্ডুলিপি আকারে লিখিত হয়।[৬][৭] হিন্দুশাস্ত্র মুখে মুখে সংরক্ষণ ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রচলনের এই প্রথা আধুনিক যুগেও প্রচলিত আছে।[৬][৭]

শ্রুতিমালা[সম্পাদনা]

ঋষি ও তাদের উত্তরসূরী সাধু-সন্তদের শ্রুত তথা জ্ঞাত (যা দৃষ্ট ব'লেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যাত হয়ে আসছে) ধর্ম-সম্পর্কিত চিন্তারাশিকে শ্রতি বিন্যাসে বিন্যস্ত করা হয় ।

শ্রুতি গঠিত হয়েছে ন্যূনতম ৭৬-গ্রন্থমালায় (৪ বেদ , ৬ বেদাঙ্গ , ১৮ ব্রাহ্মণ , ৯ আরণ্যক , ১৩ উপনিষদ , ৪ উপবেদ , ২০ ধর্মসূত্র (এ জাতীয় সূত্রাদি-সংকলনগুলো -স্মৃতি বা -নীতি যেমন: মনুস্মৃতি বা বৌধায়ণনীতি নামেই পরিচিত) এবং ২ সমন্বয়ী - গীতাব্রহ্মসূত্র) । স্মৃতি পর্যায়ভুক্ত গ্রন্থাদি মূলত লোককাহিনী বা লোকগাথাদির সংকলন , যেসবে সংকলকের চিন্তা , কল্পনাদর্শন মিলেমিশে এগুলোর আকার ক্রমাগত বর্ধিত হয়ে আসছে । [৫]গবেষকরা ‘হিন্দুশাস্ত্রে’র সংজ্ঞা নির্ধারণের বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্থ বোধ করেন ।[২][২]নির্দিষ্ট লেখক কর্তৃক রচিত ধর্মগ্রন্থগুলি ‘স্মৃতি’ পর্যায়ভুক্ত।[৫] শ্রুতিশাস্ত্রের তুলনায় স্মৃতিশাস্ত্রের গুরুত্ব কম।[৮] স্মৃতিশাস্ত্র বৈচিত্র্যপূর্ণ এক বিশাল শাস্ত্র-সংকলন। বেদাঙ্গ, হিন্দু মহাকাব্য, ধর্মসূত্র, হিন্দু দর্শন, পুরাণ, কাব্য, ভাষ্য এবং রাজনীতি, নৈতিকতা, সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ‘নিবন্ধ’ এই ধারার অন্তর্গত।[৯][১০] শ্রুতিশাস্ত্রের তুলনায় স্মৃতিশাস্ত্রের গুরুত্ব কম।[৮] স্মৃতিশাস্ত্র বৈচিত্র্যপূর্ণ এক বিশাল শাস্ত্র-সংকলন। বেদাঙ্গ, হিন্দু মহাকাব্য, ধর্মসূত্র, হিন্দু দর্শন, পুরাণ, কাব্য, ভাষ্য এবং রাজনীতি, নৈতিকতা, সংস্কৃতি, শিল্প ও সমাজ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ‘নিবন্ধ’ এই ধারার অন্তর্গত।[৯][১০]

বেদ[সম্পাদনা]

  1. শুক্লযজুর্বেদ
  2. কৃষ্ণযজুর্বেদ

বেদাঙ্গ[সম্পাদনা]

  1. শ্রৌতসূত্র
  2. গৃহ্যসূত্র
  3. ধর্মসূত্র
  4. শূল্ব্যসূত্র
  1. পানিনি রচিত অষ্টাধ্যায়ী
  1. যাষ্ক সংকলিত নিরুক্ত (বেদে ব্যবহৃত শব্দাদির অভিধান)
  1. পিঙ্গল বিন্যস্ত ছন্দসূত্র
  1. লগধ বর্ণিত জ্যোতিষ

১৮+ ব্রাহ্মণ[সম্পাদনা]

ঋগ্বৈদিক ব্রাহ্মণ[সম্পাদনা]
যজুর্বৈদিক ব্রাহ্মণ[সম্পাদনা]
কৃষ্ণ যজুর্বেদ[সম্পাদনা]
  • কৃষ্ণ যজুর্বেদে ব্রাহ্মণ সংহিতারই অংশ।
    • মৈত্রায়নী সংহিতা ও একটি আরণ্যক (= মৈত্রেয়ানী উপনিষদ)
    • (চরক) কঠ সংহিতা; কঠ শাখায় একটি খণ্ড ব্রাহ্মণ ও একটি আরণ্যক রয়েছে।
    • কপিস্থলকঠ উপনিষদ, এবং এই গ্রন্থের ব্রাহ্মণের কয়েকটি খণ্ড
    • তৈত্তিরীয় সংহিতা। তৈত্তিরীয় শাখার একটি অতিরিক্ত তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ও আরণ্যক রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পরবর্তী বৈদিক যুগীয় বধুলা অন্বখ্যনা।
শুক্ল যজুর্বেদ[সম্পাদনা]
  • মধ্যন্দিনা শাখা
  • কন্ব শাখা
    • শতপথ ব্রাহ্মণ, কন্ব শাখীয়
সামবৈদিক শাখা[সম্পাদনা]
  • কৌথম ও রণযানীয় শাখা
    • তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ বা পঞ্চবিংশ ব্রাহ্মণ (উক্ত উভয় শাখার প্রধান ব্রাহ্মণ)।
    • ষড়বিংশ ব্রাহ্মণ (পঞ্চবিংশ ব্রাহ্মণের পরিশিষ্ট এবং ষড়বিংশ প্রপাঠক বলে অনুমিত হয়)
    • সংবিধান ব্রাহ্মণ (তিনটি প্রপাঠক যুক্ত)
    • আর্ষেয় ব্রাহ্মণ (সামবেদের স্তোত্রাবলির সূচি)
    • দেবতাধ্যায় বা দৈবত ব্রাহ্মণ (২৬, ১১ ও ২৫টি খণ্ডিকাযুক্ত তিন খণ্ডে বিন্যস্ত)
    • ছান্দগ্যো ব্রাহ্মণ (দশটি প্রপাঠকযুক্ত। প্রথম দুটি প্রপাঠক মন্ত্রব্রাহ্মণ থেকে গৃহীত এবং এগুলির প্রত্যেকটি আটটি খণ্ডে বিভক্ত। ৩-১০ প্রপাঠকগুলি ছান্দগ্যো উপনিষদ্ থেকে গৃহীত।
    • সংহিতোপনিষদ ব্রাহ্মণ (পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত একটি মাত্র প্রপাঠক যুক্ত) ** বংশ ব্রাহ্মণ (একটি মাত্র অধ্যায় যুক্ত, বিষয়বস্তু গুরুশিষ্যপরম্পরা)।[১৩]
  • জৈমিনীয় শাখা
    • জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ (এই শাখার প্রধান ব্রাহ্মণ এবং তিনটি কাণ্ডে বিভক্ত)
    • জৈমিনীয় আর্ষেয় ব্রাহ্মণ (সামবেদের স্তোত্রাবলির একটি সূচি, জৈমিনীয় শাখার অন্তর্গত)
    • জৈমিনীয় উপনিষদ্ ব্রাহ্মণ বা তলবকার উপনিষদ্ ব্রাহ্মণ
অথর্ববৈদিক শাখা[সম্পাদনা]

৯+ আরণ্যক[সম্পাদনা]

১৩+ উপনিষদ[সম্পাদনা]

মুখ্য ১৩ উপনিষদাদিকে রচনাকাল অনুযায়ী সাজানো হয়েছে । প্রাচীন উপনিষদ্‌গুলির মধ্যে বৃহদারণ্যকছান্দোগ্য উপনিষদ্‌দুটি সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।[১৪] বৃহদারণ্যক প্রথমে লেখা। তবে এর কিছু কিছু অংশ ছান্দোগ্য-এর পরে রচিত হয়েছে।[note ১]

ঐতরেয়, তৈত্তিরীয়, কৌশিকতী, মুণ্ডক, প্রশ্নকঠ উপনিষদে বৌদ্ধ প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়। সেক্ষেত্রে গুলির রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর পরে হওয়াই স্বাভাবিক। একইভাবে কেন, মাণ্ডুক্যঈশ উপনিষদ্‌ সম্পর্কেও একই কথা বলা হয়। এগুলি অবশ্য খ্রিস্টীয় প্রথম-দ্বিতীয় শতাব্দীর রচনা।[১৬] উপনিষদ্‌গুলিতে রচয়িতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। শুধু যাজ্ঞবল্ক্য, উদ্দালক প্রমুখ ঋষির নাম আছে।[১৭] কয়েক জন মহিলা ঋষি(ঋষিকা)র নামও আছে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য গার্গী ও যাজ্ঞবল্ক্যের স্ত্রী মৈত্রেয়ী।[১৮]

মুখ্য উপনিষদ চার বেদের কোনো না কোনো শাখার সঙ্গে যুক্ত।[১৯] বেদের বহু শাখা ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু তার মধ্যে অল্প কয়েকটিই আজ টিকে আছে। নতুন উপনিষদ্‌গুলির সঙ্গে বৈদিক সাহিত্যের যোগ বিশেষ নেই বললেই চলে। বেদান্তের কোনো অগ্রণী টীকাকার বা দার্শনিক এগুলির উপর কোনো টীকা বা ভাষ্য লেখেননি। ভাষার দিক থেকে মুখ্য উপনিষদ্‌গুলির থেকে এগুলি অনেক আলাদা। নতুন উপনিষদ্‌গুলিতে ভাবের সূক্ষ্মতা কম। এগুলি অনেক বেশি প্রথানুগ। ফলে পাঠকের কাছেও তা সহজবোধ্য।[২০]

বৈদিক শাখা ও উপনিষদাদির যোগসূত্র
বেদ সংস্করণ শাখা মুখ্য উপনিষদ
ঋগ্বেদ একটি মাত্র সংস্করণ শকল ঐতরেয়কৌষিতকী
সামবেদ একটি মাত্র সংস্করণ কৌঠুম ছান্দোগ্য
জৈমিনেয় কেন
রণয়নীয়
যজুর্বেদ কৃষ্ণযজুর্বেদ কঠ কঠ
তৈত্তিরীয় তৈত্তিরীয়শ্বেতাশ্বেতর[২১]
মৈত্রেয়ানি মৈত্রেয়ানি
হিরণ্যকেশী (কপিষ্ঠল)
কথক
শুক্লযজুর্বেদ বাজসনেয়ী মধ্যন্দিনা ঈশবৃহদারণ্যক
কান্ব শাখা
অথর্ব দুটি সংস্করণ শৌনক মাণ্ডুক্যমুণ্ডক
পৈপ্পলাদ প্রশ্ন

২০ ধর্মসূত্র (বেদাঙ্গান্তর্ভুক্ত কল্পশ্রেণীভুক্ত নীতিশাস্ত্র সংকলন)[সম্পাদনা]

এ পুঞ্জে নিম্নোক্ত ২০ রচকের রচনাদিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।[২২]

২+ সর্ব-সমন্বয়ী গ্রন্থ গীতাব্রহ্মসূত্র[সম্পাদনা]

সমন্বয়ী গীতা ১৮ অধ্যায়ে ৭০০ ও ব্রহ্মসূত্র ৪×৪=১৬ অধ্যায়ে ৫৫৫ শ্লোক বা পংক্তি ধারণ ক'রে বর্তমানে নানামুখী ব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন ভাষাতে প্রাপ্য ।

অন্যান্য শ্রুতি[সম্পাদনা]

স্মৃতিমালা[সম্পাদনা]

স্মৃতি[৪]গাথায় আছে ন্যূনতম ২৬ এর সমাহার (৬ দর্শন , ১৮ পুরাণ ও ২ ইতিহাস ) ।[৫]

৬+ দর্শন[সম্পাদনা]

১৮+ পুরাণ[সম্পাদনা]

২+ ইতিহাস[সম্পাদনা]

অন্যান্য স্মৃতি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. These are believed to pre-date Gautam Buddha (c. 500 BCE)[১৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Frazier, Jessica (2011), The Continuum companion to Hindu studies, London: Continuum, ISBN 978-0826499660, pages 1–15
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ Dominic Goodall (1996), Hindu Scriptures, University of California Press, ISBN 978-0520207783, page ix-xliii
  3. পুঞ্জ-২০ মিলে ১ - মনুস্মৃতি হচ্ছে সেই ১ যে স্মৃতি হয়েও হিন্দুদের সংহিতারূপে অানুশাসনিক কর্মাদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ।
  4. ৪.০ ৪.১ Wendy Doniger (1990), Textual Sources for the Study of Hinduism, 1st Edition, University of Chicago Press, ISBN 978-0226618470, pages 2-3; Quote: "The Upanishads supply the basis of later Hindu philosophy; they alone of the Vedic corpus are widely known and quoted by most well-educated Hindus, and their central ideas have also become a part of the spiritual arsenal of rank-and-file Hindus."
  5. ৫.০ ৫.১ ৫.২ ৫.৩ Wendy Doniger O'Flaherty (1988), Textual Sources for the Study of Hinduism, Manchester University Press, ISBN 0-7190-1867-6, pages 2-3
  6. ৬.০ ৬.১ Michael Witzel, "Vedas and Upaniṣads", in: Flood, Gavin, ed. (2003), The Blackwell Companion to Hinduism, Blackwell Publishing Ltd., ISBN 1-4051-3251-5, pages 68-71
  7. ৭.০ ৭.১ William Graham (1993), Beyond the Written Word: Oral Aspects of Scripture in the History of Religion, Cambridge University Press, ISBN 978-0521448208, pages 67-77
  8. ৮.০ ৮.১ James Lochtefeld (2002), "Smrti", The Illustrated Encyclopedia of Hinduism, Vol. 2: N–Z, Rosen Publishing, ISBN 978-0823931798, page 656-657
  9. ৯.০ ৯.১ Purushottama Bilimoria (2011), The idea of Hindu law, Journal of Oriental Society of Australia, Vol. 43, pages 103-130
  10. ১০.০ ১০.১ Roy Perrett (1998), Hindu Ethics: A Philosophical Study, University of Hawaii Press, ISBN 978-0824820855, pages 16-18
  11. Theodor Aufrecht, Das Aitareya Braahmana. Mit Auszügen aus dem Commentare von Sayanacarya und anderen Beilagen, Bonn 1879; TITUS etext
  12. ed. E. R. Sreekrishna Sarma, Wiesbaden 1968.
  13. "Vedic Samhitas and Brahmanas - A popular, brief introduction" 
  14. M. Fujii, On the formation and transmission of the JUB, Harvard Oriental Series, Opera Minora 2, 1997
  15. Olivelle 1998, পৃ. 3–4।
  16. King 1995, পৃ. 52।
  17. Mahadevan 1956, পৃ. 56।
  18. Ranade 1926, পৃ. 61।
  19. Joshi 1994, পৃ. 90–92।
  20. Heehs 2002, পৃ. 85।
  21. Lal 1992, পৃ. 4090।
  22. https://archive.org/details/ajoymondol297_gmail_20160624

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]