অযোধ্যা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অযোধ্যা
Ayodhya

अयोध्या
সাকেত
শহর
পবিত্র শহর অযোধ্যা
অযোধ্যা Ayodhya উত্তর প্রদেশ-এ অবস্থিত
অযোধ্যা Ayodhya
অযোধ্যা
Ayodhya
স্থানাঙ্ক: ২৬°৪৮′ উত্তর ৮২°১২′ পূর্ব / ২৬.৮০° উত্তর ৮২.২০° পূর্ব / 26.80; 82.20স্থানাঙ্ক: ২৬°৪৮′ উত্তর ৮২°১২′ পূর্ব / ২৬.৮০° উত্তর ৮২.২০° পূর্ব / 26.80; 82.20
দেশভারত
প্রদেশউত্তর প্রদেশ
জেলাফৈজাবাদ
আয়তন
 • মোট১০.২৪ বর্গকিমি (৩.৯৫ বর্গমাইল)
উচ্চতা৯৩ মিটার (৩০৫ ফুট)
জনসংখ্যা (২০০১)
 • মোট৪৯,৬৫০
 • জনঘনত্ব৪,৮০০/বর্গকিমি (১৩,০০০/বর্গমাইল)
ভাষা
 • দাপ্তরিকহিন্দি, উর্দু
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+৫:৩০)
পিন২২৪১২৩
টেলিফোন কোড০৫২৭৮
যানবাহন নিবন্ধনUP-42

অযোধ্যা (এই শব্দ সম্পর্কেlisten ; সংস্কৃত: अयोध्या, IAST Ayodhyā), যা সাকেত নামেও পরিচিত (সংস্কৃত: साकेत),[১] একটি প্রাচীন ভারতীয় শহর, অযোধ্যা


অযোধ্যা হিন্দু ধর্মের পবিত্রতম নগরী হিসেবে স্বীকৃত। এই শহরে হিন্দুরা প্রতি বছর তীর্থ করার জন্য এখানে আসেন। অযোধ্যা প্রাণকেন্দ্রে রামমন্দির অবস্থিত। আধুনিক যুগে এসে শহর বহুগুন সম্প্রসারিত হয়েছে। এর অবকাঠামো, রাস্তা-ঘাট, নাগরিক সুবিধা ইত্যাদির অনেক উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন হিন্দু অযোধ্যা শহর ভ্রমণ করে। ফলশ্রুতিতে শহরটি সারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিশ্বজনীন শহরে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য, যেমন রামায়ণ এবং মহাভারত-এ অযোধ্যা নামে একটি কিংবদন্তি নগরের কথা উল্লেখ করেছে যা শ্রীরাম সহ কোসালার কিংবদন্তি ইক্ষক্কু(সৌর রাজবংশ ৮০০০-৭০০০ খ্রিষ্টপূর্ব) রাজাদের রাজধানী ছিল।

বৌদ্ধ পালি ভাষার গ্রন্থসমূহের প্রাচীনতম এবং জৈন প্রাকৃত-ভাষা গ্রন্থে কোশল মহাজনপদ-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসাবে সকেতা (প্রাকৃত সংস্কৃতিতে সাগ্যা বা সায়্যা) নামে একটি শহর উল্লেখ করা হয়েছে। বৌদ্ধ এবং জৈন উভয় গ্রন্থে টোগোগ্রাফিক ইঙ্গিত দেয় যে সাকেতা শহরই বর্তমানের অযোধ্যা নগর ।

উল্লেখযোগ্য মন্দির[সম্পাদনা]

হনুমান গড়হি[সম্পাদনা]

অযোধ্যার মাঝখানে অবস্থিত ৭৬টি ধাপের উন্নীত এই মন্দির উত্তর ভারতের হনুমানজীর অন্যতম মন্দিরের কমপ্লেক্স । এটি একটি রীতি যে রাম মন্দির দেখার আগে প্রথমে ভগবান হনুমান মন্দিরে দর্শন করা উচিত । রাম যখন বনবাসে গিয়েছিলেন, তখন অযোধ্যার এই স্থানেই তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন হনুমান।[২]

রামকোট[সম্পাদনা]

রামকোট শহরের প্রধান উপাসনাস্থল, এবং প্রাচীন শহরের উঁচু ভূমিতে দাঁড়িয়ে প্রাচীন দুর্গের স্থান। যদিও সারা বছরই তীর্থযাত্রীরা এখানে দর্শন করে, তবে বিশেষভাবে রাম জন্মের দিন "রাম নবমী" উপলক্ষে এটি বিশ্বজুড়ে ভক্তদের আকর্ষণ করে। তিন শতাব্দী আগে কুলুর রাজা এখানে একটি নতুন মন্দির তৈরি করেছিলেন, যা ১৭৮৪ সালে ইন্দোরের মহারানী অহল্যাবাঈ হোলকার দ্বারা উন্নত হয়েছিল, একই সময়ে সংলগ্ন ঘাটগুলি নির্মিত হয়েছিল। কালো বেলেপাথরের প্রাথমিক প্রতিমাগুলি সারায়ু থেকে উদ্ধার করে নতুন মন্দিরে স্থাপন করা হয়েছিল, যা কালে-রাম-কা-মন্দির নামে পরিচিত। ছোট দেবকালী মন্দির হলেন দেবী ঈশানী বা দুর্গার, সীতার কুলদেবীর মন্দির।

রাম মন্দির[সম্পাদনা]

সোমপুরা শিলাবত স্থাপত্যে নির্মীয়মান মন্দিরটি অযোধ্যা বিবাদ মীমাংসার পরবর্তী রাম জন্মভূমি-তে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে রাম জন্মভূমি ন্যাস স্থানটির স্বত্তাধিকারী রূপে গণ্য করা হলেও পরবর্তীতে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র নামে স্বত্তাধিকার সংস্থার স্থাপনা হয়।

তুলসী স্মারক ভবন[সম্পাদনা]

তুলসী স্মারক ভবন মহান সন্ত-কবি গোস্বামী তুলসীদাসজীর প্রতি উত্সর্গীকৃত। তুলসী স্মারক ভবনটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। নিয়মিত প্রার্থনা সভা, ভক্তিমূলক পরিবেশনা এবং ধর্মীয় বক্তৃতা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। কমপ্লেক্সটিতে অযোধ্যা শোধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা গোস্বামী তুলসীদাসের সাহিত্যের রচনাগুলির একটি বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তুলসী স্মারক মিলনায়তনে রামলীলা পরিবেশিত হয়; এটি একটি প্রধান আকর্ষণ।[৩]

রাম কথা পার্ক[সম্পাদনা]

শহরের উত্তরে ঘর্ঘরা নদীর তীরে প্রায় ২ কিমি দীর্ঘ মন্দির-তট বেষ্টিত অঞ্চল। রামঘাট , রাম নাম আশ্রম , ভাগলপুর মন্দির এর প্রধান আকর্ষণ। এখানে একটি হল্ট স্টেশন রয়েছে।

দশরথ মহল[সম্পাদনা]

কনক ভবন[সম্পাদনা]

কনক স্বর্ণ মন্দির নামে পরিচিত, কনক ভবন মন্দির, দেবতা রাম এবং দেবী সীতার সমৃদ্ধ অলঙ্কৃত প্রতিমাগুলির এখানে প্রতিষ্ঠিত বলে এই নাম পেয়েছে। হিন্দিতে কনক অর্থ স্বর্ণ। রাম ও সীতার মূর্তিগুলি প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত হয়েছে। সোনার অলঙ্কারে সোনার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ।

কনক ভবন মন্দিরটি ভারতের জনগণের পাশাপাশি বিদেশীদেরও বিশেষ আকর্ষণ করে। মন্দিরটি যে জায়গাটিতে অবস্থিত সেখান থেকে মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয় এবং রোমাঞ্চকর সূর্যাস্ত সুন্দর দৃশ্য দেখা যায় ।

রাজ্ দ্বার মন্দির[সম্পাদনা]

পরিবহণ[সম্পাদনা]

আকাশপথে[সম্পাদনা]

৯ কিমি দূরবর্তী ফৈজাবাদ বিমানবন্দর শহরের প্রধান বিমান বন্দর। এটি বর্তমানে ১.৮ কিমি দীর্ঘ , যা শুধু টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন বিশিষ্ট এয়ারলাইনার যেমন এটিআর ৭২ বা ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা ড্যাশ ৮ এর পরিচালনার যোগ্য। এটিকে প্রসারিত করে ২.৫ কিমি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেল[সম্পাদনা]

অযোধ্যা জংশন শহরের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন। লখনৌ - বারাণসী থেকে আগত দ্রুতগামী ট্রেন এখানে দাঁড়ায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা[সম্পাদনা]

রামের জন্মভূমি হিসেবে বিখ্যাত অযোধ্যা শহরে ১০০ মিটার উঁচু রামের মূর্তি স্থাপন করা হবে। খরচ হবে ৩৩০ কোটি টাকা। অযোধ্যা রেল স্টেশনকে প্রস্তাবিত রামমন্দিরের আদলে তৈরি করার ঘোষণা থেকে সারা দেশ থেকে অযোধ্যাগামী ট্রেন চালু অনেক প্রস্তাবই দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে প্রদর্শশালা তৈরিরও উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার ‘নিউ অযোধ্যা’ নামে টাউনশিপ তৈরির পরিকল্পনা করেছে। ৫০০ একর জমির উপরে সাড়ে ৩৫০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হবে এই উপনগরী। [৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন

  • Jain, Meenakshi (২০১৩)। Rama and Ayodhya। New Delhi: Aryan Books। আইএসবিএন 8173054517 
  • Bakker, Hans (১৯৮৬)। Ayodhya, Part 1: The History of Ayodhya from the 7th century BC to the middle of the 18th century। Groningen: Egbert Forsten। আইএসবিএন 9069800071 
  • Legge, James (1886): A Record of Buddhistic Kingdoms: Being an account by the Chinese Monk Fa-Hien of his travels in India and Ceylon (A.D. 399–414) in search of the Buddhist Books of Discipline. Oxford, Clarendon Press. Reprint: New York, Paragon Book Reprint Corp. 1965.
  • Thomas, F. W. (1944): "Sandanes, Nahapāna, Caṣṭana and Kaniṣka: Tung-li P'an-ch'i and Chinese Turkestan." New Indian Antiquary VII. 1944, p. 90.
  • Watters, Thomas (1904–1905): On Yuan Chwang's Travels in India. Thomas Watters. London. Royal Asiatic Society. Reprint: Delhi. Mushiram Manoharlal. 1973.
  • Ajodhya State The Imperial Gazetteer of India, 1909, v. 5, p. 174.
  • Ayodhya and the Research on the Temple of Lord Ram

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]