সনাতন গোস্বামী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সনাতন গোস্বামী (১৪৮৮ - ১৫৫৮) ছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভূর একজন প্রধান শিষ্য। শ্রী গোস্বামী গৌড়ীও বৈষ্ণব তত্তের ওপর প্রচুর ভক্তিমূলক বই রচনা করেন। তিনি ছিলেন বৃন্দাবনের ষড় গোস্বামীর অন্যতম, তার ছোটভাই ছিলেন রূপ গোস্বামী

জন্ম ও শৈশবকাল[সম্পাদনা]

১৪৮৮ সালের অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলাতে জন্ম গ্রহন করেন সনাতন গোস্বামী। তার পিতার নাম ছিল মুকুন্দ, তিনি ছিলেন বাংলার সুলতান জালালুদ্দিন ফতে শাহ (রাজত্বকাল-১৪৮১-১৪৮৭) এর ব্যক্তিগত সচিব। সনাতন গোস্বামী ছিলেন মুকুন্দের জ্যেষ্ঠ সন্তান, তার ছোট ভাইয়েরা হলেন যথাক্রমে শ্রী রূপ গোস্বামী এবং শ্রী বল্লভ (অনুপম) গোস্বামী। রূপ গোস্বামীর ভাইপো শ্রীজীব গোস্বামী তার লঘু তোষণী গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন যে রূপ গোস্বামীর পরবর্তীরা হলেন ভরদ্বাজ গোত্রীয় (রাজশাহী) কেদারনাথ থেকে এসে তারা যশোরে বসবাস শুরু করেন। আবার পাশাপাশি শ্রীল শ্রী ভক্তিবেদান্ত নারায়ণ গোস্বামী মহারাজ বিরচিত শ্রী নবদ্বীপ ধাম পরিক্রমাতে আমরা দেখতে পাই যে শ্রী রূপ, শ্রী সনাতন এবং তাদের ছোট ভাই শ্রী বল্লভ (অনুপম) তারা ছিলেন যজুর্বেদীয় ভরদ্বাজ গোত্রীয় ব্রাহ্মণ, যাদের পূর্বপুরুষদের মনে করা হয় দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে এসেছিলেন। বলা হয় সনাতন গোস্বামীর পূর্বনাম ছিল অমর এবং শ্রী রূপ গোস্বামীর পূর্বনাম ছিল সন্তোষ। সনাতন ও তার ভাই দুজনেই ততকালীন প্রথিতযশা ন্যায়শাস্ত্রবিদ বাসুদেব সার্বভৌম ভট্টাচার্যের কাছে ন্যায় ও বেদান্তের পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। তারা সার্বভৌমের ভ্রাতা মধসূদন বিদ্যাবাচস্প্তির কাছেও শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এই মধসূদন বিদ্যাবাচস্প্তির কাছেই সনাতন গোস্বামী অতি শৈশবেই দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।

তাদের পিতৃবিয়োগের পর শ্রী সনাতন গোস্বামী খানিকটা বাধ্য হয়েই বাংলার তৎকালীন নতুন শাসক আলাউদ্দিন হুশেন শাহের দরবারে শাকর মল্লিক (ট্রেজারার) পদে আসীন হন, এবং শ্রী রূপ গোস্বামী বৃত হন দবীর-ই-খাস (ব্যক্তিগত সচিব) পদে।

চৈতন্যদেবের সাথে প্রথম সাক্ষাৎকার[সম্পাদনা]

শ্রী রূপ এবং সনাতন গোস্বামী ফতেহবাদে তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত জমিতে সুবিশাল অট্টালিকা বানিয়েছিলেন, যেখানে তারা বসবাস করতেন। অবশ্য তাদের রামকেলিতেও বাসগৃহ ছিল। ১৫১৩ সালেই আসে সেই শুভক্ষ্ণ। রামকেলির পূণ্যভূমিতেই পূজ্যপাদ শ্রী শ্রী মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের সাথে সনাতন এবং অন্য দুই ভাইয়ের ঘটে প্রথম সাক্ষাৎকার। প্রথম সাক্ষাৎকারের পরেই মহাপ্রভু এই তিন ভাইয়ের নামকরণ করেন যথাক্রমে সনাতন, রূপ এবং অনুপম। মহাপ্রভুর সাথে এই অভূতপূর্ব যোগাযোগের পরেই তিন ভাই সিদ্ধান্ত নেন যে তারা শ্রী চৈতন্যদেবের শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন। এ বিশ্ব চরাচরে কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ ও ভগবৎ দর্শন প্রচারে বাকী জীবন অতিবাহিত করবেন এবং শ্রী চৈতন্যদেবের প্রব্রজ্যার অনুগামী হবেন। রূপ গোস্বামীর পদত্যাগপত্র অতি সহজেই সুলতানের দরবারে গৃহীত হল, তিনি চাকুরি জীবন থেকে পেলেন মুক্তি। কিন্ত গোল বাধলো সনাতনকে ঘিরে। তার দেওয়া পদত্যাগপত্র সুলতানের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হল। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দপ্তরে আসা বন্ধ করলেন। এরপর সুলতান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে পাঠান সনাতনের চিকিৎসার জন্য, তারা পরীক্ষা করে সুলতানকে ফিরে এসে বলেন সনাতন সম্পূর্ণরূপে সুস্থ। এবার সুলতান নিজেই উপস্থিত হলেন সনাতনের বাসগৃহে, তাকে আপ্রাণ বোঝাবার চেষ্টা করলেন পুনরায় সরকারি কাজে মনোনিবেশ এবং রাজকার্যে সহায়তা করার জন্য। এছাড়া অতি শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িষার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবেন সেখানে সনাতনের মতো একজন স্থিতধী, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের সুপরামর্শ অত্যন্ত জরুরী। কিন্ত বিধি বাম। সনাতন তার সিদ্ধান্তে অনড়, তিনি চাকুরি জীবন থেকে মুক্তি চান। ব্যর্থ মনোরথ হয়ে সম্রাট হুশেন শাহকে ফিরতে হল খালি হাতেই। এর পরিণতি হিসেবে সম্রাট হুশেন শাহ সনাতনকে কারারুদ্ধ করলেন।

গরাদের অন্তরালেই সনাতনের নিস্তরঙ্গ জীবন কাটে। হঠাৎ রূপ গোস্বামীর একটি চিঠি সনাতনের হাতে এল, তার মর্মার্থ এই- চৈতন্য মহাপ্রভু পুরীধাম থেকে বৃন্দাবনের পথে রওনা দিয়েছেন, রূপ ও অনুপম বৃন্দাবনে তার সাথে মিলিত হতে চান। সনাতনের দেহ মন উদ্বেলিত হয়ে উঠলো, তাকে আপৎকালীন খরচের জন্য রূপ যে গচ্ছিত অর্থ রেখেছিল তিনি পত্রপাঠ সেই অর্থ কারা আধিকারিককে উৎকোচ দিয়ে অনতিবিলম্বে গঙ্গা পার হয়ে বৃন্দাবন অভিমুখে চললেন।

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]