দুঃশাসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
দুঃশাসন

দুঃশাসন (সংস্কৃত:दुःशासन) অন্ধরাজ ধৃতরাষ্ট্র ও রাণী গান্ধারীর দ্বিতীয় পুত্র । ইনি মহাভারত মহাকাব্যে দুর্যোধনের ছোট ভাই ।

জন্ম ও ক্রমবৃদ্ধি[সম্পাদনা]

গান্ধারী ব্যাসদেবের সেবা করায় তিনি বর দিয়েছিলেন গান্ধারী শতপুত্রের জননী হবেন । যথাকালে গান্ধারী গর্ভবতী হলেন কিন্তু কুড়ি মাস চলে গেলেও তাঁর প্রসব হল না ।[১] এদিকে কুন্তীর পুত্রলাভের খবর পেয়ে গান্ধারী অত্যন্ত দুঃখিত হয়ে ধৃতরাষ্ট্রকে না জানিয়ে লোহার মুগুর দিয়ে নিজের গর্ভপাত করেন ।[১] এর ফলে তাঁর গর্ভ হতে এক লৌহকঠিন মাংসপিণ্ড নির্গত হল । গান্ধারী দাসীদের তা নষ্ট করার হুকুম দিতে যাচ্ছিলেন এমন সময় ব্যাসদেব এসে তাঁকে নিষেধ করলেন । তিনি ভ্রুণকে শীতল জলে ভিজিয়ে শত ভাগে ভাগ করেন এবং তা ঘৃতপূর্ণ কলসে রাখেন । একবছর পর দুর্যোধন এবং একবছর এক মাসের মধ্যে দুঃশাসন, দুঃসহ, বিকর্ণ প্রভৃতি শতপুত্র ও দুঃশলা নামে একটি কন্যার জন্ম হল । দুঃশাসন তাঁর ভাই দুর্যোধনের অনুগত ও পাণ্ডবদের হত্যার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন ।

কুরুসভায় দ্রৌপদীর নিগ্রহ[সম্পাদনা]

দুঃশাসন কর্তৃক দ্রৌপদীর নিগ্রহ

শকুনির সাথে পাশা খেলায় যুধিষ্ঠির সর্বস্বান্ত হওয়ার পর নিজের ভাইদের এবং নিজেকে পণ করে হেরে যান । এরপর তিনি তাঁদের ধর্মপত্নী দ্রৌপদীকে পণ করে তাঁকেও হারান । দুঃশাসন দ্রৌপদীকে তাঁর অন্তঃপুর থেকে কেশ ধরে সভায় টেনে আনেন এবং কর্ণের আদেশে[২][৩][৪] তাঁকে বিবস্ত্রা করার চেষ্টা করেন । এসময় দ্রৌপদী শ্রীকৃষ্ণকে আহ্বান করতে থাকেন । কৃষ্ণ ধর্মের অবতার নিয়ে বস্ত্ররূপে দ্রৌপদীকে আবৃত করতে থাকেন । দুঃশাসনের আকর্ষণেও তা শেষ হয় না । সভায় এই ভাবে স্ত্রীকে অপমানিত হতে দেখে ভীম প্রতিজ্ঞা করেন যে যুদ্ধভূমিতে তিনি দুঃশাসনের বক্ষ বিদারণ করে তাঁর রক্তপান করবেন ।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

ভীমের প্রতিজ্ঞা পালন

কুরুক্ষেত্রযুদ্ধের সপ্তদশ দিনে ভীম দুঃশাসনের বক্ষ খড়গ দিয়ে বিদীর্ণ করেন এবং তাঁর রক্তপান করেন । দুঃশাসনের রক্ত দিয়ে তিনি দ্রৌপদীকে কেশ বন্ধনে সাহায্য করেন যা দ্রৌপদী দুঃশাসনের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত খোলা রাখার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ।

উৎস[সম্পাদনা]