সৌদি আরবের মৌলিক আইন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সৌদি আরব এর মৌলিক আইন হলো নয় অধ্যায় এবং তিরাশি অনুচ্ছেদ বিশিষ্ট সংবিধানের মতো একটি দলিল।[১] সৌদি আরবের সংবিধান পবিত্র কুরআন এবং মহানবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর সুন্নাহ, (যা মৌলিক আইনের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে), কিন্তু মৌলিক আইনে এমন অনেক বৈশিষ্ট রয়েছে, যেগুলোকে অন্যান্য দেশে সংবিধান বলা হয়ে থাকে। (যেমন "সরকার পদ্ধতি", "অধিকার এবং কর্তব্য" ইত্যাদি।) মৌলিক আইনের সাথে শরিয়াহ সম্পর্কে সালাফিদের অভিমতের সাদৃশ্য রয়েছে এবং এতে ইসলামি আইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

কুয়েতে ইরাকি আগ্রাসন ও প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ একটি রাজকীয় ফরমান জারি করেন, যা ১৯৯২ সালের ৩১ জানুয়ারিতে সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়।[২][৩] উক্ত ফরমান অনুসারে পরবর্তীতে মৌলিক আইন প্রণয়ন করা হয়। 

মৌলিক আইনের অনুচ্ছেদ সমূহ[সম্পাদনা]

অধ্যায় ১: সাধারণ মূলনীতি[সম্পাদনা]

প্রথম অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, আল্লাহর কিতাব এবং নবীর সুন্নাহ হলো দেশের সংবিধান, আরবি রাষ্ট্র ভাষা এবং রিয়াদ দেশের রাজধানী।

অধ্যায় ২: রাজতন্ত্র[সম্পাদনা]

৭ম অনুচ্ছেদে রাজার অধিকার বর্ণিত আছে। ৮ম অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে, “বিচার, পরামর্শ এবং সমতা” শরিয়াহ অনুসারে কার্যকর হবে। 

অধ্যায় ৩: সৌদি পরিবারের বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৯ এ বলা হয়েছে, প্রতিটি সৌদি পরিবারের প্রত্যেক সদস্য ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে লালিত পালিত হবে।

অধ্যায় ৪: অর্থনৈতিক মূলনীতি[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ১৮ নাগরিকদের ব্যক্তি মালিকানার অধিকার রক্ষা করে।

অনুচ্ছেদ ২১ এ যাকাত আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যায় ৫: অধিকার এবং কর্তব্য[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ২৭ “সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা” নিশ্চিত করে; প্রচুর তেলের সরবরাহ এবং তিন কোটিরও কম জনসংখ্যার কারনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ এবং উচ্চহারে কর ছাড়াই ইহা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। 

অধ্যায় ৬: রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ[সম্পাদনা]

শাসনপদ্ধতির মূলভিত্তি ইসলাম[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৪৫ তে ঘোষণা করা হয়েছে যে ধর্মীয় বিধি বিধান অবশ্যই কুরআন সুন্নাহর আলোকে হতে হবে। এ উদ্দেশ্যে আলেমদের নিয়ে একটি গবেষণা পরিষদ গঠিত হবে।

অনুচ্ছেদ ৫৫ অনুসারে, রাজা অবশ্যই ইসলামী বিধান অনুসারে শাসন করবেন এবং শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান করবেন।  অনুচ্ছেদ ৫৬ অনুসারে বাদশাহই দেশের প্রধানমন্ত্রী।  অনুচ্ছেদ ৫৭ অনুসারে বাদশাহর মন্ত্রীসভার সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা অবশ্যই ইসলাম ধর্ম অনুসরন করবেন। যারা বিপথগামী হবেন, তাদেরকে বরখাস্ত করা অথবা শাস্তি দেওয়া যাবে।

সামরিক বাহিনী[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৬০-৬২: বাদশাহ সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং তিনিই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং যুদ্ধঘোষণা করার অধিকারী।

অধ্যায় ৭: অর্থনৈতিক বিষয়াবলি[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৭১ অনুসারে রাজস্ব আয় আইনসভায় অনুমোদিত বিধিবদ্ধ আইন অনুসারে ব্যয় হবে, যা নিয়মিত অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত হবে।

অধ্যায় ৮: নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৭৯-৮০ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সম্পর্কিত। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষযথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির অর্থনৈতিক ও প্রাশাসনিক  ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হবে। [৪][৫]

অধ্যায় ৯: সাধারণ বিধান[সম্পাদনা]

অনুচ্ছেদ ৮২ অনুসারে গোলযোগের কারনে সাময়িক জরুরি অবস্থাতেও অনুচ্ছেদ ৭ (কুরআন এবং সুন্নাহ) লঙ্ঘন করা যাবে না।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

মৌলিক আইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি এডহক কমিটি, এই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।[৬]

 অষ্টাদশ শতাব্দিতে মুহাম্মদ বিন সৌদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব সমস্ত রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান একই পরিচালনা পরিষদের আওতাভূক্ত করেন।[৭] সৌদি সরকার আলেমদের জন্যে ধর্মপ্রচার থেকে বিচারকার্য পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পেশা নির্ধারণ করে রেখেছে। 

আলেমরা সৌদি আরবে শাসনক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেন এবং কুরআন, সুন্নাহ অনুসারে মৌলিক আইন প্রয়োগ করেন।[৮] 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Basic Law - Saudi Arabia Information
  2. "Saudi Arabia - Constitution"। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬ 
  3. Empty Reforms: Saudi Arabia's New Basic Laws May 1992
  4. https://www.constituteproject.org/constitution/Saudi_Arabia_2005.pdf
  5. Group, Taylor & Francis (২০০৩-১০-৩০)। The Middle East and North Africa 2004 (ইংরেজি ভাষায়)। Psychology Press। আইএসবিএন 9781857431841 
  6. Introduction to Basic Law of Saudi Arabia Human Rights Watch
  7. The Role of the Ulema (Religious Leaders)
  8. "The Frontline : Violators of Freedom"। ৪ মার্চ ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]