কালকিনি উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(কালকিনী উপজেলা থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কালকিনি
উপজেলা
কালকিনি বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
কালকিনি
কালকিনি
বাংলাদেশে কালকিনি উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৩°৩′৪৩″ উত্তর ৯০°১৪′৪৮″ পূর্ব / ২৩.০৬১৯৪° উত্তর ৯০.২৪৬৬৭° পূর্ব / 23.06194; 90.24667স্থানাঙ্ক: ২৩°৩′৪৩″ উত্তর ৯০°১৪′৪৮″ পূর্ব / ২৩.০৬১৯৪° উত্তর ৯০.২৪৬৬৭° পূর্ব / 23.06194; 90.24667 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগঢাকা বিভাগ
জেলামাদারীপুর জেলা
করিমগঞ্জ থানা১৯০৯
সংসদীয় আসনমাদারীপুর-৩
আয়তন
 • মোট২৮৩.৪০ বর্গকিমি (১০৯.৪২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,৭৩,২৫৮
 • জনঘনত্ব৯৬০/বর্গকিমি (২,৫০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৪৯%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৭৯২০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৫৪ ৪০
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

কালকিনি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার অন্তর্গত একটি একটি উপজেলা যা ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এটি ঢাকা বিভাগের অধীন মাদারীপুর জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে একটি এবং মাদারীপুর জেলার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। কালকিনি উপজেলার উত্তরে মাদারীপুর সদরশরিয়তপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে গৌরনদী এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা, পূর্বে গোসাইরহাট, মুলাদীডামুড্যা উপজেলা, পশ্চিমে কোটালিপাড়াগৌরনদী উপজেলা অবস্থিত। কালকিনি উপজেলার উপর দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী, টর্কি নদী ও পালরদী নদী প্রবাহিত হয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৯ সালে কালকিনি থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৪ সালে কালকিনি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালকিনি উপজেলার সংসদীয় আসন মাদারীপুর-৩। কালকিনি উপজেলা ও মাদারিপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসনটি জাতীয় সংসদে ২২০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

পটভূমি[সম্পাদনা]

১৯১৮ সালে তৎকালিন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মি. কালকিনির নাম অনুসারে কালকিনি নাম করণ করা হয়।[২] যা পূর্বে করিমগঞ্জ নামে অভিহিত ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, প্রাচীনকালে এ অঞ্চলের পূর্বাংশ ইদিলপুর এবং পশ্চিম অংশ কোটালীপাড়া নামে পরিচিত ছিল। একসময় এ অঞ্চলের প্রশাসনিক নাম ছিল নাব্যমন্ডল। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে ইদিলপুর ও কোটালীপাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। গ্রিকবীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় ৩২৭ খ্রিস্টপূর্বে কোটালীপাড়া অঞ্চলে গঙ্গারিডাই জাতি স্বাধীনভাবে রাজত্ব করত। তারপর এ অঞ্চল (৩২০-৪৯৬ খ্রিঃ) গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে ছিল। ৫০৭-৮ খ্রীষ্টাব্দের কিছু আগে রাজত্ব করেছেন দ্বাদশাদিত্য - মহারাজাধিরাজ বৈন্যগুপ্ত নামক এক রাজা। ৫৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করছেন গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য এবং নরেন্দ্রাদিত্য সমাচারদেব।[৩] বাংলার স্বাধীন শাসক শশাঙ্কের মৃত্যুর পর খড়গ বংশ ও দেব রাজবংশ এ অঞ্চল শাসন করে। পাল রাজবংশের (৭৫০-১১৬২ খ্রিঃ) রাজা দ্বিতীয় বিগ্রহপালের রাজত্বকালে (৯৬৯–৯৯৫ খ্রিঃ) হরিকেলের (পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা) কান্তিদেব ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করে একটি পৃথক রাজ্য স্থাপন করেন এবং এই অঞ্চল শাসন করে। পরবর্তীকালে চন্দ্র রাজবংশ দশম ও এগার শতকে স্বাধীনভাবে এই অঞ্চল শাসন করে।[৪] সেন রাজবংশের (১০৯৮-১২৩০ খ্রিঃ) পতনের পর চন্দ্রদ্বীপ রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, মাদারিপুর তথা কালকিনি উপজেলা চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অধীনে ছিল।

সুলতান জালালউদ্দিন ফাতেহ শাহ (১৪৮১-১৪৮৫ খ্রিঃ) ফরিদপুর ও চন্দ্রদ্বীপের একাংশ দখল করে ফতেহাবাদ পরগনা গঠন করেন। সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রিঃ) ফতেহাবাদের জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। ১৫৩৮ হতে ১৫৬৩ সাল পর্যন্ত শেরশাহ ও তার বংশধরগণ শাসন করেন। ১৫৬৪ হতে ১৫৭৬ সালে পর্যন্ত কররানী রাজবংশ রাজত্ব করে, তারপর ১৫৭৬ হতে ১৬১১ সাল পর্যন্ত বারোভূঁইয়ার অন্যতম বাকলার কন্দর্প রায়, রামচন্দ্র রায়ের অধীনে ছিল এ অঞ্চল। মুঘল সাম্রাজ্যনবাবী শাসন চলে ১৭৬৫ সাল পর্যন্ত।[৫] মুঘল আমলে সৃষ্ট জালালপুর (বর্তমান মাদারীপুর) পরগনার অধীনে ছিল কালকিনি।[১]

ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চল ১৭৯৭ সালে সৃষ্ট বাকেরগঞ্জ জেলার অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৮৫৪ সালের ২রা নভেম্বর মাদারিপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে কালকিনি অঞ্চল সদর মহকুমাধীন ছিল। ১৮৫৯ সালে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি হলে মাদারিপুর মহকুমাকে বাকেরগঞ্জ জেলা থকে আলাদা করে ১৮৭৫ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ১৯০৯ সালে মাদারিপুর থানার দক্ষিণাংশের কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে করিমগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। করিমগঞ্জ নামকরণের সঠিক কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নাই। তবে জনশ্রুতি মতে প্রশাসনিক দপ্তর স্থাপন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হবার সময় কালকিনি উপজেলা সদর হতে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে নদীর পাড়ে সমাজ হিতৈষী ধনাঢ্য ব্যক্তি করিম সরদার স্বীয় অর্থে তার বাড়ীর কাছে থানা প্রশাসন কেন্দ্র স্থাপনে উদ্যোগী হলে থানার নাম করিমগঞ্জ রাখা হয়। ১৯১৮ সালে করিমগঞ্জ থেকে সরে এসে পালরদী নদীর পশ্চিম তীরের চর পাংগাশিয়া, চর বিভাগদী ও ঝাউতলা মৌজার মিলন কেন্দ্রে স্থাপিত হয় এবং কালকিনি নাম করণ করা হয়।[১] বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এলাকাটি দখল করে এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে কালকিনি উপজেলার ভূরঘাটায় ক্যাম্প স্থাপন করে।[৬] সেখানে মানুষ ধরে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিত এবং বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞ চালায়।[৭] ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর চরদৌলতখান, এনায়েতনগর, সমিতিরহাট ছাড়াও পাশের বরিশালের গৌরনদীমুলাদী উপজেলা ও কালকিনির সীমান্তবর্তী ৩টি স্থানে মুখোমুখি যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজয় বরন করে কালকিনি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং কালকিনিকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বরিশালের গৌরনদী এলাকায় আটকে পরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে ২২ দিন যুদ্ধ হয়, সেখানেও কালকিনির মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করে।[৬] বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি কালকিনি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়।

ভূগোল[সম্পাদনা]

কালকিনি উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৩°০০´ থেকে ২৩°১০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°০৬´ থেকে ৯০°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।[৭] এর মোট আয়তন ২৮৩.৪০ বর্গ কিলোমিটার। কালকিনি উপজেলার কেন্দ্র থেকে দক্ষিণে বরিশাল, উত্তরে মাদারীপুর জেলা সদর, উত্তর-পূর্বে শরিয়তপুর ও পশ্চিমে গোপালগঞ্জ জেলা অবস্থিত। এর উত্তরে মাদারীপুর সদরশরিয়তপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে গৌরনদী এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা, পূর্বে গোসাইরহাট, মুলাদীডামুড্যা উপজেলা, পশ্চিমে কোটালিপাড়াগৌরনদী উপজেলা অবস্থিত।[১]

ভৌগলিক ভাবে কালকিনি পূর্বাঞ্চলীয় সক্রিয় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপে অবস্থিত।[৮] এ অঞ্চল গাঙ্গেয় প্লাবনভূমি অর্থাৎ পদ্মা বিধৌত নিম্ম পলল ভূমি এলাকা।[৯] বাংলাদেশের কৃষি-প্রতিবেশ অঞ্চল ১৪-তে অন্তর্ভুক্ত এলাকাটি শুষ্ক মৌসুমে ভিজা থাকে এবং বর্ষা মৌসুমে গভীরভাবে প্লাবিত হয় ও প্রায় প্রত্যেক বছরেই কম-বেশি বন্যা কবলিত হয়। এ অঞ্চলের নিচু এলাকাতে পিট মৃত্তিকার উপস্থিতি রয়েছে। এসব মৃত্তিকা চরম অম্লীয় এবং পটাশিয়াম, সালফার, জিঙ্ক ও কপারের অলভ্যতার কারণে কৃষিকাজে এসব মৃত্তিকা ব্যবহারের অনুপযোগী। পিট স্তরগুলোকে ভূ-জলে আর্সেনিক যুক্ত হওয়ার কারণ মনে করা হয়।[১০] এ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ ৬৯%।[৭][১১]

কালকিনি উপজেলার উপর দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী, টর্কি নদী ও পালরদী নদী প্রবাহিত হয়েছে। আড়িয়াল খাঁ নদীর মাধ্যমে কালকিনি উপজেলা দ্বিখন্ডিত হয়েছে। এক সময় এ নদীটিই ছিল কালকিনি উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। টর্কি নদীটি কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের আড়িয়ল খাঁ নদ থেকে উৎপন্ন হয়ে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সারিকাল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে পুনরায় আড়িয়ল খাঁ নদে পতিত হয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় টেংরা নদী, রাজমনী নদী ও গজারিয়া নদী এখনও নামের স্মারক বহন করে রয়েছে। গজারিয়া নদীটি বাশঁগাড়ী ইউনিয়নে গজারিয়া ও ডাকেরচর খাল নামে প্রবাহমান রয়েছে। রাজমনী নদীটি পালরদী নদীর ঠাকুর বাড়ি থেকে উৎপত্তি হয়ে শিকারমঙ্গল ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভবানীপুর ও মৃধা কান্দির নিকট আড়িয়ল খাঁ নদীতে পতিত হয়েছে। বর্তমানে নদীটি ঠাকুর বাড়ি, সমিতির হাট, মিয়ার হাট খাল নামে পরিচিত। এর অপর একটি অংশ আমানতগঞ্জ খাল নামে মাদারিপুর সদর উপজেলার ঘটকচর-মস্তফাপুর কুমার নদী থেকে ডাসার, কাজী বাকাই, গোপালপুর ও কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিম খাঞ্জাপুর সীমানা দিয়ে ঝুরগাও বাজারের পশ্চিমপাড়ে মাইড্যাল খেয়াঘাটের নিকট পালরদী নদীতে নিপতিত হয়েছে। টেংরা নদীটি শরিয়তপুর জেলার পট্টি বাজারের পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে নাগের পাড়া, খাসের হাট, কাচরী বাজার, আকাল বরিশ হয়ে আড়িয়ল খাঁ নদীতে মিলিত হয়েছে। বর্তমানে এই নদীটিও একটি খাল। এক সময় টেংরা নদী দিয়ে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর থেকে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী জাহাজ ও স্টিমার আড়িয়ল খাঁ নদী ও কুমার নদী হয়ে নিয়োমিত কলকাতা যাতায়াত করতো।[১]

প্রশাসন[সম্পাদনা]

১৮৫৪ সালে সৃষ্ট মাদারিপুর মহকুমার অধীনে ১৯০৯ সালে করিমগঞ্জ থানা গঠন করা হয় যা ১৯১৮ সালে কালকিনি নামে পরিবর্তিত হয়। ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং তখন কালকিনি থানা উপজেলায় রুপান্তরিত হয়।

কালকিনি উপজেলা কার্যালয়

কালকিনি উপজেলায় ২টি থানা, ১টি পৌরসভা, ৯টি ওয়ার্ড, ৩৮টি মহল্লা, ১৫টি ইউনিয়ন, ১৬১টি মৌজা ও ২১০টি গ্রাম রয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো গোপালপুর ইউনিয়ন, কাজীবাকাই ইউনিয়ন, বালিগ্রাম ইউনিয়ন, ডাসার ইউনিয়ন, নবগ্রাম ইউনিয়ন, আলীনগর ইউনিয়ন, এনায়েতনগর ইউনিয়ন, শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন, সাহেবরামপুর ইউনিয়ন, রমজানপুর ইউনিয়ন, কয়ারিয়া ইউনিয়ন, বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন, লক্ষীপুর ইউনিয়ন, চরদৌলতখান ইউনিয়ন, পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়ন[১]

কালকিনি পৌরসভা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে তৎকালীন কালকিনি ইউনিয়নকে তৃতীয় শ্রেণীর (গ-শ্রেণী) পৌরসভায় রূপান্তরিত করে এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন আবুল কালাম আজাদ। বর্তমানে মোঃ এনায়েত হোসেন কালকিনি পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পৌরসভাটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রথম শ্রেণীর (ক-শ্রেণী) পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃত।

২০১৩ সালের ২রা মার্চ কালকিনি থানার আংশিক এলাকা নিয়ে ডাসার থানা গঠন করা হয়। এর আগে ডাসার ইউনিয়নকে দু’ভাগে বিভক্ত করে বেতবাড়ী ও ডাসার নামে ২টি ইউনিয়ন এবং নবগ্রাম ইউনিয়নকে শশিকর ও নবগ্রাম নামে আরও ২টি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। গোপালপুর ও কাজিবাকাই ইউনিয়নসহ মোট ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে ২০১২ সলের ২রা ফেব্রুয়ারি ডাসারে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপিত হয়।[১২]

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালকিনি উপজেলার সংসদীয় আসন মাদারীপুর-৩। কালকিনি উপজেলা ও মাদারিপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন, ঝাউদী ইউনিয়ন, ঘটমাঝি ইউনিয়ন, মস্তফাপুর ইউনিয়নকেন্দুয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসনটি জাতীয় সংসদে ২২০ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।[১৩] বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর অনুষ্ঠিত ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই কালকিনির সংসদীয় আসনটি তৈরি করা হয়। প্রথম নির্বাচনে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফনী ভূষণ মজুমদার১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আবদুল মান্নান শিকদার,[১৪] ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির শেখ শহীদুল ইসলাম, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শেখ শহীদুল ইসলাম, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আবুল হোসেন, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ তারিখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গনেশ চন্দ্র হালদার, জুন ১৯৯৬ তারিখে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আবুল হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০১, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলগুলো তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলে আওয়ামী লীগের আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুস সোবহান গোলাপ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১৫]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কালকিনির জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি যা মোট আয়ের ৭০.২৩%, এছাড়া অকৃষি শ্রমিক ২.৭৮%, শিল্প ০.৪৮%, ব্যবসা ৯.৮০%, পরিবহন ও যোগাযোগ ১.৪৯%, চাকরি ৭.১২%, নির্মাণ ১.৫০%, ধর্মীয় সেবা ০.২৭%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ১.০০% এবং অন্যান্য ৫.৩৩%। এ অঞ্চল মূলত খেজুর রসখেজুর গুড়ের জন্য বাংলাদেশে বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে পাট, খেজুর গুড়, তিল, সরিষার তেল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। রবি ও খরিফ ফসল হিসেবে চীনাবাদাম চাষ হয়। ২০০১ সালের ভূমি জরিপ অনুসারে কালকিনির ৭৫.১১ শতাংশ বসবাসকারীর কৃষিভূমির মালিকানা রয়েছে। কালকিনির প্রধান কৃষিজ ফসল ধান, পাট, সরিষা, ডাল, গম, মিষ্টি আলু ও শাকসবজি। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, পেঁপে, নারিকেল, কলা সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয়। উপজেলার অনেক ইউনিয়নে গবাদি পশু পালন, মৎস খামার ও নার্সারি রয়েছে।

কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন শিল্প ও কলকারখানা, কুটিরশিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ উপজেলায় শিল্প ও কলকারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি। কুটিরশিল্পের মধ্যে রয়েছে লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, মাদুর শিল্প, দারুশিল্প, সূচিশিল্প, বেতশিল্প, খেজুরের গুড়ের কারখানা। প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাট, পাটজাত দ্রব্য, খেজুর গুড় ও আখের গুড়।[৭]

সংস্কৃতি ও খেলাধুলা[সম্পাদনা]

কালকিনি উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে পার্শ্ববর্তী বরিশালের ভাষার অনেকটা সাদৃশ্য রয়েছে এবং মানুষের আচার-আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, সংস্কৃতিতে বরিশালের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।[১] কালকিনিতে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজ নিজ রীতি-নীতি মনে চলে। বাংলাদেশের অন্য অনেক অঞ্চলের মত বিয়ের অনুষ্ঠানে ডুলি এবং পালকির প্রচলন ছিল। কালকিনিতে মূলত গাজীর গান, কীর্তন, পাঁচালি গান, ধুয়াগান, বাউল গান, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, ছিলকা, হেয়ালি, ধাঁধা, জারিগান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিচিত। বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন: পালকি, ঘোড়ার গাড়ি।[৭]

শেওলাপট্টি, চরদৌলতখানের বটতলা, রায়পুরের রক্ষাচন্ডি অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে চৈত্রসংক্রান্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে বাঁশ, বেত, প্লাস্টিক, মাটি ও ধাতুর তৈরি বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ও খেলনা, বিভিন্ন রকম ফল-ফলাদি ও মিষ্টি ক্রয়-বিক্রয় হয় এবং বায়োস্কোপ, সার্কাস, পুতুলনাচ, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা থাকে। তবে লক্ষীপুরের দামুসা মেলা ব্রিটিশ আমল থেকে এখনও প্রচলিত রয়েছে।[১] এছাড়া গোপালপুর ইউনিয়নের কুন্ডুবাড়ির কালীপূজাকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী কুন্ডুবাড়ির মেলা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।[২]

কালকিনিতে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা বেশি জনপ্রিয়। এছাড়াও ব্যাডমিন্টন, এ্যাথলেটিকস্, ভলিবল, সাঁতার, কাবাডি স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এ অঞ্চলে প্রচলিত। আঞ্চলিকভাবে হা-ডু-ডু, গোল্লাছুট, বউ ছি, লুকোচুরি খেলা হয়।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী কালকিনির গড় সাক্ষরতার হার শতকরা ৪৯% (পুরুষ ৫১%, নারী ৪৭.২%)। এ উপজেলায় ২১৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২ টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩১ টি মাদ্রাসা, ৬১ টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ০৭ টি কলেজ, ০২ টি কারিগরি কলেজ রয়েছে।[১]

উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি এন্ড উইমেন্স কলেজ (১৯৯৫), ডি.কে. আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমি এন্ড কলেজ (১৯৬৪), সাহেব রামপুর কবি নজরুল ইসলাম কলেজ (১৯৭২), কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ (১৯৭২), শশিকর শহীদ স্মৃতি কলেজ (১৯৭৩), কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৪), মহিষমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯), নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৩), শশিকর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৩), কালকিনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬), সাহেব রামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪৬), খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬০), গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭০), কালকিনি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯৭২), দর্শনা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭৩), শশিকর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (১৯৮২), স্নানঘাটা মাদ্রাসা(১৯২৬) প্রভৃতি।[৭] এ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর মধ্যে, নবগ্রাম ইউনিয়নের শিক্ষার হার প্রায় ৬৭.৫% ও লক্ষীপুর ইউনিয়নের ৩৬.৫%।

কালকিনি উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের অন্য সব শহরের মতই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধানত পাঁচটি ধাপ রয়েছে: প্রাথমিক (১ থেকে ৫), নিম্ন মাধ্যমিক (৬ থেকে ৮), মাধ্যমিক (৯ থেকে ১০), উচ্চ মাধ্যমিক (১১ থেকে ১২) এবং উচ্চ শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়।

মূলত বাংলা ভাষায় পাঠদান করা হয় তবে ইংরেজি ব্যাপকভাবে পাঠদান ও ব্যবহৃত হয়। অনেক মুসলমান পরিবার তাদের সন্তানদের বিশেষায়িত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসাতে প্রেরণ করেন। মাদ্রাসাগুলোতেও প্রায় একই ধরনের ধাপ উত্তীর্ণ হতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোন শিক্ষার্থী সাধারণত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। কালকিনিতে উচ্চ মাধ্যমিকের পর উচ্চ শিক্ষার জন্য বেশ কয়েকটি কলেজ রয়েছে যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ ও এমএ ডিগ্রি প্রদান করে।

স্বাস্থ্য[সম্পাদনা]

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হার তুলনামূলক কম হলেও এটি মূলত দারিদ্র্যতার সাথে সম্পর্কিত হওয়ায়, এর উন্নতির সাথে সাথে বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালকিনি অঞ্চলে অপুষ্টি, পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যা, ডায়াবেটিস, সংক্রামক রোগ প্রভৃতি বেশি দেখা যায়। উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি সরকারি হাসপাতালের সাথে সাথে ৩টি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ৫টি উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও ৩১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।[১]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়ক এন৮ (ঢাকা - মাওয়া ফেরীঘাট (আর৮১২) - ফেরী - ভাঙ্গা (এন৮০৪, এন৮০৫) - বরিশাল (এন৮০৯) - পটুয়াখালী) কালকিনিকে ঢাকা থেকে কালকিনি হয়ে বরিশাল-পটুয়াখালীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। এছাড়া জেলা সড়ক জেড৮৬০৩ (মাদারিপুর (ইটেরপুল)-পাথরিয়ারপাড়-ঘোষেরহাট-ডাসার-আগৈলঝাড়া সড়ক), জেলা সড়ক জেড৮৬০৪ (মাদারিপুর-কালকিনি-ভুরঘাটা সড়ক) সড়কগুলো সদর উপজেলার সাথে কালকিনি উপজেলার সংযোগ স্থাপন করেছে।

কালকিনি থেকে ঢাকাগামী অধিকাংশ বাস সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে থামে। কালকিনি জিরো পয়েন্ট থেকে মাদারীপুর জেলা সদরের দূরুত্ব ২৭ কিলোমিটার, রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১০২ কিলোমিটার।

১৯৬৫ সালে ৩৫.২৫ মাইল ভাঙ্গা-মাদারিপুর রাস্তা সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যামে কালকিনিতে সড়ক পথে প্রথম যোগাযোগ শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে মাদারিপুর-কালকিনি-ভুরঘাটা রুটে প্রথম বাস সার্ভিস চালু হয়।[৩]

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী এ উপজেলায় ১৪০ কিলোমিটার পাকারাস্তা ও ৫৫৬ কিলোমিটার কাঁচারাস্তা রয়েছে।[১] এ উপজেলায় কোন রেললাইন বা ট্রেন যোগাযোগের ব্যবস্থা নেই। ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হতে মাদারীপুর লঞ্চ টার্মিনালে নৌপথ নিয়োমিত নৌযাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এক ইউনিয়ন হতে অন্য ইউনিয়নে চলাচল বা অভ্যন্তরীন নৌযাতায়াতের এর জন্য স্থানীয় নৌযান রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

উল্লেখযোগ্য স্থান[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "কালকিনি উপজেলা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  2. মাদারীপুর জেলা ব্রান্ড বুক। মাদারীপুর: জেলা প্রশাসক, মাদারীপুর। সেপ্টেম্বর ২০১৮। পৃষ্ঠা ১২৪, ১২৫। আইএসবিএন 978-984-516-072-8 
  3. মাহমুদ, লিখন (২০১৭)। মাদারিপুর ইতিবৃত্ত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মাদারিপুর। 
  4. Sailendra Nath Sen (১৯৯৯)। Ancient Indian History and Civilization। New Age International। পৃষ্ঠা 277–287। আইএসবিএন 978-81-224-1198-0 
  5. "মাদারীপুর জেলা"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  6. "আজ কালকিনি মুক্ত দিবস | কালের কণ্ঠ"কালের কণ্ঠ। ২০১৮-১২-০৮। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  7. "কালকিনি উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  8. "বঙ্গীয় বদ্বীপ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  9. "প্লাবনভূমি"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  10. "পিট মৃত্তিকা"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  11. "আর্সেনিক"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  12. "অপরাধীদের বিষফোঁড়া নবগঠিত ডাসার থানা | বাংলাদেশ প্রতিদিন"বাংলাদেশ প্রতিদিন। ২০১৩-০৭-২৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  13. "Election Commission Bangladesh - Home page"বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০১-১০ 
  14. মিয়া, আবদুল জাব্বার (১৯৯৪)। মাদারীপুর জেলা পরিচিতি। মাদারিপুর: মিসেস লীনা জাব্বার। পৃষ্ঠা ১৮০–১৮৩। 
  15. "বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, জানুয়ারি ১, ২০১৯" (PDF)বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১ জানুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]