ভারোত্তোলন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
২০০৯ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে কাজাখস্তানের জুলফিয়া চিনশানলো ৫৩ কেজি শ্রেণীতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হন

ভারোত্তোলন (ইংরেজি: Weightlifting) এক ধরনের অ্যাথলেটিক বিভাগের ক্রীড়াবিশেষআধুনিক অলিম্পিক আন্দোলনে এ ক্রীড়া অন্যতম প্রধান আকর্ষক ও অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারোত্তোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে একজন প্রতিযোগী কর্তৃক এক বারে সর্বাধিক ওজন উত্তোলন করা যা ওজন প্লেটের সাথে বারবেল বা দণ্ডসহযোগে থাকে। যিনি ভারোত্তোলন করেন, তিনি ভারোত্তোলনকারী বা ভারোত্তোলক নামে পরিচিত।

ভারোত্তোলনে স্ন্যাচ এবং ক্লিন এন্ড জার্ক - এ দু'টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। একজন ভারোত্তোলক তিন বার ভার উত্তোলনের জন্যে প্রচেষ্টা চালান এবং সর্বাধিক দুইবার সর্বোচ্চ সফলতাকে যুক্ত করে শারীরিক ওজন শ্রেণীতে সামগ্রিক ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শারীরিক ওজন শ্রেণী পুরুষ ও মহিলাদের জন্যে ভিন্নতর হয়। যদি এক উত্তোলনকারী কমপক্ষে একবার সফলতমভাবে স্ন্যাচ এবং ক্লিন এন্ড জার্কে উত্তোলনে ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি প্রতিযোগিতায় অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। এছাড়াও, ক্লিন এন্ড প্রেস নামে আরো এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে কিন্তু সঠিকভাবে মানদণ্ড প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়ায় তা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

ভারোত্তোলন ক্রীড়া অলিম্পিক ওয়েটলিফটিং বা অলিম্পিক-স্টাইল ওয়েটলিফটিং নামেও সমধিক পরিচিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মানব ইতিহাসের অন্ধকার যুগে ভার উত্তোলন তথা ভারোত্তোলনের ধারনাটি প্রথম প্রচলিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারণতঃ ইউরোপের সর্বত্র বিভিন্ন গ্রামে বসবাসরত সবচেয়ে শক্তিশালীকে ব্যক্তিকে ভারোত্তোলনের ন্যায় ভারী কাজটি করতে হয়েছিল।

কে, কতটুকু সবচেয়ে অধিক ভার উত্তোলন করতে পারেন তা চিহ্নিত করতেই ভারোত্তোলন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটির উদ্ভব ঘটেছে। মানব বিষয়ক এ ঘটনাটি মিশর, চীন এবং প্রাচীন গ্রীসে উৎপত্তি হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। নীচু স্তরের ব্যক্তিদের ক্রীড়া হিসেবে এটি চিহ্নিত হলেও বিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারোত্তোলন ক্রীড়াটি অন্যান্য সকল স্তরের ব্যক্তিবর্গ এতে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ঊনবিংশ শতকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ভারোত্তোলন আধুনিক ক্রীড়ারূপে আবির্ভাব ঘটানো হয়। ১৮৯১ সালে প্রথমবারের মতো ভারোত্তোলনে পুরুষদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অনুষ্ঠিত হয়। তখন মহিলাদেরকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হতো না। ভারোত্তোলকদেরও নির্দিষ্ট কোন উচ্চতা কিংবা ওজনে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়নি। ১৮৯৬ সাল থেকে অদ্যাবধি ভারোত্তোলন অলিম্পিক ক্রীড়ায় অন্যতম অংশ হিসেবে নিজেকে ঠাঁই করে নিয়েছে স্বমহিমায়।

অলিম্পিক প্রতিযোগিতা[সম্পাদনা]

স্ন্যাচ এবং ক্লিন এন্ড জার্ক - এ দুইটি প্রধান বিষয়ে ভারোত্তোলন ক্রীড়া হিসেবে অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় ঠাঁই পেয়েছে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্রীড়াবিদগণ এতে প্রাধান্য বিস্তার করেছিলেন। তারপরেই রয়েছে - চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বুলগেরিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক, জার্মানি, গ্রীস প্রমূখ দেশের ক্রীড়াবিদগণ। ১৯২০ সাল থেকে প্রতিটি গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর পূর্বে অবশ্য আরো দু'বার (১৮৯৬ ও ১৯০৪) ভারোত্তোলন ক্রীড়া হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।

শুরুর দিকে সকল ভারোত্তোলনকারীকে একই বিষয়ে শারীরিক ওজনে ভিন্নতা স্বত্ত্বেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতো। ১৮৯৬ সালে এক হাতেদুই হাতে; ১৯০৪ সালে দুই হাতেঅল-এরাউন্ড ডাম্ববেল বিষয় ছিল। ১৯২০ সালে ক্রীড়াটি পুণরায় অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হলে ওজনশ্রেণীতে ভিন্নতা আনয়ণ করা হয়। শ্রেণী এবং ওজনগত কারণে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। পুরুষ ক্রীড়াবিদগণ ৮টি বিভাগের একটিতে এবং নারী ক্রীড়াবিদগণ ৭টি বিভাগের একটিতে তাদের শারীরিক গঠনের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট শ্রেণীতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। ২০০০ সালে সিডনীতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমসে মহিলাদের ভারোত্তোলন ক্রীড়ার অভিষেক ঘটে।

পুরুষ: ৫৬ কেজি (ব্যান্টমওয়েট); ৬২ কেজি (ফিদারওয়েট); ৬৯ কেজি (লাইটওয়েট); ৭৭ কেজি (মিডিলওয়েট); ৮৫ কেজি (লাইট-হেভিওয়েট); ৯৪ কেজি (মিডিল-হেভিওয়েট); ১০৫ কেজি (হেভিওয়েট) এবং +১০৫ কেজি (সুপার হেভিওয়েট)।

মহিলা: ৪৮ কেজি; ৫৩ কেজি; ৫৮ কেজি; ৬৩ কেজি; ৬৯ কেজি; ৭৫ কেজি এবং +৭৫ কেজি।[১]

আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন সংস্থা[সম্পাদনা]

অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া হিসেবে ভারোত্তোলন ক্রীড়ায় সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। এ সকল নিয়ম-কানুন আন্তর্জাতিক ভারোত্তোলন সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত। হাঙ্গেরীর বুদাপেস্টে এ সংস্থার সদর দফতর অবস্থিত। সংস্থাটি ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "IWF Technical and Competition Rules" (PDF)। International Weightlifting Federation। সংগৃহীত ২০০৯-০৮-১০