আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
| আলাউদ্দিন হোসেন শাহ | |
|---|---|
| বাংলার সুলতান | |
| রাজত্ব | ১৪৯৪-১৫১৯ |
| রাজ্যাভিষেক | ১৪৯৩ |
| পূর্বসূরি | শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহ |
| উত্তরসূরি | নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ |
| জন্ম | অজানা |
| মৃত্যু | ১৫১৯ |
| রাজবংশ | হোসেন শাহী রাজবংশ |
| পিতা | সৈয়দ আশরাফ হুসাইনি |
| ধর্ম | ইসলাম (সুন্নি) |
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (শাসনকাল ১৪৯৩-১৫১৯)[১] ছিলেন মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতান। তিনি হোসেন শাহি রাজবংশের পত্তন করেন।[২] হাবশি সুলতান শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহ নিহত হওয়ার পর তিনি বাংলার সুলতান হন। ইতঃপূর্বে তিনি মোজাফফর শাহের উজির ছিলেন। ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর, তাঁর আঠারো পুত্রের মধ্যে জীবিত জ্যেষ্ঠতম নসরত শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। আলাউদ্দিন হোসেন শাহকে বাংলা ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।[৩][৪] হোসেন শাহ ও নাসিরুদ্দিন নসরত শাহের যুগকে সাধারণভাবে বঙ্গ সুলতানাতের “সুবর্ণযুগ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৫]
প্রথম জীবন
[সম্পাদনা]হোসেন শাহের মূল নাম ছিল সৈয়দ হোসেন। ১৭৮৮ সালে লেখা রিয়াজুস সালাতিন অনুসারে তিনি তিরমিজের বাসিন্দা মক্কার শরিফ সাইদ আশরাফুল হোসাইনি আল ফাতিমি আল মাক্কির পুত্র ছিলেন। ইতিহাসবিদ গোলাম হোসেন সেলিম (রিয়াজুস সালাতিন এর লেখক) ও মুহাম্মদ কাসিম হিন্দু শাহ তাকে সৈয়দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা তার আরব বংশোদ্ভূত হওয়ার চিহ্ন বহন করে।[৬][৭] তবে অনেকের মতে তিনি আফগান বংশীয়।[৮] পাশাপাশি সুলতান হোসেন শাহ বিন সৈয়দ আশরাফ হুসাইনি কথাটি তার মুদ্রায় উল্লেখিত হয়েছে।[৯] রংপুরে কিছু স্থানীয় ঐতিহ্য রয়েছে যা দাবি করে যে তিনি সত্যিই সেই অঞ্চলের স্থানীয় ছিলেন।[১] এটা বলা হয় যে জালালুদ্দিন মুহাম্মাদ শাহ তার দাদা সুলতান ইব্রাহিমকে উৎখাত করেন, এবং এর ফলে হুসেইনের বাবা এবং পরিবার কামাতায় স্থানান্তরিত হয়।[১০] বুচান-হ্যামিল্টনের পাণ্ডুলিপির নাম নেই, এবং মমতাজুর রহমান তরফদার পাণ্ডুলিপিটিকে বাঙ্গালার হুসেন শাহকে জৌনপুরের হুসাইন শাহ শরকির সাথে গুলিয়ে ফেলেছে বলে মনে করেন, যার দাদা ছিলেন শামসুদ্দিন ইব্রাহিম শাহ শরকি, যিনি জলালুদ্দিন মুহাম্মদ শাহের সমকালীন ছিলেন। তরফদার, যার কাজ ১৯৬৫ সালে লিখা হয়েছে, উল্লেখ করেন যে সেই সময় বাংলায় ইব্রাহিম নামে কোন সুলতান ছিল না।[১১] তবে, 1990-এর দশকে, সিলেটের বিয়ানিবাজারে নসিরউদ্দীন ইব্রাহিম শাহ (রাজত্ব. ১৪১৫/১৬ - ১৪১৬/১৭) নামক বাংলার এক সুলতানের কয়েকটি মুদ্রা উদ্ধার হয়, যা এই পাণ্ডুলিপি সম্পর্কিত আলোচনা আবার শুরু করেছে।[১২][১৩]
তবে বাংলায় আগমন ও সুলতান শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহের উজিরের পদ লাভ করার ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায় না। ধরা হয় যে তিনি প্রথমে মুর্শিদাবাদ জেলার চাঁদপারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। এর কারণ হোসেন শাহের প্রথম দিকের বেশ কিছু বিবরণ এই গ্রামের আশেপাশে পাওয়া যায় এবং ১৪৯৪ সালে হোসেন শাহ কর্তৃক নির্মিত খেরুর মসজিদ এখানে অবস্থিত।[৯][১৪][১৫] শেখের দীঘি নামক একটি জলাশয়ও তার সাথে সম্পর্কিত।[১৫]
প্রথমদিকে তিনি গোপনে বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন জানালেও পরবর্তীকালে প্রকাশ্যে তাদের নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং দুর্গ অবরোধ করেন। এখানে সুলতান শামসউদ্দিন মোজাফফর শাহ কয়েক হাজার সৈনিক সমেত অবস্থান করছিলেন। ১৬ শতকের ইতিহাসবিদ নিজামউদ্দিন আহমেদের মতানুযায়ী, সুলতান গোপনে প্রাসাদ রক্ষীদের সাহায্যে হোসেন শাহ কর্তৃক নিহত হন। এর মাধ্যমে বাংলায় হাবশি শাসনের সমাপ্তি ঘটে।[১]
শাসনকাল
[সম্পাদনা]হোসেন শাহ ২৫ বছর শাসন করেন। তার শাসনামলে শান্তি বজায় ছিল। হিন্দু প্রজাদের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গি তার আমলের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।[১]
প্রাথমিক শাসনতান্ত্রিক কর্মকাণ্ড
[সম্পাদনা]ক্ষমতালাভ করার পর গৌড়ে লুটপাট থেকে ফিরে আসার আদেশ দেন। কিন্তু তারা তা অব্যাহত রাখলে তিনি বার হাজার সৈনিককে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করেন। এর মধ্যে ১৩,০০০ স্বর্ণের প্লেট ছিল। এরপর তিনি প্রাসাদরক্ষীদের দলকে বিলুপ্ত করেন। প্রাসাদের ভেতর এরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ছিল। প্রশাসন থেকে তিনি হাবশিদের সরিয়ে দেন এবং তাদের স্থলে তুর্কি, আরব, আফগান ও স্থানীয় লোকদের নিয়োগ দেন।[১]
দিল্লি সুলতানাতের সঙ্গে সম্পর্ক
[সম্পাদনা]জৌনপুর সুলতান হুসেন শাহ শরকি, দিল্লি সুলতান বহলুল লোদীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর বিহারে আশ্রয় নেন, যেখানে তার দখল সীমিত ছিল একটি ছোট অঞ্চলে। ১৪৯৪ সালে তিনি পুনরায় সুলতান সিকান্দার লোদীর কাছে পরাজিত হন এবং বাংলায় আশ্রয় গ্রহণ করেন, যেখানে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ তাকে আশ্রয় দেন।[১৬] এর ফলে ১৪৯৬ সালে সুলতান সিকান্দার লোদী বাংলার বিরুদ্ধে অভিযান চালান। বাংলার হুসেন শাহ তার পুত্র শাহজাদা দানিয়াল-এর নেতৃত্বে একটি সেনাবাহিনী পাঠান দিল্লির বাহিনীর মোকাবেলায়। দুই সেনাদল পাটনার নিকটবর্তী বার-এ মুখোমুখি হয়। অভিযানের শুরু থেকেই দিল্লি বাহিনী রসদ সংকটে ভুগছিল, ফলে সিকান্দার লোদী তার সেনা অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেন এবং আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করেন। এই চুক্তি অনুযায়ী, বার-এর পশ্চিমাঞ্চল সিকান্দার লোদীর অধীনে যায়, আর পূর্বাঞ্চল থাকে বাংলার হুসেন শাহের অধীনে। এর ফলে জৌনপুর সুলতানাতের চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং তাদের সৈন্যদল বাংলার বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়, যা বাংলার সেনাশক্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।[১৭] এছাড়া লোদীরা দখলকৃত সমগ্র জৌনপুর অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে উত্তর প্রদেশে বাংলার প্রভাব বিস্তার ঘটে। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের বহু শিলালিপি—যেমন উত্তর প্রদেশের বলিয়া জেলার খারিদ গ্রামে জামে মসজিদ, আজমগড় জেলার সিকদারপুরে আরেকটি মসজিদ, এবং ১৫০১–০২ সালে বলিয়ার হুসেনাবাদে নির্মিত আরেকটি মসজিদ—এ বাংলার কর্তৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।[১৮] হুসেনাবাদ নামটি নিজেই হুসেন শাহের নামে রাখা হয়েছিল, যা উত্তর প্রদেশের গান্ডকের পশ্চিম পারের অঞ্চলে তার দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ নির্দেশ করে।[১৯]
কামরূপ–কামাতার জয়
[সম্পাদনা]
১৪৯৯ সালে হুসেন শাহের সেনাপতি শাহ ইসমাইল গাজী কামতা রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। বাংলার সেনাবাহিনী রাজা নীলাম্বরকে বন্দি করে, রাজধানী লুটপাট করে এবং ভূখণ্ডকে হাজো পর্যন্ত দখল করে। এই বিজয় মালদাতে খোদিত এক শিলালিপিতে উল্লেখিত রয়েছে।[২০]
উড়িষ্যা অভিযান
[সম্পাদনা]মাদলা পাঞ্জি অনুসারে, শাহ ইসমাইল গাজী ১৫০৮–০৯ সালে বর্তমান হুগলি জেলার মন্দরন দুর্গ থেকে অভিযান শুরু করে পুরীতে পৌঁছান, পথে যাজপুর ও কাটক লুট করেন। ঐ সময় উড়িষ্যার গজপতি রাজা প্রতাপরুদ্রদেব দক্ষিণে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তিনি ফিরে এসে বাংলার সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন এবং তাদের সীমান্ত পর্যন্ত তাড়া করেন। তিনি মন্দরন দুর্গ অবরোধ করেন, যেখানে বাংলার সেনাপতি আশ্রয় নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি পালাতে সক্ষম হন, তবে বাংলার বাহিনী সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত হয় এবং দুর্গটি গজপতি বাহিনী দখল করে।[২১] হুসেন শাহের শাসনামলে বাংলার ও উড়িষ্যার সীমান্তে এ ধরনের সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।[২২]
প্রতাপগড় অভিযান
[সম্পাদনা]সিলেটের (বর্তমান বাংলাদেশ) গভর্নর গওহর খান মৃত্যুবরণ করলে পার্শ্ববর্তী প্রতাপগড় রাজ্যের শাসক সুলতান বাজিদ অঞ্চলটি দখল করেন।[২৩] হুসেন শাহ তার এক হিন্দু ধর্মান্তরিত অভিজাত, সুরওয়ার খানকে পাঠান বাজিদের মোকাবেলায়। আলোচনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ শুরু হয় এবং বাজিদ পরাজিত ও বন্দি হন। তিনি রাজ্য বজায় রাখতে প্রচুর খাজনা দিতে বাধ্য হন, তবে বাংলার আধিপত্য স্বীকার করেন। সুরওয়ার খানকে সিলেটের নতুন গভর্নর নিযুক্ত করা হয় এবং পরাজিত সুলতানের কন্যাকে তার পুত্র মীর খানের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া হয়।[২৪][২৫]
ত্রিপুরা ও আরাকান অভিযান
[সম্পাদনা]
রাজমালা নামক ত্রিপুরার রাজবৃত্তান্ত অনুসারে, হুসেন শাহ চারবার ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সেনা পাঠান। প্রথম তিনবার ত্রিপুরার বাহিনী প্রবল প্রতিরোধ করে, কিন্তু চতুর্থ অভিযানে হুসেন শাহ অন্তত কিছু অঞ্চল দখল করতে সক্ষম হন। ১৫১৩ সালের সোনারগাঁর খোয়াস খানের শিলালিপি, যেখানে তার উপাধি ছিল সার-ই-লস্কর-ই-ত্রিপুরা (ত্রিপুরায় অবস্থানরত সেনাপতি), অনেক আধুনিক ইতিহাসবিদের মতে হুসেন শাহের অধীনে ত্রিপুরার আংশিক অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ।[২৬]
হুসেন শাহের ত্রিপুরা অভিযানের সময়, আরাকানের রাজা ত্রিপুরার ধন্য মানিক্যকে সহায়তা করেন এবং চট্টগ্রাম থেকে হুসেন শাহের কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেন। ১৫১৬ সালে হুসেন শাহ আরাকানের বিরুদ্ধে অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভূমিসেনার দায়িত্ব দেন পরাগল খানকে; এবং যুবরাজ নসরতকে সমগ্র অভিযানের সর্বমুখী অধিনায়ক নিযুক্ত করেন।[২৭] নসরতের আদেশে পরাগল খান ফেনী নদীর ঘাঁটি থেকে অগ্রসর হন। কালাদান নদীর পশ্চিম তীর পর্যন্ত দখলকৃত অঞ্চলের প্রশাসন তাঁর গভর্নরত্বাধীন ছিল। শত্রুতার অবসান সম্ভবত একই বছর, অর্থাৎ ১৫১৬ সালেই ঘটে, যখন ম্রাউক-উ রাজ্য চট্টগ্রাম ও উত্তর আরাকানের উপর বাংলার সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে।[২৮] এই সংঘাতের ফলে ম্রাউক-উ পুনরায় বাংলার সুলতানতের অধীনস্থ হয়।[২৮] নসরত চট্টগ্রামের নামকরণ করেন ‘ফতেহাবাদ’—অর্থাৎ বিজয়ের নগরী। এই তথ্য পর্তুগিজ অভিযাত্রী জোয়াও দে সিলভেরার বিবরণেও সমর্থিত; তিনি ১৫১৭ সালে চট্টগ্রামে অবতরণকালে উল্লেখ করেন যে আরাকান তখন বাংলার সুলতানতের অধীনস্থ।[২৯]
পর্তুগিজ অভিযাত্রী ভাস্কো দা গামা ১৪৯৮ সালে সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছান।[৩০] তারপর হুসেন শাহের শাসনামলের শেষদিকে পর্তুগিজরা বাংলায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য একটি দূতাবাস প্রেরণ করে।[৯]
সাংস্কৃতিক অবদান
[সম্পাদনা]
হোসেন শাহের শাসনামলে বাংলা সাহিত্য বেশ সমৃদ্ধি লাভ করে।[১] হোসেন শাহের অধীন চট্টগ্রামের শাসক পরাগল খানের পৃষ্ঠপোষকতায় কবীন্দ্র পরমেশ্বর তার পান্ডববিজয় রচনা করেন। এটি মহাভারতের একটি বাংলা সংস্করণ। একইভাবে পরাগল খানের উত্তরাধিকারী হিসেবে চট্টগ্রামের গভর্নর হওয়া তার পুত্র ছুটি খানের পৃষ্ঠপোষকতায় শ্রীকর নন্দী মহাভারতের আরেকটি সংস্করণ বাংলায় রচনা করেন। কবীন্দ্র পরমেশ্বর তার পান্ডববিজয় গ্রন্থে হোসেন শাহকে কলি যুগের কৃষ্ণের অবতার হিসেবে প্রশংসা করেছেন।[৩১] বিজয় গুপ্ত তার মনসামঙ্গল এসময় রচনা করেন। তিনি হোসেন শাহকে অর্জুনের সাথে তুলনা করেছেন।[৩২] এতে হোসেন শাহকে নৃপতি-তিলক (তিলক অর্থ রাজার চিহ্ন) ও জগৎ-ভূষণ (বিশ্বের সৌন্দর্য) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[৯] হোসেন শাহের একজন কর্মকর্তা যশরাজ খান কিছু সংখ্যক বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। তিনিও তার একটি পদে হোসেন শাহের সুনাম করেছেন।[৩৩] হোসেন শাহের আমলে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ইমারত গড়ে উঠে। ওয়ালি মুহাম্মদ গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ নির্মাণ করেন।[৩৪]
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা
[সম্পাদনা]হোসেন শাহের রাজত্বকাল হিন্দু প্রজাদের প্রতি উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিত। তবে আর. সি. মজুমদার দাবিমতে উড়িষ্যা অভিযানের সময় তিনি কিছু হিন্দু মন্দির ধ্বংস করেন।[৩৫] হোসেন শাহের রাজত্বকালে মধ্যযুগের সমাদৃত ধর্মগুরু চৈতন্য মহাপ্রভু ও তার অনুসারীরা ভক্তি প্রচার করেন।[৩৪] হোসেন শাহ তার ব্যাপারে জানতে পারলে কাজীকে নির্দেশ দেন যাতে তাকে কোনো প্রকার বাধা প্রদান করা না হয়।[৩৫] পরবর্তীতে তার প্রশাসনের দুজন উচ্চপর্যায়ের হিন্দু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সচিব (দবিরে খাস) রুপা গোস্বামী ও তার ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী (সগির মালিক) সনাতন গোস্বামী চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারী হন।[৩৪]
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]

আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ১৫১৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ জীবিত পুত্র নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ তাঁর উত্তরসূরি হন। ১৫১৫ সাল থেকেই নাসরত শাহ উত্তরাধিকারী বা যুবরাজ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ধারণা করা হয়, হুসেন শাহ গৌড় নগরে কদম রাসুল মসজিদের নিকটে সমাধিস্থ হন। হেনরি ক্রেইটন গৌড় নগরে আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ও নসরত শাহের কালো পাথরের সমাধি দেখেছিলেন, যা পরবর্তীতে হারিয়ে যায়; ধারণা করা হয় ইংরেজরা তা সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।[৩৬]
হুসেন শাহের প্রায় পঁচিশ বছরের দীর্ঘ শাসনকাল ছিল শান্তি ও সমৃদ্ধির যুগ, যা তার পূর্ববর্তী অস্থির সময়ের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছিল। তাঁর শাসনামলে হিন্দু প্রজাদের প্রতি উদার মনোভাব ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।[৩৭] অনেক ব্রাহ্মণ তাঁর দরবারে চাকরি গ্রহণ করেছিলেন।[৩৮] বঙ্গের হিন্দু কবি, এমনকি চৈতন্যের অনুগামীরাও তাকে শুধুমাত্র "সুলতান" নামে সম্বোধন করেননি, বরং তাকে “নৃপতি তিলক” (রাজাদের মধ্যে রত্ন), “জগত ভূষণ” (বিশ্বের অলংকার), এবং সর্বাপেক্ষা “মুলুকপতি”, অর্থাৎ “মহান অধিপতি ও রাজ্যের মহাশাসক” উপাধিতে সম্বোধন করেছেন। এই ধরনের মহিমাময় ভাষা ওই যুগের হিন্দু সাহিত্যতে মুসলিম শাসকদের জন্য প্রায় অনন্য।
আর. সি. মজুমদারের ভাষায়,
“হুসেন দুর্ভাগ্যবান কারণ তাঁর কথা ও কর্ম লিপিবদ্ধ করার জন্য কোনো আবুল ফজল তাঁর সমসাময়িক ছিলেন না, এবং তাঁর যুগের কোনো ইতিহাস আজ অবধি টিকে নেই। তবে তাঁর শাসনকাল সম্পর্কে যে কয়েকটি তথ্য জানা যায়, তা থেকেই তাঁর মহান শাসকসুলভ গুণাবলি অনুমান করা যায়—যাকে আকবরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। বাংলার সকল মুসলমান শাসকের মধ্যে তিনিই প্রজাদের কল্পনাশক্তিকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিলেন, এবং ওড়িশা সীমান্ত থেকে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত আজও মহামতি হুসেন শাহ এর নাম স্মরণ করা হয়।’”[৩৯]
পরিবার
[সম্পাদনা]হুসেন শাহের আঠারো জন পুত্র ও অন্তত এগারো জন কন্যা ছিলেন।[৪০][৪১] তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেনঃ
- শাহজাদা দানিয়াল — সম্ভবত জ্যেষ্ঠ পুত্র।[৪২] তিনি সম্ভবত কামতা রাজ্য অভিযানের শেষে নিহত হন।[৪০]
- নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ (উপনাম আলী শাহ) — ১৫১৫ সালে বাংলা সুলতানির যুবরাজ নিযুক্ত হন এবং ১৫১৯ সালে পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ১৫১৯ থেকে ১৫৩২ সাল পর্যন্ত শাসন করেন।[৪৩]
- গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ — জন্মনাম আবদুল বদর; ১৫৩৩ থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলার সুলতান হিসেবে শাসন করেন।[৪৩]
- কুতবউদ্দিন নাসির — হুসেন শাহের এক পুত্র, যিনি বিহারের মুঙ্গের জেলার মতিহানি গ্রামে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।[৪৪]
- রওশন আখতার বানু — সম্ভবত এক নাতনি। তিনি সুফি সাধক ও ভূস্বামী ইব্রাহিম দানিশমন্দের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[৪৫][৪৬][৪৭]
- তাঁর এক কন্যা প্রাক্তন জৌনপুর সুলতান হুসেন শাহ শরকীর পুত্র জালাল খান এর সঙ্গে বিবাহিত হন।[৪৮]
- তাঁর আরেক কন্যা বিহারের গভর্নর মখদুম আলমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, এবং অপর এক কন্যা নাসরত শাহের সেনাপতি আলাউদ্দিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।[৪৯]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 5 6 Majumdar, R.C. (ed.) (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, pp.215-20
- ↑ Sen, Sailendra (১৫ মার্চ ২০১৩)। A Textbook of Medieval Indian History (ইংরেজি ভাষায়)। Ratna Sagar P. Limited। পৃ. ১২০–১২১। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩-৮০৬০৭-৩৪-৪।
- ↑ Sarkar, Jadunath, ed. History of Bengal Vol. 2. B. R. Publishing, Delhi, 1943. Internet Archive. [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.24396/page/n151/mode/1up ]
- ↑ আবদুল করিম (আগস্ট ১৯৯৯)। বাংলার ইতিহাস: মুসলিম বিজয় থেকে সিপাহী বিপ্লব পর্যন্ত [১২০০–১৮৫৭ খ্রিঃ]। ঢাকা: বড়াল প্রকাশনী। পৃ. ৯০।
- ↑ "The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760"। publishing.cdlib.org। ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০২১।
এই ধারণাটি ইতিহাসবিদ নিজাম উদ্দিন আহমদের কাছ থেকেই শুরু হয়, যিনি ১৫৯৪ সালে 'আলা উদ্দিন হোসেন শাহ'-এর প্রশংসা করে লিখেছিলেন যে, তিনি "বুদ্ধিমান ও যোগ্য ব্যক্তি" ছিলেন, যিনি "রাজ্যের বিভিন্ন অংশ থেকে জ্ঞানী, মহৎ ও ধার্মিক ব্যক্তিদের আহ্বান জানাতেন এবং তাদের প্রতি সদয় আচরণ করতেন... রাজ্যকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করার জন্য তিনি বিপুল প্রচেষ্টা চালান।"
- ↑ Eaton, Richard M. (১৯৯৩)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760 (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। পৃ. ৬৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৫০৭-৯।
- ↑ Markovits, Claude (২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। A History of Modern India, 1480-1950 (ইংরেজি ভাষায়)। Anthem Press। পৃ. ৩৮। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৩৩১-১৫২-২।
- ↑ Basistha, Dr Nandini (৯ জানুয়ারি ২০২২)। Politics Of Separatism (ইংরেজি ভাষায়)। ৪৮: K.K. Publications।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থান (লিঙ্ক) - 1 2 3 4 AM Chowdhury, Husain Shah ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০১১ তারিখে, Banglapedia: The National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, Retrieved: 2011-05-04
- ↑ Sarkar, Jadunath (১৯৪৩)। "VII: The Husain Shāhī Dynasty"। The History of Bengal. Vol. II: Muslim Period, 1200–1757। patna।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ Tarafdar, Momtazur Rahman (১৯৬৫)। "Appendix B: The early life of Husain"। Husain Shahi Bengal: a socio-political study। University Of Dacca। পৃ. ৩৫৬-৩৬০।
- ↑ Karim, Mohd. Rezaul (১৯৯৯)। "Rare Coins of Beanibazar Hoard and Chronology of Sultans of Bengal"। Ahmed, Sharif Uddin (সম্পাদক)। Sylhet: History and Heritage। Bangladesh Itihas Samiti। পৃ. ৬৭০। আইএসবিএন ৯৮৪-৩১-০৪৭৮-১।
- ↑ Md. Rezaul Karim, 'Qutubuddin Azam, Nasiruddin Ibrahim and Ghiyasuddin Nusrat, three New Rulers of Sultani Bengal: Their Identification and Chronology', Journal of Bengal Art, Vol. 17, 2012: 215-27.
- ↑ Pratip Kumar Mitra, Kherur Mosque[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ], Banglapedia: The National Encyclopedia of Bangladesh, Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, Retrieved: 2011-05-04
- 1 2 "Chronological History of Murshidabad"। Independent Sultanate of Gauda। District Administration। ১৬ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১।
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ১৪৩, ১৯২। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ২১৬–২১৭। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Hussain, Syed Ejaz. Shiraz-i Hind: A History of the Jaunpur Sultanate. New Delhi: Manohar, 2017, p. 81. Available at: https://www.academia.edu/36986170/Shiraz_i_Hind_A_History_of_Jaunpur_Sultanate
- ↑ Hussain, Syed Ejaz. “Discovery of Husain Shah’s New Inscription and Ruins of a Jami Mosque from Husainabad in Ballia District of Uttar Pradesh and Diffusion of the Bengal Art.” Journal of Bengal Art, vol. 18, 2013, pp. 9–21. Available at: https://www.academia.edu/5812257/DISCOVERY_OF_HUSAIN_SHAH_S_NEW_INSCRIPTION_AND_RUINS_OF_A_JAMI_MOSQUE_FROM_HUSAINABAD_IN_BALLIA_DISTRICT_OF_UTTAR_PRADESH_AND_DIFFUSION_OF_THE_BENGAL_ART
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ২১৭। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Ray, Dipti (২০০৭)। Prataparudradeva, the Last Great Suryavamsi King of Orissa (A.D. 1497 to A.D. 1540) (English ভাষায়)। Northern Book Centre। পৃ. ১৮। আইএসবিএন ৯৭৮৮১৭২১১১৯৫৩।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ২১৭–২১৮। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Kara, Subīra (২০০৮), 1857 in North East: a reconstruction from folk and oral sources, New Delhi: Akansha
Publishing House, পৃ. ১৩৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৩৭০-১৩১-০, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০
{{citation}}:|publisher=এর 8 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - ↑
- Choudhury, Achyut Charan (২০০০) [1910], Srihatter Itibritta: Purbangsho (Bangla ভাষায়), Kolkata: Kotha, পৃ. ২৯৪, ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০
{{citation}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)
- Choudhury, Achyut Charan (২০০০) [1910], Srihatter Itibritta: Purbangsho (Bangla ভাষায়), Kolkata: Kotha, পৃ. ২৯৪, ২৬ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০
- ↑ Motahar, Hosne Ara (১৯৯৯), Sharif Uddin Ahmed (সম্পাদক), "Museum Establishment and Heritage Preservation: Sylhet Perspective", Sylhet: History and Heritage, Sylhet: Bangladesh
Itihas Samiti: ৭১৫, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮৪-৩১-০৪৭৮-৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত, সংগ্রহের তারিখ ২০ জানুয়ারি ২০২০
{{citation}}:|publisher=এর 11 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ২১৮–২১৯। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Muhammad Abdur Rahim (১৯৫৭)। [(https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.98855/page/n48/mode/1up) Journal of the Asiatic Society of Pakistan, Vol. II: Chittagong under Pathan Rule in Bengal]। Asiatic Society of Pakistan। পৃ. ৪৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|url=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;বাংলাদেশের ইতিহাসনামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ Muhammad Abdur Rahim (১৯৫৭)। [(https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.98855/page/n48/mode/1up) Journal of the Asiatic Society of Pakistan, Vol. II: Chittagong under Pathan Rule in Bengal]। Asiatic Society of Pakistan। পৃ. ৪৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|url=মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) - ↑ "KingListsFarEast"। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১১।
- ↑ Sen, Sukumar (1991, reprint 2007). Bangala Sahityer Itihas, Vol.I, (বাংলা), Kolkata: Ananda Publishers, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, pp.208-11
- ↑ Sen, Sukumar (1991, reprint 2007). Bangala Sahityer Itihas, Vol.I, (বাংলা), Kolkata: Ananda Publishers, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, p.189
- ↑ Sen, Sukumar (1991, reprint 2007). Bangala Sahityer Itihas, Vol.I, (বাংলা), Kolkata: Ananda Publishers, আইএসবিএন ৮১-৭০৬৬-৯৬৬-৯, p.99
- 1 2 3 Majumdar, R.C. (ed.) (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, p.693
- 1 2 Majumdar, R.C. (ed.) (2006). The Delhi Sultanate, Mumbai: Bharatiya Vidya Bhavan, p.634
- ↑ ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর, সম্পাদকগণ (২০১২)। "বাংলাদেশ"। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আইএসবিএন ৯৮৪৩২০৫৯০১। ওসিএলসি 883871743। ওএল 30677644M।
- ↑ Majumdar, R. C., সম্পাদক (১৯৮০) [First published 1960]। The Delhi Sultanate। The History and Culture of the Indian People। খণ্ড VI (3rd সংস্করণ)। Bombay: Bharatiya Vidya Bhavan। পৃ. ২২০। ওসিএলসি 664485।
- ↑ Eaton, Richard M. (১৯৯৩)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760 (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। পৃ. ১০২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৫০৭-৯।
- ↑ Sarkar, Jadunath, ed. History of Bengal, Vol. 2. B. R. Publishing, Delhi, 1943. Internet Archive.
- 1 2 De Montebello, Philippe (১৯৮২)। Notable Acquisitions, 1981–1982। Metropolitan
Museum of Art। পৃ. ১৩। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৭০৯৯-৩২৮-২। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|publisher=এর 13 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Sarkar, Jagadish Narayan (১৯৮৫)। Hindu-Muslim relations in Bengal: medieval period। Delhi: Idarah-i
Adabiyat-i-Delli। পৃ. ৫২। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৩৬৪১৮০২৬। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|publisher=এর 9 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Desai, Ziyaud-Din A. (২০০৩)। Purā-prakāśa: Recent Researches in Epigraphy, Numismatics, Manuscriptology, Persian Literature, Art, Architecture, Archaeology, History and Conservation : Dr. Z.A. Desai Commemoration Volume। Bharatiya
Kala Prakashan। পৃ. ২৪৪। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮০৯০-০০৭-৫। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|publisher=এর 10 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - 1 2 Chakrabarti, Kunal; Chakrabarti, Shubhra (২০১৩)। Historical Dictionary of the Bengalis। Scarecrow
Press। পৃ. ২২৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১০৮-৮০২৪-৫। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|publisher=এর 10 নং অবস্থানে line feed character রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Hussain, Syed Ejaz. “Discovery of Husain Shah’s New Inscription and Ruins of a Jami Mosque from Husainabad in Ballia District of Uttar Pradesh and Diffusion of the Bengal Art.” Journal of Bengal Art, vol. 18, 2013, p. 10. Available at: https://www.academia.edu/5812257/DISCOVERY_OF_HUSAIN_SHAH_S_NEW_INSCRIPTION_AND_RUINS_OF_A_JAMI_MOSQUE_FROM_HUSAINABAD_IN_BALLIA_DISTRICT_OF_UTTAR_PRADESH_AND_DIFFUSION_OF_THE_BENGAL_ART
- ↑ Bhaduri, Reena (২০০১)। Social Formation in Medieval Bengal। Bibhasa। পৃ. ১২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৭৩৩৭-১১-৯। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Khan, Muazzam Hussain (২০১৪)। "Ibrahim Danishmand, Saiyid"। Banglapedia: National Encyclopedia of Bangladesh (Second সংস্করণ)। আসিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ৩ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০।
- ↑ Sarkar, Jagadish Narayan (১৯৮৫)। Hindu-Muslim relations in Bengal: medieval period। Delhi: Idarah-i Adabiyat-i-Delli। পৃ. ৫২। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৩৬৪১৮০২৬। ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০।
- ↑ Hussain, Syed Ejaz. Shiraz-i Hind: A History of the Jaunpur Sultanate. New Delhi: Manohar, 2017. Available at: https://www.academia.edu/36986170/Shiraz_i_Hind_A_History_of_Jaunpur_Sultanate
- ↑ Sarkar, Jadunath, ed. History of Bengal, Vol. 2. B. R. Publishing, Delhi, 1943. Internet Archive. [https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.24396/page/n153/mode/1up ]